.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

শুক্রবার, ৯ জুন, ২০১৭

খুড়োর কল


|| কৈবল্লানন্দ ||

 
(C)Image:ছবি
  সেইকালে
টিকে ফিকে না থাকিলেও খুড়ো এখনও দস্তুরমত টিকে আছেন, বলা ভালো বহাল তবিয়তে আছেন । কখনও তিনি বেহাল হইয়াছেন এমন কথা তাঁর শত্রুরাও বলিতে পারেনা । আমাদের খুড়ো মহাশয় আমাদের বাপ-খুড়োদেরও খুড়ো মহাশয় ব্যাপারটা সর্বজনীন । খুড়ো মহাশয় বঙ্গদেশে (পূর্ববঙ্গের শ্রীহট্ট জেলা) কোন এক পাঠশালা হইতে পাশ করিয়া এনট্রান্স অবধি পড়িয়াছিলেন শুনিতে পাই, সেখানে পড়িতে পড়িতে স্বদেশী আন্দোলনে যুক্ত হন, দেশভাগের কারণে এদেশে ( ত্রিপুরায় ) উদ্বাস্তু হইয়া আসেন, পাহাড়ে পাহাড়ে আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াইতেন, তাই উদ্বাস্তুরা যখন কট্টর কংগ্রেস সমর্থক তখন খুড়ো কমিউনিস্ট । কখনো মেম্বারশীপ পাইয়াছেন কিনা তা জানা নাই কিন্তু আজীবন নিজেকে একজন আদর্শ কমিউনিস্ট বলিয়া জাহির করিয়া থাকেন, আমাদের নিত্যদিনের আসরে খুড়ো মধ্যমণি হইয়া এখনও বিরাজ করেন যেভাবে আমাদের বাপ-খুড়োদের আমলে করিতেন । সর্বজনীন পূজামণ্ডপ লাগোয়া ক্লাব ঘর ও অর্ধ্বশতাব্দী প্রাচীন মুদিখানা এখানেই প্রতিদিন আমাদের আসর বসে । শিক্ষক, অধ্যাপক, ডাক্তার, বেকার, সবাইকে নিয়াই আসর, আসরে আলোচনার বিষয় বহু বিচিত্র । খুড়ো মহাশয়ের চা, পান, চারমিনার ( সিগারেট ) সবই আমাদের জুগাইতে হয় সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলিয়াছে
অদ্য আসরে রাজনৈতিক দলগুলির আর্থিক সঙ্গতি বিষয়ে আলোচনা হইতে ছিল হঠাৎ খুড়ো চায়ে চুমুক দিয়া হুমশব্দ করিয়া ভানুবাবুর ভাষায় থম মারিয়া গেলেন ।  খুড়োর ভাবগতিক দেখিয়া সমস্ত ঘরে কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্ববর্তী নিস্তব্ধতা নামিয়া, দ্বিতীয়বার চায়ে চুমুক দিয়া চোখ খুলিয়া পুঁচকেকে জিজ্ঞাসা করিলেন কত কোটি বলিলে ?” পুঁচকে কিছু বুঝিতে না পারিয়া থতমত খাইয়া গেল, খুড়ো পুনরায় বিশদে বলিলেন আমাদের কমিউনিস্ট পার্টির তহবিল কত বলিলে ?” পুঁচকে বুঝিতে পারিয়া বলিল প্রায় আটশ কুড়ি কোটি টাকা। শুনিয়া খুড়ো একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়িয়া চুপ করিয়া রহিলেন, বাকি চা ঠাণ্ডা হইয়া গেলেও খুড়োর ভাবগতিকের কোনও পরিবর্তন নাই ।
আমরা সবাই চুপ করিয়া আছি, পাতা পড়িলেও শব্দ হইবে এমন একটা দম বন্ধ করা অবস্থা ।অবশেষে বলিলেন খুড়ো আহা আমাদের সময় যদি থাকিত!আমরা বলিলাম কী খুড়ো ?” খুড়ো বলিলেন পার্টির টাকাআমরা বলিলাম, “এখন থাকিলে কি কাজে আসিবে না ?” খুড়ো বলিলেন, “আলবৎ আসিবে, কিন্তু আমার তো সে বয়স নাই আর বুড়োর কথা শুনিবে কে ?” আমরা সবাই একসঙ্গে বলিলাম, “খুড়ো বিশদে বলিবে ?” খুড়ো বলিলেন, “পরিকল্পনা খানা সংক্ষেপে বলিতেছি, শুন, প্রথমে ২০০ কোটি টাকা খরচ করিয়া এক খানা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি খুলিবার লাইসেন্স সংগ্রহ করিতাম, পরে প্রতিটি জেলা অফিসে দপ্তর খুলিতাম, D/C মেম্বারদের  D/O করিতাম, D/C সেক্রেটারিকে ম্যানেজার ।  ব্রাঞ্চ অর্থাৎ L/C স্তরে কমরেডদের এজেন্ট জমজমাট টাকা সংগ্রহ শুরু হইত সঙ্গে জনসংযোগ । এরপর সেই টাকায় গ্রামে গ্রামে বিদ্যালয়, জেলায় জেলায় কলেজ, বাঘা বাঘা শিক্ষক, অধ্যাপক নিয়োগ করিয়া পাঠ দিবার  ব্যবস্থা করিতাম সঙ্গে আলাদাভাবে মার্ক্সবাদের একটা ক্লাস প্রতিদিন নেওয়া হইত । এইবার I.A.S., I.F.S., ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, শ্রমিক নেতা, কৃষক নেতা তৈরি হইয়া সারা ভারতবর্ষে ছড়াইয়া পড়িত, যে কমিউনিস্ট ভাবনা আমরা এত বছরেও সারা ভারতবর্ষে গ্রহণযোগ্য করিয়া তুলিতে পারি নাই তাহা দুই দশকে সম্পন্ন করিয়া সারা ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট শাসন কায়েম করিতে পারিতাম । আমরা সমস্বরে বলিলাম সাধু, সাধু ।খুড়ো দ্বিতীয়বার চায়ের কাপে চুমুক দিয়া থম মারিয়া বসিলেন বুঝিলাম এবারেরটা দ্রব্যগুণ




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন