.“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ... তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!— সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!”~~ কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ~০~

সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির (এফএসএইচ) প্রথম বুলেটিন (খসড়া)


বেথুকান্দি থেকে ফিরে এসে ফোরাম টিমের প্রতিবেদন

( মইসা-বিলে এসে পড়ে)
গ্রামের ভৌগোলিক ও আর্থিক-সামাজিক পরিচিতি
     শিলচরের ফাটকবাজার থেকে বরাক নদীর তীর ঘেঁসে নদী-বাধের উপর যে রাস্তাটি গেছে সেই রাস্তা ধরে আনুমানিক ৩ কিঃমিঃ গিয়ে ফোরামের টিম পৌঁছে গেল বেথুকান্দি গ্রামের বক্ষস্থলে। টিমের গাইড হিসেবে ছিলেন সেই এলাকার বাসিন্দা বাবর লস্কর। সেখানকার সরকারি স্কুলের সামনে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন সেই গ্রামের কতিপয় লোক। প্রায় ৩.৫ কিঃমিঃ লম্বা এই গ্রামটির উত্তরে বরাক নদী ও দক্ষিণে প্রায় ৩ কিঃমিঃ লম্বা একটি বিশাল বিল স্থানীয় উচ্চারণে যার নাম মইসাবিল। তিনদিকে বরাক নদী দিয়ে বেষ্টিত এই মইসাবিলের উত্তর পারে বাগাডহর বড়জুরাই জিপি, দক্ষিণে বেরেঙ্গা জিপি ও কনকপুর জিপির একাংশ এবং পশ্চিমে মধুরবন্দ জিপি। গ্রামবাসীদের বয়ান অনুযায়ী বেথুকান্দি গ্রামে রয়েছে প্রায় ৩৫০ পরিবার। পূর্বদিক থেকে প্রায় পৌনে দুই কিঃমিঃ অংশে ৩/৪ ঘর মুসলিম পরিবার ছাড়া বাকী সবাই হিন্দু যাদের অধিকাংশ তপশীলি সম্প্রদায়ভুক্ত। গ্রামের বাকী অংশে মিলেমিশে বাস করে প্রায় ৮০টি মুসলিম পরিবার ও ২৫টি হিন্দু পরিবার। আনুমানিক ১৫ ঘর গরিব ব্রাহ্মণ পরিবার রয়েছে এই বেথুকান্দি গ্রামে যাদের পেশা হচ্ছে যজমানি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং কায়স্থ এক শিক্ষক পরিবারও রয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাদের সংসার চলে দিনমজুরি করে। তবে দৈনিক আয়ের কাজ যেমন নিজের অটো চালানো, ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি আয়ের উৎসের উপর কিছুসংখ্যকের পরিবার নির্ভরশীল, আরেকটি অংশ রয়েছেন চাকুরিজীবী যাদের বড় অংশই সরকারি তৃতীয়চতুর্থ শ্রেণির কাজে যুক্ত। এই সরকারি চাকুরিজীবীদের মধ্যে সম্প্রদায়গত বিন্যাস ফোরামের টিম যাচাই করে দেখেনি, যাচাই করে দেখা হয়নি শিক্ষাস্বাস্থ্য ইত্যাদির চালচিত্র, কারণ ফোরামের টিম সেখানে গিয়েছিল দুটি বিষয় দেখতে – (১) সম্প্রদায়গত বিভেদ ও ঐক্যের রসায়নটি সেখানে কীরকম ও (২) সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার সাধারণ সমস্যাগুলির স্বরূপ কী।
    
(বরাক নদীর এই পাড় ভাঙলেই ডুবতে পারে পুরো শহর)
(কাড়া নালা )
সম্প্রদায়গত বিভেদ ও ঐক্য
          প্রথমে কথা হচ্ছিল সত্তরের কাছাকাছি বয়সের তপশীলি নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি অফিসার কপিল চন্দ্র বড়ভূঁইয়ার সাথে। তিনি বললেন যে অতীতে কোনধরনের ধর্মীয় সম্প্রদায়গত বিভাজনের মানসিকতা ছিল না এবং এ অঞ্চলে ঐক্যের এই ঐতিহ্য এখনও বহাল রয়েছে। দুই সম্প্রদায়ের বিয়ের মত সামাজিক অনুষ্ঠানে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ আমন্ত্রিত হোন এবং অংশগ্রহণ করেন। এলাকার বাসিন্দা রঞ্জন দাস তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শোনান। বিগত বন্যা পরিস্থিতিতে আর্থিক অনটনের মধ্যে তাঁর স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একথা জানার সাথে সাথে এলাকার বরিষ্ঠ বাসিন্দা হাজি ফকরুদ্দিন লস্কর পকেট থেকে ১২০০ টাকা বের করে তাঁর হাতে তুলে দেন ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর বন্দোবস্ত করেন। রঞ্জন  দাস আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করেন। বছর ৪/৫ আগে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার একটি ক্লাবের ছেলেরা কোন এক কারণে বেথুকান্দি গ্রামের এক হিন্দু ছেলেকে সেখানে একা পেয়ে মারপিট করে, তাঁরা তখন সেই ঘটনার সুবিচারের দাবি করেন। মধুরবন্দ মোকাম মসজিদে নামাজের সময় যখন এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ জমা হোন তখন বাবর লস্কর বিষয়টি সবার সম্মুখে উত্থাপন করেন এবং সেখানে সাথে সাথেই ঘটনার বিচার হয়। এই বিচারে আক্রান্ত যুবক, তার সাথী ও অভিভাবকরা সবাই এতোটাই সন্তুষ্ট হন যে এর চাইতে ভাল কোন ন্যায়বিচার কোথাও হতে পারে না বলে তারা সবাই মত প্রকাশ করেন। ফজল আলি বড়ভূঁইয়া আশি সালের দাঙ্গা পরিস্থিতির উল্লেখ করে বলেন, শিলচর শহরে যখন ভীতির বাতাবরণ ও দৈনন্দিন খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহে অসুবিধা দেখা দেয় তখনও এলাকার হিন্দুরা মুসলিম বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে এসে সবজি বিক্রি করে যায়। ৩৮ বছরের অটো-মালিক ও চালক রসেন্দ্র দাস জানান তার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই মুসলিম এবং তারা একে অপরের বিবাহ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সামিল হওয়া ছাড়াও সবসময়ই একে অপরের ঘরে যাতায়াত করেন। মেহেরপুরের মন্দিরে একটি সাজানো ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চলে তখন হিন্দু ও মুসলিম এলাকা দিয়ে পরস্পরের অবাধ যাতায়াতে এক মানসিক আড়ষ্টতা ও ভীতির বাতাবরণ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে এ অঞ্চলের মুসলিমরা উদ্যোগ নেয় ও হিন্দুদের আশ্বস্ত করে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে বেথুকান্দি গ্রামের অদূরবর্তীতে যেসব অঞ্চল রয়েছে তা বিশেষত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। নিজের অটোর চালক বছর ত্রিশের কামাল উদ্দিন লস্কর বলেন যে সাম্প্রতিক রংপুরের সাম্প্রদায়িক ঘটনার পরও উভয় সম্প্রদায়ের অবাধ চলাচলে সবাইকে খানিকটা সাবধানতা অবলম্বন করতে দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন যে, স্বাভাবিক সময়ে বেথুকান্দির একেবারে পূব প্রান্তের হিন্দু এলাকা থেকে শেষরাতেও প্রয়োজনে প্যাসেঞ্জার নিয়ে যান, কিন্তু মেহেরপুরের ঘটনার পর সেখান থেকে রাতে রোগী নিয়ে যেতেও একটা পিছটান থাকত এবং তার বাড়ির লোক বা পড়শিরাও অধিক রাতে সেদিকে যেতে তাকে বারণ করত। অবশ্য কিছু দিনের মধ্যেই সে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে শহরে অটো চালাতে মুসলিম অটো চালকদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে, কারণ কোনধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে মুসলিম চালক হিসেবে বাড়তি অসুবিধায় পড়ার শঙ্কা তাদের মধ্যে রয়েছে। বসির খান মন্তব্য করেন যে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চক্রান্তেই সামাজিক সম্প্রীতি মাঝে মাঝে বিঘ্নিত হয়। ভোটের সময় চূড়ান্ত কোন মেরুকরণের নজির বেথুকান্দি অঞ্চলে নেই, তবে একটা সুপ্ত সম্প্রদায়গত মানসিকতার অস্তিত্ব যে কমবেশি রয়েছে সেটা সবাই স্বীকার করেন।
( যদি বর্ষার মরসুমে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে )

 সাধারণ সমস্যার স্বরূপ
        বেথুকান্দি গ্রামের অধিকাংশই দিনমজুর। বছর ৩৫-এর আরতি দাস শিলচর শহরে মোমোর দোকানে ১৫০ টাকা মজুরিতে সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত কাজ করেন। তাঁর স্বামীও ২৫০ টাকা মজুরিতে বাঁশ-বেতের কাজ করেন ও সপ্তাহে ২/৩ দিন কাজ জোটে। সরকারি স্কুলে পাঠরত তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছয়জনের সংসারের মাসিক আয় সাকুল্যে ৫০০০ টাকা। এক প্রশ্নের উত্তরে আরতি দাস বলেন যে মোমো দোকান তিনি নিজেই চালাতে পারেন, কিন্তু দোকান খুলতে যে ২০/২৫ হাজার টাকা লাগবে তা জোগাড় করা তার সাধ্যাতীত। দিনমজুরদের এরকম অন্যান্য অসংখ্য পরিবারের মাসিক আয় এর চেয়ে কম। এদের অনেকেরই কোনো ক্ষেতের জমি নেই, যাদের ক্ষেতের জমি রয়েছে তাদেরও চাষবাস থেকে আয় অতি নগণ্য। রেশন, স্যানিটেশন ইত্যাদি সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে তাদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। নিজ বাসস্থান রায়তি জমি হওয়ায় বহু বিপিএল পরিবারকে সরকারি স্যানিটেশনের সুবিধা থেকে কোন এক অজ্ঞাত কারণে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। স্যানিটেশনের ব্যবস্থা স্বাস্থ্য রক্ষার সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং সে অর্থে বেঁচে থাকার সাংবিধানিক অধিকারের সাথে যুক্ত। তাদের নামে বিপিএল টয়লেট (শৌচাগার) বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও, তাদেরকে এব্যাপারে বঞ্চিত করে সাংবিধানিক অধিকার ও স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে অর্থহীন করে দেওয়া হয়েছে।
          এই গ্রামে কৃষিকাজ থেকে আগে যারা আয় করতেন তাদের কৃষিকাজ আজ বিপর্যস্ত। কৃষি বিপর্যয়ের সর্বভারতীয় কিছু কারণ রয়েছে। মূল উৎপাদকদের কৃষি উৎপাদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সরকারি বিনিয়োগের অভাব, কৃষি উদ্বৃত্ত থেকে উন্নয়নের পন্থা পরিহার করে উন্নয়নের নামে ব্যাপক উচ্ছেদ ইত্যাদি মূল কারণ। কিন্তু এ অঞ্চলে চাষবাসে তাদের মূল সমস্যা হচ্ছে মইসাবিলের জল নিষ্কাসন না হওয়া। সামান্য কিছু সরকারি বিনিয়োগ এ অঞ্চলের উর্বরা মাটি ও জলাশয়কে বিভিন্ন ধরনের চাষবাসের উপযোগী করে তুলতে পারত।
(... শুনালেন বেথুকান্দির গ্রামের বাসিন্দারা)
 মইসাবিলের জলনিষ্কাশন ও শিলচর শহরের জমা জলের সমস্যা
          মইসা-বিলের আয়তনের কথা আগেই বলেছি। স্থানীয় অর্থনীতি ও শহর উন্নয়নের সাথে এই বিলের সঠিক ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমাদের শহর উন্নয়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নীতিনির্ধারকেরা এনিয়ে কেন যে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেন না তা নিশ্চয়ই রহস্যাবৃত।
        শিলচর শহরের জল বিভিন্ন ছোট ছোট নালা দিয়ে মইসা-বিলে এসে পড়ে। পূর্বে মইসা-বিলের জল বিশাল কাড়া নালাদিয়ে বরাক নদীতে নিষ্কাসিত হতো। নৌকো দিয়ে কাড়া নালা পারাপার করার অতীত অভিজ্ঞতার কথা শুনালেন কপিল চন্দ্র বড়ভূঁইয়া। নদী-বাধ ও রাস্তা এই নালা বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ দুটি এরকম জায়গা রয়েছে যেখানে কালভার্ট নির্মাণ করে মইসাবিলের জল নিষ্কাসনের ব্যবস্থা করা যায়। এই ব্যবস্থা হলে মইসাবিলের আশপাশের উর্বর জমিই যে শুধু চাষযোগ্য হয়ে উঠবে তা নয়, শিলচর শহরের এক বিশাল এলাকা জমা জলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। ফজল আলি বড়ভূঁইয়া জানান যে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ২০১৩-১৪ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকা মইসা-বিল জল নিষ্কাসন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে, কিন্তু বরাদ্দকৃত এই অর্থের কোনো হদিস আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
(...মতবিনিময়ের পর ঠিক হয় যে...)
  মধুরবন্দ-বাগাডহর বাধ-ভাঙন ও শিলচর শহরে ভয়াবহ বন্যার সম্ভাবনা
 শিলচর শহরে এক ভয়াবহ বন্যা হওয়ার সম্ভাবনার কথা শুনালেন বেথুকান্দির গ্রামের বাসিন্দারা। দক্ষিণ ভারতের আধুনিক উন্নত শহরের সাম্প্রতিক বন্যার কথা যেরকম সেখানকার বাসিন্দারা কল্পনাও করতে পারেননি সেরকম এক আকস্মিক বন্যা শিলচর শহরকেও ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। মধুরবন্দ পার্ট-১০ ও বেরেঙ্গা পার্ট-৩-এর সংযোগস্থল কাড়ারপার খিলরগ্রাম তেমাথার সন্নিকটে নদীবাধ ভাঙন যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তা যদি বর্ষার মরসুমে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে তাহলে মুহূর্তের মধ্যে শিলচর শহর ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
       গ্রাম পরিক্রমা ও আলোচনা শেষে এসব ব্যাপারে কী করা যায় সে প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। মতবিনিময়ের পর ঠিক হয় যে (১) সামাজিক মেলবন্ধনের জন্য আগামী ৩ জানুয়ারি ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনিও বিভিন্ন ক্লাব ও সাংস্কৃতিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এ অঞ্চলে একসম্প্রীতি মেলাআয়োজন করা হবে। (২) মইসাবিলের জল নিষ্কাসন প্রকল্পের ব্যাপারে সার্ভে করা, জনমত গঠন করা ও প্রকল্প রূপায়ণে চাপ সৃষ্টি করার ব্যাপারে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হবে। (৩) ন্যায্য অধিকারের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
     





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন