“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
অশোকানন্দ রায়বর্ধন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অশোকানন্দ রায়বর্ধন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫

সুমন পাটারি


 

সুমন পাটারি ত্রিপুরার সন্তান । আমার গর্বের দক্ষিণ জেলার । রাজ‍্যের জন‍্যে দিয়েছে গর্বের সম্মান । সাহিত‍্য একাডেমি যুব পুরস্কার - ২০২২ ঘরে এল তার লিখে কিছু হয় না–অক্ষর প্রকাশনী/২০১৯  কাব‍্যগ্রন্থের জন‍্যে ।  তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় বাইখোরাতে একটি সাহিত‍্যানুষ্ঠানে । আমাকে বাইখোরা বাজার থেকে বাইকে তুলে সোজা অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে যায় । তরুণ সৈনিকের মতো একহারা দৃপ্ত চেহারা । সুমনের কবিতায়ও সেইরকমের তীব্র ঋজুতার ছাপ । তারপর থেকেই বিভিন্ন সময়ে দেখা হয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে । ভদ্র, নম্র ও চলাফেরায় একদম সাদাসিধে । কিন্ত জীবন, জগৎ ও প্রকৃতি সম্বন্ধে অত‍্যন্ত সংবেদনশীল । একবার আমরা একসঙ্গে রাজ‍্যের বাইরেও গেছি । একদম কাছে থেকে দেখেছি সুমনকে । এই যাত্রাপথে সুমন আমাকে সন্তানসুলভ দায়িত্ব নিয়ে আগলে রেখেছিল । আমার খাওয়া দাওয়া সময়মতো ঔষধ খাওয়ানো সবকিছুতেই ওর লক্ষ‍্য ছিল । আমার কষ্ট হলেই সুমন তৎপর হয়ে উঠত আমার অসুবিধা দূর করার জন‍্য ।

 নিষ্পাপ শিশুর মতো সুমনকে নাগরিক জটিলতায় আচ্ছন্ন করেনি । সুমন একদিন সকালবেলায়  এসে আমাকে বলল তার সদ‍্য লব্ধ অভিজ্ঞতার কথা । সে ময়দানের সামনের মোড়ে দাঁড়িয়েছিল । তার বাবার বয়সী একজন বৃদ্ধ এসে আব্দার যে, লোকটার টাকাপয়সা হারিয়ে ফেলেছে । সুমন যদি কিছু টাকা দেয় তাহলে লোকটা বাড়ি যেতে পারবে । সুমন তাকে পঞ্চাশ টাকা দেয় । লোকটা তখনকার মতো চলে যায় । কিছুক্ষণ পরে সুমন লক্ষ করে লোকটা আবার এসে পাশের লোকটার কাছ থেকে একই কায়দায় টাকা চাইছে । শহুরে তঞ্চকতায় বেকুফ হয়ে যায় সুমন । সুমনের ভাষায় তার 'বাবার বয়সী' লোকটার আচরণে সে বিস্মিত । এতোটাই স্বচ্ছ সুমন ।

                কর্ম বা ভাগ‍্য বিষয়টাকে বিশ্বাস না করলেও জীবনের উত্থান ও বিপর্যয়কে গতিমুখের নির্ণায়ক বলে মেনে নিতেই হয় । সুমনের বাবা সংসারের কর্তা । তাঁর পরিশ্রমের আয়ের উপরই চলছিল তার পড়াশুনা । ত্রিপুরা রাজ‍্যের ইকফাই ইউনিভার্সিটি থেকে বিসিএতে দুর্দান্ত ফল করে রাজ‍্যের বাইরে পড়তে যায় এমসিএ । কিন্তু বিধি যে সুমনের দিকে অলক্ষ‍্যে চেয়ে হাসছিল কে জানে ! বাইখোরা বাজারে সুমনের বাবার  ধান চালের ব‍্যবসা । হঠাৎ একদিন স্তুপ করে রাখা বস্তার সারি থেকে একটা এক কুইন্টাল ওজনের ধানের বস্তা পেছন থেকে ছিটকে পড়ে গদিতে বসে থাকা সুমনের বাবার পিঠে । ঘাড়ে ও মেরুদন্ডের হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর । উচ্চশিক্ষার উচ্চাশা ছেড়ে সুমনকে ফিরে আসতে হয় বাড়িতে । বাবার চিকিৎসা ও সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে সুমনের কাঁধেই । বাবার চিকিৎসার জন‍্যে সব সহায় সম্পদ বিক্রি করেও বাবাকে সুস্থ করে তুলতে পারেনি আর । এরপর নানারকম খেত-কৃষি, রাবার বাগানের কাজ, ছুটকো পেশা, প্রাইভেট পড়ানো ইত‍্যাদি করে চলতে থাকে সুমনের জীবনযুদ্ধ । বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে জীবনের পাঠ নিতে থাকে সুমন । সেইসঙ্গে কবিতাযাপনও সমানে চলে । সেকারণেই সুমনের কবিতাও প্রাত‍্যহিক জীবন অভিজ্ঞতার স্পষ্টতায় উজ্জ্বল । আমি সুমন পাটারির প্রথম কাব‍্যগ্রন্থটি ( মাটির মানুষ-স্রোত প্রকাশনা/২০২৬ ) নিবিড় পাঠ করার ও আলোচনার সুযোগ পেয়েছিলাম সেদিন । একদম জোরালো কব্জিতে তোলা ভাষাই সুমনের কবিতা ।
                    কার্যকারণে অনেকদিন দেখা হয়না । কিছুদিন আগে সেলিমদা ধর্মনগর থেকে 'পাখি সব করে রব'-র বিশেষ সংখ‍্যা পাঠিয়েছিলেন আমার কাছে । দক্ষিণ ত্রিপুরার কয়েকজন কবির কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার জন‍্যে । সুমনের কপিও ছিল । কিন্তু আমি যেদিন বাইখোরা যাই সেদিন ও বিশেষ কাজে ব‍্যস্ত থাকায় আর দেখা হয়নি । ওর কপিটা কবি তারাপ্রসাদ বনিকের কাছে দিয়ে এসেছিলাম ।
           নোয়াখালি অ্যাকসেন্ট থাকে সুমনের কথাবার্তায় । মনে হবে আনস্মার্ট এক গ্রাম‍্য যুবক । সুমনের ইংরেজি উচ্চারণ ও অনর্গল কনভার্সেশন শুনলে অনেকেই চমকে যাবেন । বাহ‍্যিক দর্শনে রাজ‍্যের মেধাবী ও গুণী এই তরুণকে চিনতে অনেকেই ভুল করবেন । সুমন যদি তার উচ্চশিক্ষা শেষ করতে পারত তবে আজ সে একজন নামজাদা আইটিয়ান হতে পারত । অথবা বড়ো কোনো মাল্টিন‍্যাশনাল কোম্পানির উচ্চপদে আসীন থাকত ।

             যাই হোক, লক্ষ্মীর ঝাঁপির ভেতরের রজতকাঞ্চনের ভান্ডার হাতে না এলেও সরস্বতীর বীণাতন্ত্রীতে ঝংকার তুলে তার শব্দকথা  বহুদূর ছড়িয়ে দিতে পেরেছে, আমার সন্তানপ্রতিম রাজ‍্যের গর্ব সুমন পাটারি । তোমাকে স্নেহ ও আদর হে কবি !

অশোকানন্দ
২৫. ৮. ২০২২.

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

চ ক্ষে আমার তৃ ষ্ণা

।। অশোকানন্দ রায়বর্ধন ।।


       মানুষ তার জাত্যাভিমানটাকে সরিয়ে ফেলতে পারলে তার হৃদয় প্রসারিত হয় ৷ ভাষা কোন বিষয়ই নয় ৷ অন্তরের ভাষা সবারই  এক ৷ এন আর সি, লিগ্যাসি কী করতে পারে ৷ কোনো ভাঙন ধরাতে পারে  অন্তরমহলে?  না পারে না?  এমনটাই মনে হয়েছে আমাদের এ যাত্রায় ৷ মানুষ ৷ মানুষই আমার সন্ধান ৷ মানুষের ভেতরের মানুষটাকে কোনদিনই খুঁজে পেলামনা ৷ খুঁজি সেই মানুষকে ৷ যে দূর করে দিতে পারে মনুষ্যনির্মিত ব্যবধান ৷ 'সেই মানুষে খুঁজে বেড়াই দেশ বিদেশে' ৷ দেখাও হয়ে যায় পথে পথে ৷
 উত্তরবঙ্গের ইসলামপুর সন্নিহিত আলুয়াবাড়ি রোড স্টেশন থেকে ফেরার যাত্রা শুরুর কথা আটাশ তারিখ বিকেল চারটে কুড়িতে ৷ স্টেশনে এসে প্রথমেই শুনলাম অবধ-অসম এক্সপ্রেস দশ ঘণ্টা লেট ৷ আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি ভীষণ ৷ আমাকে নিয়ে গোবিন্দ, গোপাল দৌড়াল নার্সিং হোমে ৷ সেখানে চিকিৎসায় পেলাম এক মহা-মানবিকতার পরিচয় ৷ সেটা অল্প-কথায় বলার নয় ৷ তাই  আমার হৃদয়নিসৃত সেই অনুভব যত্ন সহযোগে তুলে ধরার আশায় এখন আর অবতারণা করছিনা ৷
           সময় যতো এগুচ্ছে ট্রেনের বিলম্বের মাত্রা ততো বাড়ছে ৷ শেষ পর্যন্ত ঊনত্রিশ তারিখ সকাল দশটায় যখন ট্রেনের নাগাল পেলাম তখন সে উনিশ ঘণ্টা পিছিয়ে চলছে ৷ আমরা পরবর্তী ট্রেনের সংযোগ পাব কী পাবনা দুশ্চিন্তার মধ্যে ট্রেনে চাপলাম ৷ দুপুরের মধ্যে এন জে পি পৌঁছুলাম ৷ খাওয়া দাওয়ার পর  গোবিন্দ ব্যাঙ্কের উপর শয়ান হল ৷ আমি,গোপাল, সঞ্জীব, অভীক নিচে ৷ এক অসমিয়া তরুণী আমাদের কামরায় এলেন ৷ যেহেতু আমরা চারজন নিচে ৷ ফাঁকা আসন দেখে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আমাকে  বললেন,  ইয়াত বহি পারিম?  বললাম, বহক ৷ গোপাল সরে এসে আমার পাশে বসলেন ৷ মহিলাকে প্যাসেজের পাশে জায়গা ছেড়ে দিলেন ৷ কথায় কথায় জানা গেল তিনি দ্বাদশ স্তরের ভূগোলের শিক্ষিকা ৷ দু হাজার চৌদ্দতে টেট দিয়ে চাকরি পেয়েছেন ৷সপ্তম পে কমিশন বিন্যস্ত বেতন পাচ্ছেন ৷ নাম মইনু গগৈ ৷ বঙ্গাইগাঁওতে পোস্টেড ৷ তাঁর স্বামীও শিক্ষকতা করেন ৷  রঙ্গিয়াতে আছেন ৷ সেখানে যাচ্ছেন ৷ সাহিত্য ভালোবাসেন ৷ কথাবার্তার মধ্যে জানলাম আমাদের ত্রিপুরার অনেক খবর রাখেন ৷আমরা সপ্তম বঞ্চিত ৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী , বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী  উভয়ের সম্বন্ধেই ভালো খোঁজ খবর রাখেন ৷ অসমের সমকাল, সংকট, সমাজ সব নিয়ে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে ৷ অসমের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষিক পরিবর্তন সম্বন্ধে আলোকপাত করলেন ৷ যতক্ষণ ছিলেন কবিতা শুনলেন আমাদের ৷ বাংলাকবিতা হলেও তিনি শুনছেন ৷ আমার সঙ্গীরা বাংলায় কথা বলছেন ৷ তিনি অসমিয়া ও হিন্দিতে বলছেন ৷ আমার সঙ্গে অসমিয়াতে ৷ একবারের জন্যেও আমাদের মনে হয়নি আমরা ভিন ভাষাভাষী মানুষ কথা বলছি এতোক্ষণ ৷ আমাদের কারো কথা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে ৷ একটা আন্তরিক ঘরোয়া পরিবেশে যেন প্রতিবেশীর সুখদুঃখের কথা বলছি আমরা ৷ 
           রঙ্গিয়া স্টেশনে ট্রেন ঢোকার পর তরুণী উঠলেন ৷ বললেন, ময় যাম এতিয়া ৷ ভাল লাগিল আপুনালোকর লগতে ই সময়টো ৷ আমার সঙ্গীরা বিদায় জানালেন ৷ তরুণী আমাকে বললেন,  আহক স্যর ৷ আমিও বললাম, কেনেকা সময়টো শেষ হল ৷
         তরুণী মইনু গগৈ ট্রেন নেমে ছুটলেন তাঁর প্রিয়পুরুষের সান্নিধ্য লাভের তৃষ্ণায় ৷ সে প্রিয়জনটির নাম জানা হয়নি আমার ৷ ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে ৷ আমি চেয়ে আছি সেই তরুণীর গমনপথের দিকে ৷ যে কিছুক্ষণের জন্যে একটা আত্মীয়তার বাতাবরণ তৈরি করে গেল ৷যার খোঁজে থাকি আমরা ৷ যার তৃষ্ণায় আমাদের যাপন ৷

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২০

দা ঙ্গা


 এত রাতে কাকে পাবে সে ৷ কদিন ধরে চারদিক থেকে যা খবর আসছে ৷ পাড়ার সবাই তটস্থ হয়ে আছে ৷ দিনের বেলাও ঘর থেকে কেউ বেরুচ্ছে না ৷ রাতে তো অসম্ভব ৷ কেলাব ঘরে বিকেলে একটা মিটিন হয়েছিল পাড়ার সবাইকে নিয়ে ৷ বউয়ের এই অবস্থার কথা জানিয়ে যায়নি মিটিনে ৷ তবে সবার যা মত তাতে সে সহমত পোষণ করে বলে জানিয়েছে ৷ পাড়ার অনেকেই জানে তার সমস্যার কথা ৷ তাই তাকে রেহাই দেওয়া হয়েছে ৷
মিটিনে বয়স্ক দু-একজন সম্প্রীতির কথা বললেও কয়েকটা উটকো বহিরাগতের উস্কানিতে পাড়ার কয়েকটা ছেলে হৈ হল্লা করে সভা পণ্ড করে দিয়েছে ৷ ওরা বলেছে মিষ্টি কথায় চিরা ভিজনের দিন গেছেগা ৷ ওরা বলছে মারের বদলে মার দিতে হবে ৷
বুড়োরা যেন ঘরে গিয়ে বসে থাকে ৷ এখন জোয়ানদের দিন ৷ ওপর থেকে খবর এসেছে ওগুলোকে ঝাড়ে বংশে শেষ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই ৷ ছেলেগুলোর মিলিত চিৎকারে সন্ধ্যার পাখিগুলো কিচিরমিচির করে উঠল বাসা ছেড়ে দিয়ে ৷ পাড়ার ঘরে ঘরে একটা গুমোট আতঙ্ক ৷
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বউয়ের শরীর আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে ৷ ব্যথায় ককিয়ে উঠছে বউটা ৷ আর অসহায় দৃষ্টি মেলে তাকাচ্ছে তার দিকে ৷ উঠে দাঁড়ায় সে ৷ একটা কিছু করতে হবে ৷
অনেক রাতে হন্যে হয়ে ঘুরে কোনো যানবাহনে দেখা পেল না ৷ হতাশ যখন ফিরে আসছে তখন একটা একটা ঝুপড়ির পাশে একটা রিক্সা পড়ে রয়েছে দেখতে পেল ৷ কাছে গিয়ে চালক বা সওয়ারি কাউকে দেখতে পেল না ৷ একটু ভেবে সে নিজেই রিক্সাটা টেনে নিয়ে চলল বাসার দিকে ৷ কাজ সেরে আবার রেখে দেবে সেখানেই ৷ সকালে মালিককে বুঝিয়ে কিছু টাকা দিয়ে দেবে ৷
পাড়ার কাছাকাছি পৌঁছুতেই দেখল পাড়ায় আগুন চারদিকে ৷ লোকজনের চিৎকার ৷ মার ৷ মার ৷ ধর ৷ ধর ৷ কাইট্টা ফালা ৷  আগুনের আলোয় দেখা যাচ্ছে একদল লাঠিসোটা দা কিরিচ নিয়ে ধাওয়া করছে ৷ বাঁচাও ৷ বাঁচাও ৷ আর্তনাদ চিৎকারে একটা থমথমে পরিবেশ ৷ ওর বুকের ভেতর মোচড় দেয় ৷ বউয়ের জন্যে ৷ আর একটা স্বপ্নের জন্যে ৷ দ্রুত পৌঁছে যায় তাদের বাড়ির কাছাকাছি ৷ আর দুএকটা বাসার পরে ওদের ঘরে লাগবে আগুন ৷ দ্রুত ছড়াচ্ছে ৷

এই....এই....খাড়অ ৷ শালার শালা ৷ কই যাইতাছচ ৷ 
ধর তারে ৷ ভাগতাছে ৷ 
  সে দাঁড়িয়ে পরে ৷ 
 -- না না ভাই ৷ আমি ভাগতাছিনা ৷
 -- ভাগতাছৎনা ৷ বাল ফালাইতাছৎ ৷ রিসকা লইয়া কিতা করতাছৎ?
-না দাদা ৷ আমার বউ ৷ ব...অ...উ... ৷
পুন্দেদা দিমু তর বউ ৷ বান তারে ৷ কাইট্টাঅই লামু আজগা তরে ৷
দাদা ৷ আমারে মাইরেননা ৷ আমি প্রাণভিক্কা চাই আপনেরার কাছে ৷ আমার কথাডা হুনেন ৷
চিৎকার চেঁচামেচিতে শোনা যায়না তার কথা ৷ পিছমোড়া বেঁধে ফেলে তাকে ৷ তার বাসার সামনে ৷ সে অসহায় চেয়ে থাকে বাড়ির দিকে 
দড়িতে টান পড়ে ৷ চল আজগা তোর শেষদিন ৷

      ঠিক এই সময় বাড়ির ভেতর থেকে কান্না ভেসে আসে দুটি মানুষেরমা মা ৷ ওঙা ওঙ্গা ৷ মা..ওঙ্গা...মা...ওঙ্গা ৷ আর আর্ত চিৎকারভরা বীভৎস রাতের আকাশ থেকে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছেদাঙ্গা...দাঙ্গা...দাঙ্গা...৷

বুধবার, ১ মে, ২০১৯

খা গ ত র্প ণ

।। অশোকানন্দ রায়বর্মণ।।
(C)Image:ছবি















লমে সৃজন হয় ৷ মসীতে রক্ত ঝরে ৷ খাগবিন্দু ঘামের আলপনা ৷কলম যে হৃৎশ্রমের হাতিয়ার ৷ কলমের অগ্রভাগে ভেসে ওঠে যে নির্মিতি, অক্ষরের অলংকারে জেগে ওঠে যে নন্দন, সেতো অন্নস্বপ্ন ৷
আগত সন্ততিজীবন ও অষ্টপ্রকোষ্ঠের নবদ্বারের বাঁধুনির মৃদঙ্গদেয়াল ঘিরে যে ঘর্মাক্ত আলপনা সে যে মেধার গঙ্গামৃত্তিকা ৷ এ সুলক কেবল মসীশ্রমিকই জানে ৷
কলমও নির্মমরাজের বিপরীতে আওয়াজ তোলে ৷ স্লোগান রচনা করে ৷ কলম ঊষার আকাশে গায় জাগরণীগান ৷
কলমের মাধুকরী আর কর্মজীবীর মোটাভাতের গন্ধ এক ৷ আশ্চর্য নীবার ৷ খাগের অন্তরে নীরবে বাজে হাতুড়িধুন ৷ কাস্তেকিঙ্কন ৷
কলমের নিবেদন শুভকালের প্রত্যাশায় ৷ কলম তখনই আয়ুধ যখন ক্রোধ কুসুমিত হয় কৃষ্ণচূড়ার আগ্নেয়শাখায়
৷ যদি কোনো হন্তারক ক্রুশকাঠের মতো  কলমকে বয়ে নিয়ে যায় বধ্যভূমির দিকে ৷ সম্মিলিত কলমমজুরেরা দাঁড়িয়ে যায় কলমের চারপাশে ৷ ভীরু হন্তারক পেছনে সরে যায় ৷
মসীমজুর কলমের কল্পনায় আঁকে ভুবনপাহাড়ের খোলা আকাশ ৷ লিখে যায় শিল্পগ্রামের অমৃতকবিতা ৷ জীবনীশোধক কবিতা ৷
প্রতিটি মসীজীবীও শ্রমিক ৷ অন্নগন্ধ কিংবা সৃজনসৌরভ তারও শরীরের মোক্ষম চলাচল ৷ রক্ততঞ্চন ৷ প্রতিটি মে-দিন তার জরুরি উদযাপনের দিবস ৷ শব্দশ্রমিকের দৃঢ়আঙুল জাগবার দিন ৷ অনিবার্য পালনেই তার সম্মান ৷

সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আসল কতা অইলো গিয়া

(C)Image:ছবি
  ।। অশোকানন্দ রায়বর্ধন ।।


ই বছরের আগিলা পুজাডা গনেইস্সাই ধইরা লাইছে পরিসংখ্যান দপ্তরের খাতাপত্রে অহন পইরযন্ত দুই হাজার সারে আঢারডা গণেশপুজার পাত্তা পাওয়া গেছে এইডা খালি আগরতলা শহরের হিসাব   মমস্সলেরটি অহনঅ আইয়া সারছে না নেট খারাপ বিশ্বকর্মা ঠাউর রওনা দিবার লগে লগেঅই  তার স্যাটেলাইট ইনডাসটিকের কর্মীরা যে যার বাইৎ গেছেগা গিরস্ত বাইৎ গেলেগা খেতের কামলারা যেমুন করে আরকী না আসল কতা অইলো গিয়া হিসাবটা ভেজাইল্লা লাগতাছে আবার সারে কেরে?  এইডা কুন হিসাব ?  দ্যাবতার আবার আধা কী?  না আসল কতা অইলো গিয়া মিনিসিপালির থিক্কা যহন গনাত বাইর অইলো তহন দেহা গেল কুনু কুন চুমুনির ধারে গণেশ ঠাকুররে একলা ফালাইয়া ভক্তরা নেশামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করনের লাইগ্গা হিয়ানতে সইরা গেছে কী করন যায়, বছরের পর বছর ইট্টু ঠাণ্ডা গরমের ব্যাপার চইল্লা আইছে পট কইরা তো আর বাদ দেঅন যায়না মানসম্মানের একটা পেসটিজ আছেনা এর লাইগ্গা গনইন্নারা গিয়া তথ্য লেহনের লাইগ্গা কেউরে পাইছেনা ঠাউর বুইল্লা কতা বাদ দেয় ক্যামনে মিনিসিপালির প্রণববাবু সাব্যস্তের মানুষ নাটক পরিচালনা করেন গুণী মানুষ চিকন বুদ্ধিও আছে তাইনের বুদ্ধি একখান বাইর করলেন মানুষ নাই দেবতা আছে এমুন যে কয়ডা পাইবেন অদ্দেক হিসাব ধইরা লান বার বার কী আর আঅন যাইব'? সাপঅ মরল', লাডিঅ বাংলনা হেমনে যাইয়া এই হিসাডা খারাইছে
আসল কতা অইলো গিয়া গণেইশ্শা পূজার বাজারটা কেমনে ধরছে দ্যাহেন আগরতলা শহরের চুমুনিডির কুনকুনুডার মইদ্দে শনিবার শনিবারে শনিপূজা অয় ইডারঅ বাচ্ছরিক পূজা আছে কুনুকুনু জাগাৎ আগরতলার শনিঠাকুর খুব জাগ্রত চুমুনির মইদ্দে একছিডেন অইলেঅই শনিপূজা শুরু অইআ যায় এই শহরে শনিতলা বুইল্লা একটা জাগাঅ আছে কিন্তু মহাদেবতলা নাই, দুগ্গাতলা নাই, লক্খীতলা নাই, কাত্তিকতলা নাই আর কত কমু শনির ইহানঅ খুব নাম ডাক তাইনেই ছেলিব্রিটি আগরতলার ওপেন ফিল্ডে গণপতি ঠাকুরের আগমনে এইবার পরের দিনের শনিপূজাডিও মাইর খাইছে শনিপূজার কয়দিন আগের থিক্কা লাইটিং মাইক মিল্লা রাস্তার মইদ্দে একটা অরন্ডি লাইগ্গা যাইত এইবার গণপতি বাপ্পা মোরিয়া শনিরে মুড়াইয়া লাইছে মাথা বদলাইয়া দেওননি ছুডুবেলা? মামা গো! বুজছিলা হাতির মাথাৎ কুনুতা ধরতোনা তুমি রাজত্ব করবা? আর অইতোনা পঁচিশ বছর বহুত করছ' আর জ্বালাইওনা ( ছরি,  কেউ রাজনীতিৎ নিয়েননা)  আসল কতা অইলো গিয়া শনিঠাউর গত শনিবার জমাইতেই পারলেননা মাইক, লাইটিং,  থার্মোকলের বাটিৎ খিচুড়ি, ফাইড রাইস কুনুতানেই কুনু কাম অইলনা হগ্গলতে এইবার ডাইটিং না করইন্না দেবতাডার দিকে ফিরা দৌড় লাগাইছে কেমনে এই দেহডা লইআ সুগার টুগার ছাড়া বাঁইচ্চা থাহন যায় ইডাঅই জানত' চায় হক্কলে ডাক্তারের চরণে ট্যাহা ঢালতে ঢালতে ফতুর হ্যাকজন শনিঠাউর অ আর কিতা করতাইন বয়সঅ অইছে কোপের দৃষ্টিও নাই হাই পাওয়ার চশমা লাগে কি আর করন যায় কালের কাল বাইস্সা কাল,  ছাগলে চাডে বাঘের গাল আবছা দৃষ্টিতে  ভাইগনা গণেশের মন্ডবের দিকে চাইয়াই রইছেন সামনে দিয়া ঢাক বাজাইয়া, ট্রাকঅ উডাইয়া গণেশরে লইয়া যাইতাছে মাইনষে গণেশে নামে ধ্বনি দিতাছে গো!  মনে পডে হেই গানডা- ফাইট্টা যায়, বুকটা ফাইট্টা যায়! 

               এইত গেল শনি ঠাউরের দুর্দশার কথা আর আজগা দেহি বিশ্বকর্মারঅ মাথাৎ বারি পড়ছে তাইনে সক্কালবেলা মাডিৎ লাইম্মাঅই টের পাইয়া লাইছইন  এবছরের ভাইল বালানা আসল কতা অইলো গিয়া কয়দিন আগে গণেশ ঠাউরের পূজার মাইদ্দে মাইনষে যেমনে লামছে আর চান্দা টান্দা দিয়া হাত খালি কইরা লাইছে খরচাপাতি করছে বিশ্বকর্মার চাপটা যেমন নেওন যাইতাছেনা মাইনষের হাতঅ ট্যাহা পইসা কিচ্চু নাই অন্যান্য বছর বিশ্বকর্মা পূজার দিন কুনুক্কানঅ যাওন যাইতোনা গাড়ি রিসকার অভাবে পূজার আগে মানে দুফরের পরে ছাড়া রাস্তাৎ বাইর অইতনা গাড়ি টারি এইবার এমন কিচ্চু সমস্যা নাই হগ্গলে ট্যাহা কামানির ধান্দাৎ লাগছে সহাল থিক্কা কুনসময় পূজা দিল',  কুনসময় কিতা অইল চার দুহানের  কুনাৎ যাইয়া বিশ্বকর্মা পুরিতরকারির অর্ডার দিয়া নিরিবিলি খাইতাছ্ল দুই একটা কথার আওয়াজ কানঅ বারি দিল ছয়-সাতমাস দইরা রুজি নাই, রেগার কাম নাই, কন্টাক্টরি নাই , কর্মচারীরার পে- কমিশনডাও ঝুলতাছে মাইনষের হাতঅ ট্যাহা পইসা আছে আর কত, থাকবঅ কত আহ হায়রে কী ব্যারাছেরার মাইদ্দে আইলাম- বিশ্বকর্মা মনে মনে কয় মনে মনে আবার হাসেঅ কদিন পরে ত বড় বৌদিঅ বাপের বাড়িৎ আইব আইবার সময় দেইক্কা আইছে কোমারে আঁচল প্যাঁচাইয়া বড়দার লগে ঝগড়া করতাছে বড়বৌদি বাপের বারিৎ আইঅনের লাইগ্গা আর ইহানঅ যে ভাতিজা বাজারডার দহল লইয়া লাইছে তাইনে কইতারবনি
            দুহানদাররে টিফিনের ট্যাহাডা দিয়া বাইর অইয়া একটা বিড়ি ধরাইয়া সুখটান দিল বিশ্বকর্মা চুমুনির মাঝখানঅ বিড়ি জ্বালাইছে পুলিশে ধরবনি ব্যাডারে আরেনা বিশ্বকর্মা জানে, ইহানঅ আইন অয় মানন লাগেনা গাড়িৎ উডেন, অটুৎ উডেন য্যামনে মন্দের হ্যামনে ভাড়া লইতাছে যাত্রী লইতাছে রাজ্যরে নেশামুক্ত করতাছে আবার মদের বার খুইল্লা দিতাছে সাপের মুহঅ চুমা চলে আবার ব্যাঙের মুহেঅ আসল কতা অইলগিয়া বড় বৌদিরে একটা ফুন করন লাগে ভাতিজার কান্ডকীর্তিডা জানান দরকার কদিন আগে বৌদি একটা মুবাইল লইআ আইছিল একটা সিম লাগাইয়া দেওনের লাইগ্গা একটা নিজস্ব মুবাইলের খুব দরকার ভক্তরা ফুন করে লক্কু-সরুর মোবাইলে তারা বিরক্ত অয় তারার গেইম খেলায় ডিসটাপ অয় একজন ভক্ত গতমাসে দিল মুবাইলডা বিশ্বকর্মা তার সিমের টাল থিক্কা একটা স্পেশাল নম্বরের সিম লাগাইয়া দিল মুবাইলডাৎ নম্বরটা মনে থাকার মতো আবার নিরাপদও পাঁচটা পাঁচ আর তিনটা তিন দিয়া নম্বরটা বৌদিরে বুঝাইয়া কইল নম্বরের ব্যাখ্যা পাঁচটা পাঁচ মানে বড়দার পঞ্চানন আর তিনটা তিন অইলো আপনার ত্রিনয়ন সব মিলাইয়া দশ ডিজিটের নম্বর বৌদি খুব খুশি পহেটতে নিজের মুবাইলডা বাইর করল বিশ্বকর্মা নম্বরটা মনে আছে ফাইভ ফাইভ ফাইভ ফাইভ ফাইভ থ্রি থ্রি থ্রি...... হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো বৌদি আমি বিশু কইতাছি আরে!  রিং অয় কাইট্টা আবার করে এবার কয় নট রিচেবল আবার নেটওয়ার্ক ষেত্র সে বাহার হ্যায় আবার ট্রাই করে হুরুজা সুইচ্ড অফ মোবাইল কুম্পানিডিও যে ... আরে স্বর্গে তো বিশ্বকর্মারই নেটওয়ার্ক চলে কারে দুষতাছে তাইলে কী তার কর্মচারীরা? আসল কতা অইলো গিয়া..........

রবিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৮

সাঁইসংলাপ

।। অশোকানন্দ রায়বর্ধন ।।
(C)Image:ছবি







তোমার কথা অক্ষরে অক্ষরে মানলাম গুরু
তোমার কথায় জীবন করলাম শুরু
'পরের জাগা পরের জমিন ঘর বানাইয়া আমি রই'
মাগো তুমি জনম দিয়া ফালাইয়া গেলা কই ৷
আব আতস খাক বাত এই মাটি মিশাইয়া 
আমার জৈবন আমার জীবন এইখানে কাটাইয়া
দুঃখে সুখে হাসিমুখে জীবন করলাম পার
পারঘাটাতে আইয়া জানলাম সবই যে অসার
সাঁই গো, আট কুঠুরি নয় দরোজার ঘরটা গেল কই
ভবের ঘরের দরজা বন্ধ আমি মালিক নই

দেশি কী বিদেশি কী কাঁটাতার কয় কারে
মনের সুখে মানুষ থাকুক এই দুনিয়া জুড়ে
দুনিয়ার মালিক দীন দুনিয়ার দরোজা খুলেন হাজার
বান্দা এসে দরোজা বান্ধে আজব ব্যবহার
সাঁইজী পরের জা'গা পরেরই হয় পরেরই ভূমি
তোমার আউলা কথা বাসি হইব ঘর পাইবা না তুমি ৷
 
গান বাঁধবা ঘরের কথা কইবা আর কত
আজব ফরমান জারি হইল তুমি বহিরাগত ৷


শনিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৮

মা নু ষ

।। অশোকানন্দ রায়বর্ধন।।
(C)Image:ছবি











তোমাদের ভেতর যখন শ্বাপদের ঘুম ভাঙে
বুঝবে নির্বাচন এসেছে ৷ আর নির্বাসনে গেছে তোমাদের মানবতার মুখোশটিও ৷
অথচ এই উপকরণটিকে এতোদিন যত্ন করেছ ৷
এখন তোমাদের ভেতর থেকে প্রকট হয়ে ওঠে এক উন্মাদের আলখাল্লা ৷
নিজেকে ছাড়া প্রতিপক্ষকে পাগল মনে করো তোমরা ৷
তোমাদের সহযোগীদের উসকে দাও
  চিহ্নিত বিকৃতজনের বিরুদ্ধে ৷
অভিধানের সমস্ত স্বল্পব্যবহৃত শব্দের বহুল প্রয়োগ
শুরু করে দাও তোমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে ৷ তোমাদের উচ্চারণে কেউ অবতার ইতর তো কেউ মহাপ্রস্থানের মিথপ্রাণী ৷
তোমরা এতোবেশি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর থাকো যে
পরাজয়ের কোন আভাস থাকে না তোমাদের সামনে ৷
জয়ের বহু আগেই তোমরা বিজয়োল্লাস করো ৷
কটা দিন মানুষের জন্যে স্বপ্নের তালগাছ পুঁতে দাও ৷
তালগাছের রঙ সোনালি ৷ গাছটাও সোনার ৷ দুখিজন অভাগামানুষ স্বপ্নে তালগাছ দেখে ৷ তালগাছের সোনালি ঝিলিক দেখে ৷ তোমাদের মতো মানুষ দেখে না ৷
কারণ সে কদিন তোমাদের তো আর চেনা যায় না ৷ 
তোমাদের দাঁত বেরোয়, তোমাদের নখ বেরোয় ৷
তোমরা গর্জনে পটু হয়ে ওঠো পরস্পরের বিরুদ্ধে ৷
এভাবেই তোমরা মার্চ করো গণআদালত অব্দি ৷
পশমবাহী প্রাণীর মতো মিছিলে মিছিলে
তোমরা যে মানুষ থাকো না তখন আর ৷
তোমরা যে মানুষ হও না আর ৷