.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৭

বন্যসমাজ

।। সুমন পাটারী ।।
     
(C)Image:ছবি
    আ
মি জিরাফ, আদতে মরণশীল তৃণভোজী, গলা লম্বা করে যা পাই দেখি বনপ্রদেশ। এই যেমন এই শহর, এখানে বিল্ডিং পুরানো, ফাটলে পাখির বিষ্ঠা থেকে জন্মে কিছু গাছ এখন বনের ছাতা, বাকিরা তার ছায়ায়।বাঘ বেড়ালের বংশ, সিংহ এই বনে থাকেনা, কিছু শেয়াল এই বনের রাজা, বস্তুত ক্ষুদ্রমাথার প্রাণী, এদের একটা দল থাকে, দলে খুন করে, দলে বাঁচে। এই আমাদের বনে যে দল থাকে বনাঞ্চলের অন্যপ্রান্তে তাদের জায়গা নেই।  তাদের খুনের পরিকল্পনার হলগুহা পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে এখন, নকুল , সাপ , টিকটিকি তাদের বন্ধু, সহযোদ্ধা খুনি।
         বন্ধুরা সকাল হলেই বেরিয়ে পড়ে বনে, খোঁজে শ্রমিক পশু, এই যেমন বলদ, ছাগল, ভেড়া গাধা ও খচ্চরের মতো বনবাসিন্দা।এই সময়ে এদের বিষ ও শীতল খুনি মেজাজ আড়ালে রেখে ওরা মুখে চুম্বকীয় দরদ মাখে।  আরেকদল শেয়াল এই মুহূর্তে বনসভার উঁচু পাথরের জন্য লড়াই করছে। এরা আরো দক্ষ খুনি, ক্ষমতা পাওয়ার আগেই লাঠি হাতে নিয়ে নিয়েছে। বনে বনে ঘুরছে, বুক পকেটে তীক্ষ্ণ পাথরের ফলা, এরা বনশিশুদের ঘাস আহরণের কলাকৌশল শিক্ষা কেন্দ্রে হানা দিয়ে প্রচুর ঘাস লুট করে, জ্বালিয়ে দেয়, বলতে চাইছে হয়তো, আপামর মাংসভুক এক হও, আমরা এই বনসমাজের শিখরে এলেই বন্যকালীর পুজো হবে, হবে খুনের উৎসব। বাহ্ বাহ্ বাহ্ জনাব বলে হাততালি দিয়ে উঠলো একদল পাঠা।
          এভাবেই রোজ সভা হয়, বনমোরগ আসে, গাড়ি গাড়ি, গলায় চাকু, তাদের চিৎকার করতেই হবে। রক্তবর্ণ হয়ে যায় মাঠ,বন গভীর হচ্ছে, ক্রমশ গভীর, বর্ষা আসন্ন, আরো, আরো অন্ধকার হবে বাস্তুতন্ত্র, অনেক কেরানি হরিণ আরো হারাবে। খুন হবে বনের সাংবাদিক বানর, ওরা শিকারিসংকেত দিতো। সুন্দর শরীরের জেব্রা দম্পতি একে অপরের গ্রীবা চাটছে,  চাটছে, চাটছে, চেটেই যাচ্ছে....




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন