.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭

অনুরাগ ভৌমিকের এর ৪৪ টি কবিতা


 ।। অনুরাগ ভৌমিক।।
ব্লগপোষ্টঃ +Rajesh Chandra Debnath 
























শান্তির সুর

বাতাসে শান্তির সুর আছে, জীবন কে মেলে ধরতে হবে |
বৃষ্টি পতনের ধ্বনিতে শরীর হাসলে, আলোকিত হয় প্রেম |
এক উদ্দামতা হেঁটে যায় জানলার ওপারে...
একা

চলেই যাচ্ছে সবাই,
এবার কোথায় যাবো আমি?
ভাবছি একা-ই থেকে যাই,
একা এবং একা |
পাওয়ার লোভ নেই,হারাবার ভয়,
বাকি দিনগুলি?হোক অপচয়...

আপেক্ষিক

যতটুকু আহত হবো,তুমিও ততটুকু হবে |
একটাই জীবন,
দ্যুতিময় সকাল কে পাঠিয়ে দিই দিগন্তের দিকে |
আর ছাইদানিতে শুয়ে থাকে কিছু দীর্ঘশ্বাস...

আরেক জীবন

জীবনের এই আলোকিত দিকটাই ফাঁকি,
গভীর গর্তে যে এখনও ধ্যানস্থ; তার কাছেই আছে বিনয় |
কষ্টকে গ্রহণ করা-ই বীরের কাজ |
তারপর আরেকটা জীবন দেখতে পাওয়া যায়...

প্রতিদিনের গল্প

রেগার কাজ আর ঝি গিরি করে সংসার চালান মা | মেয়েটি ক্লাস টুয়েলভে ভালো মার্কস নিয়ে উত্তীর্ণ এ বছর | হাসি ফুটবে মায়ের মুখে | উচ্চশিক্ষিতা,ভালো চাকরী,ভালো বর,মধ্যবিত্ত জীবন
গল্পটা এমন করেও লেখা যেতো | না,তিনি এগিয়ে নিয়ে গেলেন,তারপর কয়েকটা পশুর নিকট মেলে ধরলেন ভবিষ্যতের এক পেলব স্বপ্ন |
এবার কর্তব্যমুক্ত জীবন |
সে নিজেই লেখে এখন গল্প প্রতিদিনের...
চাওয়া

আরো অনেকবার বলবো,ফাঁকিই দিয়ে গেলে,জানা হলো না রহস্য-শরীর |
বুঝি তোমারও সীমানা আছে |
তবুও দাঁড়িয়ে থাকি এক অ-কবিতার দেশে |
তোমার উদার সঙ্গ চাই এই আজকের উচ্চারণ...

দুটো পঙক্তি

কবিতাটি লিখেই ঘুমিয়ে পড়ি,
মধ্যরাতে অলৌকিক জোছনায় দুটো পঙক্তি উঠে যায় ছাদে,
বিনিময় করে প্রেম |
গল্প করে জীবনের,যন্ত্রণার;
অপেক্ষায় থাকে কবিতা,
উড়ে যায় দূরের আকাশে;
ফিরে নি,ফিরবেও না |
চোখ খুলি,বুঝি এছাড়া তাদের আর উপায় ছিলোনা...

ভাষা

উড়ন্ত পাখিই বোঝে আকাশের ভাষা, এ কথা যে বলে গেলো,তারে খুঁজি |
তুমি বোঝো পথের কথা,যে তোমারে ডেকে নিয়ে গেছে |
প্রেম উড়ে প্রজাপতি পাখায়,পার্কে, বসে বসে দেখে কবি |
দেখে প্রাসাদের চূড়ায় প্রতিক্ষণ এক পরীর উড়ার প্রয়াস...

কুয়াশা-ভোর

তোমার গ্রাম থেকে আসে কুয়াশা-ভোর,
সময়ের স্রোতে ভেসে যায় ঘড়ি |
ঘুম পালায় দূরে,বাঁশ বনে |
সুখ-নিদ্রার লোভে একটা কবিতা খেয়েছি গত রাতে |
হাওয়ায় ছড়ায় পাখির কাকলী,
ফুটবে একটু পরে আগুন-উষ্ণ আলো;
হে আকাশ,আমিও কুয়াশা হয়ে উড়ে যেতে চাই...

অনুভব


সময়ের আদরে তোমাকে দাবি করি |
দেখি বড় পুকুরের বুকে খেলা করে সকালের রোদ,দুটো ফড়িং উড়ে উড়ে খেলা করে |
একটা পথ আসে খোঁজ নিতে,বেরিয়ে পরি এক পথিক |
সন্ধ্যার কুয়াশায়ও কালো রাস্তাটাকে শুয়ে থাকতে দেখি |
শূন্য ঘরে কথা গুলো মাঝে মাঝে আসে,চামচিকির মতন |
অনুভব করি তুমি থাকলে রাতটা স্বপ্নের হতো...

তোমাকে পাইনা বলে


তারা গুনলে আকাশের লজ্জা হয়,শুধু তাকিয়ে থাকি তাই |
কে যেন বলে পরিচিত কণ্ঠে,কাঁধে সুখ ভর্তি ব্যাগ বহন করে চলি,এখনও বুঝিনি তার স্বাদ |
হাওয়ার ও রঙ আছে | তাও বদলায় | আর অসন্তুষ্ট করে তুলে মন |
হেমন্তের ভোরে গোলাপ গাছটায় ছুঁয়ে আসি,তোমাকে পাইনা বলে...

কালো তিল

তোমার স্নান ঘরের আয়নায় চোখ রাখি | তোমাকে ধরে রাখে সে অনেকক্ষণ,চলে যাওয়ার পরও | দেখেছি পৃথুল পিঠে কালো তিল,কালো তারা এক আলোর আকাশে |
বুক থেকে নির্গত চড়ুই,খেলা শেষে উড়ে যায় গুলগুলি দিয়ে...

শাদা পায়রা

সময়ের উল্টোদিকে কী আছে?জানি না |
মাঝে মাঝে এমন উদ্ভট প্রশ্নেরা পদ্মপাতার মতো ভাসে,
আর কথার স্রোত জানলায় এসে ফিরে যায় |
দেখি দূরে কুয়াশা মাখা ঠোঁটের ফাঁকে জবাফুল রাঙা জিভ,
আকাশের কিনারে একটা শাদা পায়রা উড়ে চলে...উড়েই চলে...,
অদৃশ্য হয়ে পরে মেঘেদের পাড়ায়...

এখানে

এখানে বৃক্ষেরা বনে বাস করে,তাদের সবুজ হাসি দেখি | কত টিয়া পাতা হতে চায়,পাতা গুলি হতে চায় টিয়া |
এখানে পথটা চলে যায় দূরে,অন্য এক পথের খুঁজে |
জমা হয় শিশিরের ফোঁটা,ফাঁকে ফাঁকে জোছনার আলো |
এখানে গাছেরা গাছের কাছে চলে আসে,
মেলে দিয়ে দুটো ইচ্ছে-হাত...

জোছনা জড়িয়ে ধরলে

জোছনা জড়িয়ে ধরলে,আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি...
মনে হয় এখানে কে যেন রেখে গেছে আমাকে | এখনই পেয়ে যাবো প্রেমের বাড়ি | আলোর প্লাবনে ভাসতে ভাসতে মনে হলো চাঁদ ও পরে আছে আলোর মুখোস |
ঘরে গিয়ে খুলবো ডাইরিটা,যার ভেতর রেখে এসেছি কিছু রোদ...

মনে পড়ে

রোদের আঘাত সইতে সইতে বিকেল রচনা করি...
ভালোবাসার শার্টটি গায়ে জড়িয়ে আছে | বহুদিন হয় নোংরা হয়ে গেছে | তাতে আঁকা ফুলটি স্পর্শ করলে এখনও ভেসে আসে প্রেমের ঘ্রাণ |
মনে পরে সুগন্ধি রবিবার গুলি পাঠাতে স্বপ্নময়...

তোমাকে ভাবলে


আজকের দিন থেকে কিছু প্রেম রেখে দিই আগামী দিনের জন্য
নদীর পাড়ে জোছনা খেতে আসে এক জোড়া ছায়া,গভীর রাত যখন আরোও গভীর হয় | কিছু আনন্দ ধীরে ধীরে প্রেম হয়ে যায় | এক ঝাঁক শীতল হাওয়া আসে,ছায়াখেলা দেখতে দেখতে মিলায় অন্য পারে |
তোমাকে ভাবলে মনে হয় আবারও প্রেমে পড়ি.

দুটো পথ

দুটো পথ কাছে এসে মিশে গেছে এখানে...
কে যেন দিনটাকে ছুঁড়ে দেয় | গড়িয়ে গড়িয়ে সে চলে যায় | তারপর হারায় সন্ধ্যার অন্ধকারে | পথের পাশে একটা গাছে এঁকে,তলায় বসে বিড়ি ফুঁকে পাগল |
তারার মতো জ্বলে বিড়ির আগুন...

ব্যর্থ

উপযুক্ত ঠোঁট আর স্পর্শ করবো না...
বুক পকেটে শুকিয়ে যাওয়া গোলাপের ঘ্রাণ | তার গন্ধে মেতে উঠি এখনও | ফুলের মতো ঝরে যাওয়া দিন গুলি দিয়ে মালা গাঁথি | দেখি ঐ চোখ থেকে আজও একটা সকাল শুরু হয় |
তবু ব্যর্থ...ব্যর্থ আমার সকল উল্লম্ফন...

পাখি

এই দুই চোখে যৌবন খেলে আজও...
এখানেই শুয়েছিলো কিছু সুখ | হাসির শব্দে ফুটতো ভোরের ফুল | পথের বাঁকে বাঁকে ছুটির বিকেল | নদী রঙের ওড়নাটা উড়ে উড়ে নিয়ে আসতো প্রেমের হাওয়া |
আবার ভেতরের পাখিটাকে উড়িয়ে দাও আমার পাড়ার দিকে...

অদৃশ্য হওয়ার আগে ----------------------------

পথে পড়ে থাকুক জীবন, চলেছি সেই বৃক্ষের সন্ধানে |
সকলেই হাওয়ার পুতুল,নূতনের চোখে জল দিয়ে যায় সময় |
পাওয়ার কিছু নেই,হারাবার ও কী বাকি আছে?
একটা ইশারা এগিয়ে নিয়ে চলে দূর বিন্দুর দিকে |
শান্ত হাসিটি দেখে যেতে চাই অদৃশ্য হওয়ার আগে...

হারানো

তার কথার মধ্যে শরতের মেঘ গুলি ভাসতো | আমি ছায়া পেতাম | পেতাম শিউলি হাওয়া | চোখে থাকতো একটা প্রেমের আলো | সেও জীবন নিয়ে জড়ানো |
নিভে গেছে স্বপ্ন ও সুখ | এখন ছায়াহীন সব | ধীরে ধীরে স্বর্গ বিভা কোথায় হারালো...

স্বজন

কুয়াশা-শীতল হাওয়ায় শরীর জুড়ায় |
যে পথ প্রতিদিন ছুটে যায় দূরান্তর,ধীরে ধীরে তার পাশে দাঁড়ায় কয়েকটি বৃক্ষ | ছায়াগুলো পরিচিত পাখির ডাক ডাকে |
পৃথুল ধানক্ষেত | শিশুর মতো দৌড়ায় রোদ |
হে স্বজন,ফিরে আসার পথে অনেক ভালোবাসা নিয়ে এসো...

চাঁদ

যে চাঁদ আমার,সে শুধুই আলো,
কবিতা,সে কিছু শব্দ;
প্রেম,কিছু আশা |
পরাজয়,এক সত্য সুন্দর...

ছায়া

এখানে ঘুমিয়ে থাকতো যাবতীয় প্রতিবাদ | কালো কালো ছায়া |
একদিন শুয়ে পড়ে মহীরুহ |
ছোঁয়া দেয় এসে রোদের বালক | জেগে উঠে সমল বৃক্ষ শিশু |
পায় ওরা পৃথিবীর আনন্দ সুখ |
তারপর ঘুম ভেঙ্গে গেলে, কুয়াশায় আবৃত সফেদ সকাল...

সন্ধ্যা


আরেকবার দেখার ইচ্ছে জাগে | দেখিনি,দেখবো ও না আর |
তবুও তার ছবিটি মনের ক্যানভাসে এঁকে দিয়ে গেছে সে নিজেই |
সামনে ফোসকার দোকান,ভেবেছি দাঁড়াবে |
এই পথে রিক্সা আসে কতো,উঠে পরবে যে কোনো একটায় |
বাস যায় রাজধানীর দিকে |
না,তাকে দেখবো না আর | একটা দিনের মতো মিশে যাবে সময়ের বুকে |
এই যে সহজে মিলিয়ে যাওয়া,তাকে আমরা ডাকবো সন্ধ্যা বলে...

গল্প

সে যে বলে গেলো খুব,গল্পটা এমন নয় |
গল্পের পেটে ঘুমায় আরেকটা গল্প |
আমার প্রলাপ গুলি রেখে যাই সফেদ পৃষ্ঠায় |
কবিতা মানেই কলমের অশ্রু,ওরা-ই আবার সমাহিত হয় আমার দুচোখে |
তবু ও গল্পের জন্ম হোক,জন্ম নিক অনেক গল্পকার...

ক্ষয়

কবে বসন্ত বুঝবে বৃক্ষ,এই অপেক্ষায় বসে থাকলে ভিক্ষুক হবে |
যেমন হয়েছি আমি | অন্ধ | ভিক্ষা পাত্র হাতে |
ক্ষয় হয়ে যায় দিন | ক্ষয়িষ্ণু জীবন |
দুপুরে বসন্তক্ষণে আম্র মঞ্জরীর নাচ |
চিত্কার করে তক্ষক,চিত্কার করি আমি |
পাখিটির ক্ষমতা দেখি অরণ্যে অরণ্যে...

প্রজাপতি

স্পর্শ গুলো এক একটা প্রজাপতি,প্রতিটি অঙ্গ ধীরে ধীরে প্রজাপতি হয়ে যায় |
প্রতিটি চরণ চিহ্ন এক একটা পথ হয়ে ছুটে বহুদূর,যাই পথে পথে আনন্দের খোঁজে |
তারপর ওড়না ও চুলের ফুল গুলো রচনা করে এক একটা বাগান,সেই বাগানে বাগানে ওড়ি |
এভাবে স্বপ্ন ছুঁড়ে ছুঁড়ে কাটছে জীবন,
আর বসন্ত কোকিল রঙের দোকান খুলে আমাদের পাড়ায়...

পথ

বাড়িয়ে দিয়েছো পা...
পথ হলাম চিরদিনের |
আজকাল নূপুর পরা হয়না,
তবু তার শব্দ পায়ে পায়ে ঘুরে |
সকল ব্যথা ফেলে যাচ্ছ আমার কাছে,
কুড়িয়ে নিই তা |
কিছু ধুলো উড়াই তোমার শরীরের দিকে,
আকাশে অনেক পাখি ডানা মেলে |
চলতে চলতে তুমিও পাখি হয়ে গেলে,
অচিন দেশের |
আর এগিয়ে যাই নি, তারপর অন্ধকার...

আগুন

আগুন লাগিয়ে দেয় কে যেন পলাশ বনে,
পাড়ায় বসন্ত নামে |
দেখে হাত তালি দাও,রঙিন হয়ে ওঠো |
আমাকে খোঁজ করো না,
তা'লে ফোটার আনন্দ পাবে না কখনো |
আমার ঘরের মাঝে শুধু কালো রঙ,
অন্ধকার মুছে মুছে বেলা কেটে যায়...

দীর্ঘশ্বাস

আসো,কাছে এসে বসো,
দেখো এই পরাজয়,
পাতার শরীর ছেড়ে হারায় সবুজ |
স্বপ্নের দেশ কেমন,সত্যি জানা নেই,
তবু সে দেশ ভিজলে,
ভিজে উঠে শিবুর শিয়র |
উঠানে রিক্সাটা তার দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে...

ফুঁ

কদমের ডালে বাঁশির দোকান, ওরা নিজে নিজে বেজে ওঠে |
এ পথে যেতেই ডাকে,কাছে যাই;হাতে নিয়ে ফুঁ দিই |
বেজে উঠে,বেজে ওঠি আমি |
তোমাকে দেখি দূরে,
এসো,ফুঁ দাও এবার...

সুর

রাত একটা বাঁশির সুর,বাজে রাতভর; জ্যোৎস্না আলোকিত নিসর্গের বুকে |
ভেসে আসে কোনো অরণ্য গভীর
অথবা পাহাড় থেকে,
চোখ ছুটে উন্মুক্ত জানলা পথে |
কানপাতি আরো দূরে,
কে সেই বংশীবাদক,যার পেছনে ঘুরে
সময় পার হয়ে যায়...

হারানো

আলোহীন হয়ে এলো
যৌবনের চোখ,
ধীরে মিলিয়ে গেলো
মনের হাসিটি |
অবশিষ্ট শরীরের হাসি
সেও মরে যায় যায়,
এমন বেলায় |
এ দেহ হারিয়ে যাচ্ছে
রাতের রাস্তায়...
...................................
নূতন

নূতন টি শার্ট টা পরে কখন সামনে যাবো অপেক্ষা করতাম,
সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তটা ছিলো আমাদের,
সুন্দর চুল বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকতে, পথটাকে খুব আদর করতে ইচ্ছে হতো,
বুঝতে আমার বাইসাইকেল ব্যস্ততা,
প্রতিদিন আমরা নূতন হতাম,
আজও স্বপ্নে আমাকে সে নিয়ে যায়,
সেই মোড়ে কেউ নেই,
শুধু একটা চিত্কার দূরে দাঁড়িয়ে থাকে...
........................
আরও একটা রাত চলে যায়

বুকের উপর দিয়ে লাল বাইসাইকেলটা চালিয়ে নিয়ে যায় কেউ,
আজও,
শরীরে লাগে গোলাপি ওড়নার হাওয়া,
জড়িয়ে ধরতে পারি,
ধরবো কেন?
ভাবতে ভাবতে আরও একটা রাত চলে যায়..
..............................
আসন

ঠেলার পেছনে বসে আছে ছেলেটি,তন্দ্রালু, চা নিয়ে যাচ্ছেন বাবা,ছোট বড়ো ব্যাগ বস্তা গুলো ধরে আছে দক্ষ যাত্রীর মতো,পৌষের শেষ,গায়ে শীত কাপড় নেই,পথ আগলে খেলা করে কুয়াশা,সারাদিন সবজি বিক্রির পর ফিরছে ঘরে,প্রতিদিনের রুটিন,এমনি করে একদিন বদল হবে আসন,আর দর্শকের ভূমিকায় নূতন কেউ আসবে এই রাতের পথে
..............................
প্রেমের টানে

দেহ ভারী হতে থাকে,বিশ্রামের সময় মুখ হাম্বা আর কুঁই কুঁই করে ওঠে,আবার চলতে চলতে দেখি প্রজাপতি খরগোস খেলা করে দূরে,পথ শেষ হয় এক সময়,কুয়াশায় ঘিরে ফেলে চারদিক,এবার এঁকে দেবে পরের কম্পোজিসন,ক্যানভাসেসেই শিশু কে খুঁজি,যে পথ বিরোধহীন হেঁটে যাবে,অমায়িক প্রেমের টানে...
..................................
রাতের নূপুর

শুয়ে পরলে মিলিয়ে যাই রাতের ছায়ায়,
ঘামের গন্ধ ,রজনীর ঘ্রাণ
আর সর্পনৃত্য মুগ্ধ করে,
তুমি চাইলেই রাত নেমে আসে চাইলেই ভোর,
আমরা হই আদিম উদোম,
তারপর বেজে উঠে রাতের নূপুর...
...................................
এই সময়

দরিদ্রতার খবর জানায় ক্ষুধার্ত পেট,
দেবীর কাছে যাই,
হাত পেতে আছেন তিনিও দেখি,
আমার দিকে অপলক......
......
................................
বোকা

বাজারে যিনি সত্য বিক্রি করতে আসেন তিনি বোকা
বোকামি দেখতে আমার ভালো লাগে তাই বাজারে যাই বারবার
দেখি মুখোস পরা চরিত্র গুলোর কতটা মিল পাওয়া যায়
তার মুখের সাথে...
..................................................
স্মৃতির দুপুর

কতদূর নিয়ে যায় দূর দূর শীতের দুপুর, দুটো চোখ খেলা করে আশেপাশে আমার কাছেই, পিকনিক গাড়ি ছুটে হৈ চৈ হাততালি যুবক দিনের, একদিন এইদিনে তোকে নিয়ে বাইক ছুটেছি, দেখি আজ কালো পথে উড়ে ঝরা সজনে পাতারা
স্মৃতি ঘর শুয়ে আছে তাই কিছু হলুদ রোদের- রগরগে তাপ ,খেলে সেইখানে প্রতিটি ছোঁয়ায়, ঘুমঘুম দেহ তাই শুয়ে পরে রোদের ডানায়, প্রেমাতর নিয়ে এসে পাশে বসে হলুদ আঁচল,
................................................
ঘোড়া

দুপুর রোদে ছায়ারা আশ্রয় খুঁজে বটের আমার মতো
চোখ খুললেই তক্ষক কন্যা
জড়িয়ে ধরতেই দৌড়লো
আর বনময় ঘুরে ফিরে এলো বাড়ি এক অশ্বমেধের ঘোড়া
.......

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন