“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
মিঠুন ভট্টাচার্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মিঠুন ভট্টাচার্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩

সহযাত্রী


















।। মিঠুন ভট্টাচার্য।। 

ট্রেনের জানালা স্মৃতি রাখেনা
ছেড়ে যায় বাড়িঘর,
ধানী মাঠ,পানাপুকুরের বিল।
পাশাপাশি সিট
অতীতের ঠান্ডা পরত ছেড়ে
বর্তমান উষ্ণতা যোগান ধরে।
অজানা, অচেনা চেহারায়
সম্পর্ক গড়ে।
কেউ নেমে যায় পরের জংশনে
কেউ যায় শেষ অবধি।
আলাপ পরিচয় যত
কামরা মনে রাখে না,
অবসর সময় লেখকের কলমে
ছোটগল্প হয়ে ফিরে আসে।
বিশেষ সফরে
ট্রেনের হুইসেলে রবীন্দ্র সংগীত বাজে,
যাত্রাপথ থামে না।
এভাবে অগুন্তি
পাশাপাশি হাত ধরা সম্পর্কে
প্রেমে অপ্রেমে
সহযাত্রীরা ছুটে।
 

সোমবার, ১৫ মে, ২০২৩

প্রসঙ্গ:প্রেম


।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।

(C)Image:ছবি

















তোমার ঘৃণার আগুন
আমায় পোড়ায় না
শোধিত করে,
ভালোবাসা  তীব্র জাগে ।
গোলাপ গাছে আরো বেশি করে জল ঢালি
গাছ সহ তোড়া তোমায় সাজিয়ে দিতে।
আলো খাতায় তোমার নাম লিখে
সূর্যমুখী ফুলের টবে স্কুল সাজাই।
তোমার শ্বাসকষ্টে
সবুজ বিছিয়ে
নিশ্বাসে ভরিয়ে দিই।

সোমবার, ৮ মে, ২০২৩

প্রসঙ্গ আপাতত: মণিপুর


।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।

(C) Image: ছবি












ডিজিটাল ঘড়ির
দুই অঙ্কে সচল
কৃত্রিম বুদ্ধির মাকড়সা জালে
আমরা কি
পুঁজি, বিজ্ঞানের যৌথ খামারে
খাচায় বন্দী ময়না?
জমি, কাজ, মানুষের অধিকার
উদ্ভট তত্ত্বের প্রাক্তন দর্শন -
মাইক বলছে ।
সাধারণ তাগিদের উদগারে
শেষমেশ রক্তবমি।
ঘৃণার গন্ধে বাতাস যখন অপশাসিত
ঝড়  উঠে আবর্জনার।
সভ্যতা ধারণ করে
ইতিহাস ঘেটে
উন্মত্ত জান্তব যুদ্ধ
সম্পর্ক না মেপে,না রেখে।
বিভক্তির চাবুকে
রাসলীলার অভিনেতা থেকে দর্শক
বিগত, বিলুপ্ত!
প্রেমের পুতুল ছিল আলাপী।
মানুষে, ধর্মে অন্ত:সত্বা
প্রেম উপজনন  করেনি!

বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩

প্রিয় কমরেড


 



















।। মিঠুন ভট্টাচার্য 

আমার পলাশ রাঙা ভোরের মিছিলে
তুমি পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে
তোমার আমার যৌবন উদযাপনে।
আমার অগুন্তি ব্যর্থ প্রেমের ভাষনে
তোমার মেঘ কালো চোখ
সমুদ্র বৃষ্টি চান সেরেছে অনেক।
অম্লান রোদের ঝিলিকে
সূর্যাস্ত নামেনি,
তুমি সন্ধ্যে ভালোবাসো না বলে।
চাঁদের মায়াবী রাত
তোমায় স্বপ্নে ভাসায়।
তাই চন্দ্র সূর্য তারার আকাশ
সবুজ ধানের গায়ে হলুদ মাখায় সাদা আবহে।
আমরা আবারো নতুন ঘরে
বাসর জাগবো
হাতে হাত রেখে
উদার হৃদয়ের আলিঙ্গনে,
দৃড়চেতনার সন্ধিক্ষণে।


রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩

যৌবনের রক্তক্ষরণ

।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।

 




















কৈশোর হারিয়ে কোন এক যৌবন
আঁকড়ে ধরে পৈত্রিক শৈশব
মনকে জন্ম না দিয়ে।
কারখানা মালিকের সুইচে
মেশিন চালু হয়,
কাজ চলে রাত-বিরেতে।
মাঝপথে মালিকের স্বৈরাচারী ইচ্ছে-
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অটোমেশন।
মানুষের চাহিদা কাজের,
শ্রমিকের দাবী যোগ্য মজুরী।
ইচ্ছেদাবীতে
মন থেকে মানুষ বিয়োগ হয়
যন্ত্রপাতি যোগ হয় সদম্ভে।
মুনাফার উচ্চতা দিয়ে
জ্বালামুখ অহংকার বেরোয়।
অন্তর্দহনে গলিত ধাতব প্রবাহ
লোকালয় থেকে গাছপালা নিশ্চিহ্ন করে।
শেষ সময় হয়তো আবারও
মন ফিরবে সাম্যের হাতে।
যন্ত্রের আদরছোঁয়ায়
টলটল ভালোবাসা
গড়িয়ে পড়বে সমতলে। 

রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২২

হারানো পথ

(C)Image:ছবি








 || মিঠুন ভট্টাচার্য ||


রোজ গলির সামনে
আমার খুব চেনা একটি ছেলেকে দেখি
অচেনা মুখে
দাঁড়িয়ে আছে।
চোখাচোখি হয়
আটকে পড়া কথায়।
তার চোখে জ্বালামুখ ব্যথার গভীর শুনি।
ভবিষ্যৎ শঙ্কায়
আশার সেতুতে পা রেখে ঠায় দাঁড়িয়ে,
অপেক্ষায়।
কোভিড যন্ত্রণা সইতে পারেনি
আমার স্বদেশী স্বজন ক'ত!
আধমরা যত পড়ে আছে
চেনা অচেনার বৃত্তে।
ভরা সংসার নিয়ে পথে নামে
হাসির আড়ালে ছলছল চোখ আলগোছে রেখে।
ইচ্ছে করে
সমবেদনার হাসি জানাই।
পরক্ষণেই মনে হয়
ছেলেটির সহমর্মী প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতা আমার নেই।
আছে একটু সময়ের
মনখারাপি পোশাকি কথা।
আমি নেহাত
যাত্রাপথের সৌভাগ্য আশ্রয়ে বাড়িতে আছি
রাতের নির্ভরতায়।


বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২

ক্রমাগত রক্তপাত

।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।
(C)Image:ছবি













রক্তধারা শুরু
আমার কৈশোর উদযাপনে।
যৌবনের আগমনী বার্তায় যেন
ব্যথা বেদনা সহ্যের প্রস্তুতি ।
তাই বলে কি
খুবলে নেবে আমায় তোমরা?
আমায় দেবে না মুক্ত বাতাস?
মুক্ত আকাশের অধিকার
কি নূপুর নিক্কণে,
মুক্ত পুঁজির বিশ্বায়নে বেঁচে
বিজ্ঞাপনে সেঁটে দেবে?
আমার পছন্দের পৃথিবী জুড়ে কি
ঘৃণা উদগিরণের গিরিখাদে
লালিত হব ললনা হয়ে?
রক্তাক্ত অভিশাপ ছড়া
শরীর মন বয়ে চলবে চিরকাল জুড়ে?
এ কেমন বিচার বিধাতার?
আমিই যদি মা দুর্গার প্রতিনিধি
তবে কেন অসুরের উল্লাস দাপাদাপি ?
আমার মুক্তির দশহাত
আমারই অন্তরের
শক্তিপুঞ্জে জাগিয়ে রেখে
অর্ধেক আকাশের চাওয়া প্রতিষ্ঠায়।
আগুন হোমে  মন্ত্র
জপে যেতে হবে আমারই।
এছাড়া শুরু কোথায়?

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

প্রজন্মের অন্তর

।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।

(C)Image:ছবি










কিশোরী মন কেঁদে উঠে
ভয়ে ব্যথায়,
অপরিচিতের মাঝে
অচেনা নতুন পরিবারে।
আমি বলে চলি-
তোর কিছু হয়নি,
তুই ভান করছিস,
কাঁদিস তুই আবেগ জাগিয়ে
আমার সহানুভূতির পালকি চড়বি বলে।
আমি বেঁচে আছি
আমার মন্দবাসার দিনগুলো আঁকড়ে।
 
স্নেহের স্মৃতি বড় ঝাপসা মেদুর,
রাতগুলো কুপীর আলো আঁধারি।
আমি ভাসতে পারিনি
এলইডি বাল্বের উজ্জ্বলতায়।
ভেবেছি -
আলোর বন্যা
আমার পুরষ্কার।
ভালোবাসার স্পর্শ পড়েনি
শরীর বাসায়,
মনের কোঠায়
মাকড়সা জালের ছাদ।
দেখো না আরেকবার
আমি কিশোরী সেজে!
 

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আলোর ছন্দ


।। মিঠুন ভট্টাচার্য।। 



























সূর্যের দেশে
রোদ স্মিতার আলোয়
তোমায় নিয়ে
তমসাবিহীন রাত্রি জাগি
রাত বারোটায়।
শীত স্বপ্ন হাতে
উদীচী ঊষায়
তোমায় নিয়ে বিভোর
প্রাণস্মিতা ছন্দে
তুমুল আলোর ফোয়ারা তলে।







মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২

প্রাণস্মিতায় বিষাদ সন্ধ্যা

 ।। মিঠুন ভট্টাচার্য।।

(C)Image:ছবি









চোখের লেপটে যাওয়া কাজলে
মনের সীমানা অবসন্ন,
চিলেকোঠায় জমে থাকা মেঘে
বিকেলটা
  ক্লান্ত,
তখন সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ে
প্রান্তদেশে।
কোনও
 কথা হয়না......
নির্বাক সন্ধ্যা নামে শরীরে।
সন্ধ্যা আরতির স্তবকে স্তবকে নিবেদন -
সকল ব্যথা,
 যন্ত্রণা, অপমান যত
মুছে নিয়ে যাক
অমাবস্যা রাত।
 

সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০২২

অভ্যন্তরঃ শুচি

 ।। মিঠুন ভট্টাচার্য।।

 

(C)Image:ছবি


















পৃথিবীর পাঁজর ঠেলে ভেতরে

যেতে যেতে -

হাজার অযুত বছরের

গলিত লোহার আধানে

অবিনশ্বর চিরস্থায়ী সঞ্চয়।

উপরিভাগে পড়ে থাকা

লতা-গুল্ম , চামড়া-মাংস

ক্ষণস্থায়ী যত প্রাণ 

ঘড়ির কাটার আবর্তনে

পাল্টে পাল্টে যায়।

থাকে নদী, পাহাড়, মাটি

প্রসব করে নতুন সবুজ, হলুদ,লাল

নীল পর্দা ঢাকায়।

 


বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২

পথের দুর্দশা

 

।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।














তোমার আলপথ ধরে
আমি এগোই।
বর্ষা এলো
তাই বীজ বপনের পালা।
ধেয়ে এল
বিশাল বপু নিয়ে বন্যার জল।
পেছনে যাই বাড়ীর দিকে
জানমালের হেফাজতে।
জল আমার প্রেমে
আমায় ছোঁয়ার ইচ্ছেয়
আমার গলা অবধি চলে আসে।
আমি সিঁড়ি ভাঙি
গ্যাসের উনুন, ডেগ, থালা, বাটি নিয়ে
ছাদে ত্রিপল টাঙাই,
বিছানা নিতে ভুলে যাই।
মাছ সবজির আড়তে মজুদ ফুরোয়,
বৃষ্টির জল ধরি,
খাবার পানি নাই।
চালের উপর সংসার পেতে
উনুন গড়ায় পুকুরে তো
আলু পোস্তের
ছবি ভাসে মোবাইল স্ক্রিনে,
খিদে মিটে দুটো বিস্কুট, এক ঢোক জলে।
এই আমার অফিসার মাইনের সংসার। 


সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২

জলস্ফীতি


 ।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।












রাকের বহমানতা
যেভাবে মিশে আছে আমার অন্তরে,
তাকে বিদায় জানিয়ে
নতুন পরিষ্কার জলে চান করতে বড় সাধ জাগে।
অবরুদ্ধ মানুষ,
জলের তেষ্টা,
হঠাৎ করে থমকে পড়া জীবন,
আবেগ সঞ্চারী মুখে বিস্ফোরণ,
সবই একদিন শেষ।
তবু বুকে লেগে থাকা স্মৃতির আস্তরণ
হয়তো পলিমাটিতে ঢাকা পড়বে।
কিছুই থেমে থাকে না
মিশে যাবে উচ্ছল সাগরে। 

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২

বীতশ্রদ্ধ মা

।। মিঠুন ভট্টাচার্য।। 
 
















কান্নার ভাষা নেই
শুধুই বাঁচার তাগিদ।
জলের নাম জীবন বইতে লেখা ছিল
উপলব্ধি অনেকের ছিল না।
আবার অনেকের ধারণা ছিল টাকা দিয়ে মিনারেল
ওয়াটার বোতল ভুরি ভুরি মেলে বাজারে।
আজ সেই টাকা ব্যাঙ্কে গড়াগড়ি খায়,
জল কেনার না আছে পয়সা, না দোকানী
না কোন বিলাসী গাড়ির ডিকি।
নেই এম্বুলেন্স, নেই কিছু
না আছে স্বর্গরথ, না কোন খালি শ্মশান,
চারিদিক জুড়ে আর্তনাদ।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের বোমায় বেঁচে যাওয়া লোক
জীবনে থেকে জীবনের আর্তি শুনছে নিজে।
প্রিয়জনকে বুকে আগলে গলাজলে ভেসে, কাঁধে তুলে
পথ হাটা ডাঙার জলস্রোতে।
আমি যদি মানুষের দেবতূল্য হতাম
হয়ত থেমে যেতে এই প্রলয় ধ্বংস ।
আমি শুধু প্রকৃতি সৃষ্ট এক জীব।
ভুলে আছি আমার নাড়ির ইতিহাস, বিজ্ঞান
তাই মায়ের এমন রূদ্ররূপ। 

মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২

হৃদ-কথা

।।  মিঠুন ভট্টাচার্য।।

(C)Image:ছবি









শান্ত স্নিগ্ধ বৃষ্টিস্নাত তুমি
অত্যন্ত আপন।
এই তুমিকে
খোজ করেছি
সেই গান শুনে ভেসে বেড়ানোর কাল থেকে
আজ অবধি।
সেই তুমিতেই যেন
সবকিছুর সমর্পণ।
বন্ধুতা যেন তোমার মাঝেই বসত করে,
গভীরতা যেন তুমি দিয়েই শুরু হয়ে
সবুজ অরণ্য গড়ে।
বিপুল প্রসারিত মনহাওরে
আমি বৈঠা নিয়ে শ্বাস নিতে চাই।
এই তুমিতেই থাকতে চাই
সদ্যোজাত যুবক হয়ে।
শুধু তুমি থেকো। 

শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২

একাকী ভালোবাসা

 
 ।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।। 
 













অনেক তুমিদের ভীড়ে
তুই শেষ বেলায়
বৃষ্টি পরে রামধনুতে ছবি এঁকেছিলি
পশ্চিম আকাশে।
ঘরে বাইরে
ধূপ-ধূনোর গন্ধে
যখন ঠাকুরঘরে আলো জ্বলল,
তখন বাইরের আলো মিলিয়ে
কৃষ্ণপক্ষের রাত
অন্ধকার জড়ো করছিলো।
আবার
কোন শুক্লপক্ষে
অন্য তুই,
জোৎস্নার আলোয় নেমে আসবি
আমার ঘরের বারান্দা জুড়ে
এক ছাদের দিনে।
তুই তখন
আমার ঘরের
দেয়াল লিখনে
অহংকারপূর্ণ স্লোগান।

সোমবার, ১৩ জুন, ২০২২

বন্ধু স্বজন তোমায় বলি


 
 
 ।। মিঠুন ভট্টচার্য ।।
 













সম্পর্কের কিছু লিখি
পরিবার বৃত্তান্তে।
অনেক অমূল্য বাঁধন
তোলা থাকে
কবির কবিতায়,
নিজের অনুষঙ্গে।
বিজ্ঞান বলে
বহুকোষী বিবর্তনের ইতিহাসে
সবাই এক সূত্রে গাঁথা।
তবু বেড়াজালে আগলে
অসাম্যের ব্যথা-অপমানে,
উদ্বৃত্ত লোভের ফাঁদে
হিংসা রচনা করি।
শক্তিপীঠে একাত্ম হই।
পেছন ফিরেই
আবার আগ্রাসী,
সব বই খাতা উপড়ে
সসীম থেকে অসীমে
স্থাপিত হই।

বুধবার, ২৫ মে, ২০২২

মা-ডাকে শব্দ নেই

  ।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।। 
(C)Image:ছবি















আমি যদি মা হতাম
তাহলে হয়ত হৃদ-ঘড়িটা বেজে চলত।
আজীবন সংগ্রামী রমণী
সেদিনও একক নেতৃত্বে সামনের সারিতে
পেশীর সংকোচন প্রসারণ মুদ্রায়
যুদ্ধরত।
মাথার ব্যথায় যখন বেসামাল
তখন সহজাত ছন্দে
মুষ্টিবদ্ধ হাতে
অস্ত্রোপচারের বৃথা চেষ্টায়
কপালে আঁচড়।
ঘেমো শরীরের সাথে একাত্ম বিছানা
স্মৃতিতে প্রতীকী নামায়
শরৎ সকালের কোমল শীতল
ভরা গ্রীষ্মের বিকেলে।
শরীরী যন্ত্রণার উপাখ্যান
আমার অনুভবে ধরা পড়েনি।
কারণ হয়ত-
আমি মাকে বড় হতে দেখিনি,
বা, আমি মাকে চিনতে চাইনি।
অসম যুদ্ধের পাশাপাশি,
নিরন্তর সাহস দিচ্ছিল
কথা কইতে না পারার অসহ্য মাঝে
আমার মা।
কারণ-
মা জানত আমার ইতিহাস।
মা চিনত প্রাপ্তবয়স্ক আমি-কে ।
আমি মা ছিলাম না !
তাই মায়ের যন্ত্রণার উপশম,
বা,জীবনে টিকে থাকার হদিশ
খুঁজে দিতে পারিনি।
বুকের শেষ উঠানামা
রাত ১০ টা ৫৫ মিঃ অবধি।
 
 
 
 
 
 
 
 

আমি

 ।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।

(C)Image:ছবি











সৌর করোনা তাপে

ঝলসানো আমি,

শীতলতা খুঁজি

হেমন্ত নদীতে।

বর্ষানদীর জলোচ্ছ্বাসে

হাত বাড়িয়ে দিই

ভেসে যাওয়ার আনন্দে।

বিপুলা নদীর বুকে

সভ্যতা বিলোয় যুগান্তর।

আমার বিশ্বাস, অহংকার,

আবেগ, নিশ্বাস যত

সব মিলায়

তোমারই জলে।