.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০১৬

গুচ্ছ কবিতা / ঋতুক্ষরণ/চিরশ্রী দেবনাথ

ঋতুক্ষরণ ....(প্রকাশিত, পূর্বমেঘ, ফেব্রুয়ারি মার্চ সংখ্যা, 2016 )

.........................

এক

বসন্তের চলনে একটিই রাগ.... পরকীয়া
মুহূর্ত ধুয়ে, নুয়ে জলপান
ধুলো গেলা, শ্লেষ ঢেলে ঢেলে স্নান

এ তোমার ইচ্ছে লোপাট, বেনামে নিজেকে খোঁজা 
কালবৈশাখী তে তোমার  বড়ো ভয় ......

দুই

........................
তুমি ভাবো এ তোমার বৈরাগ্য, বিষাদ হীনতা
ছবির পাহাড়ে এ তোমার আকুল মিথ্যে

দগ্ধ দিনে মাঠের শেষে যে কুটির
তার আশপাশের সব জল শুকিয়ে আছে

এক নবীন কন্যা আসছে ধীরে.... ধীরে
তার অবাধ চরণ মেঘলালিত
বৈরাগ্য ধোবে না সে
নিরন্তর স্বপ্নবাহিত হয়ে.... হয়ে
তার হৃদয় আজ অলকানন্দা ......

তিন

............................

দীর্ঘ হয়ে জ্বলতে থাকা এক গ্রীষ্মতরুণী
ক্লান্ত হওয়ার জন্য এ জন্ম তার ছিল না
পিচের রাস্তায় বিন্দু বিন্দু হয়ে ঝরে
পড়ে তার খই ঘাম
অসময়ের  পদাবলীই তার অভ্যাস
এতটাই ব্যক্তিগত হয়ে উঠছে তার যাপন
দূর, বহুদূর পর্যন্ত ফুটে নেই একটিও শান্ত, লঘু ঝড়

চার

.............

বৈশাখ কে পরিতৃপ্ত করে গেছে
মিথ্যে, স্থায়ী নিতান্তই ভেষজ এক বসন্তবাঁধ
জলাধারে এতো জল!
ডুবে যায় অনুরাগী জমিন
একটুখানি, আধচরণ বেলীগন্ধ
দূষনের মতো শিরায় এঁকে দিয়েছে
নিরাভরণ আকাশ, গোত্রহীন মেঘবালিকার শন চুল
এখন আর একটুও সময় নেই
বিদ্যুত পরিবাহী সব তার ছিঁড়ে আছে নরম কালবৈশাখীতে ...
থাক, থাক এই অন্ধকার
অন্ধকারে কতদিন দেখিনি দুজন দুজনকে

পাঁচ

...........................

বৈশাখ নিজেকে ভাবে সম্রাটের মতো
মনে করে এই গন্ধদহন, উষ্ণ কাঁচা শাল্মলী
এই রঙ পুড়ে যাওয়া ক্লান্ত চোখ, কেবলি তার 
শাণিত অধিকার তবে থাক তোমারি রাজা ! 
আমি তো বহনে, গহনে ছুঁয়ে থাকা গ্রীষ্ম রাত...
ভাবতে পারো দেবী !  সূর্যমন্দিরে আজন্ম সহবাস
জেনে নিও, মেনে নিও, 
শুধু কবিতার জন্য এই গমনাগমন ....

ছয়

............................

বের হও,  বের হও
এই শরীর সরোবর ছেড়ে
হংসপ্রলাপ, অবগুণ্ঠিত কারণবারি
ছাড়ো ছাড়ো সবই .....
রোদ আর রোদ,  
রোদে ঝলসে নাও গতজন্মের ঋতু......ঋতুক্ষরণ..


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন