।। চিরশ্রী দেবনাথ ।।
.....................
নিগাম্মা আম্মার রূপোর মল ঝমঝমিয়ে উঠছে
দুপুরের ক্লান্তি ভিজিয়ে দিচ্ছে না আজ নোনা ঘোল
নরসিংহ নারায়ণের দরবারে তাকে যে করেই হোক
পৌঁছুতে হবে সন্ধ্যার শুকতারা জ্বলে ওঠার আগে
মামাল্লাপুরমের গ্রাম থেকে কাঞ্চীপুরমের পথে
ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুর ঢেলে দিচ্ছে ষষ্ঠশতকের সূর্য
মেদুর অলঙ্কার আর সোনালী বস্ত্র পসরা নিয়ে
বাণিজ্য তরী ভেসে গিয়েছিল সিংহল সমুদ্রে
ফেরেনি ছেলে
জুঁই ফুলের মালায় জমে উঠছে এখন বিষাদ বিকেল
গোপুরমের ঘণ্টায় ফিরে আসার সংকেত আসে কি......
ঐ তো যায় শ্রমণ শ্রমণী ...কাষায় বস্ত্রে কি আছে
দারুচিনি দ্বীপের খবর
একটি কালো দীঘল শরীর, সোনার মাকড়ি কানে
কমলা বসনে সুগন্ধি আদর, ধাতব পাত্রে
মায়ের হাতের নারকেল মিষ্টি
মাঙ্গলিক ঘৃতকুমারীর একটি টুকরো বাঁধা পেশীবহুল হাতের আঙিনায়
পথের ধারে ধারে ব্যস্ত শ্রমিকের ছেনিতে ছেনিতে
জেগে উঠছে পাথুরে নারী, পুরুষ,
মহাভারত কথকতা, যুদ্ধ
আর দিনান্তের অবশিষ্ট সঙ্গম ...
আস্তাবলে কালো ঘোড়া দমকে দমকে
শান দিচ্ছে প্রতিদিনের পল্লব রাজ
নিগাম্মার কানে জোর করে ঢুকে যাচ্ছে বিষ্ণুমন্ত্র
আজ তার গহনশরীরে দেবভাব নেই
মাতৃহৃদয় কেটে কেটে চুয়ে পড়ছে সমুদ্রঝড়
অশ্রুহীন চোখে ভেসে যাচ্ছে ঘরের নতমুখী
কালো চোখের নবীন প্রতীক্ষাটি
বন্দর নগরীর ঝলসানো দুপুরে
উপচানো সমুদ্রে পালতোলা যুবক জাহাজ
লাল, সবুজ, হলুদ সিল্কের পতাকায় উড়ছে
নানা ভূখণ্ডের সোনালী সময়
কাঞ্চীপুরমের মন্দিরে সিঁদুর রাঙানো সন্ধ্যা
ঐ তো যাচ্ছেন রাজা, মুণ্ডিত মস্তকে গর্বিত চোখে
সাম্রাজ্যের দ্যুতি
রাশি রাশি পুজোর থালায় ফলসম্ভার, আভরণ,
উপকরণে বন্দিত ভক্তি
রাজা তোমার পাঠানো বণিক জাহাজে
কোথায় হারিয়ে গেছে আমার কালো ছেলে.....
সোহাগ রাতের হীরক আংটি তোমার পায়ে
সমুদ্র পথ থেকে ফিরিয়ে আনো আমার নিঃশ্বাস
শায়িত বিষ্ণু.....
আমার ছেলের অশরীরী শ্বাস
দেখো হাজার বছর পেরিয়েও ছুঁয়ে দেবে তোমাকে
বিংশ শতকের এক অতৃপ্ত সুনামি হয়ে.....
[চেন্নাই ২১-০৪-২০১৬]
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন