“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
মধুমিতা নাথ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মধুমিতা নাথ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৮

হিমা


(C)















।। মধুমিতা নাথ ।।

দেশপ্রেম কী , আমি তা বুঝিনা

প্রান্তিক সীমানায় আমি রাইফেল হাতে বিনিদ্র রাত জাগিনা
মিছিলে হাঁটি না আমি , শ্লোগান দিই না কখনো
দেশের দশের জন্য তোমাদের মতো ভাবি না
দেশপ্রেম কাকে বলে আমি তা জানি না

ধানক্ষেতে আলপথ বেয়ে ধাবমান ঘূর্ণি আমি
এক্কাদোক্কা দলে নেই , নেই কোনো পুতুলের বিয়ে
আমার রেসের মাঠ কাদা-জলে মাখামাখি ,
ফুটবলে পা , সাথী সব কিশোরের দল
সেই থেকে খেলাঘরে আমি বেমানান
পুতুল-সংসার আমি গড়ি না

বাবা চষে ধান , মাঠভরা গান
চাষিবধূ মা আমার জানে না তো
ট্র্যাক কাকে বলে
মুখে হাসি চোখে জল , বলে কি না
"টেলিভিশনে আসবি তো তুই ?"
মা'কে আমি বুঝাতেই পারি না

আমি দেশপ্রেম বুঝি না
শুধু গতি চাই আরও দ্রুতগতি
উঁচুতে দাঁড়িয়ে দেখি তরঙ্গায়িত তেরঙ্গা উড্ডীন
মাভৈ মাভৈ আজন্মলালিত উদ্বেলিত সুর
জয় হে জয় হে জয় হে ...
আমি গাইতে জানি না

স্থাণু , স্থিতধী আমি
নির্বাক নিশ্চল নামচা বারওয়া আরেক
দু'চোখে স্বপ্নেরা
ধরলা , করতোয়া ,সুবর্ণসিঁড়ি ,আত্রাই
অবশেষে ব্রহ্মপুত্রে মেশে
দ্য ওল্ড ম্যান রিভার ...

এ বাঁধভাঙা জোয়ারের স্রোত
এ আবেগমথিত অশ্রুধার
ছোট ছোট নিশ্বাসে সুগভীর বিশ্বাস
একে কি দেশপ্রেম বলে ?
আমি তা জানি না ...

** উৎসর্গ
ছবি সৌজন্য : গুগল

14/07/2018


রবিবার, ৪ মার্চ, ২০১৮

কিরাত কইন্যার কিস্যা

কিরাত কইন্যার কিস্যা

মধুমিতা নাথ


















।।  মধুমিতা নাথ।।

বাপ -----
তুহার কাছ থিকে সিখা বুলি
আজ হামি তুহাকে সুনাইলুম
বইলেছিলিস ---- ' যাহা সইত্য ,
ছকলের জইন্যই সইত্য বটেক'

সুন বাপ ---
আভী লে তুকে দুঠো গপ্প সুনাইব গ

মনে কইরে দিলুম , তোর নীল সিয়ালের গপ্প
মেকী রঙ মেইখে নিজেরে রাজা দিখাইতে গেল
ভুইলে গেল ছকল নীতিমালা ,
দুখের দিনের ছকল সাথীগুলানরে
শেষতক কি হইলো দেখ কিনে ?

ভুলগুলান শুধরে নে বাপ ...

ইবার সুন আরেকঠো সিয়ালের গপ্প
কুমীরের বাচ্চাগুলানকে পাঠ দিবে বইলে ,
গর্তে রেইখে একঠো একঠো করে চিবাই খাইলো
দিনে দিনে কুমীরটাকে আহাম্মক বনাইলো
কুমীর যখন বুঝতে পারল তখন ত বেবাক খতম

সামলে চলিস বাপ ...

মুই তর মুখ্যুসুখ্যু বিটিয়া
তুহার গপ্প তুহাকে সুনাইলুম
গুস্যা করবিক লাই।।

            --------------//-------------


বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

ছান্দকি কথা















।। মধুমিতা নাথ।।


ধু ছান্দকিদের খাবার দেখলে বড্ড খাঁই খাঁই
ওরা চুরিও করে , খাবারও খায় , ধরাও পড়ে তাই।
হবুর দেশে আজব কাণ্ড কত কিছু ঘটে !
মধু ছান্দকিরা দাগী চোরও বটে !!

চোর চাই , আমাদের চোর ব্যাটাকেই চাই !
সভ্য রূপে(!) খাদ্য ছেড়ে খাদক ধরে খাই
প্যায়দা বলে , কানটা মুলে ঘাড়টা ধরে আন
কায়দা করে গামছা বেঁধে হ্যাঁচকা মেরে টান ।।

ছান্দকিদের উচিত সাজা চাই !
ধর ব্যাটাদের মার ব্যাটাদের ছাল ছাড়িয়ে যাই ---
মারের চোটে রক্তে আগুন দ্বিগুণ যখন জ্বলে
ছান্দকিরা মিছিল করে মৃতদেহের দলে

গবুর দেশে হবু রাজার বড্ড ভাবনা তাই
ছান্দকিদের মারছে যারা তাদের বিচার চাই
আমরা আছি ভদ্রবেশী মোসাহেবের দল
ছান্দকিদের জন্য ফেলি মেকি চোখের জল

ছান্দকিরা রক্তবীজের বংশ পরম্পরা
ভাত জুটেনা , করলে চুরি ওরাই পড়ে ধরা
টাকার কুমীর নীরব ছিল , পুকুর চুরি করে
পালিয়ে গেল ,  ছান্দকিরা বেঘোর মরা মরে !

যদি মরে মাগনে
হবু নাচেন ফাগুনে
যদি ভাগে ঋণের শেষ
ধন্যি হবু পুণ্যি দেশ !!

         --------------//------------


শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৭

এক হাসিনা থী

।। মধুমিতা নাথ।।










র্ধমৃত ঊর্মিমালার দেহটা
দুর্গম পাহাড়ি গুহায় ছুঁড়েছিলও বিশ্বাসঘাতক প্রেমিক
ধেড়ে ইঁদুর , বাদুড়-ডানা ঝটপট
কাঁকড়াবিছে সঙ্গে দু'তিনটে জাতিসাপ

পাথর চাপায় রুখেছিলো একমাত্র প্রবেশ পথ

পিঁপড়ের মহাভোজে
জমাট কালো রক্তাক্ত যৌবন
দেয়াল ফোকরে মাকড়সার আঠালো উঠানামা
জাল বোনা , ঝুলে থাকা
সরু ফাটলে চিলতে আলো
কখনো তেজী কখনো স্নিগ্ধ

দেহটা বেঁচেছিলো ঘেঁয়ো কুকুরের মতো
যৌনাঙ্গে পচে যাওয়া ঘা নিয়েও
ঊর্মিমালার ঘিনঘিনে বেঁচে ওঠা ...

অগুনতি অন্ধ অন্ধকারে
কতবার চিলতে তেজী আলো ডেকে গেলো
কতবার স্নিগ্ধতা আদর বুলিয়ে গেলো
জমাট কষা নোনাজলে গলাভেজা
গলা চেরা বমি
পিঁপড়ে মিছিলে হামাগুড়ি পাথুরে মন --
সেও এক অনন্য ঊর্মিমালা
আলো পথে উদার স্নিগ্ধ কেউ
বেঁচে থাকা কথা বলে
বেঁচে যাওয়া কথা বলে

কালশিটে চোখের কোল
লতপত পায়ে আদিম গুহামানবী
মানুষে পশুতে খুবলানো ভ্যাম্পায়ার  ঊর্মিমালা ...

মাঝে মাঝে আজব কিছু হয়
তবে তাই হোক ----

বিশ্বাসঘাতক প্রেমিকটি
মৃত্যু প্ৰহর গুনে
খোলা চোখে দেখে হাত-পা-মুখ বাঁধা
মানব থেকে আদিমানবে রূপান্তর
ধেড়ে ইঁদুর মাকড়সা বাদুড় কাঁকড়াবিছে
আর দু'তিনটে জাতিসাপ

প্রেমিকের শেষ ভুলটা শুধরে নেয় ঊর্মিমালা
সরু ফাটলে পাথর গুঁজে গুঁজে বন্ধ করে আলোপথ

দুর্গম পাহাড় চূড়ায় উল্লসিত ঊর্মিমালা
হিমালয় বুকে বরফ কঠিন আস্তরণে
কোনো টেথিস ঊর্মিমালা
পায়ের তলায় কঠিন লাভা মাড়িয়ে
কোনো ভিসুভিয়াস ঊর্মিমালা

"এক হাসিনা থী ..."

          -------// -------


শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

মুই ইকটা দেশ চাইছি

























।। মধুমিতা নাথ।।


(রূপনগর সংবাদ ---৫৭)
---------------------------------

ঐ বাপ ----
আর কতদূর চলতি হবেক ?
আর কতদিন চলতি হবেক ?

ভুখার পেটে চুহা দৌড় করছে গ


পায়ের তলে কাঁটা বিন্ধেছে , খুন গড়াইছে
জলজংলা পার হইতে খুনের গন্ধে জোঁক ধইরেছে   কাঁটাতার আমার গতরের জামা ছিঁড়েছে
মাথার ভারী বোঝা লামাই দে বাপ ----
মুর ঘাড়খানা টনটন করিছে

ঐ বাপ -----
আর কতদূর গেলে দেশ মিলবে গ ?
মু'কে তুই ধরম কথা সুনাইছিলিস বটেক
ভালা রে! !
তুর ধরম কত্ত কত্ত ভালা কথা জানে রে !
"ছকলেই ইকটা ঈশ্বরের বেটা বিটি আছে "

ই তুর কেমন ঈশ্বর আছে রে !
ইত্ত বেটাবিটি জনম দিলো ,
কিবল ইকটা বড় দেশ লাই বানাতে পারলো গ
ছকল বিটাবিটির জইন্য ইকটা
কিবল ইকটা দেশ ....

ইত্ত ইত্ত দেশ কে বনাইলো বটেক !
ঐ বাপ ----
তু মুকে জনম দিলাইছিস
মুই কিনে ঈশ্বরকে বাপ বুলবক ?
তু মুর বাপ আছিস ,
রোটি দিলাইছিস , কপড়া ভী দিলাইছিস
দেশ কিনে দিবিক লাই !
মুকে ইকটা দেশ দিলাই দে  

মুই বুক ভইরে শ্বাস লিবো
মুই আর লাই পলাইবো  
মুই পেট পুইরে ডাল রোটি খাবো
চোখ ভইরে সপন দিখবো
কিবল ইকটা দেশ দিলাই দে ---

ইকটা দেশ ----
কুনু কাঁটাতার লাই থাকবেক
বাতাসে বারুদ গন্ধ লাই থাকবেক
গলা চিপে কেউ লাই মারবেক
বুকের উপর লাই লাচবেক
মুর ইজ্জতে কুনু হারামী হাত লাই দিবেক
ঘরে-দুয়ারে বস্তিতে আগুন লাই দিবেক
"তুহার দেশ ইটা লয়" ---- বলি লাই চেঁচাইবেক
ধরমের গেলাস ভইরে খুন লাই গিলবেক  

দিলাই দে বাপ ---
ইকটা বাঁচার মতো দেশ দিলাই দে ...

                   --------------//--------------



মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

কোরা ছাড়পত্র

কোরা ছাড়পত্র


যে শিশু ভূমিষ্ঠ হবে আজ রাত্তিরে ,
তার আগাম বার্তায় জেনেছি
যুগে যুগে যুগান্তরের জন্মকথা      

এখানে কচিঘাস
এসিড বর্ষণে পুড়ে বারোমাস  
সত্তরের প্রৌঢ়ত্বে ডিজিটাল স্কিন কেয়ার টোন ,
সর্বনাশা পাতাঝরা বুড়ো শীত
মিথ্যে সবুজের মুকুট স্বহস্তে মাথায় তুলে ---
জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসনের দাবীদার  

মিথ্যে আরোপিত অহংকার !!
হাওয়া শূন্যস্থানে মানব আর অতিমানব -----
সমান ওজনদার    

ঘোরতর কৃষ্ণপক্ষ রাত
কৃত্রিম আলোর বন্যায় দেশপ্রেম ভাসে
নিশানাবিহীন নিশান উড়িয়ে
নিষ্প্রাণ ---- একশত ছাব্বিশ মুষ্ঠিবদ্ধ হাত ...

আরও এক দৈবশিশু ভূমিষ্ঠ হবে আজ মাঝরাতে    ভূমিস্থ হবে তেষট্টি শিশুর লাশ  
মেঘলা সূর্যোদয়ের পথে আরও এক পনেরো অগাস্ট ...

               -----------------//-----------------


শুক্রবার, ১১ আগস্ট, ২০১৭

সিটি অব জয়

।। মধুমিতা নাথ।।

























মেঘের ভেতর ডানা মেলে উড়তে উড়তে
পৌঁছে যাই তোর আনন্দ-নগরে ,
ভালোবাসার নাগরিক কোলাহলে
তালগোল পাকানো ভুলভুলাইয়া রাজপথে
খুঁজে ফিরি হয়রান ---
সবুজ গন্ধমাখা এক ড্যান্সিং ফ্রক ...

উনিশ-পুরোনো সেই ঘুমঘুম গান
পাঁজর নিংড়ে আসা বাৎসল্য মিঠে সুখ
অনভ্যস্ত ঠোঁটের কোণে
এপথ ওপথ বেয়ে জাহ্নবী অভিমুখ

সচ্ছলতা ফেরী করে
কৃত্রিম যত অভিলাষ
যান্ত্রিক প্রাপ্তিতে
রাইড --- কলম্বাস !

দীঘলবাঁকের বুকে রাণীদীঘি ছুঁয়ে
বটের ঝুরি নামে তিরতির জলে
মেঘলা দুপুর ---- হৈ হৈ ঝুপ ঝাপ
দীঘির হৃদয় জুড়ে উথাল পাথাল
শ্রাবণের রিমঝিম রুমঝুম ঝমঝম
ক্লোরিনের আবরণে আঘাতের দাগ ফুটে
ব্যথা চাপে জলপরী --- ওয়াটার কিংডম ,
অতৃপ্ত জলোচ্ছ্বাস ----
আমার রাণী হাসে , এখনো বারোমাস।

সবুজের ঢাল বেয়ে সোনাল ছায়ায়
শাপলার ফাঁকে
এঁদোপুকুরের পাঁকে
শামুক গুগলি ঝাঁকে
গড়াগড়ি ধানক্ষেতে শ্যাওলা বাহার
বনপেয়ারার হাতছানি ভুলে
গুটিগুটি পায়ে হাঁটি
থরে থরে রকমারি ফ্রুট-স্যালাড পাহাড়

ঐতিহ্য থেকে এক লহমায় বর্তমান
যান্ত্রিক ব্যবধান
শ্রমে-টানা শতাব্দী-প্রাচীন দ্বি-চক্র শকট পাশে
ওলা ... উবের .... বেমানান ! বেমানান !

তবুও বিবর্তনে ,
বৃদ্ধ-শকট লোভাতুর প্রতীক্ষায়
অলিগলি নিশাচর যাত্রী আশায়
বস্তির চালাঘরে বিনিদ্র চোখ ,
ঝুলনের চাঁদ ঝুলে ফিকে চাঁদোয়ায়
নগরায়িত বৃন্দাবন অস্পষ্ট দৃশ্যমান
বিলাসিনী রাই কাঁদে ---
"মরণ রে , তুঁহু মম শ্যাম সমান ..."

জেব্রা ক্রসিং ছেড়ে
এবড়ো খেবড়ো ভাঙাচোরা ঝামা-ধরা
পুরোনো ইটের খাঁজে , ফুটপাথ ঘেঁষে
এখনো উষ্ণতা ছড়ায় বিবেকের লাশ
সময় মানেনা কোনো ট্রাফিকের সিগন্যাল
জীবন-মিছিলে ছুটে নাগরিক নাভিশ্বাস

স্বার্থের যাতায়াত
পাশকাটা , পদাঘাত
ঝিরঝিরে ধারাপাত
জলছাপ ---- বিবেকের খুন আর ঘাম
মেঘে ঢাকা ছায়া-চাঁদ
গলি থেকে ফিরে যায়
নিয়ন আলোয় সাজে তিলোত্তমা রাত !
নিথর বিবেক ঘিরে আলোক-ভিখিরি মথ
পোস্টের নীচে জমে সভ্যতার অভিসম্পাত !!

         








শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০১৭

মর্নিং ওয়াক্













।। মধুমিতা নাথ।।


রোজকার মতো একঘেয়ে সকাল আজ নয়
রাজপথে কুকুর খেদানো লাঠি হাতে
কোনো আদিখ্যেতার মর্নিং ওয়াক নেই
শখের লাঠি ----
আসলে উঁচুডালের ফুল নাগালে আনার ,
কর্পোরেশনের ঝাড়ু হাতে মেয়েটাও ভালো জানে ...

নেই ------ ওরা কেউ নেই
ফুলেরা বৃষ্টি সকালে অবাঞ্ছিত কন্যাভ্রুণ

কিশোরী শহুরে সকাল
বৃষ্টি-সহোদরা ঝাড়ুদার মেয়েটির
সোহাগী-কাঁথা জড়ানো ঘুম তাই

রাজপথ ধুয়ে গেছে শেষ রাতেই
সিবলিং ভালোবাসায়
জঞ্জালমুক্ত ---- আমার শহর

দলছুট ভিজেকাক ! গৃহদাসী নির্বাক
পথ হাঁটে , নির্জীব ভাবলেশহীন
আমার শহরে ওরা অনেক প্রাচীন

যৌবনের বয়স নেই ----
এই ঝিরঝির ধারাপাত
হিমহিম বাতাসের ওড়নার সুখ
গতিময় পঁচিশের পাশাপাশি উড়ন্ত দুরন্ত পঞ্চাশ ,
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর হতাশ অতীত
বৃষ্টিভেজা পিঠে বৃষ্টিভেজা মুখ ...

            -------------//--------------



রবিবার, ১৮ জুন, ২০১৭

রূপনগরের দশভুজা

















।। মধুমিতা নাথ।।


মরদ ----
বহুত দিন বিতলো , বহুত কথা বুলবার ছিলস গ
তুহার জন্যি বেজান পিরিত জাগলো বটেক

ইত্ত বরস পার কইরে দিলুম
আভি ভি তুহারে নাহি চিনলুম রে
তু কত্ত বইলেছিলিস ----
মুই নাকি বেজান সোন্দর ছিলস
ডাঙর ছিলস
গতরে উথাল পাথাল মাতন ছিলস
আভি লে দেখ কিনে !
পুড়া কাঠ বইনে গেলুম গ ---- কাঠ !

তু ভি ত ইককালে জুয়ান মরদ ছিলস ---
বুকের ছাত্তি চিতায়ে
লুহার মতন ছক্ত হাতের শিরা ফুলাইয়ে
যখন কুড়াল চালাইতিস !
মুর তখন বাউলা বাতাসে আউলা পরান ...

ফির ইক ঝুলন দিনে
চাইর হাত ইকঠো হই গেলস গ
মাথার উপর খাজুর পাত্তির চালার ফাঁকে
পুনম চান্দা উঁকি দিলো
ঘরের দাওয়ায় সিয়াল ডাইকেছিলস --- হুক্কা হুয়া
মুই বেজান ডরাইছিলুম রে
তুহার বুকের নরম উমে মুখ লুকাইয়ে
চুক্ষের পানিতে ভাসাইছিলুম
তু সুহাগ ঢেইলে বইলেছিলিস ----

ডর নাহি পাইবিক
মুই আছি ন !

হাঁ , তু হামার সাল কাঠের খুঁটি ছিলস গ ,
ঘুমটা ফেলাইয়ে ছকল ডর ঝেইরে বইলেছিলুম ----
তু ভি চিন্তা নাহি করবিক
মুই আছি ন !

আভি লে দেখ ----
তু হাঁড়িয়া গিলে পইড়ে আছিস
মুর দুখ নাহি লাগে !
পুরাঠো দিন বাবুর বাগানে ঘাম ঝরাইলি
পুরাঠো মজুরি ভি নাহি মিললো
মুর দুখ নাহি লাগে !

মুই বাবুর বাড়ির ফরমাস খাটলুম
ইত্ত ইত্ত ভালোমন্দ খানা পকাইলুম
লেকিন মুর ঘরে চুলা নাহি জ্বললো রে ---
মুর দুখ নাহি লাগে !

তুহার মিয়া , নয় কেলাসে ফেল দিলো ,
ইত্ত কইরে বইলেছিলুম -----

বিটিয়া , থুরাটা পুঁথি ঔর পড় কিনে ,
নাহি সুনলো বটেক ----
আট সাল ইস্কুল গেলো , পুঁথি মিললো , খিচুড়ি মিললো ,
ডিরেস মিললো , টেকা মিললো ,
বছর বছর পাস ভি দিলো
গিলো বছর সাইকেল ভি মিললো
বড় দিদিমুনি মু'কে বুলাইয়ে জানান দিলো
লিখাপড়ায় হামদের বিটির লগান কম আছে
আভি লে ---
বছর ফুরাইতে ফেল দিলো গ
মুর দুখ নাহি লাগে !

তু জুয়ান বিটির গতরে হাত উঠাইলি !
কিনে রে ?
মুর সাথে মর্দাঙ্গি দিখাইয়ে
হাতের সুখ নাহি মিটলো বটেক !

পনরো সাল বিতলো বিটিয়া জনম দিলুম
বইলেছিলিস , মুই দুর্গা আছি ,
বিটি হামার রূপে লছমি , গুনে সরসতী হইবেক গ ---
আভি লে তু বাপের সুহাগ ভুইলে অসুর বইনে গেলি !

জুয়ান বিটি আছে
উহার ভি দিল আছে , গতর আছে
উহার দিলে ভি পিয়ার আছে , গতরে মাতন আছে
উহার ভি সপন আছে
কিবল দিমাক থুরাটা কমজুর আছে গ
তু কভি আটটা কিলাস পাস নাহি দিলিস
আভি লে কিনে হাত উঠাইলি ?
মুর দুখ নাহি লাগে !

ছকাল সানঝে ঘাম ঝরাইয়ে
সুখা মাটি চইসে , টিল্লা কেইটে ,
ভাট্টার আগুনে পুইড়ে আভি লে বেহুঁশ বনলি
মু'কে সুনাইছিলিস ----

বাবুর বাড়ির কামে বেজান আরাম মিলে
এসি আছে , টিভি আছে ,
মদে মাংসে জুগান আছে ,
নরম গদ্দির বিস্তর ভি আছে !

পুড়া কপাল হামার
কি বুইলে তুকে সমঝাই
মাইয়া মাইনষের দিল পাত্থর আছে রে ---- পাত্থর !
পাত্থরের এসি নাহি লাগে , টিভি নাহি লাগে ,
মদ মাংস গদ্দি তাকিয়া ---- কুছু ভি নাহি লাগে
থুরাটা দরদ লাগে রে ---- দরদ !

তু হাঁড়িয়া গিলে ছকল বিসর থাকিস
মুই ত নাহি গিলি রে ---- জানিস ন !
মু'কে ত ছকল ভুললে হবেক লাই
তিনঠো পেট ভুখা আছে
জুয়ান মিয়ার চুক্ষে পানি ছলকাইছে
তুহার গতরে অসুখ বান্ধিছে
মুই কত্ত বিসর থাকি বল কিনে !

সচমুচ মুই দুর্গা আছি বটেক
কিবল দশটা হাত নাহি মিললো গ
তু বেহুঁশ আছিস
মুর হুঁশ আছে বটেক
কিবল দিল খুস নাহি আছে গ
লেকিন আভি ভি তুহার জন্যি বেজান পিরিত আছে
কিবল সুরত বদলে যেছে গ ---- সুরত !
মুই আভি ভি দুর্গা আছি গ
মুই আভি ভি দুর্গা আছি বটেক ।।

             --------------//------------

মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০১৭

পরম্পরা



 ।। মধুমিতা নাথ।।


















বাপ ----
ইখন নিথর নাই হইবিক
কথা বল , কুছু কথা ...

কতক গল্প সুনাইছিলিস
পরদাদা তর চাসা ছিলস
লাঙল জুয়াল কান্ধে তুইলে
উহার জমিন চসাইছিলস

বাজরা জুয়ার গমের সিস
দুধেল ভইস আর গুলার ধান
বেবাক মাটির বেজান দিল
রোটি-রুজি সুখ-পরান

জমিনদারের জমিনদারী
কতক জমিন দখল নিলো
মজুর বইনে চাষার বিটা
পরদাদা তর পরান দিলো

উহার বিটার চাসার জান
আপনা মাটির দখল চায়
জমিনদারের লেঠেলগুলান
ভর-দুপরে লাঠি চালায়

তুহার বাপের চাসের জমিন
কতক গেলো কতক ছিলো
লাঙল ছেইড়ে পাওয়ার টিলার
মহাজনটা ধারে দিলো

সুখা জমির মিললো পানি
মহাজনেই বীজ ত দিলো
সার অ দিলো , ফসল হইলো
বেবাক সুদে পুষাই ভি নিলো

ঐ বাপ ----

ইখন ছিলস বেজান সুদিন
নাই মহাজন , জমিনদার
আলু ডালে ভরা জমিন
ইখন কিনে করলি ধার

ইত্ত ফসল ফলাইছিলিস
দাম ত উহার মিললো না
বেবাক দেনা জমলো বটেক
মকুব জারি হইলো না

তুহার সনে গকুল চাচা
রামু তাওজী , বসির ভাই
ছকল চাসার ইকটা কথা
দেনার সুদের মকুব চাই

তুদের কামের ঘাম বিকালো
পিঁয়াজ আলু ডালের দরে
দেনার ভারে তুহার ঘরে
বৌ বেটিরা ভুখা মরে

কইলি কথা আওয়াজ তুইলে
সড়ক পথে ছকল মিলি
দাদা মরলো লাঠির ঘায়ে
তুই ত খেলি বারুদ গুলি

লুটাই গেলো গকুল , রামু
আরো ছকল , সঙ্গে তুই
মুই ত আছি চাসার বিটি
লাঙল ছেইড়ে কলম ছুঁই

তুহার যতক কথা ছিলস
লিখব হামি , সুনবি নে ?
ঐ বাপ , তর লুহার বিটি ---
শেষ আগুনের দুয়া দে ।।

        ------------//-------------