“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
সংবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯

'উজান' উদযাপন করতে যাচ্ছে ২১শে ফেব্রুয়ারি,১৯ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস...


গামী ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে এবারেও ‘উজান সাহিত্য গোষ্ঠী’ এই দিনটি পালন করতে চলেছে।
            এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, রবিবার সকাল ৯টা ৩০মিনিটে দুর্গাবাড়ি শিশুবিদ্যালয়ে  এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুর্গাবাড়ি প্রাঙ্গণে রেখায়-লেখায় ‘আঁকা এবং লেখা’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতাতে অংশ নেবার জন্যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করবার অনুরোধ রইল। সেই সঙ্গে ২১শের মূল অনুষ্ঠান তথা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে দুর্গাবাড়ি পূজা মণ্ডপে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হবে। সেখানে সবাই উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান সুন্দর  এবং সফল করবার অনুরোধ জানাচ্ছি।
              ২১শের মূল অনুষ্ঠানে প্রতিবারের মতো এবারেও গানে, কবিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ বক্তৃতানুষ্ঠান। সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে বক্তৃতা করবেন...

বাসব রায়
বক্তৃতার বিষয় হচ্ছে 'ভাষা এবং জীবিকা'
অতুল শর্মা
বক্তৃতার বিষয় হচ্ছে ঃ 'অনুবাদ সাহিত্য আৰু মোৰ অভিজ্ঞতা'

তারিখ ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯                                                    ইতি
তিনসুকিয়া                                                        সুজয় রায়         ভানু ভূষণ দাস
                                                                     সভাপতি                সম্পাদক
                        উজান সাহিত্য গোষ্ঠী, তিনসুকিয়া
যোগাযোগের ঠিকানা: ভানু আর্টস, রাঙাগড়া রোড, (সুবচনী আলির বিপরীতে), তিনসুকিয়া, আসাম।
দূরভাষ তিনসুকিয়া ভানু ভূষণ দাস ৯৪৩৫৩৩৫৪৪০,৯৯৫৭১৩৯৬৯৭; সুজয় রায়  ৯৯৫৪৭৯৭১২২;
            গোপাল বসু ৯৪০১৩৩০৪৮৯, গোপাল মজুমদার ৯৪৩৫৩৩৩৯৩০, ৮৬৩৮৪৭৫২৫৪,
ত্রিদিব দত্ত ৯৮৫৪৮২৫৬৪৩, ৮৬৩৮০৮১৯৯৫,  সবিতা দেবনাথ ৮৪০৩৯৫১৪৯৯, ৮৬৩৮২০৭৭৬১,
সুমিত পাল ৯৯৫৪১৭২০৭০,  কঙ্কন দাস ৭০০২৭৬৮০০৮, অমৃত দাস ৯৭০৬১৩৫৩৬৫, উত্তম দাস
৯৮৫৪১৩৮২১৯।
ডিগবয় পার্থ সারথি দত্ত ৯৪৩৫৩৩৭৫৫২,৭০০২০৯৫৭৯১;বরহাপজান রাজেন্ড খাউণ্ড ৯৯৫৪০৫৪০৭২;
মাকুম   স্বরূপ দাস ৯৭০৬১৮৮৮০৪ ডিব্রুগড় সুরজিত দেবনাথ ৯৭০৬৮৪৯৯৭০;
গুইজান প্রমেশ দাস  ৮৬৩৮২৪৯১৭২; বরডুবি স্বস্তি সাধন চক্রবর্তী ৮৭২১০২০০২৬; মার্ঘেরিটা সমীর দাস 
৭০০২৯৩০৯৮৫



ছবি এবং কথার প্রতিযোগিতার নিয়মাবলী এবং সময়সূচী
১) প্রতিযোগিতা দুটি ভাগে হবে
২) ক) ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রবিবার সকাল ৯টা ৩০মিনিট থেকে দুর্গাবাড়ি শিশু বিদ্যালয়ে ‘লেখা এবং আঁকা’র প্রতিযোগিতা।    
    খ) কথা বা কবিতা-পঙক্তিগুলো সুন্দর করে লিখতে হবে। সঙ্গে দেওয়া ছবিটি আঁকতে হবে,অথবা কথার সঙ্গে সঙ্গতি
        রেখে একই  আদলে অন্য ছবিও আঁকা যেতে পারে।
    গ) আয়োজকদের তরফে কাগজ সরবরাহ করা হবে। বাকি আঁকা এবং লেখার সামগ্রী প্রতিযোগিদের নিয়ে আসতে হবে।
    ঘ) আঁকার সময় দুই (২) ঘণ্টা
    ঙ) শ্রেণি অনুসারে এই প্রতিযোগিতা চারটি বিভাগে বিভাজিত হবে।
    চ) অংশগ্রহণের মাশুল ৫০/-টাকা
৩) ক) ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯টা ৩০মিনিট থেকে দুর্গাবাড়ি প্রাঙ্গণে ছবি আঁকার খোলা প্রতিযোগিতা।
    খ) বিষয় হবে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সংগ্রাম এবং ঐতিহ্য’, অথবা ‘মাতৃভাষার মান’ অথবা সঙ্গে  দেওয়া যে কোনো একটি কবিতার পঙক্তিকে অনুসরণ করে ছবি আঁকতে হবে। সেই ক্ষেত্রে যে কবিতা অনুসৃত হলো তার নম্বর উল্লেখ করতে হবে। যেমন ‘আকালৰ চোতাল...সর্বোত্তম প্রতিভা’ কবিতাটি অনুসরণ করলে লিখতে হবে (১)। কবিতা পঙক্তি লিখে দিলে আরো প্রশংসনীয় হবে।
   গ) আয়োজকদের তরফে চিত্রপট (ক্যানভাস) সরবরাহ করা হবে। কিছু রঙের যোগান দেওয়া হবে।  বাকি আঁকা এবং লেখার    
       সামগ্রী প্রতিযোগীদের নিয়ে আসতে হবে।
 ঘ) আঁকার সময় তিন (৩) ঘণ্টা
ঙ) বয়স এবং শ্রেণির বাঁধন-বিহীন এই প্রতিযোগিতা সাধারণের জন্যে উন্মুক্ত। যে কেউ অংশ নিতে পারেন।
চ) অংশগ্রহণের মাশুল ২০০/-টাকা
৪)  দুটি প্রতিযোগিতাতেই  শিল্পীর স্বাক্ষর এবং ছবির নাম (যদি দিয়ে থাকেন) মাতৃভাষাতে  লিখতে হবে।
৫) বিজয়ী ছবি ২১শের মূল অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হবে। এবং সেখানেই বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।
                                   
                                            *****
বাকি বিস্তৃত তথ্যের জন্যে নিচের ছবিগুলো দেখুন...
(ক্লিক করে বড় করুন )






বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮

৭ম উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন : ২২-২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮



সপ্তম উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় লিটলম্যাগাজিন সম্মেলন সফল করবার জন্যে অধ্যাপক ঊষারঞ্জন ভট্টাচার্যের আহ্বান.


৭ম উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন
২২-২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮
সাউথ পয়েন্ট স্কুল প্রাঙ্গণ, গুয়াহাটি

শ্রদ্ধ নিবেদন
বিবেকানন্দ কেন্দ্রে হচ্ছে না
উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনের সপ্তম অধিবেশন ২০১৮ আগামী ২২, ২৩, ২৪ তারিখে গুয়াহাটির সাউথ পয়েন্ট স্কুল –প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বরেণ্য সাহিত্যিক শ্রী নিরুপমা বরগোহাঞি ও লিটল ম্যাগাজিনের প্রাণপুরুষ শ্রী সন্দীপ দত্ত। বিশিষ্ট কথাকার ড০ রামকুমার মুখোপাধ্যায় এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি রূপে উপস্থিত থাকবেন। এই অধিবেশনে আপনার সানুগ্রহ উপস্থিতি ও সহযোগিতা সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে আমাদের বাধিত করুন।
পত্রযোগে নিমন্ত্রণের ত্রুটি স্বগুণে মার্জনা করবেন।


 ইতি,

উষারঞ্জন ভট্টাচার্য   
সভাপতি  
সঞ্জয় গুপ্ত
সাধারণ সম্পাদক
সপ্তম উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন

যোগাযোগ
গৌতম ভট্টাচার্য ৯৩৬৫৪৮৯৮৬১, মদনগোপাল গোস্বামী ৯৪৩৫৩০৬৫০৪, জ্যোতির্ময় পুরকায়স্থ ৬০০০৪ ৩৭৪৫৭, সঞ্জয় চক্রবর্তী ৯৮৬৪২৬৩৩৭০, রতন দত্ত ৮৬৩৮১ ৭০২০৬, শান্তনু পোদ্দার ৮৬৩৮১৪৬৯০৬, দেবলীনা সেনগুপ্ত ৯৪৩৫৭৩২২৩১, বাসব রায় ৯২০৭১ ৬৯৬৯৭, তুষার কান্তি সাহা ৯৮৬৪০ ৬৬৯৯৪, সজল পাল ৮৮৭৬৮ ৩৬১৮৩, তাপস পাল ৮৮১১৮০০৬১০, সৌমেন ভারতীয়া ৯৪৩৪০ ১০৬৩২, প্রসূন বর্মণ ৯৮৬৪০ ৭১০৬৭

অনুষ্ঠানসূচী

সাউথ পয়েন্ট স্কুল , বর্ষাপাড়া , গুয়াহাটি ৭৮১০১৮

২২ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার

বিকেল ৪.০০       : পঞ্জিয়ন
সন্ধে  ৬.৩০         :  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার

সকাল ৯.০০       : পঞ্জিয়ন
সকাল  ১০.০০    :  উদ্বোধনী
সকাল  ১১.০০    :  স্মারক গ্রন্থ ও প্রদর্শনী উন্মোচন
দুপুর  ১১.৩০     :  গ্রন্থ ও পত্র-পত্রিকা প্রকাশ
দুপুর  ১২.৩০     :  প্রতিনিধি পরিচয় পর্ব
দুপুর  ০১.৩০     :  মধ্যাহ্ন ভোজন
দুপুর  ০২.৩০     :   আলোচনা সভা
দুপুর  ০৩.৩০     :  কবিতা পাঠ ও আড্ডা, প্রথম পর্ব
বিকেল   ০৪.৩০  :  মুখোমুখি: কথাকার শ্রী রণবীর পুরকায়স্থ
সন্ধে  ০৫.৩০     :   চা বিরতি
সন্ধে ০৬.০০       :   প্রতিনিধিদের মতবিনিময়
সন্ধে  ০৬.৩০      :  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান


২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার

সকাল ৯.৩০       : প্রতিনিধি সভা
সকাল  ১১.০০     :  সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অনুষ্ঠান
দুপুর  ১২.০০      :  গল্প-পাঠের অনুষ্ঠান
দুপুর  ০১.০০      :  মধ্যাহ্ন ভোজন
দুপুর  ০২.০০      :   সম্পাদকের বৈঠক
দুপুর  ০৩.০০      :  কবিতা পাঠ ও আড্ডা, দ্বিতীয় পর্ব
বিকেল   ০৪.৩০  : প্রকাশকদের সঙ্গে মুখোমুখি
সন্ধে  ০৫.১৫       :   চা বিরতি
সন্ধে ০৫.৩০       :   সমাপ্তি অনুষ্ঠান ও প্রতিনিধি মিলনোৎসব
সন্ধে  ০৬.৩০       :  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান







সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১৮

ডি-ভোটার, ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে উদ্বিগ্ন উজানের সচেতন বাঙালি নাগরিকত্ব আইন (সংশোধনী) বিধেয়ক বাতিল দাবি করলেন

দৈনিক যুগশঙ্খ শিলচর ও গুয়াহাটি সংস্করণ, ২৩ জুলাই,১৮

তিনসুকিয়া ডিব্রুগড়ের কিছু লেখক শিল্পী সমাজকর্মী গত ১৫ জুলাই তারিখে তিনসুকিয়া বড়পাথারে এক সভাতে সমবেত হয়ে বিদেশী বাছাই প্রক্রিয়াতে দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে ডি-ভোটার করে, ডিটেনশন ক্যাম্পে বাঙালিদের পুরে দেওয়া হচ্ছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিধেয়ক, ২০১৬-র মধ্যদিয়ে যেভাবে দেশে ধর্মীয় মেরুকরণকে এবং আসামে ভাষিক মেরুকরণকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে তাতেও নিজেদের চিন্তা ব্যক্ত করেন। বাঙালি হিন্দু মুসলমানের এবং অভিবাসী মুসলমানদের নাগরিকত্বের প্রশ্ন নিয়ে যেভাবে অসমের রাজনৈতিক সামাজিক জীবন আলোড়িত হচ্ছে তাতে অগ্রণী বাঙালিদের সরব হওয়া এবং মতামত গড়ে তুলা দরকার ভেবে এই  সভার আহ্বান করেছিলেন শুভ্রজ্যোতি বর্ধন, গোপাল বসু, অসিত রায়,প্রশান্ত ভট্টাচার্য,সুজয় রায়, ভানু ভূষণ দাস,সুশান্ত কর, সুভাষ সেন, ত্রিদিব দত্ত এই নজন লেখক শিল্পী সমাজকর্মী।
       বিশিষ্ট নাট্যকর্মী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক উজান সাহিত্য গোষ্ঠীর সভাপতি সুজয় রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভাতে তিনসুকিয়া ডিব্রুগড় ডিগবয় , গুইজান, সোনারি থেকে বেশ কিছু অগ্রণী ব্যক্তিত্বের সমাবেশ ঘটে। সভার শুরুতেই উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুশান্ত কর বলেন, এই সভা নয় কোনো প্রতিবাদী সভা। কিন্তু যেহেতু বাঙালিদের মত বিনিময়ের কোনো মঞ্চ নেই, নেই সংবাদ মাধ্যমতাই বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন মত এবং পথ নিয়ে আলোচনা তর্ক বিতর্ক করে একটি সার্বিক অভিমত গড়ে তুলবার দায়িত্ব বৌদ্ধিক অগ্রণী শ্রেণিটির উপরে বর্তায়। তিনি বলেন, আয়োজকদের তরফে একটি অবস্থান স্পষ্ট করেই সভাটি ডাকা হয়েছে। কিন্তু জরুরি নয় যে সবাইকে সেই অবস্থানে সম্মতি জানিয়ে কথা বলতে হবে।
এর পরে  বক্তাদের অধিকাংশই প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিধেয়ক, ২০১৬-কে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে সেটি বাতিলের পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। একদিকে যখন আসাম চুক্তি মেনে নিয়ে এক বিদেশী মুক্ত এবং সেই সঙ্গে বিদেশীর নামে হেনস্তা মুক্ত আসাম গড়ে উঠবে বলে অসমিয়া বাঙালি হিন্দু মুসলমান সবাই আশা করছিলেন, তখন এই বিল অসমিয়া মনে অহেতুক এক অস্তিত্বের আশংকাকে চাগিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে মুসলমান সমাজ নিজেদের ব্রাত্য ভাবতে শুরু করেছেন। এই পরিবেশে বাঙালি হিন্দুর অস্তিত্বও সুরক্ষিত হতে পারে নাঅথচ, বাংলাদেশ থেকে আদৌ সেরকম প্রব্রজন ঘটছে না, আর যদি কেউ এসেও থাকেন এই বিলে তাদের নাগরিকত্বের কোনো নিশ্চয়তাও দেয় নি। একটি অর্থহীন বিল দিয়ে বাঙালি হিন্দুদের বড় অংশকে নিতান্ত প্রলোভিত করবার চেষ্টা হচ্ছে। একদিকে যেমন বিলের সমর্থনে হিন্দুত্ববাদী আবেগ উস্কে দেওয়া হচ্ছে, সেরকম বিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বঘোষিত একাংশ বামপন্থীদের মধ্যে উগ্রজাতীয়তাবাদী প্রবণতার সমালোচনা করা হয় সভাতে। এবং সেই সমালোচনা সভাতে উপস্থিত বাম ব্যক্তিত্বরাই করেন। যদিও সভাতে নাগরিক বিলের সমর্থনেও কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছিলেন---কিন্তু সভা শেষে উপস্থিত সবাই  সর্বসম্মতি ক্রমে এটি বাতিলের পক্ষেই অভিমত দেন। এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। 
            যেভাবে যথেচ্ছ ডি-ভোটার বলে বাঙালিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, যখন তখন ডিটেনশন ক্যাম্পে পুরা হচ্ছে এবং এন আর সি প্রক্রিয়াতে নিত্যনতুন ফরমান জারি হচ্ছে তাতে বক্তারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে লাখো বাঙালি হিন্দু মুসলমান এবং অভিবাসী মুসলমান নাগরিকদের অহেতুক হেনস্তা করা হচ্ছে, এবং এন আর সি থেকেও যে বহু যোগ্য নাগরিকের নাম বাদ পড়বেসেরকম একটি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডি-ভোটার বলে চিহ্নিতদের সিংহভাগ পরে ভারতীয় বলে প্রমাণিত হচ্ছেনএবং অনেকেই একপক্ষীয় মামলাতে বাংলাদেশী বলে গ্রেপ্তার করবার পরেও তারা ভারতীয় বলে ছাড়া পাচ্ছেন। কিন্তু ততদিনে দৈহিক,মানসিক, এবং আর্থিক ভাবে একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।  বক্তারা বলেন এই লড়াই বাঙালি হিন্দুর বা মুসলমানের  একার হতে পারে না। হিন্দুত্ববাদ বাঙালি হিন্দুকে বাকি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে। অসমিয়া উগ্রজাতীয়তবাদের মতো বাঙালি জাতীয়তবাদী অবস্থানও বাঙালির সংগ্রামের পরিসর তৈরি করে না। সাম্প্রদায়িক পথ আত্মঘাতী পথ। নাগরিক হিসেবে সম্মানের এবং সমানাধিকারের সংগ্রাম বাঙালি হিন্দু মুসলমানকে গণতান্ত্রিক এবং নিপীড়িত অসমিয়া সমাজকে পাশে নিয়েই লড়তে হবে। বিলের বিরুদ্ধে যেমন বাঙালি সমাজকে সরব হওয়া দরকার, তেমনি বাঙালির নাগরিকত্বের সমস্যা নিয়ে অসমিয়া সমাজেরও গণতান্ত্রিক অংশের সরবতা দরকার।  বক্তারা অনেকেই বলেন, মূলত শ্রমজীবীদের নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠছে, তাদের মধ্যেও নারী এবং শিশুরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিপন্ন হচ্ছেন। ফলে এই সংগ্রাম শ্রমজীবীদের লড়াই, নারীর অধিকারেরও লড়াই। শ্রমজীবীদের বিভাজিত করবার জন্যেও এই সব হচ্ছে। সস্তা শ্রমের চালান নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক অধিকার বিহীন শ্রমবাহিনী গড়ে তুলবার চেষ্টা হচ্ছে। সভা এই মতও ব্যক্ত করে যে যেহেতু আজঅব্দি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো ব্যক্তিদের প্রায় সবাই ডি-ভোটার। ভোটার তালিকাতে নাম নেই, অথচ বাংলাদেশী বলে আটক রাখা হয়েছে সেই সংখ্যা অতি নগণ্যঅন্যদিকে আসাম চুক্তি পরবর্তী কালে চুক্তি মেনে তালিকা সংশোধন করতে করতে সর্বশেষ যে ভোটার তালিকা রয়েছে সেটি ২০১৪তে সংশোধিত। একে জাতীয় সংগঠনগুলো থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালতও শুদ্ধ তালিকা বলে মেনে নিয়েছেন। তাঁর ভিত্তিতেই সেবারে লোক সভা নির্বাচনও হয়। যেহেতু বিশাল সংখ্যক দরিদ্র জনতার কাছে পুরোনো প্রয়োজনীয় দলিলাদি নাও থাকতে পারে তাই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এটিকে এন আর সি প্রস্তুত প্রক্রিয়াতে গ্রহণযোগ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এবং এখনো যখন প্রচুর মানুষের এন আর সি থেকে নাম বাদপড়বার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, তিনি সেই প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি করছেন। বিশিষ্ট তাত্ত্বিক হীরেন গোঁহাইও বলেছেন, দলিল নেই বলেই এন আর সি ছুটদের বিদেশী ট্রাইব্যুনালে পাঠানো চলবে না। সেরকম ক্ষেত্রে ২০১৪র ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে। কেবল ডি-ভোটার বলে চিহ্নিতদের নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত যেমন নিচ্ছেন নিন।  তাতে অসম চুক্তির মর্যাদাও সুরক্ষিত হয়, চরিত্রে দিক থেকে এটি ধর্মনিরপেক্ষও এবং বহু ৭১ পূর্ব ভারতীয় নাগরিক বিপন্নতার থেকে রক্ষা পান।
সভায় বক্তব্য রাখেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ জ্ঞান রঞ্জন দেব, সোনারি থেকে তরুণ সমাজ কর্মী অনুপ ভৌমিক, সিপি আই এম এল নেতা শুভ্রজ্যোতি বর্ধন এবং সুভাষ সেন, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা বিশ্বজিত বর্মণ, দৈনিক যুগশঙ্খের বার্তা সম্পাদক সঞ্জীব নন্দী, চিত্র এবং বাচিক শিল্পী ত্রিদিব দত্ত  এবং সবার শেষে সভাপতি সুজয় রায় প্রমুখ। সাংস্কৃতিক কর্মী দীপক চক্রবর্তী, সুশান্ত চক্রবর্তী, এবং সারা আসাম বাংলাভাষী যুবছাত্রপরিষদের তরুণ নেতা জয়ন্ত পাল বক্তব্য না রাখলেও প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন।
সুশান্ত কর সভার একটি সারাৎসার তুলে ধরে পর্যালোচনা করে নিজের বক্তব্য রাখেন, এবং আয়োজকদের হয়ে কিছু প্রস্তাব সভাতে তুলে ধরলে সেগুলো সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়। সভা অভিমত ব্যক্ত করে  সাম্প্রদায়িক নাগরিকত্ব আইন (সংশোধনী) বিধেয়ক, ২০১৬ বাতিল হোক তথা ভারতীয় সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার উপর কুঠারাঘাতের প্রয়াসকে ব্যর্থ হোক। ডি-ভোটারের নামে বাঙালিদের বিদেশী সাজানো বন্ধ হোক।  ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করা হোক। এবং চূড়ান্ত রায় দেবার আগে আগে ভোটাধিকার  স্থগিত করে হলেও, সাধারণ কয়েদীদের সঙ্গে জেলবন্দি করে রাখা বন্ধ করা হোক।  বিদেশী বাছাইর ভিত্তি বর্ষের মতো সমস্ত বিদেশী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন তথা নিষ্পত্তি করবার জন্যেও দুই বা তিন বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হোক।  দরিদ্র দলিত হিন্দু মুসলমান নাগরিকদের প্রয়োজনীয় দলিলাদির অভাবের কথা বিবেচনাতে রেখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, অসম চুক্তি মেনে তৈরি ২০১৪র সর্বশেষ ভোটার তালিকাকে এন আর সি ছুট অথচ ভারতীয় নাগরিকদের প্রামাণ্য নথি হিসেবে বিবেচনা করা হোক। 
              সভাতে সিদ্ধান্ত হয়, এন আর সি-র দ্বিতীয় খসড়া প্রকাশ পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনাতে রেখে দেড় দুই মাসের মধ্যে তিনসুকিয়া দুর্গাবাড়িতে নাগরিকত্ব এবং গণতন্ত্রশীর্ষক একটি আলোচনা চক্রের আয়োজন করবেন, আজকের সভার আয়োজকেরা। যেখানে ন্যূনতম একজন বাঙালি  এবং একজন অসমিয়া বক্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেই সভাতে অসমিয়া সমাজেরও বিদ্বজ্জনকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
          ওদিকে প্রায় একই বিষয়ে  আগামী ২৮ জুলাই, শনিবার গুয়াহাটির লতাশীলের  বিষ্ণুনির্মলা ভবনে ফোরাম ফর স্যোসিয়েল হারমনি,দেশপ্রেম   এবং  বসুন্ধরাদ্য ন্যু ডেজ নাগরিকত্ব এবং গণতন্ত্রশীর্ষক আলোচনা সভা ডেকে অসমিয়া বাঙালি, হিন্দু মুসলমান, বরাক  ব্রহ্মপুত্রে একটি ঐক্যমত্যের পরিবেশ গড়ে তুলবার যে প্রয়াস শুরু করেছে সভা সেই প্রয়াসকে অভিনন্দন জানায় , এবং তার    সাফল্য কামনা করে।