.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

সোমবার, ৯ মে, ২০১৬

ভাষা সমস্যা : ১৯৮৬-২০১৬

ভাষা সমস্যা : ১৯৮৬-২০১৬
অরূপ বৈশ্য

ভাষার আবেগ
(C)Image:ছবি
ভাষার প্রশ্নটি বহুধা বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক। সীমিত পরিসরে এই বিষয়ে সার্বিক আলোকপাত করা অসাধ্য। ১৯৮৬ সালকেই ডেটলাইন ধরে কিছু বিশেষ দিক নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছে এই নিবন্ধে। এর পেছেনে এক সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। ছিয়াশির ভাষা আন্দোলনের আগে প্রায় দুই বছরের সলতে পাকানোর পর্যায় থেকে সংগঠক হিসেবে এই নিবন্ধের লেখক আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ছিয়াশির পর যেহেতু প্রায় ত্রিশ বছর অতিক্রান্ত, তাই নির্মোহ দৃষ্টিতে এই বিষয়ের পর্যবেক্ষণে লেখকের এক বাড়তি সুবিধে রয়েছে। ত্রিশ বছর পর পেছন ফিরে তাকালে মনে হয় ছিয়াশির ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হওয়ার সময় ভাষাকে কেন্দ্র করে আমার কোনো আবেগ ছিল না এবং আজও নেই, বরঞ্চ বাংলা ভাষা নিয়ে আবেগসর্বস্ব অনেককেই এই আন্দোলন থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে দেখেছি। অথচ কোনো মহৎ আবেগ ছাড়া কোনো আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে কাজ করা তো সম্ভব নয়। কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির আশায় সংকীর্ণ স্বার্থান্বেষীদের কথা ভিন্ন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে এই আবেগের উৎস কোথায়? অনেকের মতে কোনো জনসমুদায়ের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ভাষা গড়ে উঠে ও বিকশিত হয়। কিন্তু ভাষাবিদ নওম চমস্কি কার্যপ্রণালীগত কারণ ছাড়াও ‘সর্বজনিন গ্রামার’-এর (Universal Grammar) ধারণার অবতারণা করতে গিয়ে এক অভ্যন্তরিণ কাঠামোগত উপাদানের কথা বলেছেন।দেহের অঙ্গ হিসেবে শুধুমাত্র ব্লাড-পাম্পিংয়ের কাজ করার জন্যই হার্টের বর্তমান রূপ গড়ে উঠেনি, এই অঙ্গ বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে জেনেটিক কাঠামোগত কারণও রয়েছে। ভাষারও দেহের অঙ্গের মত বিবিধতা রয়েছে, কার্যপ্রণালীগত কারণ রয়েছে, আবার এক সাধারণ অভ্যন্তরিণ কাঠামোগত উপাদানও রয়েছে। পৃথিবীর সব ভাষার মধ্যে এক সাধারণ কাঠামোগত যোগসূত্রের উপস্থিতি ভাষাকে কেন্দ্র করে আবেগের উৎসকে খুঁজতে বাধ্য করে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে।

ভাষার অধিকারহীনতা
কোনো জনগোষ্ঠীকে আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অবদমিত করার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে সেই জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নেওয়া। মাতৃভাষার অধিকার যদি কেড়ে নেওয়া যায় তাহলে তার পরিণতি কী হতে পারে? প্রথমত, সেই জনগোষ্ঠীর শ্রমজীবী মানুষ ও তাদের সন্তান-সন্ততিরা প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, কারণ সেই লোকগুলো ভাষাজ্ঞান আয়ত্ত্ব করে তার পরিবার ও পারিপার্শ্বিকতা থেকে এবং সেই জ্ঞানের আধারকে ভিত্তি করে যদি এদেরকে প্রাথমিক হিসেব-নিকেষ ও পঠন-পাঠনের যোগ্য করে তোলা যায় তাহলে তারা তাদের শ্রমের অতি-শোষণ মেনে না নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি গড়ে তুলতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভাষার দীর্ঘম্যাদী অধিকারহীনতা এক হীনমন্যতাবোধ জন্ম দেয় যা এই জনগোষ্ঠীর লোকদের শাসক তথা প্রভু জাতির কাছে মাথা হেঁট করে দাঁড়ানোকেই স্বাভাবিক ও ভবিতব্য বলে বিবেচিত হয়। তৃতীয়ত, ভাষিক পরিচিতিগত সচেতনতার অভাবে অভ্যন্তরিণ পরিচিতিগত বিভাজন, যেমন ধর্ম-বর্ণভিত্তিক বিভাজন, প্রকট হয়ে দেখা দেয়। এই তিনটি প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করার সুযোগ ঘটেছিল একশট্টিতে এবং ছিয়াশিতে। একশট্টির আন্দোলন, যার কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ এখনও চোখে পড়েনি, এখানে বিচার্য বিষয় নয়। ছিয়াশিতে আমরা পারিনি, পারেনি মধ্যশ্রেণি তাদের সংকীর্ণ দর্শন বা দেখার ক্ষমতাকে উন্নীত করতে অপারগতার জন্য। কেন পারেনি সে এক ভিন্ন আলোচনার বিষয়। কিন্তু সাম্প্রদায়িক বিভাজন যে এখনও বরাক উপত্যকার সামূহিক জীবনযাত্রার প্রাধাণ চালিকাশক্তি সে ব্যাপারে অনেকেই এই নিবন্ধকারের সাথে একমত বলেই মনে হয়। তবে প্রশ্ন থেকে যায় যে ছিয়াশির ভাষা আন্দোলন কেন অধিকার চেতনার কোনো উল্লম্ফন ঘটাতে ব্যার্থ হলো? কেন অবক্ষয়ের যে সামাজিক মডেল তাকে ভাঙা গেল না? এই অবক্ষয়ের মডেলের স্বরূপকে এভাবে চিহ্নিত করা যায়, “যারা বোঝে বা বোঝার চেষ্টা করার ক্ষমতা রাখে তাদের মধ্যে মুষ্ঠিমেয় ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণভাবে সবাই সামাজিকভাবে নিষ্ক্রিয়, যারা বোঝে না বা সংকীর্ণ বদমায়েশি স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায় তারাই সামাজিকভাবে সক্রিয়”।

আশির দশক ও নিও – লিবারেলিজম
আশির দশক থেকে গোটা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ভারত সরকারও নিও-লিবারেল অর্থনীতির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। এই অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অনেকগুলো পদক্ষেপ এই দশকেই নেওয়া হয় যার উপর অফিসিয়্যাল সিলমোহর পড়ে ১৯৯১ সালে। এই অর্থনীতির জয়গানে মোহিত হয়ে বিকাশ ও উন্নয়নের সোনালি স্বপ্নে মধ্যশ্রেণি হয়ে পড়ে বিভোর। এই স্বপ্নের ক্যানভাসে শ্রমিক-মেহনতি-পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীরা থাকে অধরা। মধ্যশ্রেণি ধরে নেয় যে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সর্তই মুখ্য, বাকীরা এগিয়ে আসবে তাদের পেছন পেছন। সুতরাং মেহনতি মানুষের শোষণ - বঞ্চনা, বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন্তা-চর্চা অনর্থক ও অবাঞ্চিত, প্রগতি বিরোধী। ধরে নেওয়া হয় যে, এই উন্নয়নের স্বাপ্নকে যদি বাস্তবায়িত করতে হয় তাহলে বাজারের নিয়ম অনুযায়ী ইংরেজী ভাষাকেই গুরুত্ত্ব দিতে হবে, তাকিয়ে থাকতে হবে নতুন শিল্প-নগরী ব্যাঙ্গালুরুর দিকে। প্রাইভেটাইজেশনের যে দৌড় সে দৌড়ের ট্র্যাক তৈরি হয়ে যায় আশির দশকেই। আত্মসম্মান – আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে মানসিক শক্তি মধ্যশ্রেণিকে আন্দোলমুখী করে তুলতে পারে তার স্থান নিতে শুরু করে প্রতিযোগিতায় টিঁকে থাকার জন্য ন্যায় – অন্যায় বোধহীন এক জটিল সাইকোলজি। সত্তরের দশকে রেল ধর্মঘটের মত সংগঠিত শ্রমিকদের বিশাল বিশাল ধর্মঘট মধ্যশ্রেণিকে মানসিক শক্তি যোগানের যে বিষয়ীগত উপাদান তৈরি করেছিল তা ক্রমশ বিলীন হয়ে পড়ছিল বেসরকারিকরণের ঠেলায় সংগঠিত শ্রমিকের ভিতকেই নাড়িয়ে দেওয়ার ফলে। আশির দশক সেরকমই এক দশক যার ভাঁটার টানে দাঁড়িয়ে ছিয়াশির আন্দোলন প্রগতিশীল শক্তির শেষ মরিয়া আন্দোলমুখী প্রয়াস। আন্দোলনের এই বিপরীত সর্বগ্রাসী স্রোত যখন সমাজের সব অঙ্গ – প্রত্যঙ্গকে ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়, তখন ছিয়াশির আন্দোলন ভাষা সার্কুলার তুলে নেওয়ার ন্যূনতম সাফল্যের মধ্যেই পরিসমাপ্তি ঘটে। এর ধারাবাহিকতা নতুন কোনো চেতনার জন্ম দিতে ব্যার্থ হয়, বরঞ্চ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি এই শূন্য স্থান পূরণ করে সাম্প্রদায়িক জিগির তুলে। এটাই কি বরাক উপত্যাকার ভবিতব্য?
ছিয়াশি থেকে গত ত্রিশ বছরে বরাক নদী ও এর শাখা – প্রশাখা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। কিন্তু স্রোতের তলায় নিস্তরঙ্গ জলধারাও প্রবাহিত হয়। যারা স্রোতে গা ভাসাতে অস্বীকার করে তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই জলধারায় প্রতিস্রোতের অভ্যন্তরিণ জীবনী শক্তিকে  জাগ্রত করে বিশাল ঢেউ তোলার আশায় নিরন্তর প্রয়াশ চালিয়ে যায়। এই অভ্যন্তরিণ জীবনী শক্তির প্রধান উপাদান হলো গ্রাম – শহরের এক বিশাল নব্য শ্রমিক শ্রেণির উপস্থিতি। কিন্তু এই শ্রমিক শ্রেণি অসংগঠিত, অধিকারবোধহীন ও যৌথ জনশক্তির উপর আস্থাহীন। এরা কি পারবে এক নতুন প্রগতিশীল আন্দোলনের জন্য প্রয়োজনীয় সংগঠিত বিষয়ীগত শক্তি হতে? এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়, তবে কিছু নতুন উপাদানকে সামনে রেখে আশাবাদী হওয়া যায় নিশ্চিতভাবে। এই উপাদানগুলি কী?

জাগরণের নতুন উপাদান
শ্রমিকের এই ব্যাপকতা ইতিমধ্যে গ্রামীণ সামাজিক নিয়ন্ত্রণের পুরোনো কাঠামোকে ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ধর্মের বাঁধন হয়েছে শিথিল, উগ্র ধর্মীয় উন্মাদদের আক্রমণাত্মক হয়ে পরার প্রবণতার মধ্যেই এই সত্য নিহিত। কিন্তু শিথিল হয়ে পড়া ধর্মীয় বাঁধন থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য তৈরি এই বিশাল মেহনতি মানুষের সামনে নতুন প্রগতিশীল মূল্যবোধ আঁকড়ে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা এখনও অনুপস্থিত। অন্যদিকে যে আশার বাণী নিয়ে নিও – লিবারেল অর্থনীতি মানুষকে মোহগ্রস্ত করে তুলছিল তা ইতিমধ্যে অসার প্রমাণিত হয়েছে। বেকার সমস্যা ক্রমবর্ধমান, পুঁজি বিনিয়োগের জন্য পণ্য সামগ্রীর প্রয়োজনীয় চাহিদা ক্রমশ নিম্নগামী, ফিনান্সিয়্যাল পুঁজির তৈরি কাল্পনিক এসেট ভ্যালুর বুদবুদগুলি ফেটে গিয়ে আর্থিক সংকটকে করছে গভীরতর। বিশ্ব – অর্থনীতির কেন্দ্র আমেরিকাতে দেখা দিয়েছে গভীর সংকট, কোনো দেশ আর আমেরিকার সাথে আর্থিক লেনদেনে যুক্ত হয়ে নিজ দেশের আর্থিক অচলায়তন দূর করার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারছে না। চীনের মত বৃহৎ আর্থিক শক্তির দিকে মুখ ফিরিয়ে এই সংকট থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ চীন তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে উঠার যে চেষ্টা করেছিল তা ধরাশায়ী হয়ে গেছে তাদের সম্পদের মূল্যের অবমূল্যায়নের ফলে। ইউরোপ অনেক আগেই ডুবে গেছে তীব্র সংকটে। যুদ্ধ – সন্ত্রাসবাদের মদত দিয়ে একের পর এক দেশ ধ্বংস করে সাম্রাজ্যবাদীরা যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে গোটা ইউরোপকে। লাখো লাখো রিফিউজি নিজ নিজ দেশের সীমানা অতিক্রম করে জান হাতে নিয়ে বাঁচার তাগিদে পাড়ি দিচ্ছে ইউরোপের দিকে। একদিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে রিফিউজি বিরোধী অমানবিক ফ্যাসিস্ট শক্তি, অন্যদিকে ইউরোপের শ্রমিক শ্রেণি পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ। আমাদের দেশেও অতি সম্প্রতি ব্যাঙ্গালোরের অসংগঠিত শ্রমিক শ্রেণি দেখিয়ে দিয়েছে যে তারাও তাদের নিজ শক্তিতেই সরকারি পলিসিকে প্রভাবিত করতে পারে, সরকারকে বাধ্য করতে পারে তাদের শ্রম – বিরোধী সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে।

বরাক উপত্যকার মধ্যশ্রেণি ও নতুন আন্দোলন

সবার সাথে তাল মিলিয়ে বরাক উপত্যকার মধ্যশ্রেণির মধ্যে নিও – লিবারেল অর্থনীতির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটেছে ইতিমধ্যে। কিন্তু নতুন বিকল্প মূল্যবোধের অনুপস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক চেতনার রেশ থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। রিফিউজি  – অনুপ্রবেশকারীর দ্বিমাত্রিক বয়ানে যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ঘনঘটা তাকে মোকাবিলা করার কোনো ভাষা  – চেতনা এখনো খুবই দুর্বল। ভাষা – চেতনা যে নিজ জনগোষ্ঠীর মেহনতি-বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পৃক্ত এই বোধ এখনও মধ্যশ্রেণির মধ্যে অনুপস্থিত। দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পের অকার্যকারিতার মূল রহস্য এখানেই নিহিত। সেজন্যই দ্রাবিড়িয়ান আন্দোলনের ঐতিহ্যে গর্বিত দক্ষিণ ভারতের মধ্যশ্রেণি যে সরকারি প্রকল্পগুলির সুষ্ঠু রূপায়ণে উপকৃত আমাদের মত অঞ্চলে এর ছিটেফোঁটা সদিচ্ছাও দেখা যায় না। এখনও বরাকের বাঙালি সরকারি অফিসিয়্যালদের অনেকেই এব্যাপারে সচেতন নন যে বাংলা বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা, তারা সচেতন নন যে মাতৃভাষার অধিকার সবার সাংবিধানিক অধিকার। এক বড়সড় আন্দোলন এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে, তার বিষয়ীগত পরিস্থিতি বিদ্যমান। শুধু দরকার নিষ্ঠা, মানুষের কাছ থেকে শিখে নেওয়ার আগ্রহ, সহজে নেতা হওয়ার প্রবণতা পরিহার করা ও আত্মত্যাগকে হাতিয়ার করে আত্মশক্তির বদলে গণশক্তিকে প্রাধাণ্য দিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা। নতুন সমাজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজন নতুন মানুষ, অন্যথায় রিফিউজি – অনুপ্রবেশকারীর জিগির তুলে ফ্যাসিস্ট শক্তি বিজয় ডঙ্কা বাজাবে, বহু নিরীহ লোককে যেতে হবে ডিটেনশন ক্যাম্পে, বহু লোককে মরতে হবে বিনা বিচারে। পথ বেছে নেওয়া আমার আপনার দায়। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন