.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

রবিবার, ২৫ মার্চ, ২০১৮

মনখারাপের বিজ্ঞানী

 মনখারাপের বিজ্ঞানী 

.........................

 

একটি দিন। দীর্ঘ দীর্ঘ গাছ।

গোধূলি বয়ে যাচ্ছে। লাল রঙের আকাশ।

 রাস্তা। মিছিল হচ্ছে। কিছু মানুষ হেঁটে যাচ্ছে নীরবে। সবাই এক উচ্চতার। হলুদ রঙের পোশাক।

এটাই এখন শোকের পোশাক।

নয়শো বছর আগে শোকের রঙ কালো ছিল। এখন মানুষ শোকের দিন হলুদ পরে।

সবার হাতে ছোট ছোট পাতার পতাকা। একজন বিজ্ঞানী মারা গেছেন। তার জন্য সবার মনখারাপ।

এই মনখারাপটাকে চোখের তলায় রেখে তাই একদল মানুষ হেঁটে যাচ্ছে।

মনখারাপ খুব মূল্যবান একটি জিনিস। 

কয়েকশো বছর আগে পৃথিবী থেকে মনখারাপ হারিয়ে গিয়েছিল।

তখন একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের অভালোবাসাবাসি হলেই, পট করে খুন করে ফেলতো। কিন্তু তারপর সে কাঁদতো না।

রক্তটক্ত মুছে, হাসতে হাসতে জল খেতো।

খুব মুশকিল হয়ে গেলো। রোবটেরা অনেক মাথা খাটিয়েও মন বস্তুটার সন্ধান পেলো না।

মানুষ তখন খুব অলস ।  যন্ত্ররাই চালাচ্ছে পৃথিবী। 

আবার রোবট নষ্ট হলে মানুষ ছাড়া তাদের ঠিক করা যায় না, তাই রোবটরা চায় মানুষ বাঁচুক।

ঝগড়া আর মারামারি না চলুক। 

মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে সব মানুষের উচ্চতা আর গায়ের রঙ এক করে দেয়া হলো।

পৃথিবী তখন দীর্ঘ ছায়াবৃক্ষে ভরা। বৃক্ষকাতর  পৃথিবী বলা যায়। তার তীরে তীরে হিংসা দীর্ন মেধাবী মানুষের ভীর।

তাদের কোন মনখারাপ নেই।

তাই কান্না নেই।

হাসিও নেই।

বিষাদও নেই। 

ভালোবাসার বিপন্নতাও নেই। 

সেইসময় একজন বিজ্ঞানী এলেন। তিনি বললেন মানুষকে দুটো ভাগে ভাগ করতে হবে।

যাদের মধ্যে একটু আবেগ আছে তারা নীল গ্রহে থাকুক।

যাদের মধ্যে আবেগ এক্কেবারে জিরোতে ঠেকেছে, তাদের অন্য গ্রহদুটোতে পাঠানো হোক। 

 হোয়াইট ড্রিম A তে এইসব মনখারাপ হারিয়ে যাওয়া মানুষদের পাঠিয়ে দেয়া হলো। মিল্কি ওয়ে পেরিয়ে হোয়াইট ড্রিম A, সেখানে যেতে সময় লাগলো ঠিক  একশো বছর, ঠিক পাশেই হোয়াইট ড্রিম B, যাদের জায়গা হলো না, তারা B তে।

তারপর সেই বিজ্ঞানী মন খারাপের চাষাবাদ আরম্ভ করলেন।

তিনি মাথায় রাখলেন সিঙ্গুলারিটি।

একজন পুরুষ এবং একজন নারী।

মুখোমুখি বসবে।

মাঝখানে একটি ব্ল্যাকবস্ক।

বাতাসবিহীন।

নিঃসীম অন্ধকার।

তারা নির্বাক থাকবে।

এই ব্ল্যাকবস্কটিতে টেনে নেওয়া হবে তাদের মন।

একশ ভোল্টের ঠান্ডা তরিৎ প্রবাহ

ফ্রিজড হয়ে যাবে দুটো মন 

সমস্ত বিচ্ছিন্নতা মিশে চরম সিঙ্গুলার

সেখান থেকে ঝরতে আরম্ভ করবে বিন্দু বিন্দু মেদ 

এরই নাম অশ্রু, এরই নাম মনখারাপ, 

এরই নাম না ফেরার ব্ল্যাকহোল। 

...এরই নাম বিজ্ঞানও ক্রমাগত ভুল।

এভাবে আস্তে আস্তে পৃথিবীর বুকে জোড়া জোড়া মনখারাপ ফিরে এসেছিল।

শোকের রঙ ফিকে হতে হতে হলুদ হয়ে গেলো।

সেই বিজ্ঞানী আজ মারা গেছেন।

আর মনখারাপের জাতকেরা হলুদ পোশাকে পাতার পতাকা নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, বৃক্ষ সঙ্কুল পৃথিবীতে। 




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন