.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৮

কিছু কথা তোমার জন্য- ৩৬

।। অভীক কুমার দে ।।

ক'জনের একটা মিছিল, দু'একটা পতাকা হাতে;
সাতচল্লিশের পথ ধরেই এগিয়ে আসছিল লাইন, তারপর...

'এমন কেন, এমন নয়, এমন হবে, তেমন কিছু---'
চলমান সংসারের অন্তর- পর্দা সরিয়ে গুপ্তাঙ্গ মেলে ধরে রাস্তায়,
চারপাশে কিছু চেনা মুখ, নির্বাক দৃষ্টি,
জোড়ালো কন্ঠে শব্দের ম্যাজিক।
লাইন ছুটছে, মসনদ থেকে সীমানা ভায়া সাধারণ।

লাইন বড় হয়, আরও বড়, তারপর বিভাজন,
শব্দের ম্যাজিক আগের মতই।
এখন অনেক লাইন
সাইকেল কিংবা গাড়ীর পিছে মাইক বেঁধে ছুটছে।
বিকট আওয়াজ সাধারণের দেওয়াল ছুঁয়ে
জরায়ুর ভেতর।

একেকটি লাইন এগিয়ে আসছে, নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি
চারদিকের জোড়াচোখ ঘিরে ধরে
কাছে যায়, লম্বা হয় লাইন।
প্রতিশ্রুতির নীলচক্রজালে জড়িয়ে
শব্দেরা লালা ঝরায়,
লালা ফুরোলে একটা রক্তনদী গলা বেয়ে নেমে আসে।

রক্তের কালো দাগ থেকে জন্মায় আবার কোন নতুন লাইন, আবার প্রতিশ্রুতি।
লাইনগুলো এগিয়েই আসছে,
ক'জনের মিছিল নয়, ওরা এখন অনেক;
ঘুড়ে বেড়ায় সীমানা অথবা মসনদ।




শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮

ছন্দপতনের তিনটি ছন্দ

।। অভীক কুমার দে ।।

এক

এলোমেলো মানুষই মানুষের খেলনা,
একে চাই ওকে চাই তারপর ফেলনা !
রাজা আসে রাজা যায়
বদলায় হাতিয়ার,
প্রজাগণ বোঝে কই
কার সাথে, সাথি কার !
কার তারে কাঁটা কার ? কেন এই চাল ?
হাসিমুখে ফাঁদে ফেলে তুলে নেবে খাল !

দুই

ঝিরঝিরে বৃষ্টি, কত তার সৃষ্টি,
ধীর পায়ে বাড়ে যেই
ভিটেমাটি কাদা সেই।
চোখেমুখে লেগে আছে ধর্মের পলিছাপ
পিছলায় পড়ে যাওয়া অধিকার কার বাপ ?
মিনমিনে দৃষ্টি, বাঁকা পথে কৃষ্টি,
তীর খোঁজে হাঁটে যেই
চুষে খায় জোঁক সেই।
নদীনালা ডুবে গেছে, ঘরবাড়ি ডুবুডুবু
অজাতের বুকে তবু মেঘজল টুবুটুবু !

তিন

সুখের আকাশ দুখের ভেতর
দুখের আকাশ নীল,
নীলের ভেতর ডানা ছড়ায়
উঁচু দরের চিল।
নীল তখন থাকে না নীল
স্বপ্নভাঙা মুখে,
জমাট মেঘের কালো ব্যথায়
আগুন জ্বলে বুকে।




সবার সাথেই থাকবো আমি

    ।।   এম রিয়াজুল আজহার লস্কর  ।।

অনেক রকম মানুষ আছে
অনেক রকম মুখ।
অনেক রকম দুঃখ আছে
অনেক রকম সুখ।।

অনেক রকম ধর্ম আছে
অনেক রকম পথ।
অনেক রকম গুণী আছে
অনেক রকম মত।।

অনেক রকম মুলুক আছে
অনেক রকম ভাষা।
সবার সাথেই থাকবো আমি
এটাই মনের আশা।।
@
ঐক্যটা হোক স্বপ্ন সবার, পৃষ্ঠা নং ৯
( কপিরাইট সংরক্ষিত )



বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮

ছায়ামুখ

।। অভীক কুমার দে ।।

এতগুলো বছর পরও নিজেই নিজের বন্ধু হতে পারিনি এখনও। ভোরের আমি সকাল পেরোতেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠি। অথচ তুমি যখন বন্ধু বলো, তোমাকেই পরিচিত মনে হয় বেশি। এই আমি কেমন আমি, নিজেই নিজের ছদ্মবেশী !

তোমার ভেতর আমি কেবল আমার আমি'র নিষ্প্রাণ প্রতিফলন। যখন তোমার খুব প্রয়োজন আমার, 'তুমি' তোমার জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং আমি'র পতন দেখি।

বহিষ্কৃত আমি বারংবার কড়া নাড়ি তোমার বুকে। একটি ক্ষীণ আলোয় গাঢ় অন্ধকার জড়িয়ে স্থির তুমি, মৌনব্রতী। হতাশ আমি মুখ ফিরিয়ে দেখি--
পেছনে অসংখ্য ছায়ামুখ আমার, মিলিয়ে নিচ্ছে ছবি।




বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৮

স্বাধীনতা

।। সুপ্রদীপ দত্তরায়।। 









তকাল মেয়ে প্রশ্ন করলে
বাবা স্বাধীনতা কী ?
আমি থমকে ভাবি, সত্যি তো , 
স্বাধীনতা কারে কয় ।
স্বাধীনতা মানে কি মুক্তি,
অপশাসনের অবলুপ্তি 
নাকি ভয়টাকে জয়।
স্বাধীনতা মানে কি সম্মানে বাঁচা 
নির্ভয়ে চলা, খোলা মনে বলা,
সার্বিক উন্নতি, নাকি সংঘবদ্ধ দুর্নীতি ।
মানবিকতার অবক্ষয়।
স্বাধীনতা আসলে আমার কাছে 
হেমন্তের বিকেলে একমুঠো দখিনা বাতাস 
শরতে ভোরের শিশির, সারি সারি কাশ
প্রচণ্ড গরমে একপশলা বৃষ্টি 
রিক্সাওয়ালার আত্মতুষ্টি  
আর ভিখারিটির প্রত্যয় ও বিশ্বাস ।
স্বাধীনতা আমার কাছে
লাল মেঠো পথে রাখালিয়া বাঁশি ।
অসময়ে তোমার ফোন কল,
প্রজাপতির মুক্ত ডানা , ভোরের স্বপ্ন 
নোংরা শিশুটার স্বর্গীয় হাসি,
আর বসের সাবাসি ।
স্বাধীনতা আমার কাছে 
সকালের প্রভাতফেরি, মাঠে কুচকাওয়াজ 
পথে ঘাটে দোকানে "সারে যাঁহা সে" আচ্ছা গান
জেলে, হাসপাতালে ফল বিতরণ 
তাও রোগীর প্রয়োজন বা ডাক্তারের পরামর্শে নয় 
সবটাই দাতার সৌখিনতায়।
স্বাধীনতার সুস্পষ্ট ছবি 
বড়লোকের হাসি আর বদান্যতায় ।
স্বাধীনতা আমার প্রথম প্রেম।
চায়ের দোকানে কাজ করা ছেলেটির
প্রথম মাইনে। দেশ পত্রিকার উপন্যাস, 
পরকীয়ায় প্রথম রাত্রিবাস । আর ---
আর, বাঙালির জন্য  দুঃসময়ের শুরু 
দাঙ্গা, দেশভাগ, শরণার্থী ---
মনে মনে সুকুমার - মমতাজ ।
স্বাধীনতা আসলে আমার কাছে 
যাত্রা পালার সাজ।
সবটাই রঙ্গ, পালাওয়ালার কাজ ।





কষ্টনদী

।। অভীক কুমার দে ।।

একটি ঘর, বুকের উঠোন, সাজানো বাগান,
নানা রঙের ফুল, মিষ্টি সকাল
এই তো শুধু চাওয়ার ছিল,
অথচ একেকটি বেলার রোদ এসে জমা হলে
বিয়াল্লিশ চৌদ্দ পনেরো হিসেব করে
রাতের হাতেই মান ও চিত্র।
বুকের উঠোন ভাসিয়ে এক কষ্টনদী
আজও রাতের স্বাভাবিক পথে স্বাধীনতা বিলি করে।

রাতের কাছে তো স্বাধীনতা থাকে না !
রাতের আছে কালো দেয়াল
ঘুমভাঙা শব্দ আর ক্ষুধা, তাই...
রাতের কাছে বেয়াল্লিশের শরীর চাপিয়ে
পরদিন পতাকার সকাল এবং অচেনাই সব।
প্রতি বেলায় টের পাই-- কত ভিড় !
তবু কেউ আমার আত্মীয় নয়।

অনেক খারাপ রাস্তা পেরিয়ে ভালো রাস্তায়
স্বাধীন নড়বড়ে গাড়ি, স্বতন্ত্র-
তার ভরে একেকটি যন্ত্রাংশ তুমি আমি ও সে,
ভিন্ন জাতের পাটকাঠি, ধর্মের ঘি আর রাজনীতির দেশলাই
স্বতন্ত্র তাপ মাত্রা পেরিয়ে
অঙ্গে অঙ্গ জ্বালায়,
অঙ্গ ভঙ্গ হয়,
ধোঁয়া ওঠে স্বাধীন নামের মায়ের চোখের জলে;
তবুও মান আর চিত্রে চরিত্র চেনা যায় না
প্রতিযোগিতার ছায়া ছড়াতে আসে মেঘ
সব রোদ মুছে যায় শূন্যতায়।

তুমিও স্বাধীন
আমিও স্বাধীন
সে স্বাধীন হতে চায়
মান অভিমান হয়ে চিত্র বদলায় মানচিত্রে, তবুও--
কোনো নতুন ভোর বিবর্তন এনে দেবে ঠিক।




স্বাধীনতা


   ।।   রফিক উদ্দিন লস্কর  ।। 



              












তিহাস ধরে রেখেছে সব প্রমাণ ও সাক্ষী
তবু ও জানা হলো না...
আমি কে? কোথায় থাকি! আমি কি স্বাধীন! 

কথা বলতে গেলে টুঁটি চেপে ধরে,
চল্লিশ লক্ষের আকাশ কালো মেঘে ঢাকা।
দুরাশায় ঘিরে রেখেছে চারপাশ
এলোমেলো সব, কিছুতেই কিছু হয়না
আমি আটকে গেছি.....
আমি বারবার হেরে যাই,
এখনো দিতে পারিনি আমার পরিচয়।
এই মাটিতে জন্ম, এখানেই বেড়ে ওঠা
তবু ও আমায় তকমা দেয়া,
বয়স টানছে কিন্তু ডিটেনশন ক্যাম্পে
বাইরের জগত দেখার নেই স্বাধীনতা।


=============
নিতাইনগর,হাইলাকান্দি (আসাম)