.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১৮

বন্যা

"এই যে দিদি, জল দেখতে এসেছেন বুঝি?  এদিকটায় আসুন, এখান থেকে ভালো ফটো তোলা যায়। " অচেনা লোকের মুখে দিদি ডাকটা শুনে প্রথমে বুঝতে পারিনি আমাকেই উদ্দেশ্য করে লোকটা কিছু বলছে , কাছে এগিয়ে আসতেই জিজ্ঞেস করলাম, "আমাকে কিছু বলছো বুঝি? "
--- "হ্যাঁ দিদি জল দেখতে এসেছেন তো ?"
খানিকটা ইতস্তত করে বললাম, " হ্যাঁ - না মানে এদিকটায় এসেছিলাম, তাই ভাবলাম কোনদিন তো বন্যা দেখা হয়নি, তাই আর কি ।"
--- "ভালো করছেন দিদি, খুব ভালো করেছেন । কোনদিন যদি কোথাও আলোচনা হয়, আপনিও বলতে পারবেন । নিজের চোখকে দেখা বলে কথা ।"
--- " ঠিক বলেছো ভাই, খবরের কাগজে পড়া আর নিজের চোখে দেখার মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক ।"
ছেলেটি সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলছে । দুপাশে জল মধ্যে ইএনডির বাঁধ। আমরা বাঁধের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি ।  চওড়া বাঁধ, তার উপর ছোট ছোট অস্থায়ী তাবু আর ছাউনি তৈরি করে মানুষ আর গবাদি পশুর সহাবস্থান । মহিলারা এরই মধ্যে খড় কুটো যোগাড় করে কিছু একটা খাবার তৈরি করতে ব্যস্ত । কোথাও কোথাও বয়স্ক সদস্যরা উদাস চোখে বসা । হয়তো নিজের ভাগ্যের সাথে শেষ দর কষাকষি সেরে নিতে ব্যস্ত । ছেলেটি আমাদের গরু মহিষ ছাগল আর  ছাউনি  টপকে সাবধানে এগিয়ে নিয়ে চলছে । আমার খুব ভয় করছিল । আমি সাঁতার জানি না । এত লোকের চলাচলে বাঁধের মাটি খুব নরম মনে হচ্ছিল । ভয় হচ্ছিল যে কোন মুহূর্তে পায়ের নিচে মাটি জলের তোড়ে ভেসে যেতে পারে । তারই মধ্যে যথাসম্ভব নিজেকে বাঁচিয়ে বেশ কিছু ফটো আর সেলফি তুলে নিলাম । এরকম সুযোগ তো আর সচরাচর আসে না । একটা লেংটা বাচ্চা মেয়েকে ক্যাডবেরি খাইয়ে একটা মহিষের বাচ্চার সাথে ফটো নিলাম । আমার ঠিক পাশে বাচ্চা মেয়েটা আর পিছনে দুরে একটা বাচ্চা সহ মহিষ। খুব ভালো এসেছে ফটোটি । আবার সাবধানে এগোচ্ছি । ছেলেটি আমাকে সাবধান করে দিয়ে বললে, "জলের খুব কাছাকাছি যাবেন না, বিপদ হতে পারে ।"
বাঁধের দুপাশে জল । একপাশে স্থির অন্য পাশে স্রোতস্বিনী নদী। একটা চাপা আক্রোশ নিয়ে এগিয়ে চলেছে । তারই মধ্যে ভেসে যাচ্ছে জার্মানি ফেনা, ছোট বড় গাছ আরো কত কি । ওপাশে কোমড় অবধি জলে ডুবিয়ে একটা যুবতী মেয়ে বসা । বুঝলাম প্রাকৃতিক কাজ সারতে ব্যস্ত । এতক্ষণ আমাকে দেখছিল । চোখাচোখি হতেই অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলে। আমি অভ্যাস বশে নাকে রুমাল চাপা দিলাম । ছেলেটি নির্বিকার এগিয়ে চলছে । ওকে ওর বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করায় দুরে জলের সমুদ্রের মধ্যে একটা টিনের চালা দেখিয়ে বললে, "ওই যে ওইটা আমার বাড়ি ।"
আঁতকে উঠলাম । বললাম, "সত্যি তোমাদের খুব কষ্ট, তাই না ?
--- " ও অভ্যাস হয়ে গেছে । প্রতি বছরই এভাবে বানের জলে ঘর ভাসে। আমরা বাঁধের উপর ঘর বাঁধি । মন্ত্রী আমলা , বিভিন্ন সংগঠন আসে । কেউ খাবার দেয়, কেউ কাপড়। কখনো সবাই পায় আবার কখনো পায় না।
-- "কেন -- ?" আমি মুখ ফসকে জিজ্ঞেস করলাম ।
--- " আসলে সবটাই যার যার সামর্থ্যের উপর নির্ভর করে । নানাভাবে ফটো সেশন হয় , পত্রিকাতে ফলাও করে ছাপে । পরদিন থেকে সেই দল উধাও, আবার অন্য দল আসে। এই কদিন আমাদের আর রান্না বান্না করতে হয় না। আমরা এই বাঁধের উপরেই পিকনিক সারি ।"
--- " কিন্তু তোমাদের ঘর বাড়ি ?"
--- " যে কদিন জল থাকে, ওভাবেই থাকে । তারপর জল কমলে, রিলিফ বন্ধ হলে আমরা আবার ফিরে যাই।"
--- " কিন্তু তোমাদের জিনিসপত্তর ?"
ছেলেটি হয়তো কিছু একটা উত্তর দিচ্ছিল, আমার শোনা হলো না । আসলে ঐ সময়ে একটা মাঝারি বয়সের মহিলা গলা অবধি জল ভেঙে বাঁধের দিকে আসছে । মাথায় গামলা জাতীয় একটা পাত্রে কিছু জিনিস ।
আমি এত সুন্দর ছবিটার ভিডিও করার লোভ সামলাতে পারলাম না । ছেলেটি পাশ থেকে বললো , "আমার বৌদি --।"  তারপর চিৎকার করে মেয়েটির সাথে নানা কথা বলতে লাগল ।
আমি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে ছবিটা তুলতে থাকলাম । ধীরে ধীরে মেয়েটি জল থেকে বেরিয়ে আসছে । একটা ব্লাউজহীন ভেজা শাড়ী শরীরের সঙ্গে মিশে আছে । শরীরের প্রতিটি ঢেউ প্রতিটি খাজ সুস্পষ্ট । যৌবনের জোয়ারে ভরা শরীর । মেয়েটি আঁচলের শেষ প্রান্ত দিয়ে নিজের লজ্জাটুকু ঢাকার অসহায় চেষ্টা নিল। আমি হাসলাম । মনে মনে  বললাম, যত চেষ্টাই কর না কেন আমার ক্যামেরার চোখকে ফাঁকি দিতে পারবে না । মনটা খুশিতে ভরে গেল ।খুব ভালো ছবি এসেছে । আজকের জন্য ফেসবুক হিট। একবার রিভিউ করে ছবিগুলো দেখে নিচ্ছিলাম,  হঠাৎ আশেপাশে লোকদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ আর ব্যস্ততা দেখে বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠলো । কোথাও বাঁধ ভাঙলো নাতো ? একমুহুর্তের জন্য মনে হলো এত ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হয়নি । ছেলেটি ও দেখলাম বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে এদিকে ওদিকে ছোটাছুটি করছে ।
আমি হতভম্ব । সবার চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ । সবাই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । আমার সাথের ছেলেটি অনেক আগেই চলে গেছে । অনেক কষ্টে একটা ছেলেকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম একটা লাশ জলে ভেসে যাচ্ছে । মনের মধ্যে যেটুকু ভয় উদয় হয়েছিল সবটুকু একনিমেষে উধাও হয়ে প্রচন্ড কৌতুহল সৃষ্টি হলো। আমিও ওদের পেছনে পেছনে ছুটলাম ।ততক্ষণে আমার ডর ভয় সব চলে গেছে । ওদের পাশে গিয়ে দেখতে পেলাম সেই ছেলেটিও সেখানে দাঁড়িয়ে । আমাকে দেখালো ফুট বিশেক দুর দিয়ে  একটা কিছু ভেসে যাচ্ছে । আর বেশ কয়েকটা কাক ওইটির ওপরে বসে ওই লাশটাকেই খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে । ওরা বলল এটা নাকি কোন মহিলার লাশ। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না । মুখ দেখা যাচ্ছে না, জলে ডুবানো। খুব হতাশ হলাম, ভালো ফটো আসবে কিনা সন্দেহ ।তথাপি যথাসম্ভব  জুম করে যতটা সম্ভব  ফটো নিলাম ।বলা যায় না হয়তো তার মধ্যে থেকে কিছু একটা লেগে যেতে পারে । মনটা খুশিতে ভরে গেল । যাক আসাটা সার্থক হয়েছে ।
অনেকটা সময় ওদের সাথে কাটিয়ে সবার কাছে থেকে বিদায় নিলাম । ফিরে আসছি পিছন থেকে কেউ একজনের দিদি ডাকে হাসি মুখে ঘুরে  বললাম,  "কিছু বলবে -- ?"
ওদের মধ্যে থেকে একটা ছেলে এগিয়ে এসে বললো, " দিদি কেমন দেখলেন ?"
বললাম, " খুব ভালো, সত্যি খুব ভালো ।ফটোগুলোও খুব ভালো এসেছে ।"
ছেলেটি হাসলো । পকেট থেকে মোবাইল বের করে বলল, "আমার নম্বরটা রেখে দিন। সময় পেলে আবার আসবেন । বন্যার জলে শেষ বেলার সূর্য ডোবার ছবি এখানে খুব ভালো আসে ।" তারপর খানিকটা ইতস্তত করে বললো, " কিছু মনে করবেন না দিদি, একটা কথা বলি ।"
বললাম, " বল---।"
---"  আপনাদের ফ্ল্যাট বাড়িতে যদি কখনো আগুন লাগে তবে দয়া করে একটা ফোন করবেন প্লিজ । ফ্ল্যাট বাড়ি আগুনে পুড়তে আমরা কখনো দেখিনি দিদি ।"




শনিবার, ১৬ জুন, ২০১৮

লজ্জা

এমন একটা দিনের জন্য
আমায় লজ্জা দিলেন ভাই ।
আমার মন প্রাণ সব অবশ করা
এমন একটা দিন যাচ্ছেতাই ---
যেন মনকে আমার ধমকে দিলে
গর্ব করার জায়গাটাকে
শুন্যে তুলে আছাড় মেরে
আঙুল তুলে দেখিয়ে দিলে
আমার মিথ্যে গরবটাই ।
আমি ঘাবড়ে গেলাম তাই ।
এমন একটা দিনের জন্য
বড্ড লজ্জা পেলাম ভাই ।

আমার আকাশটা আজ হঠাৎ যেন
চূর্ণ হলো, দীর্ণ হলো
গুমড়ে গুমড়ে  কান্না আমার
ডুকরে ওঠা রুদ্ধ শ্বাসে
ডান বুকের ঐ জলন্ত ঘায়
আগুন ছড়ায়, বিষাক্ততায়
ভাবতে কষ্ট হয় ।
আমি বুক চাপড়ে বলতে চাই
এই কি আমার শিক্ষাটাই ?
পৈশাচিক এক বর্বরতায়
কেমন করে নিলেম আমরা
ভাইয়ের জীবনটাই ?
আমি চমকে গেলাম তাই।
এমন একটা দিনের জন্য
বড্ড লজ্জা পেলাম ভাই ।

কি ছিল তার মনে
খানিকটা সে ভবঘুরে
প্রকৃতিকে ভালবেসে
নীল পাহাড় আর সবুজ বনে
ঘুরছিল সে অলস ব্যস্ততায়।
কি অপরাধে আনলে বেঁধে
প্রকাশ্যে ঐ রাজপথে
পৈশাচিক এক উল্লাসেতে
নির্মম সব লাঠির ঘাতে
দল বেঁধে সব বর্বরেরা
কাড়লে জীবনটাই।
জাহির করতে বীরত্ব সব
বন্দি করে মোবাইল ঘরে
ছড়িয়ে দিলে গোটা বিশ্বটাই ?
কাঁপলো না যে হাতটা কারো
কাঁদলো নাতো মনটা বড়
মনুষ্যত্বের টুঁটি চেপে
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলে দৃশ্যটাই!

ওরা যে দুজন অসহায়, কাঁদছিল,
যন্ত্রণা আর চিৎকারেতে বলছিল
দোহাই তোমাদের,  আর মেরো না --
আর মারলে মরে যাবো
অনেক হলো, এবার ছাড়ো, বাড়ি যাবো
ভুল করেছি, ভুল করেছি ঘুরতে এসে
প্রকৃতিকে ভালবেসে
অজান্তেতেই ঢুকে গেছি তোদের এলাকায় ।
থাকিতো ঐ পাশের জেলায়
তোদের গায়ের ছেলে মেয়েরা
অনেক থাকে আমার পাড়ায়
ওদের সাথেই সকাল সন্ধ্যা কাটাই।
ওদের বলা গল্প শুনে
এসেছি হায় এই শহরে ,
এমন ভুল আর করবো নাকো জেনো।
দোহাই তোদের পায়ে পড়ি
এইবারটি ক্ষমা করি
আর মেরো না, ছেড়ে দাও, এবার বাড়ি যাই।
আর মেরো না দাদা ওগো , তোমারতো ভাই আছে
দিদিরা সব দেখছো কি , প্লিজ তোমরা বাঁচাও এসে
দোহাই তোমাদের  আর মেরো না --
আর মারলে মরে যাবো
অনেক হলো, এবার ছাড়ো, বাড়ি যাবো
ভুল করেছি, অজান্তেই ঢুকে গেছি
এমন ভুল আর করবো নাকো জেনো।

শুনলে না সেই মড়া কান্না, নিষ্ঠুর সব --
হত্যা করে ছেলে দুটো আনন্দ রব --
ভাবছো বুঝি করলে বিজয় দেশ ।
পৈশাচিক এক উল্লাসেতে, লাঠির ঘাতে
মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা হিংস্রতাকে
আরো একবার  জাগিয়ে দিয়ে
সাময়িকী উপস্থিতির বাহাবা কুড়ালে বেশ ।
মরলো নাতো ছেলে দুটো, মারলে যারা
মারলে নিজের মনুষ্যত্ব , দৃষ্টি হারা
বুঝিয়ে দিলে সভ্যতো নও মুখোশপরা,
অন্তরেতে লুকিয়ে রাখা, যত্ন করে আবাদ করা
শয়তানেরই দেশ।
ধিক্কার -, ধিক্কার এই মানসিকতার
ধিক্কার এই গবেট শিক্ষার
ধিক্কার এই ক্লীব সমাবেশ ।




বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন, ২০১৮

দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম

( ভয়াবহ বন্যার কবলে হাইলাকান্দি, প্লাবিত বহু গ্রাম )
=== দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম===
-------এম রিয়াজুল আজহার লস্কর-----
@
দু'দিন হলো বৃষ্টি ভারি হঠাৎ এলো বান।
ঘরটা ছেড়ে ভাগছে মানুষ উড়ছে ভয়ে জান।।
জলের ঠেলায় ভাংছে সেতু,ভাংছে লোকের বাড়ি।
এদিক ওদিক জলটা বাড়ছে বিপদসীমা ছাড়ি'।।

জলের তলে রাস্তা গেলো,জলের তলে বাড়ি !
জলের তলে অফিস গেলো,জলের তলে গাড়ি !!
কোথাও বাঁধ ভাঙ্গা আধা, মারছে জলে ঠেলা !
মানুষ এখন কাঁদছে দুঃখে ভাসছে চড়ে ভেলা !!

গরু ছাগল মুরগি হাসে ভয় যে পেয়ে ডাকে।
কোথাও লোক পাতছে তাবু টিলায় উঠে থাকে।।
সবজি ক্ষেত সব ডুবল জলে হচ্ছে ক্ষতি বড়ো।
পাচ্ছে না যে ত্রাণটা লোকে মন্ত্রী নেতা লড়ো।।
@
( নির্ভেজাল সংবাদ পরিবেশন করে  "দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম ")
DSPP- 3-6.13/06/2018




বুধবার, ১৩ জুন, ২০১৮

বৃষ্টি ভেজা ঈদ

।।           রফিক উদ্দিন লস্কর           ।।
ঈদ বড়ো ভালো লাগে, ভালো লাগে বৃষ্টি
বানের জলে ঈদ যেনো জুড়ে দিলো দৃষ্টি,
বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে কেনাকাটা চলছে,
দোকানির পসরা যে বাতাসেতে দুলছে।

হাটে ঘাটে জটলায় পথচলা বড় দায়,
কেহ হাটে কাঁদা জলে কেহ চড়ে রিক্সায়।
রোদ উঠে তাই দেখে খোকা যায় বাইরে
মাঝপথে বৃষ্টিতে খোকা ভিজে যায়রে।

জল পড়ে ঝরে পড়ে খুকি-দের মেকআপ
সময় তো বড়ো কম চলতে হবে একধাপ।
ঈদ ভেলা ভেসে গেলো কৃত্রিম বানেতে
তাই দেখে সবলোকের ভয় বাড়ে প্রাণেতে।

শহরের প্রায় গলি জলে মিশে চেনা দায়!
তবু ও সাহস করে খোকা খুকি চলে যায়।
হাতে গোনা একদিন তারপরে যে আসছে
ঈদের খুশিতে সবাই নব ভেলায় ভাসছে।
************************************
১৩/০৬/২০১৮ইং
নিতাইনগর,হাইলাকান্দি (আসাম)




মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১৮

ইঁদুর
    ।।  এম রিয়াজুল আজহার লস্কর ।।

ঘরের মধ্যে পানি পড়ছে ইদুর থাকে চালায় !
ইঁদুর থাকে বিছানাতে ঘুমটা কাড়ে,জ্বালায় !!
ইঁদুর থাকে মশারিতে ইঁদুর থাকে কাঁথাতে !
ইঁদুর থাকে বালিশে ও ইঁদুর থাকে ছাতাতে !!
ইঁদুর থাকে ব্যাগের মধ্যে ইঁদুর থাকে বস্তায় !
খেদা খেলে পালায় তারা মনে মনে পস্তায় !!
@
" ঐক্যটা হোক স্বপ্ন সবার, পৃষ্ঠা নং ১১"
( কপিরাইট সংরক্ষিত )



রবিবার, ১০ জুন, ২০১৮

মায়ামেঘের দেশে

।। অভীক কুমার দে ।।

কেউ লিখতে থাকে কেউ পড়বে বলে !
কী পড়বে ? কেন পড়বে ?
কেউ পড়বে বলে
যদি মনের সুতো ছাড়ে কবিতা
যদি ভাবনার ঘুড়ি ওড়ায় গল্প
কোনো উপন্যাসের ভেতর যদি
নিজেকেই খুঁজতে থাকে বিবেক
তবে স্বয়ং তিনি অহম্,
পাঠক তিনি নিজের এবং অভুক্ত নন তিনি।
সাধক তিনি জানেন না--
একেকটা দিন চেয়ে থাকে কতগুলো উপোসী মুখের দিকে,
দুচোখে ক্ষুধার্ত ঘনকালো রাত,
অবক্ষয়ের ছায়াপথ
মায়ামেঘে কত আর ডুবে ডুবে শেষ হবে তারা
যেখানে আকাশের শূন্য কেবল নীল হতে থাকে !

কেউ লিখতে থাকে কেউ পড়বে বলে !
কেমন লেখা ?
খাওয়া যায় ? পেট ভরে ?
কেউ পড়বে বলেই তো
কত বাড়ির কতজন কত কত উপোস থেকেছে,
পড়তে পড়তে কতগুলো কাগজের টুকরো
বয়সের সাথে ভারী হয়
কোনো কাজেই আসে না !
পড়ুয়াকে আবারও পড়তে হয়,
পড়তেই হয়...
তবু নিশ্চিত খাবার জোটে না।
কথাব্যাপারিরাও ঐ মুখেই ছুঁড়ে মারে নকল শব্দ !
উপোসী মুখ মানেই কি শব্দের গবেষণাগার ?
তবে জেনে রাখুন গবেষক
সব শব্দ শোনা যায় না, লেখাও যায় না,
তপোমন জানে, নিঃশব্দেও শব্দ আছে মায়ামেঘের দেশে।




ঘুমনগরী

।। অভীক কুমার দে ।।

তারযন্ত্রের তরঙ্গে তার যে সুর
তার ভেতর অসংখ্য জন্ম মৃত্যু
একেকটি সুর মৃত্যুর পরিষদ, জাল ছোঁড়ে,
ছন্দের যাদুমণি জ্বেলে ছায়াছবি দেখে দলবাজ,
অবাক নাগরিক !

চোখের বারান্দায় সংগ্রামী লয়, কঠিন পথ
বিভ্রান্ত তার মেলে ধরে এলোমেলো ছবি
কোন সংগ্রাম আবার তারে,
বিস্তারে সুরের অনাদর যত
চোখ বুজে আঙুল চালায় অপরিচিত নির্ভীক

সুর ওঠে, নতুন সুর
বুকের রাস্তা ধরে হেঁটে যায় ময়দানে
দফায় দফায় বহু দফা দাবি
দাবির ভেতর অসংখ্য কঙ্কাল
জন্মমৃত্যু গুনে আগুন জ্বালায় বুক এবং
বোতাম টিপে টিপে অসার আকরিক।

এই অসুখের সা থেকে সাতচল্লিশ দেখি
সেখানে এক ঘুমনগরী, রাতের গল্প--
সুরেলা তারে সদ্য মৃত মায়ের লাশ,
উষ্ণ স্তন থেকে দুধের নদী আজও স্বাধীনতার সা খোঁজে সন্তানের চোখে;
যুক্তি সংযুক্তির হাবাগোবা ব
কতকাল দড়ি হবি ! ধিক্...