“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯

আমি সেই আমি

     রফিক উদ্দিন লস্কর
একদিন তো এমনই ছিলো
ছিলোনা তো কোন হাত পা,
তবুও দৌড়ে শরীক হয়েছি
কল্পনা করতে পারিনা যা।

আমি যে তখন যুদ্ধ করেছি
চল্লিশ লক্ষ সৈন্যের সাথে,
পাগলের মতো ছুটছে ওরা
চার পাঁচশো রয়েছে হাতে।

কেউ যে মরেছে  ক্লান্ত হয়ে
পরাজিত হয়েছে কতেক,
উর্বর আসনটা দখল করি
আমি মহাশক্তিশালী এক।

আমার শুরু সংগ্রাম দিয়ে
একা ছিলাম তখনি আমি,
যুদ্ধ করে যে পেয়েছি প্রাণ
সেদিনটাতেও যাইনি থামি।
______________________

মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৯

অতএব আজাদি

কে    আমি...
কেন আজাদি বলি! বলবো ভাত চাই ওটা দাও
পনেরো লাখ চাইনা শুধু
জীবিকা চাই--
তাও ভাত আর কিছু নয়
কারণ আমার প্রতিটা কাজ শুরু হয়
পরম করুণাময় অশেষ দয়ালু
মহান কৃষকের নামে যার হাত ধরে সভ‍্যতার শুরু।

কি ?প্রগতি, হ‍্যাঁ সে তো অনেক হয়েছে
উজ্জ্বলা হয়েছে গরীবের উনুনে ও টি পি'র মতো
আবাস হয়েছে কাঁচা থেকে পাকার মতো
সন্ত্রাসী মরেছে সেনাবাহিনীর গোরস্থানে,
আর আপনি বলছেন রেনেসাঁ---
নিঃশ্চয় সেটা হয়েছে সারা ইউরোপ জুড়ে।

প্লেটো সক্রেটিস ভিঞ্চি আর দেকার্তে
সকলেই পাকস্থলীতে পুষেছে মগজ
কারণ ভাত,
আর পৃথিবীর মাতৃভাষা আজও ক্ষুধা।

পৃথিবীটা ক্ষুধার পা চাটে আজ থেকে নয়
সেই আদিম থেকে,
যেহেতু ক্ষুধা মহামতি,তাই
যুদ্ধ আর বুলেটের মিথস্ক্রিয়ায় চেয়েছিল ক্ষুধা নিবারণ।

কিন্তু বাবু, ক্ষুধার জ্বালায়
কীসের আজাদি কীসের জিন্দাবাদ?
আমার চিৎকার হবে ভাত-ভাত-ভাত,
অতএব
পতাকা রাষ্ট্রগান ও সংবিধান
ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলুন
কারণ
আমার সিনেমা হবে
ভাত দে হারামজাদা’।

সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৯

হাঁদারাম

  রফিক উদ্দিন লস্কর

একটা ছেলে এমন আছে
সবকিছুতে হাসে,
কাজের বেলা কাজ নেই
সবটুকু সে নাশে!

পড়াশোনাও তেমন নেই
নিজেই বলে বেশ,
দেখলে বলবে আস্ত ভূত
মাথায় লম্বা কেশ।

ইদানীং যে রাজনীতিতে
জড়ায়েছে তারে,
দলবদল তার রোজদিন
কি'বা আর পারে!

নিজেকে ভাবে মহাজ্ঞানী
গোবর মাথায় নিয়ে,
সবখানে তার ঠেলাঠেলি
সব কুটবুদ্ধি দিয়ে।



রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯

যায় দিন

রফিক উদ্দিন লস্কর

প্রজাপতি ফুলে বসে
মধু করে পান,
উড়ে উড়ে ভোমরাও
করে যায় গান।
ফুলটুসি বসে আছে
কানন ছায়ায়,
গগনে মেঘের ভেলা
পাল তুলে যায়।

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৯

নববর্ষের কবিতা


এসেছে নববর্ষ অর্ণবমেঘে, এই পৃথিবীতে আবার

যারা চলে গেছে, অকালে অঝোরে ঋতুচিহ্ন নিয়ে

সকল নৃশংসতা,  বিষ ও আগুনের মতো হৃদয়ে ধারন করে

ক্ষমা করো তোমরা এই পৃথিবীরে,  সদ্যজাত বঙ্গাব্দকে    

আসতে হয় ক্ষীণ ধর্মবোধ আর শ্বেতপ্রদাহ নিয়ে নিয়ম করে

তাই আসা, তাই আসা, তপ্ত অসীম কালবৈশাখীর সাথে 

মধ্যরাতে পিচ ঢালা রাস্তায় ঐ  নীলাভ হিমকর ধরাচ্ছে নেশা

কাচের আলো দুপাশের বাড়ি থেকে পড়ছে ভেঙেচুরে বুঁদ হয়ে  জল ছিটকে চলে যাচ্ছে গাড়ি, নির্জনতা পছন্দ করেনি সে 

তরুণ ড্রাইভার বন্দিশের ঠিকানা বদলাচ্ছে বার বার

তাই দেখে ফ্রক পরা কিশোরী পুনর্বার নেমেছে বর্ষবরণে

দুহাতের খই ভরা ডালায় তার বারোটি মাস রাখা সুঘ্রাণে

কাঁচা কাঁঠালের আসক্তি কষ লেগে যাচ্ছে হাতে ও স্পর্শে

মথুরা শহর যেমন করে পারে না ভুলতে দূর বৃন্দগ্রামকে

আজকাল নির্বাচনী প্রচারের পর যুবকের দল ফিরে যায়

সঙ্গে কি থাকে, কি লাভ , কি হয় আসলে, তবুও অমোঘ নেশা, 

সমুদ্র দ্বীপ যেমন করে দার্ঢ্য থাকে ঢেউয়ের একান্ত রিরংসায়,  

অশ্রু ও রক্ত ভুলে গনতন্ত্র ধরতে চায় কেবল এক প্রত্যয়ী হাত ;

 শ্লোগান মিথ্যা হয়, প্রতিশ্রুতিও, তবুও দেশ বলে

জাগিয়ে রাখো ; জেগে থাকো ; হাজার অন্ধকার আলোরই মতন অবশেষে, পথ শেষে ; তাই এই নববর্ষ মায়াময়, রোদময় ;

বৈশাখে জন্ম নেওয়া পাখি শিস্ দিতে শিখেছে আজই, খিস্তিও ;

তার শিশুকাল নিস্তব্ধতা শেখেনি, অচিরেই আছড়ে পড়েছে যৌবন ; প্লাবন তাই সমকালে, আগামীতে উর্বরা পলি, সতন্ত্র শস্যক্ষেত্র। 





 

শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৯

কবিতা

§ *সূর্য প্রণাম* §
- - - - - - - বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ।

কিছু ক্ষণ দৌড়ঝাঁপ ঠা ঠা রোদ্দুরে
কিছু ক্ষণ একঘেয়ে আলসেমি -
চলমানতার সাতকাহনে
দোদুল্যমান যাত্রাপথ ।
দহন কালেও সরাসরি চেনামুখ সব
ছায়াময় রাতে আসে কিছু
প্রোথিত মূলের কায়াহীন অবয়ব।
বেঁচে থাকার অতীত রসদ নিয়ে
উঠে আসে কৃতজ্ঞ হৃদপিণ্ডের
অলিন্দ পেরিয়ে স্পষ্ট কোলাজ হয়ে,
অপার সুখের উত্থিত আকরে আকরে।

অচেনা সূর্য এসে ধরেছিল হাত,
মৃত্যুফেরত কিছু পরিচিত আত্মা
আজও বয়ে চলে শিরায় শিরায়।
আজও সূর্যালোক ফিরে ফিরে আসে
অপ্রত্যক্ষে - রাতের গভীরতায়।
বিজন রাতের প্রমোদ বিহারে মগ্ন
প্রসন্ন ক্ষণেও নমস্য আলোকচিত্র,
সঘনে উন্মোচিত আজ জীবন রহস্য
অজানিতে করযোড় সূর্য প্রণামে।
আঁধারি আলোয় সিঞ্চিত হোক
প্রজন্মের সঞ্চিত শ্রদ্ধা, উৎস আলোয়।

বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯

কন্ঠীবদল

শ্যামলীরাই বোষ্টমী। জেলা উত্তর ত্রিপুরা। গ্রাম "পলাশকুঞ্জ "।

সাড়ে কুড়ি বছরে কন্ঠীবদল।

তখন ফাগুনমাস। বেহায়া বাতাস। দুজোড়া ধুতি চাদর।

পলাশফুল পড়ে পড়ে পিছল হয়ে থাকে আখড়ার প্রাঙ্গন।

তিলক মুছে তিনবার মাছ খাওয়া হয়েছে।

দুবার মুরগীর ঝোল। তিনখানা হিন্দি ফিল্ম। নাচ গান।

এটুকুই অবৈধ বসন্ত। বাকি সব কীর্তন। সপ্তমীর জ্যোৎস্না।

শিউলি, কাঞ্চন, রঙহীন জবা তুলে তুলে নারায়ণের চরণে।

দোলের দিন সবুজ রঙ, গোলাপী আবির, সঙ্গীর পুরাতন মুখে  ভিক্ষাকষ্ট  শুধু। 

পুন্যের মাস। কার্তিকের কুয়াশা মেখে মেখে শহরের অলিগলি ঘোরা হয়। 

একজন মরল, দ্বিতীয়জনের লগে কন্ঠীবদল। 

শ্যামলীরাই  হাসে না। নামগান করে। 

তৃতীয়জন এলেই বা কি। বয়স তার এখন সাঁইত্রিশ। 

ভরা হাতে মাছ কাটতে ইচ্ছা হয়। রক্ত ধুয়ে তেলে হলুদে জমিয়ে গন্ধ ছাড়তে ইচ্ছা হয়।

না হয় সন্ধ্যাবেলা একটু তুলসীতলা। বাকি মাছভাত আর রমণ।

সে হবার জো নেই।

 অথচ ভক্তি নেই। 

ঘোর সংসার বুকের ভেতর। 

ঘরবাড়ি উঠোন চুলা আর পুকুরঘাট সমেত।

গাছভর্তি আমের বোল। কষা মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে ফাগুন চৈত্র মাসে, আর পুকুরের জলে গা ধুতে ধুতে লাক্স সাবানের ফেনায় ফেনায় ধুয়ে যাচ্ছে বোষ্টমী রঙ। 

তিলকের মারপ্যাঁচ,  তুলসীমালার বৈরাগ্য।

ট্রেনে কইরা আসাম যাওয়ার সময় দুই মেয়ের সঙ্গে দেখা।

ভরা যৌবন।

 বিবাহের রঙ নাই কপালে। কিন্তু বোঝা যায় মাংস ছুঁয়েছে তারা। কই কন্ঠীবদল তো হয় নাই।

জীবন্ত স্বাধীন। শ্যামলীরাই কীর্তনের সুর তোলে। দশটাকা, দশটাকা দেয় দুজনে।

কয় আশীর্বাদ করো যেন  আজ রোজগার হয়, আমরাও বোষ্টমী, ঘর আছে,  ঘর নাই। বাইরে বেরুলেই  টাকা।

বাড়ি ফিরলে জিগায় টাকা আনছো নি?

তবুও তোমাদের  তো ভণিতা নাই, শ্যামলীরাই তর্ক করে।

হি হি ! ভণিতা ! ছুরির মতো হাসি। নাহ্ ভণিতা নাই, রঙখেলার দিন কৃষ্ণ আসে খেলতে।

তার চোখে দেখা যায় এই  বসন্তকাল।

গোপী মেয়েদের ব্যথা।

কত কত রঙ নিয়ে আমরা পদাবলী লিখে যাই।

`মানুষ ভুল করে ভাবে ধর্মের গান, অথচ এসব

আসলে নাড়ি ছেঁড়া অশৌচ কাল।