সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১
তুমি
বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০
যদি জন্ম নিতে হয়
।। সুপ্রদীপ দত্তরায়।।
যদি ফিরে আসি আরো একবার
শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০
আম্ফান
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
দুঃসময়
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ইমোজি
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সেলিব্রেট
।। সুপ্রদীপ দত্তরায় ।।
| (C)ছবি:image |
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
আগর রহনা হ্যায়
।। সুপ্রদীপ দত্তরায় ।।
আমার জন্যে প্রার্থনা করবেন সবাই,
আজ বেশ কিছুদিন রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।
এমনিতে কোন সিম্পটম নেই,
না জ্বর, না সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট
শুধু স্বাদ আর গন্ধ বোধটি নেই।
মুখে নেই স্বাদ -- মনেও
প্রতিদিনের পাঁচমিশেলি খাবারগুলো
এখন অরুচি লাগে।
বাড়িতে রকমারি ফুল গাছ
ফুল ফুটেছেও অনেক।
সবাই বলে খুব নাকি সুন্দর গন্ধ,
আমি কোথাও গন্ধ পাই না খুঁজে।
প্রতিদিন যা রান্না হয়,
গরম মশলা, পাঁচফোড়ন কিংবা
ঘরে তৈরি কেক বা বারুদের গন্ধ --
কিছুই আর আমি পাই না।
সুবিধা অনেক, ভালোর সাথে মন্দও,
দিব্যি খেয়ে যাচ্ছি সব।
এখন কোন কিছুতেই নুন, ঝালের মাত্রা বুঝি না আমি ।
আমার কাছে রক্ত আর আলতা এক ।
আমার মতোই আরো অনেক রোগী আছেন
যারা মনে মনে অনেকদিন থেকেই আক্রান্ত,
মুখে স্বীকার করেন না, ভয়ে বা লজ্জায়।
ওইসব কোরোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য
আমার সত্যি করুণা হয়।
লোকে বলে মহামারী এসেছে দেশে
আমার কিন্তু মনে হয় তারও বেশি কিছু।
সমস্ত বোধ শক্তিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে সবার
ধীরে ধীরে।
চোখে বোবা দৃষ্টি,
যত প্রতিবাদ সব চার দেওয়ালের মধ্যে
বাড়িতে বৌ, বাচ্চা আর
কাজের মেয়েমানুষটির সাথে ।
নিষ্ফল আক্রোশ আর গলা জ্বালা করা কান্না।
একটা সত্য এতদিনে উপলব্ধি হয়ে গেছে,
" আগর রহনা হ্যায় তো আওয়াজ নিচে,
বোলে তো বুলডোজার।’
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সেরোগেট মা
।। সুপ্রদীপ দত্তরায় ।।
| (C)Image:ছবি |
ছোটবেলা থেকেই জানি,
আমি সেরোগেট বেবি, স্বাভাবিক নই।
আমার জন্মটা অন্য একটি
গর্ভ ভাড়া নিয়ে।
অনেক টাকার বিনিময়ে। আমি জানি।
একজন মহিলা যিনি দশ মাস দশ দিন
তিলে তিলে প্রাণে স্পন্দন এনে আমাকে,
শুধু মাত্র টাকার বিনিময়ে ছেড়ে যেতে পারেন
তাকে লোকে যাই বলে বলুক ,
শ্রদ্ধা করতে পারি না --
এমনটাই ভাবনা ছিল আমার।
আমার এখন যিনি মা, নিজের শরীরটাকে
মাখনের মতো মসৃণ রাখতে আমাকে
ছেড়ে দিয়েছিলেন ওই মহিলাটিরই গর্ভে।
আমি জানতাম।
আমার সেরোগেট মা, ওকে আমি চিনি,
ছবি দেখেছি বটে, মনের ছবি আঁকিনি কখনো,
আমারই দোষ,খানিকটা ক্ষোভ
আর অবশ্যই অভিমানে।
আমাদের বাড়িতেই কাজ করতেন উনি,
দেখতে সুন্দর, ছিমছাম পরিছন্ন,
অভাবের সংসারে যতটা সম্ভব, ছিলেন ,
একটা আশ্চর্য মমতা ছিল মুখে।
আমার জন্ম নিয়ে জটিলতা ছিল শুনেছি,
তাই নিয়ে কষ্টও পেয়েছেন অনেক।
ডেলিভারির পর অনেকদিন, ছিলেন শয্যাশায়ী।
তারপর আর খোঁজ নেই।
প্রয়োজনে যশোদা মাকে পেয়েছি পাশে,
দেবকী আমার খোঁজ রাখেননি কোনদিন।
আমি সেটাই জানতাম।
আজ তিন বছর ফাইন আর্টসে মাস্টার্স করেছি
ইন্ডিয়ান স্কাল্পচার ছিল বিষয়।
বর্তমানে বিশ্ব বিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করি।
সেবার মন্ত্রীমশাইএর বাড়িতে দুর্গাপূজা হবে
মন্ত্রীমানুষ, ব্যাপার স্যাপার একটু আলাদা
সবকিছুতেই ব্যতিক্রম চাই।
আমার তাই ডাক পড়েছিল প্রতিমা গড়ার।
আদেশ নয় অনুরোধ, আদেশ থেকেও বড়,
না বলার ধৃষ্টতা আমার মেরুদণ্ডে কোথায় ?
একটা শর্ত দিয়েছিলাম শুধু, ছোট্ট একটা--
কাজটি আমি বাড়িতে করতে চাই, মণ্ডপেতে নয়।
মন্ত্রীমশাই তাতেই রাজি, খুশিতে সহমত ।
মন্ত্রী বাড়ির মূর্তি হবে, ঝক্কি আছে অনেক,
ভালো হলে, দেখতে সুন্দর, মন্ত্রী নেবেন ক্রেডিট,
আর যদি কাজটা খারাপ হয় ---, থাক।
অনেক যত্ন নিয়ে, নাওয়া খাওয়া ছেড়ে,
সৃষ্টি নিয়ে মেতে উঠলাম আমি।
একটু করে খড় বাঁধছি, মাটির প্রলেপ,
কাপড় সেঁটে ফাটল দিলাম ঢেকে।
ধীরে ধীরে আকৃতিটা নিল । রঙ চড়াতেই
মায়ের মুখটি ভাসে।
এত সুন্দর আমার হাতের কাজ !
মাগো, কত যত্নে ফসল তুলছি মা,
ঘরটা যেন ভরেছিল আলোয়।
অবশেষে মহাষষ্ঠী এলো আমার দোরে।
মন্ত্রীমশাই কথা রেখেছিলেন,
গাড়ি পাঠালেন, সঙ্গে একটা খাম।
দশটা মুটে কাঁধে তুলে নিল
টেনে তুললো গাড়িতে,
বাজলো সানাই, আতসবাজি
সঙ্গে একশো ঢাক।
মা চলেছেন সেজেগুজে মন্ত্রীবাড়ি আজ।
শতকন্ঠ গর্জে উঠে "দুর্গা মা কি জয় " ।
বুকের ভিতরটা মুচড়ে উঠলো
গলায় কান্নার দলা,
আর পারি না, আর পারি না, একি হলো !
আর একটু দাঁড়া, একটু দেখি,
আমার সন্তান, আমার সৃষ্টি, আমার "আত্মজা",
শেষ বারের মত আমায় একটু দেখতে দে,
ঘরটা আমার শূন্য করে আলো কাড়িস না।
পায়ের নিচে শক্ত মাটি আটকে রাখে পা
আমার ঘর আঁধার করে শয়তানেরই ছা।
বোবা কান্নায় বাতাস স্তব্ধ, আমি ঘরে একা,
সেরোগেট বেবি এবার সেরোগেট মা।


