“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
অপাংশু দেবনাথ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপাংশু দেবনাথ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৯ মে, ২০১৭

অপাংশু দেবনাথ এর ৫৮ টি দ্বিপদী

 

।।  অপাংশু দেবনাথ ।। 

ব্লগ পোষ্টঃ +Rajesh Chandra Debnath  

(C)Image:ছবি


 










প্রভা

আরও দু:খ নিয়ে এসো, ছত্রাকারে  ভাঙলে সভা।
একান্ত দূরে চেয়ে থাকি,বক্রাকারে জ্বলে প্রভা।

ভাণ্ড

রঙিন ভাণ্ড একদিন, অন্ধকারে ডুববে জেনো
এই অভিযোগে বলো তবে ভূষিত করলে কেনো?

স্বপ্ন

এমন করিয়া কতো আর বাক্যবাণে তুলবে ঝড়
প্রতিবার আমি প্রদীপটা আগলে বাঁধি স্বপ্নঘর।

কুসুম

কুসুম তোলো একা তুমি বন্দরে সে নাবিক জাগে,
তাহার কথাতো ভাবো নাই কখনো এই সোহাগি রাগে।

সঙ

মধ্যখানে যে শূন্যতা তা তোমারই সৃষ্টি রঙ,
আর কতো বলো নিজেরই বিষাদ রঙে সাজবে সঙ!

চিঠি

দরোজা খুলিয়া যখনই দাঁড়াই একা বৃষ্টি নামে,
উঠোনে প্লাবন তুমি কি এ পাঠালে চিঠি জলোখামে?

শূন্যতা

উদোম পায়েতে নামি নীচে জল নেইতো একটি ফোঁটা
শাখায় শাখায় জেগে আছে ক্লান্ত দেহে রিক্ত বোঁটা।

তন্দ্রা

রাত্রি হলেই অসুস্থ, বিষণ্ণতা পালক ঝাড়ে
আমি কেবলই একাকী এ স্বপ্ন আঁকি তন্দ্রা বাড়ে।

পারদ

সিপাহিজলায় ছায়া কমে, লালমাটির পথটি ধরে,
আলোর মমতা ছুঁয়ে আছো, পারদ হাসে পাতার ঘরে।
অহম

চড়া দামে কিনি সুখ সখা,তোমারে বলি সকল কথা,
অহম পোড়াতে নাই পারি, তুমি ভাঙলে কি সব প্রথা?

ঢেউ

বিবাদে বিনয় বাড়ে, খুলে দেখে করতল কেউ,
কিছুই নেই সঞ্চিত অবশেষে অশ্রুচিহ্ন ঢেউ।

কাঁটা

খুব বেশী ঝুঁকে গেলে লিগামেন্টে টান পড়ে জানি,
জেনেশুনে ফুল তুলি, হাতে এসে কাঁটা হয় রানি।

পরাগ

ফুল ও কণ্টক তার মধ্যখানে গরল ও সুগন্ধিতে ভ্রমর আসে,
মৌমাছি কম্পিত পাখায় ধরে রাখে সময় সন্ধিতে পরাগ ভাসে।

লিপি

শব্দকে সত্য মেনেই বিশ্বাসে নদী অঙ্কন করি বুকে,
তুমি তাতে ছিপ ফেলে ব্রহ্মলিপি লিখো স্বপ্নলোকে।

পাখি

শিমূলরঙা ভুল উড়িয়েছি আকাশে তুমি তাতে ছুঁলে,
অমনি ওড়লো নি:শব্দপাখা মেলে হৃদপাখিটি দোলে।

ছায়া

পরম আভা আমাকে জড়ায়।
অবিকল হিমশৈল ফুঁড়ে আসা উজ্জ্বল ছায়া ছড়ায়।

নদী

সন্ধ্যায় পাহাড়ে পরাগরেণু ঝরাও,
নেমে এসে ভোরে নদী হও সমুদ্রে গড়াও।

অন্তর্বাহির

কিছুতেই কিছু হবার নয় তার,
অন্তর বাহির ঈশ্বরময় যার।

যজ্ঞ

সব জ্বালানি মজুত রেখো,
যজ্ঞ সাজাতে হবে একদিন দেখো।
বিষাদ

বা-দিকে যে চিকন বিষাদ ভেতরে ভেতরে চিবিয়ে সে,
বন্ধ দরোজার খিলিঘরে অহোরাত বেঁধে রাখে শেষে।

প্রেমিক

বিবাহের মরসুমে শূন্য মাঠে বিরহ কঙ্কণ বাজে,
নাড়া তুলে বিকল্পবিকেলে ভিনগাঁয়ের প্রেমিকেরা সাজে।

অবসাদ

পথে হেঁটে যেতে দেখি ওড়ে আঁচল কার নদী গহ্বরে,
পাখি ঠোঁটে সেই রাত্রির নীরব অবসাদ মন্তরে।

উপনিষদ

মন আমার তোমার সাথে বিন্দু বিন্দু কুয়াশা কঠিন,
জল ছুঁয়ে ধোঁয়া ধোঁয়া-ভোর কেন যে উপনিষদ রঙিন।

ঘোর

চিৎমুদ্রায় জাগি বিছানায়  জাগে পূর্ণচন্দ্র ভোরে।
আলো ফেলে ধীরে যেন আমি আহত হই চাঁদলাগা ঘোরে।

পণ্য

নিজেকে বিজ্ঞাপিত করিনি কখনোই
বিজ্ঞাপন আমাকেই পণ্য করে তুলে।

মনোপাখা

পথে এসে সব কুয়াশারা আজকাল পেখম মেলে বসে,
আলো জ্বালি মনোপাখা এসে আমাকেই জড়ায় নীরবে।

মন্ত্র

অবস্থান জেনে নিয়ে সন্ধ্যাতারা জ্বালে কেউ,
দেশান্তরে ছড়ায় সে ভালোলাগা মন্ত্ররূপে।

নির্মাণপুষ্প

ধুলো ধোঁয়া ছুঁয়ে হাঁটে এতো এতো চলমান অদ্ভুত সব পা।
আমি সে চরণ খুঁজি যাতে স্পর্ধায় রাখা যাবে নির্মাণপুষ্প।

পক্ষিমন

হৃদয় কাটা সমাপ্ত হলে  নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে সাক্ষী,
সেই জানে এই পক্ষিমন নির্মম আলো দেখেছে কতো।
বেঘর

মিহিমায়া ও মন্ত্রের দিকে গড়াতে গড়াতে আজ মাটির নিকটে।
দূরগামী গতি পাশে জল, পলল প্রার্থনা জাগায়ে সে কেমন বেঘর---

সময়

আম্রমুকুল ঝরে, হাওয়া কথা বলে কর্ণে, মনে
একদিন অমৃত হবে এই ঝড়ের সময় জানে।

শব্দউষ্ণতা

নিজেরই দেহ-উত্তাপে উষ্ণ করি শরীরের শীতলতম অংশ।
অতপর গুনগুন শুনি কারা যেন পল্লবিত হয় রোজ  শব্দউষ্ণতা ছড়িয়ে।

ডিঙি

মন আমার সরোবরে ডুবসাঁতারে জাগে,
স্বপ্নগুলো উড়িয়ে দিয়ে ডিঙি ভাসাই জলে।

স্পর্শ

কতদিন গাইলে গান সুর ঠিক লাগে কণ্ঠে
সকল অনুভব সংগীত হয় একবার তুমি ছুঁলে।

চইলঘুড়ি

কাজ ফুরিয়ে গেলে মৃত্তিকা তার বুকে টেনে নেবে একদিন
মানুষের কর্মসমাপন শেষে চইলঘুড়ি তুমি অপশব্দ-বিন্যাসে।

দহন

আমাকেই মৃত্যুদণ্ড দিই, যদি পাপ মনে করো,
আমৃত্যু তবে ওই দহন  বহন করি হৃদয়ে।

ফাগুন

আগুন থেমে গেলে আমি নিষ্প্রাণ
প্রদাহ ফুরালে জানি তুমি ফাগুন।

ঠাঁই

ডুবে যাই যদি হাত পেতে রেখো তুমি,
ওই দু বাহুতেই নিতে চাই চরম ঠাঁই।

প্রদাহ

কোথায় অসুখ হলে মেদিনী কাঁপে, একমাত্র তুমিই জানো।
আমিতো সকল তিয়াসে,তোমার কাছেই মেলে ধরি প্রদাহ।
ধ্যান

মত্তবনহস্তি তাণ্ডব করে পাহাড়ে,অথচ পাহাড় স্থির।
সে জানে তার চূড়াতেই ধ্যানস্থ হয় গোধূলি ও ভোর।

সত্যদর্শন

অকারণ ফোঁস করলে  বিষ নির্গত হয়,
বটঝুড়িসম সত্যনিদর্শন কতোটা কার ।

পাপহীন

দিল্লী দরবার থেকে গেদুমিঞা মসজিদ
জানি মানুষের পৃথিবী নিষ্পাপ নগরী নয়।

গমন

যদি কেউ ছক করে ফাঁদ পাতে দুপুরে, তুমি তবে,
মনে রেখো, একদিন যাবেতো সকলেই, বটতলা শ্মশানে।

সত্যতা

মাঝরাতে নিজেকেই ফালা ফালা করে যাই,
মানুষের মুখে মুখে সত্যটা খুঁজি তাই।

তাবিজ

অকারণ আলো জ্বলে ভোররাত শেষ হলে ,
নদীজলে ধুয়ে নিও তাবিজটা সত্যের।

পাখা

শিমূলরঙা ভুল উড়িয়েছি আকাশে।
তুমি তাতে ছুঁলে,অমনি ওড়লো নি:শব্দপাখা মেলে।

ছায়া

পরম আভা আমাকে জড়ায়।
অবিকল হিমশৈল ফুঁড়ে আসা উজ্জ্বল ছায়া।

গুমড়ামুখো

একদিন জঙ্গলে নিজস্বীকে তুলতে গিয়েছিলাম
ক্লিক শেষে এতো সিরিয়াস দেখাবে ভাবিনি আমি।

তান্ত্রিক

আমৃত্যু ব্রতপালনে কেরিকাটা পথ আমাদের,
ধুলো ওড়ার আগেই জল ছিটিয়ে দিও তান্ত্রিক।
কারুবীজ

দু:খের কারুবীজ অশ্রু হলে নির্জনপথে পাথর কুড়াই
অস্পষ্ট আলোমুখী হয়ে ছায়া ছায়া নিজেকে ফুরাই।

দেহচন্দন

রুটিন টাঙিয়ে জানান দেয়া হয় কবে শীতকাল, কবে ছুটির ঘণ্টা
এ মন ঠিকই টের পায় শীতপাতা ঝরে কেনো,কাঁপে কেনো দেহচন্দন।

অনন্তবীজ

আমাকে উপেক্ষা করে কতটাদূর এগোবে বলো?
আমি তো অনন্তবীজ স্বর্গের নাভি চুম্বন করি।

নিয়নবাতি

ভালোবেসে নত হতে শিখলোনা ওরে কেউ,
অহমেরে সাজিয়েছে নিয়ন বাতির ঢেউ।

সুখ

অকারণ অপমানে আয়নায় অদেখা মুখ।
পরাণের কথা কেউ জেনেছে কি পেয়ে সুখ।?

মৃত্তিকা

তাপ ঝরিয়ে মেঘ, ডানা মেলে আকাশে,
শাণিত তীরসম ঘামবিন্দু রাখে বুকে মৃত্তিকা সে।

রবীন্দ্রনাথ

তুমি আমার জেন্দাবেস্তা,তুমি বাইবেল কোরান;
তুমি আমার ভালোবাসা, তুমি গীতা পুরাণ।
                        
নববর্ষ

নতুন বছর কি আর পেলাম বলতে পারো নতুন করে?
সেই পুরোনো তুলসীতলা, ধুলো গায়ে পুষ্প ঝরে।

গ্রহণ

আকাশে লট্কানো চাঁদভাণ্ড ভেঙে গলে পড়ছে ঘোলা মায়ামদ
ক্লান্ত উঠোনে বৃক্ষরা ছলম খুলে রাখে,উলঙ্গ দেহে মাখে  গ্রহণ।

বুধবার, ২৪ মে, ২০১৭

অপাংশু দেবনাথ ২২ টি কবিতা


।। অপাংশু দেবনাথ ।।
ব্লগপোষ্ট: +Rajesh Chandra Debnath 
(C)Image:ছবি


ফিতে

প্রতিবার খুললে ফিতে,
বাজে বাউল কাহিনি।
সুর একটাই ঢেউয়ের,
জাগায় রঙিন ফুল।
ওই সে মায়া পোশাক
ছুঁয়ে প্রার্থনা করি, তুমি
গোমতী হয়ে ওঠো।
ফিতেরা হাওয়ায় উড়ুক
মিশুক নদীতে সুর।
 

 .............



ইচ্ছেপাখা

তারপর আমিই ইচ্ছেকে বলি
                       পাখা মেলিস।
#
অমনি বৃষ্টি নামলো খুব,
                    বুকে বক্ষে।
কি যে বলি জল ও কাদায়
                       পোড়া ছাই,
                       তোমার সাজানো পাহাড় জুড়ে।
আর তুমি পা-গুজে বসে
                    জল ভাঙো।
ক্ষয়ে যাওয়া মাটির কান্না
                    তুলে রাখো
পিতৃদত্ত অনাদি হাড়িতে,
               এতো জলদি।
                    ইচ্ছেপাখা ভিজে বৃষ্টিতে।
................
দুয়ার
--------

সাঁকো ঈশ্বর গড়ে দেয়। ভাঙে অহম।
আমি হোতা। নীচে যজ্ঞ। পরম তাপ
লাগে তোমার নীল আকাশে,তখন তুমি
বৃষ্টিরূপে বিস্তৃত হও। স্তর জুড়ে
ছাড়ায় ছাই। আমার হাড় পড়ে থাকে
ইতস্তত, সিলিকা মেখে স্বপ্নের দুয়ারে।
ঈশ্বরই খুলতে পারে দুয়ার,বন্ধ করলেও।
__________________________

সম্ভ্রম
-----------------------------
তাজা আলো ফুটপাথে।
হাটবারহীন  বাজার ছুটে।
এখানে মায়া শরীরে শরীর
                               ছায়াদের ভিড়।
তুমিও ছিলে কি কোথাও কাছাকাছি?
গ্রামে হাটবারে দূরপথ ভাঙে
                                  পলি মেখে পা
ফিকে বসন্ত ঝুলে দেহে,
রোদে অসমান ফুটপাথ।
চড়াদামে কিনে  ফিরলে বাড়ি,
অহংকার হয়, চাঁদ
নির্জন চরণতলে
স্বপ্ন বিকোবার আগে আয়নায় নিজেকে রেখো।
একবার ঠগে দেখো,
                     নিজের কাছে।
হাটবারহীন তাজা ফুটপাথ বুকে।
............
দ্বন্দ্বসূচক

মাথার থেকে মস্তক  নিচু হলে ভালোবাসা জবাবী সংগীত লিখে।
সন্তান পড়ে থাকে জ্বরের ঘোরে বহু ব্যবহৃত বিছানায়,
সব বিলাপ ভাসে স্তূপীকৃত যন্ত্রণার দিকে।
ভালোবাসলে নির্দ্বিধায় কপট-কবজ  কিংবা সম্ভোগ-সিংহাসন
আলোয় ছুঁড়ে, গড়িয়ে যেতে পারে তীব্র আঁধারমুখী।
এভাবে অপরাজেয় দ্বন্দ্বসূচক দোলে দৃশ্যত করিডোরে।
...............
নাটক

অনুষ্ঠান ভাঙে।
পরিচিত সিঁড়ি ধরে ফিরে বাড়ি
                      আনন্দ ও ভিড়।
সিঁড়িরা জানে,
কতোটা শূন্যতা ছড়ালে সময়
                    আলো বন্ধ হয়।
সহ্যসিঁড়ি হই
চিহ্ন আঁকে বুকে কোনো উড়ন্তআঁচল
                             এ তোমারই জয়।
.............
নষ্টবার্তা ও শব্দজগৎ


একটা ভোর আসে নষ্টবার্তা নিয়ে
                               আলো সাঁতার কাটে হাওয়ায়
সকল প্রার্থনা রাখি আলোকতন্ত্রে।
একে সংসার বলো বুঝি তুমি!
এ কেমন মঙ্গল আনে স্বপ্নবার্তাহীন
                         এই জগৎ চেয়েছো শব্দজাল বুনে!
শব্দেরা এতো মায়া জানে দ্বিপ্রহরে,
এতোকাল জেনেও অজানা, সকল
                        জিঘাংসাতরী হয়,ছুটে রহস্যপরবে।
এতো আলো আমাকে কর্ডন করে
                      আলোয় কি বর্শা ছুঁড়তে পারে কেউ?
নীরব শব্দ আরও তীব্র হয় ছায়া ফেলে মুখে---
...............
আত্মতোরণ

বরং সরলরেখা বরাবর হাঁটি, পা তোমার জটিল জ্যামিতিক পথে,
দিগন্তদূর ফেলছে ছায়া,অন্তরালে।
গৃহকোণজুড়ে অনাদিকালের কালসিটে ভাসমান ফসিল আমার।
এ যাবত বেঠিক সবই, ফর্দ অনুযায়ী বাজার আনিনি কোনোদিন
বৃষ্টির আগে কিংবা পরে।
দৃশ্যত, দৃষ্টিতে উৎফুল্ল-উজ্জ্বল আমি।
তাকে ভালোবাসো বলে সবই জায়েজ,
ভাষা বদলে চেনাও স্বরূপ।
ঘণ্টার পর প্রতিধ্বনিতে উড়াতে পারো রিসার্চ,
নোনা স্বাদে চেটেপুটে নিতে পারো রাত-বাসন।
একবার নিজের দিকে তাকাও,
দেখো কতটা ফাটল জমেছে বর্ণিলবন্ধনে
প্রতিদানহীন সমর্পণে নিজেকে সম্মানিত করি,
কতোটা প্রয়োজন বোঝো আমার? এমন ভালো থাকার।
আরও একবার সময় খুবলে খাবে হৃদয়।
কাউকে না কাউকে নেমে আসতেই হতো একদিন,মাটির কাছে।
অকারণ ওড়িয়েছো ধুলো!
অক্ষত কেউ নই,বুকের ভেতর নিজেকেই নির্দোষ ভাবি !
কি আসে যায় হিসেব করে তার।
তোমার সকল প্রসাধনক্রিয়া অক্ষত থাক,
আমার ভুলভাল এলোমেলো হোক সময়।
কেউ নির্ভুল ভালোবাসায় শুনাতে পারেনি গান,
যেমনটা পারোনি তুমি বায়বীয় মেঘের মতোন।
এতো রিষ জমেছে ভাষায়, দৃষ্টি ও দ্বন্দ্বে---
এর চে শব্দ ক্রিয়া বন্ধ থাকুক ভালো।
যুধিষ্ঠির তবে স্থির থাকুক রমণে ও রণে।
টের পাই শূন্যহাতেও স্তরীভূত মেঘ আত্মতোরণ সাজায়।
..........
ব্রাহ্ম-কূজন

মরসুমে পালক খসায় পাখি
                         ফিরে ঘরে,
কেউ বদলায় বেদনা-মিছিল।
শরীর জুড়ে পালক-মায়া,
মৃত্তিকা-চরণ ছুঁয়ে ভাসে
                          ছায়া-স্মৃতি।
ওই সব ছায়াদেরও একদা উড্ডীন ক্ষমতা ছিলো।
ডানায় সরিয়ে দারুণ মেঘ উড়ে গেছে
যে পথে পুরুষ পরাগ রেখে
                          বেমালুম নিখোঁজ।
নারীর পালক জানে ঠিক কতোটা উত্তাপে,
ব্রাহ্ম-কূজন, অন্ধকার ভাঙে হৃদয়ে তোমার।
...........
বর্গীর মতো

বর্গীর মতো রাত্রি আসে
                          স্বপ্ন কোথায়!
অন্ধকারে কোন সে দূরের
                          পক্ষী ডাকে,
কণ্ঠে যে তার মোহন মায়া
                          কেবল বাজে।
রাত্রি নামে অলস ছায়া
                          চোখের পাতায়
নিঝুম পাড়া যাচ্ছে ছুটে
                           শহরমুখে।
আমি কেবল নূপুর ধ্বনি
                            বাজতে শুনি
জল কাদা সব শরীর জুড়ে
                            কোন সে কালের
তোমার পায়ে নূপুর বাজে
                             কেমন করে?
বর্গীর মতো রাত্রি নামে
                             শরীর জুড়ে।
________________________

স্বার্থপর

থলে ভরে বাজার আনার
                           কথা ছিলো।
কবিতা পাঠ করবো বলে
                           কাল রাতেই
বেছে ঠিক করে রেখেছি
দুটো স্বপ্ন।
থলেতে আর কিছু থাকুক
                            নাই থাকুক
মুরগি কাটা মাংস থাকার
                           কথা ছিলো।
জ্বরের মুখে মেয়েটা কিছুই
খেতে পারেনা।
থাল ভরে সবাই এবেলাতে
                          খেতে পারতো,
আমার নিষেধ নিজেরই কারণে
                           আর তাই---
বিছানা জুড়ে এঁকে গেছি মৃত কবিতা, শূন্য থলে,
স্বার্থপর মুখ।
...............
ভ্রমণ
পা-গুলো আমার ক্রমশই ঠাণ্ডা হয়ে আসে।
তোমার সাথে হাঁটিনা কতোদিন কোনো মরমি ঘাসে
.............

সিঁড়ি
------
কথার পিঠে রাখো বুনন, বিদ্যুৎ টঙ্কারে_
বিনা কারণে উড়াও বিভ্রাটঘুড়ি।
বুঝতে পারে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম কীটও
মানুষ আজও বুঝেনি নদীমুখো বেঁকেছে অন্তিম সিঁড়ি
...............
আলো

হৃদয় কাটা সমাপ্ত হলে  নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে সাক্ষী
সেই জানে এই পক্ষীমন নির্মম আলো দেখেছে কতো।
............
শব থেকে উঠে এসে



কোনো এক পাখি ডাকে, পা-তলায় সাজায়ে রেখে সে শব, নিম্ নিম্ নিম্।
ঠোঁট থেকে তাহার, আমার বিছানা ও কান, খুব বেশী শব্দদূরত্বের নয়।
কোন বেদনার অনাদিকালবার্তাই ছড়ায় সে একা, দৃঢ় আঙুলে জড়ায়ে জিওলশাখা।
হলুদ হতে হতে সবুজ হারালে পাতা,
ভুলে হরিত মোহিনীমায়া----
শ্মশানে জ্বেলে  ধূপ,
পশ্চাতে তাকাইনা,
দেখিনা  পাখিটার চোখ কতোটা রক্তাভ
কিংবা ক' রাত অঘুমে থাকলে,
এমন ক্রোধ জমে চোখে, নির্মম।
পুনশ্চ ডাকে সে, শব থেকে উঠে এসে, কেবল তর্জনী দেখেপাশেই দাঁড়িয়ে আমার ঈশ্বর।
.....
ভ্রম-বাঁশী


দূর পাহাড়ে ভ্রম বাঁশী বাজে।
অগ্নিদহনে পোড়ে দেহ, উপবন।
নিশিথবয়ানে লিখি অনাত্মীয়কথন।
অসংখ্য চড়াই উতরাই পেড়িয়ে
যেখানে দাঁড়িয়ে এ সব চিত্র আঁকছি,
সে আমার ঘর নয়।
একদিন এমনি পাতা হবো,
নদীতে ওড়ে পড়ি যদি নিশ্চিত নয়, সমুদ্রে যাবো।
না হয় অসংখ্য ছত্রাক জন্মাবে গায়।
তোমাদের কথা মনে পড়ে খুব---
দূর দিগন্তবাসী আত্মীয়েরা কেমন আছো?
উপত্যকা-জুড়ে কি এখনো মাঝরাতে গড়ায় চাঁদ?
লহমায় যোগসূত্রহীন নি:সঙ্গ কাক-তাড়োয়া হই।
সবুজ গন্ধে যারা ধারালো করেছে বোধ,
ঋণপাত্র হাতে টিলা থেকে লুঙ্গায় খুঁজি সেসব গ্রন্থমুখ।
এক বাউলিনী মেঘ রাগিনীতে
হরিৎগন্ধ মেখে গায়ে চমপ্রেঙ বাজায়।
..........................
তবুও--

পরিব্রাজক জানে, ছায়ার সাথে পশ্চাতে রয়েছে কতোটা পথ,
মাটির স্পর্শ না পেলে কি করে বুঝবে মানুষ,কোন মোড়ে ঋতুমতী হয় মৃত্তিকা।
ঝড় আসে,উড়ে ধুলো,ধোয়ায় ঢাকে মুখ,
স্নেহপলি সেই চোখ।ঝলসায় নদীতট।
নদীর কাছেইতো চরমবার্তা পৌঁছে দিতে গিয়ে
উদভ্রান্ত গলি ঘুপচিপথ চিনে নেয় মানুষ।
এমন আর কোন গন্তব্য আছে বলো?
ভালোবাসার মানুষের কাছে যাওয়া ছাড়া
দিকভ্রান্ত নাবিক ফিরে ফিরে মানুষের কাছেইতো যাবে প্রতিবার।
মানুষের মন মাটি হলো কবে হৃদয়ে জমিয়ে রেখে
উপেক্ষার অন্তর্লীন নীলাসুখ।
পুজো মানেতো তিল,দূর্বা,তুলসী কিংবা ফল বেলপাতাসমেত মধু সমর্পণ নয়!
শ্রদ্ধায় মাথা নত হলে নদী নর্তকী হয়------
কতোদূর হাঁটলে মাটির স্পর্শ মেলে নদীর অজানা নয়
কোন সমর্পণে ঋদ্ধ হলে পরে মাটি হয় মানুষের মন
..........................
দৃশ্য-ছবি

একদিন  ছবিটা এখানেই ছিলো, হাতের সমস্ত স্পর্শসমেত
বাকল বদলে গেলে ত্বকে অনুভবেরা প্রাজ্ঞ তামাটে ও রঙহীন হয় ।
অস্পষ্ট বৃক্ষ-রোদে পুজো মন্ডপমুখী হই,সেই সব দৃশ্যের ভেতর ঢুকি ক্রমান্বয়ে
অসংখ্য সিঁড়ি বেয়ে পুজোপাত্রে রাখি সমূহ প্রত্যাশা ও ক্রন্দন ।
নির্বাক কারুশিল্প হও
দৃশ্যরা মুহূর্তে আলোময় হয়,আমার সাথে কথা বলি আমি
প্রতিবার দৃশ্যাহত হই,এই যে বৃক্ষ,এই আধভাঙা-রোদ,
এইতো সিঁড়ি বেয়ে নিম্নগামী
সেগুন পাতায় সনসনিয়ে  দুটো পানখ বাম নিলয় থেকে জঙ্গলে মিশে গেলো যেন
আলোর ছাতার নীচে আমাদের দৃশ্যেরা ক্রমান্বয়ে হয় নীল
..................................
শূন্য কটোরা

ছেলের জন্য গোল্লাছুটের মাঠ আনতে গিয়ে দেখো---
তোমার বিনুনি-বিকেলের কথা মনে পড়লো প্রান্ত-ক্ষণে।
বিকেল ভেঙে তরল-সন্ধ্যা।
দরোজায় একটা ছায়া, সেই কখন দাঁড়ানো।
পুনশ্চ ডাকি, শূন্য চৌকাঠ ফিরে আসি চেয়ারের কাছে।
আবার সে, চোখে মুখে এক চরম বিভ্রান্তিবিষ
এতো কালো কেনো ঠোঁট,আধপাকা চুল কর্ণলতিকা
ছুঁয়ে নামে চিকন-আঁধার
ইচ্ছে করলেই বসতে পারতো সে
সারি সারি চেয়ার বেবাক খালি অথচ উজ্জ্বল।
বসবে কেউ অথবা এইমাত্র শূন্য হলো,শরীরের গন্ধ
চারপায়ার হাতল ও পাটাতনে।
পুনরায় উঠি,ডাকতে যাই,কেউতো নেই বেলকনিতে
দরাজ-জ্যোৎস্না খিল খিলিয়ে হাসে!
গোল্লাছুটের মাঠ,বিনুনি বিকেল কিছুই আনিনিতো!
তোমার জন্যও রিক্ত এ করতল আমার।
তৃতীয়বার স্পষ্ট দৃশ্যত, আমি সেই কখন থেকেই
দাঁড়িয়ে-------
হাতে একবিড়া পান,দু'শোগ্রাম চন্দনা ও কিছু অতি প্রাচীন শূন্য কটোরা----
.............................
যাপন

--------------------------
এখন সময় অনেক।
পৃথিবীর যৌথ ও মাইক্রো বিছানারা ঠিক
জানে।
মৃতমুখগুলো জেগে আছে আমার মতো।
বুকে তুষচাপা উত্তাপ বহন করে খণ্ড থেকে
ক্ষুদ্রতর হয় জীবন।
ইচ্ছে করলেই আলো নেভাতে পারি, কপাট
খুলে দিতে পারি ষট- সড়কের।
মিটারে সংখ্যা বাড়ে বারান্দায়, শব্দ
শুনি তার
কার্নিশ,দেয়াল, পাতা- পল্লবে কিংবা
উদোম উঠোনে
ক্লান্ত শরীর ছড়িয়ে দিয়েছে নীলাভ
নিশীথ
তবু অদৃশ্য, মানুষের ভেতরদুয়ার, অন্ধকার ও
খড়তাপের পথে।
...................................
অর্ধেক অর্ধেক

অর্ধেক রাত গেলো অর্ধেক জীবনও
অনেকেই দ্বিতীয় তৃতীয়বার ঘুমিয়েছে,
জানে প্রতিবেশী ঘরের দরোজারা সব।
যদি জেগে থাকো একবার বাইরে এসো।
বারান্দায় বসে দেখি একা----
নানামুদ্রায় বৃক্ষেরা সব রাত্রির ভালোবাসায় নিশ্চুপ,
চাঁদহীন আকাশ মেঘ হয়ে বুকের কাছে
এসেছে নেমে।
মেঘের মন খারাপ খুব----
তার কারণ জানি বলে বারান্দায় বসে
থাকি একা
অর্ধেক রাত গেলো, অর্ধেক জীবনটাও
..............................
কিছু সম্পর্ক

কিছু সম্পর্ক আমাদের চারপাশে দৃপ্ত
দেয়াল হয়
কিছু ধ্বসে যাওয়া পলেস্তারা যেন
কিছু সম্পর্ক বাৎসল্য ফিরিয়ে দেয়
দুপুর চুরি করে হাওয়ায় উড়িয়েছি ঘুম
ডাগ্গি কিংবা গুল্লি খেলাও ফিরিয়ে দেয় অকপট অনুভবে
#
বসন্ত শেষে চৈত্রের পথে স্কুল পালানো
কিশোরেরা সব এনেছি জল,
মেলা ফেরত মানুষের হাতে তুলে দেবো
বলে।
ওইসব কিশোরেরা কোথায়?
কিছু সম্পর্ক ক্ষত হয় যেন স্পেনীয় যুদ্ধ।
কিছু চির সবুজবন, ওইসব হাফপেন্ট
বিকেলগুলো কোথায়?
বসন্তে কারা যেন জিয়োনো যন্ত্রণায়
দিয়েছে রঙ
মাটিইতো চির ভাস্বর, কোন রঙ দেবে আর
তাদের?
বাজরে কানের কাছে কে যেন বলে
গেলো
কিছু সম্পর্কে খেলা যায় রঙ বারোমাস----
.......