“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

বুধবার, ২৮ জুন, ২০২৩

স্বপ্ন বাতিল হয় না



অনুভূতির কাঠের দরজায়
ঘুনপোকারা বাসা বাঁধতে পারে না।
হয়তো রঙ পালটে যায়
ঘড়ির সময় মেপে
সকাল, দুপুর, রাত্রির।
সাবেকিয়ানায় একটু খামতি আসে।
তাই বলে দিনের আলোর সত্য
পৃথিবীর চলমান নিয়ম ডিঙিয়ে যায় না।
প্রতিদিনই ভোর
পাখিদের জাগিয়ে তোলে,
বেলী, জুই, শেফালী, গোলাপ
পাপড়ি মেলে।
সকাল সুবাসে
নতুন আমেজ
অনুভূতির রাস্তা হাঁটে।
ইচ্ছে হলেই
দরজায় পুরনো রং ঢেলে,
নতুন সাজে,
চৌকাঠ পেরিয়ে,
তোমার হাতে হাত রেখে
চাঁদবুড়ির গল্প শোনা যায়!


রবিবার, ২৫ জুন, ২০২৩

আমি মণিপুর বলছি .........

।। এ এফ ইকবাল।।

(C)Image:ছবি












বুলেট-ঝাঁঝরা শহরের  
একটি খোলা ক্লাব থেকে   
আমি মণিপুর থেকে বলছি।   

আমার প্রিয় দেশবাসী-  
যদি শুনতে পাও  
আমার বেদনার আওয়াজ   
শোনাই তাহলে তোমাকে   
আমার কাতরানোর সুর   
যদি দেখতে পাও-  
দেখাতে চাই আমার জ্বলন্ত হৃদয়খানা ! 

আমার উঠোনে একদা  
কিচিরমিচির করত যে পাখিগুলো 
বন্দুক আর গুলির শব্দে 
আজ তারা ছুটোছুটি করছে  
দিকভ্রান্ত হয়ে এখানে ওখানে !  

শিশুদের খেলার ময়দানে আজ  
সকাল সন্ধ্যায় প্রতিধ্বনিত  
শুধু সৈনিকের রণরণি ! 
থাকতো যারা একত্রে ক্রীড়ামত্ত      
তারাই হয়ে উঠেছে কেমন হিংস্র 
পরস্পরের রক্ত ​​পিপাসু ! 

সময় হবে তোমাদের ? 
দেখে যেতে আমার চৈতন্যের ময়দান   
যেখানে চলছে আজ  
রাজনীতির কোন কৌশলী খেলা   
ভাইয়ে ভাইয়ে লড়িয়ে    
নির্মাণ হচ্ছে এ কোন উত্থানের সিঁড়ি- 
দেখে যাও মোর প্রিয় দেশবাসী।  

হ্যাঁ, আমি মণিপুর বলছি,  
এ কোন দূর্ভোগ দেখতে হচ্ছে 
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত আমাকে   
শত শত নিরীহ মানুষকে 
মরতে দেখছি চোখের সামনে 
কেমন দূ্র্ভাগা আমি-  
কেন আমায় দেখতে হচ্ছে 
এই অন্ধকারে ছেয়ে যাওয়া কালকুঠুরি?  

আমারই সামনে পুড়ছে হাজারো  ঘরবাড়ি 
মরতে দেখছি কত দুর্ভাগা পথচারী  
মাতৃজাতি শিশু কিশোরের 
দেখব কত আর পালানোর দৃশ্য  
পথঘাটে পড়ে থাকা কত মরদেহ আর ! 
মোর প্রিয় দেশবাসী- 
দেখে যাও বারেক এসে 
আমার এই বিভীষিকাময় পরিদৃশ্য !  

জানিনা কার কাছে  
কোথায় গিয়ে বলবো  
আমার এই বেদনার গল্প    
কে শুনবে আমার মরণ যন্ত্রনার কথা   রাজনীতির আগুনে পুড়ছি নিত্য আমি  
ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে  
হচ্ছে আমাদের চিংড়ি ভাজা-   
প্রিয় দেশবাসী  
আমি মণিপুর বলছি 
আমি মণিপুর ডাকছি 
দেখে যাও আমার ঝলসানো বদন !  
                    © ইকবাল॥ 
                 হাফলং। ডিমা হাসাও।
                   ২৫-০৬-২০২৩।

শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩

সহযাত্রী


















।। মিঠুন ভট্টাচার্য।। 

ট্রেনের জানালা স্মৃতি রাখেনা
ছেড়ে যায় বাড়িঘর,
ধানী মাঠ,পানাপুকুরের বিল।
পাশাপাশি সিট
অতীতের ঠান্ডা পরত ছেড়ে
বর্তমান উষ্ণতা যোগান ধরে।
অজানা, অচেনা চেহারায়
সম্পর্ক গড়ে।
কেউ নেমে যায় পরের জংশনে
কেউ যায় শেষ অবধি।
আলাপ পরিচয় যত
কামরা মনে রাখে না,
অবসর সময় লেখকের কলমে
ছোটগল্প হয়ে ফিরে আসে।
বিশেষ সফরে
ট্রেনের হুইসেলে রবীন্দ্র সংগীত বাজে,
যাত্রাপথ থামে না।
এভাবে অগুন্তি
পাশাপাশি হাত ধরা সম্পর্কে
প্রেমে অপ্রেমে
সহযাত্রীরা ছুটে।
 

বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩

শুধু মনে রেখো ..........


।। এ এফ ইকবাল ।।


(C)Imageঃ ছবি


















যখনই লেখা হবে প্রেমের কবিতা-  
হবে কি লেখা সেখানে 
ক্ষুধার জ্বালায় কাতর 
প্রান্তিক সেই শিশুদের কথা ? 
বিবশ মা-বাবা যাদের 
চেয়ে চেয়ে দেখেছে শুধু 
ঝরে যেতে এক একটি শুষ্ক পাতা !

গীত হবে যেখানে যখন
মিলনের গান-  
ঠাঁই পাবে- 
শত পীড়া ব্যথা বেদনাবিধুরের কথা ?  
ঠাঁই পাবে সেথা সেই দরিদ্র হতভাগার 
মৃত পত্নীর লাশ নিয়ে কাঁধে 
চলেছিল যে মাইলের পর মাইল !

চর্চা যখন হবে 
বিলাসী ঐশ্বর্য 
বিত্ত বৈভবের গাঁথা  
আর্থিক প্রগতি সমুন্নতির হবে প্রসারণ- 
মনে পড়বে সেই কৃষকের কথা- 
ধার নিয়েছিল কিছু টাকা বলে 
করতে হয়েছে যাকে আত্মহনন ? 

মজবুর মজদুর যারা 
হবে তাদের প্রতি ধ্যান- 
ভদ্রজনের ভদ্র পরিবেশ  
তৈরি করে দিয়েছে যারা 
লাগিয়ে দিয়েছে দেয়ালে স্বচ্ছ আয়না 
ভেসে কি উঠবে সেই গ্লাসে 
শ্রমিকের বিবশ চাউনি ? 

অবকাশ পেলে হে রাজন- 
মনে করো ওই নিষ্পাপ
নিরস্ত্র শোষিতের কথা; 
যাদের রক্তের লালিমা
লেগে আছে তব সিংহাসনে 
যুগ যুগান্ত ধরে 
যাদের লাশ পুঁতে দেয়া হয়েছে 
তব সিংহাসন-তলায় ! 
            © ইকবাল॥ 
          ২২-০৬-২০২৩।

বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০২৩

সমুদ্র তুমি

 

   


















।। সিক্তা বিশ্বাস ।।


নীল নভতলে গভীর অতলে 
তরঙ্গিত তুমি অতলান্ত অবয়ব, 
কত প্রাণ ও জলজ উদ্ভিদের
সার তব জলজ্যান্ত বাস্তব।
বক্ষে ধরেছ অমূল্য রতনে, 
তিলে তিলে সঞ্চিত পরম যতনে, 
নিত্য নতুন আবিষ্কারী মনে
আলোড়ন অবিরত প্রতি ক্ষণে ক্ষণে... 
নীল গরিমার মহিমা যে অপার, 
পরম সৃষ্টি তুমি সৃষ্টি-কর্তার... 
বিজ্ঞানী মনের আকর্ষিত দৃষ্টি... 
মানব সভ্যতার তুমি সাক্ষ্যআধার। 
নিত্য সূর্য তোমাতে উদিত, 
দিনাবসানে তোমাতেই অস্ত, 
ভাবুক মনের তুমি গভীর ভাবনা
 সাধনায় তুমি শুধু তোমারই তুলনা...

ঝড়োমেঘ
৮ই জুন ২০২৩ইং।