.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৬

স্বাধীনতা

।।  চিরশ্রী দেবনাথ ।।
.................





মিশি আমি স্বাধীনতার সঙ্গে আবদারি মেয়ের মতো
আমাকে দাও মুক্ত খনি, নিবিড় বেঁচে থাকা, রেশমি জীবন
স্বাধীনতা তোমার সঙ্গে যাবো আমি আমার ষাটবছর
আমি কোনো দিন ফিরে না তাকানো  সেই প্রিয়া
স্বাধীনতা আমাকে দাও আমার প্রিয় অহংকারী  রশ্মি যুবক
আমাকে দাও দূষণ হীন নদী অববাহিকা
দাও, ক্লান্ত পাখীর দল,
নীরে জুড়ায়েছি শস্য ক্ষেত, জমিয়েছি ফলরাশি
ঠোঁটে তুলে দেবো তাদের নিশ্চিন্ত রাত, মৌন অন্ধকার
আমায় দাও শহীদের ধুলোবালি, রক্ত ও বিরহ
সময়ের আগে দেবো তাদের মৃত্যুলোভের তিলক
আমার সঙ্গে চলো তুমি বিচ্ছেদের মতো
চলো মোলায়েম তলোয়ার হাতে যোদ্ধাপায়ে
আমার সঙ্গে তোমার যুদ্ধ যুদ্ধ  খেলা, আবাল্যের উষ্ণতা
আমার প্রথম প্রেমের স্বাধীনতা তুমি পাতার কলমে
আমাকে দিয়েছো চিঠি উষ্ণতার
এখনো ঘ্রাণ মুহূর্তে মুহূর্তে আমড়াবোলের
আমাদের রাজপথে স্বর্ণচ্ছটা ঘামের
আমার গ্রামের পথে সবুজ  কিশোরীর শরীরের বিশ্রাম
আমাকে দাও স্বাধীনতা আমার মেয়ের জন্য  নিরাপদ  রাতশহর
স্বাধীনতা আমাকে দিও না  বন্ধ কারখানার ঝিনুককষ্ট
খুলে দিতে চাই মুক্তোর সফেদ মুক্তি 
আমার কাছে আছে দলিতের ক্ষত
দাও খুঁজে বিশল্যকরণী, চৈতালি রাতের চিকিৎসক
আমার কাছে জেগে সন্ত্রাসের সেইসব তরুণ
তুমি দিও তাদের স্বপ্নের ঘুম, আলোর ঘুলঘুলি
ধানের ক্ষেতে উড়ে আসা বকের পালকে
স্বাধীনতা দিও তুমি সীমান্ত নারীর সুখকথা
এসব চাওয়া নিতান্তই সহজ সরল
স্বাধীনতা তুমি হও অতন্দ্র প্রহরী, নতজানু রাজা
তোমার কোলে থাকবো ষাটবছর
বিদায়ের সময় দিও মহার্ঘ্য কনকলতা, শঙ্খসাজ
বরফের শরীরে  বসিয়ে দিও সদ্য মরে যাওয়া একটি উষ্ণ হৃদয়...

 
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন