.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭

অমলকান্তি চন্দের গুচ্ছ কবিতা

।। অমল কান্তি চন্দ ।।

ব্লগপোষ্টঃ +Rajesh Chandra Debnath 


(C)Image:ছবি
 






















পাখি সব 


বাঁকা ঠোঁট ঝুঁটি লাল,
ফোলা ফোলা দুটি গাল।
দুটি চোখ গোল গোল,
কানে বুঝি রাঙ্গা দুল।
নূপুরের রিন ঝিন ,
নেচে নেচে কাটে দিন।
গাছে গাছে উড়াউড়ি,
পাকা ফল ঝুড়ি ঝুড়ি।
খেতে খেতে ডাকে আয়,
পাখি সব ছুটে যায়।
.............
মেঘের কাছে প্রার্থনা করি 

টুকরো টুকরো কথা গুলো সাজিয়ে রাখ তোমার স্বর যন্ত্রে
খেয়ালি সময়ে আবর্তনে গূঢ় পিপাসা বুকে
মেঘের কাছে প্রার্থনা করি
নতজানু হয় আরক্ত গোধূলি
উপাসনা গৃহে অভীষ্ট জড়তা কাটিয়ে উঠার ভান করি।
আল জিহ্বার নিপুণ সঞ্চালনে কথা গুলো কখনোবা পাখী হয়
ডানা মেলে দিতে চায় -তোমার ভোর আকাশে
সরল দুপুরে কিংবা একান্ত আপন ক্ষণে
আমি দু-হাত বাড়িয়ে দেই, আমাকে জড়িয়ে ধরো বুকে।
...............
দু-চোখে স্বপ্ন আঁকি 


আলো জ্বেলে দিলে ঘরের মেঝেতে পূর্ণিমার চাঁদ উঁকি দেয় ,
প্রজাপতির ডানায় রং ছড়িয়ে,
তৃষিত চাতকের বুকে দিগন্ত বাঁক নেয়।
আকাশের দুধেলা আস্তরণে প্রলম্বিত তারাদের বিরল মেলা,
এ বেলা সাজ ঘরে গোটাকয়েক
জোনাকি আর পিপীলিকাদের নীরব  খেলা।
খেলা চলে সারা রাত, কৃষ্ণ গাভীর রং গায়ে মাখি,
কালো মেঘ বাতাসে উড়ে, কালো হয় ছায়া 
দু-চোখে স্বপ্ন আঁকি।
...............
সহচরী 


রাতের নীরবতা তোমাকে খুঁজে
মিট মিট তারাগুলোর সন্ধ্যা আরতি
তোমার মিঠে আলো আর রং
এ পাড়ায় রাত্রি জাগে।
সহচরী ঘুম ভাঙ্গে,
চারিদিকে জোনাকির আলো মোহ
এ মন সঁপে দিয়েছিলে এ রাতে ।
অনেক পথ পায়ে হেটে হেটে নদীর কাছাকাছি
কাশেদের দুরন্ত ডানায়
ফিরে আসি বার বার পলল মায়ায়।
............
সাধু  চাঁদ সদাগর 


কথাগুলো এখনও বলা হয়নি তোমাকে
আজকাল করতে করতে কতটা মুহূর্ত
কেটে গেল ;কেটে গেল কত স্বভাব সময়
তোমার চোখে চোখ রেখে দেখা হলনা আর
আবার আতসি মনে কবে পাব সন্ধ্যা ঘ্রাণ
তোমাকে সে-কথাও বলা হল-না কোনদিন।
গভীর রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকা
গাঁয়ের পাহারাদার ও টের পেল-না বুঝি
প্রসবের ঠিক আগের সমর্পিত খেলায়
বাবাকেও টেক্কা দেয় , সাধু চাঁদ সদাগর




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন