“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

রবিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৯

মধ্যভাগ এফিডেভিট

।। অভীক কুমার দে / অভীককুমার দে ।।

শরীরের জন্ম কেবলমাত্র জীবনের শুরুকেই দৃশ্যমান করে। এই শুরু যেকোনো জীবের জীবনের জন্য প্রযোজ্য, কিন্তু মানুষের জীবনে শুরু মানে কেবলমাত্র শরীরের জন্ম নয়। ভিন্ন সময় ভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার শুরু লক্ষ্য করা যায় এক জীবনে। মানুষ তার দক্ষতায় শুরু থেকে আবার শুরু করতে পারে। মানুষের কাছে এই পৃথিবী একটা একজিবিশন সেন্টার। মানুষ গবেষক, বাকি সবকিছুই গবেষণার সামগ্রী।
মানুষ ছাড়া বাকি প্রাণীদের দলগত নাম রেখেছেন মানুষ নামক গবেষকরা। হতে পারে আলাদা জাতি, ভিন্ন গোত্র, তবুও দলগত নামই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে গবেষণার বিশেষ সামগ্রী হলে, সেক্ষেত্রে আলাদা নাম রাখেন। একেকটি ভিন্ন শরীরের একেকটি নাম থাকে। প্রয়োজনে পদবীও। এই শুরু জীবনের শুরুর জন্য শুরু। একটি যন্ত্রের চালু হওয়া। তারপর সামগ্রী তৈরি হবে। তৈরি হওয়া সামগ্রীর আশানুরূপ গুণগত মান চিহ্নিত হলেই জীবনের শুরু বলা যায়। অর্জুনের দৃষ্টির মত স্থির লক্ষ্য ও নির্ভেজাল সিদ্ধান্ত অটুট হলে সেই নির্দিষ্ট বিষয় সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং সেখান থেকেই শুরু করা যায়।
আমার মধ্যভাগ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। আমার এই শরীরের পারিবারিক ডাক নাম 'নিতু'। ছোটবেলা থেকে বেশ আপন হয়ে মনের নরম বিছানা দখল নিয়েছে। কিন্তু আমাকে যখন বাহ্যিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং বিদ্যালয় নামক একটা যান্ত্রিক জগতে নিক্ষেপ করা হচ্ছে, তখন আরেকটা অপরিচিত নাম জুড়ে দেওয়া হল। সতিনের মতোই নরম বিছানায় ভাগ বসাতে থাকে। আমার ভেতরঘরে রোজ লেগে থাকা দ্বন্দ্ব পাগল করে তুলছিল।
যে নামটি প্রথম পেয়েছি, যে নামটি পারিবারিক, সে নামের প্রতি খুব বেশি যত্নবান ছিলাম। সামাজিক পরিবেশের গোলকধাঁধায় পড়ে পরে পাওয়া নামের প্রতি উদাসীন ছিলাম। কখনো ঠিকঠাক খবরও রাখা হয়নি--- শারীরিকভাবে সুস্থ আছে কি নেই, সে নামের মনের বাউল কখন কী খোঁজে, এতবড় আকাশটাকে চেনে কিনা, পাখির মত ডানা মেলে নীলের গভীরতা খুঁজে দেখার ইচ্ছে কেমন। স্কুল জীবনের এতগুলো বছর আমার উদাসীন আচরণে একপ্রকার একঘেয়ে দিনযাপন করে চলছিল সামাজিক নাম 'অভীক কুমার দে'।
যতদিন উদাসীন ছিলাম, মধ্যে অবস্থানরত নির্ভেজাল 'কুমার' নিয়ে কোনও চিন্তা ছিল না। দুদিকেই বিস্তৃত সাম্রাজ্য। একদিকে গতি, গন্তব্য আর বিস্তার। এক লাগামহীন নির্ভীক দৌড়বাজ 'অভীক'। অন্যদিকে যুগের প্রতিফলন। শুষ্ক, রুক্ষ, দুঃসময়ের ছবি, কুঃশাসনের প্রতিফলন, প্রতীকী ক্ষুধার্ত 'দে'। 'কুমার' আমার অনড় ছিল মাঝখানে।
যখন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গুছিয়ে শুরুটা খুঁজছিলাম, তখন দেখি আমার নিতু'র সতিন কষ্টে আছে। ওকে নিয়ে কানকথা হচ্ছে। কটূক্তি করছে সমাজ। দ্বিতীয় নামের ভেতর কুমারের অবস্থান দেখে ঠাট্টা করছে। একবার নিজের অজান্তে হলেও হাত বুলিয়ে শরীরটাকে বিবস্ত্র পেয়েছে পুনরায়। অনুশোচনায় বুকের উঠোনে শীত বাতাস বয়ে গেছে বারকয়েক। যদিও শরীর জানে, এই নাম সমাজ দিয়েছে। সমাজ তার প্রাতিষ্ঠানিক যন্ত্রে ছেঁকে লিখিত রূপ দিয়েছে। এই শরীরটা শুধু অনুগামী কেরানি ছিল তখন থেকেই।
সময়কে চিনতে গিয়ে দেখেছি, সেই শুরু শুরুই ছিল না। নতুন করে শুরু করতে গেলে আরেকবার শুরুকে খুঁজতে হবে। তাই এই শরীর হাঁটতে শুরু করা প্রয়োজন। কেননা, প্রতিবার প্রতি মোড়ে ধাক্কা খায় শরীর। প্রতিটি মোড় বলে-- 'কুমার' নিষ্ক্রিয় নয়, অসহায় নয়, অভীকের সাথে জুড়ে থাকার কথা। 'কুমার' গন্তব্য জানে, গতি বোঝে, বিস্তারও জেনে যাবে একদিন। তারপর দুঃসময়ের ছবি মুছে দিতে কুঃশাসনের প্রতিফলনের মুখোমুখি হবে। ক্ষুধার প্রতীকী চিহ্নগুলো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে। চিৎকার করে বলতে কোনও ভয় পাবে না-- এই শুষ্কতা এমন রুক্ষতা পৃথিবীর নয়। শুরুতে এমন ছিল না কিছুই। নির্ভীকের অসীমান্ত দেশের মধ্যভাগ এফিডেভিট প্রয়োজন।

মলমের শরীর

।। অভীককুমার দে ।।

বয়স আমার সত্তর পেরিয়ে...
কত কি কীটনাশক খেয়ে আয়ত্তে নেই শরীর,
ভোট ভোট পেটের ভেতর,
ভিন্ন মতাদর্শী সার্জন আসে
চিকিত্সার জন্য অঙ্গ নির্বাচন হলে
মুখোশ আর মেকআপে মুখোমুখি
বসে
শোনে
বোঝার ভান করে, আশ্বস্ত হলে--
সময় বুঝে পুরো চেকআপ এবং
দীর্ঘ সার্জারি।

বয়স আমার সত্তর পেরিয়ে...
ক্ষত শুকোয় না
মলম লাগাই রোজ
সময় কাটাই শুধু।
যুক্তি- যুক্ত- ভাঙা- গড়া এসব নিয়ে লাগালাগি
রাগারাগিও কম হয় না, কেউ এমনও আছে--
আমাকে নিয়ে শুধু মেতেই ওঠে না, বরং
সুযোগ বুঝে বিভাজিত শরীর ঘেঁটে দেখে প্রতিদিন !

প্রতিদিন নথিপত্র দেখি বারকয়েক,
সত্তর পার হওয়া শরীর
মুড়মুড়ে জোড়া
মলম লাগাই আর একেকটি দিন অতিরিক্ত বেঁচে থাকি !

বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯

ভালবাসা

ভালবাসিস ?

আমাকে? 

চল যাবি , 

নরকে ।

নরকের 

পাথরে 

ভালবাসা 

পরখে, 

খাটি কিনা

জানা যায়, 

নিমেষের 

পলকে ।

তারপরও

বলছিস , 

আহারে 

বলবি না ।

এ জীবনে 

ভালবাসা 

হয়তো বা 

মিলবে না ।

তারপরও 

ভরসা ---,

দিস তবে

ভালবাসা,

কথা দেই 

এজীবনে 

আর কিছু 

চাইবো না ।

এক আকাশ 

রোদ মুখে  

যদি ঝরি

তোর বুকে, 

পারবিতো

মেনে নিতে  

বেহাগ বা , 

পুরবীতে ।

বুধবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০১৯

'উজান' উদযাপন করতে যাচ্ছে ২১শে ফেব্রুয়ারি,১৯ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস...


গামী ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে এবারেও ‘উজান সাহিত্য গোষ্ঠী’ এই দিনটি পালন করতে চলেছে।
            এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, রবিবার সকাল ৯টা ৩০মিনিটে দুর্গাবাড়ি শিশুবিদ্যালয়ে  এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুর্গাবাড়ি প্রাঙ্গণে রেখায়-লেখায় ‘আঁকা এবং লেখা’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতাতে অংশ নেবার জন্যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করবার অনুরোধ রইল। সেই সঙ্গে ২১শের মূল অনুষ্ঠান তথা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে দুর্গাবাড়ি পূজা মণ্ডপে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হবে। সেখানে সবাই উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান সুন্দর  এবং সফল করবার অনুরোধ জানাচ্ছি।
              ২১শের মূল অনুষ্ঠানে প্রতিবারের মতো এবারেও গানে, কবিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ বক্তৃতানুষ্ঠান। সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে বক্তৃতা করবেন...

বাসব রায়
বক্তৃতার বিষয় হচ্ছে 'ভাষা এবং জীবিকা'
অতুল শর্মা
বক্তৃতার বিষয় হচ্ছে ঃ 'অনুবাদ সাহিত্য আৰু মোৰ অভিজ্ঞতা'

তারিখ ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯                                                    ইতি
তিনসুকিয়া                                                        সুজয় রায়         ভানু ভূষণ দাস
                                                                     সভাপতি                সম্পাদক
                        উজান সাহিত্য গোষ্ঠী, তিনসুকিয়া
যোগাযোগের ঠিকানা: ভানু আর্টস, রাঙাগড়া রোড, (সুবচনী আলির বিপরীতে), তিনসুকিয়া, আসাম।
দূরভাষ তিনসুকিয়া ভানু ভূষণ দাস ৯৪৩৫৩৩৫৪৪০,৯৯৫৭১৩৯৬৯৭; সুজয় রায়  ৯৯৫৪৭৯৭১২২;
            গোপাল বসু ৯৪০১৩৩০৪৮৯, গোপাল মজুমদার ৯৪৩৫৩৩৩৯৩০, ৮৬৩৮৪৭৫২৫৪,
ত্রিদিব দত্ত ৯৮৫৪৮২৫৬৪৩, ৮৬৩৮০৮১৯৯৫,  সবিতা দেবনাথ ৮৪০৩৯৫১৪৯৯, ৮৬৩৮২০৭৭৬১,
সুমিত পাল ৯৯৫৪১৭২০৭০,  কঙ্কন দাস ৭০০২৭৬৮০০৮, অমৃত দাস ৯৭০৬১৩৫৩৬৫, উত্তম দাস
৯৮৫৪১৩৮২১৯।
ডিগবয় পার্থ সারথি দত্ত ৯৪৩৫৩৩৭৫৫২,৭০০২০৯৫৭৯১;বরহাপজান রাজেন্ড খাউণ্ড ৯৯৫৪০৫৪০৭২;
মাকুম   স্বরূপ দাস ৯৭০৬১৮৮৮০৪ ডিব্রুগড় সুরজিত দেবনাথ ৯৭০৬৮৪৯৯৭০;
গুইজান প্রমেশ দাস  ৮৬৩৮২৪৯১৭২; বরডুবি স্বস্তি সাধন চক্রবর্তী ৮৭২১০২০০২৬; মার্ঘেরিটা সমীর দাস 
৭০০২৯৩০৯৮৫



ছবি এবং কথার প্রতিযোগিতার নিয়মাবলী এবং সময়সূচী
১) প্রতিযোগিতা দুটি ভাগে হবে
২) ক) ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রবিবার সকাল ৯টা ৩০মিনিট থেকে দুর্গাবাড়ি শিশু বিদ্যালয়ে ‘লেখা এবং আঁকা’র প্রতিযোগিতা।    
    খ) কথা বা কবিতা-পঙক্তিগুলো সুন্দর করে লিখতে হবে। সঙ্গে দেওয়া ছবিটি আঁকতে হবে,অথবা কথার সঙ্গে সঙ্গতি
        রেখে একই  আদলে অন্য ছবিও আঁকা যেতে পারে।
    গ) আয়োজকদের তরফে কাগজ সরবরাহ করা হবে। বাকি আঁকা এবং লেখার সামগ্রী প্রতিযোগিদের নিয়ে আসতে হবে।
    ঘ) আঁকার সময় দুই (২) ঘণ্টা
    ঙ) শ্রেণি অনুসারে এই প্রতিযোগিতা চারটি বিভাগে বিভাজিত হবে।
    চ) অংশগ্রহণের মাশুল ৫০/-টাকা
৩) ক) ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯টা ৩০মিনিট থেকে দুর্গাবাড়ি প্রাঙ্গণে ছবি আঁকার খোলা প্রতিযোগিতা।
    খ) বিষয় হবে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সংগ্রাম এবং ঐতিহ্য’, অথবা ‘মাতৃভাষার মান’ অথবা সঙ্গে  দেওয়া যে কোনো একটি কবিতার পঙক্তিকে অনুসরণ করে ছবি আঁকতে হবে। সেই ক্ষেত্রে যে কবিতা অনুসৃত হলো তার নম্বর উল্লেখ করতে হবে। যেমন ‘আকালৰ চোতাল...সর্বোত্তম প্রতিভা’ কবিতাটি অনুসরণ করলে লিখতে হবে (১)। কবিতা পঙক্তি লিখে দিলে আরো প্রশংসনীয় হবে।
   গ) আয়োজকদের তরফে চিত্রপট (ক্যানভাস) সরবরাহ করা হবে। কিছু রঙের যোগান দেওয়া হবে।  বাকি আঁকা এবং লেখার    
       সামগ্রী প্রতিযোগীদের নিয়ে আসতে হবে।
 ঘ) আঁকার সময় তিন (৩) ঘণ্টা
ঙ) বয়স এবং শ্রেণির বাঁধন-বিহীন এই প্রতিযোগিতা সাধারণের জন্যে উন্মুক্ত। যে কেউ অংশ নিতে পারেন।
চ) অংশগ্রহণের মাশুল ২০০/-টাকা
৪)  দুটি প্রতিযোগিতাতেই  শিল্পীর স্বাক্ষর এবং ছবির নাম (যদি দিয়ে থাকেন) মাতৃভাষাতে  লিখতে হবে।
৫) বিজয়ী ছবি ২১শের মূল অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হবে। এবং সেখানেই বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।
                                   
                                            *****
বাকি বিস্তৃত তথ্যের জন্যে নিচের ছবিগুলো দেখুন...
(ক্লিক করে বড় করুন )






মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০১৯

কবি

ওদের একটা বৃত্ত আছে 

ওসব ভাঙ্গতে যেও না।

ওখানে ঘাসফুল ফোটে

ওড়ে হলুদ প্রজাপতি

শিশিরে শিশিরে হয়

কানাকানি কথা। 

আকাশে যখন রামধনু জাগে 

ওখানে জন্ম নেয় শুধু কবিতা ।

ওদের একটা স্বপ্ন আছে 

একটা দেশ, যেখানে কেউ অভুক্ত নয়

শিক্ষা যেখানে মানুষ গড়ার কারিগর 

ধর্ম সেখানে মনমন্দিরে উজ্জ্বল 

তখ্তে থাকার সুড়সুড়ি নয় কখনো।

শাখামৃগের এখানেও অনেক প্রজাতি 

মন্দির মসজিদ আর গীর্জায় 

স্বপ্ন তবুও বিশ্বাস রাখে একান্তই গোপনে

সব কথা শেষ হয় শুধুই  মানবতায় । 

ওদের কিছু স্বাধীনতা আছে 

সত্য কথা স্পষ্ট করে বলার 

সমাজের সূক্ষ্ম  মুহূর্ত সব শব্দের ইন্দ্রজালে 

মনের ক্যানভাসে আঁকে মসির ছোঁয়ায়।

এখানে গোলাপ বা পদ্মে কারো পেটেন্ট নেই

নেই ত্রিশূল বা কৃপাণে কারো একছত্র অধিকার ।

তবু মাঝে মাঝে ওঠে ঝড়, নিম্নচাপ 

আবর্জনা আকাশে উড়ে ক্লেদাক্ত করে মন ।

শুভবুদ্ধি তখনও বলে , তুমি স্থির থাক কবি ---

তোমার বিশ্বাসে তুমি অটুট থেকো 

দ্বিচারিতা তোমায় শোভা পায় না ।

পৃথিবীতে তোমার যে ভীষণ প্রয়োজন  ।

সদাপুরাণ---- জীবন, মৃত্যু ও বৈরাগ্যের আখ্যান ( নিবন্ধ)


সদাপুরাণ--- জীবন, মৃত্যু ও বৈরাগ্যের আখ্যান 




 




শ্রী অশোক দেবের ‘সদাপুরাণ’ পড়লাম। বইটার কিছু ট্রেলার ফেসবুকে পড়েছিলাম এবং তখনই মনে দাগ  কেটেছিল। তবে কিনতে গিয়ে বইটির ব্ল্যাক ট্র্যাজেডি সুলভ কালোপ্রধান জ্যাকেট দেখে দমে গিয়েছিলাম। ১২০ পাতার ছোট উপন্যাসে মৃত্যুর মিছিল---- তিনটি আত্মহত্যা, একটি হত্যা, একটি দুর্ঘটনা, যদিও সেটাকেও আত্মহত্যাই বলা যায়, এছাড়া আরো কয়েকটি দুঃখজনক ঘটনা আছে। তবুও উপন্যাসটি শুধু মৃত্যুর কথাই বলেনা । ত্রিপুরার পটভূমিতে লেখা বইটিতে অনেকগুলো স্তর, আছে কিছু অভিনব চরিত্র, ছোট  ছোট কবিতাত্মক বাক্য, চিত্রকল্পময় বর্ণনা সারা উপন্যাসটিতে মণিমুক্তোর দ্যুতি ছড়িয়েছে মৃত্যুকে ছাপিয়ে তার অন্তর্নিহিত অর্থের সন্ধান  আখ্যানকে মৃত্যুবর্ণনার ঊর্ধ্বে, অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে, যে মাত্রায় নিরানন্দ থাকে না, থাকে এক চিরন্তন দর্শন । 

পাঁচ সফল দিদির তুলনামূলকভাবে অসফল, বাধ্যতামূলক ভাবে বাধ্য, ফলত হীনম্মন্যতায় ভোগা সদানন্দ এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। পরিবারের অবহেলার, প্রতিবেশীর বিদ্রূপের, স্কুলের হেডমাস্টারের তাকে দিয়ে স্কুল প্রশাসনের কাজ করানোর, এমন কি তার ঘরে বৃষ্টির জল চুঁইয়ে পড়লেও বাড়িওয়ালির--- কারো বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না, মনে মনে শুধু এক অসহায় রাগে জ্বলতে থাকে। নিষ্প্রেম জীবনে  নিজের বাড়িতে ছাদের উপর নিজেরই করানো কাচের ঘরে বসে সে মদ্যপান করে, গান শোনে, আর  চিঠি লেখে এক  কাল্পনিক প্রেমিকাকে ‘স’ সম্বোধন করে, যে আসলে তারই অন্য সত্তা। সেই চিঠিগুলোতেই প্রকাশ করে  তার চেপে রাখা ক্ষোভ, কষ্ট, দ্বন্দ্ব, নিরীহ চেহারার নিচে অন্তর্দৃষ্টি যা দিয়ে সে জগৎকে দেখে। 
                    
সদানন্দ তার নিষ্প্রেম জীবনের অর্থহীনতাকে কিছুতেই কাটাতে পারেনা, আত্মহত্যা করে। তার অন্যদিকে   আছেনগপিস্ট’ রহিম মিয়াঁ যিনি নিজেকে ‘ফাজিল’ বলে পরিচয় দেন, লোকের কাছে ‘গপ’ অর্থাৎ বানানো গল্প করে জীবনকে উপভোগ করেন তাঁর মত করে। আবার মানুষের মধ্যে থেকেও  একা হয়ে, তথাকথিত ন্যায় অন্যায়, ধর্ম অধর্মের সরল নিয়মে বদ্ধ না থেকে, তিনিও জীবনের দ্বন্দ্বের  ঊর্ধ্বে উঠতে পারেন নাতিনি ‘যামুগা’ বললেও স্বাভাবিকভাবে যেতে পারেন না, নৌকাডুবির রাস্তা ধরে তাঁকে যেতে হয়। লালুমজিদই একমাত্র চরিত্র যে ‘ছয় কাঠির আঠা’য় আবদ্ধ  থাকেনা, নিজের কুকুরকে নিজের নাম দেয়, কুকুর সহ সকলকে সম্মান করে কথা বলে। রহিম মিয়াঁর বাড়িতে আসা সব যুবকেরা রহস্যময়ী সুন্দরী জরিনাপ্রতি আকৃষ্ট হয় আগুনের প্রতি পতঙ্গের মত। জরিনা যেন মূর্তিমতী বাসনা,   যার আকর্ষণে মানুষ হিতাহিত  হারায়, কিন্তু সে নিজে থাকে নির্বিকার। সে শেষ পর্যন্ত লালুমজিদের সঙ্গেই যায়, কারণ সে-ই একমাত্র বাসনাকে জয় করতে পেরেছে।
     
সদানন্দের মৃত্যুর তদন্ত করতে করতে শেষপর্যন্ত নন্দ দারোগা নিজে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ‘ঘুঙুর’ (অনেকটা সাংসারিকতার ঊর্ধ্বে ওঠা বিবাগি) হয়ে যেতে চান। আমার মনে হয় এই বৈরাগ্য, ‘ছয় কাঠির ফাঁদ’ থেকে মুক্তির  যাত্রাই উপন্যাসটির মূল সুর, মৃত্যু নয়। এই যাত্রায় সদানন্দ বা ‘গপিস্ট’এর মত বেরোয় অনেকেই, কিন্তু বেশির ভাগই ‘ছয় কাঠির ফাঁদে’র আঠায় ধরা পড়ে তিলে তিলে মরে, যেমন সদানন্দ উদ্ধৃতি  দিয়েছিল নিজের ডায়েরির পাতায়, we live bit by bit….. by killing others…..bit by bit । উত্তরণ ঘটে খুব কম। তবুও এই মুক্তিই তো জীবনের সাধনা।

শিবানী ভট্টাচার্য দে