প্রতিরোজ, প্রতিমুহূর্ত যে কথাগুলো আমি ভাবি
তা সব মনের গভীরে চাপা পড়ে যায় অহরহ
যে কটা মনের ফুটো দিয়ে বেরিয়ে পড়ে
তা তো প্রলাপ হয়ে যায়।
আর যা কিছু বলি সে তো তোমাদেরই কথা
যে কথাগুলো তোমরা শুনতে চাও
প্রলাপ - ৬৫
বাতাসে কান পাতলেই আজকাল
ধর্মাসুরের পদধ্বনি শুনি
নাক নিলেই ঝাঝালো সাম্প্রদায়িক গন্ধ।
আমি শুধু চেয়ে দেখি রোজ
মানচিত্র ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যায়;
ডুবে কাদায় মানুষ অহরহ।
প্রলাপ - ৬৬
নির্দল করে করে
চলেই তো যাচ্ছিল বেশ,
একদিন চোখ মেলতেই দেখি
অজান্তেই ঢুকে গেছি
কোন এক দলে আমিও।
প্রলাপ - ৬৭
হাত পিঠে রাখলেই মরম স্পর্শ
পা ঠেকালেই লাথি,
ডান হাত দিলে চল হ্যান্ডশেক করি
বাম দিলে, হাতটা সরাও
ছিঃ নোংরা তুমি
এভাবেই প্রতিদিন নিজের সাথেই
করে যাই হেলাফেলা!
কখনো ভাবি সাম্যবাদ;
সমতা, এগুলো নিছক কয়টি বর্ণ সমষ্টি মাত্র
এরচেয়ে আর বেশি কিছু নয়।
প্রলাপ - ৬৮
কোন এক অজ পাড়া গায়
নেতা, পাতিনেতার পায়ের ধূলো পড়লেই
বুঝে নিতে হবে ভোট উৎসব আসন্ন।
প্রলাপ - ৬৯
ঈশ্বর ঈশ্বর বলে যতই চেঁচামেচি করি
আমরা আসলেই এক একটা আস্তো নাস্তিক।
প্রলাপ - ৭০
কেজরিওয়াল কেজরিওয়াল কেজরিওয়াল
আম জনতার চোখের মণি
ভ্রষ্টাচারের বক্ষভেদী তীব্র আলোক মশাল।
প্রলাপ - ৭১
আমার দুটো দেশ,
আমার দুটো স্বাধীনতা দিবস,
আমার একটি হৃদয়
ভালোবেসে যাবো নিরন্তর।
প্রলাপ - ৭২
কাউকে জন্মদিন জীজ্ঞেস করলে
যদি উত্তর আসে
ইংরেজি বর্ষের প্রথম দিন,
আপনি ধরে নিতেই পারেন
লোকটি মিথ্যেবাদী।
প্রলাপ - ৭৩
ক্ষমতার দম্ভে সব মমতাও
একদিন ঠিক ফিকে হয়ে যায়।
অন্ধ মমতা দেখেনা
সেও তো প্রতিরোজ ধর্ষিতা
প্রতিটি দলবদ্ধ ধর্ষণে।
প্রলাপ - ৭৪
অন্ধকারের বুক চিরে দুঃস্বপ্ন রাত যত গাঢ় হয়
আর আমি ভাবি একাই ডুব দেব বিষণ্ণতায়।
দেখি আরো অসংখ্য বিষণ্ণ হৃদয়
ঠিক বসে আছে সহযাত্রীর অপেক্ষায়।
প্রলাপ - ৭৫
তোরা একটুকু চুপ কর
গোসাপের মুখে বিষাক্ত থুতু
তফাতে সরে পড়।
প্রলাপ - ৭৬
এখন মরশুম ভোট উৎসবের
তাই 'নেতা' 'পাতিনেতা'রা
শারদীয়া কুকুর-কুকুরীর মত।
প্রলাপ - ৭৭
অভিষেক হবে পিশাচের
তাই চারিদিকে হই হোল্লোড় নগ্ন নৃত্য;
দৈত্য-দানব আর যত অমানুষী আত্মার।
প্রলাপ - ৭৮
রোজগেরে ভোটের দিনগুলো
দ্রুত ফুরিয়ে যায়,
নির্বাচন শেষে আমরা তো সেই -
"পুনর মূষিক ভবঃ"
প্রলাপ - ৭৯
মন বিষাক্ত সব পোকার ঘর
ভাদ্র মাসের রোদে দাও।
প্রলাপ - ৮০
সমালোচনার খোঁচা যারা সহ্য করতে পারেন না
তারা কেউই আসলে মানুষ নয়।
নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিতে পারলে
ঠিক 'বেঁচে' থাকা যায়।
বাজারে ফেয়ারনেস ক্রিমের কাটতি চড়া
তবু পৃথিবীটা বড় কুৎসিত।
প্রলাপ - ৮৩
শত শত শায়িত স্বপ্ন কবর খোঁজে আজ
শত শত রাক্ষুসে মুখে আজ বিকৃত হাসি। 3.5.14
প্রলাপ - ৮৪
দুঃস্বপ্নের রাত পাড়ি দিয়ে কবে তুমি
শান্ত কলি ফুল হয়ে ফুটবে......! 4.5.14
প্রাতঃরাশ থেকে নৈশভোজ
থোকা থোকা ফরমালিন
ভাবছি এখানেই পিরামিড বানাব
তারপর হব মমি।
দুর্বল ঈশ্বর খোঁজে
সবল চালায় হাতুড়ি।
ষোড়শীরা কখনো কুৎসিত হয় না।
কিছু মৃতদেহ রোজ চুপিসারে চিটি রেখে যায়
আমার ইনবক্সে
কিছু মৃতদেহ আজও ভীড় করে
আমার কনটাক্ট লিষ্টে
শুধু মৃত চোখ দিয়ে চিঠি পড়িনি কখনো
কখনো খুজিনি মৃত বন্ধুদের।
এক একটা মর্টার সেল
প্রতিদিন আমাদের বিদ্ধ করে
এক একটা রকেট লঞ্চার
ধ্বংস করে মানবতা।
আজাকাল ছারপোকা, আঠালি, জোকের
বড় বাড় বেড়েছে,
মাথায় মাথায় ঘুরছে সবার;
সুযোটা পেলেই চড়ে বসবে সিংহাসন
তারপর তোমার আমার চুষে নেবে সব রক্ত।
গোপালের গন্ধ নেব বলে
যেই নাকের কাছে নিয়েছি
একটি গোলাপী কীট
ভেঙ্গে চুরমার করে দিল সব রঙ্গিন স্বপ্ন ।
জন্মান্ধ সব বেড়াজাল টপকে
একদিন ঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যায়।
আর ধর্মান্ধ চলার পথে অহরহ
আষ্টেপৃষ্টে কাদায় জড়িয়ে ফেলে নিজেকে...।
বুকের ভেতর আগলে রাখা
গোলাপগুলো প্রতিদিন
তিলে তিলে শুকোয়
তোমার প্রতীক্ষায়...।
বিখ্যাত কিংবা কোন এক কুখ্যাত
প্রতিবেশি হলে
সাহিতা চর্চাটা দারুণ গতি পায়।
প্রলাপ - ৯৫
মোবাইল ফোনটা সাইলেন্ট মুডে রেখে
প্রেমিকেরা নিসঙ্গ ঘুরে রাস্তায়
প্রলাপ - ৯৬
একদম হঠাৎ করেই যদি
বাড়ির লোকেরা বলতে শুরু করেন
রোগা হয়ে যাচ্ছি
ধরে নিতে হবে স্বাস্থ্যটা ভালো হচ্ছে।
প্রলাপ - ৯৭
দারুচিনির কৌটায়
অসংখ্য পিঁপড়ের ডিম।
প্রলাপ - ৯৮
অপ্রিয় মুখগুলোর মৃত্যু
কামনা করতে করতে
একদিন চেয়ে দেখি
হারিয়ে ফেলেছি সব প্রিয় মুখ।
প্রলাপ - ৯৯
বিবেকহীন দেহটাকে
আর কতকাল বয়ে বেড়াব
তার চেয়ে চল পুড়িয়ে ফেলি,
পুড়িয়ে ফেলি দেহটাকে।
প্রলাপ - ১০০
প্রথমে সাম্প্রদায়িকতার
তারপর রাজনীতিটা শান্তি কমিটির
'আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে...।'
প্রলাপ - ১০১
সব সূখ তারল্যে
তারল্যেই সব শক্তি
পাড়ায় পাড়ায় অলিতে গলিতে সর্বত্র
ব্যস্ত যুবা কিশোর সব শক্তির আরাধনায় 22/10/14
প্রলাপ ১০২
উত্তরে ছিল যারা
তারা আরেকটু উত্তরে সরে গেছে
দক্ষিণমেরুতে যারা তারা আরো দক্ষিণে মাঝখানে আমি রোজ
শুধু টুকরো টুকরো হই
নিজের অজান্তে। 28.10.14
প্রলাপ - ১০৩
মোল্লা পুরুত যাজক সবগুলাই
এক একটা আস্ত নাস্তিক
ধর্মটা তো শুধু তোমার আমার।
প্রলাপ - ১০৪
তক্কিটা আমি আগেই পকেটে পুরেছি
আজ দাড়িটার সাথেও দিলাম আড়ি
তবুও ভয়ে ভয়ে দিন যায়
জেহাদির লিস্টে নাম না উঠে যায়।
সদ্য ধর্মচ্যুত আর পুরোনো কমিউনিস্ট
দুজনেই অদ্ভুত
প্রথমজন পুরোনো ধর্মকে
যাচ্ছেতাই গালি দেন আর
অন্যজন ব্রহ্মভোজ্যির পর
হাত পাতেন ভোজন দক্ষিণার জন্যে ।
কবিদের হাজারটা প্রেমিক প্রেমিকা
বড্ড সাধ ছিলো কবি হব
পারলাম কই...!!!
ক্রিকেট হউক বা না হউক
কিস্যু আসে যায় না
বেটিংটা তো চলবে ইচ্ছেখুশি,
চলুন শুভ্র নিশান উড়িয়ে
বলি জয় শ্রী বিসিসিআই।
প্রলাপ - ১০৮
নিশিকুটুম্বেরাও আইনজীবীদের মত
কর্মস্থলে কালো পোশাক পরে।
প্রলাপ - ১০৯
চৌরাস্তার মোড়ে অথবা বাসস্টপের পাশে
যে ছেলেটি রোজ পেঁয়াজী,
পোকড়া, গরম চাট বিক্রি করে
সে কখনই ক্রেতাদের মন যোগাতে পারে না।
প্রলাপ - ১১০
পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ মিথ্যা
দুষ্কৃতির প্রতি পুলিশের আশ্বাস
সব স্বীকার করে নিলে ছেড়ে দেওয়া হবে।
প্রলাপ – ১১১
যতখুশি গালাগাল দাও
নীরবে সহ্য করে যাব;
আর না হয়
দূরে সরে যাব ভালোবাসা ভেবে,
আর আমার প্রতিবিম্বটাকে
ভালোবেসে যদি তোমার এই বিষোদ্গার;
তবে জেনে রেখো একদিন
আয়নার সামনে তোমাকে দাড়াতে হবে।
প্রলাপ – ১১২
আমার প্রিয় তিনটি জায়গা
রান্নাঘর, পায়খানা আর –
তোমার আঁচলের এক কোণ।
প্রলাপ – ১১৩
‘...... ঈশ্বরেচ্ছা ছাড়া একটি ধূলার কণাও নড়ে না...’
ঈশ্বরের মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা
তাইতো রোজ
এত এত খুন,
এত এত ধর্ষণ।
প্রলাপ - ১১৪
প্রতি মুহূর্তে অজান্তেই
পরিচিতি হারিয়ে ফেলছি ,
পরিচয়হীনেরা আদৌ মানুষ থাকে ...!!!
(১০/০২/১৫)
প্রলাপ - ১১৫
যখন যখন এক একটি দম্ভস্তম্ভ ধ্বসে পড়ে
আমি ভেতরটায় লক্ষ হৃদয়ের উল্লাস টের পাই
ইচ্ছে হয় ময়ূরের মত নাচি।
(১০/০২/১৫)
প্রলাপ ১১৬
মরলেই শুধু অমর হওয়া যায়।
গাদা গাদা বই গিলেও
গ্রন্থকীটেরাই তো সাম্প্রদায়িক গন্ধ ছড়ায়।
আমরা সবার প্রিয় হতে হতে একদিন
নিজের কাছে অপ্রিয় হয়ে যাই।
প্রলাপ - ১১৯
যত পারো তিক্ততা দাও
আমি হৃদয় পেতে নেব,
মিষ্টিতে মধুমেহের ভয়
তেতো স্বাদ দীর্ঘজীবি
প্রলাপ -১২০
পরীক্ষায় বারবার ফেল করা
ছেলেটির বাহুতে সরস্বতী কবচম্ ছিল
একটু আগে গাড়ির চাকায় পিষ্ট লোকটির
অনামিকায় ছিল সংকট মোচন আংটি।
প্রলাপ - ১২১
কমিশন মানে
জনতার কন্ঠরোধী সাইলেন্সার,
কমিশন মানে ধামাচাপা দেয়া
শত্রুর হাতিয়ার।
প্রলাপ- ১২২
বুকের পাজরগুলো
আরো কোমল করে তুলো
চাপাতি ভোতা হয়ে যাবে আপনি,
চলুক ব্লগিং.....।
জলপাই রঙা পোশাক আর
হাতে রাইফেল নিয়েই শুধু
সৈনিক হওয়া যায় না
আমরাও তো সৈনিক জীবন যুদ্ধের
বিন্দু বিন্দু রক্ত দিয়ে
হাসি ফোটাই সহস্র প্রাণে।