.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৭

গুচ্ছ কবিতা


(C)Image:ছবি









।। রফিক উদ্দিন লস্কর ।।

(১)
          ~কবে হবো মানুষ~


বে হবো মানুষ আমি, বিধি তুমি দয়াময়,
এই জগতে সবাই দেখি কেও কারো নয়।
অহিংসা পরম ধর্ম,এখন তা কয়জনে মানে?
সুযোগ বুঝে সাদা মনে বজ্রের মতো হানে।
আমি ভালোবাসি, মানুষ আমায় করে ঘৃণা,
হিংসে করে অহরহ ফুস ফুঁসিয়ে তার ফণা।
মানুষকে ভালোবাসা, সেটাই কি অপরাধ?
পাইনি আমি মা-বাবা,মিটেনি মনের স্বাদ।
এই জগতে এখন আমার দুঃখ নিয়ে বাস,
মনের এতই যন্ত্রণা, কোথায় করি প্রকাশ।
বুদ্ধির খোঁচায় বোকা বানায়,মানুষ বারবার,
সবাই শুনায় নীতিকথা, সময় নেই আমার!
আধুনিকতার যুগে এসে চাইনি পিছন দিকে,
বর্বরতার জন্ম আজো, কেমনে নেবো শিখে।
মানুষ রূপে জন্ম লভি, আমার অঙ্গশোভা নাই,
এই জগতে কখন কবে, আমি মানুষ হবো ভাই।

১৭/০৩/২০১৭ইং


(২)      
         আমার ইচ্ছে
 
মি বীর, মহাবীর, নত হবে না শির
দাঁড়িয়ে থাকে যদি ঐ চীনের প্রাচীর।
আমি করিনা ভয়, আমার অকুতোভয়!
জীবন যুদ্ধে নাহিক আমার কভু পরাজয়।
আমি সত্যের পথে, নরের হিতাহিতে,
থাকি সদা জাগ্রত, নিজেকে দিতে।
আমি খুলে রেখেছি আমার  হৃদয়ের দ্বার,
এসো এসো সাঁতরিয়ে শোক পারাবার।
আমি সাজিয়ে রেখেছি আজ পুষ্পরথ,
হইবে সোয়ার নির্দ্বিধায়, রাখিয়া হিম্মত।
আমি তুমার তরে মঙ্গলদীপ রেখেছি জ্বেলে,
চলে এসো চলে এসো আঁধারকে ঠেলে।
আমি মুছে দিতে চাই সমাজের ভেদাভেদ জ্ঞান,
কাঁধে কাঁধ মেলাতে চাই, বাঁচাতে মোদের সম্মান।
আমি করিতে চাই আমার ইচ্ছে পূরণ....
মিলেমিশে গড়িতে এক সুন্দর ভুবন।।
তাং-০৩/০৩/২০১৭ ইং


(৩)
              ফাগুনে আগুন


বাতাসে ভাসে আজি কত সুঘ্রাণ,
প্রকৃতির মাঝে এল নবীনের প্রাণ।
আম্র মুকুল পরে কতো ভোমরা,
মধুপানে লেগে থাকে অবিরত তারা।
ফাগুনে ফুটেছে ফুল বন আলো করে,
পলাশ শিমুল শাখে পাখি গান ধরে।
বাতাসে দোল খায় কত কিশলয়,
তাই দেখে জনমনে লাগে বুঝি জয়।
আকাশে নেইকো আজ মেঘের ছায়া,
প্রকৃতি সিনান করে রোদ মাখিয়া।
আজি মাটি করে খা-খা রবির করে,
পিপাসায় বুক ফাটে বাদলের তরে।
ভনভন করে বায়ু সদায় বহে,
পিপাসার যন্ত্রণা কতদিন সহে।
বসে বসে ভাবি আমি বসন্তের দিনে,
দোলা কভু লাগবে সবুজের প্রাণে।
.
০২/০৩/২০১৭ইং


(৪)
         নারী

নারী তুমি মায়ের জাতি, তুমি আমিনা
খোদার পরে তোমার আসন ,তুমি অনন্যা।
তুমি হলে দ্রৌপদী আর তুমি অহল্যা,,,
তুমি তো সেই খাদিজা আর তুমি কৌশল্যা।
তোমার কাছে রয়েছে যে ভালোবাসার ভাণ্ডার,
তুমি হলে নরপশুর কাম বাসনার শিকার।
নারী তুমি সমাজ গড়ার মুখ্য কারিগর,
তোমার থেকে জন্ম নিলো হাজার হাজার নর।
ধন্য হলো নরকুল তোমার পরশ পেয়ে,
জ্বালিয়ে গেলো বিজয় মশাল তোমার শপথ নিয়ে।
তুমি হলে সতী নারী,তুমি অপরাজিতা
তোমার মাঝে রয়েছে শত সহন ক্ষমতা।
যেথায় আছো যেমন করে তোমায় করি সম্মান,
তুমি হলে এই জগতের শ্রেষ্ঠ উপাদান।।


০৮/০৩/২০১৭ইং

(৫)
        আমি আমার নয়

মি আমার নয়,মানুষেরই জন্য
পরহিতে লাগি যদি,জীবন হবে ধন্য।
দুঃখী দেখলে দুঃখ লাগে, চোখে আসে জল
কষ্ট করে অশ্রু রাখি বাড়িয়ে মনোবল।
চলার পথে চলতে থাকি,মনে থাকে ভাবনা
দুঃখীরা কি এ জীবনে সুখের দেখা পাবেনা।
রক্ত মাংসের একই মানুষ, হিংসা কেনো করে
কেউবা খাচ্ছে পেট পুরে, কেউবা অর্ধাহারে।
আজব দেশের আজব মানুষ নেইকো মানবতা
বিত্তলোভী দাপিয়ে বেড়ায় দেখায় ক্ষমতা।
এসব দেখে আমার মনে নানা কথা আসে
দীনেরা আজ মরছে বুঝি বিত্তবানের গ্রাসে।
১লা মার্চ ২০১৭ ইং

(৬)
     আমি মানুষ
মি হিন্দু,আমি মুসলিম, আমি খৃষ্টান..
আমার রক্তে লোহিতকণা,আমি আদম সন্তান।
আমি করি পূজা, আমি রাখি রোজা, প্রার্থনা করি..
আমার গ্রন্থ কোরান, আমার গ্রন্থ পুরাণ, ইঞ্জিল পড়ি।
আমি মহামানব, তাড়াই দানব, বিশ্ব করি জয়,
আমরা ভাই-ভাই, কোন ভয় নাই, আমরা নির্ভয়।
আমি করিনা দ্বন্দ্ব, মিলাই স্কন্ধ, চলি বহুদূর...
আমরা আপন, যত জনগণ, কণ্ঠে বাজে সুর।
আমি করিনা অন্যায়, স্বার্থের দায়, করি প্রতিবাদ..
আমার কাজ, আমার স্বরাজ, করবোনা বরবাদ।
আমি মন্দির চলি, মসজিদ চলি, গির্জায় যাই..
আমার দেবতা, অশেষ ক্ষমতা, তাতে খুঁজে পাই।
আমি চলি শ্মশান, চলি গোরস্থান, দেহের ব্যবধান!
আমার আত্মা,দেবে না পাত্তা, চলে যাবে আসমান।

১৭/০২/২০১৭ ইং


(৭)
   অসহায় বসুন্ধরা

বিশ্বে রয়েছে জুড়ে কতো
হত্যা, রক্ত ও আর্তনাদ!
ধূলার আসনে পেতেছে মানুষ
মরণ নামের ভয়াল ফাঁদ।
মারামারি শহরে,না হয় নগরে,                              
গোলাগুলি  চলে, বোমা ফাটে
কতো নিরীহ মানুষের ভিড়ে।
হত্যা চলে কতো বাড়িতে,
খুন, লুটপাট রাস্তার গাড়িতে।                                               
মানুষ হয়েছে হিংসায় উন্মত্ত,
নিতে প্রাণ, রক্ত না হয় বিত্ত।    
কতো তাণ্ডব চলে জিঘাংসায়
মত্ত রয়েছ খুনাখুনি ও হিংসায়।
মানব দানব আজ চেনা বড় দায়,
সুন্দর বসুন্ধরা বড়ো অসহায়।
২৬/০৩/২০১৭ইং                


(৮)
                    ভালোবাসি মা

তদিন হলো মাগো হয়নি দেখা তোমার মুখ,
তোমার কথা মনে করে অশ্রু ঝরায় দু'টি চোখ।
তুমি তো আজ আমার  থেকে আছো বহু দূরে,
মনটা আমার তোমার তরে সব সময়ই পুড়ে ।
মাগো তোমার হাজার স্মৃতি এ বুকেতে  গাঁথা,
সকাল দুপুর নিশি রাতে বাড়ায় আমার ব্যথা ।
তুমি তো মা বিরাজিত  আমার আঁখি কোনে ।
সব সময়ই তুমি তো মা পড়ো আমার মনে।
ভাসিয়ে উঠে মুখটি তব আমার আঁখি তারায়,
মন  আমার বিলীন হয় তোমার ভালোবাসায়।
মনে পড়ে মাগো তোমায় খুব খুব মনে পড়ে,
তোমার জন্য ব্যথায় আমার এ বুকটা ভরে ।
বুকটা আমার তোমার তরে করে হাহাকার,
নীরবে -নিভৃতে কাঁদি, মা স্মরিয়ে বারবার ।
ভালো থেকো সুখে থাকো, দোয়া করি আমি
ভালোবাসি মাগো তোমায়, বেঁচে থাকো তুমি।


২৭/০৩ /২০১৭ ইং
(৯)
             খোঁজ

ন্ধু, ওই পারেতে তুমি থাকো
আর এই পারেতে আমি,
মাঝখানে কুশিয়ারা নদী
যার ঢেউয়েতে মাতলামি।
নদীর এ পারেতে বসে আমি
অশ্রু ঝরাই প্রতি রোজ,
স্মৃতিকথায় ভর করিয়ে ও
নেওনা তুমি আমার খোঁজ।
বন্ধু,ও পারেতে  নিজে একা
মত্ত রইলে নিজের কাজে,
কত রকম জোয়ার ভাটা
দেখলাম শুধু আমার মাঝে।
নদীর জলে শিতান  দিয়ে
ঘুমিয়ে পড়ে চন্দ্র তারা,
তোমার দিকে চাইয়া জাগি
আমি হইয়া তন্দ্রা হারা।

২৫/০৩/২০১৭ ইং

(১০)
               ওরা আসবে
        
জানি ওরা আসবে যতই করিনা বারণ,
ওদেরকে কখনও আমি দেইনি নিমন্ত্রণ।
একজনে মন নিয়ে সাজাবে তার জীবন,
অন্য জন চলে এসে প্রাণ করবে হরণ।
ওরা দুই অতিথি, সবারই ভালো জানা,
কখনো ছাড়বেনা যতই করোনা মানা।
ওরা দুই জন সত্যি সত্যি বড়ই অদ্ভুত,
মনের মানুষ আর অন্য হলো যমদূত।
হাসিকান্নার পৃথিবীতে থাকবো ক'দিন,
লাল সাদা দুই রঙ মিলে হবে রঙিন।
খুশি হবে মনের মানুষের শুভ আগমনে,
বিষণ্ণতা দেখা দিবে শেষ শমনের পরে।
মায়ার পৃথিবীতে কখনো করিনা স্মরণ,
মোরে প্রতি পদে মনে রাখে ওরা দুইজন।


৩১/০৩/২০১৭ ইং
হাইলাকান্দি,আসাম(ভারত)




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন