“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

সোমবার, ২৫ মে, ২০১৫

বাবা ও রবীন্দ্রনাথ



।। দেবলীনা সেনগুপ্ত  ।।























বীন্দ্রনাথকে আমি চোখে দেখিনি,
আমার বাবাকে দেখেছি।
বাবার হাত ধরে পথ চলতে চলতেই
আমার রবীন্দ্রনাথকে জেনে নেওয়া,
চিনে নেওয়া এবং বুঝে নিতে চাওয়া
আর প্রতিটি চিনে নেওয়ার পরেই
অপার আনন্দে ভেসে যাওয়া
ঠিক যেমন আনন্দ মেলে
অচেনা ভাষায় লেখা 
কোন অজানা স্টেশনের
নামটি পড়ে বুঝে নিতে পারলে।
সেই ছোটবেলায়,
যখন বিকেলে খেলার সময়
হঠাৎ বৃষ্টিতে খুব মন-খারাপ হত
অথবা অঙ্ক ভুল হলে
কিংবা রাতে ভাতের থালায়
মাছের টুকরো না থাকলে...
বাবা হঠাৎ বলে উঠতেন
দু'কলি রবীন্দ্রনাথ
আর আমার কাজ ছিল
কবিতার নামটি খুঁজে বের করা
এই ভীষণ দরকারী
অথবা অদরকারী কাজটি করতে করতে
মন খারাপের পাখিরা
উড়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়তো
দেওয়ালে ঝোলা
রবি কবির ছবির পেছনে...

এই বড়বেলায়,
বয়স বেড়েছে
হয়তো বা বুদ্ধিও
তবু রবীন্দ্রনাথকে তেমনভাবে
বুঝতে পারিনা...
কেন কে জানে
হয়তো বাবা কাছে নেই বলে
হয়তো মন-খারাপ হওয়ার মত
মনটাই হারিয়ে গেছে  বলে...।

কোন মন্তব্য নেই: