“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
সৌম্য শর্মা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সৌম্য শর্মা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৫

আমি

(C)Image:ছবি












।। সৌম্য শর্মা।।
মার " আমি" কে খুঁজছি অনেকদিন

যে আমি ছিলো,
সদা চঞ্চলতায় প্রাণবন্ত;
অকারণ হাসির ফোয়ারা
রঙ্গিন বসন্তের আভা
উচ্ছল যৌবনের প্রতীক ৷

যে আমি একা,
হেঁটে যেতো অজানা অরণ্যে
নির্জন বেলাভূমি
অথবা, জনারণ্য কুম্ভমেলায়

যে আমি
রামধনু রং মেখে,
প্রজাপতির ডানায়__অথবা
ফুলের রেণুতে  বর্তমান
 আবার
পিতৃপুরুষের ফেলে আসা পোড়াবাড়িতে
করে স্মৃতির ইতিহাস তর্পণ

আমি খুঁজছি সেই 'আমি'কে  অ- নে- ক- দি- ন
গভীর নৈ:শব্দে    শুনতে  পাই 
জী- ব- ন       জীবন  নয়
শুধু তর্জনী স্পর্শে অনুভব করি  হৃদয় স্পন্দন
জানি না  সঠিক       বেঁচে  আছি  কি  না  !!






















রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৫

মেয়ে




























।। সৌম্য শর্মা।। 

এ্যাঁই মেয়ে, আর রাগ করিস না
নেমে আয়, আঁকবি জীবনের  আলপনা
 একবার শুধু চোখ  মেলে তাকা
দ্যাখ, তুই  ছাড়া সব কিছু কেমন ফাঁকা
ছাঁদ- পাখায় আর ঝুলিস না
নেমে আয়, সোনা, স্কুল  যাবি না?

 অ- আ- ক- খ শিখবি তুই
জীবন খাতায় খুলে বই
কেনো তোর রক্ত ঝরে প্রায়শই
মাসের শেষের ঐ ছুঁয়াছুই মনে রাখিস, পড়াশোনাই আসল সাধন
ভাঙ্গবি যদি সকল বাঁধন, হায়নাদের খেলার ধরন

এ্যাঁই মেয়ে, তুই উঠে বোস
 বন্ধ কর যতো আফসোস
একবার তুই রোখে দাঁড়া
এমনি ভাঙ্গবে ওদের শিরদাঁড়া
ইচ্ছে হলেই, ছুটে গিয়ে
দেখে আসিস, গাঙচিলের বিয়ে

আকাশ কালো চুল এলিয়ে,  হেঁটে যাবি
দৃপ্ত পায়ে, রাঙ্গা মাটির পথের ধারে
কুকুরগুলো পালিয়ে যাবে, তুই তাকালেই ফিরে
মন খারাপের দুপুরে, ঘাসের ' পরে শুয়ে পড়িস
যখন ইচ্ছে বৃষ্টিতে ভিজে নাচতে থাকিস
আনমনে হেলান দিয়ে, শান্ত পুকুর দেখিস
গভীর রাতে পায়ে হেটে খেয়াল খুশি ঘরে ফিরিস

এ্যাঁই মেয়ে, হয়েছে এবার নেমে আয়
আর মরবি না তুই এতো অসহায়
কথা দিচ্ছি, তোর পাশে থাকবে সবাই প্রায়
বাবা, কাকু, দাদা, ভাই, বন্ধু, স্বজন
বাদ যাবে না কোনও একজন

এ্যাঁই মেয়ে, তুই স্কুল যাবি না
দেখিয়ে দে,
মেয়ে হওয়া তোর ভুল ছিলো না  !!




ভুল


(C)Image:ছবি
























 ।। সৌম্য শর্মা।।
কাজল- দীঘি চোখ ছিল তার, পদ্ম- পাতা মুখ
খিলখিলিয়ে হাসতো যখন, সে কী অপরূপ রূপ
শরীরময় বাঁক ছিলো তার, যেন দুরন্ত ঝর্ণা
নদীর মতোই বাড়ছিলো মেয়ে,হতে নারী অনন্যা

 গোল্লাছুটের খেলায় মেতে, মায়ের শাসন মানতো না
খোলা ঘাটে নাইতে  যেতো, নারী- পুরুষ জানতো না
মানুষ হবার পণ ছিলো তার, পড়তে যেতো বিদ্যালয়ে
সবার অভাব মিটিয়ে দেবে, জিদ ছিলো তার স্বভাবে
রাঙ্গামাটির পথ ধরে একদিন তাই পৌঁছে গেলো শহরে
দৃপ্ত পায়ে হেঁটে যেতো নির্জন সব রাস্তা ধরে
পাড়ার মোড়ের হায়নাগুলো পড়লো না তার নজরে

শরীরটা যে মাংস ছিলো, জানতো না সে এক্কেবারে
সে দিনও তার কাজ ছিলো, একা একাই হাঁটছিলো
হায়নাগুলো হঠাৎ এসে, জোর করেই বেঁধে নিলো
কাল রাত্রির শেষ ভোরে, ফেলে গেলো রাস্তার  কিনারে

মেয়েটা একসময়, খবর হয়ে আন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়ে
দাঁড়কাকেরা ভিড় করে, ছবি ছাপে সাক্ষাৎকারে
মন ভোলানো মিছিল হয় রাজধানীতে, নগরে
মেয়েটিই অভিযুক্ত হয়, সমাজের নাগপাশে
আপন ঘরেই সে পর হয়ে যায় অবশেষে

মেয়েটার প্রতিটা দিন হতে থাকে ভারী
শূন্য চোখে জানালায় দেখে, রক্তমাখা মেঘের সারি
ঝেঁপে আসা কষ্ট মেপে নিতে নিতে প্রতি পলে
মুক্তি খুঁজে নেয় ছাঁদ-পাখায় ঝুলে

কালও তার স্বপ্ন রঙ্গিন ছিলো, খোপায় গোঁজা ফুল ছিলো
মহাবিদ্যালয়ে পাঠ ছিলো, বুক ভরা শ্বাস ছিলো
মানুষ হবার সখ ছিলো, ভালোবাসার ইচ্ছে ছিলো
মেয়ে হওয়াই বুঝি   ভুল  ছিলো !!!





























শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৫

অস্তিত্ব


(C)Image:ছবি
















 ।। সৌম্য শর্মা।।

শূন্যতা খোঁজে বেড়ায় আরেক শূন্যতা 

দুজনের কারুরই ইশকুল - পাঠশালা নেই
ছবি নেই, গান নেই, আয়নায় মুখ দেখা নেই,
দাবি নেই, দেওয়া- নেওয়া নেই,
স্থান নেই, কাল নেই, নেই চাওয়া- পাওয়া
শুধু অজাত বিশ্বের ভ্রূণ নিয়ে
অস্তিত্বের অন্বেষণে ভেসে থাকা