“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
দেবলীনা সেনগুপ্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দেবলীনা সেনগুপ্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১৮

বিষণ্ণ শহর


 ।। দেবলীনা সেনগুপ্ত।।

(C)Image:ছবি







মার শহর ঢেকে যাচ্ছে গাঢ় কুয়াশায়
জমাট ক্ষোভের মত বিষণ্ণ কুয়াশায়
ঢেকে যাচ্ছে আমার শহর
যে কোন সময় বিস্ফোরণ হতে পারে
ভয়াল বিস্ফোরণঅন্তর্নিহিত কথার।
উৎসব শেষে যারা ফিরেছে ঘরে
তারা কেউ আনন্দিত নয়।
কেউ শোকগ্রস্ত নয়, যারা
এইমাত্র ফিরে এল টাটকা কবরে
তাজা ফুল ছড়িয়ে ।
শোক ও সুখ সমার্থক আজ।
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াহীন স্থবির সময়
ঢেকে যাচ্ছে ধুসর কুয়াশায়
গাছের পাতা অস্বীকার করেছে বাতাসের গতি
নদীজল স্থির চিত্রের মত শুয়ে আছে
চলাচল ভুলে।
আগ্নেয় লাভায় রুদ্ধ সভ্যতার পটভূমে
জন্মায় না ইতিহাস।
প্রাগৈতিহাসিক  প্রাণীর  ধুম্রনিঃশ্বাসে
ক্রমশ; অস্পষ্ট জীবনের অবয়ব।
তবু হে অলৌকিক করপুট
তুলে নাও জীবনের বীজ ও সংগ্রাম
শুরু হোক, প্রেম ও  প্রাপ্তির
আশ্চর্য অধ্যায়।






সোমবার, ২৬ মার্চ, ২০১৮

আহত সময়

।। দেবলীনা সেনগুপ্ত।।

(C)Image:ছবি












হত পালকের মত
ঝরে পড়ছে সময়
পাখির ঠোঁট থেকে
খসে পড়ছে বীজধান।
তাকে মাথা পেতে নেবে,
পৃথিবীতে নেই কোন অলৌকিক শিশু আজ।
অলস আয়ুষ্কাল কাটায় মানবের দল
হীন সংলাপে
গলিত আঁধারে ঢাকে অকস্মাৎ, বায়ু মাটি জল
খর মধ্যাহ্নদিনে ।
যত্নহীন পড়ে থাকে সময়ের শব
প্রহরায় একা ঈশ্বর , অবিচল ।



( প্রকাশিত, দৈনিক বজ্রকন্ঠ )

বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৭

অব্যক্ত














।। দেবলীনা সেনগুপ্ত।।








ব কথা বলা হয়নি তোমাকে
সব কথা।
পড়ন্ত বিকেলের আলো
ডুবে যায় পুকুরের জলে
ঝিঁঝিঁপোকাদের সাথে কথা বলে বলে।
ঘাটের সিঁড়িতে
ভেসে থাকে বুনোলতা জলছাপ নিয়ে,
বলিনি তোমাকে।
মাঠের শেষে নীল ঝিল
ঝিল ছুঁয়ে চলে যায় রাতগাড়ি
স্বপ্নের আলো ফেলে ফেলে
সেই কথা ভুলে গেছে আমাদের মন,
নীলাঞ্জন, পাতার মত চোখ মেলে
একবার দেখ পৃথিবীকে
কত সবুজ জমিয়েছে সে
আমাদের ভুলে যাওয়া ভালোবাসা
ভালবেসে, অকাতর করুণ মায়ায়
কত যুগ আছে জেগে  সে।
এইবার হাত ধর
এইবার  কাছে এসো তবে
খুঁড়ে দেখি খুঁজে দেখি হৃদয়ের মূল
এখনও কি বৃষ্টিপাত?
এখনও কি প্রেম নির্ভুল??










বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭

সুধী কালিকাপ্রসাদ





।। দেবলীনা সেনগুপ্ত।।

সুধী কালিকাপ্রসাদ,
          হ্যাঁ, আপনাকে আমি এভাবেই সম্বোধন করব। আমি এক অতি সাধারণ মানুষ , সাধারণ জন।  শুধু 'কালিকা" বা শুধু 'প্রসাদ" বলে ডাকার মত কোন নির্জন,নিবিড় সম্পর্ক আপনার সঙ্গে আমার ছিল না।আপনার কোথায় জন্ম, কোথায় বাস, আপনি কী করেন, কেমন ভাবে করেন, কী করতে চান-- সেসব নিগূঢ় তথ্য ও তত্ত্বেও খুব বেশি আগ্রহী ছিলাম না।আমার সাধারণ দিনাতিপাত গতানুগতিক প্রাত্যহিকীতে আবদ্ধ।  সেখানে মাস কাবারের হিসেব আছে, ছেলে মেয়ের পড়াশোনার ব্যস্ততা  আছে, স্বামীর মনপছন্দের রান্নার জোগাড়  আছে, কাজের লোকের সঙ্গে কাজিয়া আছে ,আর এতসব ব্যস্ততার মাঝেই আমি যতটুকু যা থাকার আছি। আলাদা করে নিজেকে কোথাও খুঁজে পাইনা, এতটাই সাধারণ আমি। এই সাধারণ দিনচর্যায়, অতি সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে আপনার মত এক বিশাল উচ্চতার মানুষকে মাপার ভাবনাই উদয় হয় নি কখনো আমার মনে। শুধুমাত্র, কোন খরদিনে যখন বুকের ভেতরের মাটি ফুটিফাটা, তৃষ্ণায় শুকিয়ে উঠি আকণ্ঠ, যখন মনে হয়, এই যে এইসব আমার মান্য পরিচিতি , সে আসলে আমি নই, আমি একজন অন্য কেউ, কে আমি! কে আমি!--- তখন সেলফোনের ইয়ারপ্লাগেও মধ্য দিয়ে আপনার কথা গান সুর মরমে পৌঁছে যায় । বৃষ্টি নামায় বুকের ভেতর। আমি আকুল ভিজি। সোঁদা গন্ধে অস্তিত্ব ভরিয়ে নিয়ে আবার ব্যস্ত হয়ে যাই অস্তিত্বহীনতার খোলসটুকু পরে নিয়ে সংসারী সং সাজতে।
        আপনি আমার কে হন কালিকাপ্রসাদ? আপনি কি আমার কেউ ?
       আপনি আমার কেউ ছিলেন না তো কালিকাপ্রসাদ। এত সাধারণ একটি প্রাণের সঙ্গে আপনার অসাধারণ প্রাণশক্তির কোন আত্মীয়তা যে থাকতেই পারে না! তাহলে! তাহলে কেন সেই বসন্ত সকালে সেই নিদারুণ সংবাদে আমি আমূল কেঁপে উঠেছিলাম! কেন  অসুস্থ বোধ করেছিলাম! কেন বোধ করেছিলাম নিরাপত্তার অভাব... আশ্রয় হারানোর অনুভূতিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল মন? তাহলে কি আপনি কি আমাকে এক "ঘরবাড়ি" দিয়েছিলেন চুপিচুপি। যেখানে আমি 'নিজের কয়জনা" কে নিয়ে বসত করতে পারি! যেখানে অন্তরের অন্তরতম 'মনের মানুষ ' টির সঙ্গে মিলনপিয়াসী আমি দিনরাত কাটাতে পারি নির্বিঘ্ন প্রতীক্ষায়! যেখানে ভ্রমর এসে  কানে কানে শুনিয়ে যাবে "সোনা বন্ধুর" আগমন কথা, আমি তার আশায় আকুল আনন্দে কাঁদবো ----কাঁদবো আর, শুদ্ধ হব---বিশুদ্ধ হব----!!
          আপনি আমার কে হন?
        আপনার অকালপ্রয়াণে আয়োজিত কোন শোকবাসরে প্রথাগত শোকপালনে  আমি ডাক পাবো না। আমি সাধারণ, তাই আপনাকে নিয়ে আমার শোক "বিশিষ্ট " হতে পারে না। কুলীন ভাষায় আপনার শোকপালনের মন্ত্র উচ্চারণ করতে পারব না আমি...আমি যে কিছুই জানি না ও পারি না। কিন্তু, বিশ্বাস করুন, আপনার জন্য আমার শোক নিভৃত ও নিবিড়। প্রতিদিন তা নিবিড়তর হয়ে চলেছে । ভবলীলায় যত সংসারী রঙই মাখি না কেন, দিনশেষে বৈরাগী রঙ টি নিয়ে বসবো আপনার পায়ের কাছেই।
আপনি আমার কেউ হন না। শুধুমাত্র বিধির বিধানে আপনার ও আমার জন্ম তারিখটি এক।
আপনি আমার অনেক কিছু হন...অনেক কিছু।

মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭

রঙিন চশমা

(C)Image:ছবি













।। দেবলীনা সেনগুপ্ত ।।
 

যারা সত্য বলেছিল
তারা কোন পুরস্কার পায়নি
তালিকাভুক্ত হওয়ার মত
যথেষ্ট স্নেহপদার্থ
ছিল না তাদের জীবন যাপনে
চোখে ছিল না রঙিন চশমা
চাঁদকে তারা সূর্য বলেনি
অথবা অমানুষকে ঈশ্বর
তারা এক ঘরে একা হয়েছে
একা--একাতর----এবংএকাতম
তারা বিদ্রোহ করেনি
অধরোষ্ঠের সংগমে , প্রসারণে
ফুটিয়েছে উদাসীন উপেক্ষা
তারা বিপ্লব করেনি স্লোগানময়
দৃঢ়বদ্ধ চোয়ালে শুধু চলে গেছে
আলোকিত নক্ষত্রের পথে
একাই--- সত্য সাথে৷
একদিন বহুযুগ পরে
পৃথিবী আসর সাজায় তাহাদের তরে
বিজ্ঞাপনময়
পৃথিবীর বয়স বাড়ে
সত্য বিজ্ঞাপিত হয়৷