“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
লক্ষ্মণ কুমার ঘটক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
লক্ষ্মণ কুমার ঘটক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৫

তাড়না


।। লক্ষ্মণ কুমার ঘটক।।

(C)Image:ছবি














ক্রোধ জমে জমে যে বস্তুটি সৃষ্টি হয়,
তাতে কতটা জলীয় বাষ্প থাকে
তার সন্ধান এখনও চলছে।
আমাকে তাড়িত করো না,
বরং আহত করো
মৃত্যুর জন্য দ্বিধান্বিত নই আমি।
ক্রোধের বাষ্পে চালগুলো ফুটতে ফুটতে
কখন যেন ডাকে,
নিয়ে যা
এইটুকুই তোর প্রয়োজন।
কি দিয়ে সান্ত্বনা দেবো,
আমি তার পাশে নেই;
কোথায় এসেছি জানতে পথ চলেছি
বনকে এড়িয়ে,
মনকে ছাড়িয়ে,
ডুবে যাই এঁদো পুকুরে
কে ভালোবাসে ক্রোধ
জানি না,
কে ভালোবাসে জীবন
জানি না,
কে ভালোবাসে মরণ
জানি না
কেউ কি জানে?
জানি না, কতটা ভালোবাসলে
ক্রোধের তাড়না আত্মস্থ করা যায়

বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৫

বন কঁড়ই


।। লক্ষ্মণ কুমার ঘটক ।।

ন কঁড়ই গাছটি রাস্তার মুখে দাঁড়ায় প্রতিদিন।মাটির গলি পেরিয়ে টিলার সামান্য আভাস আড়াল করে গাছটির দাঁড়াবার ভঙ্গিতে এক যোদ্ধার আদল।সুদান, সিরিয়া শব্দগুলো গাছ জানে কালো মেঘেরা খবর দিয়ে যায়।গাছের হৃদয়ে যে গুপ্তকক্ষ আছে,সেখানে খবরেরা কালো পাথরের বুক জাপটে বসে থাকে।হু হু কাঁদে আমার মাঝে মাঝে লম্বাটে পাতা ফেলে ভার কমায়;আরো কঠিন খবরকে কালো পাথরের বুকে জায়গা করে দেয়ার জন্য।

কিছুই থাকে না


।। লক্ষণ কুমার ঘটক।।



















বুজ যখন গাঢ় সবুজ হয়ে ধূসরের দিকে যাত্রা করে তখন
মানুষেরা অতিমানুষ হওয়ার চেষ্টায় জীবনটাকে হ্যারিকেনের কাঁটার
মতো ডানদিকে ঘোরায়।
ঘুরিয়েই চলে সেইসময় অব্দি
হ্যারিকেনের চিমনিতে এক চিলতে কালো
লেপ্টে যাচ্ছে,
নীচের দিক আসছে
নি:শব্দে দুর্মর গতিতে।

তারপর কিছুই ঘুরে না
এমনকি কাঁটা সলতে চিমনি,
শুধু তলানিতে পরে থাকে

কয়েক ফোঁটা কেরোসিন।।

বুধবার, ১৫ মে, ২০১৩

মিছিল ও ছায়া


।। লক্ষ্মণ কুমার ঘটক।।

লোকটি প্রতিদিন চা বানায়
কথা বলে
মাঝে মাঝে মিছিলে যায়।

মিছিলে অন্যদের মতো সেও
শ্লোগানে গলা তুলে
ছোপ ছোপ নীল দাগানো সার্ট যখন
শরীরের লেপ্টে যায়,
তখন সে ছায়া খোঁজে।

মাঠ জুড়ে ছায়ার আকাল;
সে হাঁটতে থাকে
মাঠ পেরোয়।

গাছের ছায়াকে 
সে জড়িয়ে ধরে
ভাবে, মানুষ তো নিজেই গাছ হতে পারে;
পারে ছায়া দিতে।

ছায়া পেলেই মানুষ
নিজেকে ছাপিয়ে
অন্যের কথাও ভাবে,
তখনই সে চা খায়
মিছিলেও যায়।

মাউস


।।লক্ষ্মণ কুমার ঘটক।।

মাউসের তারটা দেখা যাচ্ছিলো শুধু
বাকিটা ব্যারিকেডের অন্তরালে।
অনেক হিজিবিজি কেটে
মানুষগুলোকে আড়াল করি।
আমিও আড়াল চাই
হাঁটা, দৌড়, কসরতের কাহিনী
সব আড়ালের জন্যই।
মাউস স্পর্শ করি,
মনে মনে বলি,
তোর আড়াল তো আমি।
সে বলে, চাই না তোমার আড়াল হতে
এক মুঠো সোহাগের জন্যই তো বেঁচে থাকা,
আড়াল আমাকে ব্যাভিচারি করেছে।
আমি আড়াল চাই না
তোমাকে তো নয়ই।

বর্ষা


।। লক্ষ্মণ কুমার ঘটক।।





রীরে মেখেছি বর্ষা
তবুও অচেনা।
কিছু না বলে
হাঁটা শুরু করে।
আমি মুখ ফেরাই,
তখনই 
আমার দু'চোখে হাতের স্পর্শ।
শোনা যায় বর্ষার গান;
আবারো জলভরা আবেশ,
তাই মেঘ নাচে,
পাল্টায় রঙ,
কখনও সাদা,
কখনও কাজল রেখা।
যায় বর্ষা মেঘের কাছে,
কাজল আঁকা হয়।
কিছুই বলে না বর্ষা,
এমনকি মেঘের খুনসুটিতেও না।

ভনিতা


।।লক্ষ্মণ কুমার ঘটক।।









ব্দের কোন ভনিতা নেই,
ভনিতা মানুষের।
ঘুমটুকু বিয়োগ করলে যা থাকে,
তাতে ভনিতা কত শতাংশ,
এই নিয়ে গবেষণার অবকাশ আছে,
যেমন আছে ভনিতার রকমফের নিয়ে।
এখন আবার ভনিতার প্রতিযোগিতা;
খবরটি কানে এলো,
কানের আর দোষ কি,
ভনিতা তো আর কানের সংজ্ঞা জানে না।
কান জানে শব্দকে,
শব্দ জানে কথাকে,
আর কথা জানে মনকে।
এইভাবে ভনিতা হয়ে উঠে
শব্দের আবেশ
মনের খুনসুটি
আর কানের মাধুর্য।

শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

ঘাস


                                       ।। লক্ষ্মণ কুমার ঘটক।।

















ঘাসের ডগায় যে শিশিরবিন্দু টলটল করে,
সে কি জানে তার অস্তিত্ব আলোর সঙ্গে জড়িত।
আলো আর শিশির সবসময় উপর থেকেই নামে,
ঘাস সবকালেই নীচে।
শিশিরবিন্দুগুলি ঘাসের খোঁজেই নামে
বসে, আদর করে, গান গায়,
তারপর আবার চলে যায় স্বজনের কাছে।
শিশিরের আদরে আদরে
ঘাস ভুলে যায়
নিজের ইতিকথা,
ভুলে যায় যে,
সম সবসময়ই নীচেই জন্মায়,
নীচেই হারিয়ে যায়।



(c) ছবিঃ Picture