Sponsor

.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

Tuesday, August 2, 2016

সন্ত্রাসবাদ বনাম ধর্ম




।।সুমনা চৌধুরী।।
 
Bangladeshe Akromon 03
ম্প্রতি ঢাকা গুলশান হত্যাকাণ্ডে সন্ত্রাসীদের দ্বারা "আল্লাহু আকবর" ধ্বনি দিয়ে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করায় দেশের কিছু কিছু মহল থেকে সন্ত্রাসবাদ আর ইসলাম এর সমার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একশ্রেণির লোক সোশ্যাল মিডিয়া সহ প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্মকে সন্ত্রাসের ধর্ম আর সমস্ত মুসলমান দের কে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করছে। যাই হোক সন্ত্রাসবাদ কী বা ধর্ম ই বা কী সেটার ব্যাখ্যায় আমি ততটা না গিয়ে একথা হলফ করে বলতে পারি যে যারা ধর্ম কে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সমার্থক হিসেবে দেখছেন এরা প্রকৃত অর্থে এর সংজ্ঞাটাই জানেন না। পৃথিবীর কোন ও ধর্মই বলেনা মারামারি -হানাহানির কথা, প্রাণনাশের কথা,  (এ সত্যটা সবাই ই জানেন কিন্তু  কিছু কিছু মানুষ কখনো কখনো ভুলে যান প্রকৃত ধর্মের সংজ্ঞাটা নির্ধারণ করতে)।  বলে কিন্তু মানুষই। যারা উগ্রতায় বলীয়ান হয়ে ধর্ম তো দূরের কথা মানুষকেই কোনও প্রাণী বলেই গণ্য করেন না। তাইতো ধর্মের অপব্যাখ্যা করে অবলীলায় এরা হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করতে নেমে পড়েন যাদের হাত কাঁপে না কারো প্রাণ কেড়ে নিতে।
         একটা কথা যে, সমস্ত বিশ্বে ত্রাস সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইসিস যে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মগজ ধোলাই করে সন্ত্রাসী কার্যে নাম লেখাচ্ছে একশ্রেণির লোককে আর হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করছে তা বুঝতে আর কারোর অসুবিধে নেই বর্তমানে। প্রশ্ন হল তারপরেও কেন কিছু মহল থেকে আইসিস এর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডকে ইসলামের সঙ্গে গুলিয়ে ইসলাম আর মুসলিমকে অপবাদ দিয়ে ক্রমাগত মুণ্ডুপাত করা হচ্ছে?.. ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান এ যেখানে বলা হয়েছে যে, "যে একজন নিরীহ লোককে হত্যা করল সে সমগ্র মানব জাতিকেই হত্যা করল..  অতএব পাঠকবৃন্দ এই লাইনটা পড়ার পর আপনাদের আর কারো বুঝতে অসুবিধা রইল কী যে ইসলাম আর সন্ত্রাসবাদ এর সমার্থকতা- সম্পর্ক নিয়ে??..
ফিরে আসি এবার  ঢাকা হত্যাকাণ্ডে "আল্লাহু আকবর" ধ্বনি প্রসঙ্গে।
           আইসিস ইসলাম ধর্মের নাম এ কী পরিমাণ জঘন্য কর্মকাণ্ড সংগঠিত করছে এবং কোরানের ভুল অপব্যাখ্যা করছে তা বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব ই দেখতে পাচ্ছে এবং বুঝতে পারছে তাই মুসলিমদের মধ্য থেকেই বর্তমানে আইসিসএর বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠছে সর্বত্রই যা অবশ্যই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে হওয়া উচিত আর আওয়াজটা অবশ্যই আরো জোরদার করা উচিত এসব নরপশুর বিরুদ্ধে কারণ এরা ইসলাম সহ মানবতার শত্রু।
           ঢাকা সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ডে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের দেশে একশ্রেণির লোক প্রকাশ্যে কিংবা নিউজ-পেপার কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্ত্রাসবাদ আর ইসলামকে মিলিয়ে অবিরত উগ্র মন্তব্য করে যাচ্ছেন কিংবা লেখে যাচ্ছেন। ইসলাম আর সন্ত্রাসকে গুলিয়ে ফেলছেন এরা "আল্লাহু আকবর" ধ্বনি দিয়ে সন্ত্রাসবাদীরা তাদের সন্ত্রাসী কাণ্ড সংগঠিত করায়।
            অনেকে এই বলে কটাক্ষ করে  প্রশ্ন তুলছেন যে "ইসলাম ধর্ম বা "আল্লাহকি তাহলে সন্ত্রাস আর ধ্বংসলীলাকে সমর্থন করেন কিংবা আল্লার নামে হত্যাযজ্ঞ?.. অনেকে আবার ঘৃণাভরা নজরে বলছেন যে, ইসলাম ধর্মাবলম্বী লোক বা মুসলমান মাত্রেই সন্ত্রাসবাদী! কিন্তু যারা এসব বলছেন তারা ভুলে যান যে উগ্রতায় বলীয়ান হয়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ যারাই করে তারা যে ধর্মাবলম্বীর লোকই হোন না কেন ওদের মধ্যে তখন ধর্ম বলে কিছু থাকেনা থাকে শুধু পাশবিকতা -উগ্রতা আর হিংসা-জিঘাংসা। ওদের মধ্যে থাকে হয়ত ধর্মের অপব্যাখ্যা করাও।
               আমরা ভুলে যাইনি ৯০ এর দশকে আমাদের দেশে বাবরি মসজিদ ধ্বংস কাণ্ডের সময় কিছু উগ্র লোকের জয় "শ্রী রাম ধ্বনি" দিয়ে উল্লাস প্রকাশ কিংবা ভয়াবহ গুজরাট দাংগার সময় সেই শিওরে উঠা দৃশ্য মা এর পেট কেটে ভ্রূণটা ত্রিশূলের -তলোয়ারের আগায় তুলে কিছু নরপশুর উল্লাসে মত্ত হয়ে চিৎকার করে "ভারত মাতা কি জয়" কিংবা "জয় শ্রী রাম" ধ্বনি দেওয়া যা দেখে গোটা দুনিয়া জুড়েই মানবতা-বোধ বলে কিছু রইল কিনা বলে প্রশ্ন উঠেছিল ! তো তখন কি আমরা ওইসব ধ্বংসকারী-হত্যাকারী কিছু নরপশুদের কে পাশবিক কার্যকলাপ দেখে সমস্ত হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোক বা হিন্দু ধর্মকে কি কাঠগড়ায় তুলব?.. যে ত্রিশূলের ডগায় ভ্রূণ টা তুলে নাচল কিছু নরপশু সেই "ত্রিশূলটা কে দেবাদিদেব শিবের হাতিয়ার বলে প্রশ্ন তুলব কি ভগবান শিবের উপর আর হিন্দু ধর্মের উপর কিংবা হিন্দুধর্মকে কুঠারাঘাত করে মুণ্ডুপাত করব কি তখন?...এটা কি সমর্থনযোগ্য?.. ঠিক যেভাবে আল্লাহু আকবর" ধ্বনি নিয়ে বর্তমানে যেরকমভাবে ইসলাম ধর্মের উপর কুঠারাঘাত করা হচ্ছে কিছু মহল থেকে?..
            প্রশ্ন হল "আল্লাহ" বা "রাম" এর নামে কি ধ্বংসলীলা -হত্যালীলা কার্য সংগঠিত করার জন্য কোন ও ধর্মগ্রন্থে লেখা আছে কী? কিংবা আল্লাহ বা রাম কি হত্যালীলা-ধ্বংসলীলা করার জন্য কোথাও নির্দেশ দিয়েছেন কী?..
তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আইসিস বর্তমান বিশ্বে এক ত্রাস হিসেবে আছে তার সংগঠিত জঘন্য -পাশবিক কার্যকলাপ আর হত্যাকাণ্ড দ্বারা।
           আর হাতে গোনা কজন ছাড়া আইসিস এর বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিম থেকেই প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। আইসিসের বিরুদ্ধে জেহাদের ডাক দিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের সাধারণ লোক থেকে শুরু করে উলেমা রাই। তাই যারা আইসিস কে ইসলাম ধর্মের সঙ্গে এক করে মিলিয়ে ইসলাম আর মুসলমান কে কটাক্ষ করে মনে বিদ্বেষ ভাব পোষণ করে মুণ্ডুপাত করছেন তারা কিন্তু একবারের জন্য হলে ও এটা ভাবছেন না যে, আইসিস দ্বারা সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে এই মুসলিম দের  বিরুদ্ধেই। গত রমজান মাসে তুর্কি, কাবুল, সৌদি আরব, বাগদাদ, ঢাকা এই ৫ জায়গায় ই আক্রমণ করে মুসলিম দেরকে ই হত্যা করা হয়েছে (যদি ও ঢাকা আক্রমণে কিছু অমুসলিমরা ও নিহত হয়েছে)..  তাই মানবতার শত্রু আইসিসকে কখনো কোন ও ধর্মের নামে মিলানো ঠিক না কেননা পৃথিবীর কোন ও ধর্মই মানব হত্যার কথা বলেনি। ইসলাম ধর্মের পবিত্র কোরানে যেখানে বলা হয়েছে "যে একজন নিরীহ মানুষ কে হত্যা করল সে পুরো মানব জাতিকেই হত্যা করল। তাই ধর্মের নাম করে যারা নিরপরাধ  মানব হত্যা করে এদের যে ধর্ম সম্বন্ধে ভালভাবে কোন জ্ঞানই নেই সেকথা হলফ করে বলা যায়। আর ঢাকা হত্যা কাণ্ডে ও যেসব তরুণ সন্ত্রাসী জড়িত ছিল যারা উচ্চবিত্ত ঘরের বিদেশে পড়াশুনো করা এদেরকে দেখে মনে হয়না যে এরা প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা, মানবতার শিক্ষা পেয়েছে পরিবারের কাছ থেকে। এছাড়া ও হয়তো সঙ্গ দোষেই কেউ বা বখে গিয়েছিল। তাই এদের এমন মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য কোন ও ধর্ম কে কাঠগড়ায় তুলা মোটেই ঠিক নয়।
অনেক কে ই দেখেছি প্রায়ই এটা বলে বিষোদ্গার করেন যে "সব মুসলমানেরা সন্ত্রাসী নয়, কিন্তু সব সন্ত্রাসীরা কেন মুসলমান হয় বলে প্রশ্ন তুলেন আর সঙ্গে এটা ও বলেন যে এসব হল ইসলামি সন্ত্রাসবাদ! এখন এটা যদি আমি বলি যে সন্ত্রাসবাদকে কখনো ধর্মীয় পরিচয়ে দেখা ঠিক নয় তখন অনেকেই তা মানতে চাইবেন না কারণ হিসেবে বলবেন মুসলিমরা ই ধর্মের নাম করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংগঠিত করছে তাই এদেরকে ইসলামি সন্ত্রাসবাদী ই বলা উচিত! এটা অবশ্য  সত্য যে ধর্মের নাম করে আইসিস সহ কিছু উগ্রবাদী সংগঠন তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু মুষ্টিমেয় সন্ত্রাসীদের জন্য গোটা ধর্ম কে কাঠগড়ায় তোলা মোটেই ঠিক না।
            আর এ প্রসঙ্গে যদি আমরা ইতিহাসের দিক সহ বর্তমানের দিকে তাকাই তাহলে হয়ত ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে তাদের কাছে যারা এমন বলেন !
             হিটলার, জোসেফ স্তালিন, মাও সে তুং, মুসলিনী, অশোক ইত্যাদি অমুসলিমরা কয়েক বিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে। জর্জ বুশ ইরাক-আফগানিস্তানে আক্রমণের নাম করে অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যা, মায়ান্মারে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী দ্বারা রোহিংগাদের উপর পাশবিক হত্যালীলা, নির্যাতনের দৃশ্য দেখে আতঙ্কে শিরে উঠতে হয়, যা বর্তমানে ও  বিদ্যমান। এছাড়া ও রয়েছে গাজা, সিরিয়া, ইরাক ইত্যাদিতে আক্রমণের নাম করে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ কে হত্যা । আর আসামে তো কদিন পরপরই বড়ো জঙ্গী দ্বারা নিরীহ মুসলিম নারী-পুরুষ -বৃদ্ধ-শিশুকে নির্বিচারে গণহত্যার ঘটনা আমরা দেখতে পাই কিন্তু মিডিয়া সহ কেউ তো কখনো বলেনা যে এরা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সন্ত্রাসী বলে?..
13659079_1082634251824121_403645425226673364_n
              কোন ও ধর্ম কখনোই সন্ত্রাসের পক্ষপাতী নয়, পৃথিবীর সকল ধর্মই মানবতাবাদ, শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলে,তাই সন্ত্রাসবাদ কখনোই ধর্মের অংশ হতে পারেনা।আইসিসকে যারা ইসলামি সন্ত্রাসবাদ বলে মনে করেন সেই আইসিস কেন তাহলে ইসলামের শত্রু বলে পরিচিত ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনা?? তাহলে "ডাল ম্যায় কুছ কালা হে ক্যায়া"?.. কিউবার সাবেক রাষ্ট্রপতি ফিদেল কাস্ত্রো কিছুদিন আগে অভিযোগ করেছিলেন যে আইসিসকে নাকি আমেরিকা আর ইজ্রায়েল অস্ত্র শস্ত্র সরবরাহ করে আর এদের ছায়াতেই আইসিসের নাকি এর বাড়বাড়ন্ত! অভিযোগের সত্যতা কতখানি জানিনা, তবে এ অভিযোগের বিরুদ্ধে অবশ্য ই তদন্ত করা উচিত রাষ্ট্রসংঘের।
               এছাড়া ও ইদানীং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের দেশের নেতা মন্ত্রী থেকে শুরু করে একশ্রেণির লোক প্রকাশ্যে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপ-পেজ তৈরি করে ক্রমাগত সম্প্রদায়ভিত্তিক Hate speech দিয়ে যুব সমাজকে ক্রমাগত উগ্রবাদী করে তুলছেন, সমাজকে বিষিয়ে তুলছেন। নিজ ধর্ম ব্যতীত অন্য কোন ও ধর্মই শ্রেষ্ঠ না এই প্রতিযোগিতায় নেমে অনেকে তো সম্প্রদায়ভিত্তিক বিদ্বেষী বলে নিজেকে পরিণত করছেন। কোথাও প্রবল গালাগালি তো কোথাও এক সম্প্রদায়ের লোক অপর সম্প্রদায়কে দেখে নেওয়ার হুমকি আর এর জেরে কোথাও কোথাও কোন ও কোন ও জায়গায় আমরা দেখতে পাচ্ছি যে মারামারি -পিটাপিটি কিংবা হত্যাকাণ্ড ও সংগঠিত হচ্ছে আর এর মূলে আছে যে সেইসব শিক্ষিত সন্ত্রাসীরা যাদের হাতে হয়তো বন্দুক-বোমা নেই কিন্তু কলমের ধার আর মুখের বলে এরা কিন্তু এক সম্প্রদায়ের লোকের মনে ক্রমাগত বিদ্বেষ ভাব ঢুকিয়ে অপর সম্প্রদায়ের লোক কে হত্যা করতে প্ররোচিত করছে। প্রশ্ন হল, এইসব সন্ত্রাসীদের আমরা কী বলে আখ্যায়িত করব যারা নিজ ধর্ম কে শ্রেষ্ঠ করতে গিয়ে মানুষের মনে অপর ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ভাব ছড়িয়ে হত্যালীলা সংগঠিত করতে সহায়তা করছেন। এদেরকে ধর্মের ভিত্তিতে হিন্দু/ মুসলিম সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করব কি না মানবতার শত্রু বলে আখ্যায়িত করব পাঠকবর্গ আপনারাই বলুন তো?...
              কেন আমরা সমস্ত সন্ত্রাসবাদ কে ই ধর্মের পরিচয়ে না দেখে মানবতার শত্রু বলে দেখতে যাই না?..তাহলে এখানে ও কি কিছুটা কুটচাল রয়েছে যে, ধর্মের পরিচয়ে সন্ত্রাসবাদ কে সমার্থক করে দেখলে নিজ ধর্ম শ্রেষ্ঠ বলে ই পরিগণিত হবে?..  বলতে গেলে এ এক মজার খেলা যেন কিছু লোকের কাছে পরিণত হয়েছে যারা সন্ত্রাসবাদ আর ধর্মকে মিলিয়ে এক করে দেখেন। এখানে ও কিন্তু বলতে গেলে পক্ষান্তরে রয়েছে সেই উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের মতোই মনোভাব যারা বাহুবলে নিজের প্রভুত্ব বিস্তার করতে চায় আর এরা চায় কথার চালাকিতে নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসার। তাহলে দেখুন কোন ও সন্ত্রাসী আর কোন ভাল মানুষের মধ্যে তফাতটা তাহলে রইল ই কোথায় আর?.... প্রকৃত ধার্মিকরা কখনো অপর ধর্মকে কুঠারাঘাত করেন না, ভিনধর্মাবলম্বী লোকদের হত্যা করেন না। করেন না ত্রিশূলের-বন্দুকের -বোমাবাজির জোরে হত্যালীলা ও নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসার।  আর যারা ধর্মের নাম করে সন্ত্রাসী কার্য সংগঠিত করে এরা আসলে প্রকৃত ধার্মিক ই না। বুঝেনা এরা ধর্মের মর্ম ও। বুঝে শুধু নিজের ক্ষমতা-প্রভুত্ব বিস্তার।
             তাহলে এরপর ও কি আমরা বলব কি যে সন্ত্রাসবাদ আর ধর্ম সমার্থক বলে??..

Post a Comment

আরো পড়তে পারেন

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...