“...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো ,স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ...তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়; হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল ফুলের মশাল!” ০কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাশ ০

সোমবার, ২৬ মার্চ, ২০১৮

দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম

( রিক্সা চালিয়ে ৯টি স্কুল প্রতিষ্ঠা, 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে পাথারকান্দির আহমদ আলীর প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি )

।। এম রিয়াজুল আজহার লস্কর ।।

(C)Image:ছবি







পাথারকান্দির রিক্সাচালক নয়টা গড়ে স্কুল।
এই ভারতে কারো সাথে হয়না রে তার তুল।।
পাথারকান্দির মানুষ তিনি আহমদ আলী নাম।
শেষ বেলাতে পেলেন তিনি সমাজসেবার দাম।
কেমন মানুষ আহমদ আলী দেশটা পেলো বোধ।
প্রশংসা তার করলো শেষে প্রধানমন্ত্রী খোদ।।
মন কি বাতে প্রধানমন্ত্রী কথা বললো তার।
আহমদ বলে, এই পেলো সে শ্রেষ্ঠ উপহার।।
গর্বে রাজ্য ভাসছে এখন আনন্দ নয় অল্প।
চতুর্দিকেই কেবল এখন  আহমদ আলীর গল্প।।
@
( নির্ভেজাল সংবাদ পরিবেশন করে "দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম")
DSPP1-26/03/18

আহত সময়

।। দেবলীনা সেনগুপ্ত।।

(C)Image:ছবি












হত পালকের মত
ঝরে পড়ছে সময়
পাখির ঠোঁট থেকে
খসে পড়ছে বীজধান।
তাকে মাথা পেতে নেবে,
পৃথিবীতে নেই কোন অলৌকিক শিশু আজ।
অলস আয়ুষ্কাল কাটায় মানবের দল
হীন সংলাপে
গলিত আঁধারে ঢাকে অকস্মাৎ, বায়ু মাটি জল
খর মধ্যাহ্নদিনে ।
যত্নহীন পড়ে থাকে সময়ের শব
প্রহরায় একা ঈশ্বর , অবিচল ।



( প্রকাশিত, দৈনিক বজ্রকন্ঠ )

রবিবার, ২৫ মার্চ, ২০১৮

দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম

( সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে হত ১৪, আহত ১০ )

।। এম রিয়াজুল আজহার লস্কর ।।


(C)Image:ছবি






সোমালিয়ায় বোমা হামলা চৌদ্দ মানুষ পোড়ে।
রক্ত ভাসছে রাস্তায় সেথা ঘর বাড়ি সব উড়ে।।
উদ্ধারকার্য চলছে সেথা সেনা পুলিশ যায়।
কুখ্যাত এক জঙ্গি গোষ্ঠী হামলার নিলো দায়।।
@
ছবি :- দৈনিক নববার্তা প্রসঙ্গ
( নির্ভেজাল সংবাদ পরিবেশন করে "দৈনিক ছড়া সংবাদ আসাম")
DNPP5-25/03/18

কবিতার দিনে

কবিতার দিনে
........................

জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে।

মনে ও হাতে ময়লা লেগে আছে আমার। 

তাকে ছুঁতে পারছি না। 

আর একটু দাঁড়িয়ে সে চলে যাবে।

আমি সেই অপসৃয়মান অক্ষর মিছিলের দিকে তাকিয়ে থাকবো।

যতখানি ভালো হলে, তার সব খারাপকে আমি লিখে দিতে পারি, ততদিন সে এমনি করে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে মিলিয়ে যাবে।

আমি তার জন্য অসুস্থ হচ্ছি, মরে যাচ্ছি, হিংসুটে, ফ্রড, চোর হয়ে যাচ্ছি, খুঁজছি শুধু চতুরতা, তখন সে মনে মনে হাসবে,

একশোটা আমি গনগনে কয়লার মতো বর্ণমালায় তাকে লিখে যাবো, এই আশায় সে তার লিঙ্গচিহ্ন বিসর্জন দিয়েছে, অথচ তার শরীর দুধে ভরে আছে,

 উপচানো সাদা পালের মতো কাঁপছে,

নাহ্ আমি গত সপ্তাহ এবং আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত তাকে  পেলাম না। 

জানালার পাশে একটি নদী এসেছে। দু তিনটে কাশের বন, পা ডুবে যাওয়ার মতো খানিকটা পলি ও কাঁদা,  একটি ভীষণ জোয়ার। 

বালুকাবেলার পাশে একরত্তি এই ঘর। 

আমাকে কেন সে এই ঘরে ঢুকিয়ে দিলো, আমি যে পারি না অক্ষরকে শাসন করতে ...

সেই তাকানো

।। চিরশ্রী দেবনাথ।।
মি কালো মেয়ে।  এ কথাটি জানতাম না ছয় বছর বয়স পর্যন্ত। আমার বাবা আমাকে প্রিন্সেস বলতো আর মা প্রজাপতি। আমি শুধু আনন্দ জানতাম। কী সুন্দর পৃথিবী ছিলো আমার।  আমি স্কুলে ভর্তি হলাম। আমাকে প্রিন্সিপাল নতুন ক্লাসে নিয়ে এসে বসিয়ে  দিয়ে গেলেন। 
চারদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি। 
একটি মেয়ে এগিয়ে এলো আমার দিকে, খুব অবাক হয়ে তাকালো, তারপর বলল তুমি এরকম কেন দেখতে? আমি ক্লাসের সবার দিকে তাকালাম, আমি তাদের মতো নই, কম কালোও নই। কালো খুব কালো আমি।
            আমার প্রথম কান্না।  প্রথম মনখারাপ। প্রথম আয়নায় দাঁড়ানো।  প্রথম নিজেকে দেখা। লুকিয়ে থাকা। মা  বুঝতে পেরেছিলেন, যেন এটা তার জানা ছিল।
এখন মাঝে মাঝে মনে হয়, কেন মা, সেদিন একসঙ্গে  আমাকে প্রকাণ্ড বাস্তবে ঠেলে দিয়েছিলেন   ? একটু একটু মনখারাপের জমি তো আগে থেকেই তৈরি করতে পারতেন।
আসলে মা পারেননি। মা ধবধবে ফর্সা ছিলেন। সেই ছয় বছরের স্কুল থেকে ফিরে আসা বর্ষার দুপুরে মা আমাকে বুকে জড়িয়ে চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিতে লাগলেন।  আমি মা কে জড়িয়ে ধরে হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগলাম। মাও কাঁদতে লাগলো।  সেই থেকে একজন ফর্সা আর একজন কালোর একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নার শুরু। 
স্কুলের ফাউন্ডেশন ডে তে  নাটক হবে, "পরীর দেশে "। আমাদের ক্লাসের সব মেয়েকে নেওয়া হলো, এমনকি শ্যামলা মেয়েকেও, কিন্তু আমি বাদ গেলাম, কারণ আমি নিখাদ কালো। কালো পরী কি হয় কখনো?
            মা বাবার সঙ্গে বসে নাটক দেখলাম।ভেতরে কাঁদলাম।কিন্তু বাইরে ঝরলো না।কারণ আমি তখন ক্লাস এইট।কান্না গেলা শিখে গেছি।
            গান গাইলাম। ইংলিশ ব্যান্ডের গান। বাবা শেখাতো গান ও গিটার দুটোই। সারা স্কুল আমার সঙ্গে গাইলো। আমার কালো রঙে স্কুল ছেয়ে গেলো।
ক্লাস ইলেভেন।
প্রথম ভালো লাগা।
জানতাম আমাকে কেউ চিঠি লিখবে না গোলাপি চিরকুটে, শিউলির দিনে। 
নাম তার সাগরকেতু। অন্য স্কুলের। কোচিং ক্লাসে দেখা হতো। ভীষণ ব্রিলিয়ান্ট।  অগোছালো চুল। ভারী লেন্স। শুধু  মনে হয় দূরে কোথাও তাকিয়ে আছে। 
আমার সঙ্গে  সব  ছেলেদের দারুণ বন্ধুত্ব। মেয়ে বন্ধুরা আমাকে খুব নিরাপদ ভাবতো। ভালোবাসা দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ভয় নেই। আমাকে ভুল করে ভালোবাসার ভুল কেউ করবে না। অতএব আমি বিশ্বাসী।ততদিনে আমি মানিয়ে নিয়েছি। এক্সপেকটেশন নেই আমার।
তবু কিশোরীবেলা।অভ্রান্ত ভালোলাগা,  কালবৈশাখীর মতো আমাকে উড়িয়ে দিচ্ছে মুহূর্ত ভেঙে ভেঙে, পড়ার টেবিল উপচে উপচে।একটি খুব অপমান পেতে সাধ হলো।
            সেই ছেলেকে বলে ফেললাম, চোখ বন্ধ করে। একটি হাসি, একটি অট্টহাসি শুনলাম। আর তাকালাম না।
কোচিং ছেড়ে দিলাম।বাড়ি, আমার গভীর পড়ার টেবিল, এন্ট্রান্স পরীক্ষা। মেডিকেল। ডাক্তার হলাম।
বদলে দেওয়া যায় না  মানুষের গায়ের রঙ। জানি সব বায়োলজিক্যাল মিথোস্ক্রিয়া। তবুও....। জয়েন
করেছি আজ এক সাঁওতাল গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সবাই কালো এই গ্রামের। আমি তাদের কালো ডাক্তার। যেতে পারি ইচ্ছে করলেই ঝাঁ চকচকে শহরের নার্সিংহোমে। আমার ফর্সা,  সুদর্শন ডাক্তার বন্ধুরা জয়েন করেছে অনেকেই এখানে ওখানে।
যাবো না।
            এটাকেই বলে পালানো। নিজের থেকে, ফর্সা রঙ  থেকে।
            সব অর্জিত হলো শুধু সেই তাকানোটা সহ্য করতে পারি না। সেই যে চেম্বারে যেকোনো পেশেন্ট ঢুকলেই প্রথমেই আমার অসম্ভব কালো রঙের দিকে তাকায়। যেন মেলাতে পারে না, পারে না কিছুতেই। তাই আমি কালো মানুষদের সঙ্গে থাকি, একটি তাকানো থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে।
ন্যাশনাল কনফারেন্সে এসেছি। এপ্রিলের  দিল্লি। গনগনে দুপুর। ফিনফিনে লু । লাল শাড়ি পরেছি। টকটকে লাল।
একমাত্র লাল কালোতেই যে দুলে ওঠে পৃথিবী।
প্রতিবাদ।
জেদ।
যেন রোদে দ্রবীভূত হবো। 
হোটেলের পাঁচফুট বাই তিনফুট বিশাল আয়নায় দেখছি আমাকে।  একদম আগুনের মতো লাগছে।

বলবো ।পুরো দেড়-ঘণ্টা সময় বরাদ্দ আমার প্রেজেন্টেশনের জন্য।  পুরস্কারও আছে। WHO এর প্রতিনিধি তুলে দেবেন হাতে।
            পলাশবন সাঁওতাল পরগণার গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার আশ্চর্য উন্নতি হয়েছে। সব বাঁধা ভেঙে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পৌঁছে যাচ্ছে গ্রামে গ্রামে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ভোলও বদলে গেছে। এসবই সম্ভব হয়েছে এক তরুণী ডাক্তারের আন্তরিকতায় আর পরিশ্রমে। আজ তাই ডা: শাল্মলী রায়  বিশেষ ভাবে আমন্ত্রিত। 
            তাকাচ্ছে আমার দিকে সবাই  খুব বেশি করে। ভেতরে একটি কান্না ,  ঠাণ্ডা  বিষ ছুটছে যেন! কোনদিন কি মেরে ফেলা যাবে  এই তাকানোকে? 


মনখারাপের বিজ্ঞানী

।। চিরশ্রী দেবনাথ।।
কটি দিন। দীর্ঘ দীর্ঘ গাছ।
গোধূলি বয়ে যাচ্ছে। লাল রঙের আকাশ।
 রাস্তা। মিছিল হচ্ছে। কিছু মানুষ হেঁটে যাচ্ছে নীরবে। সবাই এক উচ্চতার। হলুদ রঙের পোশাক।
এটাই এখন শোকের পোশাক।
নয়শো বছর আগে শোকের রঙ কালো ছিল। এখন মানুষ শোকের দিন হলুদ পরে।
সবার হাতে ছোট ছোট পাতার পতাকা। একজন বিজ্ঞানী মারা গেছেন। তার জন্য সবার মনখারাপ।
এই মনখারাপটাকে চোখের তলায় রেখে তাই একদল মানুষ হেঁটে যাচ্ছে।
মনখারাপ খুব মূল্যবান একটি জিনিস। 
কয়েকশো বছর আগে পৃথিবী থেকে মনখারাপ হারিয়ে গিয়েছিল।
তখন একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের অভালোবাসাবাসি হলেই, পট করে খুন করে ফেলতো। কিন্তু তারপর সে কাঁদতো না।
রক্তটক্ত মুছে, হাসতে হাসতে জল খেতো।
খুব মুশকিল হয়ে গেলো। রোবটেরা অনেক মাথা খাটিয়েও মন বস্তুটার সন্ধান পেলো না।
মানুষ তখন খুব অলস ।  যন্ত্ররাই চালাচ্ছে পৃথিবী। 
আবার রোবট নষ্ট হলে মানুষ ছাড়া তাদের ঠিক করা যায় না, তাই রোবটরা চায় মানুষ বাঁচুক।
ঝগড়া আর মারামারি না চলুক। 
মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে সব মানুষের উচ্চতা আর গায়ের রঙ এক করে দেয়া হলো।
পৃথিবী তখন দীর্ঘ ছায়াবৃক্ষে ভরা। বৃক্ষকাতর  পৃথিবী বলা যায়। তার তীরে তীরে হিংসা দীর্ণ মেধাবী মানুষের ভিড়।
তাদের কোন মনখারাপ নেই।
তাই কান্না নেই।
হাসিও নেই।
বিষাদও নেই। 
ভালোবাসার বিপন্নতাও নেই। 
সেইসময় একজন বিজ্ঞানী এলেন। তিনি বললেন মানুষকে দুটো ভাগে ভাগ করতে হবে।
যাদের মধ্যে একটু আবেগ আছে তারা নীল গ্রহে থাকুক।
যাদের মধ্যে আবেগ এক্কেবারে জিরোতে ঠেকেছে, তাদের অন্য গ্রহদুটোতে পাঠানো হোক। 
 হোয়াইট ড্রিম A তে এইসব মনখারাপ হারিয়ে যাওয়া মানুষদের পাঠিয়ে দেয়া হলো। মিল্কি ওয়ে পেরিয়ে হোয়াইট ড্রিম A, সেখানে যেতে সময় লাগলো ঠিক  একশো বছর, ঠিক পাশেই হোয়াইট ড্রিম B, যাদের জায়গা হলো না, তারা B তে।
তারপর সেই বিজ্ঞানী মন খারাপের চাষাবাদ আরম্ভ করলেন।
তিনি মাথায় রাখলেন সিঙ্গুলারিটি।
একজন পুরুষ এবং একজন নারী।
মুখোমুখি বসবে।
মাঝখানে একটি ব্ল্যাকবস্ক।
বাতাসবিহীন।
নিঃসীম অন্ধকার।
তারা নির্বাক থাকবে।
এই ব্ল্যাকবস্কটিতে টেনে নেওয়া হবে তাদের মন।
একশ ভোল্টের ঠাণ্ডা তড়িৎ প্রবাহ
ফ্রিজড হয়ে যাবে দুটো মন 
সমস্ত বিচ্ছিন্নতা মিশে চরম সিঙ্গুলার
সেখান থেকে ঝরতে আরম্ভ করবে বিন্দু বিন্দু মেদ 
এরই নাম অশ্রু, এরই নাম মনখারাপ, 
এরই নাম না ফেরার ব্ল্যাকহোল। 
...এরই নাম বিজ্ঞানও ক্রমাগত ভুল।
এভাবে আস্তে আস্তে পৃথিবীর বুকে জোড়া জোড়া মনখারাপ ফিরে এসেছিল।
শোকের রঙ ফিকে হতে হতে হলুদ হয়ে গেলো।
সেই বিজ্ঞানী আজ মারা গেছেন।
আর মনখারাপের জাতকেরা হলুদ পোশাকে পাতার পতাকা নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, বৃক্ষ সঙ্কুল পৃথিবীতে। 


বোবার হরতাল

           ।।          রফিক উদ্দিন লস্কর          ।।
বসে পান্থপাদপের ছায়ে একাকিত্বের সুবাদে
খোলা হাওয়ায় জিরিয়ে নেয় দুপুরের রোদে।
অতীতস্মৃতি ঢেউ খেলে তীব্র থেকে তীব্রতর
মাঝে মাঝে উঁকি দেয় মেঘে ঢাকা তারার ঘর।
মুহূর্তেই হারিয়ে যায় উড়ো বাতাসের মতো
সজীব দেহে রাঙা বেশে স্বপ্ন ছিলো কতো।
প্রতিবাদকারী মুখের মাঝে কুলুপ এঁটে রাখে
অলিতেগলিতে বোবার হরতাল এগিয়ে ডাকে।
মাঝে মাঝে বাজি পটকা আকাশদেশে ছুটে
রক্ত হোলির পিচকারিতে কাদায় পড়ে লুটে।
কারও বক্ষে চাবুক হানে কারও চোখে পানি
পাষাণমূর্তি দাঁড়িয়ে যেথায় করে টানাটানি।
এগিয়ে আসে ক্লান্তদিনে দুচোখ ভরে ঘুম
দুপুরবেলায় চাঁদমামায় কপালে দেয় চুম।
রাতের জোনাক একলা হাসে সঙ্গীসাথি হারা
অবাধ মনে এগিয়ে এলে কাটতে হবে কারা।

২৫/০৩/২০১৮ইং
নিতাইনগর,হাইলাকান্দি (আসাম-ভারত)

শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৮

বেপরোয়া

   
।।  রফিক উদ্দিন লস্কর  ।।

যে যাই বলুক না কেনো!
মিলছে তো মনের খোরাক
কিছু অতৃপ্ত বাসনার উদ্রেক।
প্রতিকূলতা সময় ও মনের
তবুও একধাপ এগিয়ে।
বাতাসের কাঁধে ভর করে
ফোয়ারা উড়ায় ভনভনিয়ে।
কিছুটা মরচে ধরা স্মৃতিপথ
এনেক আগেই বসতি ছিলো
এখন যাইনি আগাছায় পরিপূর্ণ।
চশমা লাগিয়ে দূর থেকে দেখি
পায়ে দারুণ ব্যথার প্রভাব।
ঝাপসা শব্দের আনাগোনায়
থাকতে শোভা পায় না এখন।
ফোসকার উপশম খুঁজতে খুঁজতে
বেলা অনেকটা গড়িয়ে গেলো।
ঝিমোতে ঝিমোতে কল্কে টানি
আর ভাবতে থাকি আমি মহারাজা।
কে জানে, কোন প্রাসাদে বিচরণ!
সবশেষে খোলা হাওয়ায় কথাবলিয়ে
বাক্যালংকারে সময়ের সাথে আড়ি।
২৪/০৩/২০১৮ ইং
নিতাইনগর,হাইলাকান্দি (আসাম-ভারত)