“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১

নীলিকার প্রতি

 ।। অভীককুমার দে ।।
 
 
 
 
 
 
 
তুমি গভীরতার মতোই স্থির, 
অনুভবের অতলে ডুবে থাকা জল
আমি মাছের মতোই
ভেসে আছি শূন্য বুকে।

তুমি বাতাসের মতোই সচেতন,
পাখির ঝরে পড়া পালক জানে-
দুলে দুলেই নেমে আসতে হয় মাটির কাছে
ভেঙে যাবার কারণ থাকে না কোনো।

তুমি আকাশের মুখে রঙের হাসি
মিশে আছো শরীরবিহীন গায়ে
আনুমানিক চেনা হয়ে যায় পথ
পায়ে পায়ে, শূন্য আমার ঘরে।

তুমি আলোর প্রতিফলন, ছবি
অদৃশ্য থেকে ছুঁয়ে দাও অলিন্দ আমার
রাত দিন জেগে থাকে স্পন্দন
ঘরের কোথাও, ঝুলে আছে ক্যানভাস।

তুমি প্রাণের মতোই প্রিয়
মনের দুয়ার ঠেলে দখল নিতে চায় মেঘ,
চোখের জলচক্র রঙধনু এঁকে দিলে
সব কষ্টই কুয়াশা শিশির বৃষ্টি।

তুমি খামের ভেতর লুকোনো চিঠি
স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে ভেতরে জেগে
আমাকেই জড়িয়ে থাকো
দূরপথ হেঁটে যাও একসাথে।

তুমি দৃষ্টির মতোই সুন্দর
ধ্যানস্থ বিন্দু জানে, চোখের মণি কালো
আমি জল লুকানো ভেতর নদী 
মাটির জন্য উল্টো দিক ভেসে।


কোন মন্তব্য নেই: