.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬

প্রসংগ: ড.জাকির নায়েক

।। সুমনা চৌধুরী।।
(C)ছবিঃimage
র্ক-বিতর্কে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠল দেশের কিছু মিডিয়া আর সংগে সোশ্যাল মিডিয়া।
ঢাকা গুলশান হত্যাকাণ্ডের  পর এক সন্ত্রাসবাদীর ফেসবুক পেজ থেকে ড.জাকির নায়েকের লেকচার শুনে সন্ত্রাসে অনুপ্রাণিত হওয়ার পোষ্ট এমন সংবাদ ডেইলি স্টার এ বেরোনোর  সংগে সংগে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা ঘোষণা করেছে সরকার এবং লাগলে গ্রেফতার ও। ইতিমধ্যে পিস টিভির সম্প্রচার ও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। জাকির নায়েক সন্ত্রাসবাদীদের সন্ত্রাসী হওয়ার মন্ত্র দিচ্ছেন কি না তার লেকচারে সেটা হয়তো তদন্তে বেরোবে এবং সময়ই বলবে কিন্তু তার আগে একাংশ মিডিয়া সহ দেশের একাংশ উচ্চশিক্ষিত লোকের সত্য মিথ্যা যাচাই না করে জাকির নায়েক সহ ইসলামধর্ম  এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বী লোকদেরকে নিয়ে কটুক্তি তথা মুন্ডুপাত করা দেখে মনে হয়, হায়রে! আমাদের দেশের মিডিয়া বুঝি এতদিনে কোন Most wanted terrorist কে ধরতে সক্ষম হল!.. যাক, বাদ দেই একথা ! তদন্তে কি বের হয় না হয় তার জন্য পুরো বিশ্বই অপেক্ষা করছে কারণ এই মিডিয়াই এবার জাকির নায়েককে পুরো বিশ্বের কাছে এতটা কৌতূহলী করে তুলল যে যার দরুন যারা কোন দিন জাকির নায়েকের লেকচার শোনেননি ওরা ও একবার শুনতে আগ্রহী হচ্ছেন।
একটা বিষয় অবশ্যই ভাবায় যে, যে লোকটার এতজন হিন্দু ফলোয়ার, যারা প্রকাশ্যে নির্দ্বিধায় যার প্রশংসা করছেন, যে লোকটার চ্যানেল এতদিন ধরে দেশে চলছে, সেই লোকটার সম্বন্ধে এতদিন দেশের গোয়েন্দা মহল কিছুই জানতে পারলনা! বুঝতে পারলনা! শুধুমাত্র ঢাকা কাণ্ডের কোন ও জঙ্গির ফেসবুক বার্তা থেকে বুঝতে পারল যে লোকটা Hate speech ছড়াচ্ছে! আর এতে অনুপ্রাণিত হয়ে জংগিগোষ্ঠীর সৃষ্টি হচ্ছে-- তা কি কিছুটা আশ্চর্যের ব্যাপার নয়?... ড.নায়েকের লেকচারে যদি সন্ত্রাসী হওয়ার কোন ও মন্ত্র থেকে থাকে তবে অবশ্যই উনাকে শাস্তি দেওয়া হোক সেটা আমরা নির্দ্বিধায় বলব কিন্তু কোনও কিছু প্রমাণিত হওয়ার আগে শুধুমাত্র এক ফেসবুক বার্তা আর কোন নিউজপেপার এর করা অভিযোগ দেখে তাকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মুণ্ডুপাত করা এবং সংগে ইসলাম ধর্ম ও দেশের মুসলিম সম্প্রদায়কে গালিগালাজ  করাটা কি সুস্থ মস্তিষ্কের লক্ষণ?..
এ যেন দ্বিতীয় কানহাইয়া কুমার আর জে এন ইউ কাণ্ডেরই পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে পাচ্ছি যেখানে মিডিয়ার দৌলতে একশ্রেণির লোকের কাছে কানহাইয়া ভিলেন হয়েছিলেন তো একশ্রেণির
কাছে হিরো! তো কানহাইয়া কাণ্ডে একাংশ মিডিয়ার কিছু ভুয়ো ভিডিও ক্লিপিং এর  মতোই কি এবার তাহলে আমরা জাকির নায়েকের ভিডিও এর পুরোটা না দেখে কিছু আংশিক অংশ দেখে উত্তেজিত হচ্ছি??.. নেপথ্যে কি অন্য কাহিনী তবে? ব্যাপারটি অবশ্যই ভাবার বিষয় কারণ ইউটিউব এর ভিডিওতে দেখা গেছে ড.নায়েক অনেক লেকচার এ আইসিসের বিরোধিতা করেছেন এবং কোরানের আয়াত এর উল্লেখ করে বলেছেন  "যে লোক কোন ও নীরিহ লোককে হত্যা করল সে পুরো মানবজাতিকে ই হত্যা করল।” তো সন্ত্রাসবাদ বিরোধী এমন লেকচার যিনি দিচ্ছেন তিনি কি করে কাউকে সন্ত্রাসী হওয়ার মন্ত্র দিতে পারেন তা কি ভাবার বিষয় নয়?.. ঘটনার প্রেক্ষিতে অনেকের অভিমত তার টিভি চ্যানেলটি পুরোপুরি ব্যান করতেই নাকি এতসব প্রচার আর তড়িঘড়ি এত তোড়জোড়! যাইহোক, আমরা আশা করি যে জে এন ইউ আর কানহাইয়া কাণ্ডের মতো তাড়াতাড়ি সব সত্যতা সামনে আসুক আর জলদিই সব রহস্যের অবসান হউক।
 তাৎপর্যের ব্যাপার হলো যে বাংলাদেশের যে নিউজ পেপার জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তার লেকচারে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রাণিত করার অভিযোগ করেছিল সেই ডেইলি স্টার আজ তাদের সব অভিযোগ ফিরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বিভাগ ও কোনরূপ তদন্তের কথা প্রত্যাহার করেছে। জাকির নায়েক কাণ্ডে আর যাইহোক সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে আমরা দেশের কিছু দেশপ্রেমীদের এমন সব মন্তব্য আর ভুল তথ্য দিয়ে এক বিশেষ ধর্মের লোকদেরকে অবিরত গালিগালাজ করা দেখতে পাচ্ছি যে যা দেখে মনে হচ্ছে যে দেশে বোধহয় আর কোন ও সন্ত্রাসবাদী নেই কিংবা নেই কোনও সম্প্রদায় কে লক্ষ্য করে  Hate speech দেওয়া ব্যক্তি ও!
হায়! স্মৃতি বড়ই দুর্বল সত্যি কিছু লোক আর কিছু মিডিয়ার।
গত দু বছর ধরে ধর্ম নিরপেক্ষ বলে বিশ্বের কাছে পরিচিত ভারতবর্ষে আমরা সরকারে থাকা এমন কিছু জনপ্রতিনিধির ক্রমাগত দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ মূলক-উস্কানি মূলক মন্তব্য দেখতে পেয়েছি এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা তো নেওয়া দূরে থাকুক, ওদের মুখ বন্ধ করারও কোনও উদ্যোগ নেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ দেশের প্রধানমন্ত্রীও যা দেখে অবশ্যই একবারের জন্য হলেও ভাবতে হয় যে ভারতবর্ষ কি সত্যিই ধর্ম নিরপেক্ষ তথা সর্ব ধর্মের মিলন স্থল হিসেবে বর্তমানে আছে?..
১) মসজিদ কোন ও ধর্মস্থান নয়, চাইলেই গুড়িয়ে দেওয়া যায়.. ২) যারা রাম কে মানেন তারা রামজাদে বাকীরা হারামজাদে.. ৩) মুসলিম মহিলাদের কবর থেকে তুলে এনে ধর্ষণ করা উচিত.. ৪) সূর্য নমস্কার করতে না চাইলে সমুদ্রে ঝাঁপ দিক মুসলমানেরা.. ৫) আজানের আওয়াজ বন্ধ হলে ডি জে বাজাবো.. ৬)মুসলিম দের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে হবে..  ৭) ২০২০ সালের মধ্যে সব ভারতীয়কে হিন্দু বানানো হবে.. ৮) মুসলিমরা গো মাংসের পরিবর্তে গোবর - গো মূত্র খাক..  ৯) হিন্দুস্থান শুধু হিন্দুদের, মুসলমানেরা পাকিস্তানে যাক..  ১০) দেশে আইন না থাকলে একাই লাখো মুসলমানের মাথা কেটে নিতাম.. ১১) মুসলিম মহিলাদের জোর করে বন্ধ্যাত্মকরণের ট্যাবলেট খাওয়ানো উচিত, ইত্যাদি ইত্যাদি এমন সব মন্তব্য করেছেন সেইসব শান্তির দূতেরা যারা হয় সরকারে আছেন না হয় সরকারের সহযোগী হিসেবে..
হায়! এই হল বর্তমান গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষের প্রকৃত সেকুলার রূপ যেখানে কোনও সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এইসব
Hate speech দেওয়া মহান ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হয়না কি এক অজ্ঞাত কারণেকিজানি..!
দেশের একাংশ মিডিয়া আর একাংশ দেশপ্রমিকদের কোন ও সম্প্রদায় কে লক্ষ্য করে Hate speech দেওয়া এসব ব্যক্তিদের কে যে কিভাবে চোখে পড়েনা তা দেখে সত্যিই ভাবতে হয় যে এই কি তাহলে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত ভারতবর্ষ?.. 

শুধু দেশের সংখ্যালঘু দেরকে যারা অহেতুক ঘৃণার চোখে দেখে মনে বিদ্বেষ ভাব পোষণ করছেন তারা কি একবারের জন্য হলে ও এসব মন্তব্যকারীদেরকে চোখে দেখছেন না, যারা এক ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ক্রমাগত এক ধর্মের লোকদের হেনস্থা করে অপমান করে জোরে বলে অন্য ধর্মের কিছু আচার পালন করতে পরামর্শ দিচ্ছেন ?.. এক জাকির নায়েককে কেন্দ্র করে যেভাবে আবারো দেশের মুসলিম সম্প্রদায়কে তির্যক দৃষ্টিতে দেখে অপমান সূচক কথা বলে সন্ত্রাসের-দেশপ্রেমের প্রশ্ন উঠাচ্ছেন, যারা তারা একবারও কিন্তু দেশে সম্প্রদায়ভিত্তিক উস্কানিমূলক-বিভেদমূলক মন্তব্যকারী ওইসব সন্ত্রাসীদেরকে দেখছেন না, যারা তাদের উগ্রবিদ্বেষ মূলক মন্তব্যে ক্রমশ উগ্রতা আর বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন কিছু লোকের মস্তিষ্কে-মগজে যারা বর্তমানে কোন কারণ ছাড়াই মুসলিম নাম শুনা মাত্রই ঘৃণার নজরে দেখছেন ওই সম্প্রদায় কে।
এদের কে সন্ত্রাসী বল্লাম, কারণ সন্ত্রাসবাদ শুধু যে বন্দুক দিয়ে হয়না ব্রেন ওয়াশ করে ও ঠাণ্ডা মাথায় কাউকে সাম্প্রদায়িক বানিয়ে তার মাথার সুস্থ মগজ কে ধ্বংস করা যায় তার প্রমাণ তো আমরা দেখতে পাচ্ছিই বর্তমানে জাকির নায়েক ঘটনা কাণ্ডে দেশের একাংশ শিক্ষিত লোকের উগ্রবাদে বলীয়ান হয়ে সত্যমিথ্যা যাছাই না করে ক্রমাগত মুসলিম সম্প্রদায় আর ইসলাম ধর্ম কে মুন্ডুপাত করা।
         ড.জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলোর সব সত্যতা  সামনে আসুক তাড়াতাড়ি এই কামনা করি। নিরপেক্ষ ভাবে ও তদন্তের দাবি জানাই। হোক সত্যের জয়!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন