“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০
পার্থসারথি দত্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পার্থসারথি দত্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০১৯

ইচ্ছে হয় ফিরে যাবার


             মূল অসমিয়া :রোসনআরা বেগম
             অনুবাদ       :  পার্থসারথি দত্ত
                 


                 











ইচ্ছে হয় ফিরে যাবার
যেখান থেকে করেছিলাম শুরু

বিদায় জানাবার পর
চাই স্বাগত বাণী
দেবার শেষে হাত পাতি
                   পাবার আশায়,

   





 



মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ, ২০১৮

শুলে দেওয়া মানুষটির মতো

মূল অসমিয়া:রৌসন আরা বেগম
অনুবাদ:পার্থ সারথি দত্ত

(C)Image:ছবি









শুলে দেওয়া মানুষটির মতোই
লম্বা করে কেটে, বেঁধে ফেলে কর্কশ কথাটি

গোধূলির সূচনায় তীরের মতো
ছোঁ মেরে নেমে আসা
বৃষ্টির কয়েকটি ফোটা
এক শোষণে গিলে ফেলল
কচি পাতার গানের কলিগুলো
উঁচু দেহটি দিয়ে নেমে
কথাটি অন্ধকারে মিশে গেল

পূবে ভোরের ঈষৎ আলো উঁকি দেওয়া অব্দি
খালি বোতলটার কাছে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে
নেশাখোর দেহটি ৷
       ----------0------------      
 (প্রান্তিক,জুলাই,,,২০১২)

   


   

     


শনিবার, ৩ মার্চ, ২০১৮

নিজেকে আঁকো


মূল অসমিয়া:  রোশনরা বেগম 
অনুবাদ:পার্থ সারথি দত্ত      
(C)Image:ছবি









নিজেকে আঁকো,তুলিকায় রং বোলাও
কখনও জলরঙে,কখনোবা তেলরঙে
ক্যানভাসে বন্দী করো সময়
জীবন বড় ছোট
নিজের সঙ্গে কথা বলার সময় বড্ড কম৷
পথ বহুদূর, হাতে কী নিয়ে যাবে?
তোমার কাছে তুমি,আমার কাছে আমি৷
আঁকো, আঁকতে থাকো
কখনও চোখ,কখনোবা ঠোঁট,
কখনোবা পায়ের পাতা৷
কে জানে কোথায় বয়ে যায় কার গতি
একবার সময় পেরিয়ে গেলে
ফিরেও পাবে না চিনে
অমৃত বলে বলতে গিয়ে বিষ হয়ে না যায় যেন
তোমার হাতের মদিরার পেয়ালাটি  
~~~~০০০~~~
  



শুক্রবার, ২ মার্চ, ২০১৮

চন্দ্রপ্রসাদ


মূল অসমিয়া :ইসমাইল হোসেইন, 
অনুবাদ:পার্থ সারথি দত্ত 










দিনগুলো পুরনো হলে মানুষেরা পুরনো হয়
তোমাকে তো পুরনো হওয়া দেখিনি চন্দ্রপ্রসাদ
চন্দ্র তোমার নাম বলেই নাকি একটি শুভ্র পতাকার
মতো শুভ্র তোমার হৃদয়;শুভ্র তোমার চলা, শুভ্র
তোমার দৃষ্টি অরণ্য-মন্থন বাসনা সাগর৷

আমি মাঝে মাঝে তোমার মাঝে প্রবেশ করি আর
ভাবি: শুভ্র মানুষগুলো কখনও হলুদ হয় কেন?
আবার হলুদেরাই শুভ্র মানুষের সারিতে দাঁড়িয়ে
কেন -'আমি শুভ্র;আমি শুভ্র' বলে!
 তাই চন্দ্রপ্রসাদ, তোমাকে জানার পর আমি
চিনতে পারি শুভ্র আর হলুদের পার্থক্য ।                                                              তুমি চন্দ্র,তাই জন্ডিস হলেও যেন তুমি হলুদ হওনা,
হলুদ হয়না পুরনো হওয়া নতুন মানব ৷

~~~০০০~~~

চাঁদের অসুখ হলে


মূল অসমিয়া : রোশোনারা বেগম
অনুবাদ:পার্থ সারথি দত্ত
(C)Image:ছবি












চাঁদের অসুখ হলে
কুয়াশা রঙিন চুলগুলো ছড়িয়ে
আকুল হয়ে ওঠে আকাশ

দু:খে কালচে হয় তার জোছনা শরীর
দুচোখে অশ্রু ঝরে...
নদীর জলে সেদিন নাচেনা চাঁদনি,
পাখনা মেলে মাছগুলো
শব্দ করে না জলে
অরণ্যটি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে ৷
আড্ডাবাজ তারাগুলো হারিয়ে যায়
নীরব নিঝুম অরণ্যের আঁধার গহ্বরে
চোখের জল কেড়ে বয়ে যাওয়া
নদীর ঢেউগুলো
দুপাড়ের আঁধারে মাথা আছড়ে কাঁদে
     
চাঁদের অসুখ হলে
জেলেহীন একাকী নৌকাখানা
জলের দিকে চেয়ে মনের দু:খে বসে থাকে তীরে ৷
                        ~~~০০০~~~

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

নারী


মূল অসমিয়া: ইসমাইল হোসেইন, 
অনুবাদ:পার্থ সারথি দত্ত
(C)Image:ছবি















কটা বৃত্তের মাঝে আমি ঘুরছি তুমিও ঘুরছো,
আমি ছুটছি বৃত্তের পরিধিতে,তুমিও তাড়িয়ে আসছো আমায়
দেখেছি ৷বুঝেছি তোমায়;
পীড়ণে বিবর্ণ করা তোমার মুখখানা রুটির মতো
তোমার চোখ দুটো শূন্য বৃত্তের মতো
তোমার বুকখানি খোলা বইয়ের মতো ৷
   
আমি তোমার বুকের বর্ণগুলো চিনি
আমি কণ্ঠস্থ করেছি তোমার বুকের ভাষাগুলো;
তথাপিতো জেনে বুঝে ঘুরছি,শূন্যবৃত্তের পরিধিতে
আর অজান্তে বন্দী হয়ে পরছি বৃত্তটির মাঝে
আমি যখন ডুবে মরি বিষন্নতার সাগরে
তখন রুটির মতো তোমার মুখখানা চাঁদ হয়ে ওঠা দেখি
   
তোমার থেকে আমি অব্দি আবর্তনের একটি পথ
যেন বৃত্তের থেকে একটি চাঁদ
যেন চাঁদের থেকে তোমার মুখ
তোমার মুখের থেকে এক টুকরো রুটি
আবার রুটির থেকে একটা বৃত্ত ৷
এভাবেই একটা পরিক্রমার মাঝে
শূন্যের মতো তোমার জীবনটায় প্রবেশ করি;
আর তোমার স্পর্শে শূন্যের মাঝে হয়ে
কটা উজ্জ্বল নক্ষত্র  
            --------------0------------



শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

গুপ্তঘাতক



মূল অসমিয়া:ইসমাইল হোসেইন,
অনুবাদ:পার্থ সারথি দত্ত 
(C)image:ছবি











পনার আমার আর তাঁদের
সবার ঘরে গুপ্তঘাতক ঢুকেছে
কালো,নীল,হলুদ,গেরুয়া নানা বর্ণের
আর অনেক রঙ বেরঙের গুপ্তঘাতক ৷

এই গুপ্তঘাতককেরা অদৃশ্য বস্তুর মতো
আপনার শোবার ঘরে বৈঠকখানা অথবা
পড়ার ঘরে শুয়ে থাকলেও
আপনি আমি কেউ দেখিনা তাঁদের ছায়া ৷
আপনার আমার আর তাঁদের
সবার ঘরে গুপ্তঘাতক ঢুকেছে;
তাঁরা আপনারই কোলে বসে
আপনার বুকে ফেলছে তাঁদের ছায়া ৷
                    --------0-------



সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

শূলে দেওয়া মানুষটির মতো


মূল অসমিয়া:রোশন আরা বেগম,
অনুবাদ: পার্থ সারথি দত্ত
(C)Image:ছবি












শূলে দেওয়া মানুষটির মতোই
লম্বা করে কেটে,বেঁধে ফেলে কর্কশ কথাটি
গোধূলির সূচনায় তিরের মতো
ছোঁ মেরে নেমে আসা
বৃষ্টির কয়েকটি ফোটা
             
এক শোষণে গিলে ফেলল
কচি পাতার গানের কলিগুলো
উঁচু দেহটি দিয়ে নেমে
কথাটি অন্ধকারে মিশে গেল
পুবে ভোরের ঈষৎ আলো উঁকি দেওয়া অব্দি
               
খালি বোতলটার কাছে মুখ থুবরে পড়ে থাকে
                  নেশাখোর দেহটি  
                              -------------