.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

বুধবার, ২৪ মে, ২০১৭

রাজেশ শর্মা গুচ্ছ কবিতা

।। রাজেশ শর্মা ।।
ব্লগ পোষ্টঃ +Rajesh Chandra Debnath 

সন্ধ্যাসারস

"like withheld rain is how he comes to her, and takes
her fractured fingers in his blue kiss. Now they spend their small hours
in the water-lilies"
                          Tryst by Sue Wootton
যেন  বর্ষণমুখর মেয়েটি আজ খুব ব্যর্থ প্রেমিকা হতে চাইছে। উচ্ছ্বাসে শহরে নেমে আসছে অপটিক্যাল সন্ধ্যাসারস। কেউ গুন হয়, কেউ খুব আধো আধো হয়। শ্রী ফুটছে অসমান স্কাইলাইনারে। আর এইবেলা, যারা ভেবে নিচ্ছ ;চাহিদা সম্পন্ন হলে তুমি অচল সিকি। তোমাদের উষরে খুব বরখা নামুক। যাকে শৌখিন ব্যর্থ প্রেমিকপারাবত ভাবছ। চিরায়ত 'হে' রা
শ্রী ছুঁইয়ে দিক শবনমিবাহার...
............
অ-শেষ

#বনতুলসী
একদিন অফুরান যন্ত্রণার শেষে সে এসে দাঁড়াবে শিয়রে, হাতে দীপবর্তিকা
চিবুক এর স্বেদ থেকে ঝরে পড়বে দু'একটি স্নেহ, কুড়িয়ে নেবে তৃষাতুর  কপাল
ভুবনপাহাড় এ খুব বাতাস বইবে, ঠাণ্ডায় শিউরে উঠবে ইনাফি
এমন দিনে সমস্ত টা চুকিয়ে ফুটে উঠবে বর্ষার প্রথম কদমফুল...
..........
সম্বিৎ

#বনতুলসী
সমস্ত সম্বিৎ এ ছুঁয়েছ তুমি আঙ্গুল আর ওষ্ঠে...
পশমের ডানারা আজ জলপাখি...
..........
দ্বিধাথরথর

#বনতুলসী
তোমার গালের অই নীল শিরায় টিকরে পড়া  গোধূলিমগ্ন আলো
ছুঁতে গিয়ে দেখি এক এক করে স্বনির্মিত দেয়াল জেগে উঠছে
ডিঙোতে চেয়েছি যতবার, দ্বিধাথরথর ইচ্ছে আমাকে  জ্বর-আতুর করে...
.........
অবশবৃষ্টি

#বনতুলসী
এই বৃষ্টিতে চাল ফুঁড়ে ঝরে পড়ে অস্বস্তি
গৃহস্থ নাবিকেরা ঢেউ ডিঙোয়,
নাছোড় কবি রা ঝর্ণা কলমে বৃষ্টি কে জনপ্রিয় করে..
.......
আত্মসাৎ এর ঘোড়াগুলি

১। 
প্রগাঢ় যৌনতা থেকে এইমাত্র ফিরে এলাম
স্বাদু শব্দ থেকে জেগে যে পথের মালিন্য রাখি
                                           
অপৌরোহিত্যে
কার মিলন চেয়ে চেয়ে শেষে সেই বৃষ্টিস্নাত
টকে যাওয়া অযৌন মোহ    
আর ভালো লাগে না বৈপরীত্য
যেন কিছু সবুর চাইছে , বসবো ভাবলেই মাত্রিকতা 
এ উঠোনের সবই দিকে দিক এঁকে এঁকে
দৌড়ে চলে যাচ্ছে আমার বসতবাড়ি
ঘুমের আরস্‌ পেরিয়ে দেখে নিচ্ছে , চোখের চলাফেরা 
                                           
২ ।    
সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে শেষে তুমি ও দাঁড়ালে সিঁড়িতে
                                                    
দস্তুর
এ হওয়ার কথা ছিল না
হাওয়ারা উল্টো বইবে বলে পাল তুলে নিল যদিও বোকারাই
তারাই আবার সেয়ানা আতরের মতো
বদবুঁ ছড়াল পথে পথে... 
আর আমরা ভুল করে ফাঁদে পা দিয়ে 
                                   
গ্লাস-নস্ত্‌ 
পা খুঁজতে থাকলাম 
আর এই আমাদের গৃহস্থ নাবিকেরা
ব্লেড কে ভাবল সমুদ্র
আর চোখ কে ভাবল নুন 
৩।
যে আয়নায় কোন প্রতিবিম্ব হয় না
তাকে লুকিয়ে রাখছো আবডালে
বলছো , ফেরারিরা কখনও ঘর খুঁজে পায়না কোথাও 
যেন তোমার তীক্ষ্ণ ঠোঁটের চঞ্চূ থেকে
বাসারা হারিয়ে গেছে হাওয়াদের উপত্যকায়
আর তারাও জানালো না
তুমি  কি অভিনয়ে ছড়াচ্ছ মিথ্যে রোদ
৪।
চোখের আড়াআড়ি যে সুবাতাস চলে
                                     
যায়
                                        
বৈশাখী
অপরূপ, কইমাছের ঝাঁক যে রকম অপেক্ষা করে
                                          
কালবৈশাখীর 
ছেড়ে যাওয়া গো- খুরে আটকে যায়
যে সংস্থান চাওয়া জল
তারা আবার নিয়তি না
রীতি মেনে আমাকে পরাতে চায় জলের শিকল 
এসো হে বৈশাখ , ছদ্ম গাম্ভীর্যে 
৫। 
দখিনের বারান্দা থেকে শুধু দখিনের হাওয়ারা আসে না
এই বলে ভানে ভুল রেখে গেল যারা
তাদের জানার পরিধি নিয়ে সীমাহীন যতো তর্ক খসাই
আমি পথ ভুলে ঠিক ভাবি 
রাস্তার যাওয়ার একটা পথ ছিল । 
৬। 
যে আগুন থেকে তুমি উঠে এসো
তুমি তার অস্পৃশ্য হে , আমি  
আগাগোড়া ভান করে জিইয়ে আছি ।
.......
কাব্যে রেটিনা
    

               
দৃষ্টির মৃত্যু দেখতে পাচ্ছে না কেউ 
হাতছানি দিতে দিতে যেন হয়রান গালিব
তার শিস-জখম জুড়ে নেমে আসছে ইন্তেখা্‌ব 
আর এইখানে
 
  
টা 
না  
একটা না
আমাকে ভুত আর দেখা চিৎকৃত করছে
..................
আয়োজন 

১।
তাদের হাতের কাছে মোয়া নিয়ে যায় বেহায়া উঠোন 
যে ফিরে আসছে তাকে তার গন্তব্য চেনাতে যেও না ,
                                                 
অকালকুসুম
তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি রোদ ,আর সে চলে আসছে ছায়ায় ছায়ায়
গুন গুন পুড়ে পুড়ে শেষে আমাকে ও পুড়ায়, নাভি  
২।
বেদনার স্মৃতিঘাম থেকে এই ফিরে আসছি
এতক্ষণের পাওয়া এক মুষ্টি শূন্য আর ঝুলি
তবু ও তার যাওয়া ছিল যেভাবে ফিরে এলাম
মুগ্ধতা ছড়িয়ে ছড়িয়ে কলরোল
এই দু আনার জন্য অন্নপূর্ণা ,সখেদে... 
৩।
সারাৎসার জুড়ে ঘনিয়ে এসেছে মিতব্যয়িতা  
এই দৃশ্যে সাজিয়েছি ধী 
গ্রস্ততায় জরা নেমে এলো প্রস্তরে ও 
............
সান্ধ্য 

১।
তোমার আয়ুষ্কাল ভাঙে যদি ভাঙুক না
হৃদয়ে গা উগলানো পৈতের কাছে
কার ঘোড়া গুলি বেঁধে রাখি
বিকৃত- বি-কল্পনায়
বেদনার শিশির থেকে ঝরে যায়
সন্ধ্যার রতিঘাম
   
২।
এইমাত্র প্রেমপত্র ছিঁড়ে এলাম
আহ্‌...,মৃগনাভির গন্ধ !  
৩।
ব্যস্ততম রাস্তার পাশে পড়ে থাকে রোজকার বাহানা
হুসপাইপে জল দিতে দিতে মিতুঁয়া হচ্ছে রোদ 
শেষপর্যন্ত ,তোমাকে সমূহ ত্রি -সন্ধ্যা  দিচ্ছি  
আর গুণ যোগ হয়ে ডালপালা ছড়ালো ,ধূসর  
একটা বিকেল চুপিচুপি বলে গ্যালো
শহর নেমে আসবে সন্ধ্যাগমে 
যে যাম ছুঁয়ে দিচ্ছে ফুরিয়ে দিচ্ছে আয়ুর সকাল আয়ুর সকাল  
স্নেহের বিষাদ লেগে যাচ্ছে তার ভাঙাচোরা সম্পর্কে
.........
একটি হাসির গল্প 

বিরক্তিকর আঙ্গুলে ভরে যাচ্ছে -
শশার বাগান
বাজার থেকে ফিরে কুলকুচি করে
কামড়াই নুন ভরা প্লেট...
.........
বাজে কড়চা ১ 

ও কার কথা লিখতে থাকবো 
বলো বীর , কাপুরুষ
স্ত্রৈণের ভালোবাসা ঘেয়ো কুকুর
তারপর বেদনাহত কলম , রাখছি  পৈতের হাতে
পৈতে , সামাজিকতার নান্দীমুখ নিয়ে উলুধ্বনি দাও
দিতে থাকো , ও বাব্বা ,
   
বড় বেশি বেশরম হাওয়া
   
উড়াচ্ছি , উড়াচ্ছি ?
........
ক্যাম্পফায়ার 


শরীরে সহবাস নিয়ে শুয়ে আছে নাগরদোলা 
মোচ্ছবে দাঁড়াচ্ছে না কহি মুসাফির 
আবদ্ধ ঢেউ তার প্রতিভা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতে পাচ্ছে
এক জুঠা শিকারি তার না থাকা ছড়িয়ে ছড়িয়ে এগোচ্ছে 
.......
গালিব 

If u r married divorce speed
                                 (
যেন একটি হাইওয়ে প্রবাদ)   
গতিহীনতার টি-শার্ট পরালাম
এই তো হাওয়াপাগলা সময়
ফেরত পাঠাচ্ছে সকাশ 
দখিনে ধরা আছে আঙ্গুলাংশ   
ভ্রমিত বেলায় 
তীব্রতাই ভালোবাসা হচ্ছে না এখনও 
......




যে স্বপ্নের আত্মা আছে

একদিন আমার স্বপ্নেরা এসে শিলচর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরবে বইমেলার
আর বড়োল্যান্ডের মাটি কামড়ে ছুটে যাবে ভাষাশহিদ এক্সপ্রেস
ঠিক ততদিন পর্যন্ত আগলে রাখবো মায়াবী হাসিশ...
গালিব হেসে উঠলে গুলজারের শেরে স্নাত হবে শিলচর বিশ্ববিদ্যালয়
আর আমি ? আমি সেই বেহায়া কামিজ
প্রতিমা পাণ্ডে বরুয়ার গানে জিইয়ে রাখবে আমাদের সফেদ সন্ত্রাস
ঠিক ততদিন পর্যন্ত  অপেক্ষা করো হে ,প্রিয় মরফিন, কবিতারা আর স্নেহসকল
......
এফিটাফ

Without malice to anybody
Without hurting anyone
With tongues held right
Let me live
Like a child
A three-month old (Irom Sharmila Chanu 2010:
1-6)
তোমার আসবাব থেকে যে ধুলো খসে যাচ্ছে
তার দেহ হোক জ্বলে উঠুক ভ্রু
পবিত্র পাপ থেকে নিউজ রিলে হোক
আদমসুমারি তে এইবার ঠিক কমিয়ে দেবো
আদিবাসী ,পড়্শন
লাস্ট গেটে ধর্না দেবো মৃতদেহরা স্বাধীন হোক
বিবিকে বলবো আমদানি কমতি নেহি
মেয়েকে ভর্তি করে দাও ঝুমুর  গানে
......




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন