Sponsor

.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

Tuesday, February 21, 2017

মাতৃ ভাষা দিবসে

।।পার্থ প্রতিম আচার্য।।




প্লাতিনাস সেই কবে বলেছিলেন সৃষ্টির প্রাণশক্তি হল শব্দ (তার ভাষায় লোগস)। কিন্তু তিনি ভ্রান্ত ছিলেন । মানুষ ,মানুষ হয়েই কথা বলতে শেখেনি। হাইডেলবার্গ মানুষরা খাদ্যের সন্ধানে বেরুলে পশুর মতই চিৎকার করতো । সে ভাষা সাংকেতিক। শিকার না আসা পর্যন্ত ভাষার উৎপত্তি হয় নি । প্রয়োজনই আবিষ্কারের জননী- এই কথা মাথায় রাখলে বুঝতে অসুবিধা হয়না, ভাষাও প্রয়োজনেই তৈরি হয়েছে মাত্র। যখন শিকারের প্রয়োজনে যৌথ সমাজের উৎপত্তি হোল ,দরকার হোল মানসিক বক্তব্য আদান প্রদানের তা আগের চেয়ে অনেক বেশি । হাত - পা নাড়া , শারীরিক ভাষায় টান পড়লো এইসব ক্রমশ বাতিল হতে লাগলো । অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত হোল উচ্চারণ এ আমার কথা নয় নৃতত্ত্ববিদদের কথা । শব্দ উচ্চারণে প্রতিটি গোষ্ঠীর ছিল আলাদা আলাদা পদ্ধতি ঠোঁটের , জিহ্বার মাংস পেশীর পৃথক ব্যবহার একাধিক গোষ্ঠীরা যখন মিশে গিয়ে বড় বড় গোষ্ঠী হোল ভাষারও মিশ্রণ হোল । একের থেকে অন্যের দেয়া নেয়া আর কি । এখনও দেখুন আমরা শারীরিক ভাষা ভুলতে পারিনি কথা বলার সময় শরীরও কথা বলে । এভাবেই বিকশিত হয়েছে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভাষার ।
আজ মাতৃভাষা দিবসে নিজের ভাষায় কথা বলা নিয়ে আমরা মুখর। এমন একদিন আসবে যেদিন পৃথিবীর সব মানুষের মিথস্ক্রিয়ায় সব ভাষা থেকে এক ভাষায় কথা বলবে মানুষ । সেদিন অবশ্য খুব কাছেই সেটা বলা যায় না- কারণ আজও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বেড়াজালে আবদ্ধ মানুষ । ততো দিন চলুক না নিজ ভাষা নিয়ে অহংকার। এতো যুগ-ধর্ম মাত্র । যখন নিজ দেশ থেকে, “পৃথিবী আমারএই চিন্তায় উত্তীর্ণ হবে মানুষ তখনই কেবল সম্ভব এক ভাষার উদ্ভবের- যে ভাষা হবে সম্পূর্ণ মানব সমাজের।
তবে তার পূর্বশর্তও রয়েছে । কোন ভাষাকে রাজানুকূল্যে দেয়া আর কোন ভাষাকে ভিখিরি করে রাখা দিয়ে তো ভাষার বিকাশ হতে পারে না- যাতে শ্রেষ্ঠ ভাষাটি উঠে আসে সকলের গ্রহণযোগ্য রূপে ।
অর্থনীতিটা বড় বেড়ে জিনিষ , সব কথায় এসেই যায় ।অর্থনৈতিক প্রাধান্যের উপজাত হিসেবে কোন ভাষা প্রাধান্য পেয়ে যায় ।সকল ভাষাকে সমান সুযোগ (কোন ভাষাকে বিশেষ সুযোগ না দিয়ে ) দিলে মানুষই বেছে নেবে মানবজাতির একক ভাষা- সে পথেই একদিন উচ্চারিত হবে একই ভাষা, সারা পৃথিবীতে । এ মোটেই ইউটোপিয়া নয়, এ বিজ্ঞান । সমাজ বিজ্ঞানের গতিপথ চর্চা করলে এ সিদ্ধান্তে আপনাকে আসতেই হবে ।
সে সুদূর দিন আসার আগে, শাসকের বেছে নেয়া ভাষার রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য আধিপত্য বাদের বিরুদ্ধে কথা বলুন যোগ্য ভাষা আপনাতেই পথ করে নেবে- মানুষের অভিব্যক্তি প্রকাশের সেরা মাধ্যম হিসেবে।

২১/২/২০১৭


বর্ণমালার জোছনা

।। অশোকানন্দ রায়বর্ধন।।
(C)Image:ছবি








মাঝরাতে গাঁয়ের গভীরে কীর্তনের আওয়াজ ভেসে উঠলে শিথিল শরীরে শিহরণ ওঠে । সমস্ত লৌকিক যন্ত্র জড়ো হয় এক  উঠোনে । তাদের শরীর কথা কয় সুরেলা ভাষায় । সেখানেও তোমার মকরন্দ ঘ্রাণ । এক একটা ধ্বনি এক একটা ভাষার নিক্বণ । সে ভাষা ক্লান্ত গ্রামরমণীর । ও বর্ণমালা ! সে ভাষা পরিশ্রমী প্লাবনকথা । তোমার নিত্যদিনের দারিদ্র্যপাঁচালি । সৃজনরক্তের আদ্যঘ্রাণ সে ভাষায় বেঁচে ওঠে । বৃষ্টিমাখা হলুদ নদী যুবতী হয় । তার উথলানো ভাষায় বেঁচে ওঠে নারী ও নৌকো । জোছনার ডিঙায় শরীর বিছিয়ে দিয়ে নদীও মানুষী । তার তরল শরীরের নগ্নতায় চলমান জীবনের ফর্দ খুলে যায় । অন্তরের সঞ্চয়মধু কলরব করে ওঠে । আহা ! এক একটা বর্ণ । রৌদ্রের লালনগন্ধে বাতাসের গহনা তার গায় । ওরা মেতে ওঠে হজাগিরি দোদুলে । লোকায়ত নাচের মুদ্রায় চন্দ্রকোটর থেকে দৈব উঁকি দেয় কবিতাকরোটি । চলমান পানশালা মুখর ও মুখরা

Monday, February 20, 2017

একুশে ফেব্রুয়ারি


।। চিরশ্রী দেবনাথ ।।
(C)Image:ছবি















ভাষার কাছে আসি উপযাচকের মতো, 
ভালোবাসার কাছে যেমন মানুষ যায়। 
ভাষা সেই রুদ্র রোদ, কাল বৈশাখী, ঘাসফড়িঙের শখ,
আকাশের নক্ষত্র নিভে যাওয়া ভোরের মতো অভিমান
তার কাছে আমার অঙ্গ, অঙ্ক, রোমের শিহরণ সূক্ষ্মতায় বাঁধা
এই শহরসময়েও পাখিরা ঘরে ফেরে রোজ,
ঝাঁকবাঁধা মনোমালিন্যের মতো। 
কোটরে ঝমঝম করে অগরু গন্ধ অমলিন, 
পাখির ভাষায় শষ্যের আদানপ্রদান, চঞ্চুতে মায়াবী সন্ধ্যা
নিবিড় পাহাড়ি গ্রামে অস্পষ্ট লন্ঠনে তখন জ্বলে ওঠে
শিশুর প্রথম পাঠ, সাতটি তারার কোলাহল
থাকো তুমি ভিনদেশী ভাষা জঠরের উদ্বাস্তু যাপনে 
 ক্ষিদে পেলে, আকন্ঠ শিশির জমে ওঠে গলায়
 প্রান্তরে  আমার ভাষায়, সোনালী ভাত,  লাল সূর্য
ঢেকে দিয়ে যায় আমাকে, ক্ষুধায়, প্রেমে, আদরে, অক্ষরের অভিমানে । 

Sunday, February 19, 2017

প্রতিযোগী


 ।। শিবানী দে ।।
(C)Image:ছবি


















ফোনের ওপার থেকে যে কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
তাকে পরিচিত মনে হল না  
কিন্তু সে আমার নাম ধরে ডেকে অনেক কথা বলে যাচ্ছিল
তখন বুঝতে পারলাম, সে বহুবছরের অদেখা আমার ছোটবেলার বন্ধু, কিন্তু
তার এই মাঝবয়সী ভারি গলা  আমি চিনি না
সেও কি দ্বিধান্বিত ছিল ? বোঝা গেল না ।
সে যখন সেই সময়ের কিছু কিছু ঘটনার উল্লেখ করছিল,
আমার কাছে তা তেমন স্মরণীয় ছিল না ।
আবার আমি যখন কিছু কিছু স্মৃতি তুলে আনলাম,
তার কাছে সেগুলো ছিল গুরুত্বহীন, প্রায় ভুলে যাওয়া
আমাদের যৌথ স্মৃতির পাতা, মাঝখান দিয়ে ছিঁড়ে গেছে, জুড়ে  সম্পূর্ণ হলনা ।
যাক সেসব কথা’, সে বলল, ‘এখন তোর জীবন কীরকম, বর বাচ্চারা কী করছে ?’
আমি উত্তর দিলে সেও তার বর ছেলেমেয়ের কথা বলতে থাকল ।
বরের পাশে বর, ছেলের সঙ্গে ছেলে, মেয়ের সঙ্গে মেয়ের তুলনামূলক বিচার।
তার গলা বেশ খুশি খুশি, তৃপ্ত মনে হল,
জীবনে সে অর্থ প্রতিপত্তি সফলতা  কিছু বেশি পেয়েছে 
তারপর সে আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইল ।
আমার মনে হল, দেখা করতে সে নিয়ে আসবে জেতার পরিতৃপ্তি,
চোখে চোখ রেখে মেপে নেবার দৃষ্টি,
আমার মুখে কোথাও এককণা লুকোনো হতাশার  সন্ধান
আমি আমার প্রতিযোগীর সঙ্গে মিলতে চাইলাম না ।
শুধু যে বন্ধু হারিয়ে গেছে, তার সঙ্গে কাটানো দিনের কথা ভেবে
দুফোঁটা চোখের জল উষ্ণ শ্বাসে শুকিয়ে গেল ।



রূপনগর সংবাদ --- ৩২
















।। মধুমিতা নাথ।।
(ত্রিপুরার রাজন্য আমলের কবি অনঙ্গ মোহিনী দেবীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য)

লিন্দ আর নিলয়ের মাঝখানে
বহমান ঝিরঝির ছোট নদী
কিছু রূপ চুপ কথা
রোজ লজ্জাবতী ফুল হয়ে ফোটে
কূজন-মুখরিত উপত্যকা ঢাল গড়িয়ে
বনছায়া কাঁপে তিরতির।
অদৃশ্য হাতছানিতে
পেলব দিনগুলোর অবাক জলপান।
সেদিন শ্রাবণ ঢল ,
যৌবনা স্রোতস্বিনী উথাল পাথাল
নীলাভ অভিযানে বেসামাল বেসামাল
আপন কস্তুরী গন্ধে হরিণী মাতাল।
স্বপ্ন-সেতু-বন্ধন শেষে হেমন্ত নামে , ফসল শূন্য মাঠে অবারিত অপেক্ষা
একবিন্দু সুধা সিঞ্চন আকুলতা
ঝিম-ধরা সময়ে
পুড়ে পুড়ে খাক হয় কিছু জ্বলন্ত দুপুর।।
-------------//--------

আরো পড়তে পারেন

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...