“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
জাহিদ রুদ্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাহিদ রুদ্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৩

শিরোনাম


'মজলিস আক্রান্ত ভিটায়'
দৈনিকের সকালের হেডলাইন

আমাদের ঘর ভাঙা হয় নি
ভাঙা হয়নি হাড়,মন
বা হইনি উচ্ছেদ - উদ্বাস্তুও

এসবের মানে অবিধানেই থাক

আজীবন হালচষা, চৌদ্দপুরুষের ক্ষেতে
আগাছা নিড়িয়ে রোপা সুগন্ধের শস্য,
আর চোখের সামনে
রহিমার ভিটেটুকু বেদখল আজ।

আগামীকাল আরও একটা নতুন ভোর হবে
সূর্য উঠবে, ঘর ভাঙবে, আশ্রয় মিলবে
কোন এক গাছের নিচে বা 
অন্ধকার জানালাহীন, ভেন্টিলেটরহীন কোন এক ঘরে

শীতে ঘুম সবারই হয়
আমারও হয়
কারো কম্বল মোড়ে রুম হিটারে
কারো বা খোলা আকাশের নিচে।।

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

স্বদেশ আমার

।। জাহিদ রুদ্র ।।








এখন আর কিছু ঠিক রইল না 

যতবার চললাম মানুষ হয়ে ওঠার রাস্তায়

অমানুষ হয়ে গেলাম টের পাওনি

তুমি টের পাওনি বলে, 

অর্ধমানবের মতো শিম্পাঞ্জির খেলা দেখে হাততালি দাও

তারও দুঃখ আছে, মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি 

যে সাদা ফানুস উড়িয়েছিলে, সুতোয় বাঁধা 

দু একটা গেরুয়া ও সবুজ রং এর ও ছিল 

ওরা যে এক একটা মরা লাশ -- তা কি জানতে ?

 

প্রিয়তমা, তুমি টের পাওনি বলে

উদাসীনতা আমাকে অমানুষ করে তুলেছে

তোমার সম্মানে মৌনতা নিয়ে লালকেল্লা

তার প্রতিটা কিলায় লাইভ টেলি-কাস্ট চালায় 

বিলকিসরার স্বাধীনতা

গোধরা কনসাইন্টমেন্টে!

 

প্রিয়তমা, জানি তোমার গলা শুকিয়েছে 

মহোৎসবের অমৃত পানে

আজাদী, জল জীবন কেড়ে নেয় বিনা দ্বিধায় ---

মন্বন্তর থেকে ছিয়াত্তরতম স্বাধীনতা

ফুল এপিসোডে ফারাক অবশ্যই

ক্ষুধা মানুষ খেয়েছিল আর আজ রাজনীতি জীবন।

 

হোক না খোলা সব পতাকা

একবার তোমার মুখে হাসি দেখে যাই প্রিয়তমা ,

লিখা হোক যত মহাসভা সংবিধান 

উড়ুক যত ধর্ম পতাকা 

শিকল ভাঙ্গবে স্বদেশ আমার ।

 


রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২

একটি অঙ্কুরিত জীবন


।। জাহিদ রুদ্র ।।













শর্ত ছিল

জীবন্ত কবিতা নিয়ে আসলে প্রস্তাব গ্রহণ করব

প্রান্তিক কবিদের দিয়ে শুরু সব কবিকে বলেছি

স্থানীয়রা বলল,

আমি এখনো চেষ্টা করে জীবন্ত কবিতা লিখছি।

 

বিদেশীরা বলল,

কবির জীবন্ত কবিতা নেই।ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করো

মৃত মানুষকে জীবিত করা সম্ভব!

আমি চেম্বারে ধাক্কা দিলাম আর ভেতর থেকে একটা আওয়াজ হল-

জীবন্ত কবিতা নেই, ফ্রিজে আছে জীবন্ত হৃদয়

তুমি এটা দেখতে পারো।

 

 আমি অসহায় হয়ে মন্ত্রীকে বললাম,

 স্যার, আপনি জীবন্ত মানুষ বিক্রি করেন

 একটি জীবন্ত কবিতা বিক্রি করবেন?

 - ধুর! ছাই! আমি শুধুমাত্র জীবিত দেশ বিক্রি করি

 জীবন্ত নারীদের কারখানা আছে বলে ব্যবসায়ীরা

 নারী কবিতা থেকে আলাদা নয়।

 

 সবার কাছে গেলাম

 কোম্পানির মালিক থেকে দেশের মালিক

 জীবন্ত কবিতা পেলাম না

 

তাই এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন

চরের জমি রন্টুর ছেলে মন্টুর দখলে

শোকে আমার বাবা লক্ষীবাজার রোডে নৈশ প্রহরী হিসেবে চিৎকার করে বললেন--

আমি জেগে আছি...সবাই ঘুমাতে যান।

 

দুঃখের গাড়িতে উঠে বিষণ্ণ বাতাস নিয়ে ফিরলাম

একজন পোস্টম্যান এসে আমাকে একটা চিঠি দিল

আমি দুঃখিত নই, কিন্তু আমি একটি জীবন্ত কবিতা পেয়েছি

কবি জীবন্ত কবিতা লেখেন না

আমার দেশের মৃত তারারা লেখে জীবন্ত কবিতা।

 



বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০২২

প্রবুদ্ধসুন্দর কর : কবিতা ভাবনা ও স্মৃতিভূত সৃষ্টি


জীবন নিয়ে খাঁচার ভিতর অচিন পাখি জড়িয়ে রাত-প্রভাতের মত কর্মব্যস্ততার অবধারিত ঘুর্ণনে জীবন চিত্রের বদল ঘটে হরেক দিন, এটাই মানব জীবন। চৈত্র-বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রাক্‌পর্ব পর্যন্তও স্বাভাবিক থাকে জীবনাচরণ কোনো কোনো সময় মানুষের, জীব-জন্তু বা পশু- পাখির। চৈত্রের কালবৈশাখী, আষাঢ়ের বাধভাঙা জলেচ্ছ্বাস যেমন ছিন্নভিন্ন করে দেয় প্রকৃতির সাজানো সংসার, তেমনি মানবসভ্যতা ও সতর্কতার তরীকে জীবন নদীস্রোতের বিপরীতে নিয়ে এড়িয়ে চলে বিপদের লাল-সঙ্কেত কাটানো প্রহর।

প্রকৃতিই কখনও আপন খেয়ালে নিজের উল্লাসে মেতে ওঠে, ঝড় হয়ে দেখা দেয় প্রাণধারীর আয়ুতে, আবার প্রকৃতিই কখনও চোখের জলে ভাসিয়ে দেয় স্থল— চরভূমি জলের গভীরতা বাড়াতে। অর্থাৎ প্রকৃতিই প্রকৃতির ওপর— নিজের মনে ও শরীরে চালায় শাসন। অধিকার, হুকুম বা কখনও চূড়ান্ত ঘোষণা; যার ফলে প্রকৃতির সন্তানেরা প্রকৃতিরই লীলায় জীবনের সিসিফাসের ভূমিকায় নানান অবস্থাবৈচিত্র্যের পাথর ঠেলে যায়।কালের আপন খেয়ালে এভাবেই তো মহাবিশ্ব তার গতিব্যস্ততা নিয়ে নিজের কর্তব্য পালন করে।

উত্তর পূর্ব ভারতের বাংলা কবিতার জগতে কবি প্রবুদ্ধসুন্দর করকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই, আমার সে দুঃসাহসও নেই। আমি একজন মুগ্ধ পাঠক হিসেবে তার কবিতার প্রতি আমার ভালোবাসা ব্যক্ত করছি মাত্র। গত শতাব্দীর নয়ের দশকে লিখতে এসেছিলেন প্রবুদ্ধসুন্দর কর। তার কবিতায় দেখা যায় মনের গভীরতম স্তরে সুখ, শান্তি ও স্থিতির উপরে অন্য কিছুকে মূল্য দিয়ে থাকে।আমরা যেখানে চাই কোনো-এক পরম ও নামহীন সুখ, কোনো-এক চরম নামহীন দুঃখ; এবং যা আমরা জীবনে পাই না, কিংবা যা চাইবার সাহস হয় না আমাদের সেইসব অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাই জীবনের বাইরে খুঁজে বেড়াই। তাঁর জীবন ছিলো একজন বিশুদ্ধ কবির জীবন; যিনি সাহিত্যকে একধরনের ব্রত হিসেবে, নিজের ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কবিতার মধ্যে দিয়েই তিনি নিজের আত্মসচেতনতার বোধকে নিরন্তর খুঁজে চলেছিলেন - এটাই প্রবুদ্ধসুন্দর করের স্বধর্ম।

কবি তাঁর কবিতায় বলেছেন - গানের ভেতর তোমার প্রশ্বাস স্পষ্ট শোনা যায়/মৃদু, তবু তীব্র এই শ্বাস ছাড়া যেন/সমূহ অন্তরা আজ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। তিনি সেইসঙ্গে এইটিও বুঝতে পেরেছিলেন যে, নিজের চৈতন্যের দ্বারা সবসময় নিজেকে পরিচালনা করা— মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কবির ভাঁড় কবিতায় 'জন্মনিরোধক আর বেবিফুড কিনে বাড়ী ফেরে/সেইসব সংখ্যালঘু অর্দ্ধদগ্ধ ভাঁড়/তাদের গোপন আড্ডা থেকে আমাকেও চিঠি দেয়/তীব্র হাহাকার আর গোঙানি মেশানো -- জীবনকে কবিতার সঙ্গে, কবিতাকে জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কোনো কিছুকেই বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমগ্রতার মধ্য দিয়ে সামঞ্জস্য নির্মাণের চেষ্টা করে গিয়েছেন তিনি।

একজন কবিকে প্রতিকূল পরিবেশে যা সবসময় সহায়তা করে, সেইটি হচ্ছে তার নিজস্ব একাকিত্বের বোধ। রিলকে গভীরভাবেই বিশ্বাস করতেন যে শিল্প সবসময়ই এই অন্তহীন এককিত্বের ফসল। একমাত্র ভালোবাসা, আন্তরিকতাই পারে তাকে কোনো-নাকোনোভাবে স্পর্শ করতে। এই বিশ্বাস থেকেই রিলকের মতো কবি বলতে পারেন,জঙ্গলের ভেতর কোথাও এক পরিত্যক্ত রেডিও স্টেশন/কোনো একদিন খুঁজে পেলে জেনো, স্তব্ধতাই এর সিগনেচার টিউন'।

কবি প্রধানত নতুন সমাজের একজন অভিনব প্রেক্ষক।নিজের নিজের জীবনের অনুভূত প্রকৃতিকেও সমাজের মতোই কবিতার বাঁধনে ঢেলে পরিবেশন করেন। প্রতি কবির সৌন্দর্যবোধ আলাদা। কবি প্রবুদ্ধসুন্দর করের যে সৌন্দর্যচেতনা কবিতায় উদ্ভিন্ন তা-ই বাস্তবের বিশিষ্ট সন্ধান। কবির ভাষায়— “ প্রেমিক ও তোমার মাঝখানে নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে বুঝেছিল কবি,কাকে বলে ছায়াপ্রতারণা। স্থির জলে প্রেমিকের ছায়া, মুখে মাংসখন্ড, দেখে কবি কেঁপে উঠেছিল। লোকমুখে শোনা যায় নিজের ছায়াকে তার, প্রেমিকের ছায়া ভেবে ভ্রম হয়েছিল।”

গত পঁচিশ বছরে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সাতটি কবিতার বই। উত্তরপূর্বের তরুণ কবিদের নিয়ে সম্পাদনা করেছেন শ্রেষ্ঠ বাংলা কবিতার সংকলন। যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন উত্তরপূর্বের কবিতা।'বাংলাকবিতা'-র ১০টি সংখ্যার ছিলেন যৌথ সম্পাদকও। অনুবাদ করেছেন ভারতবর্ষের প্রাদেশিক অন্যান্য ভাষার সমকালীন কবিতা। কবি ও তাঁর কবিতার বিশ্লেষণের আর শেষ নাই।পরতে পরতে খুলে যায় তার বিভিন্ন দিক। তবে 'পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে পাথরের ফলকের গায়ে স্মরণযোগ্য পঙ্‌ক্তির মতো ইঙ্গিতবহ এ আর্তি' -- এর বুকের ব্যাথাটুকু যে আমাদের প্রতিনিয়ত বিষণ্ণ ও শঙ্কিত করে তুলবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০২২

কবিতা এবং শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

















।। জাহিদ রুদ্র ।।
দেখলেই কি আর সব দেখা হয়ে যায়
রয়েছে আকাশগঙ্গা থেকে পৃথিবীর সঙ্গম পথ
 তুমি কে । অপহরণ কবিতা
 নাকি র‌্যাঁবো, সে এক বিশাল ইতিহাস।

এখানে যখন সূর্য ক্লান্ত হয়
বদলেয়ার,মাতিস সবুজ রেস্তোরাঁয় গড়ে
কবিতার নকশা ;
শুধু আমি টক্সিন প্রেমে, চলি 
নরকে ঋতু পর্যবেক্ষণ।
সাম্রাজ্যিক ইন্দ্রজালে
কবিতারা ও জানে
'হিউম্যান ল্যান্ডস্কেপ ফ্রম মাই কান্ট্রি'।

শনিবার, ৯ জুলাই, ২০২২

ধর্মান্ধতা মানুষের অবনতির পথ


ধর্মীয় আচার ব্যাবহার বা ধর্মের প্রতি আবেগ অনুভূতি এই উপমহাদেশে খুব বেশি। আমরা যারা এই উপমহাদেশের বাসিন্দা তাই অন্যান্য দেশের মানুষ যতই তাদের জীবন ধারণের মানদণ্ড উন্নত হোক না কেন তাতে কিছুই যায় আসে না। ধর্মের মোহ মানুষের চিন্তা জগতকে কতোটা নির্মমভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তার দৃষ্টান্ত বিশ্ব ইতিহাসে বিরল নয়। মানুষের চিন্তায় ধর্মের মতো একটা কাল্পনিক এবং তাদের দৈনন্দিন জীবন জীবিকার সাথে প্রকৃতিগতভাবে সম্পর্কহীন বিষয়টা কিভাবে এতো বিপূলভাবে সম্পৃক্ত, সমৃদ্ধ ও বিকশিত হতে পারলো, সেই প্রশ্ন আমাদের অনেকেরই। অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এই অজুহাতে উগ্র ধর্মবাদিরা নিজ ধর্মের সমালোচকদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাইছে, শুধু তাই নয়, তাদের অস্তিত্বও নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে। ধর্মীয় আদর্শ অন্য সকল মতাদর্শকে পিছনে ফেলেছে শুধু নয়, জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙচুর, ফতোয়া, ফাঁসির দাবি, গ্রেফতার, খুন, কিছুই থামছে না। প্রকৃতপক্ষে প্রতিনিয়ত তাদের হত্যা করে চলেছে। 

বিজ্ঞানের এই বিপূল অগ্রগতির যুগে মানুষের চিন্তা যেখানে যুক্তিবাদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল, সেটা না হয়ে বরং তার উল্টোটাই ঘটে চলেছে অহরহ। কয়েক হাজার বছরের এই ধর্মীয় মতাদর্শ তার মৌলিক নীতির কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়েও কিভাবে কাল্পনিক সর্বশক্তিমানের অস্তিত্ব মানুষের মনে যুগ যুগ ধরে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে এবং বতর্মান সময়েও নিজের প্রাসঙ্গিকতার বিস্তার ঘটাচ্ছে, সে আলোচনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অন্যান্য মতাদর্শ নিরলস চর্চা করেও সেই সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ।

প্রথমে মুসলমানদের নবী বিতর্ককে সামনে রেখে কিছু কথা বলতে চাই। যেভাবে সারা ভারতবর্ষের মুসলিম সমাজ সহ তামাম মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রিয় নবীজীর অসম্মানের প্রতিবাদ করছে এবং সেই অপরাধের প্রতিবিধান চাইছে তা দেখে আমার মনে হয়েছে যদি জীবন জীবিকার সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে মানুষ এভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ সংগঠিত করতো, তবে দেশে হয়তো বিপ্লবের জমি তৈরি হয়ে যেতো। যে বিপ্লবের স্বপ্ন প্রতিটি সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ নিজেদের মনে লালন করে।

আরেক টা ঘটনা ঘটেছে। একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম কালীর পোস্টার যেটিতে হিন্দু দেবী কালীকে সিগারেট খাওয়ার চিত্র দেখানো হয়েছে । আবার এলজিবিটি ফ্ল্যাগ তার হাতে দেখা গেছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ক্ষোভ এটাকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের জন্য নিন্দিত আখ্যা দিচ্ছে। যে মহাকালীকে উপহাস করা হচ্ছে এবং হেয় করা হচ্ছে। তারা চিত্রনায়িকা লীনা মণিমেকলাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রবণতা যেটা বতর্মান ভারতবর্ষ তথা বিশ্বের কাছে চ্যালেঞ্জ, সেটা হোলো মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে লড়িয়ে দেওয়া। মানুষের পরিচয় ধর্ম দ্বারা নির্ধারিত হওয়া। আমি মানুষ, সেটার থেকেও বড় আমি কোন ধর্মের লোক।এই বিভাজন ধ্বংস করছে মানবিক ঐক্যকে। ধ্বংস করছে মানুষের সম্মিলিত ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদী শক্তিকে। যেটা রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য। রাষ্ট্র চায় তার সকল শ্রম শক্তির অনৈক্য। কারণ শ্রম শক্তির ঐক্যবদ্ধ রূপকে রাষ্ট্র ভয়ের চোখে দেখে। এই কারণেই পরিকল্পিতভাবে নবি বিতর্কের সৃষ্টি। নতুন একটা ইস্যু চাই। সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, সাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্নীতি প্রভূতি বিষয় এবারের লোকসভা নির্বাচনের ইস্যু ছিল। সরকারের কাছে কোনো উত্তর ছিল না। তাই মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে হবে। তারই ফল এই নবী বিতর্ক। সারা দেশ উত্তাল। সরকার তার উদ্দেশ্যে সফল। একদিকে হিন্দু সেন্টিমেন্টকে ভিত্তি করে বিজেপি হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ করতে চাইছে। অপরদিকে আমাদের রাজ্য মুসলিম সেন্টিমেন্ট কাজে লাগিয়ে মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে চাইছে। এই খেলা সাধারণ হিন্দু বা মুসলমানরা ধরতে পারছেন না। মেতে উঠেছে পৈশাচিকতায়। একটা চরম অব্যবস্থা। এভাবেই সব চলবে। চলছেও। মোহাম্মদ রিয়াজ আর গাউস মোহাম্মদ উদয়পুরের কানাইয়া লালের ঘটনাটি ধরে নিন।

আমরা সত্যি অবাক হই এটা ভেবে যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানান ব্যাথা, যন্ত্রণা, হতাশা-যা আমরা প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে অনুভব করে চলেছি, তার জন্য কে দায়ী, কেন দায়ী কিভাবে তার সমাধান - এই সরল প্রশ্নগুলো আমাদের মনে স্থান পায়না। অথবা স্থান পেলেও তার সত্যিকারের অভিমুখ নির্বাচন করতে আমরা প্রায়শই ব্যর্থ হই। ফলে ভুল অভিমুখের কারণে আমরা দিকভ্রষ্ট হই। চক্রাকারে আবর্তিত হতে হতে পূর্বের জায়গায় ফিরে আসি। আমরা বিশ্বাস করি এইসকল যন্ত্রণার কোনো উপশম নেই। আমরা বিশ্বাস করি এ সবই আমাদের কর্মফল। আমরা বিশ্বাস করি এ সব পূর্ব নির্ধারিত। আমরা বিশ্বাস করি একমাত্র ঈশ্বরই পারেন এই যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে। আসলে বিষয়টা সাধারণভাবে দেখলে এমন সরল সমীকরণ ছাড়া অন্য কিছু আসবে না। কারণ কোনো কিছুর উপর বিশ্বাস স্থাপন তখনই সম্ভব, যখন সেই বিষয়ের যুক্তিসঙ্গত ইতিবাচক ফলাফল আমরা প্রাত্যহিক জীবন দিয়ে উপলব্ধি করতে পারি এবং সেটা জীবনের মানোন্নয়নে প্রয়োগ করতে পারি। ধর্মের ক্ষেত্রে বিশ্বাস অর্জনের এই নিয়ম খাটেনা। তবুও কেন ধর্ম মানুষের এই বিশ্বাস অর্জন করতে সমর্থ হোলো? এমনটা নয় যে শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিরোধী মানুষরাই ধর্মে আস্থা রাখেন। অনেক বিজ্ঞানীকেও ধর্মের উপর প্রবল আস্থা রাখতে দেখা গেছে। কারন এখানে বিবিধ। কিছু মানুষ আছেন, যারা নিজের দক্ষতার উপর আস্থাহীন। আত্মবিশ্বাসের অভাবজনিত কারণে জীবনের সফলতার জন্য তারা কোনো না কোনো অবলম্বন খোঁজেন। আধ্যাত্মবাদের সাফল্য এইজন্যই যে এই মতবাদ বাস্তবের রুক্ষতা থেকে অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে মানুষকে এক স্বপ্নীল সুখময় জীবনের স্বপ্ন দেখায়। বোঝানো হয় একমাত্র নিরলস ঈশ্বর সাধনাই সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর একমাত্র পথ। তাই সেই ঈশ্বরের জয়গান করলেই যদি এমন জীবন পাওয়া যায়, তবে কেন মানুষ অন্য মতাদর্শ গ্রহন করবে?

          এছাড়াও আর একটা বিষয় ঈশ্বর ভাবনা প্রসারের জন্য দায়ী। সেটা হোলো, ধর্মীয় মতাদর্শ ছাড়া অপর যে মতাদর্শগুলো আছে সেগুলো মানুষের চিন্তায় প্রভাব বিস্তার করার মতো সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি। তার অন্যতম প্রতিবন্ধকতা ব্যক্তির পারিবারিক ঐতিহ্য, রীতি, বিশ্বাস সবই ধর্মকে ভিত্তি করে অবর্তিত। সেই পরিবেশে শিশুরা জন্মগতভাবেই ঈশ্বর ভাবনাকে পাথেয় করে বড় হয়। তার চিন্তায় প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলো ধর্মীয় ভাবনায় সম্পৃক্ত। তাই তার চিন্তার ভিতটা শৈশব থেকেই ধর্মীয় আদবকায়দায় অভ্যস্ত। বড় হয়ে সে যখন বাইরের পরিবেশের সান্নিধ্যে আসে, সেখানেও সে দেখে হাজার হাজার মানুষ মন্দির মসজিদে ঈশ্বর প্রপ্তির জন্য ব্যকুল। শিক্ষা জগতে যেটুকু বিজ্ঞান চেতনার সংস্পর্শে সে আসে, সেটা তার চিন্তার মূল সুরকে প্রভাবিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ শিক্ষকরাও এই ব্যবস্থারই ফসল। যদিও পাঠ্যক্রমে কিছটা বিজ্ঞান মনস্ক হওয়ার সুযোগ ছিল, সেই পাঠ্যক্রমেও ধর্মীয় চিন্তা অনুপ্রবেশ ঘটছে অবিরত। এর সাথে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় উদ্দোগে ধর্ম সংস্কৃতির বিকাশ। রাষ্ট্র যন্ত্র তার বিপূল ক্ষমতা ব্যবহার করে মানুষের মনন জগতকে ধর্মীয় ভাবনায় নিমজ্জিত করছে। তাই সাধারণ মানুষের পক্ষে ধর্মমুক্ত থাকা আজকের দিনে সত্যি কঠিন। কারণ বৈজ্ঞানিক নিয়মেই চিন্তা সৃষ্টির পারিপার্শ্বিক উপাদানগুলি যদি ধর্ম দ্বারা আচ্ছন্ন হয়, তবে মানুষ ধর্মীয় হতে বাধ্য।

অন্য কোনও অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হলে তুলকালাম কান্ড ঘটে না। বদ-লোকেরা জেনেছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, এই গুজব ছড়িয়ে দিতে পারলে মতলব হাসিল করা সহজ। এই অনুভূতি আসলে বদ-লোকদের বদ-রাজনীতি করার অস্ত্র। এই অনুভূতিতে আঘাত লাগার অজুহাতে তারা এমন কোনও অবৈধ অনৈতিক অসাংবিধানিক কাজ নেই যে করে না। কী আশ্চর্য ! তাই না,
দেশের জ্বলন্ত সব সমস্যাগুলিকে খুব কৌশলে এড়িয়ে, দেশ এখন ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে উত্তাল। আর আমরা নির্বাক হয়ে তা শুনছি, যাইহোক।

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০২২

বেঁচে থাকা ফ্লুরোসেন্ট রোদে



পৃথিবীর বুকে এতো হাঁটাহাঁটি করেও
একটু ঘুমোনোর জায়গায় মধ্যাকর্ষণে ঝুলে যাই
তবুও সেখানে আমার শরীরটা ছেড়ে দিতে সাধ হয়
যেখানে সামান্য সেঁকা রুটি অবশিষ্ট ছিলো।

মতবাদ দিওনা বন্ধু এখানে নৈঃশব্দ্য, হিরোশিমার জেনেটিক্যাল ফিউশন। তবু পৃথিবীর মুখ নিঃসঙ্গ ব্ল্যাকহোলে টাইট্রন থেকে প্রক্সিমা পর্যন্ত  জীবনানন্দ কলিং বাজায় ইস্কাপনের রাজা। আর দেরি হলে প্রাচীরের অর্থহীন অবরোধে লিখা হবে ইতিহাস তোমার! পৃথিবীর প্রাক্তনভাগে আমরা বেঁচে ছিলাম ক্ষুধায়। আবার লিখা হবে নয়াগণতন্ত্র।

বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২

ধর্মানুভূতি: আহত ও আঘাত এই কথা দুটিতে জড়িয়ে থাকে

।। জাহিদ রুদ্র ।।


"আমি হিন্দু" "আমি মুসলমান একথা শুনতে শুনতে কান ঝালা-পালা হয়ে গেলো।কিন্তু “আমি মানুষ” একথা কাহাকেও বলতে শুনি না। যারা মানুষ নয়, তারা হিন্দু হোক আর মুসলমান হোক, তাদের দিয়ে জগতের কোনো লাভ নেই।"
                                  -----রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


ধর্মান্ধতাই ধর্মের মৌলবাদ। এই মৌলবাদই দেশে দেশে শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে। ধর্মান্ধতা মানুষের একটি কমন ত্রুটি। এর প্রধান ভিত্তি হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট বিধিবিধান বা প্রথার প্রতি যাচাই বাছাই না করে অন্ধ আনুগত্য করা। তাইতো অভিজিৎ রায়ের কথায় ‘ধর্মান্ধতা, মৌলবাদের মতো জিনিস নিয়ে যখন থেকে আমরা লেখা শুরু করেছি, জেনেছি জীবন হাতে নিয়েই লেখালিখি করছি।’

প্রচলিত ধর্মগুলি মানুষকে হিংসা বিদ্বেষ শিক্ষা দেয়, সুস্থ মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, কর্মবিমুখ অলস পরনির্ভরশীল করে গড়ে তোলে, মানুষের মধ্যে তৈরি করে বিভেদ বিভাজন। এখনো এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে, জ্ঞান বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের সময়েও তা থেমে যায়নি। বিশ্বের সভ্য মানুষেরা যখন ধর্মের আদলে কর্মে মনোযোগ দিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে, তখন কতিপয় ধুরন্ধর মতলববাজ পরজীবী শ্রেণী সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে বাড়িয়ে চালাচ্ছে তাদের পুঁজিবাদী ব্যবসা! ছড়াচ্ছে উন্মাদনা! মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারে! থামিয়ে দিচ্ছে উন্নতির অগ্রযাত্রাকে! মানুষ ঠকছে, হচ্ছে প্রতারিত! তাইতো কখনো 'রামের' নামে আবার কখনো 'গোস্তাকে রসুলের' নামে মারছে-মরছে।

সাহাদাত হোসেন মান্টো ধর্মান্ধতা নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছেন। তার ‘ঠাণ্ডা গোস্ত’ গল্পে দেখি,দেশভাগের সময়কার দাঙ্গায় মুসলমানের রক্তে হাত রাঙানো শিখ যুবক ঈশ্বর সিংহ ঘরে ফিরে কিছুতেই প্রেমিকার সঙ্গে সঙ্গম করতে পারছে না। প্রেমিকার সন্দেহ হয়, তার পুরুষ নিশ্চয় অন্য নারীসঙ্গে মজেছে। ঈর্ষার জ্বালায় ঈশ্বরের কৃপাণ কোষমুক্ত করে সে ক্ষতবিক্ষত করে তাকে। মুমূর্ষু ঈশ্বর স্বীকার করে, সে এক অচেতন মুসলিম বালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ক্রমশ বুঝতে পারে আসলে সে বালিকাটির শবের সঙ্গে... আখ্যানের তীব্র সংবেদনশীলতা বোঝেনি পাকিস্তান। ‘আমরা মুসলমানরা এতই আত্মমর্যাদারহিত যে আমাদের মৃত কন্যাদেরও শিখরা ধর্ষণ করে যায়?’—এমন প্রশ্ন তুলে লাহোর আদালতে মামলাও ঠুকে দেয় পাক আমলাতন্ত্র। যাইহোক এই কথাগুলো বলার কারণ হলো আমরা আর কত এভাবে একে অপরের রক্তস্নানে নিজেকে পবিত্র করবো ?

অনেক বড় ধরনের দূর্ঘটনা দেখেও আমরা খুব শক্ত থাকতে পারি। সেটা যতই মানবাধিকার লঙ্ঘণ হোক, সেটা যতই দেশের উন্নয়নে বাধা হোক, জনগণের স্বাধীনতা হরণ হোক আমরা মাথা ঠান্ডা রাখতে পারি। শ্রেণী সংগ্রামের পথে না গিয়ে আমরা চলছি ভোটের রাজনীতিতে, তাতে কোন ভাবেই আমাদের অনুভূতিতে আঘাত আনতে পারে না। কিন্তু যখন দেখি ধর্ম নিয়ে একে অপরের মন্তব্য বা কেটে মেরে রক্ত ঝরায়, তখন আমাদের আবেগ তীব্র উল্কাপিন্ড হয়ে যায়। হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়,শক্ত হয়ে যায়। মনে হয় নিজের শরীরে যন্ত্রনা হচ্ছে।পৃথিবীতে মনে হয় ধর্মের চেয়ে কেউ আত্মার এত কাছে থাকে না।

ধর্ম যে কতটা ঠুনকো কতটা ভঙ্গুর তার বারবার প্রমাণিত।মানুষ হতে ধর্মের কোনো প্রয়োজন নেই। একুশ শতকের আগের একটা মহান শিক্ষা আজ‌ও আমরা আমাদের বাচ্চাদের দিতে পারিনি - 'ধর্মের বেশে মােহ যারে এসে ধরে অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে'।

খারাপ মানুষকে ধর্ম ভালো করতে পারছে না। মানুষের ধর্ম নিজের ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা, ভালোকথা ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে খুশি করা। জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারে, মনুষ্যত্ব মানবতাবোধ অর্জনের মধ্য দিয়ে, নিশ্চয়ই একদিন বিভাজন দূরীভূত হবে।

ছবিঋণ : জিষ্ণু রায়চৌধুরীর ফেসবুক ওয়াল থেকে।

রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২

অভিভাবকগণ, সাবধান! ফুবিং আপনার সন্তানকে ধ্বংস করবে!


কটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীই ফুবিংয়ে ভুগছেন এবং শুধুমাত্র তাদের স্মার্টফোনের জন্য তাদের সঙ্গী, পিতামাতা এবং তাদের আশেপাশের লোকজনকে উপেক্ষা করছেন।  এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

 হায়দ্রাবাদের তরুণদের মধ্যে পরিচালিত একটি গবেষণায় উদ্বেগজনক ফলাফল এসেছে। এই  অধ্যয়নের সহ-লেখক এবং হায়দ্রাবাদের ইএসআইসি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সুধা বালা তার গবেষণায় বলেছেন, 'হায়দ্রাবাদের যুবকদের মধ্যে মানসিক যন্ত্রণার উপর ভয় দেখানোর পরিণতি' এটি বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে তাদের সম্পর্কের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

'ফুবিং' শব্দটি হল 'ফোন' এবং 'স্নাবিং'-এর একটি পোর্টম্যানটো— তার অর্থ দাঁড়ায় অন্যের দিকে মনোযোগ না দিয়ে নিজের ফোনে ব্যস্ত থাকা। দুটি শব্দের সংমিশ্রণ এবং এটি একটি প্রচারণার অংশ হিসাবে ২০১২ সালে একটি অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞাপন সংস্থা তৈরি করেছিল যা পরে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

 ২০১৮ সালে ICMR-এর সহযোগিতায় শহরের ডাঃ বালা, ধরনি টেককাম এবং হর্ষল পান্ডাওয়ে এই গবেষণাটি চালু করেছিলেন।  তারা ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিসিন এবং কলা বিভাগের মোট ৪৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

 সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে যে শহুরে যুবকদের মধ্যে ফুবিংয়ের প্রবণতা বেশি, তাদের মধ্যে ৫২ শতাংশই ফুবিংয়ে নিমগ্ন বলে জানা গেছে।  এর মধ্যে, ২৩ শতাংশ ফুবিংয়ের ফলে গুরুতর মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছিল, যখন ৩৪ শতাংশের মাঝারি মানসিক যন্ত্রণা ছিল।  এটি বলেছে, ফুবিংয়ের পরিমাণ এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে একটি পরিসংখ্যানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে, ফুবিং গেমিং আসক্তিতে পরিণত হতে দেখা গেছে।  শহরের একটি হাসপাতালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৪ বছর বয়সী একটি ছেলে দশম শ্রেনীর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি সত্ত্বেও অনলাইন গেম খেলে দিনে ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যয় করে।

 যাইহোক, এই ফুবিং কিশোর বা তরুণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়  রেনোভা হাসপাতালের কনসালটেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট এবং সাইকোঅ্যানালাইটিক সাইকিয়াট্রিস্ট ডাঃ আসফিয়া কুলসুম বলেন, কখনও কখনও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ফুবিং পাওয়া যায়।

 তিনি বলেন, অনেক উদাহরণ রয়েছে যে স্ত্রীরা তাদের ফোনে বেশি সময় ব্যয় করে তাদের স্বামীদের সাথে দাম্পত্য কলহের দিকে নিয়ে যায়।  সংক্ষেপে শুধু এটাই বলা যায় যে, ফুবিং আধুনিক মানুষকে গ্রাস করতে শুরু করেছে। এর আগে থেকে এর প্রিকিউশন অবলম্বন না করলে অদূরে মানসিক বিকারগ্রস্থতার স্বীকার অনিবার্য।

(নীচের এই লিংকে ক্লিক করে আরও পড়তে পারেন)


বুধবার, ২২ জুন, ২০২২

আত্মকথন










।। জাহিদ রুদ্র ।।
বু নিজেকে নিয়ে কাজ করাটা বড় কঠিন
শূণ্যে  কি আর যোগ করে লাভ হয়?
কোন এক দশকের তো আর আমি কবি নই

শুধু আপাদমস্তক কবিতাময় জীবন

আমি দেশ-বিদেশ তো দূরের
করিমগঞ্জ শিলচর বা কলকাতা বা ঢাকা কেন্দ্রিক ও কোন কবি নই

আদৌ কোনো নাগরিক কবি বা রাজকবিও নই
আমি চাই শুধু এই পৃথিবীর বাসযোগ্য একটুকরো জমি 

আমি নই কোন করপোরেট মিডিয়া- মদদপুষ্ট 
আমার অনীহা আকাদেমি বা একাডেমির সহায়তা
রাজনৈতিক মদদপুষ্ট বুদ্ধিজীবী কবি নই 

শুধুমাত্র জল, জমি, জঙ্গল জীবন চাই

মৌলবাদ বা প্রগতিশীলতার বাধাদানকারী
আমি ঘৃণা করি।

একমাত্র আমার চেতনার কম্পাসই আমার দিক নির্দেশনায় চলি
প্রয়োজন নেই আমার কোন পত্রিকায় বা সামাজিক মাধ্যমে বাহ্ বাহ্ নেবার

তাতে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই

নেই কোন পা চেটে পুরষ্কারের আসক্তি
প্রত্যাখ্যান করি তৈলমর্দন করে কারো ঠোঁটে ওঠে প্রশংসা কোড়াবার, এতে প্রবল বিতৃষ্ণা

আমি অমুক কবি তমুক কবি নই
আমি নিতান্তই এক সাধারণ মানুষ 

কেউ পড়ুক বা না ই পড়ুক
কিছু বলুক বা না ই বলুক 
অনুরাগে বুকে তুলে নিক বা দূরে ছুঁড়ে দিক
আমার ইচ্ছে শুধু
লক্ষ চোখের অন্তরালে আগুন ভরা স্বপ্নগুলো
আঁধার থেকে টেনে আনা।

কারণ দুর্ভিক্ষের চেয়ে অশ্লীলতা আর কিছু হতে পারে
আমার জানা নেই!
ঝাপসা আর স্বচ্ছের মধ্যবর্তী ফ্রেমে আটকা
শুধু এই

আত্মকথন।

রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২

নৌকা বাইচ বরাকের ঐতিহ্যবাহী দৌড় প্রতিযোগিতা


আবহমানকাল থেকে নৌকা দৌড় প্রতিযোগিতা বাংলার লোকসংস্কৃতির নদী কেন্দ্রীক পরিচায়ক। বরাক উপত্যকার ঐতিহ্য বহন করে। বিশেষ করে আমাদের করিমগঞ্জ জেলায় এই নৌকা দৌড় প্রতিযোগিতা এই অঞ্চলের মানুষের আনন্দের সঞ্চার জোগায়। কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেলেও জনপ্রিয়তা ও সমাদর লোক হৃদয়ে আজও আছে এক বিশেষ স্থান দখল করে।

এক সময় এ দেশে যোগাযোগ ছিল নদী কেন্দ্রিক আর বাহন ছিল নৌকা। নৌ শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন শিল্পকেন্দ্র। এসব শিল্পে যুগ যুগ ধরে তৈরি হয় দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগর।কালের বিবর্তনে পাশ্চাত্যের ভাবধারায় আধুনিক সুযোগসুবিধার সম্মিলনে কতক শহর গড়ে উঠলেও গ্রামবাংলায় নৌকা দৌড়ের কদর এখনও ব্যাপক। নৌকা বাইচে আমজনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই তার প্রমাণ।

এই নৌকা দৌড় প্রতিযোগিতা বিশেষ করে বর্ষাকালে হয়ে থাকে। নদীতে বা বিলে যখন জল ভর্তি হয় কানায় কানায়, প্রায় কিছু জায়গায় বন্যার আকার ধারন করে। ঠিক সেই সময় আনন্দ উপভোগ জোগাতে এই প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। তবে একসাথে সব জায়গায় এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়না। এক এক জায়গায় এক এক সময়ে হয়ে থাকে।করিমগঞ্জে বিশেষ করে শণবিল,বদরপুর ঘাট, শনিবাড়ি,সুতারকান্দী (কৈয়া বিল) এইসব অঞ্চলে হয়ে থাকে।

নৌকাবাইচের সময় মাঝি-মাল্লারা সমবেত কণ্ঠে গান গায়। এতে তাদের যেভাবে উৎসাহ বাড়ে ঠিক দর্শকদেরও বাড়ে আগ্রহ। তৈরি হয় এক মনোরঞ্জক পরিবেশ। প্রতিযোগিতায় আরও রয়েছে বিজয়ীদের পুরস্কারের ব্যবস্থা। পুরষ্কার হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে মোটা অংকের টাকা,টিভি, নৌকা ইত্যাদি। আমাদের এলাকায় এই দৌড় প্রতিযোগিতা হয় কৈয়া বিলে বা শনিবাড়ি লঙ্গাই এ। দৌড়ের নৌকাগুলোর নাম ও আছে যেমন সোনার তরী, অগ্রদূত, পঙ্খিরাজ, ময়ুরপঙ্খী ইত্যাদি। 

এই জনপ্রিয় নৌকা দৌড়ে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্তু হলো জনপ্রিয় সারিগান। তাল, করতাল বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সারিবদ্ধভাবে চলে গান। শাহ আবদুল করিমের --

চন্দ্র-সূর্য বান্ধা আছে নাওয়েরই আগায়
দূরবীনে দেখিয়া পথ মাঝি-মাল্লায় বায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

রঙ-বেরঙের যতো নৌকা ভবের তলায় আয়
রঙ-বেরঙের সারি গাইয়া ভাটি বাইয়া যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।

একটার পর একটা চলে

আল্লায় বলিয়া নাও খোল রে
ভাই সক্কলি।
আল্লাহ বলিয়া খোল।।
ওরে আল্লা বল নাও খোল
শয়তান যাবে দূরে।।
ওরে যে কলমা পইড়া দেছে
মোহাম্মদ রাসূলরে
ভাই সক্কল।...

বা এটাও

যাত্রাকালে বাধা দিওনা    বিদায় দেওগো সকালে
আমার নীলগো রতন    কাল রতন সাজাইয়া দে…
রাধিকা সুন্দরী জল ভরিতে যায়    সোনার নুপুর বাজে রাঙা পায়।
দেখরে কার রমনী জলে যায়।

(এই গানগুলো এক প্রতিযোগির কাছ থেকে সংগ্রহ করা, নাম - গফুর চাচা)।

নৌকা দৌড় শ্রাবণ মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত হলেও মূল আকর্ষণ শ্রাবণ সংক্রান্তির নৌকা দৌড়। কালের বিবর্তনে যদিও আমরা বিশ্বায়নের যুগে তবু নিজের লোকসংস্কৃতির ইতিহাস মিটিয়ে দেয়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

শনিবার, ৪ জুন, ২০২২

হাংরি জেনারেশন


 জাতীয় নিরাপত্তা’ বলতে বুঝি জীবন ছাড়া
 বিবেকের কাছে বেঁচে থাকার বিনিময় প্রথা 
 এবং যে কোন কিছুর জন্য অন্ধ ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকা
 অশ্লীল বলে বিবেচিত হওয়া মনে,
অনুকূলতার সামনে সেজদা করতে শেখেছে
‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বিপন্ন লবণাক্ত ঠোঁটে।
 'সবচেয়ে বিপজ্জনক' কথা
 শ্রম লুট শ্লোগান ধরেছে ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
 এমনকি লোভ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা
 আর কোনো সতর্কতা ছাড়াই গ্রেফতার
 এতোটা ভয়ঙ্কর হয় না
 নীরবতা ভয় পায় যতটা।

নিজের ভিতর থেকে
পৃথিবীর সভ্যতায় গজিয়ে ওঠা ধাবমান ট্রেনগল্পে
ইন্টেলিকচ্যুয়েল বার্তাজীবি লিখছে 'ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি মোদের বাড়ি এসো'।
 ক্ষীণ কৃমির আলোয় পড়া
 ভ্রুকুটি নিয়ে জীবনের মধ্য দিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো নয়,
 তবু স্বমূত্র গোমূত্র স্নানজল পান করা ফোবিয়া
 নিজের জন্য নিষ্ক্রিয়তায় কমিয়ে দেয় 
 ইচ্ছা তীব্রতার অভাবে।

সবকিছু সহ্য করতে
রুটিনের প্রাণী হয়ে ওঠা স্বপ্ন- মৃত্যু
ক্লান্ত ঝোকা কাঁধে 'উলঙ্গ রাজার কলিং বেল বাজায়
শব্দ আসে - হাংরি জেনারেশন।

শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২

অরোভিল ওভারভিউ

।। জাহিদ রুদ্র ।।

'উনিভার্সাল টাউন' হিসেবে কল্পনা করা, অরোভিল হল একটি টাউনশিপ যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও রীতিনীতির অন্তর্গত সারা বিশ্ব থেকে আসা ব্যক্তিরা মিলেমিশে বসবাস করে। অরোভিল পন্ডিচেরি শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং তামিলনাড়ুতে অবস্থিত। মিররা আলফাসা যিনি অরবিন্দের অনুসারী ছিলেন ১৯৬৮ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং শ্রী অরবিন্দ সোসাইটিতে সবাই তাকে "মা" বলে ডাকতেন।

 

যারা তাদের জীবনের কোলাহল থেকে বিরত থাকতে চায় এবং কিছুটা শান্তি পেতে চায় তারা অরোভিলে যান। এই স্থানটি সকলকে উন্মুক্ত করে স্বাগত জানায় এবং এটি অনেক ছোট সংগঠনের আবাসস্থল। এই সংস্থাগুলি আপনাকে অভ্যন্তরীণ আত্মার যুদ্ধে লড়াই করতে এবং ধ্যান, যোগব্যায়াম ইত্যাদির সাহায্যে আপনাকে শান্তি প্রদান করতে সহায়তা করে।

 

এগুলি ছাড়াও মাতৃমন্দিরকে অরোভিলের প্রাণকেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই স্থানটি আপনার জীবনযাপনের পদ্ধতি এবং জীবনের প্রতি উপলব্ধি পরিবর্তন করবে। প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরা মাতৃমন্দিরের চারপাশের সবুজ আপনাকে চাঙ্গা করে। আপনি এখানে অনুষ্ঠিত সেশনের অংশ হতে পারেন যা আপনাকে অরোভিলের উদ্দেশ্যগুলির সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে এবং আপনাকে জীবন সম্পর্কে আপনার উপলব্ধি প্রসারিত করতে সহায়তা করবে।

 

অরোভিলকে বলা হয় এক্সপেরিমেন্টাল গ্রাম। এই গ্রামে ৬০ টি দেশের প্রায় ৩০০০ মানুষ বাস করে। এই গ্রামে কোন ধর্ম নেই, গোত্র নেই, রেস নেই, রাজনীতি নেই, দেশ ও জাতীয়তা নেই। এই গ্রামের একমাত্র আদর্শ হিউম্যানিটি! মানুষ বড়-ছোট যে কাজই করুক তার বেতন একই, ১২০০০ টাকা। ডাক্তারের বেতনও ১২,০০০; চতুর্থ বর্গ থেকে শুরু করে আরও নিম্ন বর্গের বেতনও ১২,০০০। মানুষের বিলাসিতার জন্য অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতা নেই, শান্তি ও সুরক্ষার এক আদর্শ জনপদ এই অরোভিল। গ্রামে কোন ধর্মীয় উপাসনালয় নেই।এই গ্রামের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান সবই কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে। গ্রামটিতে জাতিসংঘ, ইউনেস্কো অনেক টেককেয়ার করে কারণ গ্রামটি এক্সপেরিমেন্টাল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই গ্রামে অপরাধ নেই, নেই মানে ০%, জিরো পার্সেন্ট। বাংলায় তেমন কোন প্রবন্ধ পাবেন না, তবে ইংরেজিতে Auroville লিখে সার্চ দিলে ইন্টারনেট ও ইউটিউবে অনেক রিসোর্স পাবেন।

শুধুমাত্র হিউম্যানিটির উপর বেস করে একটা গ্রাম কতটা সফল হতে পারে, পৃথিবীতে মানুষের টিকে থাকতে গেলে যে হিউম্যানিটি ও একতা ছাড়া কোন বিকল্প নেই তার একটা এক্সপেরিমেন্ট এই গ্রাম।

তথ্যসূত্রঃ
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Auroville
https://auroville.org/
https://www.holidify.com/places/auroville/


মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২

গর্বের রঙধনু















 

সাদা এবং ধূসরে এই বিশাল উদাসীনতার সাগর
জ্বলন্ত মস্তিষ্ক উপকূলে
যদিও শিশুর হৃদয় খেলতে বাধ্য হয়,
যুদ্ধের জন্ম আর হৃদয় ছিঁড়ে যাওয়া ঘৃণা-কল্পনার কাহিনী,
রসায়ন চলে প্যারাডক্সিকেল কথোপকথনে  ।
নিরপরাধ কটূক্তি - বিচ্ছেদের ট্যাগলাইনে
রক্ত ​​ঝরায় বিপথগামী পথে
এখানেই সে উদ্দীপ্ত করে আর আমি তাকে
সমান্তরাল ভালোবাসি, পুরুষতান্ত্রিক যুদ্ধ ছাড়া।

কিন্তু তারপর ........
বৈদ্যুতিক গান আর আত্মার চার্জ ভালোবাসা শেখায়,
কীভাবে গ্রহণ করবো কীভাবে কোমল হব
সবকিছু যাবতীয় বাস্তব আর স্নায়ুচরিত্রে।

আমার ক্লিভেজ শহর এখন বাধ্য চাষাবাদ ছেড়ে ধুতরোর বীজ চিবোতে।
কব্জি কেটে তার নাম ধরে ডাকলাম,
দেখি এই শহরে সূর্য ডুবে যাচ্ছে বয়সের দেয়ালে
শুধু গুগোল ম্যাপ স্ট্রিট লাইট জীবন কাটায়।

বসন্তের বিনিময়ে ভয়ের শহর নিক্ষিপ্ত আমাদের বন্দি জীবন
চোখ অশ্রুতে আমাকে কাছে রেখেছিল তার টান
 যার সাহসে ছিল স্ফুলিঙ্গ।
কিলিমাঞ্জারো পর্বত শহরকে রংধনুর রঙে রাঙিয়ে দেয় ইতিহাসের উত্তরসূরিরা।

সাহসীরা নিজেদের রক্ষা করে এবং লড়াই করে
কিন্তু আমি রেখেছিলাম
ক্ষমতাহীন ছোট অন্ধকারে নিজেকে বন্দী করে,
 বিচারের আযাবে গোনাহের ক্ষমতা থেকে,
 সাহস-হারা গোপন ভালবাসা 
ঘর থেকে বেরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে দেখে,
ভয়ের শহর আর নেই।

আমাদের শহর আর সাদা এবং ধূসরতা হারিয়ে
কিশোর উল্লাসে দৈনন্দিন জীবন 
দেয়ালে রঙধনু আঁকতে ব্যস্ত,
যেখানে আমি তাকে ভালবাসি এবং সে আমাকে,
যেখানে আমি গর্ব করতে শিখেছি,
বিপন্নতার তৃষ্ণা শরীর পেরিয়ে।

বুধবার, ১৮ মে, ২০২২

চেতনায় উনিশ


আমি বাংলায় হাসি বাংলায় কাঁদি
করি বাংলায় প্রতিবাদ
যখনই করি ব্যথা অনুভব
আমি বাংলায় গাই গান।

 বাংলা আমার মাতৃভাষা
 বাংলা আমার প্রাণ.....
 বাংলা আমায় স্বপ্ন দেখায়
ভাইহারা উনিশ - একুশের গান।

 বাংলা আমার চোখের আলো
 বাঙালি আমার শক্তি
 বাংলা ভাষাকে সম্মান করি
 নেই কোন প্রতিদ্বন্দ্বী।

বাংলা আমায় কথা শেখায়
জন্মের শুরুয়াতে
জন্মেছে কত রবি, নজরুল
এই বাংলার ধরা তলে।

বাঙালি তুমি উদীয়মান সূর্য 
গর্বিত ভালবাসা, 
রক্ত ​​এবং আত্মত্যাগে
 একষট্টির পরিভাষা।

বাংলা তুমি শুদ্ধ হয়েছ
প্রতিবাদে রাজপথে
জাতির রক্তে উনিশ মে'
চেতনার অনুভূতিতে।

বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২

একটি আলোক এবং আমি


 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 ।। জাহিদ রুদ্র ।।
 
 
 
পৃথিবীটা...জীবের কাছে,
ঠিকানা-বিহীন ঠিকানা!
তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়
একটা অভিলাষা কবিতার দেহে।
সে ক্ষত বিক্ষত, উষ্ণ সম্ভোগে নয় 
জমাট আধাঁরে বেড়ে ওঠা প্রগাঢ় আর্তনাদে।

এটা আসলে সাঁঝের নির্বিকার প্রদীপ 
বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়া
ব্যাবলিনের শূন্য মাজারে।
বুক চিরা স্বাধীনতা, নীতির দুর্নীতিতে
মাউথ অর্গান, রবীন্দ্র সংগীত বাদ দিয়ে
সঙ্গম সভায় ভাষণ দেয়
চে গুয়েভার বলিভিয়ার রাজপথে।
তবুও পরজীবীরা ক্ষুধার্ত অট্টালিকার 
 ফিসফিস হয়ে  ওঠে
অপূর্ণতার প্লাবিত প্রেমে।
আর সরাইখানা পরস্পরের বুকে টানছে
শর্তহীন দ্রাঘিমা রেখা।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

দেশ তুমি ভালো থেকো


 
 
 
 
 
 
 
 
জ্জ্বল ভবিষ্যৎ তীরে দাঁড়িয়ে
আগামী স্ট্র‍্যাটেজির বার্তাবাহক,
ঘুনেধরা নিত্য সঙ্গীরা
এখন কন্ডোম বিক্রেতা।

আজ রাতে মৃত্যুর শেষ শব্দটা ঝরে পড়বে
উন্নত দেশের ল‍্যাঙটা নাচে
এনজিও আর গণতন্ত্রের যৌথমিলনে
সরাসরি সম্প্রচার ভালোবাসা
ইংরেজি অনুবাদ থেকে রাষ্ট্রভাষায়।

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
সবসময় টস করে ভাগ্য নির্মাণ !

রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

আমি ভালো আছি




















(ভারভারা রাও -কে নিবেদিত)


জীর্ণ আকাঙ্খার স্তুপে
দীর্ঘ শিকল প‍্যাঁচিয়ে মানচিত্রের উপরে পা
ভর করছে ব‍্যাবিলনের শূণ্যদ‍্যান।

আমি জানি শব্দের মাদকতা
মাকড়সার জালের মতো
আর আমার জিভটা ও চিবুকের নীচে জ্বলতে থাকে
ভেজা বৃষ্টিতে অশ্রুময় যন্ত্রণায়
শুকিয়ে যাওয়া জিভ এক একটা মিসাইল
গান হয়ে ধ্বনিত হয় 
ঐ শিশুর পৌড় হাসি মুখে

তাইতো ওরা সঙ্কুচিত
থামাতে চায় কন্ঠের বুলেট।
বেড়ি পরায় 
সাহস কে পিছনে রেখে 
ঝাড়ুদার!


কিন্তু কবির শব্দগুলো 
অক্সিজেন পায় অজস্র মানুষের ফুসফুসে
চ‍্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ালগুলো
কন্ডোম-পিতা সন্তানদের প্রতি
অন্বেষণ -- স্টেথোস্কোপ হাতে নিয়ে।

বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০

নিকোটিন





















 ক্রমশঃ বাড়ছে ওরা
হাজারো আলোকবর্ষ দূর থেকে --
হতভাগ্য দরিদ্রেরা বিস্রস্ত, সঙ্কুচিত
আর বক্তৃতা তুমি
ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙছো আইসোলেশন ওয়ার্ডে।
প্রতিবাদির গাঁড়ে লাথি মারা ঐ মৌলবাদ
 জিভে জিভ ঘষা ফিদা হুসেনের অ্যাবস্ট্রাক্ট ছবি।
সলিডারিটি হারিয়ে রক্তের পিচ্ছিলতা
নির্লজ্জভাবে স্বাভাবিক।
শহরের সবথেকে উঁচু দাঁড়িয়ে থাকা দালানটাও
মেদবহুল এস্টাবলিশ বুর্জোয়া --
টেনে নিচ্ছে ঢালাইকারী মজদুরের নিকোটিন।

চুরুটের শৌখিনতায় তামাক - শরীরী সেবনে
আজ আমি টাও
শুধু পারে যুদ্ধ শেষে কয়েকটি কাঁচের জার উদ্ধার করতে।

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০

আইডিন্টিটি ক্রাইসিস




















।। জাহিদ রুদ্র ।।

প্রবল নিম্নচাপ
ক্ষুধিত বুকের ভেতর, চিৎকার
জীভে ধূমকেতু নিয়ে বসা এখন
--- 'ওরা'
সাম্রাজ‍্যবাদী চাবুকের নীচে।
তৃণহীন টিলায় ধ্বস নামছে ---
ম্লান মানুষেরা ঝরেপড়ে গলিত মোম হয়ে লিঙ্গ থেকে,
তবুও প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতির জোয়ার ভাটায়
লাল নদী ধারে ঐতিহ্যবাহী কঙ্কালেরা
দীর্ঘ অবসরে, তন্দ্রাতুর !

এখন বেহালা বাজিয়ে
লা-টোমাটিনা চলছে ভার্জিন কনসার্টে
আর কালো চাঁদগুলো অন্ধকার হৃদয় নিয়ে
ব‍্যস্ত গন্দম রোপণে।