“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
অভিজিৎ দাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অভিজিৎ দাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

করোনার আরো এক দিক

।। অভিজিৎ দাস।।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত তথ্য অনুসারে প্রত্যেক বছর আট লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে আত্মহত্যার মাধ্যমে । যার অধিকাংশই উপযুক্ত চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে রোধ করা সম্ভবপর ছিল । প্রতি চল্লিশ সেকেন্ডে সে সকল মানুষ আত্মহত্যা করছেন তাদেরকেও বাঁচানো সম্ভব ।

শিশু ও তরুণদের যে সমস্ত কারণে মৃত্যু হয়ে থাকে তার মধ্যে দ্বিতীয় প্রধান কারণ হচ্ছে তাদের আত্মঘাতী হওয়া । আর আত্মহত্যার মুখ্য কারণ হচ্ছে মানসিক অসুস্থতা ।
যে মারাত্মক মানসিক অসুস্থতাটি বেশি দেখা যায় সেটি হচ্ছে, ডিপ্রেশন । বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ২৭ কোটি মানুষ ডিপ্রেশনের শিকার । ২৭ কোটি মানুষ । ডিপ্রেশন ছোঁয়াচে নয় বলেই শুধু মহামারীর তকমা পায়নি হয়ত ।

ডিপ্রেশন যে একটা মারাত্মক ব্যাধি - এ বিষয়ে সচেতনতা রয়েছে আমাদের দেশের খুব কম সংখ্যক মানুষেরই । ডিপ্রেশন বলতে এরা বোঝেন মন খারাপ । এমনকি নামজাদা কবিরাও নিজের কবিতার পঙক্তিতে লেখেন, "ডিপ্রেশনের বাংলা জানি মনখারাপ" । আর এমন অনেকই আছেন যারা জানেন ডিপ্রেশন ঠিক কতটা মারাত্মক ও দুঃসহ, তবু বলেন, ওসব কিস্যু না । এটা করলে সেরে যাবে, ওটা করলেই সেরে যাবে । সত্যি বুঝিনা নিজের অনভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে এইসব টক্সিক কথা না ঝাড়লে যে কি এমন মহাভারত অসুদ্ধ হয় । এইকরম কথা যে অসুস্থতাটা আরও বাড়িয়ে দেয় সেটা এরা কিছুতেই বোঝেনা ।

মোট আত্মহত্যার ৭৬ % হয়ে থাকে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে । ভারতবর্ষ এর আদর্শ উদাহরণ । আমাদের দেশে এক লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার মানুষ প্রতি বছর আত্মহত্যা করেন, অর্থাৎ মোট সংখ্যার ১৭ শতাংশই ভারতে । এর একটা বড় অংশ সেইসব মহিলারা যারা পারিবারিক হিংসার শিকার । সেইসব কৃষকরাও আছেন যারা রাষ্ট্রের অবহেলার ফলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ।

কিন্তু এছাড়াও একটা বড় অংশের মানুষ রয়েছেন যারা নানান মানসিক ব্যাধিতে ভোগেন, অবশেষে শেষ পরিণতি হিসেবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন, কিন্তু চিকিৎসার পথে যান না । আসলে অনেকেই বুঝতে পারেননা যে তিনি কোন মানসিক ব্যাধিতে ভুগছেন । আর নিজে বুঝলেও কাছের মানুষদের অবহেলার কারণে সেই অসুস্থতা আর কোনদিনই সারে না । ফুরিয়ে যায় জীবন । উচ্চআয়ের দেশগুলোতে বেশি, ফলে আত্মহত্যার হার কম । তাছাড়া প্রাণঘাতী কীটনাশক নিষিদ্ধ করার ফলেও অনেকটা ফারাক এসেছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা ।

তাই আসুন এবার জেনে নিই ডিপ্রেশন নামের মানসিক ব্যাধিটির কিছু লক্ষণ ও প্রতিকার । তার আগে বলে রাখি, কারো ডিপ্রেশন কিনা তা ব্লগপোস্ট পড়ে নির্ণয় করা সম্ভব নয় । নির্ণয় একমাত্র মেন্টাল হেলথ প্রফেশনালরাই করতে পারেন, উপযুক্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে । বা আমি যা বলতে চলেছি সেগুলোই যে ডিপ্রেশনের একমাত্র লক্ষণ ও প্রতিকার তা একদমই নয় । শুধু একটা প্রাথমিক ধারনা হিসেবেই জানবেন । বাকিটা সাইকিয়াত্রিস্ট বা সাইকলজিস্টরাই বলতে পারেন ।

১। অবিরত দুঃখের অনুভূতি, দুশ্চিন্তা, সবকিছুই অর্থহীন মনে হওয়া ।

২। আশাহীন হয়ে যাওয়া । ডিপ্রেশন গ্রস্ত ব্যাক্তিরা কিছুতেই কোন আশা খুঁজে পাননা ।

৩। একটা অপরাধবোধ কাজ করে, নিজেকে মূল্যহীন অথবা অসহায় ভাবতে শুরু করেন ডিপ্রেশনের রোগীরা ।

৪। একসময় যা ভাল লাগতো তাও আর ভাল লাগেনা ।

৫। মনোযোগ কমে যায়, স্মৃতিশক্তিও । সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন ।

৬। ঘুম হয় কমে যাবে, নাহয় বেড়ে যাবে ।

৭। মেজাজ চিরচিরে হয়ে যায় ।

আট । সব থেকে মারাত্মক লক্ষণ হচ্ছে আত্মহত্যার ভাবনা মাথায় আসবে, আত্মনিধনের চেষ্টাও করতে পারেন ।

এগুলো হচ্ছে ডিপ্রেশন নামক দানবীয় অসুখের লক্ষণ । এবার প্রশ্ন হচ্ছে কেন হয় ? ডিপ্রেশনের একটা নির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয় । অনেকসময় অনেকগুলো কারণের জটিল সমন্বয়েও ডিপ্রেশন হয়ে থাকে ।
পরিজনদের সহায়তা ও সঠিক চিকিৎসাই ডিপ্রেশন থেকে রেহাই পাবার উপায় ।

আপনি যদি আপনার কাছের কোন মানুষের মধ্যে এরূপ আচরণ দেখেন, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাহায্য নেবেন । নিজে নিজে থেরাপি দেয়ার চেষ্টা করবেন না, কখনো বলবেন না, ও কিচ্ছু নয়, ডিপ্রেশন কোন রোগই নয়, এটা করলে সেরে যাবে, ওটা করলে সেরে যাবে... প্লিজ এরকম ওস্তাদি করার অর্থ হচ্ছে তাকে মৃত্যুর দিকে আরও একটু স্বেচ্ছায় ঠেলে দেয়া ।

করোনা মহামারী রুখতে ভারতবর্ষ ও সারা বিশ্ব জুড়েই যে লকডাউনের পথ বেছে নেয়া হয়েছে তার ফলে করোনাকে অনেকটা রুখা গেলেও অর্থনৈতিক মন্দা আসবেই । এমনিতেই ভারত বর্ষের অধিকাংশ মানুষের আয় দশ হাজারের কম, ফলে এই অর্থনৈতিক মন্দা জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে চলেছে । মানসিক অসুস্থদের আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, হতে পারে করোনা সংক্রমণের চেয়ে করোনা কর্তৃক সৃষ্ট মানসিক চাপই অধিক মানুষের মৃত্যুর কারণ হবে । জর্মনির হেশেঁ প্রদেশের অর্থমন্ত্রী টমাস শেফার গত ২৮ মার্চ ২০২০ খ্রিস্টাব্দে আত্মহত্যা করেন করোনা সংক্রমণের ফলে হওয়া অর্থনৈতিক বিদ্ধস্ততার রূপ দেখে হতাশ হয়ে ।

অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা বছর পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে । ফলে মাতাপিতারা নিজের সন্তানদের পাশে থাকবেন । বিচলিত হতে দেবেননা । মানসিক অসুস্থতাকে উপেক্ষা না করে আর দশটা অসুখের মতই প্রতিরোধ করুন ও অন্যদের করতে সাহায্য করুন ।

শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৯

জনবিস্ফোরণ

লিখেছেন  অভিজিৎ দাস

হেলেন বাবুর জন্মদিন আজ । চল্লিশটা বছর বেঁচে আছেন পৃথিবীর গায়, প্রত্যেক বছর আজকের দিনটাতে নিজের উপর বেশ গর্ববোধ করেন তিনি, গর্বেরই বিষয় বটে, পৃথিবীতে বেঁচে থাকা কি আর চাট্টিখানি কথা? কিন্তু, এ বারের জন্মদিনটা আর পাঁচটা জন্মদিনের মত নয়, আজ তিনি মরবেন বলে ঠিক করেছেন । নির্ধারিত বয়স যদিও পঞ্চাশ, কিন্তু দশ বছর আগেই বিদায় নেবেন বলে পরিকল্পনা করে রেখে ছিলেন বেশ ক-বছর আগে থেকেই । আজ সেই দিন চলে এসেছে । শহরের সকলেই উনার জন্যে গর্বিত । সকলের এত ভালবাসা দেখে অবাক হচ্ছেন খুব হেলেন, সত্যি, লাভ ছাড়া কেউ গর্বিত বোধ করেনা !

আরশি জগতে দেখা দিয়েছে জনবিস্ফোরণ, তাই মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এসেছে বহু রাষ্ট্র । ভি,আই,পি নামের কতক জীব ছাড়া পঞ্চাশ বছরের বেশি বেঁচে থাকার অধিকার নেই কারো । এ নিয়ে আন্দোলন কম হচ্ছেনা, মানুষ ক্ষুব্ধ খুব । গদি হারানোর চরম সম্ভাবনা রয়েছে শাসক দলের । হেলেনবাবু কখনো এক কলমও লেখেননি এসব নিয়ে, জীবন-মৃত্যু নিয়ে কোনও লেখাই তাঁর কলমে উঠে আসেনি কখনো । স্থানীয় একটা কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি লেখালেখি ছিল উনার সখ, গোটা দশেক বই লিখেছেন, পাণ্ডুলিপি তৈরি আরও দুটোর । এমনি করে ভালোই চলছিল হেলেন সাহেবের একার জীবন, হুট করেই যেন চলে এলো মৃত্যু দিনটা ।

সারাদিন ধরেই লোকজন আসা যাওয়া করছেন । অন্যদের মত কোনও জাঁকজমক চাননা মৃত্যুর অনুষ্ঠানে, বরং সেরে ফেলতে চান একান্ত ঘরোয়া ভাবেই । তবুও আসছেন লোকেরা উপহারের ডালি সঙ্গে নিয়ে । এই মাত্র বেড়িয়ে গেলেন দুই সহ-অধ্যাপক, দুজনেই খুব ভাল উপহার এনেছেন । উনারা না আনলে হেলেনবাবুর কখনো জানাই হতনা এভাবেও মরা যায় । একজন এনেছেন একটা সূচ । এই সূচ শরীরের যেকোনো কোথাও ১ সেমি প্রবেশ করালেই মৃত্যু নিশ্চিত, এমনকি গোড়ালিতেও । পছন্দ হয়েছে উনার খুব এটা । অপরজনেরটা আরও চমৎকার, একটা ডি,ভি,ডি,
ডি,ভি,ডি-তেই মৃত্যু ।

উপহারের স্তুপ নেহাত ছোট নয় । ডেথ টুলই অধিকাংশ । ডেথ টুল ছাড়া শুধু রয়েছে একটা মাত্র চকোলেট । পাশের ফ্লাটের লোকটার সাথে এসেছিল উনার ছ-বছরের মেয়েটি, বাবা দিলেন ডেথ টুল, দেখাদেখি মেয়ে দিল চকোলেট । ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বেশ একটু ধমকেও দিলেন পিতা কন্যাকে,
অসামাজিক, অসভ্য মেয়ে ! আজকের দিনে চকোলেট দিতে আছে?

যখনই একা হচ্ছেন স্মৃতিতে ডুবে যাচ্ছেন যেন । কত কত স্মৃতি এই চল্লিশ বছরের । মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে বারবারই, খুব ইচ্ছে করছে মাকে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদতে, একটু হাঁসতে, মা মা বলে ডাকতে । ভাবতে ভাবতে মনে পরে গেল সেই ছোট্ট বেলার কথা, যখন বিশ্বাস ছিল পৃথিবীর সব কিছু তিনি পারবেন । তখন মৃত্যুকে খুব ভয় করত তাঁর । মৃত্যু থেকে পালিয়ে বেড়াতেন কল্পনায় । যেমন করেই হোক, তিনি অমরত্বলাভ করবেনই । নিজেই একটা কিছু আবিষ্কার করবেন যা দিয়ে মৃত্যুকে এড়ানো যাবে, পৃথিবী ধংস হয়ার আগেই কিছু একটা করে চলে যাবেন অন্য একটা গ্রহে...ওসব কথা ভেবে বড় হাঁসি পাচ্ছে আজ । যে মানুষটা মৃত্যুকে এত ভয় করত সেই মানুষটাই আজ দশ বছর আয়ু রেখে মরতে যাচ্ছে !

জীবনটা আসলে বিষিয়ে উঠেছিল কেমন... কিছুই আর ভাল ছিলনা, কিছুই ভাল লাগতনা । একটা মানুষের মধ্যে দুটো মানুষ বেঁচে আছে বহুদিন । মা ছাড়া জীবনে কাউকে কখনো পাননি, অথচ মায়ের মৃত্যুর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মাকে খুব মনে পড়েছে এমন হয়নি । বরং কল্পনার স্ত্রী, কল্পনার প্রেমিকা, কল্পনার সন্তান, কল্পনার বন্ধু এদেরকেই মিস করতেন একেকসময় ।

অতিথি আসা বন্ধ হল রাত নটার দিকে । শেষদিকে বেশ হাঁপিয়ে উঠেছিলেন । হাঁসি মুখে কথা বলতে পারার একটা সীমা আছে সবারই, আর তাছাড়া আজকের দিনটা জীবনের শেষদিন, ইচ্ছা ছিল নিজেকে নিয়ে কাটাবেন
পারা গেলনা । আজ রাতেই মরতে হবে, ইচ্ছেটা কখন যেন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে । মরতেই হবে । আগামিকাল ভোর ভোর মেডিকেল কলেজ থেকে লোকেরা আসবে দেহটা নিয়ে যেতে, ওদের জন্যে হলেও মরতেই হবে । শেষবারের মত একটু ঘুমাতে ইচ্ছে হল । রাত এগারটার অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন তাই, এটাই তাঁর জীবনের অন্তিম সাধ

পরদিন সকাল ছটায় এসেই মেডিকেল কলেজের অ্যাম্বুলান্স উপস্থিত হল । দরজা সাধারণত ওরা ভাঙে, ভাঙতে ভাঙতে দরজা ভাঙাটাও একটা প্রথা এখন । কিন্তু দরজাটা ভাঙতে হলনা, খোলাই ছিল । মৃত্যুই যখন জীবনের উদ্দ্যেশ্য তখন এমন সুরক্ষার কথা ভাবা মূর্খতাই বটে ! কিন্তু লাশ বাহকরা অবাক হলেন যথেষ্টই এতে, কিন্তু তারও চেয়ে অধিক অবাক হলেন সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খোঁজেও কোনও মানুষের দেহ না পেয়ে ।
ডেথ টুল গুলোর স্তুপ পড়ে আছে, লেখার টেবিলে খাতা, ল্যাপটপ, রেফ্রিজারেটরে খাদ্য, নেই শুধু সেই জন্মদিনের উপহার চকোলেট আর গতকালকের ডেথ্‌ ডে বয়

মঙ্গলবার, ৫ মার্চ, ২০১৯

কবিতা


।। অভিজিৎ দাস।।



(C)Image:ছবি










ই যে তুমি আছো
আমি আছি
আর আছে নির্ভুল বানানে লেখা আততায়ী ফুল
প্রত্যেকের প্রত্যেককে চুমু খেতে হয় ।


বাধ্য তুমি, বাধ্য আমি, বাধ্য সমুদ্দুর
বাধ্য যেমন জান্নাতের বাহাত্তরটি হুর ।

লুলুলিলাআলুলি লুলুলালুলুলালি লালিলালিলু । আমাদের মত তারা বানর, কুকুর, মানুষ পাঠায় না । তারা জানে মানুষ হতে হতে, হতে না পারা বানর, মানুষের পা চাটা কুকুর আর মানুষ  কেউই বিশ্বাস যোগ্য নয় । তারা প্রজাপতি পাঠায়, তোমার গায়ে এসে বসলে লজ্জায় লাল হয়ে যাও, বিয়ে লাগলো বলে ! তুমি আইবুড়ো থেকে যাও, তাদের গবেষণা এগিয়ে যায় বহুদূর ।

আসে বাতাস ভাসে ঘাস
আসে পবন ডুবে মন ।...ডুবতে ডুবতে একদিন কবিতা পড়তে শুরু করে । পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে পৌঁছলে পরে নিজেই কবিতা লেখে । তারপর হঠাৎ থেমে যায় পবন, এমেরিকা অব্দি ডুবতে পারেনা । জ্বলে পুড়ে পাথর হয়ে যায়, এমেরিকা তখন নীল তিমি, লাল তিমি আর পঙ্খিরাজ ঘোড়াদের নিয়ে সংসার পাতে, মধ্যবিত্তের সংসার, আমুল তাজা আর পাঞ্জাব চালের ভাতের সংসার ।


বুধবার, ২৫ জুলাই, ২০১৮

শহর শিলচর


।। অভিজিৎ দাস।। 

শিলচর এক আজব শহর । ঐতিহ্যমণ্ডিত যেমন, ঠিক তেমনই আবর্জনামণ্ডিতও । এতদিন ধারণা ছিল আবর্জনা বোধহয় শুধু পথেঘাটেই, কিন্তু সে ছিল এক ভ্রান্ত ধারণা মাত্র । মানুষের মন যত পরিষ্কার, তাদের পরিবেশও তত পরিষ্কার । অবশ্য এই সূত্রকে সত্য ধরা হলে এটা মেনে নিতেই হবে, হিঁদুদের চেয়ে খ্রিস্টানরা অনেক বেশি ভালো মনের অধিকারী । ত্রিপুরায় দেখেছি একই গ্রামের হিঁদুদের এলাকা কত নোংরা এবং খ্রিস্টানদের এলাকা কত বেশি পরিচ্ছন্ন ।
শিলচর ভাষা শহীদদের শহর । শিলচরের আনাচে কারা যেন শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে স্থাপন করেছেন স্তম্ভ । খুব খুশি হতাম দেখে । কিন্তু কেন হতাম তা আদৌ জানিনা, শহীদ বেদি স্থাপন করাটা হচ্ছে লোকদেখানো, এছাড়া আর কিছুনা । কই, কলেজের ৯৯% সহপাঠীতো বাংলা পড়তে ও লিখতে জানেনা ঠিকঠাক ।
কিছুদিন আগে বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছি, চা খাব । রামানুজ কলেজের ওদিকটায় হাঁটছিলাম, হঠাৎ চোখে পড়লো একজন ভদ্রলোক রাজকীয় কায়দায় বৈকালিক আলাপচারীটা সারছেন । তিনি সুঠাম পাছা রেখে বসে আছেন শহীদবেদীর উপর । অত্যন্ত ঘৃণা জন্মাল । ইহাই কি তবে শহর শিলচরের প্রকৃত রূপ, নাকি শহরের লজ্জা মাত্র ?



বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮

আমি হিমু হতে চেয়েছি















মি হিমু হতে চেয়েছি দুইদিন,
তারপর মনে পড়লো হিমুরও একজন
রূপা ছিল ।

যে ছেলেটা আমাকে কাকা বলল
সামান্য আলো পাওয়ার আশায়...
সে আমার সমবয়সী ।

একটা গান বেশিক্ষণ শুনলে ঘেন্না জন্মায়
তোমার বেলা উল্টো হল, তোমাকে শুনতে না পেতে পেতে
ঘেন্না ধরে গেল ।

আমাকে যারা বিশ্বাস করার কথা
তারা করতে পারেনা ।
আমাকে যারা বিশ্বাস করার কথা নয়
তারা অনায়াসে বিশ্বাস করে ।
আমারো মাঝে মধ্যে ইচ্ছে জাগে,
নিজেকে একবার বিশ্বাস করে দেখি,
নিজেকে একবার অবিশ্বাস করে দেখি ।।


বুধবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৮

দাঙ্গার পর



খনই কোথাও রক্ত দেখি,
মন্দির, মসজিদ অথবা জঙ্গলে
আমি আকাশের দিকে তাকাই ।

যখনই কেউ আমার দিকে ছোরা নিয়ে ছুটে আসে
অথবা বন্দুক তাগ করে
আমি আকাশের দিকে তাকাই ।

যখনই কেউ বেসুরো গান গায়
অথবা কেউ দেশের মাটি বলে চেঁচায়
আমি আকাশের দিকে তাকাই ।

আমি কোনও কাজ করিনা
আমি কোথাও যাইনা
আকাশের দিকে তাকাই আর
একদিন সবাই আকাশে তাকানো শিখবে
এই বিশ্বাস পোক্ত করি ।

শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৮

কবিসম্মেলন

।। অভিজিৎ দাস ।।

(C)Image:ছবি













বি সম্মেলনে এসে অনেকেই হুট করে কবি হয়
আমি সেবছর কবি সম্মেলনে গিয়ে জীবন হয়েছিলাম ।
কবিরা যখন নারীর প্রেম, দুঃসাহসিকতা অথবা সমাজ পরিবর্তন নিয়ে ব্যস্ত ছিল
আমি তখন আমার গোঁফ ও দাড়ির চিন্তায় অস্থির ছিলাম
মাছের ডাক শুনছিলাম কল্পনার পুস্কুনিতে ।
আমি ধর্ষণের কথা বলিনা, প্রত্যেকটা মানুষই ধর্ষিত ।
আমি অমানবিক হত্যালীলা নিয়ে কবিতা লেখিনা,
প্রত্যেকটা মানুষই কয়েকবার প্রাণ দিয়েছে, যারা আছে, সকলে মৃত ।
বিশ্ব উষ্ণায়ন, বৃক্ষচ্ছেদন কোনো কিছু নিয়েই আমার কবিতা হয়না,
আমি জানি, সব গাছ মরে গেলে, মরে গেলে সকল জীবন, পৃথিবীর
কিচ্ছু যায় আসেনা, সূর্যের ভালবাসা একটুও কমবেনা তাতে ।
যদি তুমি বল, আমার সব চুল পড়ে গেলে, পড়ে গেলে সব দাঁত
সব গোঁফ-দাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার পরেও তোমার ভালবাসা

একটুও কমবেনা, তাহলে আবারো আমি কবিসম্মেলনে যাব ।

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

তিন প্রেমিক-প্রেমিকা


।। অভিজিৎ দাস।।
(C)Image:ছবি













জকে বরং প্রেম নয়, গান করি তিন জনে
চলে এসো তেঁতুল তলায়, মনুর জল সিঞ্চনে ।
দিনের মাথায় ব্যতিব্যস্ত রসায়ন, স্বপ্ন ডুবছে দুন্দুবুড়ির চরে
দিনের মত আতঙ্ক শেষ, জীবিতরা ফিরছে মৃতদের ঘরে ।

আমি কোন গান গাইবনা, শুনবওনা, দেখবো শুধু ঠোঁটের
নড়াচড়া । দর্শক হই বা শ্রোতা, দাম তো একই ভোটের ।
আজকে কোন আহ্লাদী না, পড়তে পড়তে আজব কিন্তু সত্যিখবর
চাঁদের সাথে ছল করে সূর্যসম ক্লান্ত করে কেড়ে নেব ওর

সমস্ত আলো । আজকে প্রেম না, তিন প্রেমিক-প্রেমিকা
চল গান করি, ওষ্ঠ নিয়ে লেখি গান বিষয়ে প্রেমের টীকা ।


বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৭

ব্যবহারকারীদের কাছে নগ্নছবি চাইছে ফেসবুক

।। অভিজিত দাস।।
         ব্যবহারকারীদের কাছে  তাঁদের নগ্নছবি ও ভিডিও চাইছে ফেসবুক , যাতে ছবিটি ভবিষ্যতে ফেসবুকে আপলোড করা হলে ব্লক করা সম্ভব হয় । উদ্দেশ্য প্রতিশোধমূলক পর্ণো প্রতিরোধ করা ।

        পরীক্ষামূলক ভাবে প্রক্রিয়াটি চলছে অস্ট্রেলিয়ায়, যে সকল ব্যবহারকারীরা এই নিয়ে চিন্তিত আছেন যে তাদের প্রাক্তন সঙ্গী/সঙ্গিনীরা আপলোড করতে পারেন তাঁদের নগ্ন ছবি, তাঁদের নিশ্চিন্ত করার খাতিরেই ফেসবুক চাইছে উনাদের নগ্ন ও ঘনিষ্ঠ ছবিগুলি । ফেসবুকের সফ্টওয়্যার "হ্যাশ", অর্থাৎ ছবিটির ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরী করে রাখবে স্মরণে, যাতে পরবর্তীতে যখনই আপলোড করা হবে তখন আপনা-আপনি চিহ্নিত হয়ে ব্লক হয়ে যায় । পরীক্ষাটি শুরু হবে শিঘ্থই কানাডা ও মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্রে ।

         ফেসবুক কর্তৃক নগ্নচিত্র ও প্রতিশোধমূলক পর্ণ ব্যান এবং ইউ.কে'তে দুই বছর অব্দি জেল ঘোষণা সত্ত্বেও এখনো এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বড় একটি সমস্যা । এজন্য প্রতি মাসে ৫৪,০০০ মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে ফেসবুককে ।

এ প্রসঙ্গে জেনে নেওয়া প্রয়োজন প্রতিশোধমূলক পর্ণ বা Revenge Porn কী ?
Revenge Porn বলতে বোঝায়  কোনো ব্যাক্তির অজ্ঞাতে এবং অনুমতি ছাড়াই তার ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও আপলোড ও শেয়ার করা । সোস্যাল মিডিয়ার অগ্রগতির দৌলতে বেড়ে চলেছে প্রতিশোধমূলক পর্ণোও ।

এটা কী অপরাধ ?
২০১৫-র এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস এ প্রতিশোধমূলক পর্ণো একটি দন্ডনীয় অপরাধ । এই অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের জেলও হতে পারে । অপরাধ ঘোষণার প্রথম বছরের মধ্যেই বিচার হয়েছে প্রায় দু'শ অভিযুক্তের । যদিও Revenge Porn এর শিকার হওয়া অধিকাংশ মানুষই ভয় ও হতবুদ্ধিতার জন্য সামনে আসেননা ।

ফেসবুকের এইপরীক্ষা চলাকালে, দ্বিধাগ্রস্থ ব্যক্তিদেরকে অনলাইন মারফৎ অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে । ওখান থেকে ফেসবুকে ছবি প্রেরণ করার পরামর্শ দেওয়া হলে তবেই উনারা ফেসবুকের মেসেঞ্জার এপ এর মাধ্যমে ছবি পাঠাতে পারবেন ফেসবুকের কাছে ।

যদিও ব্যবহারকারীরা প্রায়শ খুব সহজেই ছবি রিসাইজ অথবা ক্রপ করার মাধ্যমে "হেশিং" টেকনোলজির চোখে ধূলো দিচ্ছেন, কিন্তু, Alex Stamos, ফেসবুকের প্রধান সুরক্ষা অফিসার, এই বলে আশ্বস্ত করেছেন যে, এসব ঠেকাতে উপযুক্ত পরিবর্তন আনা হচ্ছে টেকনোলজিতে ।


বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭

পৃথিবীকে ভুল পথে হাঁটাও

।। অভিজিৎ দাস।। 
(C)IMage:ছবি








বার সময় শ্বসনের এসেছে
রাতকে আঁকড়ে ধরে আটকাও
একটা রাতকে তিনদিন ধরে টানো
কুপি সকল নিভিয়ে দাও
ভেঙে ফেলো কাঁচের সব আলো-বল
এবার সময় দহনের এসেছে
পৃথিবীকে ভুল পথে হাঁটাও
চর্বিসার মড়া খাইয়ে ফুলিয়ে দাও
যেমন করেই হোক
রাতকে আটকে রাখো ।
সব ডাকাতি দিনেই হয়
রাতগুলো খুব নিরাপদ ।

মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৭

বৃষ্টিতে

















।। অভিজিৎ দাস।।




ত্যি মন লিখে রাখার হলদে মতন খাতা
সেদিন যখন পথজুড়ে গ্রাফাইট বৃষ্টি হচ্ছিলেন
আমার পাঁচ ফুটি দেহের 'পরে রাখা ছিলেন ছাতা
প্রেয়সী আমার আকাশ থেকেই মৃত্যু এনে দিলেন

আমি বরণ করতে চাইনি সেই জেলির মত মরণ
চুলময় প্লাস্টিক মাখানো, তা-ও আগোছালো
মনে করতে পারছিলামনা কোনটা কার্য কোনটা সরণ
গ্রাফাইট অন্ধকারে উত্তীর্ণ হলেন, আমি
খুঁজে পেলাম আলো ।

সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৭

কবি, কবিতা এবং আমি

।। অভিজিত দাস।।

(C)Image:ছবি











কাশময় কবিতা ছাপিয়ে
ভুলে গেল কবি, অথবা জানলোইনা
ছাপা খরচা
আকাশেরই দেয়ার কথা !
কথাটার শুদ্ধরূপ হবে
"Mind is faster than time"
আর না হলেও, স্বপ্নে বিহ্বল ।
মৃত্যু, ধর্ষণ ও যুদ্ধের কবিতা লিখতে লিখতে
সকল কবিরাই ভুলে গেছে
কবিতা শুধুই প্রেমের হয় ।
আমি ভুলতে পারিনি বলে
হতে পারিনি এখনো কবি :
কবিদের ভিড়ে আমি একাই
সাধারণ মানুষ ।

রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

প্রতিবাদী

       
(C)Image:ছবি
   
 ‘ন্তর্জাল রচনা লিখতে গেলে সমাজে এর উপকারিতা বিষয়েও লিখতে হবে, আর সেটা লিখতে গেলে প্রথমেই যে উপকারিতার কথা বলতে হবে সেটা নিশ্চয়ই প্রতিবাদী সৃষ্টি । আমাদের চারপাশে, মাঠেঘাটে, পড়ার টেবিলে, বাস স্টপে, চলন্ত ট্রেনে, ওয়াটার প্রুফ মোবাইলের কল্যাণে বাথরুম, সুইমিং পুল ও নদীর জলে সবখানেই মাশরুমের মত জন্ম নিচ্ছে প্রতিবাদীরা । অনেক নামগন্ধ কামাচ্ছেন আমাদের এই প্রতিবাদীরা, সত্যিই আন্তর্জালের এ এক করিশমা, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক না এলে সমাজ জানতেই পারতোনা যে, এত এত প্রতিবাদী লোক আছেন পৃথিবীতে ।
            রমেন তাদেরই একজন, বেশ নামগন্ধ আছে । রমেনের কপাল ভালো খুব, যারা কপালে অবিশ্বাসী রমেনকে দেখলে তাদের প্রত্যয় হবেই হবে । এমনই কপাল রমেনের যে, রোজ একটা না একটা প্রতিবাদের বিষয় পেয়ে যায়, আমি কত করে খুঁজি - পাইনা ! আমার সামনে কেউ কুকুর মারেনা, বৌ পেটায়না এমনকি একটা ধর্ষণও হয়না !
             এইতো সেদিন, রমেন যাচ্ছিল পিসির বাড়ি, হঠাৎই পেয়ে গেল একটা লোক পথের কাছে পড়ে আছে এসকিটেন করে, কেউ সাহায্য করছেনা, রমেন বাইক থামিয়ে ছবি তুলে দিয়ে দিল ফেসবুকে, তারপর বাইক এস্টার দিয়ে রওনা দিল ফের পিসির বাড়ি, পিসির বাড়ি পৌঁছে মোবাইলটা খুলতেই দেখে তিনশো লাইক, পঞ্চাশটা কমেন্ট, কমেন্টে কমেন্টে নিদারুণ নিন্দা সমাজের । রমেন দেরি না করে প্রতিমন্তব্য করে খুব শীঘ্রই পঞ্চাশকে একশো করে তবে দম নিল ।
             রমেনের পপুলারিটি আমার হিংসার কারণ, আজ হিংসাটা বেড়ে গেল বহুগুণ, একটা পোষ্টে 2K লাইক !  এত হতোনা, কিন্তু ঘটনাটা ওর নিজের বোনের সাথে কিনা তাই । বাড়িতে ছিলনা কেউ, শুধু রমেনের ক্লাস সেভেনের বোন । রমেন বাড়ি পৌঁছে শুনতে পেল বোনের কান্না, ব্যাপার কী? ষাট বছরের এক বৃদ্ধ লোক রমেনের বোনকে ধর্ষণ করছে, রমেন আর যায় কই ! কী অমূল্য সম্পদ পেয়েছে, আড়ালে লুকিয়ে পুরো ঘটনাটা মোবাইল বন্দী করে দিয়ে দিল ফেসবুকে । ব্যস, কত কত লাইক পাচ্ছে, কত শত কমেন্ট ।

বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

দুটি কবিতা

|| অভিজিৎ দাস ||

পার্থক্য

জল ভরা বালতি
বালতি ভরা জল
এক নয় 

প্রথমটা বললে
বন্যার কথা মনে আসে

দ্বিতীয়টা বললে
মনে আসে পায়খানার কথা 

একইভাবে
তুমি ভরা আমি
আমি ভরা তুমি
এক নয়

প্রথমটা বললে
একজন কবি চোখে ভাসে
দ্বিতীয়টা বললে
পাগলিনী !



রিক্সা

রিক্সায় কোনো আয়না থাকেনা
কেউ কেউ পরে লাগান
পেছনে আসা গাড়ি দেখতে নয়
পেছনে বসা যাত্রী দেখতে
যখন ছোরা মারেন পেছন থেকে কেউ
তখন তাঁদের চেহারা যেমন হয়
অনেক রিক্সাওয়ালাই সেটা দেখতে ভালোবাসেন ।

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৭

উঠোন

|| অভিজিৎ দাস ||

(C)Image:ছবি












মাটির উঠোন উঠে এসেছে
আকাশের ছাদে ।
মাটির টানে সবুজ না হয়ে
আকাশের টানে নীল হচ্ছে ।

সারমর্ম প্রায়  থাকছে একই :

মাটির উঠোন অহংকারী
অপর সে জন স্বার্থপর ।

শনিবার, ১০ জুন, ২০১৭

খুড়োর কল


|| কৈবল্লানন্দ ||

 
(C)Image:ছবি
  সেইকালে
টিকে ফিকে না থাকিলেও খুড়ো এখনও দস্তুরমত টিকে আছেন, বলা ভালো বহাল তবিয়তে আছেন । কখনও তিনি বেহাল হইয়াছেন এমন কথা তাঁর শত্রুরাও বলিতে পারেনা । আমাদের খুড়ো মহাশয় আমাদের বাপ-খুড়োদেরও খুড়ো মহাশয় ব্যাপারটা সর্বজনীন । খুড়ো মহাশয় বঙ্গদেশে (পূর্ববঙ্গের শ্রীহট্ট জেলা) কোন এক পাঠশালা হইতে পাশ করিয়া এনট্রান্স অবধি পড়িয়াছিলেন শুনিতে পাই, সেখানে পড়িতে পড়িতে স্বদেশী আন্দোলনে যুক্ত হন, দেশভাগের কারণে এদেশে ( ত্রিপুরায় ) উদ্বাস্তু হইয়া আসেন, পাহাড়ে পাহাড়ে আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াইতেন, তাই উদ্বাস্তুরা যখন কট্টর কংগ্রেস সমর্থক তখন খুড়ো কমিউনিস্ট । কখনো মেম্বারশীপ পাইয়াছেন কিনা তা জানা নাই কিন্তু আজীবন নিজেকে একজন আদর্শ কমিউনিস্ট বলিয়া জাহির করিয়া থাকেন, আমাদের নিত্যদিনের আসরে খুড়ো মধ্যমণি হইয়া এখনও বিরাজ করেন যেভাবে আমাদের বাপ-খুড়োদের আমলে করিতেন । সর্বজনীন পূজামণ্ডপ লাগোয়া ক্লাব ঘর ও অর্ধ্বশতাব্দী প্রাচীন মুদিখানা এখানেই প্রতিদিন আমাদের আসর বসে । শিক্ষক, অধ্যাপক, ডাক্তার, বেকার, সবাইকে নিয়াই আসর, আসরে আলোচনার বিষয় বহু বিচিত্র । খুড়ো মহাশয়ের চা, পান, চারমিনার ( সিগারেট ) সবই আমাদের জুগাইতে হয় সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলিয়াছে
অদ্য আসরে রাজনৈতিক দলগুলির আর্থিক সঙ্গতি বিষয়ে আলোচনা হইতে ছিল হঠাৎ খুড়ো চায়ে চুমুক দিয়া হুমশব্দ করিয়া ভানুবাবুর ভাষায় থম মারিয়া গেলেন ।  খুড়োর ভাবগতিক দেখিয়া সমস্ত ঘরে কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্ববর্তী নিস্তব্ধতা নামিয়া, দ্বিতীয়বার চায়ে চুমুক দিয়া চোখ খুলিয়া পুঁচকেকে জিজ্ঞাসা করিলেন কত কোটি বলিলে ?” পুঁচকে কিছু বুঝিতে না পারিয়া থতমত খাইয়া গেল, খুড়ো পুনরায় বিশদে বলিলেন আমাদের কমিউনিস্ট পার্টির তহবিল কত বলিলে ?” পুঁচকে বুঝিতে পারিয়া বলিল প্রায় আটশ কুড়ি কোটি টাকা। শুনিয়া খুড়ো একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়িয়া চুপ করিয়া রহিলেন, বাকি চা ঠাণ্ডা হইয়া গেলেও খুড়োর ভাবগতিকের কোনও পরিবর্তন নাই ।
আমরা সবাই চুপ করিয়া আছি, পাতা পড়িলেও শব্দ হইবে এমন একটা দম বন্ধ করা অবস্থা ।অবশেষে বলিলেন খুড়ো আহা আমাদের সময় যদি থাকিত!আমরা বলিলাম কী খুড়ো ?” খুড়ো বলিলেন পার্টির টাকাআমরা বলিলাম, “এখন থাকিলে কি কাজে আসিবে না ?” খুড়ো বলিলেন, “আলবৎ আসিবে, কিন্তু আমার তো সে বয়স নাই আর বুড়োর কথা শুনিবে কে ?” আমরা সবাই একসঙ্গে বলিলাম, “খুড়ো বিশদে বলিবে ?” খুড়ো বলিলেন, “পরিকল্পনা খানা সংক্ষেপে বলিতেছি, শুন, প্রথমে ২০০ কোটি টাকা খরচ করিয়া এক খানা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি খুলিবার লাইসেন্স সংগ্রহ করিতাম, পরে প্রতিটি জেলা অফিসে দপ্তর খুলিতাম, D/C মেম্বারদের  D/O করিতাম, D/C সেক্রেটারিকে ম্যানেজার ।  ব্রাঞ্চ অর্থাৎ L/C স্তরে কমরেডদের এজেন্ট জমজমাট টাকা সংগ্রহ শুরু হইত সঙ্গে জনসংযোগ । এরপর সেই টাকায় গ্রামে গ্রামে বিদ্যালয়, জেলায় জেলায় কলেজ, বাঘা বাঘা শিক্ষক, অধ্যাপক নিয়োগ করিয়া পাঠ দিবার  ব্যবস্থা করিতাম সঙ্গে আলাদাভাবে মার্ক্সবাদের একটা ক্লাস প্রতিদিন নেওয়া হইত । এইবার I.A.S., I.F.S., ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, শ্রমিক নেতা, কৃষক নেতা তৈরি হইয়া সারা ভারতবর্ষে ছড়াইয়া পড়িত, যে কমিউনিস্ট ভাবনা আমরা এত বছরেও সারা ভারতবর্ষে গ্রহণযোগ্য করিয়া তুলিতে পারি নাই তাহা দুই দশকে সম্পন্ন করিয়া সারা ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট শাসন কায়েম করিতে পারিতাম । আমরা সমস্বরে বলিলাম সাধু, সাধু ।খুড়ো দ্বিতীয়বার চায়ের কাপে চুমুক দিয়া থম মারিয়া বসিলেন বুঝিলাম এবারেরটা দ্রব্যগুণ