“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
ডঃ কফিল আহমেদ চৌধুরি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ডঃ কফিল আহমেদ চৌধুরি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৩

বিচিত্র এই দেশ


।। . কফিল আহমেদ চৌধুরী।।  














চাকা ঘুরছে

টাকা পড়ছে,

চাষি ফাঁসিতে ঝুলছে

এদিকে রাজনেতার আঙ্গুল ফুলছে,

সরকার ধুঁকছে

পুঁজিবাদের সীমা ফুঁসছে

কালোবাজারিরা হাসছে;

পেঁয়াজ কাঁদাচ্ছে

আলু লাফাচ্ছে

তো লবন উধাও হচ্ছে।

সহায় সম্বলহীন সদা মলিন

রিক্তরা ক্রমশ হচ্ছে বিলীন।

আসছে সেই দিন

চা ও হবে চিনি বিহীন,

রসনার ব্যঞ্জন --

ছড়াবে সর্বত্র রোদন।

কী বিচিত্র এই দেশ

লাঞ্ছনার নেই শেষ।

রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৩

আবার এসেছি ফিরে



বার এসেছি ফিরে এই কুশিয়ারার তীরে
স্মৃতিমাখা রজনীর রজনীগন্ধা হয়ে,
হাসনাহেনার মত গন্ধ ছড়ায়ে চারিদিকে -
ভোরের দিবাকর হয়ে সোনালি আভা দিয়ে
আবার এসেছি এই খাল, বিল, হাওর ভালবেসে;
হয়তো এসেছি বুরো ধানের মিষ্টি-কাঁচা গন্ধের টানে
কিংবা রাখাল ছেলের বুকফাটা গান শুনব বলে
এসেছি আবার অম্বুবিম্বসম ক্ষণিকের বিরহ কাটিয়ে
বাংলা মায়ের সবুজ শ্যামল রূপ দেখব ভেবে।
কাক, কোকিল, শালিক, পেঁচা, বক আর মাছরাঙা -
দেখব কেমন আছে ওরা এই ভবে,
অথবা রুই, কাতলা, বোয়াল, চিংড়ি আর কই পুঁটি -
কীভাবে সেজেছে ওরা ধনীর খাবার পাতে
সুস্বাদু রেসিপির গন্ধে দালান যাবে ভরে,
ক্ষুধার্ত পথিকের মত আমারও জিভে হয়তো আসবে জল;
অথবা দেখব নাক টিপে বাবুরা যাচ্ছে চলে
কোন পথধারে পর্ণকুটিরে
পচা সিদল-শুকটির গন্ধ পেয়ে।
অথবা দেখব হতাশার বুকে
শুয়ে আছে ভগ্ন ফুটপাতে
অর্ধনগ্ন কোন কঙ্কালসার রিক্সাওয়ালা -
বস্তিতে তার অভাবের সংসার নিভৃতে কাঁদে।
তাইতো আশার প্রদীপ নিয়ে এসেছি আবার
এই নিভৃত নিকুঞ্জ মাঝে তব কাছে।

একটি সড়কের কাহিনি

।।ড০ কফিল আহমেদ চৌধুরী ।।
কটি সড়ক,
সেই বহুকাল থেকে
অনন্ত স্বপ্ন নিয়ে
আর পাঁচটা সড়কের মত —  
পাহাড়ের গা বেয়ে,
ধুসর মাঠের বুক চিরে
চলতে চলতে ভীষণ ক্লান্ত।
শরীরে তার অজস্র ক্ষত,
ক্ষয়িষ্ণু বুকের পাঁজর
মড়মড় করে ভাঙছে অবিরত;
অথচ বয়ে চলেছে
হাজারো গাড়ির কনভয় —
সে তো নিছক চার বা ছয় চাকা নয়,
চাকার কারাভ্যান, অগুনতি চাকা!
নির্মম যাতনার ভা্র বয়ে যায় একা।

পাহাড়ে কখন যে চলবে রেল
নেই তার ঠিকানা;
পরিবহন লবি, আর নেতাদের ঝুলি, 
কোথা যাবে চলি
এই এক দুর্ভাবনা;
মাঝে মাঝে কয় তবু
ব্যথিত পথিক সুহৃদ —
“এই কেন হাল তোমার হে সড়ক সাথি?
কে আছে আজি দেবে তব ঘায়ে মলম মাখি?”

প্রখর রোদে ধু ধু বুকে
উঠে যবে ধুলোর ঝড়
কুড়ির যুবক ষাটের বুড়ো হয়ে বাড়ি ফিরে;
নতুবা,
ডোবা ভেবে ডুব দিতে যায় বালিহাঁস
এক পশলা বৃষ্টিতে।
তাইতো,
বিলাপ করি কহে অভাগা সড়ক
“শুনছো সকলে, বাঁচতে দাও মোরে
নরক হয়ে নয়, সড়ক হিসেবে”।