“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
মেঘালয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মেঘালয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০২৩

সমুদ্র তুমি

 

   


















।। সিক্তা বিশ্বাস ।।


নীল নভতলে গভীর অতলে 
তরঙ্গিত তুমি অতলান্ত অবয়ব, 
কত প্রাণ ও জলজ উদ্ভিদের
সার তব জলজ্যান্ত বাস্তব।
বক্ষে ধরেছ অমূল্য রতনে, 
তিলে তিলে সঞ্চিত পরম যতনে, 
নিত্য নতুন আবিষ্কারী মনে
আলোড়ন অবিরত প্রতি ক্ষণে ক্ষণে... 
নীল গরিমার মহিমা যে অপার, 
পরম সৃষ্টি তুমি সৃষ্টি-কর্তার... 
বিজ্ঞানী মনের আকর্ষিত দৃষ্টি... 
মানব সভ্যতার তুমি সাক্ষ্যআধার। 
নিত্য সূর্য তোমাতে উদিত, 
দিনাবসানে তোমাতেই অস্ত, 
ভাবুক মনের তুমি গভীর ভাবনা
 সাধনায় তুমি শুধু তোমারই তুলনা...

ঝড়োমেঘ
৮ই জুন ২০২৩ইং। 

মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

অদ্ভুত


 ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।

(C)IMAGE:ছবি


 
 
 
 
 
 
 
]
 
 
 
 
 
 
 
বিচিত্র জীবনের 
বিচিত্র স্বাদ! 
খাঁজে খাঁজে লুকোনো
অদ্ভুত ফাঁদ!

সৌভাগ্য, সাথী অদৃশ্য 
কেবল বিমুখী জবাব! 
বুদ্ধি নয়কো লোহা তবু 
ঝংকারে মর্চা রবাব!

বিদেহী মর্যাদাবোধের
আঘাতই অনুভাব! 
মানুষ আবহাওয়া নয়
তবু বদলই  স্বভাব!

ধন্য জীবন! শান্তি খোঁজে, 
অশান্তি মূলত অজ্ঞাত নিজে! 
মাত্রাতিরিক্ত সঞ্চয়ী সচেষ্টা
আনন্দমার্গী উদ্বুদ্ধ! অদ্ভুত তেষ্টা।
  
         **********

শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

সংক্ষেপের সার





 
।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
 

দিনে দিনে কতো যে হয় শিক্ষা । সংক্ষেপই আসল দীক্ষা! সংক্ষেপই ব্যস্ত জীবনের সংরক্ষণ ও সফলতার একমাত্র উপায়। তবে এর নমুনা কুনু কুনু সময় তাজ্জব করে। 
           আজকে পুরানা পাড়ার নিমাইকাকারে নববর্ষের প্রণাম করতে গিয়া আমার সংক্ষেপের বোধোদয় হইছে! কলিংবেল টিফতেই  কাকায় দরজা খুলিয়া আমারে দেখিয়াই গুজা হইয়া মাথা নওয়াইয়া শুভ নববর্ষ,শুভ নববর্ষ কইয়া নমস্কার দেওয়া আরম্ভ করলা, আর ইতা দেখিয়া আমি তানরে  প্রণামের বদলা পাশ কাটাইয়া এক দৌড়ে কাকিমার কাছে গিয়া কইলাম, কাকার কিতা মাথাত দুষ হইছেনি গো! আমারে নইয়া নমস্কার দিরা!!
              কাকিমায় কইলা আইজ তাইন খুব ধাক্কা খাইছইন ! ভাতিজিরে নববর্ষের স্নেহাশীর্বাদ পাঠাইসলা সংক্ষিপ্ত উত্তর দেখিয়া আমারে ডাকিয়া কইন , তারার ব্যস্ততা ও সংক্ষেপে সারার কাছে খালি আমরা নায় আমরার কৃষ্টি-কালচার ও মরিয়া ভুত!!

                           **********

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

কর্তন


 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 সিক্তা বিশ্বাস 


খণ্ডে খণ্ডে বিভাজন
ঐক্যতার হয় কর্তন, 
যৌথ পরিবার খণ্ডিত
অনুতে সে রূপান্তরিত। 

সপরিবারে  হৈ-হুল্লোড়
কচিকাঁচাদের ঝাপ-দৌঁড়, 
মুখরিত আনন্দডোর 
মনোগ্রাহী আড্ডা-বাসর।

অনুতে যে মুষ্টিমেয়
যৌথতে সে অমেয়, 
অনুর ক্ষীণ অনুধ্বনি
অট্টনাদ যৌথ প্রতিধ্বনি। 

অপহৃত সেই ঐতিহ্য
মুখরিত গুঞ্জন মূর্ছিত!
স্বার্থান্বেষী রূঢ় বিদারণ
ভবিষ্য একাকীত্ব আহরণ। 

        *********

শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

সেই ট্র্যাডিশন আজও চলছে...

 
 সিক্তা বিশ্বাস
 
(C)IMage:ছবি


সংক্রান্তি নিয়া আমার এক বন্ধুর উচ্ছসিত পোস্টও আরেক বন্ধুর(সুতপা) মন্তব্যে: 'ইতা ফটো দেখিয়া আর কতো খাইতাম 😪' , পড়িয়া আমার অনুসন্ধানী মনটা সেই উৎসত পৌঁছি গেল যার উফরে এই প্রচলিত প্রবাদ, 'What Bengal thinks today India thinks it tomorrow.' যদিও ইখানো ভারত উল্লেখিত তবে আইজ বিশ্বব্যাপী এই প্রবাদ প্রযোজ্য! আজকের এই ডিজিটাল যুগও সবই কেবল দর্শনানন্দ! আগে মস্করা মারিয়া কওয়া হইতো , এরা ওতো কিপ্টা যে কইতে গেলে মাছের ছবি দেখিয়াই ভাত খাইলাইন! তবে ব্যবহার হইতো মস্করা হিসাবে! আর ওখন তো সব উচ্চ মার্গের! ছবি দেখিয়াই  ঘন্টার পর ঘন্টা চলে আনন্দ আসরের উপভোগ ও আড্ডা! সুতপার মতো প্রশ্নের উদয় প্রায় প্রত্যেকেরই হয় তবে ইটারে প্রতিষেধক হজমির মতো গিলা হয় একই ফায়দা মনও করিয়া: যাই হউক খাইয়া ওজনতো বাড়তো নায়! এই হেল্থ কনশাসনেসই আমারার 'উত্তরণ' ! অন্যজাতির কথা জানি না তবে বাঙালির এই কৃতিত্বের অধিকারী আমার মনও হয় একমাত্র সেই গোপাল ভাড় যেইন তৎকালীন দিনও দৃষ্টি-আগুন আর দৃষ্টিভোগের পরিচয় কৃষ্ণচন্দ্র রাজারে করাইছলা।হেডস অফ টু হিম। যখন তাইন রাজারে দুপুরে খাওয়ার নিমন্ত্রণ করছিলা, তখন রাজা ও তান মন্ত্রীবর্গের সন্দেহ আছিল কিপ্টা গোপালের আতিথেয়তা সম্বন্ধে! প্রায় সন্ধ্যায় খুধায় যখন রাজার পেট জ্বলের তখন রাজারে দূরের দাবাগ্নি দেখাইয়া গোপালে সান্ত্বনা দিছলা, ঐ দেখইন মহারাজ চুলার আগুন জ্বলের, ওখনো রান্না শেষ হইছে না! সাহিত্যিক এস ওয়াজেদ আলির উক্তি অনুযায়ী আমরাও আইজ ছবি দর্শন করাইয়া আতিথেয়তার সেই ট্র্যাডিশন বজায় রাখিয়া চলিয়ার ! এবং ক্রমশঃ উত্তরণও আগুয়ান!

                    **************

মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

ভোল


(C) Image:ছবি
 
  



'সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।'
সুতরাং পুরুষ তুমি থাকো সিংহাসনে!
আমার 'আমি' ছেড়ে দিলে সংসারে সুখ নিশ্চিত! 
তাই বলে কি সেল্ফ ক্যায়ারে লাপাত্তা হওয়া উচিত!?
ইচ্ছেমত সেল্ফ ক্যায়ার, নারী পারেনি করতে শেয়ার! 
যৎসামান্য প্রকাশ পেলেই 
নিন্দের ঝাঁপি চিরকালেই!
রীতির জন্যে মানুষ যে নয়, 
মানুষের জন্যেই রীতি হয়! 
তবে কেন দায় চাপানো!? 
বিপরীতে কেবল চোখ রাঙানো!
বাঁধ ভেঙে নারী যখন দাঁড়িয়ে সমান্তরালে
বাধ্য হয়েই কানাঘুষা আড়ালে আবডালে!
লোক দেখানো ভাওতাবাজি! 
নারী জাগরণে পূর্ণোদ্যমে রাজি! 
বিবাহ বিচ্ছেদের হার আঙুল দেখায়! 
এ ও পিঠ-পিঠেতে চাকুবাজি! 
ভোল পাল্টানো সমাজের এই তো কারসাজি!

                   *************
 

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

হেঁয়ালি



।। সিক্তা বিশ্বাস ।।


হেঁয়ালি
=========


মন বিহঙ্গের কত রূপ... 
খেয়াল-খুশিতে অসীম অরূপ... 
অবাধ গতি যেন উড়োজাহাজ
বাহারি সাজে কেবল খুশির মেজাজ...

কখনও সে যে শিশু প্রায়
খোলা মাঠে কেবলই দৌড়ায়...
কৈশোরের ছোঁয়া লাগলে তায়
উড়ন্ত দ্বিজ রঙিন নেশায়...

যৌবনের ছটায় ভরা নেশা... 
পলে পলে সে যে স্বপ্ন দেখায়... 
দু'চোখ ভরা শুধু স্বপ্ন আশার... 
স্বপ্ন সাকারে পিপাসা ছোটার...

ছোটার নেশা মেজাজে মেশা
ফাঁকে ফাঁকে কেবল হিসেব কষা! 
ছুটতে ছুটতে অসার ক্লান্ত
প্রতিটি পদে শুধুই ভ্রান্ত!
          *********

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

অপত্য স্নেহ


  ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
     

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
ডিগবাজি খায় ঐ যে পাগল
বারবার করে চোখটি গোল! 
কোন খেয়ালে সাত সকালে
কেইবা আছে তা জানার তালে! 
হাসছে সবাই! বাড়ছে ভীড়! 
তবু নিশানা চ্যুত নয়কো তীর! 
পাচ্ছে ব্যথা! হানছে আঘাত! 
তবুও তদন্ত নেই দৃকপাত! 

হঠাৎ ওঠে ডুকরে কেঁদে... 
কি ভীষণ খাঁজ এই বাড়ির ছাদে! 
কাল বাছাটি গেছে যে পড়ে! 
চোখ বেয়ে জল ঝরেছে ধারে... 
ধারায় রক্ত পড়েছে ঝরে...
না জানি কি ব্যথা পেয়েছে সজোরে! 
যদিও শান্ত করেছি বহু কষ্ট করে
তবু পারিনি সারাতে তাঁর ব্যথাটারে! 
আমি তাঁর এ কেমন বাপ! 
পারিনি করতে তাঁর ব্যথার মাপ! 
পারিনি ঘুমোতে অশান্তির তোড়ে
তাই তদন্ত আজ বারেবারে। 
হে বিধি, রেখো আমার বাছারে  আদরে
কোনো বিপদে যেন না পায় তাঁরে, 
 পাগল বলে সবাই তুচ্ছ করে!
কেউ বোঝেনা বাপ যে আমি,
আমি ভুলি তা কেমন করে!!

*************************

দেখা যায় কত বিচিত্র অভিযান, 
কেইবা দেয় তার যথাযথ মান!
সমাজের এ কি পরিমাপ! 
পাগল কি আর হয় কা'রো বাপ!? 
আমরা সবাই ভবের ভবী! 
পাগল সে যে খাচ্ছে খাবি!
কে মাপে তাঁর ভাবের তাপ!? 
ভবের বিচারে এ এক বিষম চাপ! 

            *************