.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

দীর্ঘ কবিতা ...এক

।। চিরশ্রী দেবনাথ।।

(C)Image:ছবি












ক প্রবল আলো এসেছিল, অবিশ্বাসী, ধুলোময়
আমাকে বলতে এসেছিল, আমি আছি, বিস্ফোরণে
আলোর মধ্যে দিয়ে গেলাম, লতানো নাগরিক সত্ত্বা
কেঁদেছিল করাতের বুক, তবে কি তারও আছে হৃদয়
থমকে দাঁড়ালো মিছিল, মুখ নিচু করা অবয়ব
পাথর ভেঙেছে যারা, তাদের হাতে ফুটেছে জীর্ণগ্রন্থ
একটি পৃষ্ঠায় ঋতু ঝরে, অপর পৃষ্ঠায় বিকৃতি
প্রতিপালিত দাম্পত্যের মতো অভ্যস্ত রাতচূর্ণ
কখনো নির্নিমেষ তাকানো হয় না, গ্রীবাতেই পতন
সব ফিরে আসা যদি ভুলপথে ঘুরিয়ে দেওয়া যেতো
যেমন করে আকাশভর্তি নিম্নচাপ ভুলে যায়
নির্দিষ্ট সীমান্ত,
উচ্ছিষ্ট বস্তি হাসি ছড়ায় সাগর কিনারে,
অন্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াচ টাওয়ার
একবার যে চলে যায়, সে পায় বিরহের ঠিকানা
কত দুরন্ত বৃষ্টিতে লেখা হয়
  ছাতা ভাগ করার গল্প
পুরোনো কথারা বেড়াতে আসে ঝিনুকের দোকানে
নিঃশব্দ বসবাস তাদেরও ছিল শক্ত ডানার নীচে
যেদিন থেকে ছড়ালো তারা অভিমানের বাজারদর
কেমন অনভিজাত ময়লা রঙ, গ্রাস করছে শ্বেত মুখ তার
আত্মগত হবার আগে ছেয়ে  যায় ধূপগাছে ভরা পাহাড়ি জনপদ
আগুনের গল্প শোনেনি তারা শুধু ভাপে জ্বেলেছে নবান্ন
পিঠে পাতে ভুলে যায় চাঁদশিশু , তার হাতে আছে পূর্বজন্মের নারী ও অস্ত্র
এতটা সরল জলও কখনো হয়নি, অন্তরে রেখেছে শৈবাল ষড়যন্ত্র
এখানে হাজার হাজার মিথ্যার বারংবার চাষাবাদ
মেঘলা দিনে কালো ফসল জাগিয়ে রাখে
প্রতিহিংসার গুচ্ছ গুচ্ছ শীষ
হৃদয়ের কথা লিখতে পারা দেবদূত রেখে দেয় কলম
ঝকঝকে সবুজ ছুরিতে সে অগ্রন্থিত সময় কাটে
সাদা পাতায় অবিশ্রান্ত বিরোধ আঁকে
মৃত্যুর কাছে থেমে থাকা তরুণী হাসতে থাকে
কত অপমানে অবশেষে সে সোনা হচ্ছে, জ্বলছে প্রদীপের মতো
অসমাপ্ত দীর্ঘ স্তবকের সেগুনবাগিচার ছায়াঘন আশ্রয়
যে সুরে বিউগল বাজে, তার কাছে চেয়েছে নীরব প্রতিবাদ
বিন্দু বিন্দু ত্রাস জমিয়েছে অদৃশ্য সাগর ঝড়
অভ্রান্ত দিকনির্দেশনায় সেও জানে এসব কিছু নিতান্তই সস্তা
মুক্তো ব্যথা নিয়ে যে ঝিনুক তুলে দেয় আপনপ্রাণ ডুবুরীর কাছে
কণ্ঠ জড়িয়ে থাকা মুক্তাসমূহ জানে শুধু
  বিষাদ আর   নীল উল্লাস
প্রতি অপমানে স্নিগ্ধ হই, জ্বেলে দিই হোমের আলো
জ্বলতে জ্বলতে প্রলম্বিত অগ্নিকে দেখি কলমের মতো
ফিরে আসি, ফিরে আসি, অক্ষরের কাছে,
আরো কাছে, বার বার, বার বার, প্রত্যেক বার।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন