“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২০

আপনজন

 























।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
 

প্রেম চির কাঙ্ক্ষিত যতনে রক্ষিত হৃদয়ের দ্যুতি•••
কালের ছোঁয়ায় নেই পরোয়া চির ষোড়শী যুবতী•••
******************
ফাগ-বসন্তের তনুমন
আবেশাচ্ছন্য সারাক্ষণ •••
সয় না তাঁর ক্ষণিকেরও বিরহ  বিয়োগ!! 
অভিমানী প্রশ্নে প্রশ্নে তুলে ধরে নানা অভিযোগ!! 

এ তোমার কেমন খেলা
লুকোচুরিতে নেশার ভেলা! 
মেঘলামন যে বড় উতলা! 
কি করে রয় সে একেলা!! 
কেমন সম্পর্ক আকাশ....
তোমায় বুঝি না! এ কি খেয়াল---
সকালে আবাহন তো বিকেলে বিসর্জন!! 
এ কেমন ধারা•••শুধু আত্মগোপন! 
চাই যে তোমার ছোঁয়া সর্বক্ষণ•••
বলোতো কি করে জড়াই যখন তখন!!? 
খেয়ালীমন তুমিই কি আপনজন••• 
কি বিচিত্র তোমার প্রেম-সাধন••• 
না কি সামলে থাকার প্রশিক্ষণ!! 
অনন্ত আকাশের এ কেমন রহস্যময় মন! 
বিস্ময় ঘটাচ্ছে সারাক্ষণ!!! 
তবু দেখ, তোমারই আবেশে এ মন••• 
অসীম অনন্তের দিকে কেবল চেয়ে•••আকুল হয়ে•••                    
শুধুই আকাশ ছোঁয়া••• আর আকাশ চাওয়া•••

                      ************

ভাবের ভিয়েন

 















 ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
 

বাজছে বিষাণ চারিদিকে 
মানবতা আজ পড়ছে ফিকে!
রাজ্যজুড়ে হিংসাত্মক বাজ
মায়ের  বুকে শোকার্ত আওয়াজ!
অহরহ সন্ত্রাসী হাতছানি
কখন রক্তগঙ্গা বয় জানি!
সন্তানের এই হানাহানি 
ভেঙে চৌচির মা'র বুকখানি!
শান্তি চায় মায়ের মন, 
ভালো থাকুক আপনজন 
অক্ষয় হোক মনের টান
মনেপ্রাণে জুড়াক পরাণ •••
মন-কড়াইয়ে হোক না ভিয়েন
হোক না ভাবের বিতরণ•••
মানবতা যাক বয়ে বাতাসে, 
ধর্মান্ধতা যাক চুলোয় ভেসে!!!
          ************

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২০

দৈনন্দিন সমাচার

 






















।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
 

তো কি যে বলার ছিল
শোনার জন্যে আছেই বা কে!? 
ছুটছে সবাই আপন তালে 
কে কারে যে পথে দলে! 
কতো ভাবনা আছে ভাবার
কিসে অন্ন জোটে সবার! 
রাজ্যজুড়া শুধু হাহাকার! 
কেউ নেইকো সুরাহা করার! 
সবাই রাজা সবার মনে
কে বা আছে কার সনে
হেয় করছে একে অন্যে
দেশ ভরছে শুধুই বন্যে !
কাকে বলে অগ্রগণি!? 
প্রশ্ন তোলা একটুখানি
সন্ত্রাসী আজ সংশোধক
অগ্রগতির পথ প্রদর্শক! 
কেবল বর্বরোচিত দুরাচার 
পরিপূর্ণ এই রাজ্য-সংসার ! 
ধর্ম আকড়ে  নষ্টাচার! 
 হালের দৈনন্দিন সমাচার!

             *******

বঁধুয়া














 
 ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।

দ্মপাতায় জলের খেলা 
ঝিলমিলানো রূপোর মেলা
ষোড়শী ললনার হাসি খোলা
দেখেই কাটে সারা বেলা••••

খিলখিলানো হাসির সুর
ভেসে বেড়ায় দূর হতে দূর
এ যে কোকিল কন্ঠি মিষ্টি মধুর•••
জাদুর হাসি আমার বঁধুর•••

রেখেছি তাঁরে প্রাণের পরে•••
সোহাগী আদরে প্রাণটি ভরে•••
একার অধিকার ফলাও করে
ভীত! ত্রস্ত! যদি হারাই তাঁরে! 

শুধু ভাবি, কেমন করে আগলে রাখি! 
সে যে নীল গগনের মুক্ত পাখি
তাঁর নেশাতেই মাতাল আমি•••
চাতক চোখে  মুখিয়ে থাকি•••

          *************

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২০

আলোর দ্যুতি

















 ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
 


নিভে গেছে ঐ ঝাড়বাতি টা
হাসি ফোটাতো সব মুখের
রঙ বর্ণ নির্বিশেষে আঁধার
কাটাতো দুঃখ রাতের•••
কোথায় কত রুগ্ন আছে
মলম লাগাতো দগ্ধ ঘায়ে
আতুর ঘরে দুধের শিশু
কোন কোণেতে আছে শুয়ে•••
কোন পল্লীর নাচ ঘরেতে
মাতাল নেশার উঠছে ঝড়
কতো শবনম বেঁধেছে ঘুঙুর!
আত্ম গ্লানিতে ভেঙে চূড় চূড়!!
হিসেব কষতেই নিভলো বাতি!
আঁধার ঘনিয়ে হলো রাতি!
ঘোর কাটিয়ে জ্বালবে আলো•••
আসবে কবে সেই আলোর দ্যুতি!!!?!
            ***********

ফাগ-জোয়ার

 
                         



























 ।। সিক্তা বিশ্বাস ।।
                             

ফাল্গুন তুমি প্রাণের ছোঁয়া
হৃদয়ে গড়া প্রেমের মোয়া•••
তোমার ব্যাপ্তি আকাশ ছোঁয়া•••
তৃপ্তিতে সব বেদন খোয়া•••

তুমি যে শুধুই কালের স্রোত
হৃদয় সংযোগে ওতপ্রোত •••
এক লহমায় ক্ষিপ্ত গতি !
পলকে পলকে প্রতিশ্রুতি•••

আশা-ভরসার দে দোল দোলা•••
মুক্ত মনের পাখনা খোলা•••
আবেগ দোলায় আত্মভোলা!
ফাগ-জোয়ারের শিল্পকলা•••

টঙ্কারে তার রাগ-অনুরাগ •••
মাতাল নেশার বসন্ত-বেহাগ
রঙ-পলাশের বাহারি রাগ•••
খেপাটে মনের মাতাল ফাগ•••

             **********

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২০

করোনা ভাইরাস

রফিক উদ্দিন লস্কর  
____________________
প্রথম এলো চীন দেশেতে
নাম হয়েছে করোনা,   
মহামারির এই ভাইরাসটা
যে কাউকে ছুঁইওনা। 

সময় এখন নয় নিরাপদ
করোনার আছে ভয়,
হাঁচি কাশি  জ্বর আসলেই
ডাক্তার দেখাতে হয়।  

আপন পরের যে কেউবা
ঘুরে আসলে বিদেশে,
তাড়াতাড়ি পরিক্ষা করাও
ডাক্তারগনের নির্দেশে।

কত মানুষ মারছে বিশ্বজুড়ে
ঐ করোনার ভাইরাসে,
হও সচেতন থাকতে সময়    
জীবন যেন না নাশে।

বাইরে গেলে মাস্ক পরাটা
এখন খুবই দরকার,
সব দেশেতে সতর্কতার
আদেশ দিচ্ছে সরকার।    

সুস্থভাবে বাঁচতে যে তাই
পরিস্কারের জুড়ি নাই।
নিজের শরীর হাত পা সহ
ঘর পরিষ্কার রাখা চাই।

এ রোগ থেকে  বাঁচতে হলে
ফলের রস করেন পান,  
মাছ, মাংস ডিম তরকারিটা
ভালো করে সিদ্ধ করান।

ভালো করে  হাত না ধুয়ে
চোখে মুখে স্পর্শ নয়,
আর খালি হাতে বন্যপ্রাণী
স্পর্শতেও আছে ভয়।

হাট-বাজার বা শপিংমলে
নিরাপদ নয় পরিবহন,
সবখানেতে সতর্ক থাকুন
ছোঁয়াচেতে আক্রমন।  
_____________________
১০/০৩/২০২০ ইং
নিতাইনগর, হাইলাকান্দি (আসাম)

 
  

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২০

দা ঙ্গা


 এত রাতে কাকে পাবে সে ৷ কদিন ধরে চারদিক থেকে যা খবর আসছে ৷ পাড়ার সবাই তটস্থ হয়ে আছে ৷ দিনের বেলাও ঘর থেকে কেউ বেরুচ্ছে না ৷ রাতে তো অসম্ভব ৷ কেলাব ঘরে বিকেলে একটা মিটিন হয়েছিল পাড়ার সবাইকে নিয়ে ৷ বউয়ের এই অবস্থার কথা জানিয়ে যায়নি মিটিনে ৷ তবে সবার যা মত তাতে সে সহমত পোষণ করে বলে জানিয়েছে ৷ পাড়ার অনেকেই জানে তার সমস্যার কথা ৷ তাই তাকে রেহাই দেওয়া হয়েছে ৷
মিটিনে বয়স্ক দু-একজন সম্প্রীতির কথা বললেও কয়েকটা উটকো বহিরাগতের উস্কানিতে পাড়ার কয়েকটা ছেলে হৈ হল্লা করে সভা পণ্ড করে দিয়েছে ৷ ওরা বলেছে মিষ্টি কথায় চিরা ভিজনের দিন গেছেগা ৷ ওরা বলছে মারের বদলে মার দিতে হবে ৷
বুড়োরা যেন ঘরে গিয়ে বসে থাকে ৷ এখন জোয়ানদের দিন ৷ ওপর থেকে খবর এসেছে ওগুলোকে ঝাড়ে বংশে শেষ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই ৷ ছেলেগুলোর মিলিত চিৎকারে সন্ধ্যার পাখিগুলো কিচিরমিচির করে উঠল বাসা ছেড়ে দিয়ে ৷ পাড়ার ঘরে ঘরে একটা গুমোট আতঙ্ক ৷
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বউয়ের শরীর আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে ৷ ব্যথায় ককিয়ে উঠছে বউটা ৷ আর অসহায় দৃষ্টি মেলে তাকাচ্ছে তার দিকে ৷ উঠে দাঁড়ায় সে ৷ একটা কিছু করতে হবে ৷
অনেক রাতে হন্যে হয়ে ঘুরে কোনো যানবাহনে দেখা পেল না ৷ হতাশ যখন ফিরে আসছে তখন একটা একটা ঝুপড়ির পাশে একটা রিক্সা পড়ে রয়েছে দেখতে পেল ৷ কাছে গিয়ে চালক বা সওয়ারি কাউকে দেখতে পেল না ৷ একটু ভেবে সে নিজেই রিক্সাটা টেনে নিয়ে চলল বাসার দিকে ৷ কাজ সেরে আবার রেখে দেবে সেখানেই ৷ সকালে মালিককে বুঝিয়ে কিছু টাকা দিয়ে দেবে ৷
পাড়ার কাছাকাছি পৌঁছুতেই দেখল পাড়ায় আগুন চারদিকে ৷ লোকজনের চিৎকার ৷ মার ৷ মার ৷ ধর ৷ ধর ৷ কাইট্টা ফালা ৷  আগুনের আলোয় দেখা যাচ্ছে একদল লাঠিসোটা দা কিরিচ নিয়ে ধাওয়া করছে ৷ বাঁচাও ৷ বাঁচাও ৷ আর্তনাদ চিৎকারে একটা থমথমে পরিবেশ ৷ ওর বুকের ভেতর মোচড় দেয় ৷ বউয়ের জন্যে ৷ আর একটা স্বপ্নের জন্যে ৷ দ্রুত পৌঁছে যায় তাদের বাড়ির কাছাকাছি ৷ আর দুএকটা বাসার পরে ওদের ঘরে লাগবে আগুন ৷ দ্রুত ছড়াচ্ছে ৷

এই....এই....খাড়অ ৷ শালার শালা ৷ কই যাইতাছচ ৷ 
ধর তারে ৷ ভাগতাছে ৷ 
  সে দাঁড়িয়ে পরে ৷ 
 -- না না ভাই ৷ আমি ভাগতাছিনা ৷
 -- ভাগতাছৎনা ৷ বাল ফালাইতাছৎ ৷ রিসকা লইয়া কিতা করতাছৎ?
-না দাদা ৷ আমার বউ ৷ ব...অ...উ... ৷
পুন্দেদা দিমু তর বউ ৷ বান তারে ৷ কাইট্টাঅই লামু আজগা তরে ৷
দাদা ৷ আমারে মাইরেননা ৷ আমি প্রাণভিক্কা চাই আপনেরার কাছে ৷ আমার কথাডা হুনেন ৷
চিৎকার চেঁচামেচিতে শোনা যায়না তার কথা ৷ পিছমোড়া বেঁধে ফেলে তাকে ৷ তার বাসার সামনে ৷ সে অসহায় চেয়ে থাকে বাড়ির দিকে 
দড়িতে টান পড়ে ৷ চল আজগা তোর শেষদিন ৷

      ঠিক এই সময় বাড়ির ভেতর থেকে কান্না ভেসে আসে দুটি মানুষেরমা মা ৷ ওঙা ওঙ্গা ৷ মা..ওঙ্গা...মা...ওঙ্গা ৷ আর আর্ত চিৎকারভরা বীভৎস রাতের আকাশ থেকে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছেদাঙ্গা...দাঙ্গা...দাঙ্গা...৷