.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৬

সুরমা গাঙর পানিঃ উজান পর্ব ৭

   (দেশভাগ এবং পরের দশকের কাছাড় সিলেটের প্রেক্ষাপটে রণবীর পুরকায়স্থের এই উপন্যাস ছেপে বের করেছে দিন হলো। ভালো লাগা এই  উপন্যাস পুরোটা টাইপ করে তুলে আমার প্রিয় কথা শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানালাম। আশা করছি আপনাদের সবার এটি পড়তে ভালো লাগবে। সম্পূর্ণ উপন্যাসের সংলাপ ভাগটি সিলেটিতে -সে সম্ভবত এই উপন্যাসের সবচাইতে আকর্ষণীয় দিক। আপনাদের পড়বার সুবিধে করে দিতে, ঈশানে এই উপন্যাস ধারাবাহিক ভাবে আসছে। আজ তার  উজান  পর্বের  সপ্তম অধ্যায় ---সুব্রতা মজুমদার।) 
সাত

 কদিন দুদিন করে, এক হপ্তা দুহপ্তা করে একমাস কেটে যায় । বৈতলের হেডমাস্টারের আর দেখা নাই । যোগেন্দ্রদ্দার কাছে গেলে কোনও সদুত্তর পাবে না বৈতল । বিশ্বাসই করবে না লস্কর হেডমাস্টারের কথা । বলবে মধুরামুখে কোনও মাস্টারই থাকে না ।
 বৈতল দুআনি হারানোর পরই বুঝে যায় এবার সাধুসঙ্গ সাঙ্গ হলো তার । জগরদেও গাড়োয়ানের কথা মনে লেগেছে তার । যেরকম গোঁয়ার মানুষ, হয়তো জীবনে আর রিক্সাই চড়বে না । তা বলে বৈতলের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করবে । একমাসের মাথায় যায় মধুরামুখের মাস্টারবাড়িতে । তালাবন্ধ বাড়ির চারদিকে অযত্ন । বৈতলের মনে কুডাক ডাকে মায়ের মৃত্যুর পর বাপের বাড়িতে গিয়ে যেমন দেখেছে বৈতল । বৈতলের গা ছমছম করে । হেডমাস্টার নিজেই বলেছে বড়খলায় বাড়ি । ছেলেপুলের কথা প্রশ্ন করেনি । জানতে চায় নি কে রান্না করে দেয় । এমন ধোপদুরস্ত পরিপাটি বেশবাস দেখে কে । কে কাচে, কে সাজায় ।
আবার লাখুদার কাছে যায় । নদীর চরে বাঁধের লাগোয়া এক টুকরো জমি বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে মাঙ্গি সিং আর তার মা । মাঙ্গি সাইকেলের রিক্সা মেরামতের করে । তার মা ফাটক বাজারে মুড়ি বিক্রি করে । শীতের দিনে লাইপাতাও বেচে । মুলো লাই আর সর্ষেবাটার চচ্চড়ি বা রুইমাছে মনিপুরি লাইএর ঝোল হলো শীতকালের অমৃতপদ । বৈতল বুঝতে পারে না নদীর পারের এইজমি এত উঁচু করল কে । কেই বা এই জমির মালিক । মাঙ্গি আর তার মাকেই বা শাকসবজি করার জন্য বেড়া করে দেয় কে । লাখুদাই বা ওদের ছাপটা ঘরের দাওয়ায় বসে চা খাচ্চেন কেন ।
     বৈতলের চোখের সব প্রশ্ন এক করে লাখুদাই হাসিমুখে জবাব দেন । বলেন,
--- দেখছনি না বা মনিপুরি পুয়ায় কীরকম শাকসবজি ফলাইছে । নদীর চররে কি রকম সবুজ বানাইলাইছে । কত কিছিমর ডেঙ্গা ফলাইছে কও । অউ দেখ, ছিংলার লাখান ইতা ডাইলো দিলে কিতা অইব কও, খালি চুষতায় আর অমৃত অমৃত কইয়া ছিবড়া ফালাইতায় । আর অউ মোটা ডুগির লগে কাটল বিচি দিয়া কড়ু । নালিয়াগাছ আর বড় করিয়া লাভ নাই কইছি, কচি দেখিয়া আগপাত বেচিলাউক মাইনষে গিট্‌টো দেওয়ার লাগি নিবা । খাইছ নি বা নালি গিট ।
--- আপনার খালি খানির মাত ।
--- এ, না খাইয়া পারবায় নি । ই মা বেটা কই যাইত আছিল, না খাইয়া মরলনে । অউ মাঙ্গি ইগুর বাড়ি আছিল নদীর পারো, নদীয়ে নিছইন গিয়া । তারাও কুনু নদীরে ছাড়বা নি । আবার মাটি উটি ভরাইয়া বাড়ি করছে । আবার নিতা গি পারইন মা গঙ্গায় । সরকারেও নিতা পারইন । এর লাগি মানুষ বাচত না নি । তুমিও তো রিফুজি, তুমারে জমি দিছে নি সরকারে
--- আর সরকারে দিছে জমি । ঠগর বাড়ি নিমন্ত্রণ আচাইলে বিশ্বাস । কিচ্ছুর ঠিক নাই । আপনে দিবা নি ।
--- আমি কুনু জমিদার নি বা । নদীরে কও, তাইন দিলে দিতা পারইন । এক টুকরা লইয়া বই থাকো । দেখা যাইব নে ।
--- ইতা জাহাজ কম্পানির চাকরিত নাই আমি । আইজ আছে কাইল নাইকাইল কেউ আইয়া কইব উঠ, তেউ কই যাইতাম
--- কেউ কিচ্ছু কইত নায়, তুমি আইও আমার লগে থাকবায় ।
--- আইচ্ছা অইব নে । ইতা আজারি মাত বাদ দেইন । কইছলাম যে একটা কথা, কিচ্ছু কইলা না ।
--- অ, তুমি কইছলায় ভুগল শিখতায় । যুগেন্দ্রর কাছে পাঠাইছলাম, তার লগে লাগালাগি করলায় লস্কর মাস্টারে শিখাইছে নানি ।
--- শিখাইছলা । কিন্তু তাইনতো নাই অখন বাড়িত । কই গেলা ।
--- হে আর আইত নায় । বাড়িত গেছেগি চাকরি ছাড়িয়া ।
--- আমার কুনু দোষ নাই তেও আমার উপরে গুসা করলো । জগড়দেও গাড়োয়ানে কইলো এর লাগি রিক্সা চড়া ছাড়ি দিলা ।
--- হে অলাখান অউ মানসম্মান বেশি যেতা ভালা মনো করে অতাউ করে । এমন বিয়া এগু করল তো দেখাই দিল কেমনে থাকন লাগে । অয়, তোমারও তো টিপ একটা কমি গেল । দেখি হিদিকে যাওয়ার তো বউত আছে, কই দিমুনে ।
--- না, টিপ উপ লাগে না । তানে এক কথা কইমু ভাবছিলাম ।
--- জানি । ভুগল নানি । আমি কইমুনে । তোমার হেডমাস্টারে যাওয়ার আগে আমারে কইয়া গেছইন ।
--- আমি কুনু তানে জিগাইছিনি ।
--- হে হক্কলতা জানে । অউ যে বড়বেকা যেখানো অইয়া ত্রিভঙ্গ অইছইন, নানি । লস্কর মাস্টরর বইত বুলে লেখা আছে, ঘোড়ার নালর লাখান ।
--- বইত লেখা থাকলেউ অইব । তান অত ছুং নি । আমারে কইয়া যাইতা পারলা না ।
     মাস্টারের উপর অভিমান নিয়েও বৈতল মেনে নেয় । হাজার হোক লেখাপড়া জানা মানুষ । রাগ করলেও কাজের কথা ভোলেন নি । কিন্তু ঘোড়ার নাল নিয়ে বৈতলের ধন্দ যায় না । তা বলে বই-এর লেখা তো আর মিছে হয় না । ঘোড়ার গল্প শুনছে, ঘোড়া দেখেছে দুএকটা । কাছাড়ের ঘোড়া নিয়ে অনেক কথা শুনেছে সৃষ্টিধর ওঝার কাছে । চা বাগানের সাহেবের ঘোড়া, ডাক্তার কবিরাজের ঘোড়া, রায় বাহাদুর খান বাহাদুরের ঘোড়া, ঘোড়াদৌড়ের মাঠে ঘোড়ার ভূতও তাড়া করেছে কাউকে কাউকে । ঘোড়ার খেলা পোলা দুনিয়ায় প্রথম হয় কাছাড়ে । ঘোড়ার ভূতের কথা বলেননি সৃষ্টিধর গুরু, যেসব বলেছে দুখু । টোপাকুলের গাছ একটা আছে মাঠের মাঝখানে, ওখান থেকেই দৌড় শুরু হয় অন্ধকার রাতে, খট্‌খটা খট্‌, খট্‌খটা খট্‌ । দুখু বছই আপদকে নিয়ে যাবে এক রাতে । ঘোড়া ভূত আর মানুষ ভূতের খেলা জমবে ভাল । বৈতল শুধু দেখবে ঘোড়ার পায়ের নাল । বলদ গরুর পায়ে নাল পরাতে দেখেছে ইটখোলা ঘাটে অনেকটা ছোট মাপের হাঁড়িকাঠ । মাঙ্গির দোকানেই পাওয়া যায় । কিছুটা মেলে, অনেকটাই মেলে না । তুলনা কিংবা উপমা সবসময় যে সঠিক হয় না বৈতল জানে । কল্পনার জোর থাকলে কালো জিনিষ দুধের বর্ণ হয়, টানটান লোহার দণ্ডকেও ধনুকের মতো দেখা যায় । নদীকে আর নদীর বাঁধকে ভালবাসলে দুর্গাবতীর গলার বিছে হারও মনে হতে পারে । ভালবাসার ধনকে যেভাবেই দেখা যায়, সেই দেখাই সত্য । দুর্গার গলায় বিছে হার দেখেনি বৈতল, পাগলার জমিদারনির গলা থেকে নামিয়েছে একবার তার বালক বয়সে । বৈতল তো রইদপুয়ানিতে তার প্রথম প্রেমিকাকে ফিঙ্গের সঙ্গে তুলনা করেছে । সে কি শুধু লেজঝোলা পাখির রঙ দেখে সাজিয়েছে । সেই কৃষ্ণা তো এখনও তার মনের তারে বসে লেজ ঝোলায় । নদীর কথা হলেই বৈতলের ভরাগাগরি দুর্গাবতীকে মনে পড়ে । জলের সব ধর্ম যে খুঁজে পায় দুর্গাবতীর মধ্যে । বৈতল বলে ‘নিন’, দুর্গাবতীর গভীরে ডুব দিয়ে বৈতল তল পায় না । দুর্গাবতী এদিকে হাসলে ওদিকে পাড় ভাঙে । হেডমাস্টর বলে কাঁখে গাগরি । বৈতল দুর্গাবতীর কাঁখের বাঁক দেখেছে । উপমা সঠিক হয়েছে । বড়াইল পাহাড়ের তীব্র জলধারা বহন করতে গিয়ে বরাক নদীরও ভুলচুক হয় । দুর্গাবতীও পাড় ভেঙে তছনছ করে দেয় । বৈতলমনের অনেক দুর্গতির কারণ হয়েছে বৌ দুর্গাবতী । কখনও খরস্রোতা করালবদনা কখনও মিঠেপানির ভরাকলস । দুর্গাবতী যখন মিঠে থাকে তখন কথার স্রোতে ভাসিয়ে নেয় বৈতলকে । বলে,
--- বর্ষার নদীরে মানন লাগে । গাভিন সময় বেটিনতর বড় কষ্ট, আবার সুখও ।
গাভিন কথাটা শুনে এত ভাল লাগে বৈতলের যে গাল টিপে দেয় টুসটুসে বৌ এর । কপটরাগে খলবলিয়ে ওঠে দুর্গা । বলে,
--- ইতা কিতা ।
--- কিতা আবার । গাভিন । তুমার মুখো ইকথা যেনে কালীনাগর দংশন ।
‘কনিষ্ঠ অঙ্গুলি হতে করে চিম চিম ।
ক্রমে ক্রমে সর্ব অঙ্গ করে রিম ঝিম’ ।
--- করঅউক রিমঝিম । আমি অখন ই তিন সন্ধ্যাত জিয়ানি দিতাম পারতাম নায় । থাকো ঢলিয়া ।
--- ঠিক আছে । রাইত অউক । কিন্তু তুমি মাজেমাজে ইতা কিতা মাতো বুঝি না । নদী আবার বেটি অইলা কেমনে । নদীর আবার পেট কিতা গাভিন কিতা ।
--- ইতা বুঝতায় পারতায় নায় তুমি । তুমি খালি ঠুকরাইতায় পারবায় । কুনু কামর ভাগ নাই ।
--- কিতা কইলায় । দেখতায় নি ।
--- না অখন দেখানি লাগত নায় । বর্ষা গেলেউ দেখবায় ।
--- কিতা দেখমু ।
--- দেখবায় আনে আর বানে । ফলে ফুলে ধানে আনাজে ঝলমলি উঠবো দেশ । কার অউগদা ।
--- নদী নি ।
--- তে মায় যেলাখান পেটো ধরছইন আমরারে, নদীও আমরার মা ।
--- কোন নদী । তুমি তো সুরমা, পিয়াইনর বেটি ।
--- না তারারে ভুলি গেছি । অখন তেড়া ভেড়া বরাক অউ মা ।
--- খালি মা কেনে । আমার গুরু সিস্টিধরে কইন নদী পুড়ির লাখান । খালি তিড়িং বিড়িং করইন । আর গুসা উঠলে অইন মা মনসা ।
     বর্ষায় বরাক নদীও মা মনসা হয়ে ওঠে । চন্দ্রধরের মতো দুর্গতি শহরবাসীর । লোহার বাসনের মতো বাঁধ নিয়ে ঘিরে রাখতে হয় শহর । জাহাজঘাট থেকে মধুরা মুখ হয়ে দুধপাতিল ইটখোলা আর অন্নপূর্ণা ঘাটের অদূরে গিয়ে শেষ হয় মাটির প্রাচীর । যেখানে বৃষ্টির জল আর নদীর জল একাকার । এই তো মাটির বাসর । মানুষ, মানুষের ঘরবাড়ি, গৃহপালিত জীবজন্তু ডোবে, আবার বাঁচে । তরোয়াল হাতে লড়াইএর ‘তাও’ শুধু । প্রকৃতিই জেতে শেষ পর্যন্ত । প্রকৃতির ভিতর থেকে মানুষের জয় হয় । এক এক যুদ্ধের পর, ‘মনকাষ্ঠের নাও শূন্যে করে উড়া’ । আবার মানুষ জাগে ।
রইদপুইয়ানির গুরুর অভাব পূর্ণ করতে হেডমাস্টারের শরণ নেয় বৈতল । সেই মাস্টারও বৈতলের মনে দাগা দিয়ে চলে যায় । বৈতল তো আর কিছুই চায়নি, শুধু লাগসই একটি উপমা চেয়েছিল । নিজের মুখে বলতে পারতেন । তা নয়, লাখুদার কাছে জমা রেখে চলে গেলেন বড়খলা । আসলে, বৈতল বন্ধু দুখুর সঙ্গে লড়াই- এর একটা হাতিয়ার চায় । গুরু সৃষ্টিধর তাকে অনেক দিয়েছেন, সবই ভাবের ঘরের কারিগরি । রাঁদা ঘষে ঘষে আসবাব চিকন করার কথা । রইদপুয়ানির গুরু বলেন,
--- মনাসা পুথিত অতো উপমা টুপমা নাই রেবা, সোজা কথা সোজা কথাত লেখা । মাইনষর বিড়ম্বনা, মাইনষর সর্বনাশ আর তারার লড়াই করার কথা । চান্দ সদাগরর নাও কই ডুবে । নদীত ডুবে । কালীদয় সাগর ও নদী অউ । নদীর লগে লড়াই করইন বানিয়ায়, শাহের পুড়ি বেউলায়ও কম কষ্ট করছইন নি পানির পথো । অউ যুদ্ধ দেখিয়াউ মানুষ জাগে । আর পানি কুনু জানান দিয়া ডাকইন নি বিপদরে । এর লাগিউ অজানা বিপদ যতদিন আছে, মনসা দেবীও আছইন । পানির সময়, গুলার সময় নায় গাইলাম বাচার গান । অন্য সময় কিতা করতাম । এর লাগিউয়াউ আমি মনরে ভিজাই রাখি, লুলাই রাখি, আলাদা গান গাইয়া । শাড়ি জারি ভাওইয়াইয়া থাকি পিরাকির গানও গাই । পদাবলী গান গাই । আব্দুল গফ্‌ফার দত্ত চধরির গান গাই । মিরাশীর বিশ্বাস বাড়ির একজনেও অখন খুব গাইরা, গাউয়ে গাউয়ে ঘুরিয়া গাইরা । দেশ স্বাধীন অইব, মানুষরও বলে মুক্তি অইব । জালালি কইতরর লাখান উড়া দিব মাইনষে । অখন তো রবি ঠাকুরর গানও মাইনষে খুব হুনইন । আমি গাইতাম পারি না, তে হুনলে খুব ভালা লাগে; বড় শুদ্ধ ভাষাত লেখা ।
এক গরুর গাড়ির গাড়োয়ানের কথায় রাগ করে মাস্টার তার রিক্সা চড়া ছেড়ে দেয় । চাকরি বাকরি ছেড়ে চলে যায় দেশে । মনের দুঃখ মনে চেপে বৈতল খুশি হয় । হেডমাস্টার তার কথা রেখেছে । তাকে বই-এর উপমা খুঁজে দিয়েছে, দুখুর মুখ বন্ধ হবে এবার । তাই খুশি মনেই সে হেডমাস্টার নিয়ে যুগেন্দ্রদ্দার অমতের কথা জানতে চায় লাখুদার কাছে । বলে,
--- আইচ্ছা, কইন চাইন, ই বড়খলার বড়মানুষ এইন হাচারির হেডমাস্টার নি ।
--- আগে কও তাইন যে হেডমাস্টর নায় ইকথা তুমারে কে কইলো ।
--- কেনে, যুগেন্দ্রদ্দা । তাইন কইন মধুরামুখো বুলে কুনু মাস্টর অউ থাকইন না
--- যুগেন্দ্রয় কইছে নি । চকিদার অইলে কিতা অইব, যুগেন্দ্রর চউখরে ফাকি দেওন যায় না । তার কথা ফালাই কেমনে কও ।
--- অ । আপনেও তান কথাত তাল দিরা । আইচ্ছা কিতা কইছলা মাস্টরর বিয়ার কথা কইন না ।
--- তোমার হেডমাস্টারে এক বিয়া করছিলা মুসলমান ছুকরিরে । এর লাগি গাউ থাকি খেদাই দেয় তারে । ইখানো আইয়া ঘনিয়ালাত বাড়ি লইছিল । মাইনষে কয় হেও বুলে মুসলমান অই গেছিল । আজারি মাত । তার বউ আঙুর বড় ভালা পুড়ি আছিল ।
--- আছিল মানে কিতা ।
--- তুমি তো তার বাড়িত গেছো, দেখছ নানি তার বউরে ।
--- না ।
--- বিয়ার পর থাকি অউ অসুখ । হাড্ডির রস শুকাইয়া অউ পাটকাটি হই গেছিল । লস্করর পুয়ায় কত ডাক্তার দেখাইছে । শেষে সবে জবাব দিলাইলা যখন, তখন বীরেশ ভটর ঔষধ খাওইয়াইয়া টিকাইয়া রাখছিল । মরি যাইব জানিয়াও কী যত্ন করত বৌরে । ছান করানি খাওইয়ানি হাগানি মুতানি সব করছে । আঙুরেও বড় ভালা পাইত তারে । আকতা একদিব মরি গেল । হেও গেল গি । কই গেল কে জানে । হে যাইত নায় আমি জানি, বড়খলাত আর যাইত নায় ।
--- তে কই যাইবা ।
--- পেটো বিদ্যা আছে, আবার কুনু ইস্কুল খুলব । আবার কুনু বৈতলর হেডমাস্টর অইব





চলবে

 < উজান পর্ব ৬ পড়ুন                                                    উজান পর্ব ৮ পড়ুন >








একটি মন্তব্য পোস্ট করুন