“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
সিক্তা বিশ্বাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সিক্তা বিশ্বাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০২৩

সমুদ্র তুমি

 

   


















।। সিক্তা বিশ্বাস ।।


নীল নভতলে গভীর অতলে 
তরঙ্গিত তুমি অতলান্ত অবয়ব, 
কত প্রাণ ও জলজ উদ্ভিদের
সার তব জলজ্যান্ত বাস্তব।
বক্ষে ধরেছ অমূল্য রতনে, 
তিলে তিলে সঞ্চিত পরম যতনে, 
নিত্য নতুন আবিষ্কারী মনে
আলোড়ন অবিরত প্রতি ক্ষণে ক্ষণে... 
নীল গরিমার মহিমা যে অপার, 
পরম সৃষ্টি তুমি সৃষ্টি-কর্তার... 
বিজ্ঞানী মনের আকর্ষিত দৃষ্টি... 
মানব সভ্যতার তুমি সাক্ষ্যআধার। 
নিত্য সূর্য তোমাতে উদিত, 
দিনাবসানে তোমাতেই অস্ত, 
ভাবুক মনের তুমি গভীর ভাবনা
 সাধনায় তুমি শুধু তোমারই তুলনা...

ঝড়োমেঘ
৮ই জুন ২০২৩ইং। 

মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

অদ্ভুত


 ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।

(C)IMAGE:ছবি


 
 
 
 
 
 
 
]
 
 
 
 
 
 
 
বিচিত্র জীবনের 
বিচিত্র স্বাদ! 
খাঁজে খাঁজে লুকোনো
অদ্ভুত ফাঁদ!

সৌভাগ্য, সাথী অদৃশ্য 
কেবল বিমুখী জবাব! 
বুদ্ধি নয়কো লোহা তবু 
ঝংকারে মর্চা রবাব!

বিদেহী মর্যাদাবোধের
আঘাতই অনুভাব! 
মানুষ আবহাওয়া নয়
তবু বদলই  স্বভাব!

ধন্য জীবন! শান্তি খোঁজে, 
অশান্তি মূলত অজ্ঞাত নিজে! 
মাত্রাতিরিক্ত সঞ্চয়ী সচেষ্টা
আনন্দমার্গী উদ্বুদ্ধ! অদ্ভুত তেষ্টা।
  
         **********

শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

সংক্ষেপের সার





 
।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
 

দিনে দিনে কতো যে হয় শিক্ষা । সংক্ষেপই আসল দীক্ষা! সংক্ষেপই ব্যস্ত জীবনের সংরক্ষণ ও সফলতার একমাত্র উপায়। তবে এর নমুনা কুনু কুনু সময় তাজ্জব করে। 
           আজকে পুরানা পাড়ার নিমাইকাকারে নববর্ষের প্রণাম করতে গিয়া আমার সংক্ষেপের বোধোদয় হইছে! কলিংবেল টিফতেই  কাকায় দরজা খুলিয়া আমারে দেখিয়াই গুজা হইয়া মাথা নওয়াইয়া শুভ নববর্ষ,শুভ নববর্ষ কইয়া নমস্কার দেওয়া আরম্ভ করলা, আর ইতা দেখিয়া আমি তানরে  প্রণামের বদলা পাশ কাটাইয়া এক দৌড়ে কাকিমার কাছে গিয়া কইলাম, কাকার কিতা মাথাত দুষ হইছেনি গো! আমারে নইয়া নমস্কার দিরা!!
              কাকিমায় কইলা আইজ তাইন খুব ধাক্কা খাইছইন ! ভাতিজিরে নববর্ষের স্নেহাশীর্বাদ পাঠাইসলা সংক্ষিপ্ত উত্তর দেখিয়া আমারে ডাকিয়া কইন , তারার ব্যস্ততা ও সংক্ষেপে সারার কাছে খালি আমরা নায় আমরার কৃষ্টি-কালচার ও মরিয়া ভুত!!

                           **********

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

কর্তন


 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 সিক্তা বিশ্বাস 


খণ্ডে খণ্ডে বিভাজন
ঐক্যতার হয় কর্তন, 
যৌথ পরিবার খণ্ডিত
অনুতে সে রূপান্তরিত। 

সপরিবারে  হৈ-হুল্লোড়
কচিকাঁচাদের ঝাপ-দৌঁড়, 
মুখরিত আনন্দডোর 
মনোগ্রাহী আড্ডা-বাসর।

অনুতে যে মুষ্টিমেয়
যৌথতে সে অমেয়, 
অনুর ক্ষীণ অনুধ্বনি
অট্টনাদ যৌথ প্রতিধ্বনি। 

অপহৃত সেই ঐতিহ্য
মুখরিত গুঞ্জন মূর্ছিত!
স্বার্থান্বেষী রূঢ় বিদারণ
ভবিষ্য একাকীত্ব আহরণ। 

        *********

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

সেই ট্র্যাডিশন আজও চলছে...

 
 সিক্তা বিশ্বাস
 
(C)IMage:ছবি


সংক্রান্তি নিয়া আমার এক বন্ধুর উচ্ছসিত পোস্টও আরেক বন্ধুর(সুতপা) মন্তব্যে: 'ইতা ফটো দেখিয়া আর কতো খাইতাম 😪' , পড়িয়া আমার অনুসন্ধানী মনটা সেই উৎসত পৌঁছি গেল যার উফরে এই প্রচলিত প্রবাদ, 'What Bengal thinks today India thinks it tomorrow.' যদিও ইখানো ভারত উল্লেখিত তবে আইজ বিশ্বব্যাপী এই প্রবাদ প্রযোজ্য! আজকের এই ডিজিটাল যুগও সবই কেবল দর্শনানন্দ! আগে মস্করা মারিয়া কওয়া হইতো , এরা ওতো কিপ্টা যে কইতে গেলে মাছের ছবি দেখিয়াই ভাত খাইলাইন! তবে ব্যবহার হইতো মস্করা হিসাবে! আর ওখন তো সব উচ্চ মার্গের! ছবি দেখিয়াই  ঘন্টার পর ঘন্টা চলে আনন্দ আসরের উপভোগ ও আড্ডা! সুতপার মতো প্রশ্নের উদয় প্রায় প্রত্যেকেরই হয় তবে ইটারে প্রতিষেধক হজমির মতো গিলা হয় একই ফায়দা মনও করিয়া: যাই হউক খাইয়া ওজনতো বাড়তো নায়! এই হেল্থ কনশাসনেসই আমারার 'উত্তরণ' ! অন্যজাতির কথা জানি না তবে বাঙালির এই কৃতিত্বের অধিকারী আমার মনও হয় একমাত্র সেই গোপাল ভাড় যেইন তৎকালীন দিনও দৃষ্টি-আগুন আর দৃষ্টিভোগের পরিচয় কৃষ্ণচন্দ্র রাজারে করাইছলা।হেডস অফ টু হিম। যখন তাইন রাজারে দুপুরে খাওয়ার নিমন্ত্রণ করছিলা, তখন রাজা ও তান মন্ত্রীবর্গের সন্দেহ আছিল কিপ্টা গোপালের আতিথেয়তা সম্বন্ধে! প্রায় সন্ধ্যায় খুধায় যখন রাজার পেট জ্বলের তখন রাজারে দূরের দাবাগ্নি দেখাইয়া গোপালে সান্ত্বনা দিছলা, ঐ দেখইন মহারাজ চুলার আগুন জ্বলের, ওখনো রান্না শেষ হইছে না! সাহিত্যিক এস ওয়াজেদ আলির উক্তি অনুযায়ী আমরাও আইজ ছবি দর্শন করাইয়া আতিথেয়তার সেই ট্র্যাডিশন বজায় রাখিয়া চলিয়ার ! এবং ক্রমশঃ উত্তরণও আগুয়ান!

                    **************

শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

অধরা














 
।। সিক্তা বিশ্বাস ।। 
 

ঠিকানাটা একই ছিল বসতবাড়ি সুখের, 
ছাইয়ের গাদায় বিড়াল-সুখ আশাটুকু বুকের... 
আশার তোড়ে উনুন খোঁজা কখন হবে ফাঁকা
সুখসাগরে ডুবসাঁতারের আড়ি পেতে থাকা!
মনপাখিটার খেয়াল শুধু উড়ান ভরার সাধ... 
আকাশগঙ্গা পাড়ি দিয়ে আনবে সুখের চাঁদ...
চাঁদের খোঁজে মনঘুড়িটা আলোর বেগে ছুটে
মেঘের সাথে সংঘর্ষে তার স্বপ্ন খানি টুটে!
ঘূর্ণিঝড়ের কোপে পড়ে বৃন্তচ্যুত ফল! 
নিমখুন সে যে চাপে পড়ে ভগ্ন মনোবল!
মেঘ বোঝালো, এ যে সাগর ছাঁকা মুক্তো ঝিনুক, 
চায় কেবল সুখী মানুষই সুখকে চিনুক! 
মরীচিকা! আশায় ভরা নিশি ভোর,
অহেতুক মিথ্যে আশার ইঁদুর-দৌড়! 
এ যে মনে ধরা সলমাজরির পোষাক, 
ভালো সেই শোকেসেই সাজানো থাক!
বেমানান ছাপরা ঘরে নবরতন হার!
এ শুধুই দিবাস্বপ্নের নজির সার!

             **********

বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

মলিন মুজরা


 



 
 
 
 
 
 
 
 
।। সিক্তা বিশ্বাস ।।


অন্ধ গলির জলসাঘর
মাদক নেশায় নিশি ভোর, 
ব্যতিক্রমী মায়াডোর
কত মঞ্জিমার আর্তস্বর!

দিনের আলোয় ভুল গলি
চাঁদের আলোয় ঝলমলি... 
গোলাপ আতর জুঁই বেলি
ইন্দ্রজালে ফুলকলি!

অযাচিত যত অচেনা সোহাগ
অসহ্য  কত আঁচড়ের দাগ! 
বেরঙিন কত সোহাগী ফাগ
অশ্রুত যত অভিসারী রাগ!

অপহৃত কত মৌন যৌবন
কত অভাগীর বাধ্য-সমর্পণ! 
সলিল সমাধি সাধ ও স্বপন
অবলুপ্ত ক্রমে কত মুঞ্জরণ! 
 
               ***********

মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

ভোল


(C) Image:ছবি
 
  



'সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।'
সুতরাং পুরুষ তুমি থাকো সিংহাসনে!
আমার 'আমি' ছেড়ে দিলে সংসারে সুখ নিশ্চিত! 
তাই বলে কি সেল্ফ ক্যায়ারে লাপাত্তা হওয়া উচিত!?
ইচ্ছেমত সেল্ফ ক্যায়ার, নারী পারেনি করতে শেয়ার! 
যৎসামান্য প্রকাশ পেলেই 
নিন্দের ঝাঁপি চিরকালেই!
রীতির জন্যে মানুষ যে নয়, 
মানুষের জন্যেই রীতি হয়! 
তবে কেন দায় চাপানো!? 
বিপরীতে কেবল চোখ রাঙানো!
বাঁধ ভেঙে নারী যখন দাঁড়িয়ে সমান্তরালে
বাধ্য হয়েই কানাঘুষা আড়ালে আবডালে!
লোক দেখানো ভাওতাবাজি! 
নারী জাগরণে পূর্ণোদ্যমে রাজি! 
বিবাহ বিচ্ছেদের হার আঙুল দেখায়! 
এ ও পিঠ-পিঠেতে চাকুবাজি! 
ভোল পাল্টানো সমাজের এই তো কারসাজি!

                   *************
 

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

হেঁয়ালি



।। সিক্তা বিশ্বাস ।।


হেঁয়ালি
=========


মন বিহঙ্গের কত রূপ... 
খেয়াল-খুশিতে অসীম অরূপ... 
অবাধ গতি যেন উড়োজাহাজ
বাহারি সাজে কেবল খুশির মেজাজ...

কখনও সে যে শিশু প্রায়
খোলা মাঠে কেবলই দৌড়ায়...
কৈশোরের ছোঁয়া লাগলে তায়
উড়ন্ত দ্বিজ রঙিন নেশায়...

যৌবনের ছটায় ভরা নেশা... 
পলে পলে সে যে স্বপ্ন দেখায়... 
দু'চোখ ভরা শুধু স্বপ্ন আশার... 
স্বপ্ন সাকারে পিপাসা ছোটার...

ছোটার নেশা মেজাজে মেশা
ফাঁকে ফাঁকে কেবল হিসেব কষা! 
ছুটতে ছুটতে অসার ক্লান্ত
প্রতিটি পদে শুধুই ভ্রান্ত!
          *********

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

অপত্য স্নেহ


  ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
     

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
ডিগবাজি খায় ঐ যে পাগল
বারবার করে চোখটি গোল! 
কোন খেয়ালে সাত সকালে
কেইবা আছে তা জানার তালে! 
হাসছে সবাই! বাড়ছে ভীড়! 
তবু নিশানা চ্যুত নয়কো তীর! 
পাচ্ছে ব্যথা! হানছে আঘাত! 
তবুও তদন্ত নেই দৃকপাত! 

হঠাৎ ওঠে ডুকরে কেঁদে... 
কি ভীষণ খাঁজ এই বাড়ির ছাদে! 
কাল বাছাটি গেছে যে পড়ে! 
চোখ বেয়ে জল ঝরেছে ধারে... 
ধারায় রক্ত পড়েছে ঝরে...
না জানি কি ব্যথা পেয়েছে সজোরে! 
যদিও শান্ত করেছি বহু কষ্ট করে
তবু পারিনি সারাতে তাঁর ব্যথাটারে! 
আমি তাঁর এ কেমন বাপ! 
পারিনি করতে তাঁর ব্যথার মাপ! 
পারিনি ঘুমোতে অশান্তির তোড়ে
তাই তদন্ত আজ বারেবারে। 
হে বিধি, রেখো আমার বাছারে  আদরে
কোনো বিপদে যেন না পায় তাঁরে, 
 পাগল বলে সবাই তুচ্ছ করে!
কেউ বোঝেনা বাপ যে আমি,
আমি ভুলি তা কেমন করে!!

*************************

দেখা যায় কত বিচিত্র অভিযান, 
কেইবা দেয় তার যথাযথ মান!
সমাজের এ কি পরিমাপ! 
পাগল কি আর হয় কা'রো বাপ!? 
আমরা সবাই ভবের ভবী! 
পাগল সে যে খাচ্ছে খাবি!
কে মাপে তাঁর ভাবের তাপ!? 
ভবের বিচারে এ এক বিষম চাপ! 

            *************

সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

বুমারেং

 রম্য-কাব্য) 
--------------------------
  
                ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
       
(C) Image




















মস্তানরা আজ বেশিরভাগই মেনি বিড়াল!! 
নেইকো সেই দাপুটে হুংকার! 
এক কথায় মুখে ছিপি আটকাবে
নেই সেই তেজী ধনুকের টংকার!

পাড়ার রুটির দোকানের  আড্ডার আসর
রকমারি সে যে বিচিত্র বাসর! 
নানান রঙিন মেজাজী চিত্র 
নিত্যনতুন যোগায় ঘটনা বিচিত্র!
কখনো কখনো কিছু মেজাজী খেয়াল 
দর্শায় যেন শানানো ঢাল-তরোয়াল!
যেমন দোকানে খদ্দেরের লাইন! 
তেমনি দোকানীর মেজাজ ও বুলি ফাইন! 
যতই হোক না চেনা জানা 
নিয়ম ভাঙায় তাঁর ঘোর মানা! 
বাইক হাঁকিয়ে কাল এক বাবুমশাই 
দেখাচ্ছিলেন মস্তানী যেন দোকানীর হবু জামাই! 
এমন ছিল তার হম্বিতম্বি ও হাঁকডাক! 
যেন সারা না দিলে দোকান হবে এক্ষুনি ফাঁক!! 
মেজাজী দোকানীর নেইকো হেল-দোল! 
উল্টে ঝাঁঝিয়ে উঠলো বাজিয়ে ঢোল!!
একবার, দু'বার লক্ষ্য রেখে
তিনবারেতে উঠলো দাপুটে হেঁকে! 
মস্তানী ছেড়ে সোজা লাইনে দাঁড়ান ! 
ভদ্র বেশী খদ্দেরের হাতটি বাড়ান! 
সত্যিই যদি হিম্মতওয়ালা মস্তান হতেন, 
তো বাড়িতেই বউকে দিয়ে রুটি বানিয়ে নিতেন!!

                   *************

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

রূপান্তর

 
          ।।   সিক্তা বিশ্বাস  ।।


           
(C)Image:ছবি





















গতির পরিণাম রূপান্তর! 
এ যে গবেষণায় পরিলক্ষিত
লয়ে ক্ষয়ে কাল থেকে কালান্তর!
কেটে যায় গতিবেগে অলক্ষ্যে 
অগণিত কত বসন্ত! কত কাল! 
কত সবুজ বাহু রূপান্তরিত
পাকাপোক্ত হলদে মাখা
কেমন কটকটে রুক্ষ নিরস ডাল! 
সমষ্টি সংখ্যায় কত ঋতুর সমন্বয় কাল! 
তাড়িয়ে তাড়িয়ে হয় ঈপ্সিত
কত টক ঝাল মিষ্টি চাখা! 
নীল আকাশে হলুদ পাখির 
পাখনা মেলা! আবেগ মেশা
ইচ্ছে ডানার ঝাপটা খেলা!!
কুলুকুলু ঝর্ণার আছড়ানো স্রোতে
সময়ের আবেগে ভেসে যাওয়া....
তৃপ্তির পুণ্য সঙ্গমে নাওয়া... 
এও যে অভিসার তীর্থে যাওয়া....
আকাঙ্খিত প্রেম যে যতনে সামলে রাখা
ঝিনুকের বুকের আহ্লাদি মুক্তো, 
আশা, আহ্লাদ ও স্বপন যুক্ত...
স্বপ্ন পূরণেই কালের দাপটের 
নিত্য মারমুখী আকন্ঠ গরল বিষ পান! 
হলাহলের ফলাফলে কখনও বা হৃদয় নাম্নী 
ভঙ্গুর পেলব আরশি রূপান্তরিত
মুকুর-চূর্ণ ঝনঝনানি খানখান!
সুখ-স্বপ্ন সাধনের একি বিচিত্র রূপান্তর! 
শত ধারায় প্রবাহিত অমোঘ এ রূপান্তর যুগ যুগান্তর!!!

        *************

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০

সব ভুল কি সমতুল!

 
 ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।


 
















ভুলেই তো গেছি প্রায়! ম্রিয়মান স্মৃতিপট দর্শায়! 
সে কবে কোন যুগে ছিল, হুজুগেপানা  হৃদয় বিনিময়! 
কেমন আবছা মনে পড়ে-----
অফিসের সময়টা সুন্দর এডজাস্ট করতে
ঠিক আমার কলেজের সময় ধরে!
অবাক হয়ে ভাবতাম , 
ভালোবাসা কতো কি শেখায়! 
যত্ন করে সব খবর রাখা....
ক'টায় ক্লাস... ক'টায় কলেজ যাওয়া... ক'টায় আবার ফেরা...
তখনতো স্বপ্নেও ভাবিনি এও ভুলে যাবো!

ভুলেই তো গেছি সব! 
সেই একসাথে নাটক, সিনেমা দেখার পালা! 
ক'দিন আগে থেকেই কবে যাবো! 
কবে যাবো! জল্পনাতে কান  ঝালাপালা!
কতো না বলা কথা চোখাচোখিতে বলা...
এইতো প্রেমের আসল শিল্পকলা.... 
দূর থেকে দেখে এক ঝলকেই  কেমন বুক ধড়ফড়.... 
যেন দু'জনে দু'জনকে অহরহ বলছে , 
চিনি ওগো চিনি...জানি ওগো জানি... মানি ওগো মানি...
এত্তো সবও ভুলেই গেছি ! 
কালের দাপটে! সজোরে চাপটে ! 
দু'টি পথ দু'টি দিকে গেছে বেঁকে! 
কেমন না ভাবা বিরহের ছবি এঁকে!
সত্যি! এত্তো বছরে একবারওতো পড়েনি মনে ! 
কোথা ছিল সেদিনের সেই সে টান! সেই আকর্ষণ! 
একে অন্যের অন্তপ্রাণ! প্রাণের দোসর !
সময়ের সাথে জীবন ও কর্তব্যের দাবিতে 
সব ছিল কেমন তলিয়ে যাওয়া অঘটা! বিস্মৃত!
আজ হঠাৎ কোনও এক বন্ধুর পাতায় 
অজান্তে চোখ পড়ে যায় তোমার লেখায়! 
ছোট্ট একটি মন্তব্য! কি তার ইন্দ্রজাল! 
ম্যাজিকের মতো সুস্পষ্ট হয়ে যায় বিস্মৃত স্মৃতিপট! 
কেমন দিন ক্ষণ সহ মনে পড়ে যায় স---ব চটপট!
ফিরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে সেই মুছে যাওয়া দিনগুলোতে.... 
ইচ্ছে করছে জুড়ে দিতে সেই ছিঁড়ে যাওয়া দোতারার তারগুলো....
যদি আবার বেজে ওঠে..... 
ছেয়ে যায় সুরে সুরে ...... 
ঠেলে দেয় বাস্তবের সব বেড়াজাল!
কই এবারে তো ভুলতে ইচ্ছে হচ্ছে না! 
সযতনে পুষে রাখতে ইচ্ছে হচ্ছে অন্তরের মণিকোঠায়...
ভাবছি শুধু কি করে সব ভুলেই ছিলাম! 
একি ভোলা যায়! নাকি নতুন স্বাদের খেলার নেশায় ,
 কিংবা বাঁচার তাগিদে অথবা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টায়!!
                    *****************

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

বাংলা কবিতা:--উনিশ, তুমি রবে অবিস্মৃত!






















 

।। সিক্তা বিশ্বাস ।।

১৯শে মে আমার ভাষা দিবস 
উনিশ আমার জ্বলন্ত শ্বাস! 
উনিশ আমার ঘুম কেড়ে নেওয়া
উনিশ যে শহীদের রক্তে বওয়া!

রাখতে মাতৃভাষার মান
এগারো শহীদের প্রাণের দান! 
অক্ষয় হলো বাংলা ভাষা---
বাংলায় বলা আর বাংলায় হাসা।

কতো বছর গেল পেড়িয়ে 
আজও দিনটি জ্বলন্ত স্মৃতি! 
ভুলিনি! ভুলবো না! এই প্রাণাঞ্জলি
যতই ঘটুক দিন-বছরের বিস্মৃতি!

বাঙালির হৃদয়ে চির অধিষ্ঠিত
বাংলাভাষা যে বাঙালীর সুধামৃত.... 
ভাষাই জাতির মুখ্য পরিচিতি! 
উনিশ, তাই তুমি রবে চির অবিস্মৃত!!

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

মন-কষাকষি


 ।। সিক্তা বিশ্বাস  ।।







এক অদ্ভুত অবস্থার মধ্য দিয়া আমরা যাইরাম।জীবন যেন নিত্য সংঘর্ষ! খালি শিক্ষা কেমনে খাফ খাওয়ানি! ঐ দেখইন  ইতা ফুরাইগেছে, তে ইটা বাদ দিয়াই যা করার করইন , ইটা নষ্ট তে হয় বাদ নায় ম্যানেজ করা। গত কাইল রান্ধাত লাগিয়া দেখি মিক্সিয়ে কাম করের না! একবার ভাবলাম শিল-পুতা লই, তবে এতে যেমন খাটনি তেমন সময় সাপেক্ষ! গেলাম লাগা ঘরও, কইলাম, তেউ তাইন  কইলা, করইন তবে আমার ঘরই করইন, যার যার জিনিস যার যার বাড়িত ব্যবয়ারই ভালা। আপত্তির প্রশ্নই উঠে না। কইলাম ঠিক! ঠিক। যাইহউক ব্যবস্থা একখান অইল। আইজ সকালে আমি যখন কাম লইয়া নাকানি চুবানি খাইরাম, তখন কলিং বেল! খুলিয়া দেখি পাশের বাড়ির তাইন। কইলাম ওতো সকালে! ব্যপার কিতা, আইন ঘরও। তাইন মাতইনও আস্তে আর আমি চতুর্দিকের আওয়াজে তান কথাই শুনছি না! শুরুর 'আমার ঘরের'------ আর শেষের দুই শব্দ--- 'যদি দেইন', খালি শুনিয়া, ভাবলাম, গত কাইল আমারে মিক্সি  লইয়া ওতো লেকচার দিলায় আর নিজের বেলা বুঝি সব উল্টি  গেল! কইলাম নিশ্চয়ই! তবে আফনার কথাই যুক্তিপূর্ণ, নষ্ট হইলে যার যার নিজের বাড়িত অয়াই ভালা! আমার ইখানোই  ব্যবয়ার করইন। তান থমথমা মুখ লইয়া ফিরিয়া যাওয়ার উদ্যোগে আমার খটকা লাগলো! আমি তো কিচ্ছু না শুনিয়াই উত্তর দিলাম!! শুনি চাইন আবার মাজরাটা! কইলাম কিতা হইলো গো!? আমি কিচ্ছু ভুল শুনলাম নি!! তাইন ঘুতঘুতাইয়া চড়া গলায় কইলা, 'না আফনার ঝাড়ুখান নিতে আইছলাম!!' কইয়া কইয়া বাড়িমুখা হইলা! আমি তো থ!!!!!

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০

আকিঞ্চন



     
   


















   ************
 
।। সিক্তা বিশ্বাস ।।

এই দুনিয়ার প্রেম বাহার 
কারো পূজা কারো আহার! 
লোভাতুর মন লোভে খুঁজে
নির্লোভী রয় নিশ্চুপ মুখবুজে!

সার্থান্বেষী দুনিয়া কারও ধার ধারে না! 
আপন ভাব ছুঁড়ে দেয় মনোবিচার করে না!
ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ভিন্ন ভিন্ন সত্ত্বা
অবলীলায় হয় ভাবের নিত্যদিন হত্যা!

আমরণ জীবের কাঙ্ক্ষিত প্রেমাধার
শ্রীচৈতন্য বিলিয়েছেন সংকীর্তন ভাব বাহার.....
নির্লিপ্ত সে জন উদিত যার ভাব বোধ 
কামাতুর ব্যভিচারী সেই বোধে নির্বোধ!

প্রেমসুন্দর মনের ঈপ্সিত আচরণ
বিশ্বব্যাপী প্রসারিত যদি হয় বিতরণ
প্রেমাংশু লুটে নেয় ঈপ্সিত প্রেমাঞ্জন 
প্রেমময় বিশ্বের এইতো আকিঞ্চন....

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

শুভ নববর্ষ


       















।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
কালচক্রের আবর্তমান অবয়ব
প্রতিরোধ কদাচ নয় সম্ভব! 
গতিরাগের আবর্তনছটা মূল বিষয়, 
প্রচলিত একের লয়ে পরের উদয়... 
তাই বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ
প্রচলিত ক্রম আবর্তমান উদাহরণ!!
অসম্ভব আন্তরিকভাবে আজ উৎযাপন! 
তবু মনে প্রাণে করি বরণ... 
শুভেচ্ছা শুধু---
বিশ্বব্যাপী শুভ হোক নববর্ষ... 
আনন্দোজ্জ্বল,প্রাণবন্ত নিত্য মুখরিত হর্ষ...
বিশ্ব শান্তি হোক বজায়
সিক্ত হোক বিশ্ব আনন্দধারায়....

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০

তাই পৃথিবী কাব্যিক!














।। সিক্তা বিশ্বাস ।।

আমি উদ্ভ্রান্ত পথিক! 
কালের তালে হারিয়েছি দিক! 
কোথায় গন্তব্য !? কিসের ছুট! 
কেবল বন্ বন্ ঘুরা !
কোন পথ  যে সঠিক! 
এ যেন গোল্লাছুট! তবু পৃথিবী কাব্যিক!

পেটের দায়! কি বিষম হায়! 
আমদানি চারআনা খরচা বারোআনা ! 
তারই জোগাড় রোজনামচা সবার!
তার ওপর টক্কর!? শতকরার  চক্কর!
গ্লোবাল ইকোনোমি যাচাই করছে সব আমি-তুমি!
 টিনের বাক্সে ঠাসাঠাসি ষোলআনা! তবু পৃথিবী কাব্যিক! 

হাল ফ্যাশনের চাল, সব্বাইকে খুশি রাখাই ঢাল! 
আজ দেখছি বিত্তকাকার পায়াভারী, দাও আমমোক্তারি ! 
কাল দেখবো দাদারও দাদা টম, ডিক ও হ্যারি!
মন্ত্রী,আমলার ঘুটি-চক্রব্যূহে বেষ্টিত! লাচার!
পেটে গামছা জনতার! নাভি-শ্বাসের দৌড়!
শুধুই নাকে দড়ি! তবু পৃথিবী কাব্যিক!

জীবন যদিও গদ্য, অলংকার তার পদ্য ... 
শত ব্যস্ততায়ও কবিতার শোভিতা...বেঁচে থাকার চেষ্টা, অকৃপণ তেষ্টা! 
প্রেম প্রীতি বাকি সকল অনুভূতি ধাবমান,
 তবু কাল ফুরলেই স্থবির!বেজান!
কেবল সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট, 
কবিতা তুমি জীবনীশক্তি দ্য বেস্ট! তাই পৃথিবী কাব্যিক...
                   **********

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০

শ্রেষ্ঠ উপহার




 

















।। সিক্তা বিশ্বাস ।।

অগ্রগতির চূড়ায় বসে 
সভ্যতা আজ নাগপাশে! 
তারই মাঝে উল্লাস আছে সহবাসে! 

এ যে কালের করাল গ্রাস
উশৃঙ্খলতার চূড়ান্ত সন্ত্রাস! 
 অগ্রগতির হানে সর্বনাশ!

উজ্জ্বল দিবস যেন তমসা যামিনী! 
অহর্নিশ হানে শুধু সংকেতে অশনি
ফলেন পরিণত এ মলিন অবনী!

আর কতো অলস কাল যাপন! 
অসার স্বেচ্ছাবন্দী গৃহে আপন
নিজ গুণে সভ্যতারে করো সংরক্ষণ। 

মহা জ্ঞানী মহা জন 
যুগে যুগে আবিষ্কারি মন
কতো মার্গ করালো দর্শন। 

বিবেচিত যত মত তত পথ! 
উজ্জীবিত করো জীবন শ্লথ
আবিষ্কারে প্রশমিত করো সব ক্ষত!

বোধি মানবের মেধার সদ্ব্যবহার 
নিদর্শন হোক সহস্র প্রভার!! 
সভ্যতারে হোক অকালের এই শ্রেষ্ঠ উপহার।
      

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০

নবোদয়


।। সিক্তা বিশ্বাস ।।


















কালস্রোতে অসহায় লাচার
আধেক ভাসা! আধেক  ডোবার! 
তবে কি জীবন তলানিতে ঠেকে !!!
কেমন যেন আবছা পারাবার!! 

আজ অস্ত্র বিহীন লড়াই সবার! 
অনুজীবের কাহিনী যে এবার! 
জীব নয়! জীবের হাতেই সৃষ্টি যার 
এ কেমন উদ্দাম তাণ্ডব তার!

স্পর্শকোপের ঝঞ্ঝা সমাহার
সংশ্লিষ্টতাই ঝটিকা বাহার! 
সঙ্ঘবদ্ধতার আজ সংহার 
এ কেমন দশা মানব সভ্যতার!

মহাকাব্য যদি সত্যি কয়
মহাভারত তবে সাক্ষী রয়
সংহারেতেই নব্য সৃষ্টি হয়
নব-সভ্যতার আবার হবে উদয়...
           ***********