“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯

ভোলে বাবা কি চেলা


ভোলে বাবা কি চেলা হমলোগ
শিবজী মহারাজ কি জয়
গর্বসে কহো হাম হিন্দু হ্যায় সব
ঝান্ডা উঁচা লেহরায়।
জয় বলো ভোলে নাথ কি জয়
কি বলো ভৃঙ্গী ভাইয়া জয়
কি বলো নন্দী ভাইয়া কি জয়।।

যানজটেতে ক্লান্ত শহর
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কুষ্ট দাগ
মিছিল চলুক সদর্পেতে
আনন্দ হোক একশ ভাগ ।
একটি মূর্তি তিনটে ট্রাক
সবার আগে দশটি ঢাক
একটিতে মা যেমন তেমন
নেই যে উলু নেইকো শাঁখ।
মাঝের ট্রাকে জেনারেটর
শেষের ট্রাকেই আসল খেল্।
ডিজের আওয়াজ ঘূর্ণি আলোয়
একটু গো মা  হুইস্কি গেল্ ।
দাঁড়িয়ে পড়ুক গাড়ির সারি
যতই উঠুক বিরক্তি রাগ
মিছিল চলুক বীরদর্পে
আনন্দ হোক একশ ভাগ ।

এমব্যুলেন্সটা ভীষণ বোকা
ওটার এত তাড়া কিসের ?
দেখছে বাপু আসছে মিছিল
তবুও আবার ঘ্যানোর ঘ্যার।
একটুখানি সবুর করো
মিছিল তো আর থামছে না,
কষ্টেতে প্রাণ ওষ্ঠে এলেও
পেশেন্ট তো আর মরছে না ।
কি বলছিস আওয়াজ কম ?
বুকের ব্যেমো ? এইতো দম !
আনন্দে যে খরচ অনেক
জোরসে বল্ , ভোলে ব্যোম।
চলছে মিছিল গায়ের জোরে
রাস্তা জুড়ে সদর্পেতে
গিন্নী বাবু সামলে দাঁড়াও
জ্বলবে কাপড় পটকাতে ।
এই যে শালা একটু দাঁড়া
রাস্তা কি তোর বাপের বে
মিছলটাই যে আগে যাবে
সাধ্যি থাকে বাগরা দে।
মিছিল আমার মিছিল তোমার
মিছিল ঘিরেই ব্যস্ততা
মিছিল হচ্ছে স্ট্যাটাস সিম্বল
অর্থবলের সুস্থতা।
নাচরে বাবু নাচ্ সুশীলা
নাচছে বৌদি আর মাসীমা
দুপাশ জুড়ে হাভাগা সব
গিলছে দেহ, তুলছে দোলা ।
গায়ে গায়ে রগরবাজী
নেশার সাথে অনুরাগ
মিছিল চলুক বীরদর্পে
আনন্দ হোক একশ ভাগ ।
জয় বলো ভোলে নাথ কি জয়
কি বলো ভৃঙ্গী ভাইয়া জয়
কি বলো নন্দী ভাইয়া কি জয়।।

###

বন্ধ কর বন্ধ কর, বন্ধ কর সব।
ধর্ম নিয়ে আদিখ্যেতা মিথ্যে প্রহসন,
আর কত ? ছেলেখেলা ?
বিকৃতি আর বেলাল্লাপনা ?
বন্ধ কর, আর কত ?
টাকার জোরে দাদাগিরি --
বিশাল বিশাল বাজেট নিয়ে
পুজোর ছলে পুতুল খেলা ?
আসল পুজোয় যৎসামান্য
ডেকোরেশন -- আলোর মেলা
আর কত ?
কোথায় লিখা শাস্ত্রমতে
এমনতর মিছিল  ?
বিকট শব্দে হিন্দি গান
আলোর সাথে অঙ্গভঙ্গি
মদের স্রোতে কৃষ্টি ভাষাণ ?
আর কত ?
পথঘাট সব বন্ধ করে
সহস্রকে বিপাক ঠেলে
কিসের জৌলুস ?
এমব্যুলেন্স যে দাঁড়িয়ে যায় !
একটা যদি মৃত্যু হয়, একটা যদি মানুষ  ?
কে নেবে তার দায়ভারটি ?
প্রশাসন ? ডাক্তার  ?
নাকি উন্মাদের‌ই দল ?
উত্তরটা কে দেবে তার ?
একটা কিছু বল্ ।
আর কত ? বন্ধ হোক।
বন্ধ হোক এই বিকৃতি সব,
আওয়াজ তোল।
লজ্জা হয়, নুইয়ে আসে মাথা,
যখন কেউ আঙ্গুল তুলে বলে,
এই তাহলে, প্রাচীনতম ধর্ম ?
এই তাহলে ? লজ্জা হয়।

এ লজ্জা আমার একার নয় ।
আমায় যারা ঘিরে আছেন, গোটা সম্প্রদায় ।
এই লজ্জা সনাতনী গোটা ধর্মটার
যত পূর্বপুরুষ আর বুদ্ধিজীবী জন
এই লজ্জা ওদের‌ও।
আমার ,আপনার, আমাদের সবার।
তাই বন্ধ হোক মিছিলবাজি-- অবিলম্বে,
বন্ধ হোক অনাসৃষ্টি, অন্যায় অনাচার।

শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯

যেহেতু আপনি পর্দার আড়ালে

।। অভীককুমার দে।।

সবার যেমন, আপনারও আছে দুটি চোখ।
চোখে কালো চশমা !
যাবতীয় ব্যক্তিসুখ, নিজের মতোই
আত্মকেন্দ্রিক হতে পেরেছেন নির্দ্বিধায়;
অথচ কেউ বন্ধক দিচ্ছে জীবন !

যদিও জীবন মরণ কিছুই বোঝে না চশমা
অনিয়মের ছবিও ঢেলে দেয় চোখে,
যেহেতু আপনি পর্দার আড়ালে
না দেখার ভান করা শিখে নিয়েছেন সহজেই।

কোথাও এক পশলা বৃষ্টির ঝমঝম, তবু
ভেতর জ্বলছে কেন ?
পোড়া ছাই ধুয়ে একটি নদী দুভাগ হচ্ছে
ভাসিয়ে নেবে মানবতার মরা লাশ।

হয়তো দুচোখ ঝাপসা এখন,
নিস্প্রভ আলোর কাছে মাথা নত হলে
মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে অন্ধকার,
সবার যেমন, আপনারও আছে দুটি চোখ, দেখবেন--
অন্ধকার ফুঁড়ে বেরিয়ে আসবে আলো।

সময় পেলে

।। অভীককুমার দে।।

একবার জিজ্ঞেস করবেন মহোদয়
কেমন আছি
কেমন আছে মানুষ
মানুষের জন্য...

জানি, আপনারা ব্যস্ত
ভীষণ ব্যস্ত করে রেখেছি আপনাদের
পরিযায়ীদের ভিড় ঠেলে আকাশ খোঁজেন
দুমুঠো ভাত মুখে তুলে দেবেন বলে

যদিও আপনারা বেরিয়ে যেতে পারেন আকাশ ফুঁড়ে
শূন্যতায় ভরে ওঠে আমাদের আকাশ।

এমন আহ্নিক গতির মাঝেই আমাদের চোখের জল
পঞ্চবার্ষিকী জমির আলে,
কান্নায় ভেঙে পড়ি,
শিশিরের মতোই গোছানো ভাষণ শুনি নীরবে।

সময় পেলে একবার দেখে নেবেন চোখ
মানুষের জন্য।

কেমন আছে মানুষ ?

সর্বনাশের পথ

।। অভীককুমার দে।।

ভাতের নামে রাজনীতি করতে আসে প্রেমিক !
তলপেট চাপ দিয়ে দেখে
কেমন উত্তাপ জমে এক সমুদ্র চিৎকার

তোলপাড় করে নিদারুণ শিরশির
নাভিমূল ঘোরে।
প্রেমিকের হাত আরও নিচে নেমে এলে
নির্ভেজাল থালায় শূন্য প্রস্তাবনা
আকুতির বিছানা।

সোহাগের নামে অধিকার হারানো শরীর
নিস্তেজ...
খুলে যায় সর্বনাশের পথ,
সরে যায় বুকের আঁচল।

উদোম পাহাড় চষে বেড়ায় অস্ত্রের হাত,
আঘাতে আঘাতে প্রেমের সংজ্ঞা ভুলে গেলে
নিঃশব্দ রক্তনদী
ভাতের থালায় মান চিত্র আঁকে।

এ বুক পতাকা জড়িয়ে থাকার কথা ছিল, অথচ
প্রেমিকের আঙুল জোৎস্না রাতের তারা গোণে !

শিশিরের সুখ

।। অভীককুমার দে।।

কবিতা আমার শিউলি ফুল
ঝরে যায় আপনার পাঠ শেষে,

মাটির উদোম বুকে লেপ্টে যায়
খসখসে পাতায় গাছ আমি
প্রভাতের মতো চেয়ে থাকি
তুমি সন্ধ্যার মতোই লুটিয়ে পড়ো!
ঠোঁটের কোণে লেগে থাকে শিশিরের সুখ।

আমার দিনগুলো ভাটিয়ালী গায়
রাতের গল্প লিখে রাখে কোরক।

পাখি যদি বসে

।। অভীককুমার দে।।

আমার যত গল্প পাতার মতই
সবুজ
প্রতিনিয়তই ঝরে।

একদিন সব পাতা ঝরে যাবে
মচমচে শব্দও থেমে যাবে জানি,
মাটি হবে অবশেষে।
নিঃস্ব ডাল একা হবে,
বহুদূর উড়ে কোনও পাখি যদি বসে
ছবি হবে আকাশের ক্যানভাসে।

পারো যদি কেউ গল্প খুঁজে নিও
শূন্যতার নীলের মতো।

নির্লজ্জ

।। অভীককুমার দে।।

অবাঞ্ছিত ভিড়ের বাইরে উড়তে জানে শকুন

ভিড়ে থেকে মাথা উঁচু করো, দেখো--
শকুনের ঠোঁটে লেগে আছে অবাঞ্ছিত লোম,
কার লোম, কী লোম, কেমন লোম
এসব ভাববার সময় নয় এখন;

দেখো, তেলে ঝিকমিক করছে ডানা,
দূরে থাকো, ভিড়ে থাকো,
ভিড় মিথ্যে বলে না--
যে আমাদের বেশ্যা বানায়
সে আর কি এমন মাগী !
দুগ্গা তো হবে না, দুগ্গা হতে এ পাড়ার মাটি চাই।
এ পাড়ায় অবাঞ্ছিত ভিড়, মাটি নেই
কিছুই খাঁটি নেই।

বাইরে সংখ্যা শকুন, দূর থেকে মুখ দেখে
উড়ে এলেই খুলে নেবে গোপনাঙ্গের কাপড়,
ইজ্জত যাবে কার ?