.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮

এনআরসি তালিকায় ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির লাভ প্রচুর : রাষ্ট্র এবং পুতুলকাকিমা

( গুয়াহাটি আই আই টির অর্থনীতির অধ্যাপক দেবর্ষি দাশের  লেখাটি বেরিয়েছিল আনন্দ বাজারে ১১ জানুয়ারি, ২০১৮ । একই দিনে অঙ্কুর তামুলি ফুকনের অনুবাদে বেরিয়েছে অসমীয়া প্রতিদিনে। এবং দুই দিন পরে ইংরেজি ওয়েবজিন 'দ্য ওয়ারে' । এন আর সি নিয়ে সম্ভবত সর্বাধিক ভাষাতে, সর্বাধিক পাঠকের কাছে পৌঁছোনো  একমাত্র লেখাটির গুরুত্ব বুঝে আমরা ঈশানের পুঞ্জমেঘে তুলে রাখলাম। এখানে মূল আনন্দ বাজারের লেখাটি দেখতে পারেনঃ Politics of Religious discrimination would be benefited in NRC list - Anandabazar । এখানে অসমিয়া সংস্করণটি দেখুন অসমীয়া প্রতিদিনে। এবং এখানে ইংরেজি সংস্করণ 'দ্য ওয়ারে'। ---সুশান্ত কর )

বাংলা সংস্করণ: দৈনিক আনন্দবাজার

এনআরসি তালিকায় ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির লাভ প্রচুর :  রাষ্ট্র এবং পুতুলকাকিমা

দেশভাগের অনেক আগে থেকে গুয়াহাটির পান্ডু-মালিগাঁও অঞ্চল হয়ে ওঠে অভিবাসী বাঙালির প্রধান কেন্দ্র। রেলগাড়ি জাহাজ মালপত্র লোকজন হট্টগোলের মধ্যে পূর্ববঙ্গ থেকে সদ্য-আগতরা প্রচুর খুচরো কাজ খুঁজে পেতেন। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে পান্ডুতেই পুতুলকাকিমার জন্ম। কাকিমার বাপ-মা উদ্বাস্তু হয়ে এসেছিলেন পূর্ববঙ্গ থেকে।
           পুতুলকাকিমার বিয়ে হয় দূর এক মফস্‌সলে।শ্বশুরবাড়িতে আরও দু’জন পুতুল ছিলেন। পদবির সঙ্গে কাকিমার নামও পালটে গেল— পুতুল গুহ থেকে কবিতা দাস। ২০১৫ সালে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনশিপ (এনআরসি)-র লোকে যখন এসে খোঁজ করেছিল বাড়িতে কোনও অবৈধ বিদেশি থাকে কি না, কাকিমার বিয়ের আগের আর পরের কাগজে অসংগতি পাওয়া গেল। পুলিশ কাকিমাকে চটপট ডিটেনশন সেন্টারে চালান করে দিল। কাকিমার বয়স তখন ষাটের ওপর। 
            ১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতে প্রথম জনগণনা করা হয়। তখন সমস্ত ভারতীয় নাগরিকের হিসেব নেওয়া হয়েছিল, এনআরসি-তে সেই তথ্য ঢোকানো হয়েছিল। হঠাৎ অসমে এনআরসি নবীকরণের দরকার কেন পড়ল? আশির দশকে অসমে বিদেশি বিতারণ আন্দোলন চলে, শেষ হয় ১৯৮৫ সালের অসম চুক্তিতে। স্থির হয়, ২৪ মার্চ ১৯৭১-এর পর অসমে আসা বিদেশিদের শনাক্ত করে বহিষ্কার করা হবে। বাস্তবে বহিষ্কারের কাজ বিশেষ এগোয়নি। একটা হিসেব বলছে, ১৯৮৫ সালের পর দুই দশকে হাজার দুয়েক লোককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

–– ADVERTISEMENT ––


             অতএব, ১৯৮৫-র পরেও রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে ‘বিদেশি বহিষ্কার’-এর দাবিটি বেঁচে রইল। কিন্তু জনগণনার তথ্য দেখলে বোঝা যায়, ১৯৭১ সালের পর থেকে রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সর্বভারতীয় গড়ের তুলনায় কম। অনুমান করা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির পর সেই ভূখণ্ডে একটা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার ফলে ভারতে অভিবাসনের প্রবণতাও কমেছে। কিন্তু, রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ বা জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগ কবেই বা তথ্য পরিসংখ্যানের তোয়াক্কা করেছে?
           ২০০৯ সালে একটি অসরকারি সংস্থা বিদেশিদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। ২০১৪-য় এনআরসি নবীকরণের নির্দেশ দেয় আদালত। সিদ্ধান্ত হয়, ২৪ মার্চ ১৯৭১ পর্যন্ত যাঁরা রাজ্যে এসেছেন, বা তাঁদের সন্তানরা, তালিকায় থাকবেন। বাকিরা বিদেশি গণ্য হবেন। এঁদের নাম দেওয়া হয়েছে ডি-ভোটার, ডাউটফুল ভোটার। ৩১ ডিসেম্বরের রাতে এনআরসি-র প্রথম খসড়া বেরিয়েছে। আবেদনকারীদের প্রায় ৫৮% প্রথম খসড়ায় আছেন। চূড়ান্ত তালিকা এখনও প্রকাশ হয়নি। যাঁরা খসড়ায় নেই, তাঁদের উৎকণ্ঠার পর্ব শুরু হয়েছে।
         উৎকণ্ঠার কারণ কী? প্রথমে স্থানীয়দের কথা ধরা যাক। তাঁদের সবার সব কাগজ ঠিকঠাক থাকবে, তার নিশ্চয়তা কী? জনজাতি গোষ্ঠীর গরিব মানুষদের ক’জনের কাছে প্রামাণ্য দলিল দস্তাবেজ আছে যে তাঁরা বা তাঁদের বাপ-ঠাকুরদাদারা সাতচল্লিশ বছর আগে অসমে ছিলেন? এই উদ্বেগ ঠান্ডা করতে এনআরসি-র রাজ্য কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা বলেছেন, ‘কোনও প্রকৃত নাগরিক, মানে স্থানীয় কেউ, যাতে ডি-ভোটার তকমা না পান, তা দেখার দায়িত্ব আমার। আমি ব্যক্তিগত ভাবে চেষ্টা করেছি যাতে তালিকা বানানোর সময় সে রকম ভুলচুক না হয়।’
        লক্ষ করুন, ‘প্রকৃত নাগরিক’ আর ‘স্থানীয়’র মধ্যে চমৎকার সমীকরণ টানা হল। প্রকৃত নাগরিক মানে সে স্থানীয়। বহিরাগতরা ১৯৭১-এর আগে এলেও তাঁদের পক্ষে প্রকৃত নাগরিক হওয়া সহজ নয়। স্থানীয়দের তুলনায় বহিরাগতদের উদ্বেগ কয়েক গুণ বেশি কেন, আন্দাজ করা যায়। আদালতে প্রমাণ করা গিয়েছিল, পুতুলকাকিমার জন্ম পঞ্চাশের দশকে পান্ডুতে হয়েছে। সবার সে সৌভাগ্য হয় না। আরও অনেক অভিবাসী মানুষকে তুচ্ছ কারণে, অকারণে হেনস্তা করা হয়েছে। আবার, বরাক উপত্যকায় বহু স্থানীয় আছেন যাঁরা বাংলাভাষী। হাজেলাসাহেবের আশ্বাস তাঁদের জন্য কি? না কি, বাঙালি আর বহিরাগতের মধ্যেও সমীকরণ আছে?
        অসমে ভূমিপুত্র-সুরক্ষার রাজনীতি পুরনো। ইংরেজরা অসম দখল করার পর বহু দফায় বহু মানুষ অসমে এসেছেন। দেশভাগ এবং বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় উদ্বাস্তুর ঢল নামে। ইতিমধ্যে অসমিয়া মধ্যবিত্ত শ্রেণি বেড়েছে, জাতীয়তাবাদী চেতনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজের ভাষা, সংস্কৃতি হারানো নিয়ে বিপন্নতা বেড়েছে। শিক্ষা, ব্যাবসা, চাকরি, জমির মালিকানার ক্ষেত্রে বহিরাগতদের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতা ভূমিপুত্র-সুরক্ষার দাবিকে জোরদার করেছে। এই প্রেক্ষাপট মনে রাখলে বোঝা যাবে, কেন নবীকরণের প্রতি একাংশ মানুষের সমর্থন আছে। তাঁদের আশা, এ বার একটা হেস্তনেস্ত হবে। 
        পাশাপাশি, গত তিন দশকে গোটা দেশেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। অসমের জোট সরকারের বড় শরিক বিজেপি। সরকারের অন্য শরিক অসমিয়া খণ্ডজাতীয়তাবাদী অসম গণ পরিষদ হিন্দু জাতীয়তাবাদের চড়া সুর মানতে মানতে চলেছে। মেনে নেওয়ার একটা নজির নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (২০১৬)। বিল অনুযায়ী পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুরা ভারতের নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য, মুসলমানরা নন। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় হুমকি দিয়েছিলেন, জোটসঙ্গী অগপকে এই বিল সমর্থন করতেই হবে। অগপ বিলটির ‘তীব্র বিরোধিতা’ করে দায় সেরেছে। আদর্শগত কারণে জোটত্যাগ? সে সম্ভবত অন্য সাধনার ফল।
         এনআরসি-র এই তুমুল নাড়াচাড়ার ভবিষ্যৎ কী? দুটো সম্ভাবনা আছে। প্রথম সম্ভাবনা, খুবই কমসংখ্যক ‘বাংলাদেশি’কে চিহ্নিত করা গেল। তার দুটো সম্ভাব্য কারণ। এক, দুর্নীতির দৌলতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরাও এনআরসি-র তালিকায় ঢুকে পড়ল। দুই, খুব বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি অসমে ছিলই না। কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়ার নয়। বিশেষত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭১-এর পর অসমে কখনও অস্বাভাবিক হারে লোকসংখ্যা বাড়েনি। নিশ্চিত ভাবেই প্রশ্ন উঠবে, এত হয়রানিতে মানুষের তবে লাভ কী হল?
        দ্বিতীয় সম্ভাবনা, বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ধরা পড়ল। প্রশ্ন, তাদের নিয়ে কী করা হবে? বাংলাদেশ অবৈধ অনুপ্রবেশের অস্তিত্বই স্বীকার করে না। ২০১৪-র ভোটের আগে মোদীজি আশ্বাস দিয়েছিলেন, বাংলাদেশিদের বিছানাপত্তর বেঁধে বাড়ি পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু কূটনৈতিক স্তরে বাংলাদেশের সঙ্গে এই বিষয়ে কথাবার্তা এগোয়নি, যদিও সুপ্রিম কোর্ট সে রকম নির্দেশ দিয়েছিল। বাংলাদেশ যদি এই মানুষগুলিকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করে, তখন তাদের রাখবেন কোথায়? না কি, তাদেরও ভাগ্য হবে রোহিঙ্গাদের মতোই?
         প্রশ্নগুলো এত বিপজ্জনক যে কাণ্ডজ্ঞান বলবে, এনআরসি তৈরি করে প্রকৃত আর ‘নকল’ নাগরিক বাছাইয়ের আগুন নিয়ে না খেলাই ভাল। কিন্তু, বিজেপির উৎসাহ প্রবল। কেন? একটা কারণ মতাদর্শগত। রাতদিন নাগরিকত্বের অনুশীলন ও জেনোফোবিয়া বা বিদেশি-ভীতি উগ্র-জাতীয়তাবাদী রাজনীতির খুঁটি। আধার কার্ড, নোট বাতিল, এনআরসি— গত ক’বছরে অনুষ্ঠিত যাবতীয় মহাযজ্ঞের একটা সাধারণ ধর্ম হল, প্রতিটিই আমাদের কলার ধরে ঝাঁকিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগের কথা মনে করায়। ‘বৈধ’ আর ‘অবৈধ’র মধ্যে নিত্যনতুন গণ্ডি টানে। জনতা এখন আর রাষ্ট্রকে বৈধতা দেয় না। বরং, বৈধতাপ্রসাদের জন্য জনতাই রাষ্ট্রের দুয়ারে লম্বা লাইন দেয়। দেশ সহজ ভালবাসার বিষয় থাকে না। তাকে ভক্তিভরে পরিধান করে দলবদ্ধ কুচকাওয়াজে যেতে হয়।
         অন্য দিকে, এনআরসি-র ব্যবহারিক উপযোগিতাও যথেষ্ট। প্রথম খসড়া প্রকাশের পর হিন্দু বাঙালি কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন। শিলচর শহরে নাগরিক সভা, সাংবাদিক সম্মেলন হয়েছে। এটা বিজেপির লোকসানের খাতায়। আর লাভের খাতায় লেখা হবে, ভূমিপুত্রদের আশ্বস্ত করা গেছে। বলতে পারা যাচ্ছে, বাংলাদেশি তাড়ানোর জন্য কত কাজ করছি, দেখো। নোট বাতিলের সময়েও যেমন সফল প্রচার করা গিয়েছিল যে কালোবাজারিদের শায়েস্তা করছি, আপনারাও ব্যাংকে লাইন দিয়ে দেশ বাঁচান।
      হিন্দু ডি-ভোটারদের কী হবে? এর জবাব হয়তো আছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে। কৈলাস বিজয়বর্গীয় আশ্বাস দিয়েছেন, ২০১৯-এর ভোটের আগে বিল পাশ হয়ে যাবে। বিল পাশ হলে হিন্দুরা ছাড়া পেয়ে যাবেন। ছাঁকনাতে আটকে যাবেন মুসলমান ডি-ভোটাররা। বিভাজনের রাজনীতির পক্ষে এর চেয়ে বড় জয় আর কী হতে পারে?

~~~০০০~~~
অসমিয়া সংস্করণ : অসমীয়া প্রতিদিন।
এনআৰচিক লৈ বিজেপিৰ লাভৰ অংক
দেবৰ্ষি দাস
মূল বাংলাৰ পৰা অনুবাদঅংকুৰ তামুলী ফুকন
অসমীয়া প্রতিদিন
যোৱা ৫ জানুৱাৰী অসমীয়া প্ৰতিদিনত অগ্ৰজপ্ৰতিম ড: প্ৰশান্ত চক্ৰৱৰ্তীৰ মমতা বেনাৰ্জী অসমৰ বাঙালীৰ অভিভাৱক নহয়শীৰ্ষক লিখাটো আগ্ৰহেৰে পঢ়িলোঁ নাগৰিকপঞ্জীৰ প্ৰথম খচৰা প্ৰকাশ হোৱাৰ পিছত যি উত্তেজনাময় পৰিৱেশৰ সৃষ্টি হৈছে তাত বিভিন্ন ৰাজনৈতিক দল, অৱস্থান আদিয়ে ঘোলা পানীত মাছ ধৰাৰ চেষ্টা কৰিছে। ইয়াৰ সমুচিত জবাব দি তেওঁ একধৰণৰ সামাজিক দায়িত্বসপন্ন মানুহৰ ভূমিকা পালন কৰিছে। অসমৰ বঙালী আৰু অসমীয়া সমাজৰ সৌহাৰ্দ্য সম্পৰ্কীয় তেখেতৰ লিখা-মেলা বোৰে আমাক সমৃদ্ধ কৰি আহিছে। এই ধৰণৰ লিখাবোৰত তেওঁ প্ৰায়ে বিখ্যাত অসমীয়া মনীষীসকলৰ জীৱনত অনামী বঙালী লোকৰ অৱদানৰ কথা আমাক মনত পেলাই দিয়ে। পিছে মোৰ বিনীত অভিমত, এনেধৰণৰ কৌশল হিতে বিপৰীত হোৱাৰ আশংকাহে অধিক। কোনোবাই হয়তো কব পাৰে অসমীয়া মনীষীয়ে নিজ ক্ষমতাৰে মহত্ব অৰ্জন কৰা নাই, বৰং তেওঁলোকৰ মহত্বপ্ৰাপ্তিত সদায়ে কোনো বাঙালী লোকৰ অৱদানৰ দৰকাৰ হৈছিল। মোৰ দৃঢ় বিশ্বাস এনেধৰণৰ বাখ্যা ড: চক্ৰৱৰ্তীয়ে আগবঢ়াব খোজা নাই। ৫ জানুৱাৰীৰ প্ৰৱন্ধতো তেওঁ তেনে কিছু বিখ্যাত লিখকৰ উদাহৰণ দিছে। পিছে মোৰ ধাৰণা আজিৰ পৰিস্থিতিত সাধাৰন মানুহৰ কথাহে কোৱা প্ৰয়োজন সাধাৰন খাতি খোৱা অসমীয়া, বঙালী মানুহ, যাৰ জীৱন কাহানিও প্ৰচাৰ মাধ্যমৰ দৃষ্টিত নপৰে, অথচ যি সকলেই এইধৰণৰ পৰিস্থিতিত আটাইতকৈ বেছি ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়।
         বহুতেই জানে দেশবিভাজনৰ বহু আগৰে পৰা গুৱাহাটীৰ পাণ্ডু-মালিগাওঁ অঞ্চল বঙালীসকলৰ প্ৰধান কেন্দ্ৰ হৈ উঠিছিল। ৰেল গাড়ী, জাহাজ, মাল-বস্তুৰ অনা-নিয়া আদিৰ হুলস্থুলৰ মাজত পূৰ্ববংগৰ পৰা সদ্যপ্ৰব্ৰজিত এইসকলে প্ৰচুৰ কাম-কাজ পাইছিল। পঞ্চাশৰ দশকত পাণ্ডুত মোৰ সম্পৰ্কীয় পুতুল খুড়ীৰ জন্ম হৈছিল। খুড়ীৰ মাক দেউতাক পূৰ্ববংগৰ পৰা শৰণাৰ্থী হিচাপে আহিছিল। খুড়ীৰ বিয়া হয় এক মফচল চহৰত। বিয়াৰ পিছত খুৰীৰ নাম আৰু পুতুল হৈ নাথাকিল স্বামীগৃহত পুতুল নামৰ আন দুজন লোক আছিল, গতিকে উপাধিৰ সৈতে তেওঁৰ পুতুল নাম বাতিল হয় তেওঁ পুতুল গুহৰ পৰা কবিতা দাস হয়। ২০১৬ চনত পুলিছে স্বদেশী-বিদেশী অনুসন্ধান কৰিবলৈ আহি খুড়ীৰ বিয়াৰ আগৰ আৰু পিছৰ কাগজপত্ৰৰ ব্যাপক অসংগতি লক্ষ্য কৰিলে। পুলিছে কাল বিলম্ব নকৰি তেওঁক ডিটেনছন কেম্পলৈ চালান দিলে। তেতিয়া খুড়ীৰ বয়স ষাঠি পাৰ হৈছে।
        চৰকাৰী বিদেশী বহিস্কৰণ অভিযানে এনেদৰেই কাফকাৰ উপন্য্যসৰ দৰে দৃশ্যৰ জন্ম দিছে।  আজি এনআৰচি বিদেশী বহিস্কৰণৰ আৰু উচ্চাকাংক্ষী প্ৰকল্প। অসমত এনআৰচিৰ নৱীকৰণৰ দৰকাৰ কিয় হ? অসম চুক্তিত কোৱা হৈছিল ২৪ মাৰ্চ, ১৯৭১ ৰ পিছত অহা বিদেশীক চিনাক্ত কৰি বহিস্কাৰ কৰা হব। অথচ বহিস্কৰণৰ কাম অলপো আগনাবাঢ়িল। এটা সমীক্ষা অনুসৰি বিশ বছৰত মাত্ৰ দুহেজাৰ মান লোকহে ইয়াৰ দ্বাৰা বহিস্কৃত হৈছে। অৰ্থাৎ, ১৯৮৫ ৰ পিছতো ৰাজনৈতিক ইছ্যু হিচাপে বেদেশী বহিস্কৰণ জীয়াই থাকিল। অথচ চেঞ্চাছৰ তথ্যত অন্য এখন ছৱিহে ফুটি উঠে। ১৯৭১ ৰ পিছত ৰাজ্যত জনসংখ্যাৰ হাৰ কমিছেহে(টেবুল-) ১৯৭১ ৰ আগৰ দুই দশকত ৰাজ্যৰ জনসংখ্যা বৃদ্ধিৰ হাৰ গোটেই দেশৰ তুলনাত অনেক বেছি। এই অস্বাভাৱিক বৃদ্ধিৰ হাৰ হয়তো তেতিয়াৰ পূৰ্ব পাকিস্থানৰ পৰা হোৱা ব্যাপক প্ৰব্ৰজন। পূৱ পাকিস্থান সেই সময়ত ব্যাপক অস্থিৰতাৰ মাজেৰে পাৰ হৈছিল। সম্ভৱত: এই ব্যাপক প্ৰব্ৰজনেই অসম আন্দোলনৰ অন্যতম কাৰণ ১৯৭১ৰ পিছত কিন্তু অসমৰ জনসংখ্যা বৃদ্ধিৰ হাৰ গোটেই ভাৰততকৈ তুলনামূলকভাৱে কম। বাংলাদেশৰ জন্মৰ পিছত তৈয়াৰ হোৱা ৰাজনৈতিক স্থিৰতাই প্ৰব্ৰজন কমাই আনিছিল বুলি ধাৰণা কৰিব পাৰি। ১৯৮১ চনত অসমত জনগণনা হোৱা নাছিল, পৰিসংখ্যা বিজ্ঞানৰ অৱধাৰণাৰ ভিত্তিত ৮১ চনৰ জনসংখ্যাৰ ধাৰণা দিবলৈ চেষ্টা কৰা হৈছে। ৮১ বাদ দি যদি কেৱল ১৯৯১ আৰু ১৯৭১ ৰ জনসংখ্যাৰ তুলনা কৰা হয় তেতিয়াও দেখা যাব, অসম আৰু ভাৰতবৰ্ষৰ জনসংখ্যা প্ৰায় সমান হাৰত বাঢ়িছে। কিন্তু ৰাজনৈতিক কলা-কৌশল, জাতিয়তাবাদী আৱেগ আদিয়ে কেতিয়ানো বিজ্ঞানসন্মত তথ্যৰ কথা শুনে!


টেবুল- ১: দশকীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধি (শতাংশ)

অসম ()
ভাৰত ()
পার্থক্য [()-()]
১৯৫১-১৯৬১
৩৪.৯৭
২১.৬৪
১৩.৩৩
১৯৬১-১৯৭১
৩৪.৯৬
২৪.৮০
১০.১৬
১৯৭১-১৯৮১
২৩.৩৬
২৪.৬৬
-১.৩০
১৯৮১-১৯৯১
২৪,২৪
২৩.৮৭
০.৩৭
১৯৯১-২০০১
১৮.৯২
২১.৫৪
-২.৬২
২০০১-২০১১
১৬.৯৩
১৭.৬৪
-০.৭১

           ৩১ ডিচেম্বৰৰ ৰাতি প্ৰকাশ পোৱা খচৰাত আবেদন কৰা লোকৰ প্ৰায় ষাঠি শতাংশ লোকৰ নাম আহিছে চুড়ান্ত খচৰা এতিয়াও প্ৰকাশ পোৱা নাই; কিন্তু যি সকলৰ নাম প্ৰথম খচৰাত নাই তেওঁলোকৰ ইতিমধ্যই উৎকণ্ঠা আৰাম্ভ হৈছে এই উৎকণ্ঠাৰ কাৰণ কি? প্ৰথম, খিলঞ্জীয়াসকলকে ধৰা যাওক খিলঞ্জীয়াসকলৰ যে সঠিক কাগজপত্ৰ থাকিব তাৰ কোনো ধৰা-বন্ধা কথা নাই জনগোষ্ঠীয় কিমানজনৰ দলিল দস্তাবেজ আছে যি প্ৰমাণ কৰিব তেওঁলোকৰ পিতৃপুৰুষ সাতছল্লিশ বছৰৰ আগেয়ে অসমত আছিল? এইধৰণৰ উদ্বেগ সমাধান কৰিবলৈ এনআৰচিৰ প্ৰতীক হাজেলাই কৈছে, “ কোনো প্ৰকৃত বাসিন্দা, মানে স্থানীয় কোনো নাগৰিক যাতে ডি ভোটাৰ নহয় সেই দায়িত্ব মোৰ মই ব্যক্তিগত ভাবে চেষ্টা কৰিছোঁ তালিকাত যাতে সেইধৰণৰ সমস্যা নাথাকে লক্ষ্য কৰক –‘প্ৰকৃত বাসিন্দাআৰুস্থানীয় মাজত কি চমৎকাৰ সমীকৰণ! প্ৰকৃত বাসিন্দা মানে তেওঁ স্থানীয় বহিৰাগত ৭১ৰ আগত আহিলেও প্ৰকৃত নাগৰিক হোৱা ইমান সহজ নহয় সেয়ে খিলঞ্জীয়াৰ তুলনাত বহিৰাগতসকলৰ উদ্বেগ আৰু বেছি আদালতত প্ৰমাণ হৈছিল পুতুল খুড়ীৰ জন্ম পঞ্চাশৰ দশকত পাণ্ডুত এনে বহু লোকক সামান্য কাৰণ-অকাৰণত হাৰাশাস্তি দিয়া হৈছে আনহাতে, বৰাক উপত্যকাত বহু খিলঞ্জীয়া মানুহ আছে যাৰ মাতৃভাষা বাংলা হাজেলা চাহাবে তেওঁলোকক আশ্বাস দিব পাৰিছেনে?
          অসমত ভূমিপুত্ৰৰ ৰাজনীতি পুৰণি এই ৰাজনীতিক সমৰ্থন কৰিব পাৰে বা বিৰোধিতা কৰিব পাৰে, কিন্তু তাৰ মূল সামাজিক অৰ্থৈতিক ইতিহাসক বুজিবলৈ চেষ্টা নকৰাটো অসম্ভব ইংৰাজৰ আগমনৰ পিছত, অসমত প্ৰব্ৰজন দ্ৰুতগতিত বৃদ্ধি পাইছিল দেশবিভাজন, বাংলাদেশৰ মুক্তিযুদ্ধৰ পিছত অসমত শৰণাৰ্থীৰ ঢল নামে ইতিমধ্য অসমীয়া মধ্যশ্ৰেণী বাঢ়িবলৈ ধৰিছিল, জাতীয়তাবাদী চেতনাও বৃদ্ধি পাইছিল নিজৰ ভাষা-সংস্কৃতি হেৰাই পেলোৱাৰ আশাংকাও বৃদ্ধি পাইছিল শিক্ষা, ব্যৱসায়, চাকৰি, মাটিৰ মালিকানা আদিৰ ক্ষেত্ৰত বহিৰাগতৰ সৈতে কঠিন প্ৰতিযোগিতাই ভূমিপুত্ৰৰ সুৰক্ষাৰ প্ৰশ্নটোক জোৰদাৰ কৰি তুলিছে এনে প্ৰেক্ষাপটতহে বুজা যায় কিয় এনআৰচিৰ প্ৰতি স্থানীয় মানুহৰ বেছি সংখ্যকৰে সমৰ্থন আছে একধৰণৰ আশাবাদ- এইবাৰ কিবা এটা হেস্ত-নেস্ত !
            যোৱা তিনি দশকত সমগ্ৰ ভাৰতবৰ্ষতে হিন্দুত্ববাদীৰ ৰাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আধিপত্য গঢ় লবলৈ ধৰিছে অসম চৰকাৰৰ সৰু ভাই অসমীয়া জাতীয়তাবাদী অগপই অহৰহ ডাঙৰ ককাই বিজেপিৰ হিন্দুত্ববাদী ৰাষ্ট্ৰীয়তাবাদ সহ্য কৰিব লগা হৈছে ২০১৬ৰ নাগৰিকত্ব সংশোধনী বিল ইয়াৰ অন্যতম উদাহৰণ বিজেপিৰ নেতা কৈলাশ বিজয়বৰ্গীয়ে হুমুকি দিছে অগপই এই বিল সমৰ্থন কৰিবই লাগিব অগপই যদিও বিলখনৰ তীব্ৰ বিৰোধিতা কৰিছে, কিন্তু আদৰ্শৰ কাৰণে চৰকাৰ ত্যাগ কৰা নাই এনআৰচিৰ উৎসাহ-উদ্দীপনা অৱশেষত কি হয়গৈ এতিয়াই কবলৈ টান বোধকৰো দুটা সম্ভাৱনা আছে আৰু দুয়োটাই আশাব্যঞ্জক নহয় প্ৰথম, ধৰি লওক অত্যন্ত কম সংখ্যক বাংলাদেশী ধৰা পৰিল কাৰণ) ব্যাপক দূৰ্নীতিৰ ফলত তেওলোক সহজেই এনআৰচিত সোমাই পৰিবলৈ সক্ষম ) প্ৰকৃততে বেছি বাংলাদেশী নাছিল- কাৰণ আমি দেখিলো ৭১ চনৰ পিছত অসমত জনসংখ্যা অস্বাভাৱিকভাবে বৃদ্ধি হোৱা নাই যেনেদৰে নোট বাতিলৰ পিছত সকলো কলা-বগা টকা উভতি আহিছিল, এনআৰচি কাণ্ডও বাহাৰম্ভে লঘু ক্ৰিয়া হোৱাৰ সম্ভাৱনা তেনেহলে প্ৰশ্ন হয় জনসাধাৰণক মিছাই হাৰাশাস্তি কৰি কাৰ লাভ? দ্বিতীয় সম্ভাৱনা, বহুত বাংলাদেশী ধৰা পৰিল এতিয়া তেওলোকক লৈ কি কৰা যাব? বাংলাদেশে অবৈধ প্ৰব্ৰজনৰ অস্তিত্বকে স্বীকাৰ নকৰে নিৰ্বাচনৰ আগে আগে মোডীয়ে অশ্বাস দিছিল বাংলাদেশীক বিছনা-পত্ৰ বান্ধি পঠিয়াই দিয়া কিন্তু উচ্চতম ন্যায়লয়ৰ নিৰ্দেশৰ পিছতো কুটনৈতিক স্তৰত বাংলাদেশৰ সৈতে এই বিষয়ত কোনো কথা-বতৰা হোৱা নাই বাংলাদেশে নললে তেওঁলোকক জোৰ কৰি সীমান্তৰ সিপাৰলৈ খেদি পঠোৱা নেকি? নে ৰোহিঅংগীয়াৰ দৰে সামৰিক ব্যৱস্থা লোৱা ?
        ইমানবোৰ অনিশ্চয়তাৰ পিছতো বিজেপি এনআৰচিলৈ বিৰাট উৎসাহী বিজেপিৰ সাংসদ আৰ পি সিঙে গোটেই দেশতে এনআৰচি নৱীকৰণ কৰাৰ কথা কৈছে যাতে পাঁচ কোটি অবৈধ বাংলাদেশীক খেদি পঠিওৱা যায় এয়া মতাদৰ্শগত লাভৰ চেষ্টা নাগৰিকত্বৰ অনুশীলন আৰু জেনোফবিয়া সোঁপন্থী জাতীয়তাবাদী ৰাজনীতিৰ মূল ভিত্তি আধাৰ কাৰ্ড, নোট বাতিল, এঅনআৰচি- এই আটাইবোৰৰে এক সাধাৰণ বৈশিষ্ট্য আছে এইবিলাকৰ জৰিয়তে বুকুত খামুচি ধৰি আমাৰ সৈতে ৰাষ্ট্ৰযন্ত্ৰৰ সৰ্ম্পক নিকপকপীয়া কৰিবলৈ চেষ্টা কৰা হৈছে বৈধ আৰু অবৈধৰ মাজত নিত্য নতুন সীমা টনা হৈছে আজি আৰু জনতাই ৰাষ্ট্ৰক বৈধতা নিদিয়ে, বৰং বৈধতাৰ প্ৰসাদৰ বাবে ৰাষ্ট্ৰৰ দুৱাৰত দীঘল লাইনৰ বাবে জনতা বাধ্য হয় দেশ এতিয়া সহজ ভাল পোৱাৰ কথা হৈ থকা নাই, এতিয়া তাক পৰিধান কৰি দলবদ্ধ কুচকাৱাজত যাব লগা হৈছে
         এয়া আৰ্দশৰ কথা এনআৰচিৰ ব্যৱহাৰিক উপযোগিতাও আছে স্বীকাৰ কৰা হওক, প্ৰথম খচৰা প্ৰকাশ হোৱাৰ পিছত হিন্দু বঙালী কিছু পৰিমাণে উৎকণ্ঠিত শিলচৰত নাগৰিক সভা, সাংবাদিক সন্মিলন হৈছে এইবোৰ বিজেপিৰ লোকচানৰ খাতাত আনহাতে ভূমিপুত্ৰসকলক বাংলাদেশী খেদাৰ কাম-কাজ কৰিছে বুলি আশ্বাস দি একধৰণৰ লাভৰ খাতা তৈয়াৰ কৰা হৈছে নোট বাতিল বিশেষ কামৰ কাম নহলেও, সফল প্ৰচাৰ চলোৱা হৈছিল-‘কলা ব্যৱসায়ীক ধ্বংস কৰি দিয়া হৈছে, ৰাইজ বেংকৰ লাইনত থিয় হৈ দেশ বচাওক!” কিন্তু হিন্দু বাংলাদেশীৰ কি ? ইয়াৰ উত্তৰ হয়তো নাগৰিকত্ব সংশোধনী বিল কৈলাশ বিজয়বৰ্গীয়ই আশ্বাস দিছে ২০১৯ৰ নিৰ্বাচনৰ আগতেই এই বিল পাছ বিল পাছ হলে হিন্দু সকল বাচি যাব, কিন্তু মুছলমান ডি ভোটাৰ আগৰ দৰেই পৰি থাকিবহিন্দু-মুছলমানকেন্দ্ৰিক এনেধৰণৰ বিভাজনৰ ৰাজনীতিয়েই বিজেপিৰ শেষ লক্ষ্য নহয় নে?
         কনফ্লিক্ট অফ ইণ্টাৰেষ্ট ডিক্লাৰেছন: লিখকৰ পৰিয়াল তাহানিৰ ঢাকা জিলাৰ পৰা প্ৰব্ৰজিত চাৰিটা পুৰুষ ধৰি অসমবাসী তিনি পুৰুষ নাগৰিক মানপত্ৰৰ অপেক্ষাত, আন এক পুৰুষে ইতিমধ্যই অন্য এখন পৃথিৱীলৈ প্ৰব্ৰজন কৰিছে

~~~০০০~~~

What Lies Behind BJP’s Eager Support for Updating NRC in Assam
Notwithstanding hopes in certain quarters, it is difficult to fathom what the mammoth and distressing exercise will deliver.

(The Wire)
The release of the first draft of the National Register of Citizens (NRC) has generated much heat and dust. In Assam and West Bengal, effigies of chief ministers Sarbananda Sonowal and Mamata Banerjee, respectively, have been burnt. But it is unadvisable to view it in terms of binaries like Assamese versus Bengalis, or locals versus migrants, or even Hindus versus Muslims. The tale is a complex one.


           The process of detection of foreigners has been going on for quite some time in Assam. Snehalata Dutta (86), semi-paralysed, was incarcerated for three months under the Illegal Migrants (Determination by Tribunal) Act. Dutta’s family migrated to Assam before the Partition, according her son-in-law Mukul Dey. He himself was served notice and had to clear his name in court. Marijan Bibi’s (41) story is similar. In spite of possessing the right papers, she was separated from her one-and-half-year-old child and put in a detention camp. My aunt, Putul, was apprehended by the police and lodged in a detention camp for nearly a month because her pre- and post-nuptial names did not match.

           Such Kafkaesque scenes are being created in the name of nabbing foreigners in Assam. The updation of NRC is a more ambitious plan than the ones that have existed so far. The Assam Movement which rocked the state in the 1980s demanded detection and deportation of foreigners. The movement ended with the signing of the Assam Accord in 1985. It mandated that foreigners who entered the state after March 24, 1971 would be identified and deported. In reality, few people were actually deported. It’s estimated that 2,442 people have been deported till 2012. The number of people declared as foreigners was about 54,000.

           Could it be that not many people were declared as foreigners because their number was not high? Definitive conclusions are difficult, but one can make rough guesses by comparing the growth rate of the population of Assam and India. The assumption is, without mass infiltration, the population of Assam and India would grow at similar rates.

         If we rely on such a method, it’s doubtful that substantial infiltration has taken place since the 1970s (see figure 1). In the two decades preceding 1971, population growth in the state exceeded the national average. This could be due to the massive influx of refugees from East Pakistan, which went through a period of turmoil during that time. But after 1971, Assam’s population growth fell. It was below the national average in three out of four decades after 1971. Perhaps, political stability following the birth of Bangladesh stemmed the flow. There can be quibbles that no census took place in Assam in 1981; the 1981 population figure is only a projection. If we compare 1991 to 1971, ignoring 1981, the population growth of Assam still converges with the national average. But political rhetoric deployed to whip up nationalist sentiments is often blind to cold facts. The issue lived on.

         After prolonged litigations, in 2014 the court came out with the judgment that the NRC should be updated. Foreigners who came to the state before March 25, 1971 and their progeny can register with the NRC. Those who came after that date are termed D-Voters, where ‘D’ stands for doubtful.

         The first draft of the NRC was released on the night of December 31, 2017. Of all those who had applied, about 58% have found their name in the list. The final list is yet to be released. But, the first list has jolted the political scene of Assam, in spite of the chief minister’s assurance that genuine Indian citizens need not worry.

Bengalis equal settlers?

         Is there any reason to worry? Take the indigenous people first. It is questionable if all indigenous people have their papers in order. For instance, how many of the poor belonging to nomadic tribal communities would be able to produce documentary evidence that they lived in the state 47 years ago? In order to calm nerves, the state coordinator of the NRC, Prateek Hajela, has assured people: “It is my duty to note that no genuine citizen, that is, someone from an indigenous community, is labeled as a D-voter or a Doubtful Voter. I have personally tried to ensure that no such errors creep up in our listing process”.

         Hajela’s comment is notable. It implicitly proposes that “genuine citizen” implies “someone from an indigenous community”. The former does not imply a migrant, irrespective of when she entered the state. Understandably, anxiety is palpable among the migrant settlers. As for Putul kakima, it could be proved that she was born in Assam in the 1950s. Such incidents of harassment on flimsy grounds are making the migrants nervous. Moreover, several indigenous people in the Barak Valley are Bengali speakers. Is Hajela’s assurance meant for them as well, or is there an assumed equivalence between Bengalis and settlers?

          The anxiety of the migrants has roots in the ‘son of the soil’ politics, which has a long history in Assam. One may not endorse it, but it’s easy to see where it comes from. Many waves of migration reached these shores after the British annexed Assam in 1826. The Partition of the country and the Bangladesh war of independence brought in an influx of refugees. Meanwhile, the local middle-class gained strength, Assamese nationalist sentiments grew and cultural anxieties heightened. Competition with the settlers in the economic sphere lent legitimacy to demands to protect the ‘sons of the soil’. The indifferent health of the economy, evidenced in large-scale labour migration to other states, bolstered these demands. Recalling this history would help us understand why there exists a support for updating the NRC among some quarters.

           The political landscape of the country also needs to be put in context. The party of Assamese nationalism, the much enfeebled Asom Gana Parishad (AGP), is only a minor ally of the coalition government led by the BJP at the Centre. The differences between their visions of nationalism often leads to friction, like the one over the Citizenship (Amendment) Bill, 2016. The Bill grants citizenship eligibility to Hindu refugees from Pakistan, Afghanistan and Bangladesh. Kailash Vijayvargiya, the BJP general secretary, has demanded that the AGP must support it. The AGP, on the contrary, is up in arms on the Bill. But it is not walking out of the coalition.

What lies ahead?

            Notwithstanding hopes in certain quarters, it is difficult to fathom what the mammoth and distressing exercise of updating the NRC updating will deliver. One sees two possibilities, none of which is reassuring.

          First: only a few foreigners are detected at the end of the process, for, (a) the infiltrators got themselves enrolled in the NRC, courtesy corruption and callousness. Or, (b) there were not many of them to begin with – we have seen that population growth of Assam is not out of line with India since 1971 (figure 1). This is similar to what happened after demonetisation when almost all denotified notes came back to the banks. In this eventuality one may ask, what was the point of it all?

          Second: it so happens that a large number of people are identified as foreigners. What will the government do with them? Bangladesh does not acknowledge that illegal migration exists. While campaigning during the 2014 elections, Narendra Modi declared that illegal Bangladeshis would be sent back. But diplomatic talks have not progressed on this front, despite the Supreme Court’s direction. If Bangladesh does not take them, will the government forcefully push the detainees across the border? Or, will military tactics be deployed, like Myanmar does on the Rohingyas?

            Amid all these unanswered questions, there is a certainty: the BJP is solidly backing the NRC updation drive. BJP parliamentarian R. P. Sharma went to the extent of demanding NRC updation for the entire country so that the five crore illegal Bangladeshis can be sent home. Why is the BJP so eager to do so?

          One reason is ideological. Citizenry purity drills and xenophobia are the fodder on which a right-wing nationalist party thrives. The humongous exercises we are trudging through in the last few years – Aadhaar, demonetisation, NRC updation – have something in common. They give us a rude jolt and remind us of our connection with the state. They invert the relation though: instead of people bestowing legitimacy on the state, people must prostrate before the state and plead for legitimacy. A muscular, meddling state is up the BJP’s alley.

           But there are important matters of practical politics too. Let us admit that the Hindu Bengali constituency is worried. Silchar town in Barak Valley has seen press conferences, citizen meetings. Less than 40% of the valley has got a place in the first draft. This disaffection will register on the cost side of the book. On the benefit side is the assurance given to indigenous groups: we are doing something about the foreigners. After the demonetisation pains, the benefit the common man received was questionable. Yet, the party could successfully convey that they are serious about tackling black money. Something similar might happen here.

            But what will happen to the D-voter Hindu Bengalis? Forsaking them goes against the core Hindutva belief that India is the punyabhu (holy land) of Hindus. Perhaps the answer lies in the Citizenship (Amendment) Bill. Vijayvargiya is confident that the Bill will be passed before the 2019 general elections. If that happens, Hindu Bengalis would be inducted in the NRC, Muslims would be declared illegal. The march towards the ‘Hindu Rashtra’ would advance a step.

Note: The author belongs to a family of migrant settlers living in the state for four generations.

Debarshi Das is at the Humanities and Social Science Department, IIT, Guwahati.



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন