“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
ধ্রুবজ্যোতি মজুমদার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধ্রুবজ্যোতি মজুমদার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯

সুখ

Image result for selfish pic
 
বৃত্ত ত্রিভুজ কত কি অনায়াসে হয় জীবন
সরল রেখা হয়না, হতে দেখা যায়না।
ঝুড়ি ঝুড়ি হরফ নিত্য গজায় এ জগতে
কিন্তু হায় সাহিত্যের দারিদ্রতা ঘুচেনা।।
মামা কাকা দাদা অগুণতি তবু
‘’সম্পর্কে’’ বীতস্পৃহ, বিষাক্ত ব্যাখা।
মঞ্চ দাপানো ‘যশ’ বাবু রাতে-
বিছানায় দেখে সত্যের আঁধার একা একা।।
ঝুলিতে হাজার ডিগ্রির ভার
কেজি কেজি মাস্টার্স আর ডক্টরেট সুখ!
আরও বাড়ে ভার তেমাথার মোড়ে যখন-
রিক্সাওয়ালারা ফেরে মুখ।
তবু সুখ খুঁজি যুক্তি দিয়ে রোজ
অনিশ্চিত কালকের সুখে ‘আজ’ প্রত্যহ খুন,
বন্ধ কপাটের বাইরে দীর্ঘ সুখের লাইন-
ভেতরে ল্যাবরেটরি, আর সুখের কৃত্রিম মিশ্রণ ।।

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭

দেশাত্মভিমান



















     
।। ধ্রুবজ্যোতি মজুমদার ।।

কীসের এতো দাপাদাপি, অহংকার
অধিকার; নাকি ছাই!
স্বদেশী-বিদেশী জাত্যাভিমান
তুচ্ছ বিদ্রোহের বড়াই।

তোমার আছে প্রমাণ-পত্র
আমার কৌশলে করায়ত্ত হিমঘর,
রোদে পোড়া-ই কাজ তোমার,
আমি নক্সা বানাই।

আমার এক আঁচড়ে বিখণ্ডিত হয় মানচিত্র
চুপসে যাওয়া বেলুন যত দস্তাবেজ,  
ইশারায় ভাঙে গড়ে ঘর,বাড়ি,দেশ;
শূন্যোদ্যান কে কার বন্ধু, কে কার ভাই?!



শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আমার দূর্গা


(C)Image:ছবি


















তোমার দুর্গা চলে যাবেন
আমার দুর্গা শাশ্বত,
নিত্য সঙ্গী শক্তি আমার
কেনো হবে বিসর্জিত?
 

তুমি হবে মুহ্যমান
বিরহাতুর কার্যত,
সূক্ষ্ম বিষ্ণু কেন্দ্রে রেখে
আমার দুর্গা আবর্তিত।

মহাবিশ্বের কণায় কণায়
শক্তি আমার কোথায় নেই?
কোথা থেকে আনো ডেকে
বিদায় দিয়ে পাঠাও কই?

তা বেশ তুমি যেমনই পুজো 
প্রণাম তোমার ভাবনাকে,
মেয়ে বলেই মানো যদি-
মেরোনা আর ভ্রূণটাকে।।


বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

যা দেবী সর্বভূতেষু.......




















।।  ধ্রুবজ্যোতি মজুমদার।।


যে সিগন্যাল বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে ফিরে যায়
বারবার, বোধের দেয়াল হতে,
প্রহরীর রাডারে থাকেনা চিহ্ন
অথচ আশ্চর্য –
বোধ নিজেই সে উপাদানে গড়া!
এমনকি প্রহরী থেকে
ফটকের স্থূল তালাটাও।

চলো চিনে নিই, বুঝে নিই আজ
সেই মহাশক্তি,
নেহাত মুহূর্তের জন্যই না হয় হোক
সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মে  একটি যাত্রা।

জানি ফোটনের গতিও অবাধ নয়,
সে ও থেমে যায়,
তার চেয়ে ভালো শব্দারোহণ
চলো মন্ত্রবাহনে ধরি তরঙ্গের পথ।

ন্যানোমিটারের গভীরের আশ্চর্য জগৎ!
শূন্যস্থান,  বিশাল ব্রহ্মাণ্ড
চতুঃপার্শ্বে ভ্রাম্যমাণ কর্তব্য-ব্যস্ত
লক্ষ-কোটি অণু পরমাণু।
আমি মোহিত হয়ে চেয়ে থাকি
নিজের বিশ্বরূপে নিজেই স্তম্ভিত!

তারও আরো গভীরে তাঁর উপস্থিতি
সর্বকারণের কারণ স্বরূপ
যাবতীয় দৃশ্য-অদৃশ্য শক্তির আধার
নিউক্লিয়াস;  আদ্যাশক্তি মা আমার।

হে চালিকা শক্তি, আমি মুহুর্মুহু রোমাঞ্চিত হই
হে সর্বব্যাপী,বুঝেছি বৃথা এত খোঁজ,
এ সৃষ্টি যে আর কিছুই নয়
তোমার ধনাত্মক ঋণাত্মক বিভূতি সমাবেশ ছাড়া।

তোমার যে আশ্চর্য ঐশ্বর্যে ব্ল্যাকহোল প্রসব করে ব্রহ্মাণ্ড
মৌল-যৌগ, সময় পায় গতি,
সেই মহাশ্বৈর্য বলে হে যোগমায়া-
জেগে উঠো বিশ্বময় ব্যাপ্ত সকল বোধের কোষ কেন্দ্রে।
মুখস্থ বিদ্যা আর অনুমান নির্ভর সংস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে-
আমাদের জাগ্রত কুণ্ডলিনী স্বীয় অনুভবে গেয়ে উঠুক
যা দেবী সর্ব্বভূতেষু ............।।



মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭

একগুচ্ছ হিজিবিজি



।। ধ্রুবজ্যোতি মজুমদার।।











কুরুক্ষেত্র

প্রচণ্ড সংঘাতে ব্যস্ত
তোমার সত্য আর আমার সত্য
দুর্ভেদ্য বর্মে ঘনঘন আঘাত
শব্দ দূষণে ত্রস্ত চরাচর।

নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে কিছু মিথ্যা অবশেষে,
হ্যাঁ, ওরাই তো অজর অমর।।






অবতার

হাজারো মুহূর্তের অন্ত্যেষ্টি শেষে
অস্তিত্বে আসে একটি পঙক্তি,
চিতাগ্নির ধূমে নতুন বীজ
প্রবল ঘূর্ণনেও যেমন স্থির থাকে কেন্দ্র।।




নষ্ট চন্দ্র

আঙুল বেয়ে নামা প্রেম
কী-পেড এর উত্তাপেই বাষ্পীভূত বারবার,
ডিসপ্লে তে কি আর স্পন্দন দেখা যায়?
পড়ে থাকে কিছু জারজ স্ট্যাটাস।

কিছু নিরর্থক শব্দপুঞ্জ,
মাছ বাজারের কোলাহল,
এত এত কথা, তবু-
সবটাই দুর্বোধ্য; অর্থহীন।।



পরিচয়

ধরা দেয়না বিভাজন রেখা
নামের আড়ালে মুমূর্ষু বেনামী আমি,
দৈহিক পরিচয়ের বাঁধাছকে
নিজের কাছেই নিজে অচেনা।

তার উপর
সু-কু এর বাড়তি খ্যাতির পরত।

কালচক্র

কালঘুমে অচেতন লক্ষ্মীন্দর
বয়ে চলে বেহিসেবি সময়,
ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে কবেই
দুরন্ত গতি ধরেছে ধ্রুবতারা।

মুচকি হাসে নেতা পদ্মা
হাসির স্ফুলিঙ্গে ক্ষতবিক্ষত শরীর
নির্বিকার বেহুলা স্থিতপ্রজ্ঞ; অচল,
জীবনের প্রমাণ শুধু আঁখিধারা।

ত্রিগুণাতীত দেখছে সব
ভাবান্তরহীন মুখে মিলেনা-
    পরিকল্পনার পূর্বাভাস।
একদিন লক্ষ্মীন্দর আবার ধরবে তান
 বিদায় উৎসবে,
যেদিন বানপ্রস্থে যাবে-
মহাজাগতিক অহমিকারা।।





চিরন্তন

প্রসারিত হচ্ছে মহাবিশ্ব
নিয়ত বাড়ছে দূরত্ব গ্রহ গ্রহাণুর,
নাম না জানা কত জ্যোতিষ্ক
আজই হয়ত দিয়েছিল শেষ উঁকি।

সে খবরে স্পৃহা নেই কারো
কাগজে পাবেনা ঠাঁই,
লক্ষণীয় কোনো প্রভাব পরবে না তবু
তোর আকাশে থাকবে রোশনাই।

কোনো এক ফাল্গুনী পূর্ণিমা তে যবে
নির্নিমেষ নয়নে হবে ঊর্ধ্বমুখী,
ঝলমলে আকাশে তখন
নতুনের হাট।

রাশিরাশি তারকার মনভুলানো সম্মোহনে
ভেসে যাবে ইচ্ছে ডানার সাথে,
নাকি দু’চোখ ঝরাবে নীরবে মুক্তো বিন্দু
একটি চেনা তারার খোঁজে।

অনুশোচনা গ্লানি একাত্ম হয়ে
ভাঙবে দেউড়ি কপাট?
নাকি অজ্ঞাতই থেকে যাবে আজকের মতো
নতুনের হাট জমজমাট?

লৌকিক

নিরুদ্দেশ এককৌটো কর্পূর
হদিশ জানেনা কেউ,
যতসব আঁকিবুকি সার
উপচে উঠছে বিজ্ঞান খাতা।

রসহীন রসায়নে ব্যস্ত
সদলবলে বেরসিক কেউকেটা,
‘ফর্মুলা’তে বুদ্ধির খোরাক জুটলেও

ভাবের আকাশে অনন্ত শূন্যতা।।






সোমবার, ২৬ জুন, ২০১৭

জীবন থেকে দূর




।। ধ্রুবজ্যোতি মজুমদার।।

 
এইতো বেশ চলছে
ছুঁয়ে প্রান্তসীমা
রোদ বেয়ে নিরন্তর উঠানামা
মেঘের রাজ্যে ভাড়া ঘর।

কখনও কখনও বার্তা নিয়ে আসে
দূরপাল্লার কোনো চেনা পাখি, 
মৃদু সম্ভাষণ শেষে জানান দিয়ে যায়-
থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়।।

বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৫

নিরপেক্ষতা, কট্টরবাদ বনাম বুদ্ধির দ্বিচারিতা



।। ধ্রুবজ্যোতি মজুমদার।।

একটা কথা প্রায়ই শুনা যায় যে-ভারতবর্ষ এই বিশ্বের মধ্যে হিন্দু গরিষ্ঠ দেশ। তারপরও সেটা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। বিপরীত দিকে বিশ্বে যতগুলি দেশই মুসলিম বহুল তার প্রত্যেকটিই ইসলামিক দেশ বলে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, তার কোনোটাই ধর্ম-নিরপেক্ষ নয়। সনাতনী আধ্যাত্মবাদের দৃষ্টিতে অনেকেই হয়ত সেটাকে সনাতন ধর্মীয় চরম উদারতার পরাকাষ্ঠা হিসাবেই বর্ণনা ব্যাখ্যা দেবেন। সনাতন ধর্ম সর্বাবস্থায় সহাবস্থান সৌভাতৃত্ব ও সহনশীলতার শিক্ষাই দেয়। তা বলে ইসলাম ও কিন্তু হিংসা ও তথাকথিত জেহাদের ধর্ম নয়।
            ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- প্রত্যেক ধর্মই যদি শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তাবাহক তাহলে ‘ধর্ম’-‘সাম্প্রদায়িকতা’-‘জেহাদ’-‘মৌলবাদ’ ইত্যাদি শব্দগুচ্ছই আজকের দিনে বিশ্ব-রাজনীতির বিশেষ অস্ত্র কেনো? এমনটা নয় যে আমাদের সমাজপতিরা এই নিগুঢ় সত্য জানেন না। শিক্ষিত সমাজ সবটাই জানেন বুঝেন। কিন্তু তারপরও স্বার্থপূরণের বিভিন্ন রকমফেরের গ্যাঁড়াকলে নিত্যদিন অপব্যাখ্যার ঘি ঢেলে রক্তে আগুন জ্বালানোর খেলা চলতেই আছে। মানুষকে মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী বানিয়ে অনায়াসে নিজের ন্যস্ত স্বার্থটুকু বের করিয়ে নেওয়ার এই খেলায় প্রতিনিয়ত যূপ-কাষ্ঠে চড়ছে হতভাগা সাধারণ মানুষ।ওরা সাধারণত জাতীয় অথবা আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে জন্মেও মাথা ঘামায়নি। অথবা সেই অবসর ও নেই ওদের জীবনে। ওদের পুরো দুনিয়াটা ওদের ছোট্ট পরিবার অবধিই সীমিত। এর বাইরে কোনোকিছুই হয়ত কোনোদিন তেমন গুরুত্বই রাখেনি। অথচ মহামতি সমাজপতিদের বুদ্ধির ঝড়ে হঠাৎ করেই একদিন তছনছ হয়ে যায় সেই ছোট্ট দুনিয়াটা। সে বাংলাদেশই হোক অথবা হউক মায়ান্মার সিরিয়া আফগানিস্তান কাশ্মীর। বুদ্ধিজীবীর বুদ্ধির কাছে হার মেনে রাম রহিমকে মারতে আসে। কুরুক্ষেত্র থেকে অনুপ্রাণিত উজ্জীবিত হয় রাম ও কৃষ্ণরা। ধর্ম-যুদ্ধে যতটুকু নেশা প্রয়োজন ঠিক ততটাই নির্যাস অত্যন্ত সুকৌশলে ভরে দেওয়া হয় সেইসব ধর্মযোদ্ধার রক্তে, বাকি সারটুকু ; ধর্মের মূল সার বস্তুটা ব্রাত্যই থেকে যায়।
            অপরদিকে নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো তথা বিশ্বময় তথাকথিত বিধর্মী কাফেরমুক্ত একটা পরিবেশ গড়ে তোলার ললিপপ ঝুলিয়ে কারবালার মাঠের স্মৃতি জাগরূক করে তোলা হয় রহিমের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সেক্ষেত্রেও ধর্ম কোন তিমিরে বসে কাঁদে।
ক্ষেত্র-বিশেষে দেখা যায় এই গোষ্ঠীবাজির আগুন ধরানো হাত অভিন্ন। উভয় দিকে একই হাত আগুন জ্বালে। আশ্চর্য! আমাদের সমাজে যারা নিজেদেরকে বুদ্ধিজীবী অথবা সমাজ সচেতন নাগরিক বলে দাবি করেন ; সেই তাদের ভূমিকাটাই সবচেয়ে আশ্চর্যজনক, বিপজ্জনক ও বটে। নিমিষে রঙ পাল্টানো বা অবস্থান পাল্টানোটা বুদ্ধিজীবীদের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাপড় পাল্টানোর মতো। প্রচার মাধ্যমের শিরোনামে আসার জন্য অথবা সস্তা প্রচারের আলোকে আসার সুখ-স্বপ্নে বিভোর এহেন ব্যক্তিত্বরা আলটপকা মন্তব্য করেই চলেন অহরহ। একবারও ভেবে দেখেন না যে উনাদের এই অবিবেচক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ার জের কতটুকু হতে পারে। কতটা আগুন জ্বলতে পারে। আদতে সেসব ব্যাপারে উনারা ভাবতেই চান না।
            এই জায়গায় নব্য সংযোজন হলো- সোস্যাল মিডিয়া। ফেসবুক টুইটার ইত্যাদি আন্তর্জালীয় উপাদানের দৌলতে এখন শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত ছড়ায় আতঙ্ক। উত্তেজক পোষ্ট ও মন্তব্যে ছেয়ে আছে নেট-বিশ্ব। যেকোনো পোষ্টের সত্যতা যাচাই এর আগেই ছেয়ে যায় অস্থিরতার বাদল। যে ব্যক্তি বিতর্কিত মন্তব্য অথবা পোষ্ট করলেন উনি নিজেই বা কতটুকু গভীর চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব সেটা প্রায়শই বিচারে আসেনা। তার আগেই ছড়িয়ে পড়ে বিষবাস্প। নিকট অতীতেই আমরা এর অনেক বাস্তব উদাহরণ দেখেছি। রাম-শ্যাম-যদু-মধু যে কেউ আজ পারে সম্প্রীতিতে চির ধড়াতে, অথবা যেকোনো ব্যাপারকে একটা আজব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করে একটা উদ্ভট ও কিম্ভুতকিমাকার মতামত জাহির করতে। লহমায় নাড়িয়ে দিতে পারে জাতীয় অথবা আন্তর্জাতিক সমাজের ভীত।
             আর এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না কিছু মানবতার ভেকধারী উভচর বুদ্ধিজীবী মহল। যাদের কথায় আর কাজে ন্যূনতম মিল নেই। ওদের ভাষ্য ও চরিত্রে দুই মেরুর দূরত্ব। যদিও মানবিকতার ধ্বজা যারা বহন করেন তাদের একটাই আদর্শ ও গন্তব্য হওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তবে চিত্র তার উল্টো। নিজেকে নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার উপাসক পরিচয় প্রদানকারী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও আবার অজস্র শাখা প্রশাখা কেনো থাকতে যাবে? মানবিকতার পরিভাষা কি স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় বদলে যায়?! দলবাজি গোষ্ঠীবাজির মধ্যে পেঁচিয়ে থাকাটা কি কোনো অবস্থাতেই একজন মুক্তমনার লক্ষণ বলে বিবেচিত হতে পারে?
              এই জাতীয় ভণ্ডদের দৌরাত্মই সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। পরমাণু অস্ত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর। ওদের প্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব অভিধান রয়েছে। যেহেতু এটা ( ভারতবর্ষ ) হিন্দু বহুল রাষ্ট্র তাই কোনো কোনো নিরপেক্ষ (!) বুদ্ধিজীবীর কাছে হিন্দুত্বের বিরোধিতা করাটাই নিরপেক্ষতা বলে বিবেচিত হয়। এবং এটা করতে গিয়ে উনি যদি ইসলামের কিছু অন্যায়কেও প্রশ্রয়ের চোখেও দেখেন তাতেও কিছু আসে যায় না। নিরপেক্ষ মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ইসলামের অপব্যবহারের বিরোধিতা করেন বটে কিন্তু কট্টর হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে তেমন বলতে দেখা যায় না। অথচ এরা সকলেই নিজেদেরকে সেকুলার পরিচয় দিতেই অভ্যস্ত।
একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী আছেন যাদের চোখে শুধু ইসলামী মৌলবাদই ঠেকে। যেন তেন প্রকারেণ ইসলাম মানেই সন্ত্রাস এটা প্রতিপন্ন করাটাই ধ্যান জ্ঞান, তদ্রূপ একশ্রেণির কাছে হিন্দুত্বটাই সন্ত্রাস।

             কেউ যতই নিজেকে গোঁড়া হিন্দু অথবা গোঁড়া মুসলমান অথবা খ্রিষ্টান বলুক না কেনো আদতে সে যে কোনো ধর্মেরই অন্তর্ভুক্ত নয় সেটা ওর কার্যকলাপেই স্পষ্ট ধরা দেয়। কারণ মানবতা সহনশীলতাকে বাদ দিয়ে কোনো ধর্ম অথবা সম্প্রদায় হতেই পারেনা। অসহিষ্ণুতা কখনই সুস্থ সমাজ বা ধর্মের অঙ্গ নয়।
          গোঁড়ামিকে কোনোকালেই নৈতিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।
           গোঁড়ামিকে হয়ত প্রতিহত করা যেতে পারে। ধর্মের যথাযথ ব্যাখ্যা ও সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে সেটা সম্ভব। কিন্তু পক্ষপাতদুষ্ট  সেকুলারিজম কে এবং ওই জেগে ঘুমানো স্বার্থান্বেষীদের প্রতিহত করাটাই আজকের দিনে বড় চ্যালেঞ্জ। যতদিন বিবেকের ঘুম না ভাঙানো যায় ততদিন ISIS আল-কায়দার মতো কট্টরবাদের নব্য নব্য রূপে আবির্ভাব হতেই থাকবে। “মাদ্রাসা মানেই সন্ত্রাসের আঁতুড় ঘড়” এবং “হিন্দু মানেই শিবসেনা অথবা বজরংগী” এমন ধারণাই পত্রে পুষ্পে ফলে বিকশিত হতেই থাকবে। আর এর পুরো কৃতিত্বের দাবিদার হবেন তথাকথিত শিক্ষিত সুশীল সমাজ, যারা নিজেদেরকে বুদ্ধিজীবী পরিচয় দিয়ে গর্বে ফুলে উঠেন। রাজনেতাদের চেয়েও অধিক কৃতিত্বের দাবীদার হবেন উনারা।
          তথাকথিত সেকুলার সমাজের এটা মনে রেখে চলা উচিত যে- একজন হিন্দু হয়ে ইসলামকে সমর্থন করা অথবা মুসলিম হয়ে হিন্দুত্বকে সমর্থন করাটাই নিরপেক্ষতা নয়, এটাও পক্ষপাতিত্ব। প্রত্যেক গোষ্ঠী- সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকা মানবিক উপাদান গুলিকে সমর্থন করা এবং অমানবিক যাবতীয় কিছুকে জাতি বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে বর্জন ও প্রতিহত করাটাই যথার্থ নিরপেক্ষতা। তবেই একটা সুস্থ-ভারসাম্যতাপূর্ণ-নিরপেক্ষ সমাজ আশা করা যেতে পারে।
         আমরা যদি নিজের নাম পদবী জাতির পর নিজেকে কোনো না কোনো অবস্থায় ‘মানুষ’ বলে পরিচয় দেই তবে মানবিকতাই কি মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়?