“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

সেবক


পিঁপড়েগুলো শিল্পীর মত ছবি এঁকে হাটছে। 
লড়াই  প্রতিনিয়ত
ভাতকাপড়ের,
কেউ থেমে নেই।
মিথ্যে আবরণে শরীর  ঢেকে
প্রধান চেয়ারে বসে আছি
কারণ
সাপ লুডো খেলায় আমি অপরাজেয় ।
ফুটপাতে লাথি মেরে ভাতের থালা উপড়ে দিই,
প্রয়োজনে শরীর খুবলে কাপড় ছিড়ে দিই।
স্কুলের দরজা ভেঙে
রোদ-বৃষ্টি ছাদে শৈশব পোড়াই,
বিশ্বনাগরিকের
ভাষণ-উত্তরীয় গলায় নিই
কাঁটাতারের সীমানায়।
পরবর্তী ইচ্ছে-
অজ্ঞাতবাস পরে
বিরাট রাজ্যে অভিষেক
        ৷৷ মিঠুন ভট্টাচার্য্য।।

সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

বেমসুমে ফুল ফোটাতে পারি

 ।। আবু আশফাক্ব চৌধুরী ।।

 


 

 

 

 

 

হে আমার নয়নঝুরি প্রিয়তমা 
যদি কাছে থাকো অনায়াসে
 ফুল ফোটাতে পারি বেমসুম দিনে 
নীল আকাশের বুকে লিখে দিতে পারি
তোমার অশ্রুত নাম হৃদয়ের রক্ত দিয়ে 
মেঘেরা ধোয়াবে এসে যত্ন করে
তোমার উদ্ধত বাহুযুগল
যদি কাছে থাকো অনায়াসে 
প্রজাপতির ডানা থেকে হাজারো বর্ণের 
শিখা ছিনিয়ে আনতে পারি


সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বিকেলের শিহরণ

 

।। রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ ।।

(C)সৌজন্য

 

 

 

 

 

বুদ্ধি-সুখে কাতরায় কিছু দৃশ্য 
মাতব্বরি শেষে রাতের শিহরণে
উত্তেজনায় টানটান গাণিতিক ত্রাণ 
বিশেষজ্ঞ মেঘে কাতুকুতু 
জাগিয়ে রাখে মৃত্যুর সংলাপ 
স্বপ্নদোষ এড়িয়ে কবিতা দোষে
খাতায় চোখ বুজে আসে…

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

তমসা সিরিজ

 

 

 


 

 

 

 

 

 ।। অভিজিৎ চক্রবর্তী ।।

 

 

এক

 

একা নিরক্ষরা রাত। ওড়ে বাঘছাল।

মা মা বলে ডাকে মনোহর। ভয় পেয়ে ডাকে।

বিষাদ। পংক্তির কাটা মাঠ। ফাঁকে ফাঁকে

সরোবর। তোর লীলা অবাধ। অক্ষর-শিস নাভি থেকে ওঠে

ধ্বনি তো প্রহরের প্রমাদ। লুঠ হবে গ্রহ-তারা

পরমায়ু, যতি। কারক ও ক্রিয়াপদ।

 

 

 

দুই

 

কপালে আলোর ছিটে লাগে। দূর গোধূলি-মায়ার। যাও ছুটে যাও।

ছবি। স্মৃতি। দেহ ভেসে যায় কোলাহলে।

একা জলযান আসে

গোপন। লোকালয়ের। লাল নীল আলো চোখে মুখে।

মাঠেই দাঁড়ালো। তমসা। নিকষ কালো

কালো তো মা-ই আমার।

কান্না শুকিয়ে পাথর। পাথর তো মা-ই।

পাথরের স্তন। চুষতে চুষতে স্ফুরণ

 

তিন

 

জলের ভিতর আর বাইর। রাস্তায়

পানের দোকানেসব কথা জমে ক্ষীর।

নিরক্ষর চাঁদ। উদার জোছনা।

জোছনা না কাচ। পায়ে বিঁধে যায় অনুগত দিন।

দিনের ভেতর না বাহির। পাত

এই সংশয়ে বাজে বীণ

                      বাড়ে ঋণ

 

চার

রাত-সরোবর। চাঁদ নেই। তাই অন্ধ।

দেখে না। কবি দেখে। কবিরা নিশাচর।

নেশাচোর। হাতে পায়ে পাথরঝুনঝুনি। মল।

ধরতে চাইলেই মাছেরা নড়ে খলবল

 

 

 

পাঁচ

 

এরপর ক্ষুধা। এরপর খাড়া

সবার চোখের সামনে দাঁড়া

কাঁদা লেগে রক্ত লেগে ঘাম

জন্মের মাটি দিলাম। তবে

এবার দ্বিগুণ বেগে খাড়া

শীর্ষচূড়া তারায় ভরা

রাত্রিটা দুদিক থেকে নাড়া

 

ছয়

 

তুমি মাটি। কাল ছিলে শিরে

কাল তোমাকে ঘিরে ধূপ-ধূনা-উল্লাস

মন্ত্র ছুঁইয়ে দিয়েছি কপালে। এখন রোদ

এখন সত্যের বোধ। দায়ভার। গাছের তলায়

মেলেছে ক্রোধ। । অথচ কাল মুদ্রা, নৃত্য- বিভঙ্গে। 

ধ্বনি সর্বাঙ্গে। মেঘ ও বাদলাহাওয়া ও যতিচিহ্নের। এখন করুণ

একফোঁটা জলের রেখায়। লক্ষ্যে স্থির

যত গুণ, ডুবে যায়

 

 

সাত

ভেদ করো। তবে তুমি

ঝলসে পড়ো ছুঁয়ে ভূমি

শিরস্নান খোলো ত্রিনয়নী

মারো মারো মারো। জ্বালো ধুনি।

জাগে জাগাও। ভেতরে

আপাদ বিস্তৃত ভূমি। তারপর

ঊর্ধ্বগামী। আঁকাবাঁকা। ওঠো

তুলে ধরো। তুলে ধরো

দেখাও অ-যোনি

 

আট

 

কেঁপে কেঁপে ওঠো। বাজে তারা

মুণ্ডে মালা গাঁথা। গলে তারা

কেঁপে কেঁপে ওঠো। হাড়ের গয়না

বাজো রণে। অক্ষরে নাচাও

ডম্বরু দোলে। শিখায় শিখায় দিহন

শিরায় শিরায় সুনামী। অকারণ

বেজে যায় ঘর হতে শ্মশানভূমি

 

 

 

নয়

 

এরপর কাব্য বলে দিলাম ঊরু। ঊরু নয় ঊরুসন্ধি

এরপর কাব্য বলে দিলাম ক্ষত

চুইয়ে পড়া জল। জলের ভাঁড়ার একা বন্দী।

নগ্নপদে  চ্যাংদোলা হয়ে

জ্বালো চিতা। হাড়ের ভেতর ঘুমিয়ে পিতা।

বাজুক শয়তানি। ব্রহ্মখুলি ফাটুক।

ঝরুক। বৃষ্টি পড়ুক।

এরপর কাব্য বলে দিলাম ধরিয়ে মধ্যমণি।

ঘি-এর বাজার। যজ্ঞথলি।

ঝরুক জোছনা। জোয়ারে ফাটুক সোনার খনি

 

 

 

 

 

দশ

 

ডুবছিনা তো ভেসে উঠছি বন্ধ দুয়ার

মাথার ভেতর একের পর একের জোয়ার

নীলের কথা শুনবে বলে মনের গতি

বিষের বড়ি আহামরি আবার যতি

ধন্দ নিয়ে একাই একা বসত গড়ি

দুখানা দু'দিকে লাগিয়ে নিজেই লড়ি

 

 

 

 

 

 

এগারো

 

তোমার কাছেই ভয়। ভয় মানে বটের ঝুরিঅতিকায়।

জঙ্গল নিবিড়। ভেদ করে যাবে ধড়।

পৌঁছুবেখোলা মাঠ। বৃষ্টিতে ঝাপসা। ধড় আর কী

মুণ্ড খুঁজে পাবে। শুধু যাবে। একা। চেনা পথ

পেরিয়ে। অচেনা। সারি সারি ঘর

দরজার ধড় টোকা দিয়ে যায়।

মুণ্ড নাই। মুণ্ড কী আর পাবে! মুণ্ড তো তোমার হাতের মুঠিতে

চোখ বুজেই আছে

 

 

বারো

 

অথচ তেমনি নীল। ঝড়।

তেমনি উড়ো টিন। ভয়াল। ক্ষুরধার।

হত্যাকাণ্ড ফোঁটা ফোঁটা

চাপ চাপ। জনসভা। মিছিল। তরুণ

কবির লাশ মাড়িয়ে। পলাশ না শিমূল

কাটা হাত-পা আড়াআড়ি। ৪৪০ ভোল্ট

বিদ্যুৎ প্রবাহ। বিষে জর্জর। নীলাভ।

অসুরেরা সারি সারি মাথানত দাঁড়িয়েছে

একটাই অপরাধকবির বই পুড়িয়েছে

 

 

 

 

 

 

 

তেরো

 

 

ফোঁটা ফোঁটা ঠোঁটে। কাটা পথ। প্রুফ দেখা

হল না আবারো। ফাঁকে দেখা যায় ঝড়।

বাতি নেই। অন্ধকার। বেগ পায়। মাথা বলি

না ব্রহ্মতালু। ব্রহ্ম বুঝিনি যদিও। শব্দ

পাইনি এখনো। ধ্বনিজন্ম

কাটে না আর। প্রুফের তলায় চাপা

মাঝে রাস্তা। টেরিকাটা। নানা রঙের আলোয়।

আলো না পানীয়, দোলে সামনে পেছনে।

ফোঁটা ফোঁটা। বই বেরিয়ে যায় আবারো

অপ্রকাশিত। ভুলে ঠাসা। এর মাথা ওর

জুতা। দেব দেবারি হয়। রাক্ষস জনতা।

 

 

 

 

চৌদ্দ

চাঁদ আসিয়াছে। থার্ড ডিগ্রি লাগাও

বোঁ বোঁ মাথা। মাথা তো নেই, মস্তক।

পুস্তকের মত। আপ্রাণ। অযোনিসম্ভূত।

জবা ফুল ফুটিয়াছে।

 

 


সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৪

ঘরের দিকে ফিরে তাকাইনি একবারও

 ।। মোহাজির হুশেইন চৌধুরী ।।


বাড়ির বাঁ পাশের কোণায় ঘরটি দাঁড়িয়ে আছে
তিনতলা।
নতুন পলেস্তারায় রাজমিস্ত্রির গন্ধ
এখনও লেগে আছে
যে আসে ঘুরে ঘুরে দেখে
 সে-ই বেশ তারিফ করে
বিশেষ করে প্রকৌশলগত চারুকলার
এবং আমার বিশাল খরচের বহর
 
আমি একদিনও ফিরে তাকাইনি ঘরটির দিকে
কারণ আমি জানি এ ঘরটি আমার নয়
 
সুরম্য একটি কোঠা অবশ্য আমার জন্য বরাদ্দ আছে।
কাঁচের জানলা সোনালী হাতল কারুকাজ করা দরজা
ভীষণ আকর্ষণ করা এ সি ব্লগ
মেহগনি কাঠের সুদৃশ্য পালঙ্ক
 
প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করি
দেয়ালের আয়নায় নিজের মুখ দেখি
এক বেদুইন মুসাফির দাঁড়িয়ে থাকে
প্রতিদিন কপট আয়নায়
প্রতিবিম্ব আমাকে একটা মাটির ঘরের দিকে
টেনে টেনে নিয়ে যায়
উপরে বাঁশের ছাদ মাটির দেয়াল
চারপাশে ছড়ানো ছিটানো কিছু কংকাল
আমি একা নি:সঙ্গ অন্ধকারে   ডুবে আছি
শুধু বুকপকেটের ডাইরিখানা লটকে আছে 
কেউ হয়তো পড়ে নেবে কোন এক অন্তিম দিনে 
তারপর ঠেলে দিবে জান্নাত বা জাহান্নামে 

 
 
 
 
 
 


সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩

প্রিয় সবুজ আস্তানা

।। মিঠুন ভট্টাচার্য ।।

প্যালেস্টাইনে আলপটকা 
বোমারু বিমানের বর্ষণে 
তোমার মৃত্যু। 
আমি ভেঙে
উত্তরাখণ্ডে জলস্রোতে ভেসে গড়িয়ে যাই,
হয়তো তেলেঙ্গানায় খুটি ধরে
জীবন খুঁজি।
তোমায় যে আর মোবাইল স্ক্রিন থেকে বারান্দায়
খুঁজে পাই না। 















মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৩

যে ঠাকুর,জমিন-দার

 ।। সপ্তর্ষি বিশ্বাস।।

(C) সৌজন্য


কবি ওমপ্রকাশ বাল্মিকী র " ঠাকুর কা কুঁয়া" র ছায়ায় ]
—- –--- 
চুলা মাটির। মাটিপুকুর
ছেনে তোলা। পুকুর
কারযে ঠাকুর,
জমিন-দার।
#
ক্ষুধা রুটির। রুটি আটার। কার
আটাআটার ক্ষেতপুকুর
যার। যে ঠাকুর,
জমিন-দার।
#
বলদহালজোতখামার
সবই তাঁরপুকুর
যার। যে ঠাকুর,
জমিন-দার।
লাঙ্গলও তাঁরকেবল ঘাম,
রক্তখাটা —- হে আমারহে
তোমার। এবং শেষে
ফসল কারসবই তাঁরপুকুর
যার। যে ঠাকুর,
জমিন-দার।
#
পানি ও জলশস্যাগার,
এবং পাড়ারাস্তাঘাট
সবই তাঁরপুকুর
যার। যে ঠাকুর,
জমিন-দার।
তাইলে বাকি
সব আমার
গ্রামশহরদেশটি আর
দেশের ভার?
দশের ভার?
—-
সপ্তর্ষি বিশ্বাস 
০৩/১০/ ২০২৩
[https://amarsonarbanglaamitomaybhalobasi.blogspot.com/2023/10/blog-post.html?m=1]





 


রবিবার, ২৫ জুন, ২০২৩

আমি মণিপুর বলছি .........

।। এ এফ ইকবাল।।

(C)Image:ছবি












বুলেট-ঝাঁঝরা শহরের  
একটি খোলা ক্লাব থেকে   
আমি মণিপুর থেকে বলছি।   

আমার প্রিয় দেশবাসী-  
যদি শুনতে পাও  
আমার বেদনার আওয়াজ   
শোনাই তাহলে তোমাকে   
আমার কাতরানোর সুর   
যদি দেখতে পাও-  
দেখাতে চাই আমার জ্বলন্ত হৃদয়খানা ! 

আমার উঠোনে একদা  
কিচিরমিচির করত যে পাখিগুলো 
বন্দুক আর গুলির শব্দে 
আজ তারা ছুটোছুটি করছে  
দিকভ্রান্ত হয়ে এখানে ওখানে !  

শিশুদের খেলার ময়দানে আজ  
সকাল সন্ধ্যায় প্রতিধ্বনিত  
শুধু সৈনিকের রণরণি ! 
থাকতো যারা একত্রে ক্রীড়ামত্ত      
তারাই হয়ে উঠেছে কেমন হিংস্র 
পরস্পরের রক্ত ​​পিপাসু ! 

সময় হবে তোমাদের ? 
দেখে যেতে আমার চৈতন্যের ময়দান   
যেখানে চলছে আজ  
রাজনীতির কোন কৌশলী খেলা   
ভাইয়ে ভাইয়ে লড়িয়ে    
নির্মাণ হচ্ছে এ কোন উত্থানের সিঁড়ি- 
দেখে যাও মোর প্রিয় দেশবাসী।  

হ্যাঁ, আমি মণিপুর বলছি,  
এ কোন দূর্ভোগ দেখতে হচ্ছে 
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত আমাকে   
শত শত নিরীহ মানুষকে 
মরতে দেখছি চোখের সামনে 
কেমন দূ্র্ভাগা আমি-  
কেন আমায় দেখতে হচ্ছে 
এই অন্ধকারে ছেয়ে যাওয়া কালকুঠুরি?  

আমারই সামনে পুড়ছে হাজারো  ঘরবাড়ি 
মরতে দেখছি কত দুর্ভাগা পথচারী  
মাতৃজাতি শিশু কিশোরের 
দেখব কত আর পালানোর দৃশ্য  
পথঘাটে পড়ে থাকা কত মরদেহ আর ! 
মোর প্রিয় দেশবাসী- 
দেখে যাও বারেক এসে 
আমার এই বিভীষিকাময় পরিদৃশ্য !  

জানিনা কার কাছে  
কোথায় গিয়ে বলবো  
আমার এই বেদনার গল্প    
কে শুনবে আমার মরণ যন্ত্রনার কথা   রাজনীতির আগুনে পুড়ছি নিত্য আমি  
ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে  
হচ্ছে আমাদের চিংড়ি ভাজা-   
প্রিয় দেশবাসী  
আমি মণিপুর বলছি 
আমি মণিপুর ডাকছি 
দেখে যাও আমার ঝলসানো বদন !  
                    © ইকবাল॥ 
                 হাফলং। ডিমা হাসাও।
                   ২৫-০৬-২০২৩।

শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩

সহযাত্রী


















।। মিঠুন ভট্টাচার্য।। 

ট্রেনের জানালা স্মৃতি রাখেনা
ছেড়ে যায় বাড়িঘর,
ধানী মাঠ,পানাপুকুরের বিল।
পাশাপাশি সিট
অতীতের ঠান্ডা পরত ছেড়ে
বর্তমান উষ্ণতা যোগান ধরে।
অজানা, অচেনা চেহারায়
সম্পর্ক গড়ে।
কেউ নেমে যায় পরের জংশনে
কেউ যায় শেষ অবধি।
আলাপ পরিচয় যত
কামরা মনে রাখে না,
অবসর সময় লেখকের কলমে
ছোটগল্প হয়ে ফিরে আসে।
বিশেষ সফরে
ট্রেনের হুইসেলে রবীন্দ্র সংগীত বাজে,
যাত্রাপথ থামে না।
এভাবে অগুন্তি
পাশাপাশি হাত ধরা সম্পর্কে
প্রেমে অপ্রেমে
সহযাত্রীরা ছুটে।
 

বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩

শুধু মনে রেখো ..........


।। এ এফ ইকবাল ।।


(C)Imageঃ ছবি


















যখনই লেখা হবে প্রেমের কবিতা-  
হবে কি লেখা সেখানে 
ক্ষুধার জ্বালায় কাতর 
প্রান্তিক সেই শিশুদের কথা ? 
বিবশ মা-বাবা যাদের 
চেয়ে চেয়ে দেখেছে শুধু 
ঝরে যেতে এক একটি শুষ্ক পাতা !

গীত হবে যেখানে যখন
মিলনের গান-  
ঠাঁই পাবে- 
শত পীড়া ব্যথা বেদনাবিধুরের কথা ?  
ঠাঁই পাবে সেথা সেই দরিদ্র হতভাগার 
মৃত পত্নীর লাশ নিয়ে কাঁধে 
চলেছিল যে মাইলের পর মাইল !

চর্চা যখন হবে 
বিলাসী ঐশ্বর্য 
বিত্ত বৈভবের গাঁথা  
আর্থিক প্রগতি সমুন্নতির হবে প্রসারণ- 
মনে পড়বে সেই কৃষকের কথা- 
ধার নিয়েছিল কিছু টাকা বলে 
করতে হয়েছে যাকে আত্মহনন ? 

মজবুর মজদুর যারা 
হবে তাদের প্রতি ধ্যান- 
ভদ্রজনের ভদ্র পরিবেশ  
তৈরি করে দিয়েছে যারা 
লাগিয়ে দিয়েছে দেয়ালে স্বচ্ছ আয়না 
ভেসে কি উঠবে সেই গ্লাসে 
শ্রমিকের বিবশ চাউনি ? 

অবকাশ পেলে হে রাজন- 
মনে করো ওই নিষ্পাপ
নিরস্ত্র শোষিতের কথা; 
যাদের রক্তের লালিমা
লেগে আছে তব সিংহাসনে 
যুগ যুগান্ত ধরে 
যাদের লাশ পুঁতে দেয়া হয়েছে 
তব সিংহাসন-তলায় ! 
            © ইকবাল॥ 
          ২২-০৬-২০২৩।