.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৬

সুরমা গাঙর পানিঃ উজান পর্ব ৮

(দেশভাগ এবং পরের দশকের কাছাড় সিলেটের প্রেক্ষাপটে রণবীর পুরকায়স্থের এই উপন্যাস ছেপে বের করেছে দিন হলো। ভালো লাগা এই  উপন্যাস পুরোটা টাইপ করে তুলে আমার প্রিয় কথা শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানালাম। আশা করছি আপনাদের সবার এটি পড়তে ভালো লাগবে। সম্পূর্ণ উপন্যাসের সংলাপ ভাগটি সিলেটিতে -সে সম্ভবত এই উপন্যাসের সবচাইতে আকর্ষণীয় দিক। আপনাদের পড়বার সুবিধে করে দিতে, ঈশানে এই উপন্যাস ধারাবাহিক ভাবে আসছে। আজ তার  উজান  পর্বের অষ্টম অধ্যায় ---সুব্রতা মজুমদার।) 




আট 

ভ্যাসের বিরতি হলে, অনভ্যাসের নিবৃত্তি হলে বৈতলের দুঃখ হয় । বুকের ভিতর চুনখলার মার্তুলের ধুমধুমি হয় । ভেঙে খানখান হয় মন, চোখের দৃষ্টি হয় উদাস । তবু জল বেরোয় না এক ফোঁটা । হেডমাস্টার চলে যাওয়ায় মন খারাপের সঙ্গী হয়ে আসে বাদ্র মাস । অকালে মনের বৃষ্টি উজাড় করে ঝরে চরাচরে । টইটুম্বুর হয় বরাক নদী । আবার শুকোয়, আবার ভ্যাপসা গরম । গরমে গরমে ঢ্যাঙা গাছে তালের পাকা গন্ধ জানান দেয় শরতের মাঝামাঝি চলে এসেছে ঋতুচক্র ।
তালগাছেও চড়তে জানে বৈতল । পায়ে দড়ি বেঁধে উঠে যায় গাছে । সুপুরি কিংবা নারকেল গাছেও চড়ে । বৈতলের ভয়ডর নেই, তালগাছে চড়লে আর নামতেই চায় না । পায়ের বেড়ি টুকটুক করে ঘুরিয়ে দেখে সে চরাচর । যা অন্যে দেখতে পায় না । একদিকে বড়াইল পাহাড়, চারদিকে বরাক আর তার ছানাপোনা নদী । বৈতল গাছের উপর থেকে খোঁজে নদীর উৎস । কোথা থেকে আসে নদী । সমতলের নদীর গোলক ধাঁধার ভাঙানি খুঁজতে চোখকে নিয়ে যায় অনেক দূর । কিছুই নেই কোথাও । প্রকৃতি বৈতলের সঙ্গে কানামাছি খেলে । বৈতল তার গুরু সৃষ্টিধরের চোখ দিয়ে দেখার চেষ্টা করে যেমন দেখেছে জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে ভাবে বিভোর হয়ে । দেখেছে কাছাড় দেশ, আর তার রানী নদী বরাক । ওঝা গুরুর পছন্দ নয় এই নদী । তাই বলেন,
--- অউ হুতার নালির দিকে চাইও না । এইন এক তেড়াভেড়া নদী । এইন মা নায় আমরার সৎ -মা ।
     বৈতল বোঝে গুরুর উচাটন । বোঝে দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে । সিলেট ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই । বরাক নদীর পারে স্থায়ী ঠিকানা চাইছে একদল মানুষ । গুরুর ভয়, যদি প্রিয় শিষ্য তাকে ছেড়ে যায় । তাই সত-মার প্রতিরোধ ।
মিরতিঙ্গার পাহাড়ে পাটপাথরের রাজা বৈতল । কিশোর বৈতলকে আবার ডাকে তালগাছ । তালগাছের আগায় সাম্রাজ্য ফিরে পাওয়ার আনন্দে ডগমগো হয় বৈতল । নেমে আসতে চায় না । চোখ মেলে তাকায়, দেখে ইটখোলা, ঘনিয়ালা, আর্যপট্টি, নসিবালি হাকিমের দিঘী, নতুনপট্টি, দুর্গাবতীর খোলা বুক, বুকের উপর বিছাহারনদী বাঁধ অন্নপূর্ণা ঘাট, ঐ দূরে মাছিমপুর, এদিক ঘুরে, কচুদরম বেরেঙ্গা, ঐ দিকে মেহেরপুর কাঠালবস্তি মানে হাওর । জল, চাতলার শুরু, ভাটির দেশের হাওর নয় চাতলা, চাতলার জলে ঢেউ নেই । মাটির ঢেউএ অনন্য এর রূপ । মন চাইলেও নেমে আসে বৈতল । দুর্গাবতীর শূন্যবুকে খোঁজে মিছিমিছির বিছেহার । বলে,
--- একদিন তুমারে লইয়া উঠতাম উপরে
--- তে বাইচ্ছা পুড়ি ইগুয়ে কিতা দুষ করল । তাইর লাইইয়াউ চলো তুমার তালবাড়িত ।
দুর্গাবতী তার স্বামীর সব উদ্ভট খেয়ালে জেরবার হয়ে যায় । ভয়ও হয় । চালনিতে পাকা তাল চেলে চুন দিয়ে গামছায় বেঁধে সারারাত ঝুলিয়ে রাখে উঠোনে । সকাল থেকেই তালের বড়ার উপকরণে বাড়িতে গন্ধের ম ম । দুর্গাবতীর মনেও আনন্দ । তিনভাগে বড়া তৈরি করে । একভাগ পাঠায় জমিদার বাড়িতে । বৈতলকে লুকিয়ে চুপিচুপি, মেয়ের হাত দিয়ে । জানলে আর রক্ষা নেই । তখন দুর্গাকে হতে হয় রক্ষাকালী । বের করে তার দ্বিতীয়ভাগ, বৈতলের বন্ধুদের ভাগ । আর নিজেদের ভাগে তিনজনের মহানন্দ । রসে গন্ধে মোহিত হয়ে বৈতল শোনায় কোকিলা কন্যার বারমাসী,
--- ‘আইল রে ভাদ্রমাস, পাকিয়া পড়ে তাল
      নারী হইয়া লাখের যৌবন রাখতাম কতকাল’
   দুর্গাবতীর হাতটাতও দেয় বৈতল খুশিতে । বলে,
--- চলো না বেটি, একদিন তুমি আর আমি উঠি গাছো ।
--- অয় খুব জিলকি অইছে, নানি । ধুমসি বেটিরে লইয়া গাছো উঠতায় ।
--- তে বাদ দেও, তুমি বেটি যাইতায় নায়, আমি আমার পুড়িরে লইয়া উঠমু একদিন দেখিও । তাই দেখত নানি ।
--- সাবধান কইলাম । তুমিও উঠিও না, তাইরেও না । জানো নানি, ইনাইৎপুরর বিধু মাস্টর কেমনে মরল । গাছো চড়ছে না, তলে উবাই রইছে, বাজ পড়িয়া মরল । তাল গাছো খুব বাজ পড়ে ।
--- আইচ্ছা, যাইতাম নায়, চড়তাম নায় তালগাছো চড়ি যখন লাইছি একবার, পাপ করি লাইছি, তাল পাড়ি লাইছি । অখন মাপ করি দেও গো দুর্গামাই । পিঠা দেও দেখি আর কয়টা ।
--- আর নাই । কত থাকত এক তালো ।
--- অ ‘মুরে যে বুঝাইলে এমতে আর হেমতে
      পাইতলা ভাঙ্গি মাছ পালাইল, সুরুয়া রইল কেমতে ?’       
আমি বুঝি নানি । তুই বেটি কই দেছ । তর হাইরে দিচছ । ইগুরে আমি কুনদিন মারি ফালাই দিমু কইলাম তরে । জমিদার ইগু মানুষ নায় । খাওইয়াইছ না ।
--- কেনে কিতা অইছে । থাকতে তো দিছে ।
--- অয় বিনাপয়সার বান্দি পাইছে তোরে । হে ভাবছে আমিও তার চাকর । চকিদার । পুটকি দিয়া যেদিন বার করমু চকিদারি হিদিন কইছ । আমার বাপেও মারছিল ইলাখান এক আলদরে, গাছুয়া আলদে আমার মারে দেখত ।
বৈতলের ভয়ডর নেই । জমিদারকে মারতে তার হাত কাঁপবে না । বৈতল জানে পাপ করলে, অন্যায় করলে তাকে মরতে হবে । সোজা হিসেব । প্রথম দিনেই মেরে ফেলতে পারত । তখন তো আর বুঝতে পারে নি যে লোকটা এত বদ । থাকতে দিয়েছে বলে কোনও কৃতজ্ঞতা নেই বৈতলেরসে তো আর বৈতল দাস পাটনিকে থাকতে দেয় নি । দিয়েছে সৃষ্টিধর শর্মাকে, দুর্গাবতী শর্মার স্বামীকে । নীচুজাতির মানুষদের প্রতি অপরিসীম ঘৃণা পোষণ করে এই ক্ষত্রিয়গর্বী জমিদার । বাড়ির দাওয়ায় উঠতে দেয় না কোন কুলগৌরবহীন মানুষকে । নকল ব্রাহ্মণ বৈতলকে বলে,
--- বুঝছনি বা বাবন বেটা, ইদেশ স্বাধীন অইয়া আপাঞ্জালি বাড়ি গেছে । ছুটলোক হকলর তেল বাড়ি গেছে । কই সব বাঙালরে খেদাই দিতা পাকিস্তানো, না মৌলানা অউলানা ইতারেও মিনিস্টার বানাই দিল । যোগেন মণ্ডল হিপারো গদ্দারি করল হিন্দুর লগে, ইপারোও বুলে মিনিস্টার বানাইব । বাঙাল আর ছুটলোক হকলর খুব আদর কংগ্রেছর কাছে । আগে মানুষ আছলা, বাবন জমিদারর গাত ছায়া লাগলে হুনছি বেত মারা অইত, অখন তো ছেইছও উঠি যায় । জগজীবন রাম বেটা মুচি তার ও নামর আগে অখন বাবু । ডোম পাটনি চামার চুনার নমঃশূদ্র ধুপি নাপিত মালুয়া হকলর রাজা । আমার লগে ইতা চলত নায় । দশ হাত দূরে থাকি মাতবায় বেটা । সকালে যেদিকে উবাইয়া মাতবায় বিকালে উল্টাদিকে । ছায়া পড়তে দিতাম নায় । কতদিন রাখতাম পারমু জানি না । ভোটো উবাইলে তো একটু ছাড়ন লাগব । তুমি থাকবায় আমার ধারো ধারো । তুমি রেবা আমারে বাচাইছ, ইতানি ভুলমু ।
বাঁচানোর গল্পটা বানানো । ওরকম অনেক ঢপযাত্রায় কাজ করেছে বৈতল । সেই কিশোর বয়স থেকেই । লুলা শিখিয়েছে সাপ ধরতে, সাপের দাঁত ভাঙতে, বিষথলি নির্বিষ করে রাখতে, তারপর সেই সাপ দিয়ে ভয় দেখাতে । দাঁতহীন সাপ দেখেই ভয় পেয়ে যায় যম । বৈতলও সাপ ধরে বাঁচিয়ে দেয় ভিতু জমিদারকে । বৈতল ভয় ভাঙিয়ে জমিদারকে বলে,
--- আপনে যম অইয়া মরার ডর ডরাইন কেনে ।
--- আমি ডরাই না কুনুগুরে । আর আমি কুনু যম উম নায় । তুমি কইলায় কইলায়, আর কইও না ।
--- কেনে কইতাম না আপনার নাম কিতা যম নায় নি । সবেউতো কয় যম জমিদার ।
--- আমার সামনে কয়নি কইলে নু মাটিত গাড়ি লাইমু ।
--- তে কইতাম নায় । আপনে তো জমিদার, রাজা মানুষ । রাজার কুনু নাম অয়নি ।
বৈতল জানে জমিদারের নাম যমুনা প্রসাদ সিং, প্রজার রোষে যমুনা হয়েছে যম । বৈতল জানে জমিদারের অসুখ । জানে তার দুর্বলতা । স্বাধীন দেশে রাজা প্রজার ফারাক নেই জানে । তবু জমি আছে, অর্থ আছে, জমিদারিও আছে । কমবয়সী জমিদারও নট্টকোম্পানির যাত্রাওয়ালা কম নয়, নাটক সাজায় মঞ্চে থাকে না । জমিদার একাই মালিক, কোনও তরফ নেই । খুড়োমশাই একজন আছেন হাবাগোবা, তার কোনও অংশ নেই । খুড়তুতো ভাই আছে পাঁচজন । হরিৎবরণের প্রজারা বলে পঞ্চপাণ্ডব । যমুনা প্রসাদের ভাড়াবাড়িও আছে এখানে ওখানে, ভাড়াটেরাও প্রজা । পাণ্ডবের একজন দুর্যোধন দুঃশাসন রাবণ শকুনি । দাদা জমিদারের নির্দেশ জমিদারির শান্তি বজায় রাখে । সদাশয় জমিদারও দুঃখ দুর্দশার প্রতিকার করেন পরিদর্শনে বেরিয়ে । গরিবের জন্য প্রাণ কাঁদে প্রজারঞ্জনের ইদানীং রাজনীতির ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে ঘনিয়ালার মুসলমানদের ভাই এবং চাচা ডাকছেন । ধন্য ধন্য হয় রাজার । এতদিন যুবারাজার রাজনীতি হয়েছে বৈঠকখানায় । খিলান স্তম্ভগুলি ইদানীং একটু নড়বড়ে, যেমন এক, দুই বাংলা এক করা, দুই, সব মুসলমানকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো আর তিন নম্বরে, ___নেতাজিকে ফিরিয়ে আনা । কিন্তু যোয়াল কাঁধে জোড়া বলদ প্রতীকের কাছে এসব স্তম্ভ কার্যকারী হচ্ছে না দেখে ইদানীং কংগ্রেসের তাঁবেদারি করার মনস্থ করেছেন । কারণ স্বাধীন দেশে কংগ্রেস বিরোধিতার কোনও সুখী রাজনীতি এখনও শুরু হয়নি ।
তবে বৈতলেরও মনস্থির করতে সময় লাগে । শুরুতে যম সিংকে অপছন্দ করার কারণ খুঁজে পায়নি । রাজনীতির একটা ঘন আস্তরণ যে মনের ভিতর রয়েছে বুঝতে পারেনি । যদিও নেতাজিকেই উদ্ধারকর্তা ভেবেছে । দেশভাগ হয়ে যায় তবু নেতাজি ফিরে না আসায় মনে তার দুঃখ জমে । সেই সময়টায় সে অনেকটা কাছে চলে আসে যম সিং –এর রাজনীতিরইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনও কাজ করাতেই অপমান বোধ হয় বৈতলের, যেমন হয়েছে দাড়িয়াপাড়ার পেশকারের বাড়ির গরু রাখালি করতে । পেশকারের সাদা মেয়ে বুড়ির চাকর বলাকেও ভুলতে পারেনি । দেশভাগের অপমান ভুলতে পারে নি বৈতল । দেশভাগের অপমান সরাসরি তাকে বিদ্ধ না করলেও, জাতিগতভাবে এক বোধ কাজ করেছে । মানুষের এই ধর্মাধর্মের ভেদ সে মানে না, আবার একই ধর্মে লালিত হওয়া বংশানুক্রমিক সামাজিকতাও উপেক্ষা করতে পারে না । তাই তো অনেকবার চেষ্টা করেও সে মুসলমান হতে পারেনি । মুসলমানের দেশ হবে বলে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসার অপমান মানতে পারেনি বৈতল । বিভ্রান্তি থেকেই হঠকারী হয় বৈতলযম জমিদারের উল্টো পথটাকেই সোজা রাস্তা মনে হয়েছে । যম সিং বলেছে,
--- হিন্দুস্থানো ইতা চলত নায় । ইখানো থাকলে হিন্দুর মতো থাকন লাগব । হিন্দুস্থানো খালি হিন্দু অউ থাকব । পাওর তলর বেঙ অইয়া পাওর তলে থাকতে পারলে থাকো, নাইলে ভাগো ।
     বৈতল যে – তিক্ততা নিয়ে দেশ ছেড়ে এসেছে, যে তিক্ততা দেখেছে দেশভাগের, গণভোটের আগে ও পরে, তাতে মনে হয়েছে জমিদারের কথাই ঠিক । কুশিয়ারা পাড় হওয়ার পর মনে হয়েছে নিজের দেশ ফিরে পেয়েছে । তখন বন্দীশালা থেকে মুক্তির আনন্দ শুধু । মুসলমানি টুপি ‘তকি’ দেখলেই রাগ, মনে হয় ওদের জন্যই পালিয়ে আসতে হলো । এদের জন্যই সাধুমানুষ পিরমানুষ তার বন্ধু লুলা পাল্টে যায়, হয় নারী শিকারী । নইলে এমন কত খুন খারাবি হয় ওদেশে, মানুষ ভুলেও যায় । জালুয়া মাইমলরা এমনিতেই ক্ষণরাগী, রাগ উঠলে রক্ত না দেখে ছাড়ে না । তার জন্য জেলপুলিশ হলেও কিচ্ছু হয় না । কিন্তু দেশভাগ যে হিংসা প্রতিহিংসা আর অবজ্ঞার জন্ম দিয়েছে । মেহেরপুর ক্যাম্পে থাকার সময় বৈতল শুনেছে অনেক করুণ কাহিনী । অজিত চক্রবর্তী নামে এক সংস্কৃত পণ্ডিত মহাশয়- এর স্মৃতি লোপ পায় । কোনও কিছুই আর মনে করতে পারেন না । অজিত পণ্ডিতের ছেলের কাছে জানা যায় বৃত্তান্ত,
--- বাবা আকতা বোবা লাগি গেলা । বাবার ছোটবেলার বন্ধু আমজাদ চাচা আইলে বাইরর বেঞ্চিত বইতাহিদিন কিতা অইল, বাবা যে আসনো বইয়া পড়াশুনা করইন, পড়াইন, হিঘরো আইলা চাচা । বাবারে রায়টর কথা কইলা । চাচা যাওয়ার পরে বাবায় কইলা ইন্ডিয়াত চলো । তার পরেউ বোবা । কিতা বুঝলায় । বুঝতায় নায়, রায়ট উয়ট কিচ্ছু নায়, অউ যে চাচা আইয়া ঘরো ঢুকলা, তেউ বাবার মাথাত বাজ পড়লোতাইন তান মতো বুঝলা আর মানসম্মান নিয়া থাকা যাইত নায় ।
মানিক দাস নামে এক ভালমানুষ ‘মাটি কামলা’ কোনও তিক্ত স্মৃতি নেইসে মনলোভা মানুষ, ক্যাম্পে কাজ পেলে করে, নইলে চলে যায় বরমবাবার মন্দিরে । মন্দিরের সামনে ভিক্ষে করে । কেউ প্রশ্ন করলে বলে,
--- সাইচান যাইতাম, ভাড়ার পয়সা নাই আমার ।
সাইচান তার বাড়ি । গ্রামের বাড়ির গল্প বলে দাতাকে । টিলার উপর ছবির মতো বাড়ি, বাড়ির নীচে ঢুপির বিল । বিলের জলে মাছ, পারের গাছগাছালি আর পাখির গল্প বলে যায় অবিরল । মানিক দাসের গল্পে কোনও মানুষ থাকে না । বিলের গল্প শুনতে শুনতে বৈতল ফিরে যায় বইয়াখাউরি । ভাল লাগে মানিককে । বলে,
--- তোমার রেবা খালি মাছ গাছ পাখি আর পানির গপ । তোমার কুনু বন্ধু উন্ধু নাইনি ।
--- আছে আমার কত বন্ধু । একজনের নাম মিতা মিতারে চিনো নি । হাওয়াত ভাসাই দেওন লাগে মিতা ডাক । তেউ আইবা ।
--- কেনে, কেউ ছইলেউ তাইন পাথর অই যাইন ।
--- ছেদা নি ।
--- না । তে ছেদার লগেও আমার দোস্তি আছে । আমার মিতা অইলা বনরউ । আমারে ডরায় না । আর অউ যে কইলায় লজ্জাবতী, তাইন ও খেলইন আমার লগে তান ময়ূরপঙ্খী শাড়ি পিন্ধিয়া । আমরার টিল্লার পিছে অউ পারা সপরিগাছ, তার নিচে থাকইন । ছইলেউ অইছে । খালি ছইয়া ছইয়া যাও, আর তারার কী লইজ্জা ।
--- ও ইতো ছইতে মরা ।
--- না লইজ্জাবতী । আমি সাচাইন যাইতাম এক পয়সা দেও ।
বৈতল কাউকে কখনও ভিক্ষে দেয় না । মানিকের সঙ্গে কিন্তু বৈতল নিজের মিল খুঁজে পায় । বৈতল জানে মানিকের ভিক্ষে চাওয়ার ভিখিরির দীনতা নেই । হারানো স্বদেশের খোঁজে মানিক পথে বেরিয়েছে । ভিক্ষেটাই আসল, ভিক্ষের কড়ি তার কাছে অর্থহীন তাই বৈতল তার কাঁধে হাত দেয় ভরসার । বলে,
--- যাইমু, আমরা সব যাইমু আবার দেশো । তুমি সাইচান যাইবায়, আমি যাইমু বইয়াখাউরি ।
কিন্তু একা একা কী করে যাবে বৈতল । কে দেখাবে স্বদেশের অসীম । এখন বর্ডার নামের এক দৈত্য বসে আছে স্বদেশের পারে । লাল লাল পাগড়িওলা এদিকে সবুজ ওদিকে । বন্দুকওলা মানুষ দিয়ে আটকে দিচ্ছে সন্ধ্যাপ্রদীপের আলো, ভোরের আজান বাড়ির মিনার । বৈতল ভাবে এ কেমন খেলা, মানুষ চাইল বলে ভেঙে দেওয়া হয় দেশ । এখন আবার আঠা দিয়ে জুড়ে দেওয়ার কেরামতি । সত্যি কি তবে আঠায় জোড়া লাগে ভাঙা দেশের ভাঙা মন । এসো ভাই বসো ভাই তোমার ভিটেয় বললে দখলদার ছেড়ে দেবে । তাহলে কি জমিদার যমুনাপ্রসাদের কথাই ঠিক, স্বাধীন বঙ্গ হবে । একবার তো চেষ্টা হয়েছে। গুরু সৃষ্টিধর বলেছেন, করাচীতে পাকিস্তান আর কলকাতায় স্বাধীন বঙ্গের রাজধানী স্থির হয়েছে । নেতারা মানেননি, গান্ধিজি চুপ । নেতারা মানলে বঙ্গদেশ অখণ্ডই থাকে । নেতারা মানে নি, এক পক্ষ ভেবেছে মুসলমান প্রধান হলেও হিন্দুবুদ্ধির পায়ের নিচেই থাকতে হবে । ওপক্ষ ভাবে মুসলমান মেজরিটিতে আর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া যাবে না । এখন যদি জোড়া লাগে তা হলে কী হবে বঙ্গদেশ, কী হবে রাষ্ট্রধর্ম, কে হবে রাষ্ট্রপতি । সুরাবর্দি ফজলুল হক । তারা কি এখনও জীবিত আছেন । বিধান রায় । নেতাজি ফিরবেন । নাকি মুখরক্ষার তৃতীয়পক্ষ কৈবর্ত পাটনির যোগেন মণ্ডল । জমিদার যম বলে,
--- রাষ্ট্রপতি হওয়ার একমাত্র উপযুক্ত আছলা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ।অখনও কইয়ার, এক অইল তো বালা, নাইলে সব বাঙালরে ধাক্কা মারিয়া হিপারো খেদাইমু, দেখি লাইও ।
     দেশভাগের কটুত্বে জমিদারের শেষ কথাটার প্রতিবাদ করতে পারেনি বৈতল । তখনকার প্রকৃত পরিস্থিতিই ছিল এমন । এদেশের হিন্দুর কাছে মুসলমান মানেই পায়ের তলার বেঙ । আসলে সংখ্যাগুরুর দাপট দেখে ছিন্নমূল হয়ে এদেশে এসে সব দুর্দশার শেখড় খুঁজে পেয়েছে ধর্মদ্রোহে । তাই তাদের মারো এবং তাড়াও । বৈতল ধীরে ধীরে বুঝে গেছে বাঙালি হিন্দু মুখেই শুধু বড় কথা বলে, করতে পারে না কিছুই । বাঙালি মুসলমানরাই বা কী এমন করিৎকর্মা যে হিন্দু মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে সব । বাঙালি মুসলমান বাংলার মধ্যে দুই বাংলা চেয়েছে, বাঙালি মুসলমান পাকিস্তান প্রস্তাব মানে নি । বাঙালির অবাঙালি নেতারাই উস্কে দিয়েছে । সেই শুরুর সময় একমাত্র নেতা ঢাকার নবাব সলিমুল্লা, সুরাহবর্দি । এরা কি বাঙালি । এসব কথা বৈতলের জানার কথা নয়, গুরু সৃষ্টিধর শিখিয়েছেন । গুরুর শিক্ষা শুধু কথার কথা মনে হয় আপৎকালে । মানুষের মধ্যে অবিশ্বাসের মাত্রা বাড়লে মানুষ থাকে না মানুষ । শুভ চিন্তায় কাজ হয় না । আক্রোশ দিয়ে সব ভাল ভাবনার গলা টিপে মারে । বন্ধু লুলার ব্যবহারে বৈতল নিজেকেই অস্বীকার করে । শুধু হিন্দু রমণী বলেই কেন যে দুর্গাবতীর গায়ে হাত দিতে যায় । বন্ধু লুলাকে মেরে ফেলার অনুশোচনাহীনতাও কি তার জাতক্রোধের উপশমতবে হ্যাঁ, এদেশের নিরাপদ আশ্রয়ে এসে সে অপরাধবোধে আক্রান্ত হয়েছে । আবার জমিদার যম সিং –এর নতুন রাজনীতির তত্ত্ব তাকে তাতিয়ে দিয়েছে । জমিদারের সুরে সুর মিলিয়েছে । ভেবেছে, পাকিস্তান যদি মুসলমানের হয়, হিন্দুস্থান কেন হিন্দুর হবে না ।
 তবে, বৈতল তো বৈতলই । তেলাল শরীর তার, পেক কাদা বসে গেলে ঝরে পড়তে সময় লাগে না । মন্দবুদ্ধি জমিদারের কথার শূন্য বুঝতে তার সময় লাগেনি । যম সিং –এর দুঃস্বপ্নের রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে সে । সত্য মিথ্যে দিয়ে ভুলিয়েছে সিঁদুরটিপের জমিদারকে । বলেছে,
--- আপনে কেনে জমিদার কইন । অখন বুলে জমিদারি উরি নাই ।
--- কে কইল রেবা তুমারে । তুমি কিতা হিন্দু নায়নি । হিন্দুর রক্ত নাই । জানো না বাবনর পুয়া বাবন হয়, হালুচার পুয়া হালুচা হয় । রাজা হয় নি কুনু পাটনির পুত । জমিদারর পুয়াউ জমিদার হয়, হয় রাজা ।
--- কিন্তু জহরলালে তো কইছইন তান নামর আগে যেনে কেউ পণ্ডিত লাগায় না ।
--- ইতা কংগ্রেসি চালাকি । তাইন তো পারলে নামর লগে মুল্লা লাগাই দিবা । তারার কথা ছাড়ো । হিন্দুর দেশো হিন্দুর সব উপাধি লাগানি লাগব । মক্কাত গেলে তারা হাজি লাগানি ছাড়ব নি । আমরারও লাগব, রাজা পণ্ডিত বিদ্যাসাগর সর্দার সব । বাঘর বাইচ্চা কও তারাপুরর করর বেটা, নিজের নামর আগে লাগাইছ সর্দার । ডর দেখানিও তো লাগে ।
--- বউত মুসলমানেও নামর লগে বাঙাল লেখরা অখন । তারার কথা, বাঙাল কইয়া বিদ্রূপ করছ অতদিন । অখন আমরা কইয়ার আমরাউ আসল বাঙালি ।
--- বাঙাল কুনুদিন বাঙালি অইত নায় । তারার দেশ আরবো তারা আরবি অইব । গাট্টি বান্ধিয়া আরবো পাঠানি লাগব ।
--- তে নায় পাঠাইলা । কিন্তু তারার কাম কে করব ।
--- কী কাম রেবা । কী কামর কতা কইরায় ।
--- ধরইন আপনার মুর্তজা ডাকতর । তাইন গেলে গি দাওয়াই কে দিব ।
--- মুর্তজা আবার ডাক্তারনি । হে অইল কম্পাউন্ডার । আর তার ওষুধ অইল এম এন বি গুল্লি । তুমারেউ বানাই দিমু ডাকতরবৈতল ডাকতর । অইব নি ।
--- আর বেচু মিয়া । মাংস বেচবো কে ।
--- আমরা খাইনা ইতা আড়াই পেচর মাংস । হে ছাগিও মিলাই দেয় । বাড়িত কাটমু পাঠা ।
--- আর বছই গেলে কিতা করবা । লুকাইয়া মুর্গি কাটি দিব কে । কইন ।
   বৈতলের আচমকা আঘাতে যম জমিদারের চোখ রক্তবর্ণ হয় ।
বৈতল ভাবে মানুষটার শরীর কেন নীলবর্ণ হয় না । বৈতলের ছোবল যে দুনিয়ার বার । বছই নামের ছোট ছোবল দিয়ে বৈতল তার জাত চিনিয়ে দেয় । হিন্দুবাড়িতে মুর্গির মাংসের চল নেই । বিশেষ করে বড় জাতের হিন্দু, যারা ব্রাহ্মণ যারা জমিদার । অনেক বাড়িতে তো পেঁয়াজ রসুনও বারণ । পাঁঠার মাংস নিরামিষ মশলায় রান্না হয় । একঘেয়েমির আলুনিতে কারই বা ভাল লাগে । যম জমিদারেরও মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় অন্যরকম । যমুনা প্রসাদ সিং নামে যম হলে কী হবে, তারও আছে প্রিয় মানুষ দুএকজন, আছে ইয়ার । খুড়তুতো পাঁচ ভাই –এর বড় যে ভ্রম । ভ্রমদা, ভ্রম ভাইয়া । এখানেও একটা ভ্রমের ব্যাপার আছে । যম সিং আর তার পরিবার এখন আদ্যোপান্ত বাঙালি সিলেটি । তার আপন কাকার পরিবার বিহারি, ভাষাও হিন্দি । ভ্রম যমের ভাই বন্ধুও বটে, আর একজন আছেন কলেজের অধ্যাপক । তিনিও বন্ধু । শহরের মানুষ মান্য করে নিষিদ্ধ পার্টির মেম্বার বলে, কম্যুনিস্ট । ভাই বন্ধু নিয়ে জমিদারের বাগানে প্রায়ই হয় মোচ্ছব । হাকিম দিঘীর পারে হয় বনভোজন, রাতে । এই বাগানবাড়িতেই রাতের সব ধনরত্ন লুকিয়ে রাখে বৈতল ও তার দলবল সেই অনুষঙ্গেই বছই কথার উদয় । জমিদারের দুই বন্ধু, বছই আর বৈতল ছাড়া দুজন জানে এই নৈশ অভিসারের সমাচার । আপদ আর দুখু পায়না প্রবেশ অধিকার, কিন্তু জানে । কারণ আয়োজনের দায়িত্ব থাকে বৈতল । জন স্মীল থেকে বিলাতি মদ কিনে লুকিয়ে রাখে দিনের বেলা । রাতে মুরগি জবাই করে বছই । মুসলমানের হাতের রান্না খেলে জাত যাওয়ার ভয় তাই বৈতল রাঁধে । দুপাত্র গলায় ঢেলেই জমিদার আর তার যুধিষ্ঠির ভাই চড়িয়ে নেয় বাঘের চাদর গায়ে । বৈতল আর বছইকে বারবার সাবধান করে, মদমুরগির কথা পাচকান না করতে । ভেজা গলায় আর তুমির মান্যতা থাকে না সিং প্রতাপের গলায়হয় তুইবলে,
--- অই বেটা সাপর বেজ । তরে বাবন বানাইল কে । তোর বউএ নি ।
   বৈতল সাপের বেজ নয়, বৈতল কুলোপানা চক্করের গোখরা সাপ । লেজ মাড়ালেই দুই দাঁতে ঝাড়ে বিষবলে,
--- অয় । চিনছ না তো আমার বউরে, তরে জমিদার থাকি ভিখারি বানাইয়া ছাড়ব কই দিলাম ।
   জমিদারের দাদা ভ্রম সিংও বাঘের চাদর ওড়ে । বৈতলের কথায় গুম মেরে যায় যম । ভ্রম তেড়ে যায় বদলা নিতে । বলে,
--- অই বেটা রিফুজি । খুব তেল বাড়ি গেছে নানি । ই দেশো আইচছ, থাকরে খাইরে আর জমিদারর মুখর উপরে কথা কইরে ।
--- অখন তো মুখে মাতিয়ার, এরপরে নু হাত দিয়া মাতমু ।
     মদের নেশায় জমিদার তার ভাই আর বৈতলের অবস্থান বদল হয় । বৈতল হয় জমিদার আর দুই ভাই বৈতলের গোসা সামলায় । ভ্রম বলে,
--- আরে মরদে, কাহে গুস্‌সা করো তারা । ছাড় না । ইতা মাতিছ পরে । অখন হুন ইতা যে করিয়ার আমরা ইখানো ইতা কেউরে কইছ না রেবা । তাইন কত মানী মানুষ জানছ নানি । আর বাঙাল ইগুরেও কই দিছ, মাতলেউ দেওলার পেটো যাই বে ।
এতবড় সাহসের কথা জমিদার নিজের মুখে বলেনি তাই রক্ষানইলে জলের কারিগর সেদিনেই শেষ করে দেয় যমের জীবন । বৈতল তার বাপের মতো নয়, একবারের অপরাধ মাপ করে দিয়েছে নেশাগ্রস্ত বলে । জমিদারের চাকর ভাই তো তার কাছে কোমরের ময়লা, মশা মারার মতো টিপে মারতে পারে যে – কোনও সময়ে । যম বড় অপরাধ করেছে, মদের মুখে বউ –এর কথা বলে । বলেছে বলে মরাকে মারার মতো কাপুরুষ নয় বৈতল । জানে বিলাতি খেলে এরকম হয় । যম ও ভ্রম পরদিন কিছুই মনে করতে পারবে না । তবে অধ্যাপক বন্ধুটির হাসি বলে দেয় নেশা হলেও স্মৃতিভ্রংশ হয় না তার । বৈতল জানে, জমিদার তার বন্ধুকে বৈতলের বিশ্বস্ততা নিয়ে অনেক কথা বলেছে । নইলে মানী মানুষ কেন এক রাতের ফুর্তিতে নষ্ট করবে প্রতিষ্ঠা । গরমাগরম কথার শেষে বৈতলের কাঁধে হাত রাখে দীর্ঘতম মানুষটি । বলে,
--- কান্ধো হাত রাখছি এর লাগি আবার গুসা করিও না, যে ক্ষণরাগী মানুষ তুমি । তুমি অইলায় আমার কমরেড রেবা, এর লাগি রাখলাম । আর বুঝলাম যমুনার লগে টক্কর দিতায় পারবায় তুমি ।
--- কমরেড কিতা ।
--- হে, হিদিন নু কইলায় তুমি কমরেড অনন্ত সাধুরে চিনো । তান মিটিংও গেছো ।
--- গেছি, বিয়ানিবাজার থাকতে । বাক্কা আগে ।
--- এর লাগিয়াউ কমরেড । কম্যুনিস্টে বন্ধুরে কমরেড কয় ।
--- ইতা কুনদেশি মাত । বন্ধু কইলে অয় নানি । দোস্ত কইন ।
--- আইচ্ছা রেবা দোস্ত । অত গুসা করলে অইত নায় । ধৈর্য ধরণ লাগব । বিপ্লব আইব । যমুনার জমিদারি শেষ অইব কমরেড নবযুগ আইব । গরিবর শাসন অইলে জমিদার উর থাকত নায় । ফরাসি দেশো রাজারে রানিরে মারছে মাইনষে, রাশিয়াতও মারছে । ভাবিও না, অইব ।
--- আপনে মদ খাইয়া কইরা । অখন হুনতাম নায় কিচ্ছু । আপনারে আমি চিনি । থাকইন বিলপারো । খাসিয়াপট্টি আইয়াও আপনে চুঙা ফুকইন । আপনে অইলা কমরেড গীতেশ বিশ্বাস । আমার রিক্সাত আপনে চড়ছইন নানি আগে ।
--- চড়তাম পারি, মনো নাই
--- আপনারেও জিগাইছলাম ।
--- কিতা ।
--- আপনার কথা আর কামর লগে মিলে না কেনে । ই যম ইগুর লগে আপনার কিতা কমরেডি । হে ত রায়ট লাগাইত চায় ।





চলবে

 < উজান পর্ব ৭ পড়ুন                                                    উজান পর্ব ৯পড়ুন > 




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন