“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
স্বাগত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাগত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৩ মে, ২০১২

একা ও মণিমালা


মণিমালা-১৯












ভাব নিয়ে ভাবছি যখন -তোমার কথা ভাবছি না,
গদ্য গুলো উদাস হলো- পদ্য গুলো আসছে না।
সবুজ সাথীর দিন গুলো নেই-হলো কত রূপান্তর ,
সে সব দিন উদাস পাগল –আজ যদি ও অবান্তর ।
 সময় আমার বদলে গেছে –নেই রেডিও গ্রামোফোন ,
নিওন আলো তেজ হারানো – তারার আকাশ আপনজন ।
উপকরণ সব সাজানো- পসরা মোড়া সুখের ঘর ,
মন শুধু সব হারানো- বোকা একা স্বার্থপর ।
তবু রাখি মনিমালা দ্বীপ জ্বেলে ঘরে-
একা শুধু বসে থাকি- ব্যর্থ কোজাগরে 


                                                   (c) ছবি

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১

চায়ের পেয়ালা

















পেয়ালাটা পড়ে আছে – সব টেবিল ই ফাঁকা
জ্ঞানী গুনী র ঠোঁট ছুঁয়েছে –আজ তবু ও একা ।
বিদ্যা বুদ্ধি ছিল না তার – ছিল শুধু উষ্ণতা
এটাই ছিল এ আসরে তার থাকার বৈধতা ।
আসতো যারা বাঁধন হারা – পাগল, ক্ষ্যাপা কবি ,
কেউ নাটক সিনেমা আর – কেউ আঁকত ছবি ।
কেউ বলত প্রেমের কথা – কেউ করত রাজনীতি ,
কেউ ছাপত পত্রিকা – গল্প , নাটক , আবৃত্তি ।
সুবোধ দা র যত্ন ছিল – চা , দুধ আর চিনি
নিঃশব্দে শুনতে হত – গল্প অভিমানী।
আড্ডা তর্ক চলে গেল – ফেস বুক এর খাতায়
পেয়ালাটা আজ ও আছে – স্মৃতি নিয়ে মাথায়,
সুবোধ দার বয়স হোল – চোখের নীচে ছানি,
পেয়ালাটা খবর রাখে – অভাবের টানাটানি ।
সঙ্গী- সাথী সব ই গেছে – পেয়ালা টা একা ,
বুদ্ধিমানেরা পালিয়ে যায় – পড়ে থাকে বোকা ।


(জীবনের অনেক সোনালী সময় যে
চায়ের পেয়ালায় ঝড় তুলে চলে গেল ,
- তা কে কি বন্ধু আমরা মনে রেখেছি?
যদি না রাখি , তবে সে দায় স্বীকার আমাদের ই )

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১১

মৌলিক


ভাবছি যখন কেমন করে -করবো যোগাড় খাদ্য,
রাজধানী তে বাজছে তখন – অর্থনীতির বাদ্য ।
কিংফিশার হড়কে গেলে – ধরবে হাত সরকার ,
পেট্রোল , ডিসেল, কেরোসিনে- সাবসিডি র নেই দরকার ।
জিনিষের বাড়বে দাম – কমবে মূল্য টাকার ।
সারের দাম দ্বিগুন হল – সোনার ফসল ছারখার ।
এমনি করে কাটবে দিন – নিত্য নূতন রঙ্গে ।
গণতান্ত্রিক সার্কাস - দিল্লী আর বঙ্গে ।

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১১

মনিমালার শরিক


(মনিমালা -১৬)




কেউ কেউ খুব একা
পায়নি সাথির দেখা
পথ চলতে ।
কেউ কেউ খুব বোকা
বুদ্ধি বড় ফাঁকা
নেভা সলতে ।
কেউ কেউ খুব চালাক
সব কিছু তে সবাক
কথা বার্তায়।

কেউ কেউ খুব রাগী
মেজাজ হারানো দাগী
খুব সস্তায় ।
কেউ কেউ খুব অলস
হারিয়েছেন সাহস
সন্দেহে ।
কেউ কেউ অভিমানী
বৃথাই হয়রানি
বিরহে ।
কেউ কেউ খুব ভাল
স্বপ্নেরই আলো
মননে ।
আমি শুধু প্রেমিক
মনিমালার শরিক
জীবনে ।

রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১১

গণতন্ত্র









জিনিষের দাম বাঁড়ছে বলে
কাঁদছে যে সব কুমীর ,
তাঁদেরই বাড়ছে টাকা
হচ্ছে তারা আমীর ।
তুমি আমি খবর দেখি
পড়ি শুধু প্রবন্ধ ,
বাজারেতে ঘুরে বেড়ায় ,
মুণ্ডু হীন কবন্ধ ।
জানার চেষ্টা বামপন্থী
বন্ধ করি চোখ ,
গনতান্ত্রিক মহাভোজে ,
বেঁচে থাকার দুখ ।

রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১১

সর্বহারা



নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
পান্তা আনতে নুন,
সাত চড়ে তে রা কাড়ে না
এমনি তাদের গুন ।
তাদের জন্য দলবাজি
তাদের জন্য ভোট ,
তাদের জন্য বুদ্ধিজীবি র
রাজনৈতিক জোট ।
দেশে জ্বলে হাজার আলো
মার্কেটিং এর ফানুস ,
অন্ধকারে ঘুমোয় তারা
গণতান্ত্রিক মানুষ ।

মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১১

মণিমালার আলো


মণিমালা-১৬












ণিমালা মণিমালা-
রামধনু আলো ,
মণিমালা মণিমালা –দারুণ
লাগছিলো ।
এলো চুলে এলোকেশি-
জাফরানি রঙ ,
তোমার চোখে সর্বনাশ –
দেখেছি স্বয়ং ।
হেরে গেলেন বনলতা-
হেরে গেল নীরা ,
কলকাতায় ফেলুদা – এক পায়েতে খাঁড়া ।
তোমার জন্য গদ্য-পদ্য-
তোমার জন্য গান ,
তোমার জন্য দীপাবলী- আমার
আলো স্নান।


রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১১

মনিমালার রান্না : ১২












পুজোর সময় মনিমালা
করবে অনেক রান্না ,
সকালে তে ফুলকো লুচি,
সঙ্গে ধোঁকার ডালনা ।

দুপুরেতে সর্ষে ইলিশ,
আর নিরামিষ সুক্তো
কসা মাংস সঙ্গে আছে,
আমি তারই ভক্ত ।

মোচার ঘণ্ট হবে এবার
সোনা মুগের ডাল ,
পোস্ত বড়া, আলুর দম
আর বোয়াল মাছের ঝাল ।

শেষ পাতে দই মিষ্টি
মিঠা আমের চাটনি ।
খাওয়া দাওয়া দারুন হবে
সঙ্গে আছে খাটনি ।

তাইতো এবার মনিমালার
ঘুম নেই চোখে,
শারদ সংখ্যা পড়ে থাকে
শুধুই পড়ার রেকে
                                                                                                       (c) picture

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মনিমালা ও পোকা


একটা পোকা ভর করেছে আমার মাথার ভেতর
চিন্তা ভাবনা সব কিছুতে – প্রভাব তার জবর
পোকা আমার সর্বনাশা – পোকা আমার কালো ,
আস্তে আস্তে মুছে দিচ্ছে –আমার যা সব ভাল ।
নিজের ভাল নিজের ভাল- করে করে খেল ,
পোকা আমার চালাক ভীষণ – সব গুঁটিয়ে নিল ।
ছোট পরিবার সুখি পরিবার – পোকার লাগে ভাল ,
সমষ্টিতে অবিশ্বাসী - পোকা খবর দিল ।
সিঁড়ি ভাঙ্গার মন্ত্র দিল – উঠতে হবে উপর ,
কোন বাঁধাই মানবে না- শাসায় পোকা জবর ।
দিনের বেলা খাটুনি – আর রাতে অবসাদ ,
পোকা বলে লেগে থাক- নইলে বরবাদ ।
পোকার থেকে বাঁচিয়ে যাই – যত্নে মনিমালা ,
পোকা এসে কড়া নাড়ে – বাড়ায় ঝামেলা ।
তবু পোকা বলছি তোমায় – হয়নি সব ই শেষ ,
জেগে উঠবে একদিন – আমার অবশেষ ।
ছেড়ে যাব সব কিছু – তোমায় বন্দি করে ,
ঈশানের পুঞ্জ মেঘে – মনিমালা হাত নাড়ে ।