“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০

পরিবেশের পাঁচমিশেলি





                                   

(১) রাজস্থানের চিঠি

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের পাথারিয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কমতে কমতে বর্তমানে পাঁচটি হাতি রয়েছে এদের সব কটিই স্ত্রী অনেকের হয়তঃ বা মনে আছে, সেটা ১৯৮৩ কিম্বা ৮৪ সাল হবে। দামাল হাতির একটি দল কাছাড়ের কুম্ভা, কুম্ভিরগ্রাম বাগান থেকে থাইলু, বড়থল ইত্যাদি হয়ে দেওয়ান চা বাগান পর্যন্ত গেছিল।  স্ত্রী-পুরুষ-বাচ্চা মিলিয়ে আনুমানিক ৪০-৪৫ টি হাতি ছিল ঐ দলে। পরবর্তীতে এই বিশাল হাতির দলটি কোথায় গেলো, তার হিসেব আমরা কেউ রাখি নি!
গোটা বরাক উপত্যকায় এদের সংখ্যা কমে গিয়ে বর্তমানে পাঁচটিতে এসে দাঁড়িয়েছে।  ব্যক্তিগত মালিকানায় থানা গোটা কয়েক হাতি বাদ দিলে উপত্যকায় থাকা বন্য হাতির সংখ্যা এই পাঁচটিই। সীমান্তের কাটাতারের বেড়া পেরিয়ে এরা কখনো কখনো বাংলাদেশে যায়, তো খাবারের সন্ধানে আবার এদেশে চলে আসে। কাটাতারের বেড়া ভেঙ্গে নিজেরাই নিজেদের যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করে নিয়েছে। বি-এস-এফ-রাও এদের যাতায়াতে বাধা দেয় না।  এই ক বছর আগেও সেখানে  একটি পুরুষ সমেত আটটি হাতি ছিল। কে বা কারা দলের ঐ একমাত্র পুরুষ হাতিটিকে মেরে ফেললো, তার সঠিক বিবরণ পাওয়া যায় নি! তবে মনে করা হচ্ছে,  ওর ঐ  মৃত্যুটা প্রতিশোধের শিকার (retaliation killing)। বেঁচে থাকা বাকি স্ত্রী হাতিদের মধ্যে ২০১৭ সালে মেদলি চা বাগানে একটা বিদ্যুৎ সম্পৃক্ত হয়ে, ২০১৮ সালে আরেকটা শরীরে ঘা হয়ে মারা যায়।  বর্তমানে হারাধনের মাত্র পাঁচটি ছানাই রয়েছে। হ্যাঁ,  আবারো বলছি, সবকটি ছানাই স্ত্রী। যেহেতু দলে পুরুষ নেই, তাই  কমতে কমতে একদিন এরা হারিয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে, বরাক উপত্যকা থেকে বুনো হাতির দল... চিরতরে...
এই বিষয়টাই বৈজ্ঞানিক (তথা সংরক্ষনবাদীদের) মহলে তুলে ধরার জন্য প্রয়াস করেছিলাম। Journal of Threatened Taxa নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল, ২০১৮/১৯ সালে সমাদৃতও হয়েছে যথেষ্ট।  গবেষণা পত্রখানার নির্যাস দেশ-বিদেশের প্রায় ছ’খানা সংবাদ পত্রে বেরিয়েছিল। রাজস্থানের জনৈক ভদ্রলোক ( Ashok Choudhary)  দি হিন্দু পত্রিকায় খবরটি পড়ে উনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটা পোস্ট কার্ড পাঠালেন  হিন্দিতে তিনি লিখেছেন
আদরণীয় প্র. পার্থঙ্করজী,
সাদর নমস্কার The Hindu মে Transboundary conservation মে 06 হাথিও কে সমুহ কে বারে মে পড়না বহুত রুচি বর্ধক লগা আসাম ও বাংলাদেশ মে সময় সময় পর  ইনকা জান, ইনকা স্বভাব বিচারণীয় হ্যাঁয় প্রকৃতি ও বন্য জীব কিসি Human boundary মে নেহি রহতি হ্যাঁয় য়ে ইনকা উদাহরন হ্যাঁয় Article য়ে  The journal of threatened Taxa মে প্রকাশিত আপকে আলেখ কা ভি সন্দেশ হ্যাঁয় ইয়হ আলেখ হামে নই দিশা, নয়া বিচার দেতা হ্যাঁয়  Transboundary Conservation পর হমে আজ বিচার ও কামকরনা  আবশ্যক হ্যাঁয় হমারে ইয়হা ভি  Great Indian Bustard কে সম্বন্ধ মে ইয়হ  কারগর স্থাবিত হ শকতা হ্যাঁয় Transboundary Conservation পর আধারিত আপকা Article বহুত প্রেরক হ্যাঁয় আপ কো বহুত বহুত ধন্যবাদ শুভ কামনাএ… Ashok Choudhary, (33, Sindhi Muslim Basti, Mazuria, Jodhpur, Rajasthan 342003)
প্রশস্তি পত্র পেয়েছি ঠিকই কিন্তু এদের বাঁচানোর জন্যও আজ পর্যন্ত তেমন কিছু একটা করে উঠতে পারি নি বিষয়টা নিয়ে অধ্যাপক আর সুকুমার (Elephant Man of India) এর সঙ্গেও  সাক্ষাতে কথা বলেছি, কিন্তু  কিছু হিল্লে হয়ে উঠে নি…!
দেখা যাক এর পর রাজ্যের বন ও পরিবেশ দপ্তর যদি কিছু একটা সদর্থক ভূমিকা নেয়!!

(২) পলিথিন কাসুন্দি

পলিথিন বা ‘ক্যারি-ব্যাগ’ ব্যবহারের উপর কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, দেশজুড়ে, রাজ্যজুড়ে, এমন কি জেলা জুড়েও।  সেটা তো এই কদিন আগের কথা। রাস্ট্রসঙ্ঘের পরিবেশ মন্ত্রকের কার্যালয় (UNEP)  থেকে ২০১৮ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের শ্লোগান ছিল, ‘সে নো টু প্লাস্টিক’... সেদিনটা, অর্থাৎ ৫ই জুন, ২০১৮  দল-মত / ধনী-গরিব/ পন্ডিত- মূর্খ নির্বিশেষে আমরা এক দিনের জন্য হলেও অল্প বিস্তর প্লাস্তিক ব্যবহারের কুফল অনুভব করেছিলাম, এবং তা ব্যবহার বন্ধ করা উচিত, সেরকম অমায়িক বক্তব্য দিয়েছিলাম, মাইক হাতে নিয়ে। এর পর পর যেই কে সেই...
স্বচ্ছতা হি সেবা’, ‘স্বচ্ছ-ভারত’, সে নো টু অয়ান টাইম প্লাস্টিক’, ‘ প্লাস্টিক ফ্রি নেশনইত্যাদি ইত্যাদি শ্লোগান অল্প-বিস্তর আমরা দূরদর্শন, রেডিও, পত্র-পত্রিকা এবং অন্যান্য বিজ্ঞাপন মারফত শুনেছি এবং শিখেছি যদিও, কিন্তু তার সিকি ভাগও আদতে রপ্ত করতে পেরেছি কি না তা পাঠক মহলের বিচার্য ২০১৯এর স্বাধীনতা দিবসের  ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর দেশবাসীর উদ্দেশ্যে গোটা দেশে প্লাস্টিক বর্জনের যে আবেদন জানিয়েছিলেন, তা কার্যকর করতে গিয়ে রাজ্য এবং জেলা প্রশাসনিক স্তরে মাস খানেক কিছু সরকারি অনুষ্ঠান এবং পত্র-পত্রিকায়  পরদিন সেসব অনুষ্ঠানের সচিত্র প্রতিবেদন ছাড়া, বাস্তবে ফলপ্রসূ করা যেতে পারে সেরকম দীর্ঘ মেয়াদি কি কি পদক্ষেপই হাতে নেওয়া হয়েছে, তা আপনা দের অজানা নয়!  
১৫ই আগস্ট, ২০১৯-এ প্রধান মন্ত্রীর প্রদত্ত ভাসনের সুত্র ধরে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধমে পর্যায় ক্রমে দেশজুড়ে স্বচ্ছতার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে, ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১লা অক্টোবর সহর এবং গ্রামে জন সচেতনতা সভা, আবর্জনা সংগ্রহ, আবর্জনা ধ্বংস করা, জায়গায় জায়গায় শ্রমদান কর্মসূচি, দ্বিতীয় পর্যায়ে, অর্থাৎ, ২রা অক্টোবর প্লাস্টিক সংগ্রহ এবং বর্জ্য পদার্থ পৃথকীকরণের জন্য গোটা দেশজুড়ে শ্রমদান, এবং তৃতীয় পর্যায়ে, ৩রা অক্টোবর থেকে ২৭শে অক্টোবর পর্যন্ত প্লাস্টিক রিসাইক্লিং করা এবং বর্জ্য প্লাস্টিক সমূহ ভালো উপায়ে বিনষ্ট করা। এই তৃতীয় পর্যায়ের ২৫ দিনের মধ্যে প্রথম পাঁচদিন (অর্থাৎ ৩ -৭ অক্টোবর) দেশের ৭৮,০০০ ওয়ার্ড এবং ৬ লক্ষ গ্রাম থেকে সংগৃহীত আবর্জনা শহর এবং জেলার সংগ্রহণ কেন্দ্রে নিয়ে আসার কথা; পরের দু দিন (অর্থাৎ ৮-১০ অক্টোবর) পুনর্নবীকরন যোগ্য এবং পুনর্নবীকরন অযোগ্য, এই দুই ভাগে ভাগ করা, আর এর পরের ১৭ দিন (অর্থাৎ ১১-২৭ অক্টোবর) পুনর্নবীকরন যোগ্য প্লাস্টিক গুলোকে কারখানায় স্থানান্তরিত করা, যাতে করে এগুলো সড়ক নির্মাণ ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা যায়।
ব্যক্তিগত তৎপরতায় গোটা দেশ তথা বিশ্ব এটাও দেখতে পেল যে ১২ অক্টোবর, ২০১৯ তামিলনাডুর মামালাপূরম সমুদ্র তটেদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রাতঃভ্রমনে বেরিয়ে থেকে প্লাস্টিক-সামগ্রী  এবং অনান্য আবর্জনা সংগ্রহ করছেন, যা নিঃসন্দেহে সবার কাছেই একটি বার্তা বহন করে। ২রা অক্টোবর, ২০১৯, অর্থাৎ বাপুজির জন্মদিনটা থেকে আমরা, অর্থাৎ আপামর ভারতবাসী স্বচ্ছতার মন্ত্রে দীক্ষা নিলামঘরে-বাইরে, হাটে-ঘাটে, মাঠে-বাজারে, মন্দিরে-মসজিদে, সভা-সমিতিতে সর্বত্র এটাই স্থির করা হয় যে, এখন থেকে আর প্লাস্টিক নয়। তার বিকল্পে হোক অন্য কিছুর ব্যবহার। কথা এমনটাই ছিল। দেশের জনক-এর নামে  উনার জন্মদিনে নেওয়া সপথ গুলো কতটা আন্তরিক ভাবে পালন করেছি, তার কি কোনও পরিসংখ্যান রয়েছে? অন্ততঃ এই উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্য গুলোতে? এবং পৃথক ভাবে বরাক উপত্যকার তিন জেলায়?

ঐসব হম্বি-তম্বি দেখে আশা করা যাচ্ছিল, হয়তঃ এবার কিছু একটা হলে হতেও পারে! কিন্তু না! হয়নি! ‘কেউ কথা রাখে নি’! আমরাও না…! সাময়িক ভাবে কিছু অন্য রকমের বিকল্প কেরি-ব্যাগ বাজারে এসেছিল যদিও, দশ-পনেরো দিনের জন্য হলেও  আম-জনতা একটু একটু করে বিকল্প ভাবতে শুরু করে ছিলেন যদিও, কিন্তু প্লাস্টিক ব্যবসায়ীর আকুল আবেদনে, ২রা অক্টোবর, ২০১৯ অব্ধি প্লাস্টিক ব্যবহারের উপর সাময়িক ভাবে নিষেধাজ্ঞা মৌখিক ভাবে রদ করা হল, এবং তার পরের ঘটনাগুলোর জন্য আমাদের নিত্যদিন ব্যবহ্ত এক জোড়া চোখ সাক্ষী দেদার পরিমান প্লাস্টিক আজকের দিনে হাটেবাজারে বেপরোয়া ভাবে ব্যবহ্ত হচ্ছে ‘ক্যারি-ব্যাগ’ বানিজ্য তো আর পাঁচটা শিল্পের মতই মুনাফাদায়ী, এবং এর পেছনে লগ্নী কৃত ধনরাশির পরিমাণটাও যে  একেবারে নগন্য নয়! কিন্তু, তবুও একটা কথা থেকেই যায়! প্লাস্টিক বর্জনের এই আহ্বান তো  গোটা দেশজুড়েই, দ্বীপ সদৃশ বরাক উপত্যকার জন্যও যে শুধুমাত্র এই সমস্যা তা তো নয়! তাহলে? শরণার্থী সুলভ মানসিকতার এ যেন এক জাজ্বল্য উদাহরন!  

() গুয়াহাটিতে কাছাড়ী উল্লুক

ব্রহ্মাপুত্র উপত্যকা এবং বাংলাদেশের কিছু এলাকা ছাড়া  পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না এমন প্রজাতির বানর ( হুক্কু বানর, বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এদের নাম, Hoolock hoolock ) বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রোজকান্দি চা বাগানের পিছনের জঙ্গলে রয়েছে। ঘন জঙ্গল ছাড়া এরা বাস করতে পারে না, কারন গাছের এক ডাল থেকে অন্য ডালেই এরা ঘুরে বেড়ায়।  হাত দিয়েই যেহেতু এক গাছ থেকে অন্য গাছে যায়, তাই ইংরেজিতে এদেরকে ‘Brachiators’ বলা হয়। এরা কক্ষনো মাটিতে নামতে পারে না। যেহেতু এরা এক গাছ থেকে অন্য গাছে যায়, তাই অরণ্যে গাছের ঘনত্ব কমে যাওয়াটা এদের জন্য অশনি সঙ্কেত। অনৈতিক বৃক্ষছেদন দেশ তথা পৃথিবীর অন্যত্র দেদার চলছে। রোজকান্দি চা বাগানের পিছনের জঙ্গলের অংশটুকুও এর ব্যতিক্রম নয়। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।
সালটা ২০১৬। এই প্রজাতির বানরের উপর গবেষণা করছিলেন এক গবেষক। এক সন্ধ্যায় খবর পাওয়া গেল, একটি স্ত্রী হলুক গাছ থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক জখম হয়েছে। ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখা গেলো, তিরিশ ফুট উঁচু একটা গাছ থেকে অন্য গাছে লাফ দিয়ে যেতে চাইছিল, স্ত্রী বানরটি। যেহেতু, মধ্যের জায়গাটা ফাঁকা, তাই যেতে পারে নি, ফস্কে পড়ে গেছে মাটিতে, এবং এর পরই মহা বিপত্তি। হাত পা কোমরে প্রচণ্ড চোট, খাওয়া দাওয়া সব কিছু বন্ধ হয়ে সে প্রায় মৃত্যুপথযাত্রী।
দুর্লভ প্রজাতির বানরের এই অবস্থা দেখে চারদিকের সব সংরক্ষণ কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা হল। আর এতে বিশেষ লাভও হল বৈ কি! গুয়াহাটি চিড়িয়াখানা থেকে ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোহন লাল স্মিথ বিমানে করে ছুটে এলেন, একে বাঁচানোর জন্য। একদিন শিলচরে থেকে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর বানরটিকে নিয়ে বিশেষ একটা গাড়ি দিয়ে গুয়াহাটি খানাপাড়া ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে এক্স-রে, সনোগ্রাফি ইত্যাদি সবই হল। সপ্তাহ খানেক হাসপাতাল থাকার পর সে সুস্থ হয়ে উঠল। এরপর একে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল  গুয়াহাটি চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানার বর্তমান দ্বায়িত্বে থাকা ডি এফ ও, শ্রী তেজস মেরিস্বামি-র সঙ্গে সেদিন কথা বলে জানা গেলো, এখনও গুয়াহাটি চিড়িয়াখানায় স্ত্রী হলুকটি রয়েছে এবং সুস্থই আছে। সময়োচিত তৎপরতায় দুর্লভ প্রাণীটিকে বাঁচাতে পারার আনন্দই আলাদা।


কোন মন্তব্য নেই: