.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৬

বয়ঃসন্ধির ত্রিপুরা


।। চিরশ্রী দেবনাথ ।।

























বেতলং শিবের চুড়োয় দাঁড়িয়ে
আমার পুরুষ ধনুকে ছুঁড়েছিল তীর,
এ তীর বর্ষণোন্মাদ, অভ্রখাদক
ঝরে ঝরে পড়ছে কাচঝর্ণা, শামুকবাহার,
ক্ষীণতনু শরীরী আহ্বানে জেগে যাওয়া জুমপ্রেম
সঙ্গমে সঙ্গমে মুছে দিতে চায় জাতির আগে 'উপ '
একটি জারজ অশরীরী  ছায়া অর্কিড .....
নাগকেশরের স্বর্ণালি খোপে সম্ভূত বিরল প্রাণ,
ধীরে.... ধীরে..... ধীরে...... ছড়িয়ে পড়ছে
আঠারোমুড়া, দেবতামুড়া,
লংতরাই আর ঊনকোটির... ছায়াপাথরে,
কষ ঢেলে ঢেলে বড় হওয়া
রাবারের  জারিত রূপবাহারে .....
বুদ্ধপূর্ণিমায় ভেসে যাওয়া অবলোকিতেশ্বরে,
তোমার সঙ্গে আমার বাঁশবন বিকেল, চম্প্রেং সুর, কলাপাতায় গলানো বিরন ভাত, লাল লঙ্কা
একটি মনখারাপ পরিযায়ী পাখি
বাস্তু খুঁড়ে খুঁড়ে তুলে আনে
ডম্বুরের মেঘমন্দ্র ডুবন্ত কান্না,
ছবিমুড়ার উদাসী জেগে থাকা ঝুলনপূর্ণিমা ...
রিয়ার সুতোয় সুতোয় বুনতে থাকি
রুদ্রসাগরের রাজকুমারী জলপোশাক ..
একক রাতে নীরমহলে হজাগিরি পায়ের খেলা,
আমায় দিও তুমি চূর্ণ খারচি মন্ত্র, একটু দেবীরং
পৌষের ব্রহ্মচারী সকালে
কিছু রোদ রেখো শিবকুন্ডলে
পিতলের পাত্রে জমুক
তোমার আমার পবিত্র তীর্থমুখ
জঙ্ঘায় বাজতে থাক মনিপুরী মাদল,
বাঁশীতে রাখাল নাচ...মাছের সরসরে অনুভবে
আমার শরীরে চা গন্ধ, পাহাড়ি হরিণের অম্লপ্রেম
রাজমালার শ্বেতপাথরে.....আমার প্রেমিক
ছুঁড়ে ছুঁড়ে দেয় তীর,
ভেসে ভেসে তারা উনিশ রঙা মেঘবালিকা
সবুজ পাড়ের একটি গোমতী শাড়ি .....
রাজন্য ত্রিপুরা বহুদিন হেঁটে গেছে বারুদপথেরেশমগুটির গর্ভাশয়ে উষ্ণতায় দহনযন্ত্রণায়.....
কাঁঠালবীচির সারিপথে আলস্য মেখে আজ
একটুখানি ঘুমিয়ে নিচ্ছে  জানকী ত্রিপুরা,
স্তনভারে ফুটে আছে জম্পুইের কমলা ভোর,
মনুনদীর শীতচরে, পা মেলাচ্ছে মামিতাং দুপুর ...
উষ্ণ ঝর্ণায় গা ভিজিয়ে মা গো আমিই তোমার
বয়ঃসন্ধির গনতান্ত্রিক জুমিয়া মেয়েটি ......

 (2/04/2016, ভেলোর )

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন