.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

বুধবার, ২৪ মে, ২০১৭

সুমন পাটারী ৫৬ টি কবিতা




 ।। সুমন পাটারী।। 
ব্লগপোষ্ট: +Rajesh Chandra Debnath 



























।। বসন্ত উৎসব ।।

ধূসর উপত্যকায় বসে
আছি
কোনো সমাজ চ্যুত প্রাণীর মতো।
চারিদিকে সবুজ বন বাদামি হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ
ঝরা শুরু করেছে ইতিমধ্যেই দু-একটা।
আস্তে আস্তে পাতা শূন্য হয়েছে যাচ্ছে সব ডাল
এভাবেই পুরো পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যায়।
গোধূলি বেলায় কিছু ভ্রমর ছুটে আসে
দু-একটা ঝরা পাতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরে
বাতাসে,
খবর ছড়ায় গ্রাম হতে গ্রামান্তরে।
মাটি মহান, আশ্রয় দেয় পাতাদের
বুকে লুকায় নির্মম মৃত্যুর ইতিহাস।
পরদিন ভোরে পত্রভুক পতঙ্গরা
শহরজুড়ে পালন করে নব বসন্ত উৎসব !!
..............
।। বিবাহ সভায় ।।

বুনোপথের বুক চিরে
আমরা ছুটে চলি বিবাহসভায়,
বনগন্ধে মাতাল বাতাস,
আনমনা রোমহর্ষক ছোঁয়া.....
এভাবেই ফুল ছোঁয়া অবচেতনে
একে আমরা বিবাহ সভায়.....
দাগহীন পূর্ণিমা প্রকাশিত সাজানো আসরে।
মানুষদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে
উপহারের বাহারি আসবাব গুলিই শুধু
বিরহের বোবা সুরে কাঁদছে....
............
।। অসময় ।।

সব ভৌম জল উবে গেছে খরতাপে
গাছের পাতা ঝরে পড়ছে মাটিতে,
বাতাসে,
পাতার শিরশির চলন শব্দ,
বুকভাঙা চৈত্রের কান্না
চাতকের কঙ্কাল নদীচরে,
এ কেমন দিন এসেছে,
সব জল উবে গেছে খরতাপে.....
.............
।। বোবাগান ।।

এতো গাছ পথে,
সবুজ পাতা ছাদ
তবু ছায়া পেলাম কই?
এতো মেঘ আকাশে,
তবু মাটির বুকে ফাটল,
তৃষ্ণা মিটলো কই?
অরণ্যাবৃত পাহাড়,
কলকল ঝর্ণা
সমতলে শান্ত স্রোত
পলি গেলো কই
ফসল উঠলো কই?
জল বাতাস আছে
আছে অধিকারের নামাবলী
 
তবু মুক্ত হলাম কই?
নাগরিক সত্যে উপজাতি জাতি
নাগরিক হলাম কই!
..............
।। সার্কাস ।।

অনেকটা পথ হেঁটে আসার পর
গ্রাম অনেক দূরে তখন,
শহর মুখো পথ, বিজ্ঞাপন বোঝাই গাড়ি,
ঈশ্বরের রঙিন কাপড়,
বিধবা-চাদরে ঢাকা আকাশ ।
একদল শরণার্থী রাজকীয় কণ্ঠে ভিক্ষা করে,
একজন রাজা হরিরনাম প্রচার করে,
একজন সন্ন্যাসী বিবাহসভায় রাজনীতির ভাষণ দেয়।
একজন মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী
সারারাত বসে খবরের চ্যানেলে সার্কাস দেখে...!
.............
।। যাপন।।

বাবা মায়ের বিছানা ছেড়ে সন্তর্পণে উঠে যান
গোধূলিতে,
তার বলিষ্ঠ উদোম ঊর্ধ্বাঙ্গে
শীতকাঁটা,
ধানের খোঁজে ফিরবেন বাড়ি বাড়ি,
গাছ কেটে পাথর ভেঙে ধান বানাবেন।
মাঘে আম্রমুকুল
গ্রীষ্মদুপুরে পাঠশালা পলাতক
দরজার ছালা ভিজে যায়
  লালায়।
মা উঠোন ঝাড় দেয় বার বার,
এসে জড়ো হয় তবু
সাদা পাতা সবুজ পাতা নানা পাতা,
সব পাতা গুলু কোনো অদৃশ্য বাতাসে উড়ে
আমি চুপচাপ দেখি বাবার পথ--
সন্ধ্যায় বাবা ফিরে আসে
মা ধার করে আনে জ্যোৎস্না, গ্রাম বাতাস,
তারপর তারা বসে গল্প করে,
পাথর ভাঙার গল্প,
গলির আঁধারে জোনাকির গল্প,
চুলোয় জ্বলে শুকনো ডাল
জলভর্তি হাঁড়ি।
মধ্যরাতে তুফান আসে,
বাবা চিৎকার করে তখন
অশ্লীল গালাগাল দিচ্ছে ভাতকে
আর মা মাটি-গোবর প্রলেপ দিচ্ছে ধান আঁচড়ে.....
............
।। বিবাহ ।।

তাদের বিয়ে হয়েছিলো,
লাশকান্না কেঁদেছিলো গাছপালা,
বিচ্ছেদ দূরত্বে টিভি ফ্রিজ আর ওয়াশিং মেশিন।
এখন মেয়েটি ভিনগ্রহে
ক্রুশ বিদ্ধ করেছে হাত পা,
একে একে স্বামী টেনে টেনে খুলছে
তার শাড়ি সায়া ব্লাউজ--
তারপর চাষের সময়,
লাঙলের ফলায় ফলায় গরম বীর্য পুঁতে
স্প্রে করে সায়ানাইট কীটনাশক,
মেয়েটির গায়ে লেগে থাকে বংশপ্রসবের দায়,
যান্ত্রিক প্রেম আর পরিচিত ধর্ষণ।
...........
।। নিষিদ্ধ বন ।।

এই খরাদীর্ণ মহুরির স্রোত,
পলিহীন বালুচর, শুকনো তরমুজ, কুমড়ো,
এই ধানের কাঠ, এই পাথুরে আলু,
তুমি একদিন ঠিক জানবে জানালার থেকে দূরে অতিকায় হিজল,
কেন নিষিদ্ধ সেই সরল বন!
তুমি জানবে সেখানে ঝুলছে এখনো মাংস ভুক দড়ি--
তুমি জানবে
পৃথিবীর ঈশ্বর কে খুন
  করেনি তারা ,
ঈশ্বর নিজেই খুনি,
তুমি জানবে সোনালি খোসার ভিতর
কেমন কালো ছিলো চাল!
আগামী তুমি জানবে
এই মাটি নিঃস্ব হয়েছে দিতে দিতে ,
নিতে নিতে গভীরে চলে গেছে তারা,
তুমি ঠিক জানবে, কেন ঝুলছে এতগুলো দড়ি,
কেন এই হিজলতল এখনো নিষিদ্ধ বন!
..........
।। ক্ষুধা ।।

অতন্দ্র জ্যোৎস্না চাদর সরে গেলে,
ভোরের প্রথম পাখি ডাকে,
তার মৃত্যু কামনা করছি পিশাচের মতো
ভাবছি কতোইনা স্বাদ হবে ওর নরম মাংস,
হাড়, পালক,
লবণ জলে সেঁকে নিলেই
সবটুকু নিভে যাবে আগুন....
..............
।। মাংসের ঘরে আগুন ।।

সারা পৃথিবীর সব অন্ধকার ঘনীভূত হয়ে
জমে গেছে আমার চোখে।
জমাট রক্তের মতো ভয়াল রাত,
কালো প্রাচীরে ঠেস দিয়ে বসে আছি,
অদৃশ্য
  সব,
আমি ধান দেখিনা, দেখিনা ভাতের হাঁড়ি,
বন দেখিনা , রবি ক্ষেত দেখিনা
দেখিনা বনজ মানুষ।
জল নেই নদী নেই, পৃথিবী নেই,
হাজার মাইলের শুধু অন্ধকার।
আমি অপেক্ষায় বসেছি পৃথিবীর নির্জনতম স্টেশনে
ট্রেন আসবে নিয়ে যাবে,
যেখানে ধান আর ধান...
যেখানে কেউ ঘুমায় না
মাংসের ঘরে আগুন দিয়ে।
...............
।। বৃষ্টির পর ।।

আলুদিন শেষ, সকালেই প্রথম বৃষ্টি হলো,
কিছু মাটির স্থানান্তরণে অদ্ভুত ভাবে ভরে গেলো ক্ষত,
ডি.ডি.টি. আর পটাশ ইউরিউয়ার বিষ।
আবার এসেছি বাবা হতে,
কেমন হেসে উঠছে নরম মাটি, লজ্জাবতী লতা,
হলুদ কুমড়ো ফুল।
আবার কোদাল হতে বুক চষবো,
ট্রাক্টর চালিয়ে উল্টে পাল্টে দেবো প্রাচীন ব্যথা,
গর্ভে ধরবো অকৃতজ্ঞ সন্তান,
মৃত্যুর জন্য আবার প্রস্তুতি নেবো।
...............
।। মাটি ।।


দিনরাত আমার ভিতর জেগে থাকে
আমার তিন পুরুষের ক্ষুধা,
প্রপিতামহের দুটি শাখা, পিতামহদের আটটি,
আমার পিতার এক আমি,
এই পুরুষ ক্রমিক চলে আসা ক্ষুধা
মাটি কখনোই দিতে পারেনি জল,
নদীতে পলি ছিলো, ফসলে স্বপ্ন,
চাষাবাদের এই তিনপুরুষ মাটির ঘরেই থাকি।
আমরা চাষা, ঘাম-সেচে মাটিকে আলু করি কিংবা ধান,
অবশেষে একদিন আবার মাটি হয়....
এভাবেই আমরা তিনপুরুষ মাটি।
...............
।। বনস্পতি ।।

জঙ্গলের বিস্তার অনেক গভীরে,
তপোবন দৃশ্যে তরুণ পাখিরা একে একে উড়ে আসে,
পালক পাতায় দাঁড়িয়ে প্রাজ্ঞরা আকাশ দেখে,
মেঘ বৃষ্টি বাতাস কিনে।
মহীরুহের ছায়ায় অপুষ্টি আক্রান্ত চারাগুলো
দিশাহীনতায় ভোগে।
এরা কেউ আকাশ ছুঁতে পারেনা,
স্থানান্তরণে রক্তবীজ হয় উষ্ণ ছায়ার ফলহীন বনস্পতি।
...............
: ।। মুক্ত মর্গে ।।

এখন বন্ধঘরেই আছে,
পাঁজর ভেঙে একদিন সব বেড়িয়ে আসবে,
যৌনতাময় উল্লাসের সময় একটি রেলফটক ছুটবে বুকে।
সমান্তরালে বয়ে চলা নদী আর মরু
কোন রক্তক্ষরণের অভিশাপ!
কোন প্রজন্ম চুকাবে সমস্ত ঋণ?
একদিন সময়গুলো সব স্পিরিট হবে
মিনিট সেকেন্ড সব পড়ে থাকবে পৃথিবীর মুক্ত মর্গে।
..........
।। মেঘলা বসন্তে ।।

আকাশ-ভাঙা বসন্তে সব রঙধোয়া জল
নদীতে মিশে গেছে,
নদী সব জল নিয়ে চলে গেছে পাতালে।
মেঘলা দুপুরের নির্জন পথে
এক বাউলানির টানটান দোতারায় পক্ষীসুর।
এক স্নিগ্ধ সাদা রাক্ষস
পবিত্র বাতাসে মেখে দিচ্ছে মোহন গন্ধ,
ধারালো বংশীসুর
রোদের আশায় ডানা মেলে বসে থাকা পাখির পালকে
বিন্দু বিন্দু জমা হয় দিন গমনের কুয়াশা...
..............
।। সন্তান ।।

কতো সহজ ভাবে বাবা বলতো
এই গাছটায় জল দাও, যত্ন করো,
সহজ কথাটা বুঝতে পারিনি তখন,
কাঠ কেটে বেট-বল খেলেছি।
এখন প্রাপ্তবয়স্ক আমি,
ভাবি যদি গাছ টা থাকতো,
ফুল হতো ফল হতো,
আর তার ডালে দোলনা ঝুলিয়ে
দোলাতাম আমার সন্তান...
............
।। রঙিন পতাকা ।।


অনেক গুলো পতাকা আমাকে ডাকছে
মাইকের বলিষ্ঠ আওয়াজ আর ঝলমল উজ্জ্বল্যে--
ডানে বামে সামনে পেছনে, রক্তবাহনে,
সন্তান পরিবার সমেত উষ্ণ ছাউনিতে,
তারপর অবসহিষ্ণুতায় কোনো সবুজ বনতটে
বিশাল মহীরুহ,
ফলহীন অতিবেগুনি আলো ছায়া,
আমার ঝাঁঝরা বুকে কলসপত্রী বীজের আগামী চাষ
বিশুদ্ধ সাদার মতো অঙ্কুর।
অনেক গুলো পতাকা আমাকে ডাকে,
নিঙরে নিয়ে রস রঙিন করে পতাকা ।।
................
বাঁশিওয়ালা ।।


যেখানে কেউ কারো নয় 
সেখানেও থাকে রূপকথা,
হাতে বাঁশি, চোখে স্বপ্ন।
ধূসর পানিপথের মাঠ,
মাটিগাড়া সৈনিক,
তিতুন চুক্তির যুদ্ধে--
নিশ্চিন্ত প্রান্তে
সাম্রাজ্যের চিত্রকল্পে বিভোর
এক বাঁশিওয়ালা।
তীক্ষ্ণ মোহন সুরে
সৈনিক ধুয়ে ধুয়ে এগোচ্ছে
রক্তপাতের ব্যথা.....
.........
।। সময় ।।

কি ভীষণ ভাবে কালো হচ্ছে নদীর জল,
অথচ নীল গ্রহ আমাদের,
স্বপ্ন দেখায় যখন শহর
বিপরীতে বাস্তবে সবুজতা মরছে।
এক ঝাঁক স্বাধীনচেতা পাখি
কবে হারিয়ে গেছে
ছাদ থেকে নেমে এসে সূর্য
বার বার বলছে যখন সামাজিক বালিযাপন,
নদীতে নদীতে কালো জলে
মাছের চলছে শুধু অবাধ প্রজনন।
...............
।। সময়ের দিনযাপন ।।

পাহাড়ের নির্জন বুক থেকে
ভেসে আসছে অসহায় উপজাতির গান
জুমহীন সারাদিন ক্লান্ত কেটেছে
ধূসর পাতার অবাক অরণ্যে,
বাঁজা চৈত্রের দিনে কেমন সন্ধ্যা নেমে আসে
ক্লান্ত ষাঁড়ের মতো,
সময় কাটছে ভীষণ অস্থিরতায়,
বাতাসে বাতাসে নষ্ট পরাগের শব,
পালকে কুয়াশা ভরে পাখিরা ফিরে এসেছে ঘরে।
............
।। ছায়া ।।

চক চক বালি রোদ চারিদিকে,
এখানে মরূদ্যান নেই,
বালিয়াড়িতে খাটো হওয়া
তৃষ্ণার্ত শরীরের ছায়া,
অবশেষে নিজের ভেতর ছায়াহীন হয়,
এখানে মহীরুহ ছাদ নেই,
ছায়া নেই,
নিজের ছায়া নিজেকেই তাড়ায় দিনরাত।
..............
।। আমার দেশ ।।

পর্যাপ্ত নাইলন আমদানি করে
যে দেশে বন্ধ রাখা হয় পাট চাষ
চিনির কলে কলে অসহায় কৃষক ধর্না দেয়,
যেখানে কালচে পড়া ধানে বাজারের দরাদরি
আর উদ্বায়ী অসহায় ঘাম
সেই আমার আসমুদ্র ভারতবর্ষ
একমাত্র জালি দেশপ্রেমিক উৎপাদনে প্রথম।
.............
উপহাস ।।

সমব্যথী যুবতী সাংবাদিক,
ঘটনায় ধর্ষণের কথা,
আর সব শ্রোতা অভিবাদন জানাচ্ছে সাংবাদিক কে....!!
.............
।। মুহুরি- 5 ।।

মুহুরি এক জলাবয়ব,
এর কতো বাঁক,
বাঁকে বাঁকে কৃষক জীবন,
ধান-স্বপ্ন, ইক্ষু রস,
সব স্বপ্ন আসলে বিদ্রূপ,
মুহুরির বুকে বালিয়াড়ি,
সুতাশরীরী নারীর মতো হাঁটু ভেঙে চলে,
পিয়াসী কৃষক,
বিবর্তন চ্যুত জীবন্ত ফসিল।
চাষা ছাড়েনা হাল,
মুহুরির সাধ্যাতীত অমৃত স্তন্য---
এই নদী আর কৃষক
ঠিক যেন গঙ্গা আর ভীষ্ম..
............
।। বেনাম স্মারকচিহ্ন ।।

অনেক দূর জল ঘোলা হওয়ার পর
একটি ছোট মাছ লাফিয়ে উঠলো মুহুরির বুকে।
হয়তো নাব্যতাহীনতার কথা,
চড়ের সীমান্তগামী ভাঙা পথের কথা
বলার ছিলো মেঘের নামে।
ছোটমুখ ছোট কথা,
অসীম উড়ালে আকাশের ঘর,
দূর, বহুদূর....
এখন জীর্ণ স্রোত আর ভাঙা পথের ধারে
কিছু বেনাম শহীদ বেদীতে
বছরের একটি দিনে ধুলো ঝেরে প্লাস্টিক ফুল দিয়ে যায়,
দেশপ্রমিক'রা।
..............
।। ধর্ষকের প্রতি ।।

ভোরের শালিকের মতো কিছুক্ষণ চিৎকার করে
তারা যে যার মতো চলে গেছে খাদ্য আর ঘুমের খোঁজে,
কবি ধর্ষণ বিরোধী কবিতা ছেড়ে
আবার ফিরে এসেছে মিনমিনে বুকের ব্যথায়,
অন্যান্য কবিতায়,
থানায় জমেছে আরো ফাইল,
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অন্য ইস্যু পেয়েছে,
ধর্ষিতার চিতার আগুন নিভে গেছে,
তোমাকে আবার ধর্ষণের আমন্ত্রণ রইলো।
.............
।। বাড়াও  হাত ।।

বৃষ্টি জনিত কারণেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, অন্ধকার,
জলের নৃত্যমুদ্রায় দানবীয় ঢেউ উদোম উঠোনে,
হাঁটু জলে ভেসে যায় কাগজের নৌকা,
কিশোরের আয়, আগন্তুক ভাতের হাঁড়ি,
জলমগ্ন মহাসড়কে কুমারী স্বপ্ন ডিঙি বায়,
কলাপাতায় জাহাজ ভাসাবে বলে যে যুবকটি কখনো
মুখস্থ করেছিলো গোটা লাইব্রেরি,
সেই আজ সিলেবাস বদলের আর্জি চাইছে।
একটা বই চাই আজ, যার পাতায় শব্দের মেলা,
ভাতের গোপন রহস্য লিপিবদ্ধ করা আছে,
বধির বৃষ্টি, বাতাসের স্রোত,
শব্দে শব্দে শব্দ প্রতিফলিত হয়ে
আঘাত হানে উৎসে,
এমন অসময়ে একটি কবিতাও আসেনি হাত ধরবে বলে.....
.............
।। ঘরে বাইরে ।।

প্রখর রোদে যখন গা জ্বলতে থাকে
আমি দৌড়ে ঘরের ছায়ায় যাই,
মেঝেতে অন্ধকারের গাঢ় দ্রবণ--
জানালা খুলে দিলেই একটি নদী ঢুকে পড়ে।
ভাতের সাদা রং,
জলের নৃত্যমিছিল, শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখী,
ফটোফ্রেম, বইয়ের তাক, আলনা,
নদীর টানে পাতাল স্রোতে।
পিছনের দরজা দিয়ে বাইরে এলেই,
খোলা মাঠ, মৃত মৃত গাছ,
আর অসংখ্য মৃত্যুদণ্ডের আসামী।
...............
।। অদৃশ্য গণ্ডি ।।

মধ্যাহ্ন ভোজের আরো অনেক পর আমি পড়াতে যাই,
তখন ছাত্রী আমার মাত্র স্কুল ফেরত
ডাগর ডাগর আমার চোখে শুধু পড়ার আদায়ের ক্ষুধা,
তৈলাক্ত বেতকাঠি, আর আমার হিংসুটে গোঁড়ামি।
নত মাথায় ভয় আর ক্লান্তি।
আমার ও আমাদের মতো বোবাযুদ্ধ,
ভিতর ঘরে সীমাবদ্ধ রেখে আমৃত্যু আমরা
সামাজিক স্কুলের ভীতু ছাত্রছাত্রী।
............
।। শুধু আমি জানি ।।

শুধু আমি জানি আর জানে মাটি
কতরাত আমার ঘুম আসেনি চিন্তায়,
আমি ধানের আলে এসে বসেছিলাম অনেক রাত অব্দি।
আমার ঘুম আসেনি যখন পাকা ধান বৃষ্টির হুমকি'তে ছিলো
পূর্ণগর্ভ ছিলো আলুক্ষেতের মাটি,
তখন আকাশে মেঘ থাকায় বেড়ে যেতো বাতাবরণের উষ্ণতা,
আমি ঘুমাতে পারিনি কিছুতেই,
রাতের কলঙ্কহীন পরিবেশে কথা বলেছি ফসলের সাথে,
ওরা আমার অংশ, কেউ ঘাম তো কেউ রক্ত।
আমি ঘুমাতে পারিনি আমার বিপন্নতায়।
শুধু আমি জানি আর আমার ঈশ্বর
মাটির বুকে জন্মে শুধু মাটিকে ভালোবেসে লালন করেছি একে অপরকে।
আমি জানি এই প্রেম শুধু আমার আর মাটির মাঝেই সীমাবদ্ধ
পৃথিবী জানে আদিকাল থেকেই আমার নাম
ধর্ষিত দের শীর্ষ তালিকায়।
...............
।। শূন্যে সাঁতার ।।

রান্নাঘর আর শোবার ঘরের মাঝে
একটি খরস্রোতা নদী প্রবাহিত হয়,
সাঁতরে বিশ্রামে আসার সময়
স্রোতে ভেসে যায় যাবতীয় যুবক কথা।
পূর্বপুরুষের শেষকাঠের ছাই মেখে--
স্নান সেরে উঠে আসি বলিষ্ঠ পুরুষ
বংশানুক্রমিক মাটি ধান লুকোচুরি খেলায়।
...............
।। নদী ।।

ঋতুর প্রতারণায় ছন্দহীন যুবতী বয়স 
বৃষ্টির হার উপচে বাষ্পায়ন,
গলিত কান্না, চাপা দীর্ঘশ্বাস,
আদি-অন্ত মাটি যাপন,
উত্তপ্ত বুক হতে অনবরত বুদ্ বুদ্ হয়ে উঠছে।
সব জল এক দিন আকাশের মেঘ হয়,
ঘরে ঘরে বৃষ্টি উঠে,উঠে সবুজতা,
চাষহীন দের ঘরে ঘরে ফসল ফলে,
সেই নদী আজও ভীষণ ভাবে অনিশ্চিত
সাগর সঙ্গমে......
.............
।। উন্মুক্ত শ্মশান ।।

অবক্ষয়ের পর কিছুদূর আবার ভোর হয়
শিশিরের মতো,
রোদ উঠে জাতীয় সড়কে,
মরীচিকার মতো নদী সাঁতরে চলে
সমান্তরাল দৃষ্টি দূরত্বে।
চারিদিকে উন্মুক্ত নির্জনতা,
এখানে কোনো নির্দিষ্ট শ্মশান নেই,
চলতে চলতে তৈরি হচ্ছে হাজার সমাধি
................
।। স্নান ।।

আমার শুধু চামড়া দেখা যায়,
আর চামড়া ততোটা উজ্জ্বল নয়,
ভিতর ঘর তাই একটি সমুদ্র দ্বীপ,
পরিচয়হীন বন্দর।
আমি গাছ নই তবু গাছ হয়ে থাকি
আমার জল কম, তাই চির পর্ণমোচী
নিজেকে বহির্বিশ্বের মনে হয়--
শুধু কালো চামড়াটা দেখা যায়
তাই বার বার নদীতে স্নান করতে গিয়ে
ফিরে আসি বালি মেখে......
.............
।। পথিক ।।

ফুল-ভোরের শিশির আদর নেই এখন,
ছায়াহীন পথে একলা পথিক
অজানা দূরত্বের বটছায়া খোঁজে।
আমার এক চোখে
অসম্ভব ভাবে থমকে আছে বসন্ত
অপর চোখে খরা।
আকাশে ধ্রুবতারা পথে আমি
অনন্ত বিস্তার পাওয়া আর না পাওয়ার,,,,,,
................
।। শব্দ ।।

কিসের শব্দ শুনি আমি নীরব পথে!
অসমাপ্ত চুম্বন তোমার সাথে
কেন ধুলো উড়ছে পথে,
রঙিন বিকেল আকাশ কেন ধূসর হচ্ছে
তবে কি ফুটবেনা আজ রজনীগন্ধা
এই শহর আরো বিষাক্ত হবে মৎস্য-গন্ধে!
কে হাসে স্বাভাবিক গাছের আড়ালে
কঠিন পথে কার পদশব্দ,
কেন সন্ধ্যা হচ্ছে
এই চুম্বন অসমাপ্ত এখনো-----
...........
।।  বন্ধু ও প্রেমিকা ।।

ঘুমের ভিতর আমি গভীর ভাবে ঘুমিয়ে পড়ি
আমি ঠিক বুঝতে পারি তখন
বুকের উপর যেন একটি পাহাড় এসে বসে
হাত পা নাড়াতে পারিনা, সাঁতার জানি,
অথচ তখন পারিনা,
আমি ডুবতে থাকি আমার প্রতিদিনের হাঁটুজলা স্নানের পুকুরে!
কি অদ্ভুত আমি নিজেকে বাঁচাতে পারিনা!
তখন পাড়ে দাঁড়িয়ে সে দু-জন লোক হাসে
যারা আমাকে হাত ধরে পুকুর পাড়ে এনেছিলো
স্নান সেরে সেজে গুজে নতুন যাত্রার জন্য......
...........
।। দূরত্ব ।।

আমি অন্ধকারে হেঁটে চলি
সরু পথ, দু-ধারে গভীর নিঃশব্দ বন
দানব ঘুড়ির মতো পাতা
ঢেকে রেখেছে জ্যোৎস্না--
স্বজনের মতো নিস্তব্ধ অরণ্য-অন্ধকার
মেঠোপথে সামাজিক খরা--
এপাড় জীবন ওপাড়ে মৃত্যু
মাঝে বিশ্বাসের সলিলধারা....
সব জল উবে যায় অসময়ের তাপে
মৃত বালুচরে হামাগুড়ি দেয় শুধুই নিঃশ্বাস....
..............
।। অনন্ত ।।

মুক্ত আকাশে ছিলো
মেঘে এসে ছবি এঁকেছে
সে যেমনটি হোক।
সবুজ পাতা ছিল
শীত এলো বলে ঝরে গেছে,
তার আগে একবার শিশিরের চুমু পেয়েছিল।
এখনো সব আছে নির্জন দ্বীপে
আমি খুঁজে নিতে পারি আমার মতো।
আমি একা, রিক্ত নই।
জানি মেঘের আড়ালে সূর্য হাসে
কবিতা লিখে যাই গোপন উৎসর্গে।
..............
।। ঘর ।।

বহমানতা ছেড়ে স্থির পথে এখন
ধাপে ধাপে ডুবে যাচ্ছি।
একে একে তুলে আনা প্রথম রাত
গোলাপ শয্যায় শরবিদ্ধ ভিতর ঘর।
বহু দেশের খবরের কাগজ
উজান বাতাসে--
কঠিন সময় বড়ো,
একে একে সব জানালা বন্ধ করে
ঘর হবে আমার ঘর।
..............
খোঁজ ।।

মননের চিত্রল ডানা গোলাপে গোলাপি সুখ
রাতহীন দিনহীন
পদাতিক পথিক ক্লান্তিহীন।
তোমার খোঁজে কত তুমি--
এই শহর আমাকে নিঃস্ব করে ফিরিয়েছে শেষে.....
চাকাপৃষ্টে পলি পাথর
ধুলোচাদরে সমতল প্রাচীন প্রসাদ।
ঈশ্বরের খোঁজে এই মাটি অবয়ব
ঈশ্বর হবে একদিন।
.........
।। আমিষ গন্ধ ।।

সমুদ্রের পারে ঝিনুক কুড়াতে গিয়ে
তোমার সাথে দেখা হয়েছিল।
তখন থেকেই একটি আমিষ-গন্ধ
লেগেই থাকতো আমার নিঃশ্বাসে।
আমাদের এই পথে আনারস বন।
দূর দূর নির্জন আমরা গন্ধ বিনিময়ে মেতে উঠতাম
তোমার মনে আছে?
এখন সেই অভ্যেসেই ঘর ছাড়ি অসময়ে,
এখানে পিছুটান নেই,
শুধু দানবীয় নিঃশ্বাস আর তোমাকে খুন করার চেষ্টা।
আমি রক্তাক্ত হই বার বার।
তুমি হেসে ওঠো সামুদ্রিক উল্লাসে।
...........
।। ভোর হয়ে যায় ।।

ভোর রাতে ঘুম ভেঙে যায় আমার
তারাগুলো শ্মশান যাত্রার কান্না করে
পাথরের মতো জমাট অন্ধকারে
শিউলির শিশিরস্নান।
আমি অপেক্ষা করি শীতল বাতাসে শুয়ে
ধ্রুবতারা সাক্ষী--
আমি তোমার দিকে পা বাড়াতেই
অনন্ত অভিকর্ষপথে,
চোখ খুলে যায়, ভোর হয়ে যায়......
...............
।। এখন সময় ।।

অন্ধকার হয়ে এসেছে চারিদিক,
অরণ্য নীরবতায় জ্বলে উঠেছে জোনাক-বাতি
আমি খোলা রেখেছি আমার জানালা,
তুমি এসো সময় করে, আমার দেওয়া নূপুর পায়ে,
নতুন গুলো খুলে রেখে এসো বাইরে,
জলজ গন্ধে শিউলি ফুটেছে ঘরে,
গোলাপ এনে রাখিনি আজ,
চলবে তো?
এসো তবে আলোক শূন্যতায়,
রঙ ছাড়া দেখবো তোমাকে.....
............
।। রাত ।।

এই মুহূর্তে চৌরাস্তার মোরে ভিড়,
যানজট, কোথাও যাওয়ার পথ নেই,
চারদিকেই
নিজস্ব ছায়ার হাজার কিমি বিস্তৃত মিছিল।
ট্রাফিক জ্যামে আমি একা একা রুদ্ধশ্বাস
আকাশমুখো চোখে বিমান যাত্রী
মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে মেলেছে
রোমান্টিক পালক।
...........
অন্ধকার ।।

তামাকের সাথে অন্ধকার মিশিয়ে
আমি সবটুকু টেনে নিচ্ছি বুকে,
ঘরে তখন একটি সাজানো আমকাঠের চুলা,
জ্বলন্ত মহাকাশ আর মহাজাগতিক পিণ্ড
অন্ধকারের তামাক ধোঁয়ায়
আমার এক প্রলম্বিত ছায়া আরো কালো করছে শরীর।
পৃথিবীর গর্ভে শুকিয়ে গেছে শোণিত-ঝর্না--
শেষে তুমি চির নটী খুলে ধরেছ ধূসর বাদামী পাহাড়....
..........
শুকতারা সময়ে ।।

ধানের গোছার ফাঁকে ফাঁকে জলজ-জ্যোৎস্না
ভাঙা একফালি চাঁদ চোখে লেগে আছে
শুকতারা সময়ে।
কুমারী রোদের দাগ, শুকনো রজনীগন্ধা,
আর লম্বা শ্বাসের সমতল বাতাস,
উষ্ণতা আর নেই কাক-ভোরে।
শান্ত বাতাস--
আমার ভুলে যাওয়া শহর হতে
রোজ রোজ নিয়ে এসো রাতজন্মা নদীচর শিশির ....
.............
ছায়াহীনতার পথে ।।

রঙিন জামা যতো বার কিনে আনি আমি
গায়ে পড়লেই জমে বিন্দু বিন্দু প্রাচীন শ্যাওলা।
সমুদ্রের খোঁজে ছুটে আসা বেদুইন
একসাগর তৃষ্ণা সমুদ্রে।
চাঁদকে বগলদাবা করে
সন্ধ্যা থেকে রাতের দিকে হেঁটে চলেছি অবিরাম,
ক্রমশ খাটো হচ্ছে আমার ছায়া।
...........
শর্তহীন বন্ধুত্ব ।।

তারপর যখন আমি একা থাকার কথা ভাবলাম,
আবার এলো সে,
আমাকেই বোঝাতে লাগলো,
আমিও বুঝলাম অন্ধ হয়ে,
টুকরো গুলি তুলে আবার শুরু করলাম।
ওর ব্যাপারটা একটু আলাদা,
যে ভাবেই ঢাকা দেয় ঢেকে যায়,
অদ্ভুত কৌশল তার চোখের,
এভাবেই বার বার ভাঙা গড়ায়
একদিন সব টুকরো মিহি পলি---
এখন একা থাকার সিদ্ধান্ত নিতে হয় না,
একাই থাকি,
সিগারেটের ছাইগুলো বাবার থেকে লুকিয়ে
জলচোখে মা সরায়,
কথা কম বলে,
এখন ঘরের ভিতর কিছু নিঃশব্দ অন্ধকার
তার সাথেই শর্তহীন বন্ধুত্ব.....
..............
অসীমান্তিক ।।

শেষ নেই শুরু নেই যার
সেই অনন্ত শূন্যের আকাশকে
তুমি নীল সমুদ্র ভাবতে পারো
ভাবতে পারো চাঁদের ঘর,
তারাদের চায়ের আসর।
ধ্রুবতারা সাক্ষী সময়ের।
সেখানেই দূরের একটি ম্লান নক্ষত্র
আমায় ভাবতে পারো,
আমার তুমি
সমূহ নক্ষত্রের অসীমান্তিক আকাশ.....
...........
ইতিহাস ।।

একটু একটু করে ছেড়ে যাচ্ছি এই শহর,
উড়াল পুলের বিলাসী উড্ডয়নে
পুরানো কথারা ছায়ায়,
অগ্রগতির ধুলোয় ঢেকে যাওয়া বনেদী গাছের পাতা,
শিরা উপশিরা হাওড়া,
সব বদলে নিয়েছে এই শহর।
বদলে নিয়েছে নিজেকে,
ভুলে গেছে সবুজ স্বজন,
এই শহরের অলি গলি,
শতাব্দীর দাঁতালো ড্রজারে চাপা পড়া বাড়ি ঘর,
এই শহর মনে রাখেনি
কে কাকে ভালবেসেছিল
প্রতিটি ঋতুতে বসন্ত ডেকে.....
.............
নিরুদ্দেশ ।।

আমি একটানা ছায়াপথে হেঁটে কিছু অন্ধকার পেয়েছি উজানে
আতরের গন্ধমাখা আসন্ন ফাল্গুনে
উৎকণ্ঠিত নীড়ফেরৎ পাখি রাত দিনের ফারাক ভুলে যেখানে ডাকে অনবরত।
ঘাসে ঘাসে হারানো সময় খুঁজে খুঁজে
বিকেলের সোনালী ঘাম
 
ধূসর মেঘের মতো পলকের খুব কাছে জমে গেছে।
অতন্দ্র দেবীরাত, সন্ধ্যার সমাজশয্যা--
তরী নোঙর করে মাঝি নিরুদ্দেশ....
.............
অহেতুক ।।

দিনযাপনের ঘর্মাক্ত কোলাহলে যে পাখিটি
বুকের ভিতর পালকে আগলে রেখেছিলো কুয়াশা
সে নিজের মতো করেই ছিলো,
অহেতুক তাকে ডেকে এনে ওম দেওয়ার দরকার ছিলোনা।
হারানো সময়ের এই অভ্যাস এখন মারণ রোগ।
.............
আদমশুমারি ।।
আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে লুকানো রাত,
শিশিরে ভারাক্রান্ত পলক।
চলে যাওয়া আর ফিরে আসার মাঝে
নিষিদ্ধ ভূমিব্যবস্থা।
এই তুমি সেই আমি উদয় অস্তে সার,
সারিবদ্ধ সবাই বছর বছর
আদমশুমারিতে নাম তুলে
...............
শান পাথর
  ।।

নিজস্ব এক আলাদা পথ আছে।
পথ সবার নয়, সবার হয়।
সূচ্যগ্র তীক্ষ্ণ নির্বাক স্বর।
বলার অনেক থাকে
ভর্তি দোয়াত সঙ্গে।
পথে পথিক থাকে,
মিছিলে নির্বোধ।
শানপাথর নিজের পথে
কথা বলে নিজের মতো।
.........
গোধূলি-বাস ।।
  

প্রথম দিনের উচ্ছ্বাস মাঝ বয়সে ম্লান,
বর্ষা আর খরার মাঝামাঝি নদীর ধারা।
শুরু থেকে শুরু আর হবেনা।
যে তারা গুলো কখনো রাত জাগাতো
আজ আকাশেই তারা মরে যায়।
মাটি ভাত শিকার শিকারি খেলায়
স্বপ্নের এখন গোধূলি-বাস।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন