“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
পার্থ প্রতিম আচার্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পার্থ প্রতিম আচার্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৮

আমি এখন / পুনর্জন্ম…


 ।। পার্থ প্রতিম আচার্য।। 

(C)Image:ছবি













হাশরের মাঠে যখন জেগে উঠলাম
এপোকেলিপ্সের রাতে
ঝলমলে সাদা পোশাকে ঈশ্বর বাবু জিগ্যেস করলেন,
বাছাধন জানোই তো কোথায় যাবে ?
সোজা চোখ রেখে বললাম
জন্নত,কিংবা হেভেন
নতুবা স্বর্গই সই
নীচে তখন অবিরাম প্রজ্বলিত আগুন,
উপরে অদেখা জন্নত।
তিনি বললেন- কিতাব পড়োনি ?
জাননা কিছুই ?
যীশু আমি অস্ত্র ধরেছি
আমিই হজরত ভেঙ্গেছি পুতুল
শিব হয়ে করেছি তাণ্ডব
 
তুমি
কী করেছো সব জানা আছে মোর
আপো
, আপো আর আপো
মাফ করো খোদা, হে আমার ঈশ্বর
যে কিতাব পড়েছি আমি
তাতে নেই ওসব কথা-
শুধু বলা আছে-
সকলই তোমারই ইচ্ছা ,নিমিত্ত মাত্র আমি
পাতাও নড়ে তোমার ইচ্ছায় হে অন্তর্যামী
তিনি আশ্চর্যান্বিত হলেন
তারপর মেঘমন্দ্র সুরে উচ্চারিলেন বা
ণী-।
কয়ামত কে পেছনো হোল অনির্দিষ্ট কাল
 
কে বলেছে বাঁচতে হবে হয়ে ভেড়ার পাল?’
তারপর
.
এবার আমি রথের চাকা ঠেলছি।


শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

আমি এখন












।। পার্থ প্রতিম আচার্য।।

রাহ উৎসবে
ক্লান্ত আলকাতরা রাত
কোথাও কিছু দাঁতালের
উন্মাদ তীক্ষ ফলায়
আহত খিঞ্জিরের চিৎকার ,
মাঝখানে নিস্তব্ধ" সভ্যতা"।
অতঃপর প্রাতঃ কালে
ব্যাক্রোশ ব্যঞ্জিত নগরী বাজার ।



23/2/2018

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৭

আমি এখন

















।। পার্থ প্রতিম আচার্য।।

জিততে চাই নি
তীরের পাথরের মতো
চেয়েছি ছলাৎ সমুদ্রের
নোনা জলে আহত হতে হতে
ফুরিয়ে যেতে -
বল্গাহীন অশ্বের খুরের মতো
ঢেউয়ের পরে ঢেউ 
থেঁতলে নিক আমাকে
হয়ে উঠি ছোট্ট নুড়ি,
বেলাভূমি থেকে গাঁইতি তে
তুলে নিও তুমি
হে তরুণ
শান দিয়ে করে নিও
ধারাল এক ছেনি
তাতে তৈরি কোর
পুরনোকে ভেঙ্গে
এক  নতুন ভাস্কর্য
জেনো সেই  উৎখাত-কেলিতে

পাশে আছি আমি ।।


মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৭

মহান অক্টোবর বিপ্লব জিন্দাবাদ



।। পার্থ প্রতিম আচার্য।।


য় নয় করে শতবর্ষে পড়েছে অক্টোবর বিপ্লব।জুলিয়ান ক্যলেন্ডার মতে ১৯১৭ এর অক্টোবরে সংঘটিত এই বিপ্লবকে অনেকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মতে নভেম্বর বিপ্লব ও বলেন।
এই বিপ্লব আগের সকল বিপ্লব থেকে পৃথক এই কারণে যে আগের বিপ্লবগুলোতে শাসকের রং পালটেছে মাত্র মেহনতিরা দাস থেকে ভুদাস ,ভুদাস থেকে মজুরি দাস হয়েছে। এই বিপ্লবই প্রথম শ্রমিকশ্রেণিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছিল।এই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিল রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি।
রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি কে লড়াই করতে হয়েছে একদিকে মেনশেভিক সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে অন্যদিকে নারদনিক অতিবাম বিচ্যুতির বিরুদ্ধে।
যে বৈজ্ঞানিক দর্শনের ভিত্তিতে এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল তার নাম মার্ক্সবাদ। সাম্রাজ্যবাদী যুগের মার্কসবাদের নাম লেনিন বাদ। সোভিয়েতের পতনের পরে সাম্রাজ্যবাদী শিবির ঘোষণা করেছিল মার্ক্সবাদ মৃত।কিন্তু কী দেখছি আমরা? জনতার চাহিদা পূরণে পুঁজিবাদ আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ ।প্রতিনিয়ত বিকাশ হয়ে চলেছে নতুন সমাজের উপাদান।যখন পুরোনো সমাজ জনতার চাহিদা পূরণে অক্ষম হয় তখনই নতুন সমাজের আত্মপ্রকাশ হয়ে উঠে আসন্ন। মার্ক্স বলেছিলেন - পুরোনো সমাজের ভিতরে প্রতিনিয়ত বিকাশ হয়ে চলে নতুন সমাজের উপাদান।যখন পুরোনো সমাজ জনতার চাহিদা পূরণে অক্ষম হয় তখনই নতুন সমাজের আত্মপ্রকাশ হয়ে উঠে আসন্ন।
২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার আগের প্রবৃদ্ধি দেখে যারা ঘোষণা:করেছিল মার্ক্সবাদ তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে।কিন্তু ২০০৮ এর মন্দার পর আজ মার্ক্সবাদী অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের সত্যতা তারাও উপলব্ধি করছে।তাই তাদের পোষ্যদের দিয়ে প্রতিদিন মার্কসবাদকে গাল দিচ্ছে। কারণ তারা জানে মার্ক্সবাদ বিজ্ঞান।আমাদের এই যুগকে লেনিন বলেছিলেন যুদ্ধ ও বিপ্লবের যুগ। আজ সাম্রাজ্যবাদ সারা পৃথিবীতে যুদ্ধে রত।এমন একদিন নেই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও যুদ্ধ নেই। পচনশীল সাম্রাজ্যবাদ বাজার ,কাঁচামাল, রণনৈতিক অঞ্চলের দখলে নিজেদের যুদ্ধে বলি দিচ্ছে জনতাকে।
প্রশ্ন হলো বিপ্লব নেই কেন? মনে রাখতে হবে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের ভাঙন ,আন্তর্জাতিক এর ভাঙন এর মতো ঘটনাগুলো।সারা বিশ্বে এখন সেন্টার লেফটিস্ট দলগুলো প্রধান ভূমিকায় ।উদাহরণ ব্রিটেনের লেবার পার্টি( সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এর পার্টি) যাদের সম্বন্ধে এঙ্গেলস অনেক আগেই লিখেছিলেন ওই দলে কমিউনিস্ট বাছতে গেলে ঠগ বাছতে গা উজাড় হয়ে যাবে।অন্যদিকে অধিকাংশ 'বিপ্লবী’ দলগুলি কমিউনিস্ট মতাদর্শ এর বদলে অতিবাম পন্থী বিচ্যুতিতে আক্রান্ত।
তাই সময়ের দাবি বাম ও দক্ষিণ পন্থি বিচ্যুতির বিরুদ্ধে লড়াই করে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়া। নয়তো আন্দোলনগুলো হয় জাতপাত,ধর্মীয় উন্মাদনা কিংবা স্থানিক উগ্র প্রকাশে মুখ থুবড়ে পড়বে।বিপ্লবী সংগ্রামের হবে গর্ভস্রাব।প্যারি কমিউনের শিক্ষা নিয়ে যেমন সংঘটিত হয়েছে রুশ বিপ্লব তেমনি মহান অক্টোবর বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিয়ে চলমান শ্রেণী সংগ্রাম কে পথ দেখানোটাই আজ বড় জরুরী। অক্টোবর বিপ্লব লাল সেলাম।

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গা ইস্যুর নেপথ্যে


।। পার্থ প্রতিম আচার্য।।


রোহিঙ্গা ইস্যুর নেপথ্যে

ভাবতে অবাক লাগে যে মায়ানমারে সরকারী হিসেব মতে ১৩৫ টি জনজাতি গোষ্ঠী রয়েছে (এতে রোহিঙ্গারা বাদ পড়েছে ১৯৮২ তে )অথচ বেছে বেছে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন কেন ?ধর্মীয় কারণ ?রোহিঙ্গারা সবাই তো মুসলিম          নয়? ধর্মীয় উত্তেজনা একটু আধটু থাকলেও গত একদশকে এর পরিমাণ এইভাবে বৃদ্ধি পেল কেন ?যতই মিডিয়া  এবং ধর্মকে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করনেওয়ালারা আমাদের এটাকে ধর্মীয় বিরোধ থেকে উদ্ভূত সমস্যা হিসাবে বোঝাতে চান না কেন সত্য কি আর চাপা থাকে ?

১৯৯০ এর দশক থেকে মায়ানমারের সামরিক জুন্টা ক্ষুদ্র জমির মালিকদের জমি ছিনতাই শুরু করে ।এক্ষেত্রে কোন ক্ষতিপূরণের সংস্থান ও রাখা হয় নি-সে যে জনগোষ্ঠী বা ধর্মেরই হোক না কেন ।যেমন কাচিন প্রদেশে ৫০০ একর জমি দখল করে সামরিক বাহিনী স্বর্ণ খনি খননে সহায়তায় । ২০১১ সালে মায়ানমার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার আনে এবং মায়ানমারকে এশিয়ার শেষ সীমান্তহিসেবে ঘোষণা দেয় ও বিদেশী পুঁজির জন্যে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে। (অর্থাৎ পূর্বেকার পুঁজি গোষ্ঠী গুলি থেকে নতুন করে বেটে দেয়ার জন্যে)।
আপাত: আশ্চর্য হোল এর পর থেকেই রাখাইন প্রদেশে উত্তেজনা বাড়তে থাকে ,২০১২ সালে রোহিঙ্গা নিধন ও বিতাড়নের এক নির্মম ইতিহাস রচিত হয়।এই ঘটনার বিবরনকারীদের বর্ণনায় স্পষ্ট সরাসরি সামরিক বাহিনী ছিল এই কাজে লিপ্ত ।
যাই হোক মূল কথায় ফিরে যাই । এই যে গণ হত্যা ও বিতরণ হোল তার একটা অন্যতম লক্ষ্য ছিল কর্পোরেট দৈত্যদের হাতে ফাঁকা জমি তুলে দেয়া ।উদাহরণস্বরূপ কৃষি বহুজাতিক সংস্থা POSCO DAEWOO এই ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে বাকায়দা চুক্তি করে ঘুসে পড়ে । ৩০শে মার্চ ২০১২ পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন জমি আইন সংশোধন করেছিল । এতে সমগ্র জমিকে দুভাগে ভাগ করে পৃথক আইন তৈরি করে মায়ানমার সরকার ।প্রথমটি হল কৃষি জমি আইন আর দ্বিতীয়টি হল ফাঁকা জমি আইন (VACANT LAND LAW) একই সঙ্গে নতুন বিদেশী বিনিয়োগ আইন ও পাশ হয় , যাতে ১০০% বিদেশী বিনিয়োগ ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ৭০ বছরের জন্য লীজ নেয়ার অধিকার দেয়া হয়। বিস্ময়ের হলেও সত্য এটাই  জমি ফাঁকা করতে শুধু রোহিঙ্গা অঞ্চল নয় উৎখাত চলছে মায়ানমারের অন্য অঞ্চলেও ।জমি ছিনিয়ে নেয়া এতটাই বেড়েছে যে বছরে প্রায় ১০০০০০ একর জমি হারাচ্ছে মায়ানমার (তথ্য- দ্য গার্ডিয়ান )। অন্য জনগোষ্ঠীরাও যে এই কর্পোরেট লুটের শিকার তার উদাহরণ শান প্রদেশে চিনের কোম্পানি দ্বারা ঐ এলাকার ব্যাপক অংশ  যত বন নদী ও খনিজ সম্পদের দখল নেয়া ।এইসব কারণেই কাচি প্রদেশে কাচি ইন্ডিপেন্ডেন্স গ্রুপ ও সামরিক জুন্টার মধ্যে তুমুল লড়াই ও হয় ।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর এত জুলুম কেন ?
এর জন্যে বুঝতে হবে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা। বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় থাকা এই অঞ্চল ভারত ও চিনের  কাছে রণনৈতিক কারণে প্রচণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ।ভারত ইতিমধ্যে রাখাইনের রাজধানী সিত্যু তে তৈরি করছে SITTWE DEEP SEA PORT .উদ্দেশ্য মিজোরামকে বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করা।অন্যদিকে এই অঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক পাইপ লাইন তৈরি করছে চিনের কোম্পানি CNPC( CHINA NATIONAL PETRLIUM COMPANY)এর মাধ্যমে সেই রাখাইনের রাজধানী সিত্যু থেকে চিনের কুন মিং পর্যন্ত যাবে তেল,গ্যাস ।আর একটা সমান্তরাল পাইপ লাইন তৈরি হচ্ছে মধ্য প্রাচ্য থেকে চিনের কুয়াকফুয়া বন্দরে তেল নিয়ে যেতে। এত বড় বাণিজ্যের জন্য কয়েক লক্ষ জনতাকে বলি চড়িয়ে দিয়ে ফাঁকা করে দিতেই কি এই বিতাড়ন ও হত্যালীলা ?
পুনশ্চ:-এ যুগ হল সাম্রাজ্যবাদ ও সর্বহারা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের যুগ ।সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সমাজতন্ত্রের লড়াই ই মুক্তি আনতে পারে নিপীড়িত জনতার তা সে রোহিঙ্গাই হোক বা অন্য কোন নিপীড়িত গোষ্ঠী ।ধর্মের নামে নয় ,মানবতার ভিক্ষার নামে নয় সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে অধিকার এর লড়াইয়েই, তা সে যতই আপাত কঠিন মনে হোক না কেন, লেখা আছে উত্তরণের রাস্তা ।



শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আমি এখন


।। পার্থপ্রতীম আচার্য।।









ফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দাও মাধবীলতা
তোমার বাক রোধ হয়ে যাওয়া মানে বোঝো তুমি?
দেয়ালে বর্ষায় ভিজে যাওয়া হৃদয় আমার
দাগ জমে আছে বর্ণালি শ্যাওলার
কথা, হাসি, অতি বলা নিশ্চুপ চোখ
সব মাইরি কেমন ধোঁয়াশা এখানে
কথা বল, না হয় দুয়ার খুলে জাহান্নামে ঢুকিয়ে দাও আমায়
সান্ধ্যভাষা আসেনা আমার
একেবারে বালখিল্য
কয়েক লাইন
তবু কুলাঝাড়া শব্দ এগুলো
রুপালি গলার চেন ছিঁড়ে ফেলা
ছিঁড়ে ফেলা আবরণ পেলবতা-
কথা বলো কিছু কথা
যেখানে বাঙ্ময় তোমার
অন্তরে লীনা কোন
গোলাপি
ভাবনা ।।
একবার শুনে চোখের উপর পড়ুক ঝরে
দুটো খস খসে পাতা

আর যদি থাকো পাশে
বোকা বুড়োর মতো
দুহাতে সরাবো পাথর
জেনে রেখো মাধবীলতা ।।


বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

অন্তর্জলী যাত্রা রুখতে শিক্ষকদের রক্ত চাই

।। পার্থ প্রতিম আচার্য।।

  শিরোনাম কেন ? প্রশ্ন উঠাটা অসমীচীন নয়। শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়ে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক আর এন সি টি ই এর নাটুকেপনা দেখেই আমার কলম ধরা।এ কি রে বাবা? শিক্ষক সমাজকে এইভাবে অপমান?আজ একরকম কাল একরকম- পরশু আবার কি ফরমান আসে?নিরীহ প্রজাতি পেয়েছেন?মাথা খারাপ হবে না তো কি?
প্রথম নির্দেশ প্রশিক্ষণহীন সব এলিমেন্টারি শিক্ষকদের নিওস নামে একটি সংস্থার থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে- উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০% নম্বর না থাকলে সে জন্যেও পরীক্ষায় বসতে হবে ঐ নিওস থেকেই। বেচারা শিক্ষকদের অবস্থা প্রায় পাগল পাগল।এই বুঝি চাকরি খেয়ে নেয়।ত্রিপুরা থেকে বক্তব্য গেলো- এন সি টি ই তো এই ক্ষমতাই পেয়েছে ২০০১ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর এর পর তাহলে তার আগের শিক্ষকদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার তাদের কে দিলো?
           স্পষ্টীকরণ আসতে আসতে চলে গেলো বেশ কটা দিন । ইতিমধ্যে নগদ ৪৫০০ টাকার বিনিময়ে অনেক ভীত  শিক্ষকরাই (চাকরী যদিও ২০০১ এর আগেই) অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করে নিয়েছেন স্ফীত হয়েছে এন আই ও এস আর অবশ্যই যাদের বরাত দেয়া হয়েছে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি চালানোর তাদের আয়।
           এবার এলো স্পষ্টীকরণ। ২০০১ এর ৩রা সেপ্টেম্বর এর আগের শিক্ষকদের প্রয়োজন নেই এসবের।
          এ রাজ্যে না হয় এই সংখ্যাটা বেশী নয় কিন্তু সারা ভারতে? বিশাল।এই বিশাল শিক্ষকদের বাধ্য করা হচ্ছে এন আই  ও এস থেকে একই সঙ্গে ডি এল ই ডি  ( যার জন্যে বছরে দিতে হবে ৪৫০০ টাকা)ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল উন্নীতকরনের ( যার জন্যে দিতে হবে প্রায় ১৭০০ টাকা) পরীক্ষায় বসতে। কেন? গুনগত শিক্ষার লক্ষ্যে।
তাই যদি হয় তবে কিছু প্রশ্ন মাথায় এসে যায়।
        প্রথমত: এতে একটা নিহিত বক্তব্য আছে। এতদিন যে শিক্ষকরা কাজ  করছিলেন তারা গুনগত শিক্ষাদানে উপযুক্ত নন। নিওসের জাদুকাঠির স্পর্শে তারা  উপযুক্ত হয়ে উঠবেন। কিছু নগদ রাশির পরিবর্তে।কেন বললাম? কিভাবে হবে এই শিক্ষাদান? ম্যাটেরিয়ালস আপলোড করা হবে তাদের সাইটে । সেগুলো পড়ে পড়ে শিক্ষকরা পরীক্ষা দেবেন হয়ে উঠবেন গুণমান  সম্পন্ন শিক্ষক ও হরি ! যাদের নিওস সম্পর্কে ন্যূনতম ধারনা আছে তাদের হাতেই ছাড়লাম। আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবো না।
কিন্তু একটা বিষয় না বলে পারছি না। আজই দুজন শিক্ষক এলেন। ওনারা দুজনেই মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ , কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০% থেকে কিছু কম। সুতরাং নিওসে পরীক্ষা দেবেন।
          প্রশ্ন হোল ভারতে পারসেন্টাইল নামে একটা ব্যবস্থা এই সেদিনও চালু ছিল। নীট কিংবা জেইই পরীক্ষায় সি বি এস ই তে যারা ৮০% পেতো আর ত্রিপুরাতে যারা ৬০% পেতো তাদের সমপর্যায়ে ধরা হতো ।শুধু ত্রিপুরা নয় ভারতের বহু বোর্ডের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য  এ কথা মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের না জানার বিষয় নয়। তাহলে এটি বিবেচনায় এলো না কেন? তবে কি ধরে নিতে হবে অন্তর্জলী যাত্রার পথে চলা সংস্থাকে রক্ত সরবরাহে বাধ্য করা হচ্ছে শিক্ষকদের ? আর নেপথ্যে টাকা লুটছে বরাত পাওয়া এজেন্সি?
আরও আছে সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য।




বুধবার, ২ আগস্ট, ২০১৭

‘হোকাস পোকাস গিলিগিলি ও বোধজংনগর


 ।। পার্থ প্রতিম আচার্য।।


হোকাস পোকাস গিলিগিলিশব্দগুচ্ছ শুনেছেন নিশ্চয়ই।জাদুকরী উচ্চারণ যাতে ঘটে যায় সব অদ্ভুতুড়ে ঘটনা ছিল একটা রুমাল ,হয়ে গেলো একটা বেড়াল জাদুর মায়াজালে আবিষ্ট দর্শক আমরা- বিশ্বাস করি তার কথায় ,খেলায়।আমাদের দেশের একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতারা এই জাদু বিদ্যা খুব ভালই রপ্ত করেছেন।গুরুদের (জাদুকরদের) দেখানো পথে  তারাও হোকাস পোকাস এর ব্যবহার করে যাচ্ছেন বহুদিন। ভোট এলেই হোকাস পোকাস বেশ শোনা যায়
এই যে হোকাস শব্দটি এর অর্থ হল-ঠকানো,প্রতারণা করা ,মিথ্যার বেসাতি ইত্যাদি।১৮শ শতাব্দীর কোন এক সময়ে হোকাস নামক ক্রিয়াপদ কে সংক্ষিপ্ত করে হোক্স শব্দটির উৎপত্তি।যার অর্থও একই ।মিথ্যার বেসাতি যেমন কিনা গুজব ছড়ানো ।পুঁজিবাদী গণতন্ত্রে ভোট বড় বালাই।জনগণ নামক আমাদের মত প্রাণী সমূহকে হোক্স দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য আবিষ্ট করে দিয়ে একবার ভোট আদায় করে নিলে কেল্লাফতে।জাদুর শেষে জাদুকর যেমন পকেট ভরে নেয় ,সেই রকম আর কি।অবশ্য দর্শকরা কিন্তু বেরিয়ে এসেই বোঝেন যা মোহিত করেছিল তা ভ্রম /মায়া মাত্র।কিন্তু জাদু বিদ্যার কারিগর আর রাজনৈতিক কারিগরদের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য হোল- প্রথমোক্তরা ভ্রম তৈরি করেন আনন্দ দিয়ে বিনিময়ে অর্থ কামাতে , আর শেষোক্তরা সেটা করেন বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ঘোলা জলে ভোট শিকারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে।
           আমাদের এখানেও তাই হয়ে গেলো, যাচ্ছে সামনে যে ভোট ।জাদুকরদের প্রদর্শনে আমরা স্বেচ্ছায় অবিশ্বাস কে বন্ধক রাখি আনন্দ পেতে আর রাজনীতির ক্ষেত্রে আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পরিকল্পনা করে।ভাসি এঁদো পচা জলাশয়ের দিকে কিছু শয়তান মস্তিষ্কের কু-পরিকল্পনার শিকার হয়ে তবু বোধোদয় হয় তবে তা হতে যে সময় লাগে এর মাঝে ধ্বংসের অনেক বীজ রোপিত হয়ে যায় ।ভাই ভাই তৈরি হয় অবিশ্বাসের সাময়িক দীবার। যারা বোঝেন, তাদের সে জঞ্জাল সরাতে লাগে বহু কষ্টে ।বোধজংনগরের গুজব যারা ছড়িয়েছেন তারা গণশত্রু।তাদের লক্ষ্য একটাই সেই মীরা নায়ারের 1947 EARTH সিনেমায় আমির খান যেমন একটা মানুষ থেকে তৈরি হয়েছিলো একটা নরপশুতে সেইরকম আমাদের রাজ্যের কিছু ভাইদের জীবন দর্শনকে পাল্টে দেয়া।কিছুটা সফলও তারা। আক্রান্ত হল থানা,রক্ত ঝরল কিছু নিরপরাধ মানুষের,বাইক ,গাড়ী জ্বলল।স্রেফ একটা হোক্স কে কাজে লাগিয়ে খেপানো হোল উপজাতি ভাই বোনদের। কেন ? যে ভোট বড় বালাই ।তাই সবার কাছে আহবান হোকাস পোকাস শুনলেই রুখে দাঁড়ান (জাদুকরদের বাদ দিয়ে)।কারণ এরকম আরও ঘটবে ,অনেক ঘাম ফেলা হচ্ছে , ভোটের বাক্স পুড়তে
আর প্রশাসন কে বলি যারাই এসব করবে তাদের মার্জনা নয় ।চাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
বন্ধ হোক হোকাস পোকাস