“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
অমিতাভ দেব চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অমিতাভ দেব চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৫

মহাভারত ২০১৫




(অমিতাভ দেব চৌধুরীর
এই কবিতাটি উজান সাহিত্যগোষ্ঠী , তিনসুকিয়া আয়োজিত 'শুধু কবিতার জন্য' ২০১৫তে খ বিভাগে দ্বিতীয় পর্বে মনোনীত। তাই এখানে তুলে দিলাম। ---সুশান্ত কর )













(ব্যাস বললেনঃ)
আমার নিজের কোনো দেশ নেই৷
যে দেশ প্রতিটি ক্ষণে আমাকে সন্দেহ করে,
আমাকে বিদেশী বলে অপমান করে,
ঠেলে দেয় কুরুক্ষেত্রে,
বলে আমি প্রচ্ছন্ন পাণ্ডব,
আমার নারীর শাড়ি তুলে দেয় দুঃশাসনীয় এক
কৌরব বাজারে,
তারপর হাতে প্রশ্নপত্র তুলে ধরে বলে,
বলো তুমি এদেশেরই নাগরিক?
তোমার জন্মের আগে
মা-বাবার ঘাম ও বিলাস
কোন সে দেশের মাটি ছুঁয়েছিল?’
সে দেশ আমার আমার দেশ নয়৷
আমার নিজের কোনো দেশ নেই৷
একটি দেশের কাঁটাতার ছায়ার কিনারে
বেঁচে থাকবার চেয়ে
আরেকটি দেশে
শ্যাওলার মতো ভেসে যাওয়া ভালো-
ভেবেছিলাম মা-বাব আমার৷
এসব ভূগোলকথা৷
মানচিত্রে নেই৷
মানচিত্র এক জতুগৃহ
তোমাকে না পেলে
পোড়াবে তোমার হামসকল
বাবা-মাও ভেবেছিল
এদেশ তাদের সেই
পুরোনো দেশের হামসকল৷

নিজেদের জন্ম মনে পড়ে,


কুয়াশার মাঝখানে একটি রমণনৌকা
কোথাও স্থলের নেই নিশ্চয়তা,
চারদিকে জল,
নৌকারও দুপ্রান্তে জেগেছিল
দুটি দেশ
দ্বিখণ্ডিত, পারাপারহীন৷
আমার জন্মের মূলে স্থল নেই
আমাদের জন্মমূলে জল শুধু
আমরা এখনও তাই ভাসমান
নামহীন, পরিচয়হীন
তুমি তাই কুরুরাজ, আমাদের পরিচয় নিতে
প্রমাণপত্র পেশ করবার অনুষ্ঠান কর?
যে আকাশ চোখে নিয়ে ফিরি
তা নয় আমার পরিচয়?
যে শ্বাসপাখিকে এই খাঁচায় ভেতরে নিয়ে ঘুরি
তা নয় আমার পরিচয়?
যে দুটি হাতে ও পায়ে
আঁকড়ে ধরে আছি এই মাটি
তা নয় আমার পরিচয়?
তুমি খোঁজ আমাদের ধর্মপরিচয়,
ভাষা আর পিতৃপরিচয়?
আমার নিজের দেশ আমার শরীরে থাকে৷
যে দেশ তোমার, তার ইতিহাসে
পাদটিকা করে
আমাকে অদৃশ্য করে দিতে চাও
মানচিত্র থেকে?
আমার নিজের কোনো দেশ নেই
যে দেশ প্রতিটি ক্ষণে আমাকে সন্দেহ করে,
আমাকে বিদেশী বলে অপমান করে,
ঠেলে দেয় কুরুক্ষেত্রে,
বলে আমি প্রচ্ছন্ন পাণ্ডব,
সে দেশ আমার দেশ নয়৷

বুধবার, ১২ মার্চ, ২০১৪

বসন্তস্মর

(C)ছবি
























।। অমিতাভ দেব চৌধুরী ।।

খনো এই রাতে হৃদয় জুড়ে মেঘ
বেলা যে পড়ে এল ও সখি !
আমার গান আর তোমার নিঃশ্বাস
কেউ কি শুনেছিল বলো দেখি !

যারা তা শুনেছিল সবাই চলে গেছে
এ দোলে ফাল্গুন খাঁ খাঁ তাই
পুরনো রং থেকে শব্দটুকু এনে
তোমার কথা বলেে যেতে চাই ।

যে চিঠি লিখতাম সে চিঠি কেউ আর
ভিজিয়ে দ্বিপ্রহ্‌র, লেখে না ।
অতীত তবু আজ ছায়ার মতো ঘোরে
অতীত বুঝি শুধু কান্না ?

আবার দোল এল নতুন দোল এক
শরীর আজো দেখি চমকায় ।
পুরনো বাতিদা্ন, নতুন বাতিওলা
রং তো গায়ে লাগে্‌, না ছায়ায় ?

বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

অবাস্তব



























।। অমিতাভ দেব চৌধুরী।।


 ('ব্যতিক্রম', জানুয়ারি, ২০১৪ সংখ্যায় কবিতাটি প্রকাশিত। )

নুন্নত উচ্চারণ ভুলে যাব...পাখিদের শিস।
ফিরে যাব কলকাতা। লিখব লেঠেল পঙ্ ক্তিমালা।
ইতিহাস কতটুকু কেরদানি...জানে সাতচল্লিশ,
উনিশশো এগারোর পরে সব কাদা আর ধুলা।

তবু আমি জমিদার, দাপুটে বন্ধু নিয়ে ঘুরি।
সিলেটের তীরে ডোবে বরাকের সূর্যের ঠিকানা।
ব্রডগেজ-ভাষা যদি কখনো বা হয়ে যায় চুরি,
ভুল বাংলা কাউকেই কোনদিন বাড়িতে ডাকে না।

আমাকে বুঝো না ভুল। প্রতাপের ভাষার হদিশ
মাস্তান আস্তিন জানে। ভুল ভাষা যে দেশের প্রাণ,
সে দেশে পড়াই ছাত্র। দেশে যেতে জান নিশপিশ।
যে দৃশ্যে পড়ে না আলো, আমি নই তার সন্তান।

একদিন ফিরে যাব দোমড়ানো শহর ছেড়ে দূরে।
কেন্দ্র ঠিক কোনখানে? আমাকে আছে তো ঠিক ঘিরে?

~~০০০~~
পাঠকের ধারণা অমিতাভর এই কবিতাটি  সুমন গুণের এই কবিতাটির প্রত্ত্যুত্তরে লেখাঃ সম্পাদক ঈশানের পুঞ্জমেঘ।

পরাবাস্তব ( ব্যাতিক্রম শারদ সংখ্যা,২০১৩তে প্রকাশিত)

আর কতদিন পর উপত্যকা থেকে কলকাতায়
ফিরবে ভেবেছো?
এই প্রশ্নের গায়
হাত দিয়ে টের পাই চারপাশে আসন্ন সন্ধ্যার
দ্বিধা ও দুর্যোগময় সমাধান হীন অন্ধকার

আরেকটু এগিয়ে এক দাপুটে বন্ধুর সাথে দেখা
সিলেটের তীরে বসে সেও একা একা
ভাষার সৌজন্য মেনে সমবেত গান গায়
আমাদের খুব কাছে বরাকের সূর্য রোজ
আন্দোলনহীন ডুবে যায়
কখনো গভীর রাতে আমরা সম্ভ্রান্ত হয়ে বসে
কথা বলি পরাস্ত ব্রডগেজ নিয়ে; কেন , কার দোষে
ভুল বাংলাতেও কেউ কাউকেই বাড়িতে ডাকে না
কলকাতা থেকে এসে কেউ কেন বেশিদিন এখানে থাকে না
বেলা বাড়ে, আরও বুড়ো হয় এই দোমড়ানো শহর
অনুন্নত উচ্চারণে ভরে ওঠে ভাঙা রাস্তা, নোংরা বাড়ি ঘর।

বুধবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

মধ্যযুগ


                                                           অমিতাভ দেব চৌধুরী























লোর জাহাজ এসে লেগেছিল ভোরের বন্দরে ।
শতেক পশরা তার । কেউকেউ কিনেছিল, কেউ
ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ । কেননা তাদের স্বপ্নে ঢেউ:
ভিড়েছে বাণিজ্যতরী ।মাঝি তার শাদা ত্বক পরে ।

বাণিজ্যতরীর থেকে কিনে নিল যে সুসমাচার
সে বলল, ও জাহাজে আলো নয়, অন্ধকার শুধু ।
'অন্ধকার যুগ' লিখে লিখে বহু ভাবচোর মধু
করল ঘরে জমা ।অন্ধযুগ করে আলোর বিচার ।

আমি জানি, ও জাহাজে আলো আর ছিল লক্ষ গান
কেন না সে যুগ জানত কথা বলতে সুরে। তাই তার
কবিতায় সুর ছিল, সুর ছিল আখ্যানেও ।দ্বার
খোলা থাকত এমনকী অনুবাদ-পৃথিবীরও--- তান,

মীড়ের আকাশ-তলে । আমরাই গেছি ভুলে গাওয়া ।
সুরহীন আমাদের সেই শুরু অন্ধকার-বাওয়া ।

(c) Picture:ছবি

বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১২

ভাষাহীন


















মার নিজের কোনো ভাষা নেই,
আমি তাই প্রতিদিন তোমার ভাষার খোঁজে
রাতের আলখাল্লা আর দিনের পকেট চুরি করি ৷
চুরি করা পাপ ঠিক,কিন্তু ভাষাচুরি ?
ফুলচুরি চুরি নয় ,ভাষাচুরি তা-ই ৷
আমিও ডাকাত হই, কেননা আমার ভাষা নাই ৷


মাতৃভাষা ?তাকে যদি ভাষা বলে ধরি,
গতকাল রাতে যে হে মণিপুরী ছেলেটির
মন গেছে চুরি ,তার খোঁজে আমার ভাষাকে আমি
অভিযুক্ত না করে পারিনি---কেন ওই চুরি-যাওয়া
মনের ভাবনাস্রোত আমার ভাষার  জানা নাই ?
ভাষা নাই,আমার সত্যিই কোনো ভাষা জানা নাই ৷


কিংবা যে খাসিয়া ছেলে ,নাকে সিকনি, ভুলে গেছে হাসি
কেননা ভিক্ষার  থালা তার তিনদিন রয়েছে উপোসি
আমার ভাষাকে আমি পেরেছি পৌঁছোতে তার নিদ্রাহীন ঘরে?
যে ভাষায় কথা বলে মুসলিম চাষি,আমি তার দুয়ারে দুয়ারে
পেরেছি কি মেঘ হতে ? আমার মায়ের ভাষা প্রতিরাতে
নিজের কাছেই ফিরে আসে,আমার প্রাণের ভাষা
অসমিয়া একটি মেয়ের হাসির কিরণ ভিক্ষা করে ৷
কাব্যের ব্যর্থতা তবে এই ? কবিতায়ও
প্রতাপের ভাষা এসে ঢেকে ফেলে প্রাণের সে সোঁদা ভাষাকেই ?


আমার এ ভাষা তুমি কেড়ে নাও,লিখবো সে অন্তহীন
নৈঃশব্দ্যের এঁটো ভাষাতেই ৷
আমার নিজের কোনো ভাষা নেই, মাতৃভাষা নেই ৷
--- --- ---

রবিবার, ১৩ মে, ২০১২

দেবাশিস তরফদারের নতুন উপন্যাস 'শরাইঘাটঃ একটি প্রেম কাহিনী' প্রকাশ পেল আজ

             "১৯৭৭খ্রীস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসের এক বিকালে একটি তরুণ জালুকবারীর এক জনশূন্য বাসস্ট্যাণ্ডে দাঁড়াইয়া বৃষ্টি দেখিতেছিল"--এভাবেই শুরু হয়েছে দেবাশিস তরফদারের নতুন উপন্যাস 'শরাইঘাটঃ একটি প্রেম কাহিনী' । প্রকাশ করেছে শিলচরের 'আবাহন'। প্রকাশ পেল এই ভাবেই, দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গে তিনটি মূলব্যান সমালোচনা নিবন্ধের মধ্যি দিয়ে, লিখছেনঃ অনিতা দাস ট্যান্ডন, মনোতোষ চক্রবর্তী এবং অমিতাভ দেবচৌধুরী। মূল্যবান এই তিনটি নিবন্ধ এখানে সংরক্ষণ করে, আমরাও শরিক হলাম এই প্রকাশ অনুষ্ঠানের। নিচের ছবিতে দু'বার ক্লিক করুন, তার পর ctrl+ টিপতে থাকুন, বড় হতে থাকবে, আর পড়তে পাবেন।
                                
                                          (বইটি পেতে চাইলে লিখুনঃ আবাহন প্রকাশনী,প্রেমতলা, শিলচর, কাছাড়, আসাম, ৭৮৮০০১;
 দূরভাষঃ ০৩৮৪২-২৩১৮৪৪ / ০৯৭০৬১৬৮৮১১)

শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১১

ইতিহাস











বিতা লেখার আগে ইতিহাস-বই খুলে বসি ।
দেখি তার গলায় ঝোলানো মুণ্ড, মানুষের।
মুখে অট্টহাসি । হাতে রক্ত-ঝরা খড়্গ ধরা ।
লজ্জিত জিহ্বাগ্র বাইরে, যেন শালীনতা।
পায়ের নীচেতে কাটা মানচিত্র , ভাঙা তেল-শিশি ।
ওই মানচিত্র ধরে চলে আসি ভূগোল-বইয়ের কাছাকাছি ।
দেখি তার, কাঁটাতার, চলে-যাওয়া আর অন্য দেশ,
রেল-ঝমাঝম পথে বাউলের অন্তর্যামী গান ।
ওই গান পৃথিবীর কাঁটাতার মানে না হে
ঈশ্বর যে দেশে নেই, ওই গান সে দেশেও যায় ।
কবিতা লেখার আগে গান শুনি, ইতিহাস গানেতে জড়ায় ।

 ~~~~~0000~~~~~

এ কবিতা এখানেও পড়তে পাবেনঃ ইতিহাস:

সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১১

সম্পর্ক



  




  

 
 ম্পর্ক,তা গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ অস্থির নড়ে-ওঠা ।
    তোমার অজ্ঞান নড়াচড়া আহত যখন করে সঙ্গীটির ঘুম,
    তুমি তো তখনও জানো সেই ঘুম-ভাঙানোর দায়
    রাতের বিরক্ত আলো কখনও তোমার ঘাড়ে চাপাতে যাবেনা ।
    না হলে একই খাট দুটি মানুষের ঘুম কীভাবে হে ভাগ করে নেয় ?