কয়েকটা দিন থেকে ভাবছি --
একটা প্রশ্ন -- আমি কে? কি পরিচয়?
ভাবনাটা অদ্ভুত বটে, তবে অবান্তর নয় ।
মনে সংশয় , নিরন্তর চাপা জিজ্ঞাসা,
কে আমি ? আমি কে হই।
জানার সেই চেষ্টা থেকেই
যত সমস্যার শুরু ।
আমার যিনি গুরু, বললেন, বল তুই কে ?
বিনম্রে বলি, "আমি অমুকের ছেলে
ক্ষত্রিয় সন্তান ।" "সেতো এজন্মের সন্ধান ---। "
আমি থমকে দাঁড়াই, এজন্ম মানে ?
আরো জন্ম আছে তবে অন্য কোনখানে?
এক জন্মেতে এত জ্বালা ,
তায় জন্ম জন্মান্তরের পালা ----,
হে গুরু, একি শুভঙ্করী ধাঁধা
নাকি নতুন প্রহসন। যদি সত্যি হয়,
আমি তবে কে ? কি পরিচয় ?
কখন সৃষ্টি আমার? কিসে হবে লয় ?
এ জন্ম আমার আজ কত জন্মের ফল ?
কত জন্ম আরো যেন বাকি পড়ে রয় ।
আয়নাতে দাঁড়িয়ে দেখি নিজের সত্বাকে
কখনো খুঁজিনি যে, এভাবে নিজেকে
চুলচেরা কখনো করিনি বিচার ।
আমার মধ্যে যত ভাল মন্দ সব
সেতো অপরের মুখে নেওয়া
মিষ্টি বা ঝাল ।
বারবার ফিরে ফিরে তাকাই নিজেই নিজেতে।
যতদুর দৃষ্টি যায়, শুধু অন্ধকার,
আমার ভেতরে কে সে কুৎসিত, কদাকার।
মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৯
আমি
সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯
দিদির দেশে
হচ্ছেটা কি
দিদির দেশে
আন্দোলন
আর হুড়ুস্থুল,
স্টেথো গলায়
ডাক্তারেরা
বেজায় পাকায়
গন্ডগোল।
যখন তখন
বন্ধ কাজ
গেটের কাছে
আন্দোলন,
মিটিং মিছিল
স্লোগান যেন
দিদির জন্যে
সুদর্শন।
বামঘেষা সব
কার্যকলাপ
কাজের কাজ
করছে না,
কেউ যদি এক
ছুঁয়ে দিল
ব্যস তবে আর
পারছে না।
রাজ্য জুড়ে
কোটি লোক,
কজন আছেন
ডাক্তার হে ।
কজন তাদের
মার খেয়েছে
হিসেবখানা
বুঝিয়ে দে।
তোরা ছাড়া
চলবে না তাই
ফন্দি ফিকির
বেশ এটেছিস।
লোকগুলো নয়
দিদির ঘাড়টা
নুইয়ে দিবি
পণ করেছিস।
দিদির সঙ্গে
পাঙ্গা নিস না,
দিদি ভীষণ
রাগ করে,
দিদির দেশে
দিদিই শেষ
আর বাকি সব
পোঁ ধরে।
রাস্তা ঘাটে
একসিডেন্ট
রোজইতো হয়
নয় কি বল ?
এই ঘটনাও
একসিডেন্ট
এই কথাটা
মেনে চল।
একটা দুটো
মারামারি
কোথায় কখন
হচ্ছে না।
তাই বলে দেশ
বন্ধ হবে,
এই ব্যাপারটি
মানছি না।
মারলো যারা
ভাবিস কি রে
সবাই ওরা
সুস্থ লোক,
দিদির মত
ওরাওতো সব
বদরাগী আর
চন্ডাশোক।
দিদি তো দেখ
মেয়ে মানুষ
কখন কি সব
বলে ফেলে,
তারপরে দেখ্
বুড়ি হয়েছে
মেজাজটাকেই
গুলিয়ে ফেলে।
ঘটলো যা তা
নিন্দনীয়,
একেবারই
কাম্য নয়।
তাই বলে সব
ফাঁকি দিবি
এইটা কোন
কথা হয়।
এখন যারা
হাসপাতালে
ওদের কথা
ভাববি না ?
তোদের পক্ষে
ওরাও আছে
তাইতো কিছু
বলছে না।
দিদির কথায়
রাগ করিস না,
মাথার কি আর
ঠিক আছে ?
আরশি ভাাঙ্গছে
কুরশি ডাঙ্গছে
দল ভাঙ্গবে
চান্স আছে।
দিদির উপর
রাগ করিস না,
সময়টা তার
পক্ষে নয়,
এখন সে আর
আগের মত
পুরোপুরি
সুস্থ নয়।
শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯
প্রশ্নচিহ্ন
রফিক উদ্দিন লস্কর
যারাই গড়ে মানবসম্পদ তারাই আজ ড্রাইভার,
বিদ্রূপতায় সংযোজিত নতুন একটা উপহার।
যিনি চালান শিক্ষা বিভাগ তিনি দিলেন ফরমান,
শিক্ষকের ঐ সার্টিফিকেটটা লাইসেন্সের সমান।
ত্যাগের জাতি শিক্ষকরা আজ পদেপদে লাঞ্ছিত,
সর্ব কাজে এরাই প্রথম, কিন্তু ন্যায় থেকে বঞ্চিত।
নিষ্ঠা নিয়ে একটা জাতি কাজ করে যায় দিনরাত,
দাবি দাওয়া করলে কিন্তু উঠতে পারে গায়ে হাত।
আজ মহান পেশার গুরুদায়িত্ব ওদের কাঁধে চাপা,
আছে মানসম্মানের প্রশ্নচিহ্ন বুঝলেন বাবু ক্ষ্যাপা।
বাবুমশাই, ঐ চওড়া মুখটায় একটু লাগাম লাগান
ছুড়বেন না আর বিষ হুংকার, এটা বড্ড বেমানান।
জীবন বাজি রেখেই যারা করছেন জাতির কল্যাণ,
হেয় ভাবছে বিভাগ আজি, করছে তাদের অসম্মান।
এমন করে যদি চলতে থাকে বিভাগীয় অপকার্য,
জেনে রাখুন শিক্ষাবিভাগে কিন্তু ধ্বংস অনিবার্য।
সুখ
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯
পাখির খাঁচা
।। অভীককুমার দে।।
নেপথ্যে একটি শরীর
হাঁটছে, ঘুরছে, ছটফট করছে আর
ক্লান্ত হলে অসুখের ঘুম!
সে কথা বলতে পারে
শুধু কথাই বলতে পারে...
কেউ যেন বাইরে,
খোলা আকাশের
নীল মায়ায় জড়িয়ে শব্দের শবদেহ
ছুঁড়ে দিচ্ছে ভিন্ন প্রাণের সুর,
যদিও ওসব কিছুই বোঝে না পাখি, তবুও
নড়ে উঠছে ঠোঁট
কেঁপে উঠছে বুক
একেকটি শব্দ কঠিন হয়ে উঠছে
আর অনিচ্ছায় অনুশীলনের পর
কেঁদে উঠছে খাঁচা।
আমার নদী
।। অভীককুমার দে।।
এ নদী বইতে জানে
সইতে জানে
ঢেউয়ে কথা কয়।
এ নদী বুকের ঘরে
সুখের জ্বরে
বসতভিটা ক্ষয়।।
এ নদী আঁকাবাঁকা
কষ্ট মাখা
দৃষ্টি পথে চলে।
এ নদীর স্বপ্ন আঁকা
জীবন ফাঁকা
জলে কিংবা জ্বলে।।
গন্তব্যের দিকে
।। অভীককুমার দে।।
যেখানে শব্দ হয়
যখনই শব্দ হয়
পেছনে অদৃশ্য পথ, আমিও যাই শব্দের কাছে।
চোখে চোখ রাখতেই ভাঙাগড়ার খেলা
বুকের স্পন্দনে আকাশের জমা কষ্ট অথবা সুখ
ভাসতে ভাসাতে কেবল ঝরেই যায়
হৃদয়ের হ্রদ হয়ে জেগে ওঠে।
আপেক্ষিক স্থিরতার পর্দা সরে গেলে
হৃদয় ভেঙে জন্ম নেয় ঝর্ণা, সেও ঝরেই যার,
সৌন্দর্য্যের অবশেষটুকুও ভাঙে;
নদীর চোখ থেকে চোখের নদী
সাগর চেনে।
শুনি, শব্দ এখানেও, অতলের কাছে
শব্দ শুনি আর আমিই যাই।
ঠিকানা
।। অভীককুমার দে।।
তোমার ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতেই কবিতাকে পেয়েছি।
বয়স পনেরোর আমি কবিতার বুকে
কান পেতে শুনেছি শিউলি ফোটা শব্দ
ফুল শরীরে পাপড়ির ঘুম
ভেঙে গেলেই মনের কোথাও রাত দুপুরের পথ
শিশির ভেজা ভোরের কাছাকাছি।
আমি ভাবতাম, এই বুঝি পৌঁছে গেছি,
অথচ গাছের ডালে আমার অতীত গল্প, ফুল নেই,
আলোর কাছে জেনেছি--
তুমি এখন মাটির বুকে জীবনের ছবি আঁকো।
পনেরোর পর চলে গেছে আরও অনেক বছর
কবিতা জানে, শিউলির ঠিকানায় এসেছে নতুন কুঁড়ি।