“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮

এক দুই তিন : মতিলাল দে ।

 ।। সেলিম মুস্তাফা ।।

 

ত্রিপুরার নাটকের ইতিহাসে একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য নাম মতিলাল দে ধর্মনগরে নাট্যচর্চার জগতে পুরোধা ব্যক্তিত্বদের একজন অত্যন্ত সংগ্রামী জীবন, যা নাটকের চেয়েও নাটক-সংকুল ! এক সময়, আদেশে অনুরোধে এবং নিজ তাগিদে নাটক লিখেছেন অজস্র অভিনয় করেছেন তারও চেয়ে বেশি আমাদের কবিতার আসরেও রয়েছে তাঁর নির্ভুল উপস্থিতি, শুধু তাই নয়, আসরে তিনি সকলের আগেই উপস্থিত হয়ে আমাদের সকলকে বিব্রত করেন হামেশাই পর্যন্ত, তাঁর লিখিত ৪২টি নাটকের হিসেব তিনি দিয়েছেন, যার একটিও তাঁর হেফাজতে নেই হয়তো আছে অনুরাগীদের সঞ্চয়ে
১৪১১ বাংলার কবিপক্ষে, ধর্মনগররবীন্দ্র সংস্কৃতি পরিষদবের করেন একটি নাটকের সংকলন, যাতে তাঁর নামে আছে দু-খানা, এবং জয়ব্রত ভট্টাচার্যের নামে একখানা, মোট তিনখানা সিলেটি উপভাষায় রচিত অত্যন্ত সফল নাটক বইটির নামএক দুই তিন কথ্য সিলেটি উপভাষাটিতে, অন্য সকল উপভাষার মতোই, সামাজিক গোষ্ঠীর

 সামান্য হেরফের অনুযায়ী, বলাতেও (Sociolect=সামাজিক উপভাষা) সামান্য পরিবর্তন লক্ষ করা যায় বিশেষ করে, একই জায়গায় বাস করেও, হিন্দু আর মুসলিম জনগোষ্ঠীর কথা বলার মধ্যে ভাষাগত অভিব্যক্তিগত যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায় আবার শিক্ষাগত আর্থিক অবস্থার বিভিন্নতার কারণেও যে ভাষায় সূক্ষ্ম পরিবর্তন রয়েছে সেটাও লক্ষ করা যায় মতিলাল দে এই সব ব্যাপার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাঁর রচিত নাটকে তুলে এনেছেন আমি এই নাটকগুলো পড়ার পরই অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে অনুধাবন করলাম ব্যাপারটা শ্রী মতিলাল দে আর আমি একই গ্রামের, একই স্কুলের ছাত্র আমার বিস্ময়ের কারণ, সে কী করে এই বাস্তবোচিত কথপোকথনগুলো তুলে আনলো ? কত সীমাহীন পর্যবেক্ষণের ফলে এমন একটা নাটক রচিত হতে পারে ? এসব প্রতিভার দাম কে দেবে ? কবে দেবে ?
মতিলাল লেখার ক্ষেত্রে অপরিসীম অলস কবি কিশোররঞ্জন দে- খুব কাছের অকৃত্রিম বন্ধু কিন্তু মতির আলস্য ভাঙার মতো মুগুর আমাদের কারো হাতে নেই
                                                  *** সেলিম মুস্তাফা / ১২.০৬.২০১৮


সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮

মেঘ জ্যোৎস্নার ছায়াযুদ্ধ : স্বপ্না নাথ / কাব্যগ্রন্থের পাঠ-প্রতিক্রিয়া

।। সেলিম মুস্তাফা ।।


     বার আগরতলা বইমেলায় নবীন কবিদের কবিতার বই বেরিয়েছে অন্যান্যবারের সকল রেকর্ড ভেঙে খুবই উৎসাহব্যঞ্জক ব্যাপার যেমন, তেমনি, হয়তো-বা আশঙ্কাজনকও তবে একথা বলার অধিকারী আমরা কেউ নই, ভাবীকাল আজ যে বইটা পড়লাম সেটা কবি স্বপ্না নাথেরমেঘ জ্যোৎস্নার ছায়াযুদ্ধ কবির শব্দ চয়ন যথেষ্ট পরিণত শিক্ষা আর শালীনতার ছাপ হয়তো কখনো ঢেকে ফেলেছে তাঁরআপনার চেয়ে আপন যে-জন’-কে আবার কোথাও শৈল্পিক তীব্রতায় ভেসে গেছে সব আড়ষ্টতা


শরীরী মুদ্রার ছন্দে ছন্দে
বোরখা খুলে বেরিয়ে আসতে চায়
সব দুঃখ-কষ্ট, প্রেম-প্রীতি...
....................................
আবিষ্কৃত হয়
কিশোরীর বেশুমার রাজত্ব (নৃত্য)

কিংবা

...নিভে যাওয়া রোদে
মেঘেরা বন্য হলে
নেমে আসে অসমতল রাত
.................................
তখন প্রেম বড় প্রাকৃতিক
ধীরে ধীরে তা আদিম অ্যালবাম
যেন কাব্যহারা শিল্প    (বুনো মেঘ)

     কবির মননই তাঁকে অনন্য করা তোলে তাঁর খুব সুন্দর কিছু ভাবনা চমকিত করে আমাকে

...গৃহদাহ বহন করেই
নারী কী দারুণ বিদূষী হয়ে যায় (ঈশিতা)


     অতি স্বাভাবিক দৃশ্য থেকে কবি নিয়ে যান অন্যকোন ফল্গুধারায় , বস্তু থেকে দর্শনে...

ঘরে আমার সবই আছে
কিছু পরিপাটি, কিছু ময়লা,
কিছু যত্নের গুণে, কিছু অযত্নে অবহেলায়
আলাদা-আলাদা অথচ বিচ্ছিন্ন নয়
আছে ঝাড়পোঁছ করা বছর তিরিশের ছবি...

কিছু পরাজয়, কিছু অস্পষ্ট স্বীকার,
কিছু স্পষ্ট অস্বীকার...

কারো কোনও কৌতুহল হবে না
ঘরের প্রতি

কেউ এসে বলবে না প্রসূতিঘর
মায়া-মমতা ভালোবাসায় স্বাধীন
খুব সচ্ছল এক সূর্য দেখতে চেয়েছিলো (প্রসূতিঘর)

     আর উদাহরণ বাড়াচ্ছি না কখনো মনে হয়েছে তৎসম শব্দের প্রাচুর্য কিছু কম হলে হয়তো আরও বেশি কাছে যাওয়া যেতো বইটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন, তবে কবিতার শিরোনামগুলি অতিরিক্ত বড় হরফের হওয়ার চোখে লাগে তাঁর কবিতার, তাঁর সাধনার জয় কামনা করে প্রতীক্ষা  করছি তাঁর পরবর্তী গ্রন্থের

কাব্যগ্রন্থ : মেঘ জ্যোৎস্নার ছায়াযুদ্ধ / স্বপ্না নাথ স্রোত প্রকাশনা / কুমারঘাট ঊনকোটি ত্রিপুরা

                                                  *** সেলিম মুস্তাফা / ২৮.০৫.২০১৮

তিনটি পাপ


                
রিনরিনে বিকেল। ফিঙে পাখির মতো একটি মেয়ে। কলেজ,  থার্ড ইয়ার। ফিজিস্ক অনার্স। নাম  ওড়না। ওড়নার আজ একটু মনখারাপ। রেলিং দেওয়া  লম্বা বারান্দায় দাঁড়ানো। বিকেলের গ্রীবায় হাত রেখে সন্ধ্যা নামছে। ওড়নার দাদু ইজি চেয়ারে বসে মনোযোগ দিয়ে চশমার কাচ মুছছেন।

 আমার কিছু কথা ছিল। দাদু শুনছেন না। তিনি এ মুহূর্তে

পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করছেন। সেটি হলো চশমার কাচ মোছা। এখন সাত দশমিক আট রিখটার স্কেলে প্রচন্ড ভূমিকম্প হলেও তিনি নড়বেন না। চশমার কাচ মুছে যাবেন, মুছেই যাবেন। আসলে রৌনকবাবু জানেন, ওড়না এখন কিছু বলবে না।  ভেতরে দারুণ নিম্নচাপ। রাতে ঝরবে অঝোরে এই বৃদ্ধ মানুষটির কাছেই। কারণ মা বাবার কাছে ওড়না ততটা ফ্রি নয়, যতটা দাদুর কাছে।  এ বিষয়ে অবশ্য ওড়না একদিন নিজস্ব একটি মতামত দিয়েছিল, যে,  পৃথিবীতে কাঁদতে হয় কেবল বিশেষ কোন মানুষের কাছেই, সবার কাছে কান্নাকাটি করাটা দুর্বল পার্সোনেলিটির লক্ষণ। এখন যদি তিনি মরে যান, তবে ওড়না কার কাছে কাঁদবে? সে কি পেয়েছে সেরকম বিশেষ কেউ?  না বুকে জমিয়ে জমিয়ে নিজে একদিন পাথর হয়ে যাবে ! যেমন অনেকেই হয়। 

 তীব্র অনুভূতির, তীক্ষ্ণ মেধার ভোরের মতো সরল মেয়েটিকে তিনি বড়ো ভালোবাসেন। কি হয়েছে, কি সমস্যা, পঁচাত্তর বছরের রৌনক দত্ত বড়ো চিন্তায় পড়েছেন। রাত বারোটা। ওড়নার ঘরে লাইট জ্বলছে, চুপচাপ পর্দা সরালেন। বসে আছে । কাঁদছে বলে তো মনে হলো না। 

ল্যাপটপ খোলা, বিছানাময় বই ছড়ানো।

দাদুকে দেখেই গম্ভীর হয়ে  বলল, দাদুভাই সমস্যাটা হৃদয়ঘটিত  নয়। উঃ যাক। তবে?

ওড়না গম্ভীর হয়ে বলল ব্যাপারটা রাজনৈতিক।

এই রে সেরেছে ! 

আচ্ছা দাদু তুমি জীবনে কি কি পাপ করেছো?

সর্বনাশ ! রৌনকবাবু সচেতন  হয়ে বললেন, সে হবে অনেকগুলো পাপ। 

সবগুলো তো মনে নেই, এই অল্পকিছু মিথ্যে কথা বলা, অসুস্থতা ইত্যাদি অজুহাত দেখিয়ে বিপদের দিনের বন্ধুকে দুঃসময়ে না দেখতে যাওয়া, ধার চাইলে না করে দেওয়া, বিবাহিত জীবনে কয়েকবার হালকা প্রেমে পড়া ইত্যাদি।

 

ওড়না বললো, ঠকিয়েছো কাউকে? কিংবা বিশ্বাসঘাতকতা? রৌনকবাবু মাথা দুলিয়ে বললেন, নাহ্, জ্ঞানত না।

তুমি কি জানো দাদু আমি তিনটে পাপ করতে যাচ্ছি।

যেগুলো একই সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং ঠকানো। 

রৌনকবাবু ভেতরে ভেতরে চমকালেন, বাইরে স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞেস করলেন তা শুনি কি কি পাপ?

ওড়না একটু চুপ করে থেকে উত্তর দিলো, আমি আমার বন্ধুর কাছ থেকে ওর গার্লফ্রেন্ডকে ছিনিয়ে আনছি।

আরে ছিনিয়ে আনছিস মানে, তুই কি হোমো সেক্সুয়াল হয়ে গেলি নাকি?

উঃ দাদু, তুমিও না ! জানো তো আমার একজন রোগা সোগা, ইনটেলেকচুয়েল ছেলে বন্ধু আছে। 

হুম্। রৌনকবাবু সরু চোখে তাকিয়ে আছেন নাতনীর দিকে।

তারপর বললেন, তুই তো বললি সমস্যাটা রাজনৈতিক? এখন তো তা মনে হচ্ছে না।

কেন দাদু প্রেম তো এক বিরাট  রাজনীতি ! মহাভারত যত মন দিয়ে পড়ছি ততই আরো বেশী করে বুঝতে পারছি।

রৌনকবাবু মনে মনে ভাবলেন ওকে মহাভারত পড়তে দিয়ে কি ভুল করলেন, মুখে বললেন, বুুঝলাম।  ঝেড়ে কাশ তো, অনেক হয়েছে। 

দাদু সামনেই কলেজ ইলেকশন। আমাদের চন্দ্রকেতু লোভে পড়েছে এবং এমন একটি দলের হয়ে তার যাবতীয় বুদ্ধিদীপ্ত বাচনক্ষমতা উগরে দিচ্ছে যা আমি জাস্ট সহ্য করতে পারছি না। আর পরী, এতো ব্রিলিয়ান্ট মেয়েটা, যে তাকে ভুল পথে  যাওয়া থেকে আটকাবে, সে কিনা পেছন পেছন ঘুরছে, ওকে ইনস্পায়ার করছে।

এখন পরীকে যদি ওর পাশ থেকে সরিয়ে আনি , তাহলে চন্দ্রকেতু অনেকটাই দুর্বল হয়ে যাবে, মানসিক অবস্থা খারাপ হবে, অমনোযোগী হবে, ফলত সে তার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।

এটা হলো আমার প্রথম পাপ।

রৌনকবাবু চমকে গেলেন। এই সুন্দর ভালো মেয়েটি কবে থেকে এরকম ধুরন্ধর হয়ে উঠেছে। এ কি তার চোখের সামনে বড়ো হওয়া সেই পাখিটি , যার পাখায়  আচমকাই আঁকা হচ্ছে যেন এক অন্ধকার প্রাসাদের পথ।

কিন্তু ! কিন্তু নয় দাদু, আমি এটা করবো। স্কুল থেকে আমাদের মনে একটা বিশেষ বোধ জন্ম নিয়েছে, এই বোধের অপমান আমি সহ্য করতে পারবো না।

কিন্তু, পরীকে কি করে সরিয়ে আনবি?

আমার আকাশকে দিয়ে দেবো।

হোয়াট? রিলেশন কি জিনিসপত্র নাকি যে, ছিনিয়ে আনবি, দিয়ে দিবি। এভাবে খেলা করে না ওড়না। তুই এরকম কবে থেকে হয়ে গেলি, এতো নির্মম প্র্যাকটিকেল ! আশ্চর্য !

হ্যাঁ, দাদু, তাই হয়েছি। সব মেয়েরাই কি নরম নরম,  ন্যাকা ন্যাকা,  দুখী দুখী হবে নাকি ? আমার আইডিয়ালিজমকে যেভাবেই হোক রক্ষা করতে হবে। আর পরী আসলে মনে মনে আকাশকেই ভালোবাসত। কিন্তু আকাশ লাইকস্ মি। 

আকাশকে যদি আমি এখন রিজেক্ট করি, আকাশ খুব কষ্ট পাবে, কিন্তু  সেই মুহূর্তে পরীকে পেলে আকাশ আঁকড়ে ধরবে।

ব্যস।

আকাশ পলিটিক্স করে না।  খুব অপছন্দ করে। মেধাবী ছাত্র, ভবিষ্যতে  পি এইচ ডি করবে, বিদেশ যাবে, পরী হ্যাপিই হবে আখেরে।

আর বুঝতেই পারছো এ হলো আমার দ্বিতীয় পাপ।

রৌনকবাবু স্তম্ভিত হয়ে ওড়নার মুখের দিকে দেখছিলেন, ঠোঁট দুটোর মধ্যে কি শুষ্কতা !

আকাশের টিন এজ চুমুগুলোও কি ফিরিয়ে দেবে কঠিন মেয়েটি ...হেমন্তের পাতা ঝরা অরণ্য হয়ে গেছে ওড়না,  কিছু দূূূর গেলেই যেন শুরু হবে বরফের  ঠান্ডা মরুভূমি।

ওড়না একটু হেসে বললো, আর তৃতীয় পাপের কথা জানতে চাইবে না দাদু?

রৌনকবাবুর মাথা ঝুঁকে আছে, মনে মনে  তীব্র  চীৎকার করছেন, বলছেন, "না, না, না, এ হয় না ", কিন্তু কেউ শুনছে না।

ওড়না বললো, আমি চন্দ্রকেতুর কাছে যাবো।

ওকে ভালোবাসি বলবো। আস্তে আস্তে ফিরিয়ে আনবো। আমাদের পথ এক, মনের দূরত্ব অনেক হলোই বা। 

পলিটিক্স আর আইডিয়ালিজম, খুব ইম্পপরট্যান্ট এই সময়ে।

সামান্য ভালোবাসাবাসির অদলবদল ঘটিয়ে  যদি চন্দ্রকেতুকে ফিরিয়ে আনতে পারি, তবে পরবর্তীতে বড়ো রাজনৈতিক পরিসরে অনেক সুবিধে হবে, আর আমি তো রাজনীতিটাকেই বেছে নিতে চাইছি। 

হয়তো চন্দ্রকেতুকে আপাতত এই ভালোবাসার অভিনয় দেখাতে দেখাতে, ভালোবেসে ফেলতেও পারি। 

তবে অভিনয়টা করবো তো এখন, সেজন্য এটা আমার তৃতীয় পাপ, কি বলো দাদু? 

নাহ্ ওড়না পেছন ফিরে আর দাদুকে দেখতে পেলো না। 

রাত প্রায় দুটো, দাদু  বিষণ্ণমনে নিজের ঘরের দিকে চলে যাচ্ছেন,  তিনি হতভম্ব হয়ে গেছেন।

ওড়না দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো, বারান্দার কম আলোয় মেঝের ওপর চৌকো চৌকো ছায়া পড়েছে, গ্রীলের ফাঁক দিয়ে আসা অন্ধকারগুলো সেই চৌকোর মধ্যে ঢুকে আছে।  যেন দাবার ছক।

একুশ বছরের ওড়না পা মেপে মেপে অনিশ্চিত দাবাখেলায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো, দেখা যাক !